Madhyamik Parsad Test Paper 2026 History Page 132 Solution | Madhyamik 2026 History Suggestion & Test Paper Solve
byMadhyamik Guide Official-
0
Web Teacher - History Suggestion 2026
মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
00Days
00Hours
00Minutes
00Seconds
GUSKARA BALIKA VIDYALAYA - HISTORY
এই পেজে আমরা মাধ্যমিক টেস্ট পেপার ২০২৫-২৬ এর অন্তর্গত 'গুসকরা বালিকা বিদ্যালয়'-এর ইতিহাসের প্রশ্নপত্রের (পৃষ্ঠা 132) সম্পূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিভাগ 'ক' (MCQ), বিভাগ 'খ' (SAQ, সত্য/মিথ্যা, স্তম্ভ মেলানো, বিবৃতি) এবং বিভাগ 'গ' (২ নম্বরের প্রশ্ন)-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও নির্ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উত্তর টেস্ট পেপারের উত্তরমালা এবং পাঠ্যবই যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে যাতে তোমাদের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি না থাকে।
Overview & Solution Guide
This page provides a comprehensive solution for the History Test Paper (Page 132) of 'GUSKARA BALIKA VIDYALAYA' for the Madhyamik 2026 examination. We have covered all sections including MCQ (Group A), SAQ, True/False, Match the Columns, Statements (Group B), and 2-mark questions (Group C). Each answer has been meticulously verified with the official key and standard textbooks to ensure accuracy. Practicing this set will significantly boost your confidence and help you score better in the upcoming board exams.
উত্তর: ইন্টারনেটে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য সবসময় সঠিক বা নির্ভরযোগ্য হয় না, অনেক ভুল তথ্য থাকে। তাছাড়া, একই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য গবেষকদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
উত্তর: নাটক সমকালীন সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে, যা থেকে সেই সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। এটি লোকশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে জনমত গঠনেও সাহায্য করে।
৩.৩ নীলদর্পণ নাটকটি বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: বাংলার নবজাগরণ মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং উচ্চশিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, গ্রামবাংলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাই অনেক ঐতিহাসিক একে যথার্থ 'নবজাগরণ' না বলে 'ঐতিহাসিক প্রতারণা' বা 'অতিরঞ্জন' বলেছেন।
উত্তর: চুয়াড় বিদ্রোহের সময় বাঁকুড়া, মেদিনীপুর জেলার স্থানীয় পাইক বা লাঠিয়ালরা জমিদারদের অধীনে কাজ করার বিনিময়ে নিষ্কর জমি ভোগ করত, একে পাইকান জমি বলা হতো।
উত্তর: মুন্ডাবিদ্রোহের প্রধান লক্ষ্য ছিল দিকু বা বহিরাগত জমিদার-মহাজনদের অত্যাচার থেকে মুক্তি এবং ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করে স্বাধীন 'মুন্ডারাজ' প্রতিষ্ঠা করা।
উত্তর: নবগোপাল মিত্র 'হিন্দু মেলা' (১৮৬৭) প্রতিষ্ঠা করে স্বদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন। তিনি 'ন্যাশনাল পেপার' সম্পাদনা করতেন এবং তাঁকে 'ন্যাশনাল মিত্র' বলা হতো।
উত্তর: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসন, বাবু সমাজের ভণ্ডামি এবং জাতিভেদ প্রথাকে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর চিত্রগুলিতে সমাজ সচেতনতা ও জাতীয়তাবোধের প্রকাশ দেখা যায়।
৩.৯ কাকে, কেন 'বাংলার গুটেনবার্গ' বলে অভিহিত করা হয়?
