বিভাগ 'ক' : সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো (১ x ২০ = ২০)
১.১ ১৯১১ সালের IFA শিল্ড বিজয়ী মোহনবাগান দলের অধিনায়ক ছিলেন-
(ক) গোষ্ঠ পাল
(খ) চুনি গোস্বামী
(গ) শিবদাস ভাদুড়ি
(ঘ) শৈলেন মান্না
উত্তর: (গ) শিবদাস ভাদুড়ি
১.২ ভারতীয় সংগীতের উৎস হল -
(ক) ঋগ্বেদ
(খ) সামবেদ
(গ) যজুর্বেদ
(ঘ) অথর্ববেদ
উত্তর: (খ) সামবেদ
১.৩ ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমির পূর্বনাম ছিল-
(ক) অ্যাংলো হিন্দু স্কুল
(খ) হিন্দু স্কুল
(গ) হেয়ার স্কুল
(ঘ) খ্রিস্টান স্কুল
উত্তর: (ক) অ্যাংলো হিন্দু স্কুল
১.৪ ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বিধবাবিবাহ আইন পাস হয় যে আইন দ্বারা-
(ক) রেগুলেশন-XIV
(খ) রেগুলেশন-XV
(গ) রেগুলেশন-XVI
(ঘ) রেগুলেশন-XVII
উত্তর: (খ) রেগুলেশন-XV
১.৫ রেনেসাঁস শব্দটি হল একটি-
(ক) ইংরেজি শব্দ
(খ) ফরাসি শব্দ
(গ) ইতালীয় শব্দ
(ঘ) লাতিন শাব্দ
উত্তর: (খ) ফরাসি শব্দ
১.৬ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি গঠন করা হয় -
(ক) কোল বিদ্রোহের পরে
(খ) সাঁওতাল বিদ্রোহের পরে
(গ) নীল বিদ্রোহের পরে
(ঘ) মুন্ডা বিদ্রোহের পরে
উত্তর: (ক) কোল বিদ্রোহের পরে
১.৭ ফরাজি আন্দোলনে যুক্ত জনগণের বড়ো অংশ ছিলেন-
(ক) আদিবাসী
(খ) দলিত
(গ) কৃষক
(ঘ) শ্রমিক
উত্তর: (গ) কৃষক
১.৮ 'বর্তমান ভারত' প্রথম স্বতন্ত্র পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়েছিল-
(ক) ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
১.৯ বন্দেমাতরম গানটির সুরারোপ করেছেন-
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(খ) মধুসূদন দত্ত
(গ) যদুভট্ট
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: (গ) যদুভট্ট
১.১০ আধুনিক ভারতে প্রথম ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয়েছিল-
(ক) হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায়
(খ) সোমপ্রকাশ পত্রিকায়
(গ) বামাবোধিনী পত্রিকায়
(ঘ) অমৃতবাজার পত্রিকায়
উত্তর: (ঘ) অমৃতবাজার পত্রিকায়
১.১১ উনিশ শতকে বাংলায় বিদ্যালয়স্তরে পাঠ্যবই জোগান দিত-
(ক) এশিয়াটিক সোসাইটি
(খ) ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি
(গ) ইউ রায় অ্যান্ড সন্স
(ঘ) ডন সোসাইটি
উত্তর: (খ) ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি
১.১২ কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন -
(ক) মহেন্দ্রলাল সরকার
(খ) আশুতোষ মুখার্জি
(গ) নীলরতন সরকার
(ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর: (খ) আশুতোষ মুখার্জি
১.১৩ বয়কট অন্দোলনের ফলে অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল-
(ক) জমিদার শ্রেণি
(খ) বাংলার কৃষক শ্রেণি
(গ) মধ্যবিত্ত শ্রেণি
(ঘ) ছাত্রসমাজ
উত্তর: (খ) বাংলার কৃষক শ্রেণি
১.১৪ শ্রমিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে রয়্যাল কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
(ক) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (ঘ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে
১.১৫ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রধান ছিলেন-
(ক) সতীশচন্দ্র বসু
(খ) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল
(গ) সতীশচন্দ্র সামন্ত
(ঘ) সূর্য সেন
উত্তর: (গ) সতীশচন্দ্র সামন্ত
১.১৬ 'রাষ্ট্রীয় স্ত্রী সংঘ' গঠন করেন -
(ক) সরোজিনী নাইডু
(খ) লীলা নাগ
(গ) উর্মিলা দেবী
(ঘ) বাসন্তী দেবী
উত্তর: (ক) সরোজিনী নাইডু
১.১৭ অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি গড়ে ওঠে-
(ক) স্বদেশি পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে
(খ) প্রাচ্যবাদী শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে
(গ) বহিষ্কৃত ছাত্রদের পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে
(ঘ) ছাত্র আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে
উত্তর: (গ) বহিষ্কৃত ছাত্রদের পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে
১.১৮ সূর্য সেন প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী দলের নাম ছিল-
(ক) অনুশীলন সমিতি
(খ) ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি
(গ) হিদুস্থান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন
(ঘ) বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স
উত্তর: (খ) ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি
১.১৯ 'ট্রেন টু পাকিস্তান' গ্রন্থটি লিখেছিলেন-
(ক) প্রফুল্ল চক্রবর্তী
(খ) জওহরলাল নেহরু
(গ) খুশবন্ত সিং
(ঘ) সলমন রুশদি
উত্তর: (গ) খুশবন্ত সিং
১.২০ স্বাধীন ভারতে গঠিত প্রথম ভাষাভিত্তিক রাজ্য হল-
(ক) গুজরাট
(খ) অন্ধ্রপ্রদেশ
(গ) হায়দরাবাদ
(ঘ) কেরালা
উত্তর: (খ) অন্ধ্রপ্রদেশ
বিভাগ 'খ' : প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ১৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও
উপবিভাগ ২.১: একটি বাক্যে উত্তর দাও
২.১.১ 'Letters from a Father to his Daughter'- গ্রন্থের লেখক কে?
উত্তর: জওহরলাল নেহরু।
২.১.২ নববিধান ব্রাহ্মসমাজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: কেশবচন্দ্র সেন।
২.১.৩ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম চিত্রিত গ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর: অন্নদামঙ্গল (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত)।
২.১.৪ কবে, কোথায় সর্বভারতীয় কিষানসভা প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে লখনউতে।
উপবিভাগ ২.২: ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো
২.২.১ উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণকে অনিল শীল এলিটিস্ট আন্দোলন বলে অভিহিত করেছেন।
উত্তর: ঠিক
২.২.২ স্বাধীন মুন্ডারাজ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন সুই মুন্ডা।
উত্তর: ঠিক (কোল বিদ্রোহের নেতা সুই মুন্ডা স্বাধীন মুন্ডারাজ ঘোষণা করেছিলেন)।
২.২.৩ ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটির অন্যতম সম্পাদক ছিলেন প্রসন্নকুমার ঠাকুর।
উত্তর: ঠিক
২.২.৪ আসামের কনকলতা বড়ুয়া আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
উত্তর: ভুল (তিনি ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন)।
উপবিভাগ ২.৩: 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মেলাও
স্তম্ভ মেলানো সমাধান:
- ২.৩.১ অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন — (৪) ডিরোজিও
- ২.৩.২ ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি — (১) উইলিয়াম অ্যাডাম
- ২.৩.৩ ইন্ডিয়ান লিগ — (২) শিশিরকুমার ঘোষ
- ২.৩.৪ ডন সোসাইটি — (৩) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
উপবিভাগ ২.৪: মানচিত্র চিহ্নিতকরণ
২.৪.১ থেকে ২.৪.৪ মানচিত্র স্থান চিহ্নিতকরণ
মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত করতে হবে:
- ২.৪.১ মুন্ডা বিদ্রোহের এলাকা: রাঁচি বা ছোটনাগপুর অঞ্চল।
- ২.৪.২ ১৮৫৭-এর বিদ্রোহের কেন্দ্র ব্যারাকপুর: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা।
- ২.৪.৩ ডান্ডি: গুজরাটের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল।
- ২.৪.৪ দেশীয় রাজ্য মহীশূর: দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক অঞ্চল।
উপবিভাগ ২.৫: বিবৃতি ও ব্যাখ্যা
২.৫.১ বিবৃতি: পোশাক-পরিচ্ছদ সংস্কৃতির অপরিহার্য অঙ্গ।
উত্তর: ব্যাখ্যা - ৩ পোশাক সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অঙ্গ।
২.৫.২ বিবৃতি: সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনকে প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল।
উত্তর: ব্যাখ্যা - ৩ বাংলার সন্ন্যাসী-ফকির সম্প্রদায়ের ধর্মাচরণের অধিকার কোম্পানি আইন করে নিষিদ্ধ করেছিল (তীর্থে যাওয়ার ওপর কর আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা)।
২.৫.৩ বিবৃতি: গান্ধিজি জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন সমর্থন করেননি।
উত্তর: ব্যাখ্যা - ৩ গান্ধিজি শ্রেণিসংগ্রামের পরিবর্তে শ্রেণিসমন্বয়ে বিশ্বাসী ছিলেন।
২.৫.৪ বিবৃতি: তিলক স্বরাজ তহবিলে নারীরা তাদের অর্থ ও অলংকার দান করেন।
উত্তর: ব্যাখ্যা - ৩ অসহযোগ আন্দোলনকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য।
বিভাগ 'গ' : দুটি অথবা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (২ x ১১ = ২২)
৩.১ পরিবেশের ইতিহাসের গুরুত্ব কী?
