Madhyamik Parsad Test Paper 2026 History Page 146 Solution | Madhyamik 2026 History Suggestion & Test Paper Solve
byMadhyamik Guide Official-
0
Web Teacher - History Suggestion 2026
মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
00Days
00Hours
00Minutes
00Seconds
SHEAKHALA BENIMADHAB GIRLS' HIGH SCHOOL (H.S.) - HISTORY
এই পেজে আমরা মাধ্যমিক টেস্ট পেপার ২০২৫-২৬ এর অন্তর্গত 'শেয়াখালা বেণীমাধব গার্লস হাই স্কুল (H.S.)'-এর ইতিহাসের প্রশ্নপত্রের (পৃষ্ঠা ১২৪) সম্পূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে বিভাগ 'ক' (MCQ), বিভাগ 'খ' (SAQ, সত্য/মিথ্যা, স্তম্ভ মেলানো, বিবৃতি) এবং বিভাগ 'গ' (২ নম্বরের প্রশ্ন)-এর প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও নির্ভুল উত্তর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উত্তর টেস্ট পেপারের উত্তরমালা এবং পাঠ্যবই যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে যাতে তোমাদের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি না থাকে।
Overview & Solution Guide
This page provides a comprehensive solution for the History Test Paper (Page 124) of 'Sheakhala Benimadhab Girls' High School (H.S.)' for the Madhyamik 2026 examination. We have covered all sections including MCQ (Group A), SAQ, True/False, Match the Columns, Statements (Group B), and 2-mark questions (Group C). Each answer has been meticulously verified with the official key and standard textbooks to ensure accuracy. Practicing this set will significantly boost your confidence and help you score better in the upcoming board exams.
উত্তর: আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চা জাতীয় ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সাহায্য করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবরণ জানা না থাকলে সমগ্র দেশের ইতিহাস জানা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে এবং জাতীয় ইতিহাসের ভুলত্রুটি সংশোধনে সাহায্য করে।
৩.২ ফোটোগ্রাফি কীভাবে আধুনিক ইতিহাসচর্চার উপাদান হয়ে উঠেছে?
উত্তর: ফোটোগ্রাফ বা আলোকচিত্র কোনো ঘটনার প্রামাণ্য ও চাক্ষুষ দলিল হিসেবে কাজ করে। লিখিত বিবরণে যা অস্পষ্ট থাকতে পারে, ছবিতে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি অতীতের পোশাক, সংস্কৃতি, স্থাপত্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবিকল রূপ তুলে ধরে ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলে।
উত্তর: মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের একজন কৃতী ছাত্র এবং পরে শিক্ষক। তিনি ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করে ভারতীয় চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং কুসংস্কার দূর করেন।
৩.৪ অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: ডিরোজিও ও তাঁর অনুগামীরা ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সতীদাহ প্রথা ইত্যাদি বিষয়ে স্বাধীন ও যুক্তিবাদী আলোচনা করা এবং তরুণদের মধ্যে সত্য অনুসন্ধানের স্পৃহা জাগানো।
উত্তর: শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্মসমন্বয়ের মূল কথা হলো "যত মত তত পথ"। তিনি মনে করতেন সকল ধর্মই সত্য এবং ঈশ্বর লাভের এক একটি পথ মাত্র। ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে মিলন ও সহিষ্ণুতাই ছিল তাঁর আদর্শ।
উত্তর: ১) অসম লড়াই: ব্রিটিশদের উন্নত আগ্নেয়াস্ত্রের (বন্দুক, কামান) সামনে সাঁওতালদের আদিম অস্ত্র (তির-ধনুক, টাঙ্গি) অকার্যকর ছিল। ২) যোগ্য নেতৃত্বের অভাব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতাও এই বিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ ছিল।
উত্তর: ১) এই যুগে (ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে) ভারতীয়রা প্রথম রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে শুরু করে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সভা-সমিতি গড়ে তোলে। ২) এই সমিতিগুলি ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে।
উত্তর: জেমস্ অগাস্টাস হিকি ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের প্রথম সংবাদপত্র 'বেঙ্গল গেজেট' প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের সংবাদপত্র জগতের জনক হিসেবে পরিচিত এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন।
উত্তর: বাবা রামচন্দ্র ছিলেন যুক্তপ্রদেশের (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ) একজন কৃষক নেতা। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের সময় অযোধ্যায় কিষান সভা গঠন করে জমিদার ও তালুকদারদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন।
৩.১০ শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার রবীন্দ্রনাথের দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
