বিভাগ 'ক' : বিকল্পগুলির থেকে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো (১ x ১৪ = ১৪)
১.১ সমুদ্রপৃষ্ঠে গড় বায়ুর চাপ হল -
(ক) ১০১২.২ মিলিবার
(খ) ১০১৩.৩ মিলিবার
(গ) ১০১৪.২ মিলিবার
(ঘ) ১০১৫.৫ মিলিবার
উত্তর: (খ) ১০১৩.৩ মিলিবার
১.২ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ঘটে -
(ক) গ্রীষ্মকালে
(খ) বসন্তকালে
(গ) শীতকালে
(ঘ) সারা বছরব্যাপী
উত্তর: (ঘ) সারা বছরব্যাপী
১.৩ একটি বহির্জাত প্রক্রিয়ার উদাহরণ হল -
(ক) ভূমিকম্প
(খ) অগ্ন্যুৎপাত
(গ) পাত সঞ্চালন
(ঘ) আবহবিকার
উত্তর: (ঘ) আবহবিকার
১.৪ এল নিনোর প্রভাব দেখা যায় -
(ক) আটলান্টিক মহাসাগরে
(খ) ভারত মহাসাগরে
(গ) প্রশান্ত মহাসাগরে
(ঘ) উত্তর মহাসাগরে
উত্তর: (গ) প্রশান্ত মহাসাগরে
১.৫ বিষাক্ত নয় এমন একটি বর্জ্য পদার্থের উদাহরণ হল -
(ক) ধানের খোসা
(খ) ফ্লাই অ্যাশ
(গ) পলিথিন
(ঘ) ক্যাডমিয়াম
উত্তর: (ক) ধানের খোসা
১.৬ যে প্রক্রিয়ায় ভূমির উচ্চতা হ্রাস পায় তাকে বলে -
(ক) অগ্ন্যুদগম
(খ) আরোহণ
(গ) সঞ্চয় কার্য
(ঘ) অবরোহণ
উত্তর: (ঘ) অবরোহণ
১.৭ বায়ুর সঞ্চয়ের ফলে গঠিত সমভূমিকে বলে -
(ক) বালিয়াড়ি
(খ) হামাদা
(গ) প্রিয়ান
(ঘ) লোয়েস
উত্তর: (ঘ) লোয়েস
১.৮ 74M/7 মানচিত্রে সংখ্যা সূচক স্কেল হল -
(ক) 1:10,000
(খ) 1:25,000
(গ) 1:50,000
(ঘ) 1:1,00,000
উত্তর: (গ) 1:50,000
১.৯ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখকে পৃথক করা হয়েছে কোথা থেকে?
(ক) জম্মু কাশ্মীর
(খ) অন্ধ্রপ্রদেশ
(গ) উত্তরপ্রদেশ
(ঘ) মধ্যপ্রদেশ
উত্তর: (ক) জম্মু কাশ্মীর
১.১০ পশ্চিমবঙ্গের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পকেন্দ্র অবস্থিত -
(ক) জুনপুটে
(খ) কলকাতায়
(গ) শংকরপুরে
(ঘ) হলদিয়ায়
উত্তর: (ঘ) হলদিয়ায়
১.১১ গঙ্গা নদীর সাথে যমুনা নদী সঙ্গম নিম্নলিখিত স্থানে অবস্থিত-
(ক) কানপুর
(খ) এলাহাবাদ
(গ) দেব প্রয়াগ
(ঘ) বারাণসী
উত্তর: (খ) এলাহাবাদ (বর্তমানে প্রয়াগরাজ)
১.১২ বর্তমানে ভারতের অঙ্গরাজ্যের মোট সংখ্যা হল -
(ক) ৩০ টি
(খ) ২৯ টি
(গ) ২৮ টি
(ঘ) ২৭ টি
উত্তর: (গ) ২৮ টি
১.১৩ ভারতের বৃহত্তম বন্দর শহর কী?
