Madhyamik Parsad Test Paper 2026 History Page 126 Solution | Madhyamik 2026 History Suggestion & Test Paper Solve
byMadhyamik Guide Official-
0
Web Teacher - History Suggestion 2026
মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
00Days
00Hours
00Minutes
00Seconds
SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR - HISTORY
এই পেজে আমরা মাধ্যমিক টেস্ট পেপার ২০২৫-২৬ এর অন্তর্গত 'সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির'-এর ইতিহাসের প্রশ্নপত্রের (পৃষ্ঠা ১২৪) সম্পূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিভাগ 'ক' (MCQ), বিভাগ 'খ' (SAQ, সত্য/মিথ্যা, স্তম্ভ মেলানো, বিবৃতি) এবং বিভাগ 'গ' (২ নম্বরের প্রশ্ন)-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও নির্ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উত্তর টেস্ট পেপারের উত্তরমালা এবং পাঠ্যবই যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে যাতে তোমাদের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি না থাকে।
Overview & Solution Guide
This page provides a comprehensive solution for the History Test Paper (Page 124) of 'SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR' for the Madhyamik 2026 examination. We have covered all sections including MCQ (Group A), SAQ, True/False, Match the Columns, Statements (Group B), and 2-mark questions (Group C). Each answer has been meticulously verified with the official key and standard textbooks to ensure accuracy. Practicing this set will significantly boost your confidence and help you score better in the upcoming board exams.
উত্তর: স্থাপত্য নিদর্শনগুলি থেকে সমকালীন সমাজের রুচি, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পরিচয় পাওয়া যায়। এটি একটি দেশের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক পটভূমি বুঝতে সাহায্য করে।
৩.৩ নারীশিক্ষা বিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের নেতা হয়েও রাধাকান্ত দেব নারীশিক্ষার সমর্থক ছিলেন। তিনি বেথুন সাহেবকে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন এবং 'স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক' গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের নব্যবেদান্তের মূল বৈশিষ্ট্য হলো 'জীব সেবাই শিব সেবা'। তিনি মোক্ষ লাভের জন্য সংসারের বাইরে না গিয়ে মানব কল্যাণের মাধ্যমে ঈশ্বরের উপাসনার কথা বলেছেন।
৩.৫ নীলবিদ্রোহে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কীরূপ ছিল?
উত্তর: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' পত্রিকার মাধ্যমে নীল চাষিদের ওপর নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়মিত প্রকাশ করতেন। তিনি নীল কমিশনের কাছে নীলকরদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে চাষিদের পক্ষ সমর্থন করেছিলেন।
উত্তর: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ আহামদ ব্রেলভির অনুগামীদের সাথে শিখদের বালাকোটের যুদ্ধ হয়। উত্তর-পশ্চিম ভারতে শিখ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই যুদ্ধ হয়েছিল।
উত্তর: অনিল শীল ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধকে (১৮৫৭-১৮৮৫) 'সভা সমিতির যুগ' বলেছেন। এই সময় ভারতে, বিশেষ করে বাংলায়, জমিদার সভা, ভারত সভা, হিন্দু মেলা ইত্যাদি একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্ভব ঘটেছিল।
উত্তর: হিন্দুমেলার প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল এটি কেবল হিন্দু ধর্মের পুনরুজ্জীবনে জোর দিয়েছিল, ফলে মুসলিম সমাজ এর থেকে দূরে সরে ছিল। এছাড়া, এটি উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
উত্তর: তারকনাথ পালিত ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ও শিক্ষানুরাগী। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সময় জাতীয় শিক্ষা প্রসারের জন্য এবং 'বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট' প্রতিষ্ঠায় বিপুল অর্থ দান করেছিলেন।
উত্তর: ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে জাতীয় আদর্শে শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল সাহিত্য, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।
উত্তর: ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরের তমলুকে সতীশচন্দ্র সামন্তর নেতৃত্বে যে সমান্তরাল সরকার গঠিত হয়েছিল, তাকেই তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার বলা হয়।
