Madhyamik Parsad Test Paper 2026 History Page 129 Solution | Madhyamik 2026 History Suggestion & Test Paper Solve
byMadhyamik Guide Official-
0
Web Teacher - History Suggestion 2026
মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
00Days
00Hours
00Minutes
00Seconds
BALICHAK GIRLS HIGH SCHOOL (H.S.) - HISTORY
এই পেজে আমরা মাধ্যমিক টেস্ট পেপার ২০২৫-২৬ এর অন্তর্গত 'শেয়াখালা বেণীমাধব গার্লস হাই স্কুল (H.S.)'-এর ইতিহাসের প্রশ্নপত্রের (পৃষ্ঠা ১২৪) সম্পূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিভাগ 'ক' (MCQ), বিভাগ 'খ' (SAQ, সত্য/মিথ্যা, স্তম্ভ মেলানো, বিবৃতি) এবং বিভাগ 'গ' (২ নম্বরের প্রশ্ন)-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও নির্ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উত্তর টেস্ট পেপারের উত্তরমালা এবং পাঠ্যবই যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে যাতে তোমাদের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি না থাকে।
Overview & Solution Guide
This page provides a comprehensive solution for the History Test Paper (Page 124) of 'Sheakhala Benimadhab Girls' High School (H.S.)' for the Madhyamik 2026 examination. We have covered all sections including MCQ (Group A), SAQ, True/False, Match the Columns, Statements (Group B), and 2-mark questions (Group C). Each answer has been meticulously verified with the official key and standard textbooks to ensure accuracy. Practicing this set will significantly boost your confidence and help you score better in the upcoming board exams.
উত্তর: সংবাদপত্র প্রতিদিন প্রকাশিত হয় এবং এতে মূলত প্রাত্যহিক সংবাদ পরিবেশিত হয় (যেমন- সংবাদ প্রভাকর)। অন্যদিকে, সাময়িক পত্র একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর (সপ্তাহ, মাস বা বছর) প্রকাশিত হয় এবং এতে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকে (যেমন- সোমপ্রকাশ)।
৩.২ ফোটোগ্রাফি কীভাবে আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: ফোটোগ্রাফ বা আলোকচিত্র ইতিহাসের প্রামাণ্য দৃশ্যমান উপাদান। এগুলি থেকে অতীতের কোনো ঘটনা, স্থাপত্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বা সামাজিক রীতিনীতির হুবহু প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়, যা লিখিত বিবরণের সত্যতা যাচাই করতে সাহায্য করে এবং ইতিহাসের জীবন্ত দলিল হিসেবে কাজ করে।
উত্তর: নব্যবঙ্গ আন্দোলন মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং উচ্চশিক্ষিত সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল; গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের সাথে এর কোনো যোগ ছিল না। এছাড়া, অতিরিক্ত উগ্রতা এবং হিন্দু ধর্মের ও ঐতিহ্যের প্রতি অন্ধ বিদ্বেষের কারণে এই আন্দোলন সমাজের বৃহত্তর অংশের সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়েছিল।
৩.৪ গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কেন একটি ব্যতিক্রমী পত্রিকা ছিল?
