বিভাগ - ক : বিকল্পগুলির থেকে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো: (১ × ১৪ = ১৪)
১.১ যে প্রক্রিয়ায় ভূমিভাগের উচ্চতার হ্রাস ঘটে তা হল-
(ক) আরোহণ
(খ) অবরোহণ
(গ) পর্যায়ন
(ঘ) আবহবিকার
উত্তর: (খ) অবরোহণ
১.২ বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ হল-
(ক) গৌর
(খ) জিউগেন
(গ) ইনসেলবার্জ
(ঘ) বাজাদা
উত্তর: (ঘ) বাজাদা
১.৩ ক্যারাবিয়ান সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণবাতকে বলা হয়-
(ক) হ্যারিকেন
(খ) সাইক্লোন
(গ) টাইফুন
(ঘ) টর্নেডো
উত্তর: (ক) হ্যারিকেন
১.৪ ডোলড্রাম বলা হয়-
(ক) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়কে
(খ) কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়কে
(গ) কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়কে
(ঘ) সুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়কে
উত্তর: (ক) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়কে
১.৫ এল নিনোর প্রভাব সর্বাধিক দেখা যায়-
(ক) আটলান্টিক মহাসাগরে
(খ) ভারত মহাসাগরে
(গ) প্রশান্ত মহাসাগরে
(ঘ) সুমেরু মহাসাগরে
উত্তর: (গ) প্রশান্ত মহাসাগরে
১.৬ পৃথিবীর বৃহত্তম মগ্নচড়া হল-
(ক) ডর্গাস ব্যাংক
(খ) রকফল ব্যাংক
(গ) গ্র্যান্ড ব্যাংক
(ঘ) সেবল ব্যাংক
উত্তর: (গ) গ্র্যান্ড ব্যাংক
১.৭ জীববিশ্লেষ্য বর্জ্য সাধারণত-
(ক) বিষাক্ত বর্জ্য
(খ) বিষহীন বর্জ্য
(গ) তেজস্ক্রিয় বর্জ্য
(ঘ) সবকটি প্রযোজ্য
উত্তর: (খ) বিষহীন বর্জ্য
১.৮ ভারতের উত্তরতম স্থানটি হল-
(ক) ইন্দিরা পয়েন্ট
(খ) পিগম্যালিয়ান পয়েন্ট
(গ) লেহ
(ঘ) ইন্দিরা কল
উত্তর: (ঘ) ইন্দিরা কল
১.৯ দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম-
(ক) আনাইমুদি
(খ) পালনি
(গ) দোদাবেতা
(ঘ) গুরু শিখর
উত্তর: (ক) আনাইমুদি
১.১০ গঙ্গা নদীর ডানতীরের উপনদীটি হল-
(ক) ঘর্ঘরা
(খ) গণ্ডক
(গ) যমুনা
(ঘ) কোশী
উত্তর: (গ) যমুনা
১.১১ ভারতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা লক্ষ করা যায়-
(ক) শীতকালে
(খ) গ্রীষ্মকালে
(গ) শরৎকালে
(ঘ) বসন্তকালে
উত্তর: (ক) শীতকালে
১.১২ ভারতের নবীনতম রাজ্যটি হল-
(ক) ঝাড়খণ্ড
(খ) তেলেঙ্গানা
(গ) ছত্তিশগড়
(ঘ) মহারাষ্ট্র
উত্তর: (খ) তেলেঙ্গানা
১.১৩ তুলা চাষ সবচেয়ে ভালো হয়-
(ক) কালোমাটি
(খ) লালমাটি
(গ) ল্যাটেরাইট মাটি
(ঘ) পার্বত্য মাটি
উত্তর: (ক) কালোমাটি
১.১৪ ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে সবুজ রঙের অর্থ হল-
(ক) নদী
(খ) ঘরবাড়ি
(গ) অরণ্য
(ঘ) রেলপথ
উত্তর: (গ) অরণ্য
বিভাগ - খ
২.১ নিম্নলিখিত বাক্যগুলি শুদ্ধ হলে 'শু' এবং অশুদ্ধ হলে 'অ' লেখো: (১ x ৬ = ৬)
২.১.১ মরুভূমির শুষ্ক নদীখাত হল ওয়াদি।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.২ দক্ষিণ গোলার্ধের পশ্চিমাবায়ুকে সাহসী পশ্চিমা বায়ু বলে।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৩ দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