উত্তর: পরিবেশের ইতিহাসের মাধ্যমে মানুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের বিবর্তন জানা যায়। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত আন্দোলন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
৩.২ আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চার উপাদানরূপে 'সরকারি নথিপত্র'-এর সীমাবদ্ধতা কী?
উত্তর: সরকারি নথিপত্রে সাধারণত শাসকদলের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়, যা অনেক সময় পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের মতামত বা প্রকৃত ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র সবসময় পাওয়া যায় না।
৩.৩ হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় কোন বিষয় নিয়ে লেখা হত?
উত্তর: হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকায় নীলকর সাহেবদের অত্যাচার, সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং ব্রিটিশ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখা হত। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এর সম্পাদক ছিলেন।
৩.৪ সমাজসংস্কারে রামমোহন রায়ের অবদান পর্যালোচনা করো।
উত্তর: রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা রদ (১৮২৯) করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি নারীশিক্ষা প্রসার, বহুবিবাহ রোধ এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন।
৩.৫ চুয়াড় বিদ্রোহের (১৭৯৮-১৭৯৯) গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: চুয়াড় বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও পাইকদের এক শক্তিশালী প্রতিরোধ। এই বিদ্রোহ ব্রিটিশ সরকারকে তাদের ভূমি রাজস্ব নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছিল।
৩.৬ তারিকা-ই-মহম্মদীয়া বলতে কী বোঝো?
উত্তর: 'তারিকা-ই-মহম্মদীয়া' কথার অর্থ হলো 'মহম্মদ প্রদর্শিত পথ'। ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলন প্রকৃত অর্থে এই নামেই পরিচিত ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মের শুদ্ধিকরণ।
৩.৭ বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সভার উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা এবং সরকারি কর নীতির বিরুদ্ধে আলোচনা ও প্রতিবাদ জানানো।
৩.৮ হিন্দুমেলা কীভাবে উপনিবেশবিরোধী মনোভাব সংগঠিত করেছিল?
উত্তর: হিন্দুমেলা দেশীয় শিল্প, সাহিত্য ও শরীরচর্চার প্রসারের মাধ্যমে স্বদেশিয়ানা জাগিয়ে তোলে। এটি ভারতীয়দের মনে আত্মনির্ভরশীলতা ও জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব তৈরি করে।
৩.৯ রাধানাথ শিকদার কেন স্মরণীয়?
উত্তর: রাধানাথ শিকদার ছিলেন একজন গণিতজ্ঞ যিনি মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা পরিমাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি 'গ্রেট ট্রিগোনোমেট্রিকাল সার্ভে'-তে কাজ করতেন।
৩.১০ শ্রীনিকেতন কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রামোন্নয়ন, কৃষি ব্যবস্থার উন্নতি এবং গ্রামবাসীর স্বনির্ভরতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯২২ সালে শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন।
৩.১১ একা আন্দোলনে কৃষকদের কী কী দাবি ছিল?
উত্তর: একা আন্দোলনে কৃষকদের প্রধান দাবি ছিল—অতিরিক্ত কর আদায় বন্ধ করা, নির্ধারিত রাজস্বের বেশি না দেওয়া এবং বেগার শ্রম প্রথা বন্ধ করা।
৩.১২ কে, কেন র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গঠন করেন?
উত্তর: মানবেন্দ্রনাথ রায় (M.N. Roy) ১৯৪০ সালে র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গঠন করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থী ভাবধারা ও শ্রমিক-কৃষক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে এটি গঠিত হয়।
৩.১৩ রশিদ আলি দিবস কেন পালিত হয়েছিল?
উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলির ৭ বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি রশিদ আলি দিবস পালিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।
৩.১৪ নমঃশূদ্র নামে কারা পরিচিত?