উত্তর: কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি গ্রামবাংলা থেকে প্রকাশিত হতো এবং এতে গ্রামীণ মানুষের সুখ-দুঃখ, নীলকর ও জমিদারদের অত্যাচারের কথা সাহসিকতার সাথে তুলে ধরা হতো। শহরকেন্দ্রিক সাংবাদিকতার বাইরে গিয়ে গ্রামের কথা বলার জন্যই এটি ছিল ব্যতিক্রমী।
উত্তর: চুয়াড় বিদ্রোহ ছিল ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও পাইকদের প্রথম বড়ো প্রতিরোধ। এই বিদ্রোহের ফলেই সরকার জঙ্গলমহল জেলা গঠন করতে বাধ্য হয় এবং আদিবাসীদের ক্ষোভ প্রশমনের জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
উত্তর: না, ফরাজি আন্দোলন কেবল ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না। হাজি শরিয়ৎউল্লাহ ইসলাম ধর্মের শুদ্ধিকরণের জন্য এটি শুরু করলেও, পরবর্তীকালে দুদু মিঞার নেতৃত্বে এটি জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনে পরিণত হয় এবং রাজনৈতিক চরিত্র লাভ করে।
৩.৭ মহারানীর ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮) প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: মহারানীর ঘোষণাপত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারতীয়দের মন থেকে ব্রিটিশ বিরোধী ক্ষোভ দূর করা এবং তাদের আনুগত্য অর্জন করা। এছাড়া, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কুশাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সুশাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
উত্তর: ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের আইন সচিব সি.পি. ইলবার্ট একটি বিল পেশ করেন, যার মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় বা শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এটিই ইতিহাসে 'ইলবার্ট বিল' নামে পরিচিত।
৩.৯ ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন?
উত্তর: ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল মূলত কেরানি তৈরির কারখানা। এতে কারিগরি বা বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ কম ছিল এবং মাতৃভাষার বদলে ইংরেজি ভাষাকে মাধ্যম করায় সাধারণ মানুষের কাছে শিক্ষা পৌঁছাতে পারেনি। এটি শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি ও দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটাত না।
৩.১০ বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ১৯১৭ সালে বসু বিজ্ঞান মন্দির বা 'বোস ইনস্টিটিউট' প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার প্রসার ঘটানো এবং জীব ও জড়ের মধ্যে যে ঐক্যের সুর রয়েছে তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা।
৩.১১ মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত দুজন বিদেশীর নাম লেখো।
উত্তর: মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় (১৯২৯) অভিযুক্ত দুজন ব্রিটিশ কমিউনিস্ট নেতা হলেন ফিলিপ স্প্র্যাট (Philip Spratt) এবং বেঞ্জামিন ব্র্যাডলি (Benjamin Bradley)।
উত্তর: ১৯৪৬ সালে বাংলার ভাগচাষিরা উৎপন্ন ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ বা তিন ভাগের দুই ভাগ (তেভাগা) পাওয়ার দাবিতে যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তাকে তেভাগা আন্দোলন বলে। এই আন্দোলনের স্লোগান ছিল "নিজ খামারে ধান তোলো"।
উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলিকে বিচারে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলে, তার প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ধর্মঘট ও বিক্ষোভ পালন করা হয়, যা 'রশিদ আলি দিবস' নামে পরিচিত।
উত্তর: ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং অনুন্নত শ্রেণির জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা ঘোষণা করেন, যা 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি' (Communal Award) নামে পরিচিত। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান (পূর্ব ও পশ্চিম) থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু, শিখ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিরাপত্তার খোঁজে ভারতে চলে আসে। তাদের বাসস্থান, খাদ্য ও পুনর্বাসনের যে সংকট তৈরি হয়, তাকেই উদ্বাস্তু সমস্যা বলা হয়।
৩.১৬ সর্দার প্যাটেলকে ভারতের 'লৌহ মানব' বলা হয় কেন?