৩.১২ 'সারাভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস' (AITUC) কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে লালা লাজপত রায়ের সভাপতিত্বে AITUC প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রমিক সংগঠনগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং শ্রমিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা।
উত্তর: বি. আম্মা বা আবাদি বানো বেগম ছিলেন খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের এক সক্রিয় নেত্রী। তিনি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের নারী হয়েও বোরখা ত্যাগ করে জনসমক্ষে এসে স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
উত্তর: মাদ্রাজে ব্রাহ্মণ আধিপত্যের বিরুদ্ধে অব্রাহ্মণদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ১৯১৬ সালে জাস্টিস পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
উত্তর: ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় সেনাবাহিনী গোয়া, দমন ও দিউকে পোর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্ত করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তার নাম 'অপারেশন বিজয়'।
উত্তর: পত্তি শ্রীরামালু ছিলেন একজন গান্ধিবাদী নেতা, যিনি মাদ্রাজ প্রদেশ থেকে পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠনের দাবিতে ৫৮ দিন অনশন করে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবিকে জোরালো করে।
বিভাগ 'ঘ' : সাত বা আটটি বাক্যে প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ৬ = ২৪)
৪.১ আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার উন্নতিতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ভূমিকা কী?
উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ভারতের আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। এটিই ছিল এশিয়ার প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে ইউরোপীয় পদ্ধতিতে চিকিৎসাবিদ্যা শেখানো হতো। এই কলেজের প্রধান অবদান হলো ভারতীয়দের মধ্যে শবব্যবচ্ছেদ বা ডিসেকশন সম্পর্কে যে ধর্মীয় কুসংস্কার ছিল তা দূর করা। ১৮৩৬ সালে মধুসূদন গুপ্ত প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেন। এই কলেজ থেকে উত্তীর্ণ চিকিৎসকরা আধুনিক শল্যচিকিৎসা ও ঔষধ প্রয়োগে পারদর্শী হয়ে ওঠেন, যা জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে ব্যাপক সহায়ক হয়। তাছাড়া, চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণার কেন্দ্র হিসেবেও এই কলেজ বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ আধুনিক বৈজ্ঞানিক মানসিকতা তৈরিতে এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
উত্তর: ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মসমাজ প্রথমবারের জন্য দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়—দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে 'আদি ব্রাহ্মসমাজ' এবং কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে 'ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ'। এই বিভাজনের মূল কারণ ছিল মতাদর্শগত পার্থক্য। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর চাইতেন ব্রাহ্মধর্ম হিন্দুধর্মের কাঠামোর মধ্যেই থাকুক এবং ধীরে ধীরে সংস্কার হোক। তিনি উপবীত ত্যাগের বিরোধী ছিলেন। অন্যদিকে, কেশবচন্দ্র সেন ছিলেন প্রগতিশীল ও উগ্র সংস্কারপন্থী। তিনি হিন্দুধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সর্বধর্মসমন্বয়ের আদর্শ, জাতিভেদ প্রথা সম্পূর্ণ বিলোপ, এবং অসবর্ণ বিবাহের পক্ষে ছিলেন। এছাড়া, কেশবচন্দ্রের অনুগামীরা উপাসনা পদ্ধতিতে খ্রিস্টান ও ভক্তি আন্দোলনের রীতিনীতি প্রবর্তনের পক্ষপাতী ছিলেন, যা দেবেন্দ্রনাথ মেনে নিতে পারেননি। এই সংঘাতের ফলেই শেষপর্যন্ত ব্রাহ্মসমাজের বিভাজন ঘটে।
৪.৩ 'গোরা' উপন্যাসটিতে রবীন্দ্রনাথের যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পরিচয় পাওয়া যায় তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাসটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিবর্তনের এক উজ্জ্বল দলিল। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র গোরা প্রথমে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের সমর্থক ছিল, যে সমস্ত আচার-বিচার ও শুচিতা কঠোরভাবে মেনে চলত। কিন্তু পরে সে জানতে পারে যে সে জন্মসূত্রে আইরিশ, অর্থাৎ ম্লেচ্ছ। এই আত্মপরিচয় সংকট তাকে এক বৃহত্তর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সে উপলব্ধি করে যে প্রকৃত ভারত কোনো বিশেষ ধর্ম, বর্ণ বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন যে, সংকীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মেলবন্ধনের নামই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম। গোরার উত্তরণ ঘটে এক বিশ্বজনীন মানবতাবাদের দিকে, যেখানে সে বলে, "আজ আমি ভারতবর্ষীয়... আমার কোনো জাত নেই।" এই উপন্যাস বার্তা দেয় যে, ভারত হলো সকল মানুষের মিলনক্ষেত্র।