(ক) হলদিয়া
(খ) চেন্নাই
(গ) কলকাতা
(ঘ) মুম্বাই
উত্তর: (ঘ) মুম্বাই
১.১৪ ভারতে হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকারী রাজ্যটি হল -
(ক) পশ্চিমবঙ্গ
(খ) উত্তরপ্রদেশ
(গ) পাঞ্জাব
(ঘ) অন্ধ্রপ্রদেশ
উত্তর: (গ) পাঞ্জাব
বিভাগ 'খ'
২.১ নিম্নলিখিত বাক্যগুলি শুদ্ধ হলে পাশে 'শু' এবং 'অশুদ্ধ' হলে পাশে 'অ' লেখো (যেকোনো ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দাও): (১ x ৬ = ৬)
২.১.১ ভারতের সর্বোচ্চ মালভূমি হল ডেকান ট্রাপ।
উত্তর: অশুদ্ধ (অ) [সঠিক উত্তর: লাদাখ মালভূমি]
২.১.২ বিশাখাপত্তনম ভারতের একমাত্র শুল্কমুক্ত বন্দর।
উত্তর: অশুদ্ধ (অ) [সঠিক উত্তর: কান্ডালা]
২.১.৩ অ্যানিমোমিটারের সাহায্যে বায়ুর গতিবেগ মাপা হয়।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৪ উপগ্রহ চিত্র ব্যাখ্যার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার আবশ্যিক।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৫ লোকটাক হ্রদ ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ।
উত্তর: শুদ্ধ (শু) [প্রশ্নপত্রের উত্তরমালা অনুযায়ী]
২.১.৬ দূষিত বাতাসকে স্ক্রাবারের সাহায্যে পরিশ্রুত করা হয়।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৭ আন্টার্কটিকা অঞ্চলে ওজোন গহ্বর দেখা যায়।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.২ একটি বা দুটি শব্দের উত্তর দাও (যেকোনো ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দাও): (১ x ৬ = ৬)
২.২.১ একটি পৃথিবী বিখ্যাত সামুদ্রিক মগ্নচড়ার নাম লেখ।
উত্তর: গ্রান্ড ব্যাঙ্ক (Grand Bank)
২.২.২ ভারতের কোন সংস্থা ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র প্রস্তুত করে?
উত্তর: সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (Survey of India)
২.২.৩ বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে মেরুপ্রভা দেখা যায়?
উত্তর: আয়নোস্ফিয়ার (Ionosphere)
২.২.৪ শ্বাসমূল কোন জাতীয় উদ্ভিদের একটি বৈশিষ্ট্য?
উত্তর: ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ
২.২.৫ ভারতের প্রথম কাপড়ের কল কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?
উত্তর: হাওড়া জেলার ঘুসুড়িতে
২.২.৬ পার্বত্য ঢালে ভূমিক্ষয় রোধের একটি কৃষি পদ্ধতির নাম লেখ।
উত্তর: ধাপ চাষ (Terrace farming)
২.২.৭ পশ্চিম হিমালয়ের তাল কী?
উত্তর: হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ (উদাঃ নৈনিতাল)
২.৩ শূন্যস্থান পূরণ কর (যেকোনো ছয়টি): (১ x ৬ = ৬)
২.৩.১ নীল নদের ব-দ্বীপ ______ আকৃতি।
উত্তর: ধনুকাকৃতি
২.৩.২ দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল ______।
উত্তর: আনাইমুদি
২.৩.৩ ভারতের প্রধান মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি ______ স্থানে অবস্থিত।
উত্তর: বেঙ্গালুরু
২.৩.৪ ন্যাপথা ______ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
উত্তর: পেট্রোরসায়ন
২.৩.৫ নিরক্ষীয় অঞ্চলে ______ ধরনের বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
উত্তর: পরিচলন
২.৩.৬ বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত বিক্ষিপ্ত হয় ______ শক্তির প্রভাবে।
উত্তর: কোরিওলিস
২.৩.৭ শীততাপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে ______ গ্যাস নির্গত হয়।
উত্তর: ক্লোরো-ফ্লুরো-কার্বন (CFC)
২.৪ বামদিকের সাথে ডানদিকেরগুলি মিলিয়ে লেখঃ (১ x ৪ = ৪)
বামদিক ও ডানদিকের সঠিক মিল:
- ২.৪.১ বৃহত্তম মোটর গাড়ি শিল্প কেন্দ্র — ২. গুরগাঁও
- ২.৪.২ ওজোন গ্যাসের প্রাধান্য — ৪. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
- ২.৪.৩ ঝুম চাষ — ১. মৃত্তিকা ক্ষয়
- ২.৪.৪ চিকমাগালুর — ৩. কফি গবেষণাকেন্দ্র
বিভাগ - গ : নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নাবলী লক্ষণীয়) (২ x ৬ = ১২)
৩.১ জলবিভাজিকার সংজ্ঞা দাও। অথবা, ইনসেলবার্জ কাকে বলে?
