৪.১ গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: গিরিখাত ও ক্যানিয়নের প্রধান পার্থক্যগুলি হলো: ১) আকৃতি: গিরিখাত সাধারণত ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো দেখতে হয়, কিন্তু ক্যানিয়ন ইংরেজি 'I' অক্ষরের মতো হয়। ২) উৎপত্তি স্থল: গিরিখাত আর্দ্র বা বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে নদীর তীব্র নিম্নক্ষয়ের ফলে সৃষ্টি হয়, অপরদিকে ক্যানিয়ন শুষ্ক বা মরুপ্রায় অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের ফলে গঠিত হয়। ৩) পার্শ্বক্ষয়: গিরিখাতে নিম্নক্ষয়ের সাথে সামান্য পার্শ্বক্ষয়ও হয়, কিন্তু ক্যানিয়নে বৃষ্টির অভাবে পার্শ্বক্ষয় প্রায় হয় না বললেই চলে, তাই এটি খুব সংকীর্ণ ও গভীর হয়। উদাহরণ: সিন্ধু নদের গিরিখাত এবং কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।
৪.২ গঙ্গা দূষণের তিনটি কারণ লেখো।
উত্তর: গঙ্গা দূষণের প্রধান তিনটি কারণ হলো: ১) শিল্পবর্জ্য: গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত অসংখ্য কলকারখানা, বিশেষ করে চামড়া, কাগজ ও রাসায়নিক শিল্পের অপরিশোধিত বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়, যা জলকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। ২) পুরসভার বর্জ্য: নদীর তীরের বড় শহরগুলির পয়ঃপ্রণালীর নোংরা জল এবং গৃহস্থালির আবর্জনা কোনো শোধন ছাড়াই গঙ্গে ফেলা হয়। ৩) কৃষিজ ও ধর্মীয় বর্জ্য: কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে নদীতে মেশে। এছাড়া প্রতিমা বিসর্জন, শবদেহ সৎকার এবং ফুল-বেলপাতা ফেলার ফলেও নদীর জল দূষিত হয়।
৪.৩ ভারতের জনজীবনে হিমালয়ের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের জনজীবনে হিমালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ১) জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: হিমালয় পর্বত উত্তর দিক থেকে আসা হাড়কাঁপানো সাইবেরীয় শীতল বাতাসকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে বাধা দিয়ে ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়। ২) নদীর উৎস: গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্রের মতো ভারতের প্রধান নদীগুলির উৎস হলো হিমালয়ের হিমবাহ। এই নদীগুলি ভারতের কৃষি ও শিল্পে প্রাণসঞ্চার করেছে। ৩) নিরাপত্তা: সুউচ্চ প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে হিমালয় ভারতকে বিদেশি আক্রমণ থেকে রক্ষা করে আসছে। এছাড়া বনজ সম্পদ ও পর্যটন শিল্পেও হিমালয়ের অবদান অনস্বীকার্য।
৪.৪ ক্ষুদ্রস্কেলের মানচিত্র ও বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রের পার্থক্যগুলি লেখো।
উত্তর: ক্ষুদ্রস্কেল ও বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রের পার্থক্য: ১) প্রদর্শিত এলাকা: ক্ষুদ্রস্কেলের মানচিত্রে পৃথিবীর বিশাল কোনো অঞ্চলকে (যেমন- মহাদেশ বা দেশ) ছোট করে দেখানো হয়। কিন্তু বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রে ছোট কোনো জায়গাকে (যেমন- মৌজা বা গ্রাম) বড় করে দেখানো হয়। ২) তথ্যের পরিমাণ: ক্ষুদ্রস্কেলের মানচিত্রে জায়গার অভাবে খুব কম তথ্য দেখানো যায়। অন্যদিকে, বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রে খুঁটিনাটি অনেক তথ্য বিশদভাবে দেখানো সম্ভব। ৩) আর.এফ. (R.F.): ক্ষুদ্রস্কেলের মানচিত্রের R.F. অনেক বড় হয় (যেমন ১:১০,০০,০০০), আর বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রের R.F. ছোট হয় (যেমন ১:৪,০০০)।
বিভাগ ঙ
৫.১ নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৫ x ২ = ১০)