উত্তর: স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল অত্যন্ত কঠোর হাতে ও দৃঢ়তার সাথে ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্যকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপন করেছিলেন। তাঁর এই ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা ও অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তাঁকে 'লৌহ মানব' বলা হয়।
বিভাগ 'ঘ' : সাত-আটটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্ন)
উত্তর: প্রথাগত ইতিহাস চর্চায় নারীদের ভূমিকা দীর্ঘকাল উপেক্ষিত ছিল। ১৯৭০-এর দশক থেকে 'নতুন সামাজিক ইতিহাস' চর্চায় নারীদের কথা গুরুত্ব পেতে শুরু করে। নারী ইতিহাস চর্চার মূল লক্ষ্য হলো সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া। আগে মনে করা হতো ইতিহাস মানেই রাজা-বাদশাহদের যুদ্ধবিগ্রহ, যেখানে নারীদের স্থান নেই। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সমাজ সংস্কার আন্দোলন—সর্বত্রই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ঘরের অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে এসে মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, সরলাদেবী চৌধুরানীরা কীভাবে জাতীয়তাবাদে অংশ নিয়েছেন, তা আজ ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়। জeraldine Forbes-এর 'Women in Modern India' বা বি.আর. নন্দ-র গ্রন্থগুলি নারী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর ফলে ইতিহাসের লিঙ্গবৈষম্য দূর হয়ে এক সামগ্রিক ইতিহাস রচিত হচ্ছে।
৪.২ শ্রীরামকৃষ্ণের 'সর্বধর্ম সমন্বয়'-এর আদর্শ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীর ধর্মসংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের 'সর্বধর্ম সমন্বয়' এক যুগান্তকারী আদর্শ। তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে যে রেষারেষি ও সংকীর্ণতা ছিল, শ্রীরামকৃষ্ণ তার ঊর্ধ্বে উঠে প্রচার করেন "যত মত, তত পথ"। তিনি নিজে হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান প্রভৃতি বিভিন্ন ধর্মমত সাধনা করে এই উপলব্ধিতে আসেন যে, সব ধর্মেরই গন্তব্য এক—ঈশ্বর লাভ; কেবল পথগুলো আলাদা। তিনি বলতেন, যেমন একই পুকুরের জল কেউ বলে 'জল', কেউ 'পানি', কেউ 'ওয়াটার'—তেমনি একই ঈশ্বরকে কেউ আল্লা, কেউ গড, কেউ বা কৃষ্ণ নামে ডাকে। তাঁর এই সহজ-সরল বাণীর মাধ্যমে তিনি ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক নতুন মানবধর্মের সন্ধান দিয়েছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক।
৪.৩ তিতুমীরের নেতৃত্বে ওয়াহাবি আন্দোলনের পরিচয় দাও।
উত্তর: মীর নিসার আলি বা তিতুমীর বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের (যা তারিকা-ই-মহম্মদিয়া নামেও পরিচিত) প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি হজ করতে গিয়ে সৈয়দ আহামদ ব্রেলভির সংস্পর্শে এসে ওয়াহাবি আদর্শে দীক্ষিত হন। দেশে ফিরে তিনি দরিদ্র মুসলিম কৃষকদের সংগঠিত করে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। কৃষ্ণদেব রায় বা লাঠিয়াল বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ বাধলে তিনি বারাসতের নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। নিজেকে 'বাদশাহ' ঘোষণা করে তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ১৮৩১ সালে লর্ড বেন্টিঙ্কের নির্দেশে ইংরেজ বাহিনী কামানের আঘাতে বাঁশের কেল্লা ধ্বংস করে এবং তিতুমীর বীরের মতো যুদ্ধ করে শহিদ হন। এটি ছিল ব্রিটিশ বিরোধী অন্যতম প্রথম কৃষক বিদ্রোহ।
৪.৪ ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে শিক্ষিত বাঙালী সমাজের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বা মধ্যবিত্ত শ্রেণী সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা বিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল। তারা এই বিদ্রোহকে সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া এবং প্রগতিবিরোধী বলে মনে করত। তাদের ধারণা ছিল, ব্রিটিশ শাসনই ভারতকে আধুনিকতার পথে নিয়ে যাবে এবং বিদ্রোহীরা জিতলে আবার সেই মধ্যযুগীয় অরাজকতা ও কুসংস্কার ফিরে আসবে। 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট', 'সম্বাদ ভাস্কর' প্রভৃতি পত্রিকায় বিদ্রোহের সমালোচনা করা হয়। কালীপ্রসন্ন সিংহ, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ব্রিটিশদের জয় কামনা করেছিলেন এবং কোম্পানির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। বিদ্রোহ দমনের পর তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। তবে তাদের এই মনোভাবের কারণ ছিল মূলত নিজেদের শ্রেণীস্বার্থ এবং ব্রিটিশ শিক্ষার প্রতি অন্ধ বিশ্বাস।