উত্তর: জলবিভাজিকা (Water Divide): যে উচ্চভূমি বা পর্বতশ্রেণি দুই বা ততোধিক নদী অববাহিকা বা নদী ব্যবস্থাকে পরস্পর থেকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে। যেমন—বিন্ধ্য পর্বত।
অথবা, ইনসেলবার্জ (Inselberg): মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে কঠিন শিলা গঠিত যে অবশিষ্ট পাহাড়গুলি টিলার মতো বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের ইনসেলবার্জ বা দ্বীপশৈল বলে। জার্মান শব্দ 'ইনসেলবার্জ'-এর অর্থ দ্বীপ পাহাড়।
৩.২ আপেক্ষিক আর্দ্রতা কী? অথবা, সমুদ্রস্রোতের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity): কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে এবং ওই একই উষ্ণতায় ওই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন, এই দুইয়ের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। এটি শতকরায় প্রকাশ করা হয়।
অথবা, সমুদ্রস্রোত (Ocean Current): সমুদ্রের জলরাশি যখন নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট দিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে সমুদ্রস্রোত বলে। এটি মূলত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন গতি এবং জলের উষ্ণতা ও লবণাক্ততার পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়।
৩.৩ উপগ্রহ চিত্রের সংজ্ঞা দাও। অথবা, ভগ্নাংশসূচক স্কেলের (R.F.) ব্যবহার উল্লেখ করো।
উত্তর: উপগ্রহ চিত্র (Satellite Imagery): মহাকাশে স্থাপিত কৃত্রিম উপগ্রহের সেন্সরের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ছবি তুলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যে চিত্র প্রস্তুত করা হয়, তাকে উপগ্রহ চিত্র বলে। এটি সম্পদ সমীক্ষা, আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রভৃতি কাজে লাগে।
অথবা, R.F. স্কেলের ব্যবহার: ভগ্নাংশসূচক স্কেল বা Representative Fraction (R.F.) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং এককহীন হওয়ায় এটি বিশ্বের যেকোনো দেশের মানচিত্র পাঠ ও পরিমাপে ব্যবহার করা যায়। এতে মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির দূরত্বের অনুপাত সহজেই বোঝা যায়।
৩.৪ কম্পোস্টিং বলতে কী বোঝো? অথবা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলতে কী বোঝো?
উত্তর: কম্পোস্টিং (Composting): জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য পদার্থগুলি (যেমন—শাকসবজির খোসা, গৃহস্থালির আবর্জনা) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিয়োজিত হয়ে যে হিউমাস সমৃদ্ধ সার তৈরি করে, সেই পদ্ধতিকে কম্পোস্টিং বলে।
অথবা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য (Radioactive Waste): পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গবেষণা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে নির্গত যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থে তেজস্ক্রিয়তা থাকে এবং যা জীবজগতের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক, তাকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলে। যেমন—ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম।
৩.৫ ভারতের একটি কৃষিভিত্তিক ও একটি বনভিত্তিক শিল্পের নাম লেখ। অথবা, বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলতে কী বোঝো?
উত্তর: কৃষিভিত্তিক শিল্প: কার্পাস বয়ন শিল্প বা পাট শিল্প।
বনভিত্তিক শিল্প: কাগজ শিল্প বা রেশম শিল্প।
অথবা, বিশুদ্ধ কাঁচামাল (Pure Raw Material): যে সমস্ত কাঁচামাল শিল্পজাত দ্রব্যে পরিণত হলে তার ওজন কমে না অর্থাৎ কাঁচামালের ওজন ও উৎপাদিত দ্রব্যের ওজন সমান থাকে, তাদের বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে। যেমন—তুলো, পাট। এদের পণ্য সূচক ১।
৩.৬ পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সংজ্ঞা দাও। অথবা, রেগুর কী?
