Madhyamik Parsad Test Paper 2026 History Page 143 Solution | Madhyamik 2026 History Suggestion & Test Paper Solve
byMadhyamik Guide Official-
0
Web Teacher - History Suggestion 2026
মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
00Days
00Hours
00Minutes
00Seconds
SHEAKHALA BENIMADHAB GIRLS' HIGH SCHOOL (H.S.) - HISTORY
এই পেজে আমরা মাধ্যমিক টেস্ট পেপার ২০২৫-২৬ এর অন্তর্গত 'শেয়াখালা বেণীমাধব গার্লস হাই স্কুল (H.S.)'-এর ইতিহাসের প্রশ্নপত্রের (পৃষ্ঠা ১২৪) সম্পূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিভাগ 'ক' (MCQ), বিভাগ 'খ' (SAQ, সত্য/মিথ্যা, স্তম্ভ মেলানো, বিবৃতি) এবং বিভাগ 'গ' (২ নম্বরের প্রশ্ন)-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও নির্ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উত্তর টেস্ট পেপারের উত্তরমালা এবং পাঠ্যবই যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে যাতে তোমাদের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি না থাকে।
Overview & Solution Guide
This page provides a comprehensive solution for the History Test Paper (Page 124) of 'Sheakhala Benimadhab Girls' High School (H.S.)' for the Madhyamik 2026 examination. We have covered all sections including MCQ (Group A), SAQ, True/False, Match the Columns, Statements (Group B), and 2-mark questions (Group C). Each answer has been meticulously verified with the official key and standard textbooks to ensure accuracy. Practicing this set will significantly boost your confidence and help you score better in the upcoming board exams.
উত্তর: ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ফটোগ্রাফি ব্যবহারের সময় ফটোগ্রাফারের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করা প্রয়োজন, কারণ ফটোগ্রাফি সর্বদা নিরপেক্ষ হয় না। এছাড়া ছবিটি আসল নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি, সেটিও যাচাই করা দরকার।
উত্তর: সংবাদপত্র (যেমন- সংবাদ প্রভাকর) সাধারণত প্রতিদিন প্রকাশিত হয় এবং এতে সমসাময়িক নিত্যনতুন খবরাখবর থাকে। অন্যদিকে, সাময়িকপত্র (যেমন- সোমপ্রকাশ) একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর (সপ্তাহ বা মাস) প্রকাশিত হয় এবং এতে খবরের চেয়ে সাহিত্য ও সমাজ বিশ্লেষণ বেশি থাকে।
৩.৩ পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাশ্চাত্য শিক্ষার আড়ালে ভারতে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা। তারা মনে করত শিক্ষার মাধ্যমে ভারতীয়দের মনের অন্ধকার দূর হলে তারা সহজেই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করবে।
উত্তর: কেশবচন্দ্র সেন নিজেই বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন পাশ করিয়ে পরে নিজ অপ্রাপ্তবয়স্কা কন্যার বিবাহ দিলে অনুগামীরা ক্ষুব্ধ হন। এছাড়া তাঁর স্বৈরাচারী মনোভাব ও হিন্দু দেবদেবীর প্রতি ভক্তির কারণে শিবনাথ শাস্ত্রী ও আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হয়ে 'সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ' গঠিত হয়।
উত্তর: ইংরেজ সরকার ও বহিরাগত জমিদাররা কোলদের চিরাচরিত জমি ব্যবস্থা কেড়ে নিয়ে অত্যধিক হারে রাজস্ব চাপিয়েছিল। এছাড়া মহাজনদের শোষণ এবং নিজস্ব আইন ও বিচার ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটায় কোলরা বিদ্রোহ করেছিল।
উত্তর: তিতুমীর বাংলার ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা হিসেবে বারাসাত বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন। তিনি ইংরেজ ও নীলকরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম চালিয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উত্তর: ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন আঁকা হয় সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, ভন্ডামি এবং দুর্নীতির সমালোচনা করার জন্য। গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসন এবং বাবু সমাজের কৃত্রিমতাকে হাস্যরসের মাধ্যমে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন।
৩.৮ কেন এবং কখন বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা স্থাপিত হয়?
উত্তর: ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশের সভাপতিত্বে 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা' স্থাপিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারি নীতির সমালোচনা করা এবং বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার ও দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করা।
৩.৯ বাংলার মুদ্রণের ইতিহাসে বটতলা প্রকাশনার গুরুত্ব কী?
