Madhyamik Parsad Test Paper 2026 History Page 151 Solution | Madhyamik 2026 History Suggestion & Test Paper Solve
byMadhyamik Guide Official-
0
Web Teacher - History Suggestion 2026
মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
00Days
00Hours
00Minutes
00Seconds
SHEAKHALA BENIMADHAB GIRLS' HIGH SCHOOL (H.S.) - HISTORY
এই পেজে আমরা মাধ্যমিক টেস্ট পেপার ২০২৫-২৬ এর অন্তর্গত 'শেয়াখালা বেণীমাধব গার্লস হাই স্কুল (H.S.)'-এর ইতিহাসের প্রশ্নপত্রের (পৃষ্ঠা ১২৪) সম্পূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিভাগ 'ক' (MCQ), বিভাগ 'খ' (SAQ, সত্য/মিথ্যা, স্তম্ভ মেলানো, বিবৃতি) এবং বিভাগ 'গ' (২ নম্বরের প্রশ্ন)-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও নির্ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উত্তর টেস্ট পেপারের উত্তরমালা এবং পাঠ্যবই যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে যাতে তোমাদের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি না থাকে।
Overview & Solution Guide
This page provides a comprehensive solution for the History Test Paper (Page 124) of 'Sheakhala Benimadhab Girls' High School (H.S.)' for the Madhyamik 2026 examination. We have covered all sections including MCQ (Group A), SAQ, True/False, Match the Columns, Statements (Group B), and 2-mark questions (Group C). Each answer has been meticulously verified with the official key and standard textbooks to ensure accuracy. Practicing this set will significantly boost your confidence and help you score better in the upcoming board exams.
উত্তর: ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্ডার ওলকট (Alexander Wolcott) প্রথম ক্যামেরা আবিষ্কার করেন যা ছবিকে দ্রুত বিবর্ণ হওয়া থেকে রক্ষা করত। (দ্রষ্টব্য: লুই দাগের ১৮৩৯ সালে দাগেরোটিপ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন)।
উত্তর: ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতে শিক্ষা বিস্তারের জন্য যে নির্দেশনামা পেশ করেন, তাকে 'উডের ডেসপ্যাচ' বলা হয়। এতে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি সুসংহত কাঠামোর সুপারিশ করা হয়, যা ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার 'ম্যাগনাকার্টা' নামে পরিচিত।
উত্তর: মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের একজন কৃতী ছাত্র এবং পরে শিক্ষক। তিনি ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করে ভারতীয় চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে কুসংস্কার দূরীকরণে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেন।
উত্তর: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মীর নিসার আলি বা তিতুমীর অত্যাচারী জমিদার ও নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে বারাসত বসিরহাট অঞ্চলে যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, তা বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত। তিনি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
উত্তর: ১) জমিদার সভা (১৮৩৮) ছিল মূলত জমিদার ও ধনী শ্রেণির স্বার্থরক্ষার সংগঠন, কিন্তু ভারত সভা (১৮৭৬) ছিল মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মঞ্চ। ২) জমিদার সভার লক্ষ্য ছিল সংকীর্ণ, কিন্তু ভারত সভার লক্ষ্য ছিল সর্বভারতীয় জনমত গঠন ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়।
উত্তর: ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা নবগোপাল মিত্র 'ন্যাশনাল স্কুল' বা জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল শরীরচর্চা ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রদের স্বনির্ভর করে তোলা।
উত্তর: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতায় 'বসু বিজ্ঞান মন্দির' (Bose Institute) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল ভারতে আধুনিক আন্তঃবিষয়ক বিজ্ঞান গবেষণার এক অন্যতম কেন্দ্র।
উত্তর: তারকনাথ পালিত ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ও শিক্ষানুরাগী। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সময় জাতীয় শিক্ষা প্রসারের জন্য এবং 'বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট' ও পরে বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও অর্থ দান করেছিলেন।
উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলিকে ব্রিটিশ সামরিক আদালত ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিলে তার প্রতিবাদে ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ধর্মঘট ও বিক্ষোভ পালিত হয়, যা 'রশিদ আলি দিবস' নামে পরিচিত।
উত্তর: ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং অনুন্নত শ্রেণির জন্য পৃথক নির্বাচনের অধিকার ঘোষণা করেন। এই বিভেদমূলক নীতিটিই 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা' নীতি নামে পরিচিত।
৩.১৩ সর্দার প্যাটেলকে 'ভারতের লৌহ মানব' বলা হয় কেন?