উত্তর: ১) প্রকৃতির সান্নিধ্যে শিক্ষার্থীদের আনন্দময় ও মুক্ত পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া। ২) প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানবতার আদর্শে গড়ে তোলা।
উত্তর: লীলা নাগ ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার এবং দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য 'দীপালি সংঘ' প্রতিষ্ঠা করেন। নারীদের লাঠিখেলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে আত্মরক্ষায় পারদর্শী করাও এর উদ্দেশ্য ছিল।
উত্তর: মাদারি পাসি ছিলেন অসহযোগ আন্দোলনের সময় যুক্তপ্রদেশের হরদোই, বারাবাঁকি অঞ্চলে সংঘটিত 'একা' বা একতা আন্দোলনের প্রধান নেতা। তিনি কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে বাড়তি কর না দেওয়ার শপথ করিয়েছিলেন।
উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলির ৭ বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় যে সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ পালিত হয়, তা 'রশিদ আলি দিবস' নামে পরিচিত।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য যে নির্দিষ্ট পত্রে স্বাক্ষর করতে হতো, তাকে 'ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন' বা ভারতভুক্তির দলিল বলা হয়।
৩.১৫ কী উদ্দেশ্যে কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারা শক্তিশালী করতে এবং শ্রমিক-কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য জয়প্রকাশ নারায়ন ও আচার্য নরেন্দ্র দেবের নেতৃত্বে কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল প্রতিষ্ঠিত হয়।
উত্তর: ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় যে সমস্ত মানুষ যুগ যুগ ধরে অস্পৃশ্য, অবহেলিত এবং জল-অচল বলে গণ্য হয়ে আসছে, তাদের গান্ধীজি 'হরিজন' এবং আম্বেদকর 'দলিত' বা শোষিত শ্রেণি বলে অভিহিত করেছেন।
বিভাগ 'ঘ' : সাত বা আটটি বাক্যে প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ৬ = ২৪)
৪.১ উডের নির্দেশনামা (১৮৫৪)-কে এদেশের শিক্ষাবিস্তারের 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয় কেন?
উত্তর: ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উড শিক্ষা সংক্রান্ত যে নির্দেশনামা (Wood's Despatch) প্রকাশ করেন, তা ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে এক মাইলফলক। একে ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার 'ম্যাগনাকার্টা' বা মহাসনদ বলা হয় কারণ: ১) এতেই প্রথম একটি সুসংহত শিক্ষা কাঠামোর পরিকল্পনা পেশ করা হয়, যা প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ২) প্রতিটি প্রদেশে একটি করে শিক্ষা দপ্তর (Education Department) খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩) কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। ৪) নারীশিক্ষা, শিক্ষক শিক্ষণ এবং মাতৃভাষায় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই নির্দেশনামার ভিত্তিতেই আধুনিক ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম।
৪.২ উনিশ শতকে নারীশিক্ষা বিস্তারে ড্রিংক ওয়াটার বেথুন কী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: জন এলিয়ট ড্রিংক ওয়াটার বেথুন ছিলেন উনিশ শতকে বাংলায় নারীশিক্ষা বিস্তারের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি ছিলেন শিক্ষা কাউন্সিলের সভাপতি। ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় 'হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়' (বর্তমান বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল ভারতের প্রথম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। তিনি নিজের খরচে এই বিদ্যালয় চালাতেন এবং ছাত্রীদের উৎসাহিত করতে তাদের উপহার দিতেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রামগোপাল ঘোষের মতো বিশিষ্ট বাঙালিদের সাহায্য নিয়ে রক্ষণশীল সমাজের বাধা অতিক্রম করে মেয়েদের স্কুলে আনার ব্যবস্থা করেন। তাঁর প্রচেষ্টাতেই নারীশিক্ষা কেবল উচ্চবিত্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মধ্যবিত্ত সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। বেথুন কলেজের প্রতিষ্ঠাও তাঁর অবদানেরই ফলশ্রুতি।
উত্তর: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের নেতৃত্বে সংঘটিত বারাসাত বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। ১) ধর্মীয় আন্দোলন: অনেকে একে একটি ধর্মীয় আন্দোলন বলেন কারণ তিতুমীর ইসলাম ধর্মের শুদ্ধিকরণের ডাক দিয়েছিলেন। ২) কৃষক বিদ্রোহ: আধুনিক ঐতিহাসিকরা একে মূলত কৃষক বিদ্রোহ বলে মনে করেন। কারণ এই বিদ্রোহ ছিল অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে দরিদ্র মুসলিম কৃষকদের জেহাদ। ৩) ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম: তিতুমীর বাঁশের কেল্লা তৈরি করে নিজেকে 'বাদশা' ঘোষণা করেন এবং ব্রিটিশ শাসনের অবসানের ডাক দেন, যা একে রাজনৈতিক ও ব্রিটিশ বিরোধী চরিত্র দান করে। তাই এটি ছিল ধর্মীয় মোড়কে আবৃত একটি ব্রিটিশ বিরোধী কৃষক সংগ্রাম।
৪.৪ ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছিল কেন?