উত্তর: বটতলা প্রকাশনা অত্যন্ত সস্তায় বই ছেপে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিত। এখান থেকে ধর্মগ্রন্থ, পাঁচালি, পঞ্জিকা এবং সচিত্র বই প্রকাশিত হওয়ার ফলে স্বল্পবিত্ত ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষদের মধ্যে পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা বর্জন করে স্বদেশি ধাঁচে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ১৯০৬ সালে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ বা NCE গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সাহিত্য, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
উত্তর: ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারা শক্তিশালী করতে এবং শ্রমিক-কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য জয়প্রকাশ নারায়ন ও আচার্য নরেন্দ্র দেবের নেতৃত্বে কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল বা Congress Socialist Party প্রতিষ্ঠিত হয়।
উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলিকে ব্রিটিশ সরকার ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিলে তার প্রতিবাদে ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ধর্মঘট ও বিক্ষোভ পালিত হয়, যা 'রশিদ আলি দিবস' নামে পরিচিত।
উত্তর: ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ৯ই সেপ্টেম্বর বাঘা যতীন ও তাঁর সঙ্গীরা বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে ব্রিটিশ পুলিশের সাথে এক অসম সম্মুখ সমরে লিপ্ত হন। ইতিহাসে এই বীরত্বপূর্ণ লড়াই 'বুড়িবালামের যুদ্ধ' নামে খ্যাত।
উত্তর: স্বাধীনতার পর ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি প্রবল হলে, সেই দাবি খতিয়ে দেখে রাজ্যগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাসের জন্য ১৯৫৩ সালে ফজল আলির নেতৃত্বে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন তৈরি হয়।
৩.১৬ ১৯৫০ সালে কেন নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল?
উত্তর: দেশভাগের পর দুই বাংলার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধ করা এবং উদ্বাস্তুদের সম্পত্তির অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি (দিল্লি চুক্তি) স্বাক্ষরিত হয়।
বিভাগ 'ঘ' : সাত বা আটটি বাক্যে প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ৬ = ২৪)
৪.১ 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থে উনিশ শতকের বাংলার কীরূপ সমাজচিত্র পাওয়া যায়?
উত্তর: কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২) বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপাত্মক রচনা। এই গ্রন্থে উনিশ শতকের কলকাতার বাবু সমাজের অবক্ষয়িত রূপ ফুটে উঠেছে। লেখক 'হুতোম' ছদ্মনামে তৎকালীন নব্য ধনী বাবুদের ভণ্ডামি, মিথ্যাচার, এবং ব্রিটিশদের অন্ধ অনুকরণকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। চড়ক পূজা, বারোয়ারি পূজা এবং বিভিন্ন উৎসবে বাবুদের মদ্যপান ও বাইজি নাচের আসরের বর্ণনা দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে কীভাবে অর্থ অপচয় হতো। সমাজ সংস্কারের নামে যে ভণ্ডামি চলত, তারও সমালোচনা করেছেন তিনি। ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের পাশাপাশি রক্ষণশীল সমাজের কুসংস্কারও তাঁর লেখায় উঠে এসেছে। মূলত, কলকাতার নাগরিক জীবনের অন্তঃসারশূন্যতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের এক বাস্তব দলিল হলো এই গ্রন্থ।
৪.২ এদেশে চিকিৎসা-বিদ্যার ক্ষেত্রে কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজের কীরূপ ভূমিকা ছিল?
উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ভারতের চিকিৎসা-বিদ্যার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। এটিই ছিল এশিয়ার প্রথম কলেজ যেখানে ইউরোপীয় পদ্ধতিতে চিকিৎসাবিদ্যা শেখানো হতো। এই কলেজের সবচেয়ে বড় অবদান হলো শবব্যবচ্ছেদ বা ডিসেকশন চালু করা, যা ভারতীয়দের দীর্ঘদিনের কুসংস্কার ভেঙে দেয়। ১৮৩৬ সালে মধুসূদন গুপ্ত প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এই কলেজ থেকে উত্তীর্ণ ছাত্ররা আধুনিক শল্যচিকিৎসা ও ঔষধ প্রয়োগে দক্ষতা অর্জন করে, যা জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে ব্যাপক সাহায্য করে। এছাড়া এটি চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। লর্ড ডালহৌসি থেকে শুরু করে অনেক ব্রিটিশ প্রশাসক এই কলেজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে এর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
উত্তর: ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে নবগোপাল মিত্র, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের উদ্যোগে 'চৈত্রমেলা' বা 'হিন্দুমেলা' প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল: ১) স্বদেশি ভাবধারার প্রচার: ভারতীয়দের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলা এবং স্বদেশি শিল্পের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা। ২) স্বনির্ভরতা অর্জন: বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটানো। ৩) ঐক্য স্থাপন: হিন্দুদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করা। ৪) শরীরচর্চা ও সংস্কৃতি: ভারতীয় শরীরচর্চা (যেমন লাঠিখেলা, কুস্তি) এবং দেশীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা করা। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে এই মেলা অনুষ্ঠিত হতো এবং এখানে স্বদেশি কবিতা পাঠ ও দেশাত্মবোধক গান গাওয়া হতো। এটি ভারতের জাতীয়তাবাদের উন্মেষে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল।
৪.৪ মহাবিদ্রোহকে কি সামন্ত শ্রেণির অভ্যুত্থান বলা যায়?
উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার সহ অনেক ঐতিহাসিক 'সামন্ত শ্রেণির অভ্যুত্থান' বলে অভিহিত করেছেন। এর পক্ষে যুক্তি হলো, বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মূলত ক্ষমতাচ্যুত রাজা, রানি ও জমিদাররা (যেমন- ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই, নানা সাহেব, কুনওয়ার সিং)। তাঁরা নিজেদের হৃত রাজ্য ও অধিকার ফিরে পেতেই লড়াই করেছিলেন, ভারতের স্বাধীনতার জন্য নয়। বিদ্রোহীরা পুরনো মুঘল শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল, যা ছিল সামন্ততান্ত্রিক। কিন্তু আধুনিক ঐতিহাসিকরা এই মত পুরোপুরি মেনে নেন না। কারণ, এই বিদ্রোহে কেবল সামন্ত প্রভুরা নয়, সাধারণ কৃষক, কারিগর ও সিপাহিরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিল। তাই একে কেবল সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া বললে এর গণচরিত্রকে অস্বীকার করা হয়। এটি ছিল সামন্ত নেতৃত্বের আড়ালে এক গণ-অভ্যুত্থান।
৪.৫ বাংলার মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের কীরূপ অবদান ছিল?
উত্তর: উনিশ শতকের বাংলার মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা। ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় 'বাঙালি প্রেস' বা 'বেঙ্গল গেজেট প্রেস' প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজে হাতে হরফ তৈরি, কম্পোজ ও মুদ্রণের কাজ জানতেন, যা তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিখেছিলেন। তাঁর সম্পাদিত 'বাঙাল গেজেটি' (১৮১৮) ছিল প্রথম সচিত্র বাংলা সংবাদপত্র (যদিও এ নিয়ে বিতর্ক আছে)। তিনি অন্নদামঙ্গল, বিদ্যাসুন্দর প্রভৃতি সচিত্র গ্রন্থ প্রকাশ করে বাঙালির পড়ার রুচি তৈরি করেছিলেন। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যই প্রথম দেখিয়েছিলেন যে বই প্রকাশনা একটি লাভজনক ব্যবসা হতে পারে, যা পরবর্তীকালে বটতলা প্রকাশনার পথ প্রশস্ত করে।
৪.৬ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস কীভাবে একটি অগ্রণী মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হল?
উত্তর: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড—এই তিন মিশনারির প্রচেষ্টায় শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। পঞ্চানন কর্মকারের তৈরি বাংলা হরফ ব্যবহার করে এখান থেকে বাইবেল, রামায়ণ, মহাভারত সহ বহু গ্রন্থ মুদ্রিত হতে থাকে। ১৮০০ থেকে ১৮৩২ সালের মধ্যে এই প্রেস থেকে প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার বই প্রকাশিত হয়। এটি কেবল বাংলা নয়, ভারতের প্রায় ৪০টি ভাষায় বই ছাপত। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তকগুলিও এখান থেকেই ছাপা হতো। উন্নতমানের কাগজ তৈরি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এটি এশিয়ার বৃহত্তম মুদ্রণালয়ে পরিণত হয়। শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের হাত ধরেই বাংলা ছাপাখানা ও প্রকাশনা শিল্প এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
৪.৭ সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো:- দেশ বিভাগ (১৯৪৭) জনিত উদ্বাস্তু সমস্যা।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের অন্যতম করুণ পরিণতি ছিল উদ্বাস্তু সমস্যা। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু, শিখ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত পাঞ্জাবি উদ্বাস্তুরা মূলত বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঞ্জাব ও দিল্লিতে পুনর্বাসিত হয়। কিন্তু পূর্ববঙ্গ থেকে আগত বাঙালি উদ্বাস্তুদের সমস্যা ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল। সরকারি সাহায্য অপ্রতুল হওয়ায় তারা শিয়ালদহ স্টেশন, বিভিন্ন খালি জমি এবং জবরদখল কলোনিতে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকে। তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের অভাব ভারতের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। এই সমস্যা ভারতের রাজনীতি ও সমাজজীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছিল।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর হায়দ্রাবাদের নিজাম ওসমান আলি খান ভারত বা পাকিস্তান কোনো ডোমিনিয়নে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার ঘোষণা করেন। কিন্তু রাজ্যের ৮০ শতাংশ প্রজা ছিল হিন্দু এবং তারা ভারতে যোগদানের পক্ষে ছিল। নিজামের মদতপুষ্ট কাসিম রিজভীর নেতৃত্বে 'রাজাকার' বাহিনী রাজ্যের অ-মুসলিম প্রজাদের ওপর চরম অত্যাচার শুরু করে। এই অরাজক পরিস্থিতিতে এবং নিজাম পাকিস্তানের সাহায্য চাইছেন জানতে পেরে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কড়া পদক্ষেপ নেন। ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা পাঠান ('অপারেশন পোলো')। মাত্র চার দিনের পুলিশি অভিযানের পর ১৮ সেপ্টেম্বর নিজাম আত্মসমর্পণ করেন এবং হায়দ্রাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