উত্তর: পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance): শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আগত দুর্বল ঘূর্ণবাত উত্তর-পশ্চিম ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও জম্মু-কাশ্মীরে প্রবেশ করে যে ঝড়-বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটায়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।
অথবা, রেগুর (Regur): দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশে ব্যাসল্ট শিলা আববিকারের ফলে যে কালো রঙের মাটি সৃষ্টি হয়েছে, তাকে স্থানীয় ভাষায় রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা বলে। এটি তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
বিভাগ - ঘ : সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) (৩ x ৪ = ১২)
৪.১ উষু মরু অঞ্চলে বায়ুর কার্যের প্রাধান্য দেখা যায় কেন ব্যাখ্যা করো। অথবা, ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর কার্যের প্রাধান্য: ১) উদ্ভিদের অভাব: মরু অঞ্চলে গাছপালা কম থাকায় বায়ু বাধাহীনভাবে প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে পারে। ২) আলগা মাটি: যান্ত্রিক আবহবিকারের ফলে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে আলগা বালুকণায় পরিণত হয়, যা বায়ু সহজেই উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। ৩) বৃষ্টির অভাব: বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটি শুকনো থাকে, ফলে ধূলিকণা ও বালি সহজেই স্থানান্তরিত হয়।
অথবা, ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য: ১) বায়ুচাপ: ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ ও বাইরে উচ্চচাপ থাকে; প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ ও বাইরে নিম্নচাপ থাকে। ২) বায়ুপ্রবাহের দিক: উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণবাত ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘোরে, কিন্তু প্রতীপ ঘূর্ণবাত ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে। ৩) আবহাওয়া: ঘূর্ণবাতে আবহাওয়া ঝড়ঝঞ্জাপূর্ণ ও দুর্যোগপূর্ণ হয়; প্রতীপ ঘূর্ণবাতে আকাশ পরিষ্কার ও শান্ত থাকে।
৪.২ ভারতীয় কৃষির মুখ্য তিনটি সমস্যা আলোচনা করো। অথবা, মৃত্তিকা সংরক্ষণে যে কোনো তিনটি পদ্ধতি উল্লেখ করো।
উত্তর: ভারতীয় কৃষির সমস্যা: ১) মৌসুমি বৃষ্টির অনিশ্চয়তা: অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে খরা ও বন্যা হয় যা কৃষির ক্ষতি করে। ২) ক্ষুদ্র জোত: জমির খণ্ডীকরণ ও ছোট জোতের কারণে আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতি ব্যবহার করা কঠিন হয়। ৩) পুরানো পদ্ধতি: এখনও অনেক স্থানে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় ফলন কম হয়।
অথবা, মৃত্তিকা সংরক্ষণের পদ্ধতি: ১) বনসৃজন: গাছপালা মাটিকে শিকড় দিয়ে ধরে রাখে, তাই বৃক্ষরোপণ ভূমিক্ষয় রোধ করে। ২) ধাপ চাষ: পার্বত্য ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে চাষ করলে জলপ্রবাহের গতি কমে এবং মাটি ক্ষয় কম হয়। ৩) ফালি চাষ: পাহাড়ের ঢাল বরাবর আড়াআড়িভাবে ফালি তৈরি করে শস্য রোপণ করলে মৃত্তিকা সংরক্ষণ হয়।
৪.৩ ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের তিনটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ করো। অথবা, দূর সংবেদন ব্যবস্থার গুরুত্বগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: পার্থক্য: ১) উৎস: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ভূমি জরিপ বা সার্ভে করে প্রস্তুত করা হয়; উপগ্রহ চিত্র মহাকাশ থেকে সেন্সরের মাধ্যমে তোলা হয়। ২) সময়: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র তৈরি করতে অনেক সময় লাগে এবং এটি নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য দেয়; উপগ্রহ চিত্র দ্রুত পাওয়া যায় এবং রিয়েল-টাইম তথ্য দেয়। ৩) স্কেল: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র একটি নির্দিষ্ট স্কেলে আঁকা হয়; উপগ্রহ চিত্রের স্কেল পরিবর্তনযোগ্য।