উত্তর: ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল কারণগুলি ছিল: ১) অত্যাধিক রাজস্ব: ব্রিটিশ সরকার ও জমিদাররা সাঁওতালদের পরিষ্কার করা জমির ওপর চড়া হারে রাজস্ব চাপিয়েছিল। ২) মহাজনি শোষণ: দিকু বা বহিরাগত মহাজনরা 'কিনা বেচাম' ও 'বেচা বেচাম' নামক বাটখারার মাধ্যমে সাঁওতালদের ঠকাত এবং ঋণের দায়ে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিত। ৩) ঠিকাদারদের অত্যাচার: রেললাইন তৈরির কাজে সাঁওতাল শ্রমিকদের কম মজুরি দেওয়া হতো এবং তাদের নারীদের সম্মানহানি করা হতো। ৪) বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা: আদালত ও থানা সাঁওতালদের অভিযোগ না শুনে জমিদারদের পক্ষ নিত। এই সব পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই সিধু ও কানুর নেতৃত্বে সাঁওতালরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
৪.৫ বাংলার ছাপাখানা বিকাশে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: বাংলার মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ছিলেন এক অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি প্রকাশক, পুস্তক বিক্রেতা এবং সাংবাদিক। ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় 'বাঙালি প্রেস' বা 'বেঙ্গল গেজেট প্রেস' প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজে হাতে হরফ তৈরি, কম্পোজ ও মুদ্রণের কাজ জানতেন। তাঁর সম্পাদিত 'বাঙাল গেজেটি' (১৮১৮) ছিল প্রথম সচিত্র বাংলা সংবাদপত্র। তিনি অন্নদামঙ্গল, বিদ্যাসুন্দর প্রভৃতি সচিত্র গ্রন্থ প্রকাশ করে বাঙালির পড়ার রুচি তৈরি করেছিলেন এবং বই ব্যবসাকে লাভজনক করে তুলেছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টা পরবর্তীকালে বটতলা প্রকাশনার পথ প্রশস্ত করে, যা সাধারণ মানুষের কাছে বই পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছিল।
৪.৬ বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার বিকাশে ড: মহেন্দ্রলাল সরকারের অবদান লেখো।
উত্তর: উনিশ শতকে বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার প্রসারে ড: মহেন্দ্রলাল সরকারের অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। তিনি বিশ্বাস করতেন যে কেবল পুথিগত বিদ্যা নয়, হাতে-কলমে বিজ্ঞান চর্চাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল ভারতের প্রথম বিজ্ঞান গবেষণাগার। এখানে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে নিয়মিত বক্তৃতা ও গবেষণার ব্যবস্থা ছিল। জগদীশচন্দ্র বসু, সি.ভি. রমন, মেঘনাদ সাহার মতো বিজ্ঞানীরা এখানে গবেষণা করেছিলেন। ড: মহেন্দ্রলাল সরকারের এই উদ্যোগ ভারতীয়দের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরিতে পথিকৃতের ভূমিকা নিয়েছিল।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর হায়দ্রাবাদের নিজাম ওসমান আলি খান ভারত বা পাকিস্তান কোনো ডোমিনিয়নে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার ঘোষণা করেন। কিন্তু রাজ্যের ৮০ শতাংশ প্রজা ছিল হিন্দু এবং তারা ভারতে যোগদানের পক্ষে ছিল। নিজামের মদতপুষ্ট কাসিম রিজভীর নেতৃত্বে 'রাজাকার' বাহিনী রাজ্যের অ-মুসলিম প্রজাদের ওপর চরম অত্যাচার শুরু করে। এই অরাজক পরিস্থিতিতে এবং নিজাম পাকিস্তানের সাহায্য চাইছেন জানতে পেরে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কড়া পদক্ষেপ নেন। ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা পাঠান ('অপারেশন পোলো')। মাত্র চার দিনের পুলিশি অভিযানের পর ১৮ সেপ্টেম্বর নিজাম আত্মসমর্পণ করেন এবং হায়দ্রাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উত্তর: কাশ্মীর সমস্যার সূত্রপাত হয় ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময়। কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ছিলেন হিন্দু, কিন্তু প্রজারা ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। হরি সিং প্রথমে ভারত বা পাকিস্তান কারো সঙ্গে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭-এর অক্টোবরে পাক-মদতপুষ্ট হানাদার বাহিনী কাশ্মীর আক্রমণ করলে হরি সিং ভারতের সাহায্য চান এবং 'ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন'-এ সই করে ভারতে যোগ দেন। ভারতীয় সেনা কাশ্মীর রক্ষা করতে গেলে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ বাধে। নেহেরু বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জে নিয়ে গেলে যুদ্ধবিরতি হয়, কিন্তু কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ (পাক অধিকৃত কাশ্মীর) পাকিস্তানের দখলে থেকে যায়। এই সীমানা বিরোধ ও মালিকানা নিয়েই কাশ্মীর সমস্যার সৃষ্টি হয়, যা আজও অমীমাংসিত।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
৫। পনেরোটি বা ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৮ x ১ = ৮)
৫.১ উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সতীদাহ প্রথা বিরোধী প্রচেষ্টাগুলির পরিচয় দাও। রামমোহন রায় কীভাবে সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলনকে সাফল্যমণ্ডিত করেন?
উত্তর: উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হিন্দু সমাজে প্রচলিত অন্যতম নিষ্ঠুর কুপ্রথা ছিল সতীদাহ প্রথা। মৃত স্বামীর চিতায় বিধবা স্ত্রীকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার এই প্রথার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। খ্রিস্টান মিশনারিরা, বিশেষ করে উইলিয়াম কেরি ও শ্রীরামপুর ব্যাপ্টিস্ট মিশন, এই প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁরা 'সমাচার দর্পণ' ও 'ফ্রেন্ড অফ ইন্ডিয়া' পত্রিকায় এর বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন। লর্ড ওয়েলেসলি ১৮০৫ সালে এই প্রথা বন্ধের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু রক্ষণশীলদের ভয়ে পিছিয়ে আসেন।
রামমোহন রায় এই আন্দোলনের প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন। তিনি ১৮১১ সালে নিজের বৌদির সতীদাহ হওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এই প্রথা বন্ধ করার। তিনি শাস্ত্র উদ্ধৃত করে প্রমাণ করেন যে হিন্দু ধর্মে সতীদাহ বাধ্যতামূলক নয়, বরং সহমরণ অপেক্ষা ব্রহ্মচর্য পালন বিধবার জন্য শ্রেয়। তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকার মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলেন এবং রক্ষণশীলদের যুক্তির অসারতা প্রমাণ করেন। তিনি লর্ড বেন্টিঙ্ককে বোঝান যে এই প্রথা অমানবিক। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় অবশেষে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৭ নং রেগুলেশন জারি করে সতীদাহ প্রথা আইনত নিষিদ্ধ করেন। এটি ছিল রামমোহনের সমাজসংস্কার আন্দোলনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
৫.২ সংক্ষেপে মহাবিদ্রোহের চরিত্র (১৮৫৭) বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে প্রবল বিতর্ক রয়েছে। ১) সিপাহি বিদ্রোহ: স্যার জন লরেন্স, চার্লস রে প্রমুখ ইংরেজ ঐতিহাসিকরা একে কেবল 'সিপাহি বিদ্রোহ' বলেছেন। তাঁদের মতে, এটি ছিল স্বার্থান্বেষী সিপাহিদের বিশৃঙ্খলা মাত্র, গণসমর্থন এতে ছিল না। অক্ষয়কুমার মৈত্র, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ ভারতীয়রাও এই মত সমর্থন করেন। ২) সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া: ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার, সুরেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ মনে করেন এটি ছিল ক্ষমতাচ্যুত জমিদার ও রাজাদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াই। ৩) প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ: বিনায়ক দামোদর সাভারকর একে 'ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ' বলেছেন। তিনি মনে করেন, এই বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল ভারতকে বিদেশি শাসনমুক্ত করা। ৪) জাতীয় বিদ্রোহ: কার্ল মার্কস, ডিসরেলি প্রমুখ একে 'জাতীয় বিদ্রোহ' বলেছেন। কারণ হিন্দু-মুসলিম ঐক্য এবং অযোধ্যা ও উত্তর ভারতের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ একে গণবিদ্রোহের রূপ দিয়েছিল। উপসংহারে বলা যায়, এটি সিপাহিদের দ্বারা শুরু হলেও দ্রুত গণবিদ্রোহ এবং জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের রূপ নিয়েছিল।