৫.১.১ নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ বর্ণনা করো।
উত্তর: নদীর উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে প্রবল স্রোত এবং শিলাখণ্ডের আঘাতে নদী মূলত ক্ষয়কার্য করে। এর ফলে গঠিত প্রধান ভূমিরূপগুলি হলো:
১) 'I' ও 'V' আকৃতির উপত্যকা: নদীর প্রবল নিম্নক্ষয়ের ফলে উপত্যকা খুব গভীর ও সংকীর্ণ হয়, যা ইংরেজি 'I' আকৃতির মতো দেখতে হয়, একে ক্যানিয়ন বলে (যেমন- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)। আবার বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে নিম্নক্ষয়ের সাথে সাথে পার্শ্বক্ষয় হলে উপত্যকা 'V' আকৃতির হয়, একে গিরিখাত বলে (যেমন- সিন্ধু নদের গিরিখাত)।
২) জলপ্রপাত: নদীপথে যদি কঠিন ও কোমল শিলা ওপর-নীচে বা আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে, তবে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং কঠিন শিলা উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তখন নদীর জল খাড়া ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে নীচে পড়ে, একে জলপ্রপাত বলে। যেমন- যোগ জলপ্রপাত বা নায়েগ্রা জলপ্রপাত।
৩) প্রপাতকূপ (Plunge Pool): জলপ্রপাতের নীচে যেখানে জল পড়ে, সেখানে প্রবল আঘাতে গর্তের সৃষ্টি হয়, একে প্রপাতকূপ বলে।
৪) মন্থকূপ (Pot Hole): নদীর তলদেশে ঘূর্ণায়মান পাথরখণ্ডের আঘাতে যে ছোট ছোট গোলাকার গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে মন্থকূপ বলে। অসংখ্য মন্থকূপ পাশাপাশি থাকলে তাকে 'মন্থকূপ কলোনি' বলা হয়। এগুলি নদীর ক্ষয়কার্যের অন্যতম নিদর্শন।
৫.১.২ ক্রান্তীয় ঘূর্ণাবর্তের গঠন ও বৈশিষ্ট্য উদাহরণ ও চিত্রসহ আলোচনা করো।
উত্তর: ক্রান্তীয় ঘূর্ণাবর্ত বা সাইক্লোন মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠে সৃষ্ট এক শক্তিশালী নিম্নচাপ কেন্দ্রিক ঝড়।
গঠন ও বৈশিষ্ট্য:
১) চক্ষু: ঘূর্ণাবর্তের কেন্দ্রে থাকে শান্ত, মেঘহীন ও বৃষ্টিহীন অঞ্চল, যাকে 'চক্ষু' বলে। এখানে বায়ুর চাপ সবথেকে কম থাকে।
২) কুণ্ডলী আকৃতি: এই ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে কুণ্ডলী পাকিয়ে কেন্দ্রের দিকে ছুটে যায়। উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে।
৩) ঝড়ের তীব্রতা ও বৃষ্টিপাত: চোখের চারপাশে কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি হয় এবং প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত হয়। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-২০০ কিমি বা তার বেশি হতে পারে।
৪) বিধ্বংসী ক্ষমতা: এই ঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়ে (Landfall) প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
উদাহরণ: আয়লা, আম্ফান, ইয়াস ইত্যাদি। চিত্রসহ বর্ণনায় ঘূর্ণাবর্তের চক্ষু এবং সর্পিল মেঘপুঞ্জ দেখানো হয় যা ক্রান্তীয় অঞ্চলে উষ্ণ সমুদ্রের ওপর সৃষ্টি হয়ে মহাদেশের দিকে অগ্রসর হয়।
৫.১.৩ মরুভূমি অঞ্চলের প্রসার ও তার প্রতিরোধের উপায়গুলি আলোচনা করো।
উত্তর: বর্তমানে মরুভূমি প্রসার বা 'মরুকরণ' একটি গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা।
প্রসারের কারণ: ১) জলবায়ু পরিবর্তন ও অনাবৃষ্টি। ২) নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন, যার ফলে মাটির বাঁধন আলগা হয় এবং বালি উড়ে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। ৩) অতিরিক্ত পশুচারণ, যা তৃণভূমি নষ্ট করে মরুভূমিকে এগিয়ে দেয়।
প্রতিরোধের উপায়:
১) গ্রিন ওয়াল (Green Wall) তৈরি: মরুভূমির প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে খরা সহিষ্ণু গাছ (যেমন- বাবলা, খেজুর) লাগালে বালির উড়া বন্ধ হয় এবং মরুভূমির বিস্তার রোধ করা যায়। সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।