৪.৫ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে বাংলার শ্রমিক শ্রেণী এক গুরুত্বপূর্ণ ও জঙ্গি ভূমিকা পালন করেছিল। এই সময় থেকেই শ্রমিক আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে। ১৬ই অক্টোবর, ১৯০৫ (রক্ষণবন্ধন দিবসে) হাওড়া, মেটিয়াবুরুজ প্রভৃতি এলাকার চটকল শ্রমিকরা ধর্মঘট করে। আসানসোল ও রানিগঞ্জের রেল শ্রমিকরা এবং কলকাতার ট্রাম ও ছাপাখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেয়। বার্ন কোম্পানির শ্রমিক ধর্মঘট, ফোর্ট গ্লস্টার চটকলের ধর্মঘট এবং ১৯০৬ সালের ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে ধর্মঘট ছিল উল্লেখযোগ্য। শ্রমিকরা বিদেশী পণ্য বয়কট করে এবং ব্রিটিশ মালিকদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়। বিপিনচন্দ্র পাল, অশ্বিনীকুমার দত্ত, লিয়াকত হোসেন প্রমুখ নেতারা শ্রমিকদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
উত্তর: উনবিংশ শতকের বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাসে ডঃ মহেন্দ্রলাল সরকার এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন একজন খ্যাতনামা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। তবে তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ১৮৭৬ সালে কলকাতায় 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS) প্রতিষ্ঠা করা। এটিই ছিল ভারতের প্রথম বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, যা সম্পূর্ণ ভারতীয়দের দ্বারা পরিচালিত হতো। তিনি বিশ্বাস করতেন যে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, হাতে-কলমে গবেষণাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানেই পরবর্তীকালে সি.ভি. রমন গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পান। মহেন্দ্রলাল সরকার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য হিসেবেও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টাতেই ভারতে বিজ্ঞান চর্চা এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
৪.৭ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ১৯২৮ সালে সুভাসচন্দ্র বোসের নির্দেশে এবং হেমচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে ঢাকায় 'বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স' (BV) দলটি গঠিত হয়। ১৯৩০-এর দশকে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে এই দল এক ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল। দলের সদস্য বিনয় বসু ঢাকার পুলিশ ইনস্পেক্টর লোম্যানকে হত্যা করেন। এরপর বিনয়, বাদল ও দীনেশ—এই তিন বীর বিপ্লবী ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর রাইটার্স বিল্ডিংস অভিযান করে কারা বিভাগের প্রধান সিম্পসনকে হত্যা করেন। বিচারে দীনেশের ফাঁসি হয়। এছাড়াও বিভি দলের সদস্যরা মেদিনীপুরের তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট—প্যাডি, ডগলাস ও বার্জকে পরপর হত্যা করে ব্রিটিশ প্রশাসনে আতঙ্ক তৈরি করে। এই দলের আত্মত্যাগ ও বীরত্ব ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।
উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার সময় হায়দ্রাবাদের নিজাম ওসমান আলি খান স্বাধীন থাকার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। হায়দ্রাবাদের ৮৫% প্রজা ছিল হিন্দু, কিন্তু শাসক ছিলেন মুসলিম। নিজামের মদতপুষ্ট 'রাজাকার' বাহিনী রাজ্যের সাধারণ মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার শুরু করে এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। এমতাবস্থায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মেজর জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাঠান, যা 'অপারেশন পোলো' নামে পরিচিত। মাত্র চার দিনের পুলিশি অভিযানে (প্রকৃতপক্ষে সামরিক অভিযান) ১৮ সেপ্টেম্বর নিজাম আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৪৯ সালে হায়দ্রাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