উত্তর: চার্লস উইলকিন্সকে 'বাংলার গুটেনবার্গ' বলা হয়। কারণ তিনি পঞ্চানন কর্মকারের সহায়তায় প্রথম বাংলা মুদ্রণ হরফ তৈরি করে বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের সূচনা করেছিলেন।
উত্তর: ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে দেশীয় আদর্শে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ বা NCE প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
উত্তর: ১৯২২ সালে চৌরিচৌরায় উত্তেজিত জনতা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলে ২২ জন পুলিশ মারা যায়। এই হিংসাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গান্ধিজি অহিংস অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
উত্তর: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় গঠিত এই সরকার 'বিদ্যুৎ বাহিনী' গঠন করেছিল, বন্যা ত্রাণ কার্য চালিয়েছিল এবং নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করেছিল।
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রদের আন্দোলন থেকে দূরে রাখার জন্য সরকার কার্লাইল সার্কুলার জারি করে। এর প্রতিবাদে এবং বহিষ্কৃত ছাত্রদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য শচীন্দ্র প্রসাদ বসু ১৯০৫ সালে অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি গঠন করেন।
উত্তর: ১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর বিনয়, বাদল ও দীনেশ রাইটার্স বিল্ডিং-এ ঢুকে সিম্পসন সাহেবকে হত্যা করেন এবং পুলিশের সাথে যে গুলি বিনিময় হয়, তা ইতিহাসে 'অলিন্দ যুদ্ধ' নামে পরিচিত।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে যে দলিলে স্বাক্ষর করে ভারত বা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে হতো, তাকে 'ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন' বা সংযুক্তি দলিল বলা হয়।
উত্তর: ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি খতিয়ে দেখার জন্য ১৯৪৮ সালে জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল এবং পট্টভি সীতারামাইয়াকে নিয়ে যে কমিটি গঠিত হয়, তা JVP কমিটি নামে পরিচিত।
বিভাগ 'ঘ' : সাত বা আটটি বাক্যে প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ৬ = ২৪)
৪.১ সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা উল্লেখ করো।
উত্তর: উনিশ শতকের সমাজ সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ঘটনা ছিল সতীদাহ প্রথা নিবারণ, আর এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন রাজা রামমোহন রায়। তিনি লক্ষ্য করেন যে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিধবা নারীদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। রামমোহন রায় প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র মন্থন করে প্রমাণ করেন যে, হিন্দু ধর্মে সতীদাহ প্রথা বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি শাস্ত্রবিরোধী। তিনি 'সংবাদ কৌমুদী' পত্রিকার মাধ্যমে এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন এবং রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের তীব্র বিরোধিতার মোকাবিলা করেন। তিনি লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে সতীদাহ প্রথা রদের জন্য স্মারকলিপি পেশ করেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিঙ্ক ১৭ নম্বর রেগুলেশন আইন জারি করে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এটি ছিল নারীমুক্তি আন্দোলনের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
৪.২ 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা থেকে উনিশ শতকের বাংলার কী ধরনের সমাজচিত্র পাওয়া যায়?
উত্তর: কাঙাল হরিনাথ মজুমদার সম্পাদিত 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' (১৮৬৩) পত্রিকাটি উনিশ শতকের বাংলার গ্রামীণ সমাজের এক জীবন্ত দলিল। এই পত্রিকায় গ্রামের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ এবং নীলকর ও জমিদারদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়মিত প্রকাশিত হতো। সমকালীন অন্যান্য পত্রিকা যেখানে শহরের বাবু কালচার নিয়ে ব্যস্ত ছিল, সেখানে গ্রামবার্তা প্রকাশিকা গ্রামের শোষিত কৃষকদের কথা তুলে ধরত। এতে মহাজনদের শোষণ, পুলিশি জুলুম এবং ব্রিটিশ প্রশাসনের অবিচারের কঠোর সমালোচনা করা হতো। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র ও মীর মশাররফ হোসেনের লেখাও এতে প্রকাশিত হতো। এই পত্রিকা প্রমাণ করে যে, তৎকালীন গ্রামীণ সমাজ ছিল কুসংস্কার ও শোষণে জর্জরিত, কিন্তু তার মধ্যেও প্রতিবাদের সুর ধ্বনিত হয়েছিল।