৫.৩ বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: নমঃশূদ্ররা ছিল পূর্ব বাংলার (ফরিদপুর, যশোহর, খুলনা) এক বিশাল কৃষিভিত্তিক নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়, যারা আগে 'চণ্ডাল' নামে পরিচিত ছিল। উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা সামাজিক লাঞ্ছনা ও শোষণের বিরুদ্ধে উনিশ শতকের শেষার্ধে তারা যে আন্দোলন গড়ে তোলে, তাই নমঃশূদ্র আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর। তাঁরা মতুয়া ধর্মমতের মাধ্যমে নমঃশূদ্রদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং শিক্ষার প্রসারে জোর দেন। গুরুচাঁদ ঠাকুর ঘোষণা করেন—"হাতে কাম, মুখে নাম"। তিনি বলেন, শিক্ষাই হলো উন্নতির চাবিকাঠি। ১৯১১ সালের জনগণনায় তারা 'চণ্ডাল'-এর পরিবর্তে 'নমঃশূদ্র' নাম ব্যবহারের অধিকার পায়। রাজনৈতিকভাবে তারা কংগ্রেসের বিরোধিতা করে এবং ব্রিটিশদের সমর্থন করে, কারণ তারা মনে করত উচ্চবর্ণের কংগ্রেস তাদের স্বার্থ দেখবে না। যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন এবং আম্বেদকরের সাথে হাত মিলিয়ে দলিত অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হন। দেশভাগের ফলে এই আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই পেজে সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির ইতিহাসের প্রশ্নপত্রটির সম্পূর্ণ সমাধান দেওয়া হলো। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো তোমাদের মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়ক হবে। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে পড়া এবং সঠিক তথ্য মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই ভালো ফলাফল করতে পারবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We have provided the complete solution for the History question paper of SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR on this page. We hope these questions and answers will be extremely helpful for your Madhyamik 2026 exam preparation. Reading every chapter of History thoroughly and remembering accurate facts is crucial. With regular practice, you will surely be able to achieve good results. We wish you all a very bright and successful future.
এই অধ্যায়ের সম্পূর্ণ ভিডিও ক্লাস দেখুন
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
ইতিহাস সাজেশন
₹30
ভূগোল সাজেশন
₹30
গণিত সাজেশন
₹30
জীবন বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
ভৌত বিজ্ঞান সাজেশন
₹30
English Suggestion
₹30
বাংলা সাজেশান
₹30
Order Summary
First Price:₹30 (শুধু প্রশ্ন)
Second Price:₹50 (প্রশ্ন ও উত্তর সহ)
Author: Sourav Bose
Pages: Apx.100 Pages
File Type: PDF Book (5 MB)
Language: Bengali
Publisher: Das Bros PVT LTD
Payment: Online
Return Policy: No Return & Replacement
NB: পেমেন্ট কমপ্লিট হওয়ার পর, ওই পেমেন্টের একটি পরিষ্কার স্ক্রিনশট আমাদের হেল্প লাইন whatsapp নাম্বারে (9062925319) অবশ্যই পাঠাতে হবে এবং কোন কোন বইয়ের জন্য পেমেন্টটা হয়েছে সেটাও উল্লেখ করে দিতে হবে। তারপর আমাদের টিম সেই পেমেন্টটিকে ভেরিফাই করবে এবং রাত 12 টার মধ্যে আপনার পছন্দের পিডিএফ সাজেশন ফাইলগুলি আপনার whatsapp নাম্বারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।