২) বৃক্ষরোপণ: ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে যাতে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে।
৩) পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: অবাধ পশুচারণ বন্ধ করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশুপালন করতে হবে।
৪) বালি ডিবি স্থিতিকরণ: বালিয়াড়ির ওপর ঘাস ও গুল্ম জাতীয় গাছ লাগিয়ে বালিকে স্থির রাখা প্রয়োজন।
৫) জলসেচ ও কৃষিকাজ: মরু প্রান্তের জমিতে জলসেচের মাধ্যমে কৃষিকাজ বাড়ালে মরুভূমির গ্রাস থেকে জমি রক্ষা পাবে।
৫.১.৪ চিত্রসহ ভরাকোটাল ও মরাকোটাল এর বর্ণনা দাও।
উত্তর: ভরা কোটাল (Spring Tide): অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। একে সিজিগি (Syzygy) বলে। অমাবস্যায় চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে এবং পূর্ণিমায় চাঁদ ও সূর্যের বিপরীতমুখী আকর্ষণে পৃথিবীতে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়। জলস্ফীতি অত্যধিক হয় বলে একে ভরা কোটাল বা তেজ কটাল বলে।
মরা কোটাল (Neap Tide): কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে (৯০° কোণে) অবস্থান করে। এই সময় সূর্যের আকর্ষণ ও চাঁদের আকর্ষণ পরস্পর বিরোধী দিকে কাজ করে। ফলে চাঁদ জলরাশিকে যেদিকে টানে, সূর্য তার সমকোণে টানে। এর ফলে জোয়ারের জল খুব বেশি ফুলে উঠতে পারে না, জোয়ারের প্রাবল্য কম হয়। একে মরা কোটাল বলে।
চিত্রে সিজিগি অবস্থানে (সরলরেখায়) জোয়ারের তীব্রতা এবং সমকোণী অবস্থানে (অষ্টমী তিথিতে) জোয়ারের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে দেখানো হয়।
৫.২ নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৫ x ২ = ১০)
৫.২.১ ভারতের জনজীবনে নদনদীর গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: ভারত নদীমাতৃক দেশ, তাই জনজীবনে নদনদীর গুরুত্ব অপরিসীম।
১) কৃষি ও সেচ: ভারতের কৃষিকাজ মূলত নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদী থেকে খাল কেটে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। সিন্ধু, গঙ্গা ও দক্ষিণ ভারতের নদী অববাহিকায় কৃষি সমৃদ্ধি দেখা যায়।
২) পানীয় জল: শহর ও গ্রামের পানীয় জলের প্রধান উৎস হলো নদী। দিল্লি, কলকাতা, কানপুরের মতো বড় শহরগুলি নদীর জলেই পুষ্ট।
৩) জলবিদ্যুৎ: খরস্রোতা নদীগুলিতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা কলকারখানা ও গৃহস্থালির কাজে লাগে (যেমন- ভাকরা-নাঙ্গাল, ডিভিসি)।
৪) শিল্প ও পরিবহন: শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জল নদী থেকেই আসে। এছাড়া সস্তায় মালপত্র পরিবহনে জলপথ গুরুত্বপূর্ণ।
৫) মৎস্যচাষ ও পলিমাটি: নদী থেকে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় যা খাদ্যের জোগান দেয়। বন্যার সময় নদী পলি সঞ্চয় করে জমির উর্বরতা বাড়ায়।
৬) পর্যটন ও সংস্কৃতি: নদীর তীরে তীর্থক্ষেত্র ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠে (যেমন- বারাণসী, হরিদ্বার) যা অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৫.২.২ ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের জলবায়ু মূলত 'ক্রান্তীয় মৌসুমী' প্রকৃতির। মৌসুমী বায়ুর প্রভাব এখানে সবথেকে বেশি।
১) ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমী বায়ুর আসা ও যাওয়ার ওপর ভিত্তি করেই ভারতে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীতকাল চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