উত্তর: পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর, যশোর প্রভৃতি জেলায় বসবাসকারী চণ্ডাল বা অন্ত্যজ শ্রেণির হিন্দুরা সামাজিকভাবে 'নমঃশূদ্র' নামে পরিচিত ছিল। হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর এঁদের সংগঠিত করেন।
৩.১৫ অপারেশন পোলো কী?
উত্তর: হায়দরাবাদ দেশীয় রাজ্যটিকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ১৯৪৮ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে পুলিশি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, তাকে 'অপারেশন পোলো' বলা হয়।
৩.১৬ দেশভাগের পর পুনর্বাসনের যুগ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু মানুষ পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসেন। ভারত সরকার ১৯৫০-এর দশককে এই উদ্বাস্তুদের আশ্রয় ও জীবনধারণের ব্যবস্থা করার জন্য 'পুনর্বাসনের যুগ' হিসেবে চিহ্নিত করে।
বিভাগ 'ঘ' : সাত বা আটটি বাক্যে প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ৬ = ২৪)
৪.১ 'নীলদর্পণ' নাটক থেকে উনিশ শতকের বাংলার সমাজের কীরূপ প্রতিফলন পাওয়া যায়?
উত্তর: দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীলদর্পণ' নাটকটি উনিশ শতকের বাংলার সমাজচিত্রের এক জীবন্ত দলিল। এই নাটকে নীলকর সাহেবদের অকথ্য অত্যাচার, নীল চাষিদের ওপর শোষণ এবং গ্রামীণ বাংলার অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে। নীলকররা কীভাবে দাদন প্রথার মাধ্যমে চাষিদের ঋণের জালে জড়াত এবং জোরপূর্বক নীল চাষে বাধ্য করত, তা নাটকটিতে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর পাশাপাশি, তোরাপ ও আদুরির মতো চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের প্রতিবাদী সত্তার প্রকাশ পেয়েছে। নাটকটি মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং শিক্ষিত সমাজকে নীলকর বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি শুধু একটি সাহিত্যকর্ম ছিল না, বরং সমকালীন সমাজ ও রাজনীতির দর্পণ হিসেবে কাজ করেছিল।
৪.২ শ্রীরামকৃষ্ণের 'সর্বধর্মসমন্বয়'-এর আদর্শ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের 'সর্বধর্মসমন্বয়'-এর আদর্শ উনিশ শতকের ধর্ম সংস্কার আন্দোলনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়, কিন্তু তাঁকে ডাকার পথ ভিন্ন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি "যত মত, তত পথ" এই দর্শনের মূল ভিত্তি। তিনি নিজে হিন্দু, ইসলাম, ও খ্রিস্টান ধর্ম সাধনা করে উপলব্ধি করেন যে, সকল ধর্মের গন্তব্য এক। তিনি ধর্মের বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে ভক্তি ও প্রেমের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর এই উদার ধর্মমত সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ দূর করে এবং মানবধর্মের জয়গান গায়, যা পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়।
৪.৩ ভারত সভার উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
উত্তর: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে ১৮৭৬ সালে ভারত সভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করা এবং শক্তিশালী জনমত গঠন করা। ভারত সভা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়সসীমা কমানোর প্রতিবাদে এবং ইলবার্ট বিলের সমর্থনে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। এছাড়াও, লর্ড লিটনের ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট বা দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্র আইনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে এই সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারত সভা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের ওপর জোর দেয় এবং ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমি তৈরি করে।
৪.৪ গোরা উপন্যাসটিতে রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পরিচয় পাওয়া যায়, তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাসটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র গোরা প্রথমে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের সমর্থক ছিল, কিন্তু পরে সে উপলব্ধি করে যে প্রকৃত ভারত কোনো বিশেষ ধর্ম বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন যে, সংকীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মেলবন্ধনের নামই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম। গোরার আত্মপরিচয় সংকট এবং তার পরবর্তী উত্তরণ তাকে এক বিশ্বজনীন মানবতাবাদের দিকে নিয়ে যায়। উপন্যাসটি বার্তা দেয় যে, ভারত হলো সকল ধর্ম, বর্ণ ও জাতির মিলনক্ষেত্র, যেখানে জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার কোনো স্থান নেই।
৪.৫ টীকা লেখো: ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি।