৫। পনেরোটি বা ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৮ x ১ = ৮)
৫.১ তুমি কি উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণকে 'প্রকৃত জাগরণ' বলে মনে করো? তুমি তোমার মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের চরিত্র ও প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে প্রবল বিতর্ক রয়েছে। স্যার যদুনাথ সরকার, সুশোভন সরকার প্রমুখ ঐতিহাসিক একে ইউরোপীয় রেনেসাঁসের সাথে তুলনা করে 'প্রকৃত জাগরণ' বা 'নবজাগরণ' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, পাশ্চাত্য শিক্ষার সংস্পর্শে এসে বাঙালির চিন্তা-চেতনা, সাহিত্য, দর্শন ও ধর্মে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছিল। রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, ডিরোজিওর নেতৃত্বে সতীদাহ প্রথা নিবারণ, বিধবা বিবাহ প্রবর্তন এবং আধুনিক শিক্ষার প্রসারের ফলে মধ্যযুগীয় অন্ধকারের অবসান ঘটেছিল। যুক্তি ও মানবতার আলোকে সমাজকে নতুনভাবে দেখার এই প্রয়াস ছিল নিঃসন্দেহে এক জাগরণ।
অন্যদিকে, বিনয় ঘোষ, ড. সুমিত সরকার, অশোক মিত্র প্রমুখ ঐতিহাসিক একে 'প্রকৃত জাগরণ' বলতে নারাজ। তাঁদের মতে, এই জাগরণ ছিল মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং উচ্চবর্ণের ইংরেজি শিক্ষিত মুষ্টিমেয় মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাংলার বিশাল গ্রাম্য সমাজ, মুসলিম সম্প্রদায় এবং নিম্নবর্গের কৃষক-শ্রমিকদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েনি। একে তাঁরা 'Elitist Movement' বা 'শহুরে বিলাসিতা' বলেছেন। তাছাড়া, এই জাগরণ পুরোপুরি মৌলিক ছিল না, বরং তা ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের ফলশ্রুতি।
উপসংহারে বলা যায়, উনিশ শতকের বাংলার জাগরণ ইতালীয় রেনেসাঁসের মতো সর্বব্যাপী না হলেও, তা এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। একে পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না। এটি একটি সীমিত পরিসরে হলেও বাঙালির মানসলোকে যুক্তিবাদ ও আধুনিকতার বীজ বপন করেছিল, যা পরবর্তীকালে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একে 'নবজাগরণ' বলাই যুক্তিযুক্ত।
৫.২ জাতীয়তাবাদের উন্মেষে 'আনন্দমঠ' ও 'বর্তমান ভারত'-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' এবং স্বামী বিবেকানন্দের 'বর্তমান ভারত' গ্রন্থ দুটির অবদান অপরিসীম।
**আনন্দমঠ:** বঙ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমঠ' (১৮৮২) উপন্যাসটি ছিল বিপ্লবীদের কাছে 'দেশপ্রেমের গীতা'। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র দেশমাতৃকাকে দেবীরূপে বন্দনা করেছেন। উপন্যাসের 'বন্দেমাতরম' গানটি কালক্রমে ভারতের জাতীয় মন্ত্রে পরিণত হয়। সন্তান দলের আত্মত্যাগের কাহিনি পড়ে ভারতের যুবসমাজ ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা পেত। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে যে দেশসেবাই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং পরাধীনতা হলো অভিশাপ। স্বদেশী ও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে এই উপন্যাসের প্রভাব ছিল অসামান্য।
**বর্তমান ভারত:** স্বামী বিবেকানন্দের 'বর্তমান ভারত' (১৯০৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত) প্রবন্ধটি ভারতীয়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও স্বভিমান জাগিয়ে তোলে। তিনি এই গ্রন্থে ভারতের পরাধীনতার গ্লানি মোচন করে শূদ্র জাগরণের কথা বলেছেন। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান করে বলেন, "হে ভারত ভুলিও না—নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই।" তাঁর এই বাণী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে মানবতাকে স্থাপন করে। তিনি দেশবাসীকে শিখিয়েছিলেন যে পরানুকরণ নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করেই ভারতকে জাগতে হবে। তাঁর মতে, দুর্বলতাই পাপ, শক্তিই জীবন। এই দুটি গ্রন্থই পরাধীন ভারতে জাতীয় চেতনার উন্মেষে বারুদের মতো কাজ করেছিল।
৫.৩ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারীসমাজ কীভাবে অংশগ্রহণ করেছিল? তাদের আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা কী ছিল?