৪.৩ মহারানির ঘোষণাপত্র (১৮৫৮ খ্রিঃ) সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে সরাসরি নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর এলাহাবাদের দরবারে লর্ড ক্যানিং মহারানি ভিক্টোরিয়ার যে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, তা ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বলা হয়: ১) ব্রিটিশ সরকার আর রাজ্য বিস্তার করবে না। ২) দেশীয় রাজাদের স্বত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করা হবে এবং দত্তক নেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ৩) জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে। ৪) ভারতীয়দের ধর্মীয় বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। ৫) বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী যারা প্রত্যক্ষ হত্যার সাথে যুক্ত নয়, তাদের ক্ষমা করা হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে ভারতবাসীর আনুগত্য অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
৪.৪ জাতীয়তাবোধ বিকাশের ক্ষেত্রে 'বর্তমান ভারত' গ্রন্থটির ভূমিকা লেখো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ রচিত 'বর্তমান ভারত' গ্রন্থটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে এক অসামান্য অবদান। এই গ্রন্থে স্বামীজি ভারতের অতীত গৌরব এবং বর্তমানের অধঃপতনের চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি দেশবাসীকে পরাধীনতার গ্লানি মোচন করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "হে ভারত ভুলিও না, নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই।" এই মন্ত্র দেশবাসীকে এক অখণ্ড জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি দেশপ্রেমকে ধর্মে উন্নীত করেছিলেন। বিপ্লবীরা এই গ্রন্থটিকে গীতার মতোই পবিত্র মনে করত। স্বামীজি এই গ্রন্থে শূদ্র জাগরণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য যুবসমাজকে ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন।
উত্তর: ১৯২৮ সালে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলিতে বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে যে কৃষক আন্দোলন হয়েছিল, তা ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সরকার রাজস্বের হার ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দিলে কৃষকরা কর না দেওয়ার শপথ নেয়। এই আন্দোলনের তাৎপর্য হলো: ১) এটি ছিল সম্পূর্ণ অহিংস এবং সুশৃঙ্খল গণ-আন্দোলন। ২) এই আন্দোলনের সাফল্য সরকারকে বর্ধিত রাজস্ব প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে, যা কৃষক ঐক্যের বিজয় প্রমাণ করে। ৩) এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বল্লভভাই প্যাটেল জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং বারদৌলির মহিলারা তাঁকে 'সর্দার' উপাধি দেন। ৪) এই আন্দোলন পরবর্তীকালে আইন অমান্য আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করেছিল।
৪.৬ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে কৃষকসমাজ কেন সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল না?
উত্তর: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে মধ্যবিত্ত বাঙালি হিন্দু সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিলেও কৃষক সমাজের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। এর প্রধান কারণগুলি হলো: ১) এই আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিল মূলত জমিদার ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর হাতে, যারা কৃষকদের স্বার্থ বা খাজনা মকুবের বিষয়গুলি নিয়ে কোনো কথা বলেনি। ২) পূর্ববঙ্গের অধিকাংশ কৃষক ছিল মুসলিম, এবং ব্রিটিশ সরকার তাদের বুঝিয়েছিল যে বঙ্গভঙ্গ হলে তাদের লাভ হবে, ফলে তারা আন্দোলন থেকে দূরে ছিল। ৩) কংগ্রেস বা স্বদেশী নেতারা গ্রামের কৃষকদের সাথে জনসংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছিল। ৪) কৃষকদের অভাব-অভিযোগকে রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, ফলে এটি মূলত শহুরে বাদ্রলোকদের আন্দোলনে পরিণত হয়।
৪.৭ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বাংলার নারীরা অন্তঃপুরের বেড়া ভেঙে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর আহ্বানে তাঁরা 'অরন্ধন' পালন করেন এবং রবীন্দ্রনাথের ডাকে 'রাখিবন্ধন' উৎসবে যোগ দিয়ে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বার্তা দেন। সরলাদেবী চৌধুরানী 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' গঠন করে স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহারে উৎসাহ দেন। নারীরা বিদেশী চুড়ি ও কাপড় বর্জন করে, এবং অনেকে চরকা কেটে সুতো তৈরি করতে শুরু করেন। কুমিল্লার হেমনলিনী ঘোষ, বরিশালের সরোজিনী দত্ত প্রমুখ নেত্রী নারীদের সংগঠিত করেন। যদিও এই অংশগ্রহণ মূলত উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবুও তা নারীদের রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষে সাহায্য করেছিল।
