Madhyamik Parsad Test Paper 2026 History Page 162 Solution | Madhyamik 2026 History Suggestion & Test Paper Solve
byMadhyamik Guide Official-
0
Web Teacher - History Suggestion 2026
মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
00Days
00Hours
00Minutes
00Seconds
SHEAKHALA BENIMADHAB GIRLS' HIGH SCHOOL (H.S.) - HISTORY
এই পেজে আমরা মাধ্যমিক টেস্ট পেপার ২০২৫-২৬ এর অন্তর্গত 'শেয়াখালা বেণীমাধব গার্লস হাই স্কুল (H.S.)'-এর ইতিহাসের প্রশ্নপত্রের (পৃষ্ঠা ১২৪) সম্পূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিভাগ 'ক' (MCQ), বিভাগ 'খ' (SAQ, সত্য/মিথ্যা, স্তম্ভ মেলানো, বিবৃতি) এবং বিভাগ 'গ' (২ নম্বরের প্রশ্ন)-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও নির্ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উত্তর টেস্ট পেপারের উত্তরমালা এবং পাঠ্যবই যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে যাতে তোমাদের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি না থাকে।
Overview & Solution Guide
This page provides a comprehensive solution for the History Test Paper (Page 124) of 'Sheakhala Benimadhab Girls' High School (H.S.)' for the Madhyamik 2026 examination. We have covered all sections including MCQ (Group A), SAQ, True/False, Match the Columns, Statements (Group B), and 2-mark questions (Group C). Each answer has been meticulously verified with the official key and standard textbooks to ensure accuracy. Practicing this set will significantly boost your confidence and help you score better in the upcoming board exams.
উত্তর: ফোটোগ্রাফ ইতিহাসের এক প্রামাণ্য উপাদান। এটি কোনো ঘটনার চাক্ষুষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে এবং সমসাময়িক কালের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা লিখিত উপাদানের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে।
উত্তর: আত্মজীবনী হলো লেখকের নিজের জীবনের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহের বিবরণ। অন্যদিকে, স্মৃতিকথা হলো লেখকের স্মৃতিতে সংরক্ষিত কোনো বিশেষ ঘটনা বা সময়ের খণ্ডচিত্র, যা জীবনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নয়।
৩.৩ 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'-র মাধ্যমে কলকাতার 'বাবু' সম্প্রদায়ের কীরূপ চিত্র আঁকা হয়েছিল?
উত্তর: কালীপ্রসন্ন সিংহ তাঁর 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থে উনিশ শতকের কলকাতার নব্য বাবু সমাজের ভণ্ডামি, বিলাসবহুল জীবনযাপন, মদ্যপান, এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণকে তীব্র ব্যঙ্গবিদ্রূপের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
উত্তর: হাজি মহম্মদ মহসিন ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও দানবীর। তিনি মুসলিম সমাজের শিক্ষা বিস্তারের জন্য হুগলি ইমামবাড়া প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর বিপুল সম্পত্তি দান করে 'মহসিন ফান্ড' গঠন করেন।
উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলাম ধর্মের শুদ্ধিকরণ এবং অ-ইসলামি প্রথা দূর করা। ভারতে এর রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দার-উল-হারব (শত্রুর দেশ) কে দার-উল-ইসলামে (ইসলামের দেশ) পরিণত করা।
৩.৬ নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন কী উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়?