উত্তর: অশুদ্ধ (অ) (সঠিক উত্তর: ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট)
২.১.৪ ১০ লক্ষের বেশি জনসংখ্যাযুক্ত শহর হল মহানগর।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৫ অটোমোবাইল শিল্পকে আধুনিক শিল্পদানব বলে।
উত্তর: অশুদ্ধ (অ) (পেট্রোরসায়ন শিল্পকে বলা হয়)
২.১.৬ ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ আর্যভট্ট।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৭ সিমেন্ট কারখানা থেকে উৎপাদিত বর্জ্য পদার্থ বায়ু দূষণ ঘটায়।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.২ উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ কর: (১ x ৬ = ৬)
২.২.১ নীলনদের ব-দ্বীপ দেখতে _________ মতো।
উত্তর: ধনুকাকৃতি
২.২.২ সমুদ্রের জলে ভাসমান বিশালাকার বরফের স্তূপকে _________ বলে।
উত্তর: হিমশৈল
২.২.৩ বায়ুচাপ _________ এককে মাপা হয়।
উত্তর: মিলিবার
২.২.৪ _________ সূত্র অনুসারে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে যায়।
উত্তর: ফেরেল বা কোরিওলিস
২.২.৫ কেরালা উপকূলের জলভূমি _________ নামে পরিচিত।
উত্তর: কয়াল বা লেগুন
২.২.৬ ভারতের _________ রাজ্যে সাক্ষরতার হার সর্বাধিক।
উত্তর: কেরালা
২.২.৭ শিল্পে নির্গত গ্যাস শোধনে ব্যবহার হয় _________।
উত্তর: স্ক্রাবার
২.৩ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও: (১ x ৬ = ৬)
২.৩.১ যে উচ্চভূমি দুটি নদী ব্যবস্থাকে পৃথক করে তার নাম লেখো।
উত্তর: জলবিভাজিকা
২.৩.২ বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে জেট বিমান যাতায়াত করে?
উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ার
২.৩.৩ সামুদ্রিক মাছের প্রধান খাদ্য কী?
উত্তর: প্ল্যাঙ্কটন
২.৩.৪ মরা জোয়ার কোন তিথিতে দেখা যায়?
উত্তর: কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে
২.৩.৫ ভারতের সর্বোচ্চ গিরিপথ কোনটি?
উত্তর: খারদুংলা
২.৩.৬ পার্বত্য ঢালে ভূমিক্ষয় রোধের একটি কৃষি পদ্ধতির নাম লেখো।
উত্তর: ধাপ চাষ বা ফালিচাষ
২.৩.৭ ভারতের কোন রাজ্য চা উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে?
উত্তর: অসম
২.৩.৮ ভারতের জরিপ সংস্থার প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: দেরাদুন
২.৪ বামদিকের সাথে ডানদিকের গুলি মিলিয়ে লেখো: (১ x ৪ = ৪)
বামদিক ও ডানদিকের সঠিক মিল:
- ২.৪.১ মেট্রোরেল — (২) কলকাতা
- ২.৪.২ ভারতের মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র — (৩) ভোপাল
- ২.৪.৩ হিরাকুঁদ বাঁধ — (৪) মহানদী প্রকল্প
- ২.৪.৪ পাট অঞ্চল — (১) ছোটনাগপুর অঞ্চল (প্রশ্নপত্র অনুযায়ী)
বিভাগ - গ : নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (২ x ৬ = ১২)
৩.১ প্রিয়ান কী? অথবা, বার্গশুন্ড কী?