৪.৪ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে 'জাতীয় বিদ্রোহ' বলা যায় কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে অনেক ঐতিহাসিক 'জাতীয় বিদ্রোহ' বলে অভিহিত করেছেন। কার্ল মার্কস, ডিসরেলি এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর একে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বা জাতীয় সংগ্রাম বলেছেন। এর পক্ষে যুক্তি হলো: ১) এই বিদ্রোহ কেবল সিপাহিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, অযোধ্যা ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষক, কারিগর ও সাধারণ মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছিল। ২) হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখা গিয়েছিল এবং তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিল। ৩) বিদ্রোহীরা মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে বিদেশি শাসন উচ্ছেদের ডাক দিয়েছিল। যদিও সমগ্র ভারত এই বিদ্রোহে শামিল হয়নি, তবুও এর ব্যাপকতা ও ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব একে জাতীয় বিদ্রোহের মর্যাদা দেয়।
৪.৫ বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখ।
উত্তর: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন একাধারে বিশ্ববিশ্রুত রসায়নবিদ এবং ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ। তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তাঁর অবদান কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন যে বিজ্ঞানকে দেশের শিল্পোন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে তিনি ১৯০১ সালে 'বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কস' প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল ভারতের প্রথম রাসায়নিক ও ঔষধ প্রস্তুতকারী কারখানা। এটি ছিল স্বদেশী প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি তাঁর ছাত্রদেরও বিজ্ঞান গবেষণায় ও শিল্পোদ্যোগে উৎসাহিত করতেন। তাঁর লেখা 'হিস্ট্রি অফ হিন্দু কেমিস্ট্রি' গ্রন্থটি প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানচর্চার গৌরবময় ইতিহাসকে তুলে ধরে।
৪.৬ 'ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি'-এর শ্রমিক আন্দোলনের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত 'ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি' (WPP) ভারতে শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই দলটি কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারা প্রচার এবং শ্রমিক-কৃষকদের দাবিদাওয়াকে জাতীয় আন্দোলনের মূল স্রোতে নিয়ে আসার চেষ্টা করত। বোম্বাই, বাংলা, পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে এই দলের শাখা গড়ে ওঠে। তারা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, কাজের সময় কমানো এবং ন্যুনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করে। ১৯২৮ সালে বোম্বাইয়ের বস্ত্রশিল্পে যে ঐতিহাসিক ধর্মঘট হয়, তাতে WPP-র নেতারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনেও তারা শ্রমিকদের শামিল করে। ব্রিটিশ সরকার এদের প্রভাব খর্ব করতে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে।
৪.৭ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের যোগদান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: বিংশ শতকের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে বাংলার নারীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ। দীপালি সংঘের মতো সংগঠন মেয়েদের লাঠিখেলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করত। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ও কল্পনা দত্ত সরাসরি অংশ নেন। প্রীতিলতা পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে বিষপানে আত্মাহুতি দেন। বীণা দাস কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে গুলি করেন। শান্তি ও সুনীতি নামে দুই কিশোরী কুমিল্লার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে হত্যা করেন। মাতঙ্গিনী হাজরা ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। এই নারীরা প্রমাণ করেছিলেন যে, সশস্ত্র সংগ্রামে তাঁরা পুরুষদের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর হায়দ্রাবাদের নিজাম ওসমান আলি খান ভারত বা পাকিস্তান কোনো ডোমিনিযনেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু প্রজা ভারতে যোগদানের পক্ষে ছিল। নিজামের মদতপুষ্ট 'রাজাকার' বাহিনী রাজ্যের অ-মুসলিম প্রজাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার শুরু করে। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে এবং নিজাম পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন ষড়যন্ত্র করছে—এই খবর পাওয়ার পর, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে হায়দ্রাবাদে পাঠান, যা 'অপারেশন পোলো' নামে পরিচিত। মাত্র চার দিনের লড়াইয়ের পর নিজাম আত্মসমর্পণ করেন এবং হায়দ্রাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