উত্তর: স্বাধীনতার পর ভারতের ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল যে দৃঢ়তা, বিচক্ষণতা ও কঠোর মনোভাবের পরিচয় দিয়েছিলেন, তার জন্য তাঁকে 'ভারতের লৌহ মানব' বলা হয়।
উত্তর: হায়দ্রাবাদের নিজাম স্বাধীন থাকার ঘোষণা করলে এবং রাজাকার বাহিনী প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করলে, সর্দার প্যাটেল ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী পাঠান (অপারেশন পোলো)। চার দিনের লড়াইয়ের পর নিজাম আত্মসমর্পণ করেন এবং হায়দ্রাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উত্তর: ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে কেরালায় শ্রীনারায়ণ গুরুর নেতৃত্বে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ এবং নিম্নবর্ণের মানুষদের মন্দিরে প্রবেশের অধিকার ও মন্দিরের রাস্তা ব্যবহারের দাবিতে যে অহিংস আন্দোলন হয়েছিল, তা ভাইকম সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত।
৩.১৬ কে, কবে, কী উদ্দেশ্য হরিজন সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
উত্তর: ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ এবং দলিত বা হরিজনদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে 'হরিজন সেবক সংঘ' প্রতিষ্ঠা করেন।
বিভাগ 'ঘ' : সাত বা আটটি বাক্যে প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ৬ = ২৪)
উত্তর: আধুনিক ইতিহাস চর্চায় পোশাক-পরিচ্ছদের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১) সামাজিক অবস্থান: পোশাক থেকে সমাজের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, পেশা এবং সামাজিক মর্যাদা বোঝা যায়। রাজা-মহারাজা ও সাধারণ কৃষকের পোশাকে দুস্তর ব্যবধান থাকে। ২) সংস্কৃতি ও রুচি: একটি নির্দিষ্ট সময়ের মানুষের রুচি, সংস্কৃতি এবং শিল্পবোধের পরিচয় পাওয়া যায় তাদের পোশাক থেকে। ৩) নারী-পুরুষের অবস্থান: সমাজে নারী ও পুরুষের অবস্থান এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পোশাকে প্রতিফলিত হয়। ৪) জাতীয়তাবাদ: স্বদেশী আন্দোলনের সময় খাদি বস্ত্র পরিধান ছিল প্রতিবাদের ভাষা। গাঁধীজির ধুতি ও চাদর ছিল ভারতীয়ত্বের প্রতীক। ৫) ধর্ম ও আবহাওয়া: ভৌগোলিক পরিবেশ ও ধর্মীয় বিশ্বাস কীভাবে পোশাককে প্রভাবিত করে, তাও জানা যায়। সুতরাং, পোশাক কেবল লজ্জা নিবারণের উপায় নয়, তা ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
৪.২ ধর্ম সংস্কার আন্দোলনে স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ কেবল একজন সন্ন্যাসী ছিলেন না, তিনি ছিলেন হিন্দু ধর্মের এক মহান সংস্কারক। তাঁর চিন্তাধারার মূল ভিত্তি ছিল শ্রীরামকৃষ্ণের 'যত মত তত পথ' এবং অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন। ১) নব্য বেদান্ত: তিনি বেদান্তকে জঙ্গলের গুহা থেকে লোকালয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর মতে, জীব সেবাই হলো শিব সেবা। মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর বিরাজমান। ২) মানবতাবাদ: তিনি ধর্মকে আচার-সর্বস্বতা থেকে মুক্ত করে মানবকল্যাণের কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলতেন, "খালি পেটে ধর্ম হয় না।" দরিদ্র ও আর্তের সেবাই ছিল তাঁর কাছে পরম ধর্ম। ৩) সর্বধর্মসমন্বয়: তিনি কোনো ধর্মকে ছোট মনে করতেন না এবং সকল ধর্মের সারসত্য গ্রহণে বিশ্বাসী ছিলেন। ৪) জাতিভেদ বিরোধী: তিনি জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার তীব্র বিরোধী ছিলেন এবং শূদ্র জাগরণের কথা বলেছিলেন। তাঁর এই সংস্কার আন্দোলন হিন্দু ধর্মকে এক নতুন উদার ও মানবিক রূপ দিয়েছিল।
উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর এলাহাবাদ দরবারে লর্ড ক্যানিং মহারানি ভিক্টোরিয়ার যে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, তা ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১) কোম্পানি শাসনের অবসান: এর মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের হাতে ন্যস্ত হয়। ২) স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল: ডালহৌসির কুখ্যাত স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করা হয় এবং দেশীয় রাজাদের দত্তক নেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ৩) ধর্মনিরপেক্ষতা: ঘোষণা করা হয় যে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না। ৪) সমানাধিকার: জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে ভারতীয়দের নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। যদিও বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলি পুরোপুরি পালিত হয়নি, তবুও এটি ছিল ভারতীয় প্রজা ও ব্রিটিশ শাসকের মধ্যে এক নতুন সম্পর্কের সূচনা।