অথবা, দূর সংবেদন ব্যবস্থার গুরুত্ব: ১) সম্পদ সমীক্ষা: অরণ্য, খনিজ, জলসম্পদ ও কৃষিজমি জরিপে এটি অত্যন্ত কার্যকর। ২) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা দাবানলের পূর্বাভাস ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সাহায্য করে। ৩) মানচিত্র তৈরি: দুর্গম অঞ্চলের মানচিত্র প্রস্তুত করতে এটি অপরিহার্য।
৪.৪ প্রকৃতি অনুসারে বর্জ্যের উদাহরণসহ শ্রেণীবিভাগ করো। অথবা, পরিবেশের উপর বর্জ্য পদার্থের তিনটি প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: বর্জ্যের শ্রেণীবিভাগ: ১) কঠিন বর্জ্য: প্লাস্টিক, কাচ, ধাতু, কাগজ। ২) তরল বর্জ্য: নর্দমার জল, কলকারখানার রাসায়নিক জল, তেল। ৩) গ্যাসীয় বর্জ্য: কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাই অক্সাইড ($SO_{2}$), ধোঁয়া। ৪) বিষাক্ত বর্জ্য: সীসা, পারদ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
অথবা, পরিবেশের উপর প্রভাব: ১) দূষণ: বর্জ্য পদার্থ মাটি, জল ও বায়ুকে দূষিত করে বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে। ২) রোগ ছড়ানো: আবর্জনা স্তূপ থেকে মশা-মাছি ও জীবাণু বাহিত রোগ (ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, কলেরা) ছড়ায়। ৩) দৃশ্যদূষণ ও দুর্গন্ধ: যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার ফলে পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং পচা গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
বিভাগ - ঙ : নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির থেকে যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ৪ = ২০)
৫.১ প্রাকৃতিক ভূগোল
৫.১.১ নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপ-এর চিত্রসহ বর্ণনা দাও।
উত্তর: নদীর উচ্চগতিতে বা পার্বত্য প্রবাহে প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষয়কার্য বেশি হয়। এর ফলে সৃষ্ট প্রধান তিনটি ভূমিরূপ হলো:
১) 'I' ও 'V' আকৃতির উপত্যকা: পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয় পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়। ফলে নদী উপত্যকা খুব গভীর ও সংকীর্ণ হয়, যা ইংরেজি 'I' অক্ষরের মতো দেখতে হয় (গিরিখাত)। কালক্রমে বৃষ্টিপাত ও ধসের ফলে উপত্যকার দুই পাশ চওড়া হয়ে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো আকৃতি ধারণ করে।
২) গিরিখাত ও ক্যানিয়ন (Gorge and Canyon): বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে 'I' আকৃতির সুগভীর ও সংকীর্ণ নদী উপত্যকাকে গিরিখাত বলে (যেমন—সিন্ধু নদের গিরিখাত)। শুষ্ক মরু অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের ফলে যে অতি গভীর ও সংকীর্ণ গিরিখাত সৃষ্টি হয়, তাকে ক্যানিয়ন বলে (যেমন—কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)।
৩) জলপ্রপাত (Waterfall): নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর অনুভূমিকভাবে বা আড়াআড়িভাবে অবস্থান করলে, নদীর জলস্রোতে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়ে নিচু হয়ে যায় এবং কঠিন শিলা উঁচুতে অবস্থান করে। তখন নদী খাড়া ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে নিচে পতিত হয়, একে জলপ্রপাত বলে। যেমন—জগ জলপ্রপাত।
৫.১.২ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কীভাবে সংঘটিত হয় তা চিত্র ও উদাহরণ সহযোগে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall): সাগর বা মহাসাগর থেকে আগত জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহের পথে যদি কোনো উঁচু পর্বত বা মালভূমি আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে, তবে সেই বায়ু পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে (Windward Slope) বাধা পেয়ে উপরে উঠে যায়। উপরে উঠলে বায়ুর চাপ কমে এবং তা প্রসারিত ও শীতল হয়। ফলে বায়ুর মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে এবং পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।
বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল: বৃষ্টিপাত ঘটার পর বায়ু যখন পর্বত অতিক্রম করে বিপরীত দিকের অনুবাদ ঢালে (Leeward Slope) নামে, তখন তাতে জলীয় বাষ্প খুব কম থাকে এবং বায়ু উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে অনুবাদ ঢালে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়। এই অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
উদাহরণ: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (আরবসাগরীয় শাখা) পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, কিন্তু পূর্ব ঢালে (দাক্ষিণাত্য মালভূমি) বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, যা বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।
৫.১.৩ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সমুদ্রস্রোতের প্রধান পাঁচটি প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ১) উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ: উষ্ণ সমুদ্রস্রোত শীতপ্রধান অঞ্চলের উপকূলের উষ্ণতা বাড়িয়ে বরফমুক্ত রাখে (যেমন—উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত)। শীতল স্রোত উষ্ণ অঞ্চলের তাপমাত্রা কমায়।
২) বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু: উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প শোষণ করে বৃষ্টিপাত ঘটায়। শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক থাকে এবং মরুভূমি সৃষ্টিতে সহায়তা করে (যেমন—কালাহারি মরুভূমি)।
৩) মগ্নচড়া সৃষ্টি ও মৎস্যক্ষেত্র: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে (যেমন—নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূল) হিমশৈল গলে গিয়ে নুড়ি-বালি জমে অগভীর মগ্নচড়া সৃষ্টি হয়, যা প্ল্যাঙ্কটন জন্মানোর জন্য আদর্শ এবং বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
৪) কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্জা: বিপরীতধর্মী স্রোতের মিলনস্থলে তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে ঘন কুয়াশা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়, যা জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়।
৫) বাণিজ্য ও নৌচলাচল: সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালালে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়। প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজগুলি সমুদ্রস্রোত ও বায়ুপ্রবাহকে কাজে লাগিয়ে চলাচল করত।
৫.১.৪ ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: ১) ঋতু পরিবর্তন: এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঋতু বৈচিত্র্য। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত—এই চারটি ঋতু পর্যায়ক্রমে দেখা যায়।
২) মৌসুমী বায়ুর প্রভাব: বছরের বিভিন্ন সময়ে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয়। গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে (দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু) এবং শীতকালে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে (উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু) বাতাস বয়।
৩) বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন: বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০-৯০ ভাগই বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) হয়। বাকি সময়টা শুষ্ক থাকে।
৪) উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল: গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা থাকে ২৭°C-৩২°C এবং বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় আবহাওয়া ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর হয়।
৫) শীতল ও শুষ্ক শীতকাল: শীতকালে তাপমাত্রা কমে ১০°C-২৫°C হয় এবং আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া মনোরম থাকে।
৫.২ আঞ্চলিক ভূগোল
৫.২.১ উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য লেখ।