উত্তর: ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে লর্ড নর্থব্রুক ব্রিটিশ বিরোধী নাটক মঞ্চস্থ করা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন জারি করেন, যাতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা নাটকের মাধ্যমে জনমনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
উত্তর: নবগোপাল মিত্র ছিলেন একজন বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী নেতা যিনি 'ন্যাশনাল মিত্র' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি 'হিন্দু মেলা', 'জাতীয় প্রেস' এবং শরীরচর্চার জন্য 'জাতীয় আখড়া' প্রতিষ্ঠা করে স্বদেশী ভাবধারার প্রসার ঘটান।
উত্তর: পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন বাংলা মুদ্রণ শিল্পের জনক। তিনি চার্লস উইলকিনসের নির্দেশনায় প্রথম বাংলা অক্ষরের টাইপ বা ছাঁচ তৈরি করেন, যার ফলে বাংলা ভাষায় মুদ্রণ সম্ভবপর হয়।
উত্তর: সত্যাগ্রহ হলো মহাত্মা গান্ধীর প্রবর্তিত একটি অহিংস আন্দোলনের পদ্ধতি। এর অর্থ হলো সত্যের প্রতি আগ্রহ বা নিষ্ঠা রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অহিংস পথে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
উত্তর: ১৯৪০ সালে ফ্লাউড কমিশন সুপারিশ করে যে জমিদারদের উৎখাত করে জমির মালিকানা সরাসরি কৃষকদের দেওয়া উচিত এবং বর্গাদারদের ফসলের তিনভাগের দুই ভাগ (তেভাগা) পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত।
উত্তর: ১৯০৮ সালে মুজফফরপুর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ মুরারিপুকুর বাগানে তল্লাশি চালিয়ে বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় এবং অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্রনাথ ঘোষ সহ অনেককে গ্রেপ্তার করে যে মামলা শুরু করে, তাই আলিপুর বোমা মামলা।
উত্তর: ১৯৩২ সালে গান্ধীজি ও আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত পুনা চুক্তির শর্ত ছিল—দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি ত্যাগ করা হবে এবং তার পরিবর্তে আইনসভায় তাদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
৩.১৩ কে, কবে অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বহিষ্কৃত ছাত্রদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
উত্তর: ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে যে সমস্ত রাজ্য প্রত্যক্ষভাবে ব্রিটিশদের দ্বারা শাসিত না হয়ে দেশীয় রাজা বা নবাবদের দ্বারা শাসিত হতো কিন্তু ব্রিটিশ আধিপত্য মেনে চলত, তাদের দেশীয় রাজ্য বলা হতো।
উত্তর: জুনাগড়ের নবাব পাকিস্তানে যোগ দিতে চাইলে প্রজারা বিদ্রোহ করে। পরে ১৯৪৮ সালে গণভোটের মাধ্যমে জুনাগড়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে যোগদানের পক্ষে রায় দিলে এটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
৩.১৬ দক্ষিণারঞ্জন বসুর 'ছেড়ে আসা গ্রাম' গ্রন্থ থেকে কী জানা যায়?
উত্তর: দক্ষিণারঞ্জন বসুর 'ছেড়ে আসা গ্রাম' একটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ, যা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, পূর্ববঙ্গ থেকে উৎখাত হওয়া মানুষের বেদনা এবং শরণার্থী জীবনের কষ্টের কথা জানা যায়।
বিভাগ 'ঘ' : সাত বা আটটি বাক্যে প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ৬ = ২৪)
৪.১ আধুনিক ইতিহাসচর্চায় খেলার ইতিহাসের গুরুত্ব কী?
উত্তর: আধুনিক ইতিহাসচর্চায় খেলার ইতিহাস এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। আগে খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ। খেলার ইতিহাস থেকে আমরা একটি দেশের জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক, বর্ণভেদ এবং লিঙ্গবৈষম্যের চিত্র পাই। যেমন, ১৯১১ সালে মোহনবাগানের আইএফএ শিল্ড জয় কেবল একটি খেলার জয় ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের জাতীয়তাবাদী বিজয়। এছাড়া ক্রিকেটে একসময় জাতিভিত্তিক দল গঠন ভারতের সামাজিক বিভাজনের পরিচয় দেয়। খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কূটনীতির ইতিহাসও জানা যায়। তাই সমাজ ও সংস্কৃতির বিবর্তনের ধারা বুঝতে খেলার ইতিহাস চর্চা অপরিহার্য।
৪.২ কন্যা ইন্দিরাকে লেখা পিতা জওহরলাল নেহরুর চিঠিগুলির মূল্য বিচার করো।