৫। পনেরোটি বা ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৮ x ১ = ৮)
৫.১ বাংলার নবজাগরণে নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর নেতৃত্বে একদল ছাত্র প্রচলিত হিন্দু ধর্ম, কুসংস্কার ও রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে যে যুক্তিবাদী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তা 'নব্যবঙ্গ আন্দোলন' বা 'ইয়ং বেঙ্গল মুভমেন্ট' নামে পরিচিত। ডিরোজিও তাঁর ছাত্রদের শিখিয়েছিলেন "সত্যকে ভালোবাসবে এবং অন্যায়কে ঘৃণা করবে।" তিনি 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি বিতর্ক সভা গঠন করেন, যেখানে ধর্ম, সমাজ, দর্শন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে স্বাধীন আলোচনা হতো। তাঁর ছাত্ররা—কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রসিককৃষ্ণ মল্লিক প্রমুখ—মূর্তি পূজা, জাতিভেদ প্রথা এবং সতীদাহ প্রথার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা 'পার্থেনন', 'জ্ঞানান্বেষণ' ইত্যাদি পত্রিকার মাধ্যমে তাদের প্রগতিশীল মতবাদ প্রচার করতেন।
নব্যবঙ্গ দলের ভূমিকা ছিল মূলত নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক। তাঁরা হিন্দু ধর্মের কুসংস্কারের মূলে আঘাত করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না। তাঁরা প্রকাশ্যে গোমাংস ভক্ষণ এবং উপবীত ত্যাগ করে সমাজপতিদের বিরাগভাজন হন। তাঁদের উগ্রতা এবং বিদেশি ভাবধারা সাধারণ মানুষ সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। তবুও, তাঁদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তাঁরাই প্রথম যুক্তিবাদের আলো জ্বেলেছিলেন এবং অন্ধবিশ্বাসের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁরা নারীশিক্ষা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। ডিরোজিওর অকালমৃত্যুর পর এই আন্দোলন স্তিমিত হয়ে গেলেও, বাংলার নবজাগরণে যুক্তিবাদী মানসিকতা তৈরিতে ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
৫.২ ভারতসভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে ভারতসভার ভূমিকা লেখো।
উত্তর: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় 'ভারত সভা' বা 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল: ১) ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের একটি সাধারণ রাজনৈতিক স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ করা। ২) হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করে শক্তিশালী জনমত গঠন করা। ৩) গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার আদায় করা। ভারত সভার প্রতিষ্ঠা ভারতের জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে ভারতসভার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লর্ড লিটনের দমনমূলক নীতিগুলির বিরুদ্ধে এই সভা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। যখন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়সসীমা ২১ থেকে কমিয়ে ১৯ বছর করা হয়, তখন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সমগ্র ভারত ভ্রমণ করে এর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেন। দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) এবং অস্ত্র আইনের বিরুদ্ধেও ভারত সভা জোরালো প্রতিবাদ জানায়। ইলবার্ট বিল বিতর্কের সময় এই সভা ভারতীয় বিচারকদের অধিকারের সপক্ষে এবং ইউরোপীয়দের জাতিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। ভারত সভা কৃষকদের স্বার্থেও কাজ করেছিল এবং রায়তদের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট ছিল। ১৮৮৩ সালে ভারত সভা কলকাতায় প্রথম 'জাতীয় সম্মেলন' আহ্বান করে, যা পরবর্তীকালে ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল। ভারত সভাই প্রথম সর্বভারতীয় রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটায়।
৫.৩ বিংশ শতকে ভারতে বামপন্থী রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখো। এর প্রধান ত্রুটিগুলি কী ছিল?