বিভাগ 'ঙ' : পনেরো বা ষোলটি বাক্যে যেকোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দাও (৮ x ১ = ৮)
৫.১ উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের চরিত্র ও প্রকৃতি অলোচনা করো।
উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীতে পাশ্চাত্য শিক্ষার সংস্পর্শে এসে বাংলার সমাজ, ধর্ম, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে যে যুক্তিবাদের উন্মেষ ঘটে, তাকেই সাধারণভাবে 'বাংলার নবজাগরণ' বলা হয়। তবে ইউরোপীয় নবজাগরণের সাথে এর চরিত্র ও প্রকৃতির অনেক পার্থক্য ছিল, যা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।
১) **শহরকেন্দ্রিক:** বাংলার নবজাগরণ ছিল মূলত কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী শহরকেন্দ্রিক। গ্রামবাংলার বিশাল কৃষক সমাজের সাথে এর কোনো সংযোগ ছিল না। অনিল শীল একে 'এলিট আন্দোলন' বলে অভিহিত করেছেন।
২) **উচ্চবর্ণের প্রাধান্য:** এই নবজাগরণে মূলত উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। নিম্নবর্গ ও মুসলিম সমাজ এর সুফল থেকে অনেকটাই বঞ্চিত ছিল।
৩) **পাশ্চাত্য প্রভাব:** এটি ছিল পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রত্যক্ষ ফল। রামমোহন, বিদ্যাসাগর প্রমুখ মনীষীরা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবধারার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন।
৪) **সীমাবদ্ধতা:** যদুনাথ সরকার একে 'Constantinople'-এর পতনের সাথে তুলনা করে যুগান্তকারী বললেও, অশোক মিত্র বা সুপ্রকাশ রায়ের মতো ঐতিহাসিকরা একে 'কথিত নবজাগরণ' বা 'Historical Hoax' বলেছেন। তাঁদের মতে, এটি ছিল ব্রিটিশদের কেরানি তৈরির শিক্ষার ফলমাত্র, যা দেশের অর্থনীতি বা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারেনি।
উপসংহারে বলা যায়, সীমাবদ্ধতা থাকলেও এই নবজাগরণ বাঙালির মানস জগতে এক বিপ্লব এনেছিল, যা কুসংস্কার দূর করে আধুনিক ভারতের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
৫.২ বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার সূচনায় প্রথমে জগদীশচন্দ্র বসু ও প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার প্রসারে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁদের অবদান কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ ছিল না, তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞান চর্চার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
**জগদীশচন্দ্র বসু:** প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক হিসেবে তিনি পদার্থবিদ্যা ও উদ্ভিদবিদ্যায় যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তিনি বেতার তরঙ্গ আবিষ্কার করেন এবং ক্রেস্কোগ্রাফ যন্ত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে ও তারা উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। ১৯১৭ সালে তিনি 'বসু বিজ্ঞান মন্দির' (Bose Institute) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল আন্তঃবিভাগীয় গবেষণার এক পীঠস্থান। তিনি চেয়েছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা যেন স্বাধীনভাবে গবেষণা করতে পারেন।
**প্রফুল্লচন্দ্র রায়:** তিনি ছিলেন রসায়নবিদ্যার পথিকৃৎ। তিনি 'মারকিউরাস নাইট্রাইট' আবিষ্কার করে বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান। তাঁর লেখা 'হিস্ট্রি অফ হিন্দু কেমিস্ট্রি' প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে। তবে তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান হলো বিজ্ঞানকে শিল্পের সাথে যুক্ত করা। ১৯০১ সালে তিনি 'বেঙ্গল কেমিক্যালস' প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল ভারতের প্রথম রাসায়নিক ও ঔষধ প্রস্তুতকারী কারখানা। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিজ্ঞান শিক্ষা যদি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি না ঘটায়, তবে তা ব্যর্থ।
এই দুই মনীষী তাঁদের ছাত্রসমাজকে বিজ্ঞান গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে একদল তরুণ বিজ্ঞানী তৈরি করেছিলেন, যা ভারতে আধুনিক বিজ্ঞানের জয়যাত্রা শুরু করেছিল।
৫.৩ উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সতীদাহ প্রথা বিরোধী প্রচেষ্টাগুলির পরিচয় দাও। রামমোহন কীভাবে সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলনকে সাফল্যমন্ডিত করেন?
উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হিন্দু সমাজের অন্যতম কলঙ্কজনক প্রথা ছিল 'সতীদাহ' বা 'সহমরণ'—যেখানে স্বামীর চিতায় জীবন্ত স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা হতো। এর বিরুদ্ধে প্রথমদিকে খ্রিস্টান মিশনারিরা (যেমন শ্রীরামপুর মিশন) এবং কোম্পানি সরকার কিছু বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করে, কিন্তু ধর্মীয় হস্তক্ষেপের ভয়ে তারা পিছিয়ে আসে। মৃত্যুঞ্জয় তর্কালংকারও শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে এর বিরোধিতা করেছিলেন।
**রামমোহনের ভূমিকা:** রাজা রামমোহন রায় এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে এক তীব্র ও সার্থক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
১) **জনমত গঠন:** তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন পুস্তিকা (Pamplet) প্রকাশ করে জনমত তৈরি করেন। তিনি শ্মশানে গিয়ে সতীদাহ আটকাতে স্বজনদের বোঝাতেন এবং প্রয়োজনে রুখে দাঁড়াতেন।
২) **শাস্ত্রীয় যুক্তি:** রক্ষণশীল হিন্দুরা দাবি করত এটি শাস্ত্রসম্মত। রামমোহন প্রাচীন বেদ ও উপনিষদ উদ্ধৃত করে প্রমাণ করেন যে, হিন্দু ধর্মে কোথাও জোর করে বিধবা নারীদের পুড়িয়ে মারার কথা বলা নেই; বরং ব্রহ্মচর্য পালনের কথা বলা আছে। তিনি রক্ষণশীল নেতা রাধাকান্ত দেবের সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হন।
৩) **আইনি লড়াই:** তিনি গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে আবেদন জানান এই প্রথা নিষিদ্ধ করার জন্য। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় অবশেষে ১৮২৯ সালে বেন্টিঙ্ক ১৭ নম্বর রেগুলেশন (Regulation XVII) জারি করে সতীদাহ প্রথাকে আইনত নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করেন। রামমোহনের এই জয় ছিল ভারতের নারীমুক্তি আন্দোলনের প্রথম সোপান।
এই পেজে সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির ইতিহাসের প্রশ্নপত্রটির সম্পূর্ণ সমাধান দেওয়া হলো। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়ক হবে। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে পড়া এবং সঠিক তথ্য মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই ভালো ফলাফল করতে পারবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We have provided the complete solution for the History question paper of SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR on this page. We hope these questions and answers will be extremely helpful for your Madhyamik 2026 exam preparation. Reading every chapter of History thoroughly and remembering accurate facts is crucial. With regular practice, you will surely be able to achieve good results. We wish you all a very bright and successful future.
এই অধ্যায়ের সম্পূর্ণ ভিডিও ক্লাস দেখুন
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
Order Summary
First Price:₹30 (শুধু প্রশ্ন)
Second Price:₹50 (প্রশ্ন ও উত্তর সহ)
Author: Sourav Bose
Pages: Apx.100 Pages
File Type: PDF Book (5 MB)
Language: Bengali
Publisher: Das Bros PVT LTD
Payment: Online
Return Policy: No Return & Replacement
NB: পেমেন্ট কমপ্লিট হওয়ার পর, ওই পেমেন্টের একটি পরিষ্কার স্ক্রিনশট আমাদের হেল্প লাইন whatsapp নাম্বারে (9062925319) অবশ্যই পাঠাতে হবে এবং কোন কোন বইয়ের জন্য পেমেন্টটা হয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দিতে হবে। তারপর আমাদের টিম সেই পেমেন্টটিকে ভেরিফাই করবে এবং রাত 12 টার মধ্যে আপনার পছন্দের পিডিএফ সাজেশন ফাইলগুলি আপনার whatsapp নাম্বারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।