উত্তর: ১৯২০-এর দশকে ভারতে বামপন্থী আন্দোলনের প্রসারের ফলে বিভিন্ন প্রদেশে শ্রমিক ও কৃষক দল গঠিত হতে থাকে। ১৯২৮ সালে কলকাতায় এই সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলিকে একত্রিত করে 'নিখিল ভারত ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি' গঠিত হয়। এই দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আর.এস. নিম্বকর। দলের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে থেকে বামপন্থী ভাবধারা প্রচার করা এবং শ্রমিক ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা। তারা জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার এবং পূর্ণ স্বরাজের দাবি জানায়। সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন শ্রমিক ধর্মঘটে এই পার্টি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।
৪.৬ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ভারতের শ্রমিক শ্রেণি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। বোম্বাই, কলকাতা, জামশেদপুর, আমেদাবাদ প্রভৃতি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা ব্যাপক ধর্মঘট পালন করে। বোম্বাই ও আমেদাবাদের সুতাকল শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মঘট চালিয়ে যায়। জামশেদপুরের টাটা ইস্পাত কারখানার শ্রমিকরা ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ঘোষণা করে এবং 'জাতীয় সরকার' গঠনের দাবি জানায়। শ্রমিকরা রেললাইন উপড়ে ফেলা, টেলিগ্রাফের তার কাটা এবং থানা আক্রমণেও অংশ নেয়। এই আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির অংশগ্রহণ ব্রিটিশ শাসনের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড দুর্বল করে দিয়েছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামকে গণআন্দোলনে পরিণত করেছিল।
৪.৭ আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অভূতপূর্ব। সরোজিনী নাইডু, কমলা নেহরু, বাসন্তী দেবী প্রমুখ নেত্রীর আহ্বানে হাজার হাজার নারী ঘর ছেড়ে রাজপথে নেমে আসেন। তাঁরা লবণ আইন অমান্য করা, বিদেশি পণ্য বয়কট এবং মদের দোকানের সামনে পিকেটিং-এ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। নারীরা নিজেদের অলংকার দান করেন এবং চরকায় সুতো কেটে খাদির প্রচার চালান। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কারাবরণকে উপেক্ষা করে তাঁরা আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন। বাংলার নারীরা, বিশেষ করে মেদিনীপুর ও ঢাকায়, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেন।
৪.৮ দলিত-অধিকার বিষয়ে গান্ধি ও আম্বেদকর বিতর্কের মূল প্রসঙ্গটি আলোচনা করো।
উত্তর: ১৯৩০-এর দশকে দলিত বা অনুন্নত শ্রেণির রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে মহাত্মা গান্ধি ও বি.আর. আম্বেদকরের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। আম্বেদকর দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি জানিয়েছিলেন, কারণ তিনি মনে করতেন উচ্চবর্ণের হিন্দুরা দলিতদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। অন্যদিকে, গান্ধিজি মনে করতেন পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা হিন্দু সমাজকে চিরতরে বিভক্ত করবে এবং অস্পৃশ্যতা দূরীকরণে বাধা সৃষ্টি করবে। ব্রিটিশ সরকার সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতিতে আম্বেদকরের দাবি মেনে নিলে গান্ধিজি এর প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন। শেষপর্যন্ত ১৯৩২ সালে পুনা চুক্তির মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে আপস হয়, যেখানে পৃথক নির্বাচনের পরিবর্তে দলিতদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
বিভাগ 'ঙ' : পনেরো-ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৮ x ১ = ৮)
৫.১ ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারিদের ভূমিকা কী ছিল? চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে কলকাতা মেডিকেল কলেজের অবদান আলোচনা করো।
উত্তর: পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারিদের ভূমিকা: ভারতে আধুনিক ও পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারিদের অবদান অনস্বীকার্য। উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড—এই ত্রয়ী শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। মিশনারিরা ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি দেশীয় ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনা, ব্যাকরণ প্রণয়ন এবং অভিধান প্রকাশ করেন। আলেকজান্ডার ডাফ ১৮৩০ সালে জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন (বর্তমানে স্কটিশ চার্চ কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে মাইলফলক ছিল। নারীশিক্ষার প্রসারেও মিশনারিদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য; তারা মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং রক্ষণশীল সমাজের বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার আলো ছড়ান। তাদের প্রচেষ্টাতেই ভারতে মুদ্রণ শিল্পের বিকাশ ঘটে, যা জ্ঞানচর্চাকে সহজলভ্য করে তোলে।