উত্তর: বিংশ শতকে ভারতে বামপন্থী রাজনীতি মূলত রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের (১৯১৭) প্রভাবে বিকশিত হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো: ১) শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণির জাগরণ: বামপন্থীরাই প্রথম ভারতের শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের অর্থনৈতিক দাবিদাওয়ার সাথে রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিকে যুক্ত করেছিল। ২) সমাজতন্ত্রের আদর্শ: এরা কংগ্রেসের বুর্জোয়া রাজনীতির বিরোধিতা করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছিল। ৩) সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম ছিল এদের অন্যতম নীতি। মানবেন্দ্রনাথ রায়, মুজাফফর আহমেদ প্রমুখের নেতৃত্বে ১৯২০-এর দশকে কমিউনিস্ট পার্টি এবং পরে কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো দলগুলি এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
তবে এই আন্দোলনের কিছু মারাত্মক ত্রুটি ছিল। ১) বৈদেশিক নির্ভরতা: ভারতের কমিউনিস্টরা অনেক সময় মস্কোর নির্দেশে চলত, যা ভারতের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খেত না। ২) জাতীয় আন্দোলনের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্নতা: ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কমিউনিস্টরা 'জনযুদ্ধ'-এর তত্ত্বে বিশ্বাস করে ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিল, যা তাদের জনবিচ্ছিন্ন করে দেয়। ৩) ঐক্যের অভাব: বামপন্থী দলগুলির মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও মতাদর্শগত সংঘাত ছিল প্রবল। ৪) সংকীর্ণতা: এরা অনেক সময় কংগ্রেসকে ধনিক শ্রেণির দল মনে করে তাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করত, ফলে জাতীয় ঐক্য ব্যাহত হতো। তবুও, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মেহনতি মানুষকে যুক্ত করার কৃতিত্ব বামপন্থীদেরই।
এই পেজে সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির ইতিহাসের প্রশ্নপত্রটির সম্পূর্ণ সমাধান দেওয়া হলো। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়ক হবে। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে পড়া এবং সঠিক তথ্য মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই ভালো ফলাফল করতে পারবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We have provided the complete solution for the History question paper of SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR on this page. We hope these questions and answers will be extremely helpful for your Madhyamik 2026 exam preparation. Reading every chapter of History thoroughly and remembering accurate facts is crucial. With regular practice, you will surely be able to achieve good results. We wish you all a very bright and successful future.
এই অধ্যায়ের সম্পূর্ণ ভিডিও ক্লাস দেখুন
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
Order Summary
First Price:₹30 (শুধু প্রশ্ন)
Second Price:₹50 (প্রশ্ন ও উত্তর সহ)
Author: Sourav Bose
Pages: Apx.100 Pages
File Type: PDF Book (5 MB)
Language: Bengali
Publisher: Das Bros PVT LTD
Payment: Online
Return Policy: No Return & Replacement
NB: পেমেন্ট কমপ্লিট হওয়ার পর, ওই পেমেন্টের একটি পরিষ্কার স্ক্রিনশট আমাদের হেল্প লাইন whatsapp নাম্বারে (9062925319) অবশ্যই পাঠাতে হবে এবং কোন কোন বইয়ের জন্য পেমেন্টটা হয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দিতে হবে। তারপর আমাদের টিম সেই পেমেন্টটিকে ভেরিফাই করবে এবং রাত 12 টার মধ্যে আপনার পছন্দের পিডিএফ সাজেশন ফাইলগুলি আপনার whatsapp নাম্বারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।