৪.৮ মাস্টারদা সূর্য সেন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: মাস্টারদা সূর্য সেন ছিলেন ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের এক মহানায়ক। তিনি 'ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি'র চট্টগ্রাম শাখা গঠন করেন। ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল তাঁর নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন, টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন। তিনি জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তিনি ছাত্রছাত্রী ও নারীদের (যেমন প্রীতিলতা, কল্পনা দত্ত) বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। শেষপর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি ধরা পড়েন এবং ১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারি তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তাঁর আত্মত্যাগ ও বীরত্ব ভারতের যুবসমাজকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
৫। পনেরোটি বা ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৮ x ১ = ৮)
৫.১ ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? তিতুমিরের নেতৃত্বে বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: 'ওয়াহাবি' শব্দের অর্থ নবজাগরণ। অষ্টাদশ শতকে আরবে আব্দুল ওয়াহাব নামে এক ব্যক্তি ইসলাম ধর্মের শুদ্ধিকরণের জন্য যে আন্দোলন শুরু করেন, তা ওয়াহাবি আন্দোলন নামে পরিচিত। ভারতে এই আন্দোলনের সূচনা করেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ এবং প্রচার করেন সৈয়দ আহমদ ব্রেলভি। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল: ১) ইসলাম ধর্ম থেকে কুসংস্কার ও অনাচার দূর করে কোরানের নির্দেশিত পথে চলা। ২) ভারতকে 'দার-উল-হারব' বা বিধর্মীর দেশ থেকে 'দার-উল-ইসলাম' বা ইসলামের দেশে পরিণত করা। ৩) ব্রিটিশ ও শিখ শক্তির বিরুদ্ধে জেহাদ বা ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করা।
বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন মীর নিসার আলি বা তিতুমির। তিনি হজ করতে গিয়ে সৈয়দ আহমদের দ্বারা প্রভাবিত হন। দেশে ফিরে তিনি চব্বিশ পরগনা, নদীয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলে দরিদ্র মুসলিম কৃষক ও তাঁতীদের সংগঠিত করেন। তিনি জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। জমিদার কৃষ্ণদেব রায় তিতুমিরের অনুগামীদের ওপর 'দাড়ির খাজনা' বসালে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিতুমির নিজেকে স্বাধীন বাদশাহ ঘোষণা করেন এবং মৈনউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রী ও গোলাম মাসুমকে সেনাপতি নিয়োগ করেন। ১৮৩১ সালে তিনি নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন, যা ইতিহাসের বিখ্যাত 'বাঁশের কেল্লা'। লর্ড বেন্টিঙ্কের নির্দেশে কর্নেল স্টুয়ার্ট বিশাল সেনাবাহিনী ও কামান নিয়ে বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করেন। কামানের গোলার আঘাতে বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয় এবং তিতুমির বীরের মতো যুদ্ধ করে শহীদ হন। যদিও এই আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছিল, তবুও ব্রিটিশ বিরোধী কৃষক সংগ্রামে তিতুমিরের অবদান অনস্বীকার্য।
৫.২ ১৮৫৭ খ্রিঃ মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। ১) সিপাহি বিদ্রোহ: জন লরেন্স, শীল, এবং কিশোরীচাঁদ মিত্রের মতে এটি ছিল নিছকই একটি সিপাহি বিদ্রোহ, যেখানে সাধারণ মানুষের কোনো যোগ ছিল না। ২) সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া: রজনী পাম দত্ত ও সুরেন্দ্রনাথ সেনের মতে, এটি ছিল ক্ষমতাচ্যুত দেশীয় রাজা ও জমিদারদের লুপ্ত ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা বা 'মরণ আর্তনাদ'। ৩) জাতীয় বিদ্রোহ: কার্ল মার্কস, ডিসরেলি এবং আউটরাম এই বিদ্রোহকে 'জাতীয় বিদ্রোহ' বলে অভিহিত করেছেন। কারণ অযোধ্যা ও উত্তর ভারতে সিপাহিদের সাথে সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছিল। ৪) ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ: বিনায়ক দামোদর সাভারকর এই বিদ্রোহকে 'ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ' বলেছেন, কারণ বিদ্রোহীরা বিদেশিদের বিতাড়িত করে স্বদেশী শাসন প্রবর্তনের শপথ নিয়েছিল। ৫) মহাবিদ্রোহ: আধুনিক ঐতিহাসিকরা একে কোনো একটি বিশেষ নামে ডাকতে নারাজ। তাঁদের মতে, এটি ছিল ব্রিটিশ বিরোধী পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এতে সিপাহি, কৃষক, কারিগর, জমিদার—সবাই অংশ নিয়েছিল, তাই এর ব্যাপ্তি ছিল বিশাল। সবদিক বিচার করে বলা যায়, এটি কেবল সিপাহি বিদ্রোহ ছিল না, বরং এটি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম ব্যাপক সশস্ত্র গণ-অভ্যুত্থান।