উত্তর: ১) উৎস: উত্তর ভারতের নদীগুলি হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট (যেমন—গঙ্গা, যমুনা)। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট (যেমন—গোদাবরী, কৃষ্ণা)।
২) প্রবাহের প্রকৃতি: উত্তরের নদীগুলি নিত্যবহ অর্থাৎ সারাবছর জল থাকে। দক্ষিণের নদীগুলি অনিত্যবহ, শুষ্ক ঋতুতে জল কমে যায় বা শুকিয়ে যায়।
৩) দৈর্ঘ্য ও অববাহিকা: উত্তর ভারতের নদীগুলি সুদীর্ঘ এবং এদের অববাহিকা বিশাল। দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি তুলনামূলকভাবে ছোট এবং অববাহিকা ছোট।
৪) নাব্যত: উত্তরের নদীগুলি সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নাব্য। দক্ষিণের নদীগুলি মালভূমির বন্ধুর ভূপ্রকৃতির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় খরস্রোতা এবং নাব্য নয়।
৫) ব-দ্বীপ: উত্তরের নদীগুলির মোহনায় বিশাল ব-দ্বীপ দেখা যায় (যেমন—গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ)। দক্ষিণের পূর্ববাহিনী নদীগুলিতে ব-দ্বীপ থাকলেও পশ্চিমবাহিনী নদীগুলিতে ব-দ্বীপ নেই।
৫.২.২ ভারতের চা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ দাও।
উত্তর: ১) জলবায়ু:
ক) উষ্ণতা: চা চাষের জন্য ২০°C থেকে ৩০°C উষ্ণতা প্রয়োজন।
খ) বৃষ্টিপাত: প্রচুর বৃষ্টিপাত (১৫০-২৫০ সেমি) দরকার, কিন্তু গাছের গোড়ায় জল জমা ক্ষতিকর।
গ) আর্দ্রতা: বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতা ও কুয়াশা চা পাতার সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়ায়।
২) মৃত্তিকা: লৌহ ও হিউমাস মিশ্রিত উর্বর দোআঁশ মাটি বা অম্লধর্মী পডসল মাটি চা চাষের জন্য শ্রেষ্ঠ।
৩) ভূপ্রকৃতি: জল নিকাশের সুবিধার জন্য পাহাড়ের ঢালু জমি চা বাগানের জন্য আদর্শ। তাই দার্জিলিং, অসম ও নীলগিরির পাহাড়ে চা চাষ ভালো হয়।
৪) ছায়া: প্রখর রোদ থেকে চারাগাছকে বাঁচাতে বাগানে মাঝে মাঝে বড় ছায়াপ্রদানকারী বৃক্ষ (Shade tree) লাগানো হয়।
৫.২.৩ পূর্ব ভারতের লৌহ-ইস্পাত শিল্প কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পূর্ব ভারতে (ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা) ভারতের প্রধান লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্রগুলি (জামশেদপুর, দুর্গাপুর, রাউড়কেলা, বোকারো) গড়ে ওঠার কারণ:
১) আকরিক লোহা: সিংভূম, বোনাই, ময়ূরভঞ্জ, কেওনঝড় খনি থেকে প্রচুর উন্নত মানের হেমাটাইট আকরিক লোহা পাওয়া যায়।
২) কয়লা: ঝরিয়া, রানিগঞ্জ, বোকারো, তালচের খনি থেকে কোক কয়লা সহজলভ্য।
৩) অন্যান্য খনিজ: চুনাপাথর, ডলোমাইট ও ম্যাঙ্গানিজ বীরমিত্রপুর, গাংপুর ও সুন্দরগড় থেকে পাওয়া যায়।
৪) জলসম্পদ: দামোদর, সুবর্ণরেখা, ব্রাহ্মণী ও মহানদী থেকে শিল্পের প্রয়োজনীয় জল পাওয়া যায়।
৫) বন্দর ও পরিবহন: কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের নৈকট্য এবং রেলপথের সুব্যবস্থা পণ্য আমদানী-রপ্তানীতে সাহায্য করে।
৫.২.৪ ভারতের জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের পাঁচটি কারণ আলোচনা করো।
উত্তর: ১) ভূপ্রকৃতি: সমভূমি অঞ্চলে (যেমন—গাঙ্গেয় সমভূমি) কৃষি, যাতায়াত ও শিল্পের সুবিধার জন্য জনঘনত্ব খুব বেশি। কিন্তু পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলের বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে জনবসতি কম।
২) নদনদী: নদী তীরবর্তী উর্বর মাটি ও জলের প্রাচুর্য কৃষি ও পানীয় জলের সুবিধা দেয়, তাই এই অঞ্চলে জনবসতি নিবিড়।
৩) জলবায়ু: নাতিশীতোষ্ণ ও মনোরম জলবায়ু এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে মানুষ বেশি বাস করে। মরু অঞ্চল বা অতি শীতল অঞ্চলে জনবসতি বিরল।
৪) শিল্প ও নগরায়ন: শিল্পোন্নত অঞ্চল এবং বড় শহরগুলিতে (মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতা) কাজের সুযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসার উন্নত সুবিধার জন্য জনঘনত্ব অত্যধিক।
৫) খনিজ সম্পদ: খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চলে (যেমন—ছোটনাগপুর মালভূমি) খনি ও শিল্পের বিকাশের কারণে জনবসতি গড়ে ওঠে।