কলকাতা মেডিকেল কলেজের অবদান: ১৮৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মেডিকেল কলেজ ভারতের চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এটি ছিল এশিয়ার প্রথম মেডিকেল কলেজ যেখানে ইউরোপীয় পদ্ধতিতে চিকিৎসাবিদ্যা শেখানো হতো। এই কলেজের প্রধান অবদান হলো ভারতীয়দের মধ্যে শবব্যবচ্ছেদ বা ডিসেকশন সম্পর্কে যে কুসংস্কার ছিল তা দূর করা। মধুসূদন গুপ্ত প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেন। এই কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসকরা আধুনিক শল্যচিকিৎসা ও ঔষধ প্রয়োগে পারদর্শী হয়ে ওঠেন, যা জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হয়। তাছাড়া, চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণার কেন্দ্র হিসেবেও এই কলেজ বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ আধুনিক বৈজ্ঞানিক মানসিকতা তৈরিতে এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
৫.২ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
সিপাহি বিদ্রোহ: অনেক ঐতিহাসিক, যেমন জন লরেন্স ও চার্লস রেস, একে নিছক 'সিপাহি বিদ্রোহ' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি ছিল সেনাবাহিনীর একাংশের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ, যার সাথে সাধারণ জনগণের কোনো যোগ ছিল না। এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ বিতর্ক ছিল এর আশু কারণ।
সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া: রজনীপাম দত্তের মতে, এটি ছিল ক্ষয়িষ্ণু সামন্ততন্ত্রের মৃত্যুকালীন আর্তনাদ। দেশীয় রাজা ও জমিদাররা তাদের হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
জাতীয় সংগ্রাম: কার্ল মার্কস এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর একে 'ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এই বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য এবং ব্রিটিশ শাসনের অবসানের যে আকাঙ্ক্ষা দেখা গিয়েছিল, তা জাতীয়তাবাদের লক্ষণ। অযোধ্যা ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যোগ দিয়েছিল।
গণবিদ্রোহ: আধুনিক ঐতিহাসিকরা মনে করেন, এটি কেবল সিপাহিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। কৃষক, কারিগর ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ফলে এটি 'গণবিদ্রোহের' রূপ নিয়েছিল।
উপসংহার: বিদ্রোহটি পুরোপুরি সফল না হলেও, এটি ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিল এবং পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ প্রশস্ত করেছিল। তাই একে নিছক সিপাহি বিদ্রোহ না বলে গণচরিত্র-বিশিষ্ট জাতীয় সংগ্রাম বলাই শ্রেয়।
৫.৩ বারদৌলি আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। তুমি কি মনে করো যে এই আন্দোলন ভূমিহীন কৃষকশ্রেণি এবং কৃষি-শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সফল হয়েছিল?
উত্তর: বারদৌলি আন্দোলনের বিবরণ: ১৯২৮ সালে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুকে ব্রিটিশ সরকার রাজস্বের হার ২২ শতাংশ বৃদ্ধি করে। এর প্রতিবাদে বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে কৃষকরা রাজস্ব প্রদান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই আন্দোলনটি 'বারদৌলি সত্যাগ্রহ' নামে পরিচিত। প্যাটেল কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং অহিংস পথে আন্দোলন চালিয়ে যান। সরকার কৃষকদের জমি বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দিলেও তারা নতিস্বীকার করেনি। শেষপর্যন্ত সরকার ম্যাক্সওয়েল-ব্রুমফিল্ড কমিটি গঠন করে এবং বর্ধিত রাজস্ব কমিয়ে ৬.০৩ শতাংশ ধার্য করে। এই সাফল্য বল্লভভাই প্যাটেলকে 'সর্দার' উপাধিতে ভূষিত করে।
স্বার্থরক্ষা ও মূল্যায়ন: বারদৌলি আন্দোলন মূলত সম্পন্ন পাতিদার কৃষকদের স্বার্থরক্ষা করেছিল, যারা জমির মালিক ছিল। ভূমিহীন কৃষক এবং কৃষি-শ্রমিকদের, যারা 'হালিপালি' বা 'কালিপরাজ' নামে পরিচিত ছিল, তাদের স্বার্থ এই আন্দোলনে খুব একটা রক্ষিত হয়নি। জমির মালিকরা কর হ্রাসের সুবিধা পেলেও, খেতমজুরদের মজুরি বৃদ্ধি বা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা এই আন্দোলনের ফলে হয়নি। গান্ধিজি এবং প্যাটেল চেয়েছিলেন শ্রেণিসংগ্রাম এড়িয়ে জমিদার ও কৃষকদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে। তাই এই আন্দোলন ব্রিটিশ বিরোধী হিসেবে সফল হলেও, সামাজিক ন্যায়বিচার বা ভূমিহীন কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতা ছিল। এটি ছিল মূলত জোতদার বা ধনী কৃষকদের আন্দোলন।