৫.৩ দলিতদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনে গান্ধিজি এবং আম্বেদকরের অবদান ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ভারতের রাজনীতিতে দলিত বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে মহাত্মা গান্ধী এবং ডঃ বি.আর. আম্বেদকরের অবদান অনস্বীকার্য, যদিও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন।
গান্ধিজির অবদান: গান্ধীজি অস্পৃশ্যতা দূরীকরণকে জাতীয় আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ মনে করতেন। তিনি অস্পৃশ্যদের 'হরিজন' বা ঈশ্বরের সন্তান নাম দেন। তিনি বর্ণভেদ প্রথা বিরোধী ছিলেন কিন্তু বর্ণাশ্রম প্রথায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি মন্দিরে হরিজনদের প্রবেশের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেন এবং নিজে হরিজন কলোনিতে বসবাস করতেন। ১৯৩২ সালে 'হরিজন সেবক সংঘ' প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মতে, অস্পৃশ্যতা হিন্দু ধর্মের কলঙ্ক, যা মুছে ফেলা দরকার।
আম্বেদকরের অবদান: ডঃ আম্বেদকর নিজে মাহার (দলিত) সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন এবং আজীবন দলিতদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে কেবল সমাজ সংস্কার বা সহানুভূতির দ্বারা দলিতদের মুক্তি সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সাংবিধানিক রক্ষা কবচ। তিনি ১৯২৭ সালে 'মহাদ সত্যাগ্রহ' এবং ১৯৩০ সালে 'কালারাম মন্দিরে প্রবেশ' আন্দোলন করেন। তিনি দলিতদের জন্য 'পৃথক নির্বাচনী মণ্ডলী' দাবি করেন। ১৯৩২ সালে রামসে ম্যাকডোনাল্ডের 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা' নীতিতে দলিতদের পৃথক নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হলে গান্ধীজি তার প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন। শেষপর্যন্ত 'পুনা চুক্তি'র (১৯৩২) মাধ্যমে গান্ধীজি ও আম্বেদকরের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং দলিতদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ভারতের সংবিধানে অস্পৃশ্যতা বিলোপ এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে আম্বেদকর দলিতদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেন।
এই পেজে সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির ইতিহাসের প্রশ্নপত্রটির সম্পূর্ণ সমাধান দেওয়া হলো। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়ক হবে। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে পড়া এবং সঠিক তথ্য মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই ভালো ফলাফল করতে পারবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We have provided the complete solution for the History question paper of SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR on this page. We hope these questions and answers will be extremely helpful for your Madhyamik 2026 exam preparation. Reading every chapter of History thoroughly and remembering accurate facts is crucial. With regular practice, you will surely be able to achieve good results. We wish you all a very bright and successful future.
এই অধ্যায়ের সম্পূর্ণ ভিডিও ক্লাস দেখুন
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
Order Summary
First Price:₹30 (শুধু প্রশ্ন)
Second Price:₹50 (প্রশ্ন ও উত্তর সহ)
Author: Sourav Bose
Pages: Apx.100 Pages
File Type: PDF Book (5 MB)
Language: Bengali
Publisher: Das Bros PVT LTD
Payment: Online
Return Policy: No Return & Replacement
NB: পেমেন্ট কমপ্লিট হওয়ার পর, ওই পেমেন্টের একটি পরিষ্কার স্ক্রিনশট আমাদের হেল্প লাইন whatsapp নাম্বারে (9062925319) অবশ্যই পাঠাতে হবে এবং কোন কোন বইয়ের জন্য পেমেন্টটা হয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দিতে হবে। তারপর আমাদের টিম সেই পেমেন্টটিকে ভেরিফাই করবে এবং রাত 12 টার মধ্যে আপনার পছন্দের পিডিএফ সাজেশন ফাইলগুলি আপনার whatsapp নাম্বারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।