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' (১৮৮২) উপন্যাসটি ছিল ভারতীয় বিপ্লবীদের কাছে 'দেশপ্রেমের গীতা'। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র দেশমাতৃকাকে দেবীরূপে বন্দনা করেছেন। ১) দেশপ্রেমের মন্ত্র: উপন্যাসের 'বন্দেমাতরম' গানটি কালক্রমে ভারতের জাতীয় মন্ত্রে পরিণত হয়। এটি বিপ্লবীদের মনে অসীম সাহস ও দেশপ্রেম জাগাত। ২) আত্মত্যাগ: সন্তান দলের আত্মত্যাগের কাহিনি যুবসমাজকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করত। ৩) পরাধীনতার গ্লানি: বঙ্কিমচন্দ্র দেখিয়েছেন যে পরাধীনতা অভিশাপ এবং দেশের সেবাই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। ৪) সশস্ত্র সংগ্রামের প্রেরণা: এই উপন্যাস প্রমাণ করে যে প্রয়োজনে অস্ত্র ধরে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হবে। স্বদেশী ও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবীরা এই গ্রন্থ বুকে নিয়ে ফাঁসির মঞ্চে যেতেন। তাই একে জাতীয়তাবাদের উৎস বলা হয়।
উত্তর: উনিশ শতকে ভারতে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষারও বিকাশ ঘটতে শুরু করে। ১) সরকারি উদ্যোগ: ১৮৪৭ সালে রুরকি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৮৫৬ সালে কলকাতা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (যা পরে শিবপুর বি.ই. কলেজ হয়) প্রতিষ্ঠিত হয়। এগুলির উদ্দেশ্য ছিল মূলত পূর্ত বিভাগের জন্য ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা। ২) স্বদেশি উদ্যোগ: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় জাতীয় শিক্ষা পরিষদের অধীনে ১৯০৬ সালে 'বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট' (BTI) প্রতিষ্ঠিত হয়। তারকনাথ পালিতের অর্থানুকূল্যে এটি গড়ে ওঠে। এখানে দেশীয় প্রযুক্তিতে কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হতো। ৩) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়: পরবর্তীকালে এই BTI যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এবং শেষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ৪) গুরুত্ব: এই প্রতিষ্ঠানগুলি ভারতীয়দের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান বিস্তার করে এবং দেশকে শিল্পে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে দেয়।
৪.৬ আইন অমান্য আন্দোলনে কৃষক শ্রেণির ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনে ভারতের কৃষক সমাজ এক বিশাল ভূমিকা পালন করে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কৃষিপণ্যের দাম কমে যাওয়ায় এবং খাজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা চরম দুর্দশায় ছিল। ১) খাজনা বন্ধ আন্দোলন: যুক্তপ্রদেশ, বাংলা ও বিহারে কৃষকরা 'করের বিরুদ্ধে' বা খাজনা বন্ধ আন্দোলন শুরু করে। ২) অংশগ্রহণ: গুজরাটের বারদৌলি, খেদা এবং বাংলার মেদিনীপুর, আরামবাগ প্রভৃতি স্থানে কৃষকরা দলে দলে এই আন্দোলনে যোগ দেয়। ৩) বন আইন অমান্য: মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে আদিবাসী কৃষকরা বন আইন ভঙ্গ করে সত্যাগ্রহ করে। ৪) পুলিশি নির্যাতন: ব্রিটিশ সরকার কৃষকদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালায়, তাদের জমি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, তবুও কৃষকরা দমে যায়নি। এই আন্দোলনে কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একে প্রকৃত গণ-আন্দোলনে পরিণত করেছিল।
৪.৭ দলিত আন্দোলন বিষয়ে গান্ধি আম্বেদকর বিতর্ক নিয়ে টীকা লেখো।