উত্তর: জওহরলাল নেহরু ১৯২৮ সালে মুসৌরি থেকে তাঁর দশ বছরের কন্যা ইন্দিরাকে যে চিঠিগুলি লিখেছিলেন, তা 'Letters from a Father to His Daughter' নামে সংকলিত হয়। এই চিঠিগুলির ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক মূল্য অপরিসীম। নেহরু এই চিঠিতে পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, প্রাণের উৎপত্তি, আদিম মানুষের জীবনযাত্রা এবং সভ্যতার ক্রমবিকাশ সম্পর্কে সহজ সরল ভাষায় আলোচনা করেছেন। তিনি ইন্দিরাকে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ব ইতিহাস এবং মানব সভ্যতার ঐক্য সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছিলেন। এই চিঠিগুলি থেকে আমরা নেহরুর ইতিহাসবোধ, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাই। এটি কেবল পিতা-কন্যার পত্রালাপ নয়, বরং শিশু শিক্ষার এক অনবদ্য দলিল।
৪.৩ সাঁওতাল বিদ্রোহের চরিত্র বা প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দের সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী এক শক্তিশালী আদিবাসী অভ্যুত্থান। ঐতিহাসিকরা এর চরিত্র নিয়ে নানা মত পোষণ করেন। ১) আদিবাসী বিদ্রোহ: প্রাথমিকভাবে এটি ছিল সাঁওতাল উপজাতির নিজস্ব অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। তারা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য লড়াই করেছিল। ২) কৃষক বিদ্রোহ: জমিদার ও মহাজনদের শোষণ এবং ব্রিটিশদের রাজস্ব নীতির বিরুদ্ধে এটি ছিল মূলত কৃষক সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ। ৩) গণবিদ্রোহ: নরহরি কবিরাজ প্রমুখের মতে, এই বিদ্রোহে কেবল সাঁওতালরাই নয়, কামার, কুমোর, তাঁতি, ডোম এবং মুসলিম কৃষকরাও যোগ দিয়েছিল, ফলে এটি গণবিদ্রোহের রূপ নেয়। ৪) ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম: এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক আপসহীন সংগ্রাম, যার লক্ষ্য ছিল স্বাধীন সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা।
৪.৪ মহাবিদ্রোহের পর ভারতে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন করা হয়েছিল?
উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে। ১) কোম্পানি শাসনের অবসান: ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের (মহারানি ভিক্টোরিয়ার) হাতে ন্যস্ত করা হয়। ২) ভাইসরয় পদ সৃষ্টি: গভর্নর জেনারেল পদের নাম পরিবর্তন করে 'ভাইসরয়' বা রাজপ্রতিনিধি করা হয়। লর্ড ক্যানিং ছিলেন প্রথম ভাইসরয়। ৩) ভারত সচিব: ভারতের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য লন্ডনে 'ভারত সচিব' (Secretary of State) পদ সৃষ্টি করা হয় এবং তাঁকে সাহায্য করার জন্য ১৫ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। ৪) নীতি পরিবর্তন: স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করা হয় এবং ভারতীয়দের ধর্ম ও সামাজিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
৪.৫ বাংলায় কারিগরি শিক্ষার বিকাশে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অবদান কী ছিল?
উত্তর: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্বদেশী শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালে 'বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট' (BTI) প্রতিষ্ঠিত হয়। তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষ এর প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা নেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যায় দক্ষ করে গড়ে তোলা যাতে তারা দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারে। এখানে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সার্ভেয়িং, এবং নানা কারিগরি বিষয় শেখানো হতো। এটি ঔপনিবেশিক শিক্ষার বিকল্প হিসেবে স্বনির্ভরতার আদর্শ প্রচার করে। পরবর্তীকালে এটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি বিভাগে রূপান্তরিত হয় এবং ভারতের প্রযুক্তি শিক্ষার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে ওঠে।
উত্তর: ১৯৩৪ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন নেতারা 'কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল' (Congress Socialist Party) গঠন করেন। এর কারণগুলি ছিল: ১) গান্ধীজির প্রতি মোহভঙ্গ: আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার এবং গান্ধীজির আপসমূলক নীতিতে তরুণ কংগ্রেস নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ২) সমাজতন্ত্রের প্রভাব: জয়প্রকাশ নারায়ণ, আচার্য নরেন্দ্র দেব, রামমনোহর লোহিয়া প্রমুখ নেতারা মার্কসবাদ ও সমাজতন্ত্রের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। ৩) শ্রমিক-কৃষক স্বার্থ: তাঁরা জাতীয় আন্দোলনে শ্রমিক ও কৃষকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন এবং কংগ্রেসকে পুঁজিপতিদের প্রভাবমুক্ত করতে চেয়েছিলেন। ৪) পূর্ণ স্বাধীনতা: তাঁরা ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসনের বদলে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক সাম্যের দাবিতে এই দল গঠন করেন।