উত্তর: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে স্বদেশী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাতে বাংলার নারীসমাজ এক অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করে। সরলাদেবী চৌধুরানী, লীলাবতী মিত্র, হেমনলিনী দত্ত প্রমুখের নেতৃত্বে নারীরা ঘরের কোণ ছেড়ে রাজপথে নেমে আসেন। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর আহ্বানে তাঁরা ১৬ অক্টোবর 'অরন্ধন' ও 'রাখিবন্ধন' উৎসবে যোগ দিয়ে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বার্তা দেন। বিদেশি পণ্য বর্জন ছিল এই আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার। নারীরা বিদেশি কাঁচের চুড়ি ভেঙে ফেলেন, বিদেশি কাপড় ও বাসনপত্র ব্যবহার বন্ধ করেন এবং ছেলেমেয়েদের বিদেশি স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেন। সরলাদেবী চৌধুরানী স্বদেশি পণ্য বিক্রির জন্য 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' স্থাপন করেন। এমনকি স্বর্ণকুমারী দেবীর 'সখীসমিতি' স্বদেশি মেলার আয়োজন করে।
**সীমাবদ্ধতা:** নারীসমাজের এই আন্দোলনের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ১) এই আন্দোলন মূলত উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের শিক্ষিত নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ ঘরের, বিশেষ করে গ্রামবাংলার কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারের নারীরা এতে বিশেষ অংশ নেননি। ২) মুসলিম নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত নগণ্য, কারণ আন্দোলনের অনেক আচার-অনুষ্ঠান (যেমন রাখিবন্ধন) হিন্দু ধর্মীয় ভাবধারায় আচ্ছন্ন ছিল। ৩) নারীদের কোনো নিজস্ব শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন ছিল না, তাঁরা মূলত পুরুষ নেতাদের নির্দেশেই চলতেন। তবুও, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনই ভারতীয় নারীদের প্রথম রাজনৈতিক সচেতনতা ও আন্দোলনের আঙিনায় নিয়ে এসেছিল।
এই পেজে সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির ইতিহাসের প্রশ্নপত্রটির সম্পূর্ণ সমাধান দেওয়া হলো। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়ক হবে। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে পড়া এবং সঠিক তথ্য মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই ভালো ফলাফল করতে পারবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We have provided the complete solution for the History question paper of SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR on this page. We hope these questions and answers will be extremely helpful for your Madhyamik 2026 exam preparation. Reading every chapter of History thoroughly and remembering accurate facts is crucial. With regular practice, you will surely be able to achieve good results. We wish you all a very bright and successful future.
এই অধ্যায়ের সম্পূর্ণ ভিডিও ক্লাস দেখুন
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
Order Summary
First Price:₹30 (শুধু প্রশ্ন)
Second Price:₹50 (প্রশ্ন ও উত্তর সহ)
Author: Sourav Bose
Pages: Apx.100 Pages
File Type: PDF Book (5 MB)
Language: Bengali
Publisher: Das Bros PVT LTD
Payment: Online
Return Policy: No Return & Replacement
NB: পেমেন্ট কমপ্লিট হওয়ার পর, ওই পেমেন্টের একটি পরিষ্কার স্ক্রিনশট আমাদের হেল্প লাইন whatsapp নাম্বারে (9062925319) অবশ্যই পাঠাতে হবে এবং কোন কোন বইয়ের জন্য পেমেন্টটা হয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দিতে হবে। তারপর আমাদের টিম সেই পেমেন্টটিকে ভেরিফাই করবে এবং রাত 12 টার মধ্যে আপনার পছন্দের পিডিএফ সাজেশন ফাইলগুলি আপনার whatsapp নাম্বারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।