উত্তর: ১৯৩০-এর দশকে দলিতদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি.আর. আম্বেদকরের মধ্যে যে মতপার্থক্য দেখা দেয়, তা ইতিহাসে বিখ্যাত। আম্বেদকর গোলটেবিল বৈঠকে দলিতদের জন্য 'পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী'র (Separate Electorate) দাবি জানান। ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা' নীতিতে এই দাবি মেনে নেন। গান্ধীজি এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, এতে হিন্দু সমাজ চিরস্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে। এর প্রতিবাদে তিনি যারবেদা জেলে আমরণ অনশন শুরু করেন। সারা দেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে চাপে পড়ে আম্বেদকর নতিস্বীকার করেন এবং ১৯৩২ সালে উভয়ের মধ্যে 'পুনা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়। এতে পৃথক নির্বাচনের বদলে দলিতদের জন্য আইনসভায় আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা মেনে নেওয়া হয়।
৪.৮ দেশভাগ জনিত উদবাস্তু সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করে?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের ফলে পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু, শিখ শরণার্থী ভারতে চলে আসে, যা এক বিশাল সমস্যার সৃষ্টি করে। ভারত সরকার এই সমস্যা সমাধানে একাধিক পদক্ষেপ নেয়: ১) ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর: সরকার একটি পৃথক পুনর্বাসন মন্ত্রক গঠন করে এবং উদ্বাস্তুদের জন্য ত্রাণ শিবির বা ক্যাম্প খোলে। ২) খাদ্য ও বাসস্থান: ক্যাম্পে তাদের বিনামূল্যে রেশন ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ৩) বিনিময় ও ক্ষতিপূরণ: পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা পাঞ্জাবি উদ্বাস্তুদের জন্য 'সম্পত্তি বিনিময়' আইনের মাধ্যমে ফেলে আসা সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ৪) কলোনি স্থাপন: পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য বিভিন্ন খালি জমি ও বাগানবাড়িতে জবরদখল কলোনিগুলিকে পরে সরকার স্বীকৃতি দেয় এবং উন্নয়নের ব্যবস্থা করে। ৫) দণ্ডকারণ্যের পরিকল্পনা: অনেককে আন্দামান ও দণ্ডকারণ্যে পুনর্বাসিত করা হয়। যদিও সরকারি প্রচেষ্টা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
৫। পনেরোটি বা ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৮ x ১ = ৮)
৫.১ ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আলোচনা করো।
উত্তর: উনিশ শতকে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
**সরকারি উদ্যোগ:** ১৮১৩ সালের সনদ আইনে ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়। মেকলে মিনিট (১৮৩৫) এবং বেন্টিঙ্কের ঘোষণার মাধ্যমে ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচ ছিল শিক্ষার মহাসনদ, যার ভিত্তিতে ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। লর্ড হার্ডিঞ্জ ঘোষণা করেন যে ইংরেজি জানা ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যা শিক্ষার প্রসারে গতি আনে।
**বেসরকারি উদ্যোগ:** ১) মিশনারি উদ্যোগ: শ্রীরামপুর ত্রয়ী (কেরি, মার্শম্যান, ওয়ার্ড) এবং আলেকজান্ডার ডাফের মতো মিশনারিরা স্কুল-কলেজ স্থাপন করে ইংরেজি শিক্ষা ছড়িয়ে দেন। ২) ব্যক্তিগত উদ্যোগ: রাজা রামমোহন রায় নিজের খরচে অ্যাংলো হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেন। ডেভিড হেয়ার হিন্দু কলেজ (১৮১৭) ও স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা নেন। বিদ্যাসাগর বাংলার জেলাগুলিতে বহু মডেল স্কুল এবং মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন। বেথুন সাহেবের উদ্যোগে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটে।
সুতরাং, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বেসরকারি প্রচেষ্টার যৌথ ফলেই ভারতে আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।
৫.২ চিত্রকলার মাধ্যমে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর কীভাবে জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটিয়েছিলেন।
উত্তর: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকলা এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।
**অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর:** তিনি বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় (১৯০৫) তাঁর বিখ্যাত 'ভারতমাতা' চিত্রটি অঙ্কন করেন। এই চিত্রে ভারতমাতাকে চার হাতযুক্তা দেবীরূপে দেখানো হয়েছে, যিনি সন্তানদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও দীক্ষা দান করছেন। এটি নিছক দেবীমূর্তি নয়, বরং দেশমাতৃকার এক মূর্ত প্রতীক ছিল, যা বিপ্লবীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও ত্যাগের আদর্শ জাগিয়ে তুলেছিল। তিনি 'বঙ্গীয় কলা সংসদ' প্রতিষ্ঠা করে ভারতীয় শিল্পকলাকে পাশ্চাত্য প্রভাবমুক্ত করে স্বকীয়তা দান করেন।
**গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর:** তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী। তিনি তাঁর কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসন এবং বাবু সমাজের ভণ্ডামিকে তীব্র কটাক্ষ করেন। 'অদ্ভুত লোক', 'বিরূপ বজ্র', 'নয়া হুল্লোড়' প্রভৃতি ব্যঙ্গচিত্র সংকলনে তিনি ব্রিটিশ শাসনের শোষণ, অবিচার এবং ভারতীয়দের দাসসুলভ মানসিকতাকে উপহাস করেছেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি যে ছবি এঁকেছিলেন, তা ব্রিটিশদের বর্বরতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল। তাঁর তুলি ছিল প্রতিবাদের এক ধারালো অস্ত্র।
৫.৩ বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: নমঃশূদ্ররা ছিল পূর্ব বাংলার (ফরিদপুর, যশোহর, খুলনা, বাখরগঞ্জ) এক বিশাল কৃষিভিত্তিক নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়, যারা আগে 'চণ্ডাল' নামে পরিচিত ছিল। উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা সামাজিক লাঞ্ছনা ও শোষণের বিরুদ্ধে উনিশ শতকের শেষার্ধে তারা যে আন্দোলন গড়ে তোলে, তাই নমঃশূদ্র আন্দোলন নামে পরিচিত।
**আন্দোলনের ধারা:** ১) ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার: এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর। তাঁরা 'মতুয়া' ধর্মমতের মাধ্যমে নমঃশূদ্রদের ঐক্যবদ্ধ করেন। গুরুচাঁদ ঠাকুর শিক্ষার প্রসারে জোর দেন এবং ঘোষণা করেন—"হাতে কাম, মুখে নাম"। তিনি বলেন, শিক্ষাই হলো উন্নতির চাবিকাঠি। ২) রাজনৈতিক অধিকার: ১৯১১ সালের জনগণনায় তারা 'চণ্ডাল'-এর পরিবর্তে 'নমঃশূদ্র' নাম ব্যবহারের অধিকার পায়। রাজনৈতিকভাবে তারা কংগ্রেসের বিরোধিতা করে এবং ব্রিটিশদের সমর্থন করে, কারণ তারা মনে করত উচ্চবর্ণের কংগ্রেস তাদের স্বার্থ দেখবে না। যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন এবং আম্বেদকরের সাথে হাত মিলিয়ে দলিত অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হন। দেশভাগের ফলে এই আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ নমঃশূদ্র অধ্যুষিত এলাকাগুলি পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই পেজে সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির ইতিহাসের প্রশ্নপত্রটির সম্পূর্ণ সমাধান দেওয়া হলো। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়ক হবে। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে পড়া এবং সঠিক তথ্য মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই ভালো ফলাফল করতে পারবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We have provided the complete solution for the History question paper of SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR on this page. We hope these questions and answers will be extremely helpful for your Madhyamik 2026 exam preparation. Reading every chapter of History thoroughly and remembering accurate facts is crucial. With regular practice, you will surely be able to achieve good results. We wish you all a very bright and successful future.
এই অধ্যায়ের সম্পূর্ণ ভিডিও ক্লাস দেখুন
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
Order Summary
First Price:₹30 (শুধু প্রশ্ন)
Second Price:₹50 (প্রশ্ন ও উত্তর সহ)
Author: Sourav Bose
Pages: Apx.100 Pages
File Type: PDF Book (5 MB)
Language: Bengali
Publisher: Das Bros PVT LTD
Payment: Online
Return Policy: No Return & Replacement
NB: পেমেন্ট কমপ্লিট হওয়ার পর, ওই পেমেন্টের একটি পরিষ্কার স্ক্রিনশট আমাদের হেল্প লাইন whatsapp নাম্বারে (9062925319) অবশ্যই পাঠাতে হবে এবং কোন কোন বইয়ের জন্য পেমেন্টটা হয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দিতে হবে। তারপর আমাদের টিম সেই পেমেন্টটিকে ভেরিফাই করবে এবং রাত 12 টার মধ্যে আপনার পছন্দের পিডিএফ সাজেশন ফাইলগুলি আপনার whatsapp নাম্বারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।