৪.৭ আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং ব্যাপক। গান্ধীজির ডাকে হাজার হাজার নারী ঘরের চার দেওয়াল পেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ১) লবণ আইন ভঙ্গ: সরোজিনী নাইডু, কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ নেত্রীরা লবণ তৈরিতে এবং লবণ আইন ভঙ্গে নেতৃত্ব দেন। ২) পিকেটিং: নারীরা বিদেশি মদের দোকান ও কাপড়ের দোকানের সামনে পিকেটিং করেন এবং বিলিতি পণ্য বর্জনের ডাক দেন। ৩) লাঞ্ছনা সহ্য: পুলিশের লাঠিচার্জ ও কারাবরণকে তাঁরা হাসিমুখে বরণ করে নেন। দিল্লি, বোম্বাই ও কলকাতায় নারীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। বাংলায় প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্তের মতো নারীরা এই আন্দোলনের প্রভাবে পরবর্তীতে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হন। এই আন্দোলন ভারতীয় নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা নিয়েছিল।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের প্রত্যক্ষ এবং করুণ পরিণতি ছিল উদ্বাস্তু সমস্যা। দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ হিন্দু, শিখ ও মুসলমান তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে সীমান্ত পেরোতে বাধ্য হয়। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার জমি ও অর্থের ব্যবস্থা করলেও, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে আগত বাঙালি উদ্বাস্তুদের সমস্যা ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল। শিয়ালদহ স্টেশন, বিভিন্ন সরকারি ক্যাম্প এবং কলোনিতে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। খাদ্যাভাব, স্বাস্থ্য সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাব তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এই উদ্বাস্তুরা নিজস্ব উদ্যোগে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে এবং জবরদখল কলোনি গড়ে তুলে বাঁচার লড়াই চালায়, যা ভারতের সমাজ ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
বিভাগ 'ঙ' : পনেরোটি বা ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৮ x ১ = ৮)
৫.১ শিক্ষাবিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী? উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক: ১৮১৩ সালের সনদ আইনে ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য বার্ষিক এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু এই অর্থ প্রাচ্য শিক্ষা (সংস্কৃত, আরবি, ফারসি) নাকি পাশ্চাত্য শিক্ষা (ইংরেজি, আধুনিক বিজ্ঞান) খাতে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে জনশিক্ষা কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দেয়। এইচ.টি. প্রিন্সেপ, কোলব্রুক প্রমুখ প্রাচ্য শিক্ষার পক্ষে এবং মেকলে, স্যান্ডার্স প্রমুখ পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে মত দেন। এই বিতর্ক 'প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব' নামে পরিচিত। অবশেষে ১৮৩৫ সালে মেকলের মিনিটস-এর ভিত্তিতে লর্ড বেন্টিঙ্ক পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে রায় দেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা: ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল আধুনিক ভারতের উচ্চশিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। ১) অনুমোদন ও পরীক্ষা গ্রহণ: প্রথমদিকে এটি কেবল বিভিন্ন কলেজকে অনুমোদন দেওয়া এবং পরীক্ষা গ্রহণের কাজ করত। ২) পাঠ্যক্রম নির্ধারণ: এই বিশ্ববিদ্যালয় এন্ট্রান্স থেকে বি.এ., এম.এ. পর্যন্ত পাঠ্যক্রম ও প্রশ্নপত্র তৈরি করত। ৩) শিক্ষার প্রসার: এর অধীনে সমগ্র উত্তর ও পূর্ব ভারতের কলেজগুলি পরিচালিত হতো, ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটে। ৪) গবেষণা ও জাতীয়তাবাদ: আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের উপাচার্য থাকাকালীন এখানে স্নাতকোত্তর পঠনপাঠন ও গবেষণা শুরু হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় বহু কৃতি সন্তান ও জাতীয়তাবাদী নেতার জন্ম দিয়েছে, যারা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাই একে 'গোলদিঘির গোলামখানা' বলে সমালোচনা করা হলেও এর অবদান অনস্বীকার্য।
৫.২ মানুষ, প্রকৃতি ও শিক্ষার সমন্বয় বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রচলিত ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে 'তোতাপাখির শিক্ষা' বা 'কলের শিক্ষা' বলে মনে করতেন। তাঁর মতে, চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ শিক্ষা শিশুর মনের বিকাশ ঘটায় না। তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এবং মুক্ত পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণ করলেই শিশুর দেহ ও মনের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব। তাঁর শিক্ষা চিন্তার মূল কথা ছিল মানুষ ও প্রকৃতির নিবিড় সংযোগ।