২) বৃষ্টিপাত: ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯০% ঘটায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হলে প্রবল বৃষ্টি এবং দুর্বল হলে খরা দেখা দেয়।
৩) উষুতা হ্রাস: গ্রীষ্মকালে অসহ্য গরমের পর বর্ষাকালে মৌসুমী বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা ৫°-১০° সে. কমে গিয়ে স্বস্তি আনে।
৪) কৃষিকাজ: ভারতের কৃষি 'মৌসুমী বায়ুর জুয়াখেলা' নামে পরিচিত। ধান, পাট, চা চাষ সম্পূর্ণভাবে মৌসুমী বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
৫) অসম বণ্টন: মৌসুমী বৃষ্টিপাত সারা দেশে সমান হয় না। চেরাপুঞ্জিতে যখন বন্যায় ভাসে, রাজস্থানে তখন খরা হতে পারে। এই অনিশ্চয়তা ও অসম বণ্টন ভারতের অর্থনীতি ও জনজীবনকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে।
৫.২.৩ দার্জিলিং অঞ্চলে চা চাষের উন্নতির কারণগুলি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: দার্জিলিংয়ের চা স্বাদে ও গন্ধে বিশ্ববিখ্যাত। এর উন্নতির ভৌগোলিক কারণগুলি হলো:
১) জলবায়ু: চা চাষের জন্য ২১°-২৯° সে. তাপমাত্রা এবং ১৫০-২০০ সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন, যা দার্জিলিংয়ে পাওয়া যায়। এখানকার কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া চায়ের গন্ধ বাড়াতে সাহায্য করে।
২) মৃত্তিকা: লৌহ ও পটাশযুক্ত দোআঁশ মাটি এবং জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ পার্বত্য মাটি চা চাষের পক্ষে আদর্শ।
৩) ভূমির ঢাল: চা গাছের গোড়ায় জল জমলে ক্ষতি হয়। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি ঢালু জমিতে জল নিকাশি ব্যবস্থা খুব ভালো, তাই জল দাঁড়াতে পারে না।
৪) ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ: তীব্র রোদ থেকে চা গাছকে বাঁচাতে এখানে ওক, বার্চ ইত্যাদি গাছ লাগানো হয়।
অর্থনৈতিক কারণ: ৫) শ্রমিক: নেপালি ও স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায়ের সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়, যারা পাতা তোলায় পারদর্শী। ৬) পরিবহন ও রপ্তানি: শিলিগুড়ি হয়ে কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে বিদেশে চা রপ্তানির সুবিধা এবং পর্যটকদের দ্বারা স্থানীয় বাজারের চাহিদাও এই শিল্পের উন্নতিতে সহায়ক হয়েছে।
৫.২.৪ ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: পরিবহন ব্যবস্থাকে দেশের 'শিরা-ধমনী' বা 'Lifeline' বলা হয়। এর গুরুত্বগুলি হলো:
১) পণ্যের আদান-প্রদান: কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বাজারে পৌঁছে দেওয়া এবং কাঁচামাল কারখানায় আনার জন্য সড়ক ও রেল পরিবহন অপরিহার্য।
২) শিল্পোন্নয়ন: কয়লা, আকরিক লোহা ইত্যাদি ভারী কাঁচামাল পরিবহনে রেলপথ ও জলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ছাড়া শিল্প স্থাপন অসম্ভব।
৩) কৃষি উন্নয়ন: সার, বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতি গ্রামে পৌঁছে দেওয়া এবং ফসলের বাজারজাতকরণে পরিবহন ব্যবস্থার ভূমিকা আছে।
৪) জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরক্ষা: ভারতের মতো বিশাল দেশে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং সীমান্তে সেনা ও রসদ পাঠাতে পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
৫) কর্মসংস্থান ও জরুরি পরিষেবা: পরিবহন শিল্পের সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষ যুক্ত। এছাড়া আপৎকালীন সময়ে ত্রাণ পৌঁছানো বা রোগী স্থানান্তরে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতের অর্থনৈতিক প্রগতি উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।