তিনি প্রাচীন ভারতের তপোবন আশ্রমের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে 'ব্রহ্মচর্য আশ্রম' বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে ছাত্ররা গাছের ছায়ায় বসে প্রকৃতির কোলে শিক্ষালাভ করত। তিনি পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে আনন্দময় শিক্ষার ওপর জোর দিতেন। নাচ, গান, ছবি আঁকা এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই চিন্তাধারারই পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত 'বিশ্বভারতী', যেখানে তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা যা মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে এবং বিশ্বমানবের সঙ্গে যুক্ত করবে।
৫.৩ বিংশ শতকে ভারতের উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে বামপন্থীদের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: বিংশ শতকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে বামপন্থী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ১৯২০ সালে মানবেন্দ্রনাথ রায় তাসখন্দে এবং ১৯২৫ সালে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১) শ্রমিক ও কৃষক সংগঠন: বামপন্থীরাই প্রথম কংগ্রেসের বুর্জোয়া রাজনীতির বাইরে গিয়ে শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের দাবিদাওয়াকে জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে। তারা 'সারা ভারত কিষাণ সভা' এবং ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামকে গণমুখী করে তোলে।
২) পূর্ণ স্বরাজ: বামপন্থীরাই সর্বপ্রথম পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি তোলে। ১৯২১ সালে আমেদাবাদ কংগ্রেস অধিবেশনে মাওলানা হসরত মোহানি পূর্ণ স্বরাজের প্রস্তাব পেশ করেন।
৩) আপসহীন সংগ্রাম: সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং নৌবিদ্রোহে বামপন্থীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল এবং ফরওয়ার্ড ব্লক বামপন্থী আদর্শে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই চালায়।
তবে ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কমিউনিস্ট পার্টির বিরোধিতা তাদের কিছুটা জনবিচ্ছিন্ন করেছিল। তবুও, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মেহনতি মানুষকে যুক্ত করার কৃতিত্ব এবং স্বাধীনতার অর্থনৈতিক দিকটি তুলে ধরার জন্য বামপন্থীদের অবদান অনস্বীকার্য।
এই পেজে সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির ইতিহাসের প্রশ্নপত্রটির সম্পূর্ণ সমাধান দেওয়া হলো। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়ক হবে। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে পড়া এবং সঠিক তথ্য মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই ভালো ফলাফল করতে পারবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We have provided the complete solution for the History question paper of SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR on this page. We hope these questions and answers will be extremely helpful for your Madhyamik 2026 exam preparation. Reading every chapter of History thoroughly and remembering accurate facts is crucial. With regular practice, you will surely be able to achieve good results. We wish you all a very bright and successful future.
এই অধ্যায়ের সম্পূর্ণ ভিডিও ক্লাস দেখুন
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
Order Summary
First Price:₹30 (শুধু প্রশ্ন)
Second Price:₹50 (প্রশ্ন ও উত্তর সহ)
Author: Sourav Bose
Pages: Apx.100 Pages
File Type: PDF Book (5 MB)
Language: Bengali
Publisher: Das Bros PVT LTD
Payment: Online
Return Policy: No Return & Replacement
NB: পেমেন্ট কমপ্লিট হওয়ার পর, ওই পেমেন্টের একটি পরিষ্কার স্ক্রিনশট আমাদের হেল্প লাইন whatsapp নাম্বারে (9062925319) অবশ্যই পাঠাতে হবে এবং কোন কোন বইয়ের জন্য পেমেন্টটা হয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দিতে হবে। তারপর আমাদের টিম সেই পেমেন্টটিকে ভেরিফাই করবে এবং রাত 12 টার মধ্যে আপনার পছন্দের পিডিএফ সাজেশন ফাইলগুলি আপনার whatsapp নাম্বারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।