উত্তর: প্রিয়ান (Prian/Playa): মরু অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের দ্বারা বালুকা অপসারিত হয়ে যে নিচু গর্তের সৃষ্টি হয়, সেখানে জল জমে সাময়িক হ্রদের সৃষ্টি হলে তাকে 'প্লায়া' বা স্থানীয় ভাষায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রিয়ান বলা হতে পারে (সাধারণত প্লায়া শব্দটিই প্রচলিত)। এটি লবণাক্ত জলের হ্রদ।
অথবা, বার্গশুন্ড (Bergschrund): উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ ও পর্বতগাত্রের (মস্তক প্রাচীরের) মধ্যে যে গভীর ও সংকীর্ণ ফাটল সৃষ্টি হয়, তাকে বার্গশুন্ড বলে। গ্রীষ্মকালে বরফ গলে গেলে এই ফাটল আরও স্পষ্ট হয় এবং এটি পর্বতারোহীদের জন্য খুব বিপজ্জনক।
৩.২ গর্জনশীল চল্লিশা কাকে বলে? অথবা, ভরা কোটাল বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: গর্জনশীল চল্লিশা: দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° থেকে ৫০° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে স্থলভাগ কম থাকায় পশ্চিমা বায়ু প্রবল বেগে ও গর্জন করতে করতে প্রবাহিত হয়। এই অঞ্চল ও বায়ুকে নাবিকরা 'গর্জনশীল চল্লিশা' (Roaring Forties) নামে অভিহিত করেছেন।
অথবা, ভরা কোটাল: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করলে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে পৃথিবীতে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে ভরা কোটাল বা তেজ কটাল বলে।
৩.৩ বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার বলতে কী বোঝো?
উত্তর: কোনো বর্জ্য পদার্থকে সরাসরি বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দিয়ে, তাকে বা তার অংশবিশেষকে সামান্য প্রক্রিয়াকরণ করে বা না করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পদ্ধতিকে বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার (Reuse) বলে। যেমন—পুরানো খবরের কাগজ ঠোঙা বানাতে বা কাঁচের বোতল ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করা।
৩.৪ ভাবর কাকে বলে? অথবা, কম্পোস্ট সার কাকে বলে? অথবা, জলবিভাজিকা উন্নয়নের দুটি পদ্ধতি লেখো।
উত্তর: ভাবর: হিমালয়ের পাদদেশে শিবালিক পর্বতের দক্ষিণে নদীবাহিত নুড়ি, পাথর, বালি ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে যে ঈষৎ ঢেউ খেলানো ভূমিভাগ গঠিত হয়, তাকে ভাবর বলে। এই অঞ্চলটি অত্যন্ত প্রবেশ্য হওয়ায় ছোট নদীগুলি এখানে ভূগর্ভে অদৃশ্য হয়ে যায়।
অথবা, কম্পোস্ট সার: জৈব বর্জ্য পদার্থ (যেমন—শাকসবজির খোসা, গোবর, পাতার অংশ) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিয়োজিত হয়ে যে হিউমাস সমৃদ্ধ কালো রঙের সার তৈরি করে, তাকে কম্পোস্ট সার বলে।
অথবা, জলবিভাজিকা উন্নয়নের দুটি পদ্ধতি: ১) বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও ভৌমজলের পুনর্ভরণ করা। ২) বনসৃজন ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ করা।
৩.৫ কৃষি বনসৃজনের দুটি উদ্দেশ্য লেখো। অথবা, আকাশ পরিবহনের দুটি সুবিধা উল্লেখ করো।
উত্তর: কৃষি বনসৃজনের উদ্দেশ্য: ১) কৃষকের নিজস্ব জমিতে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি কাঠ, ফল ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে অতিরিক্ত আয় সুনিশ্চিত করা। ২) ভূমিক্ষয় রোধ করা ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করা।
অথবা, আকাশ পরিবহনের সুবিধা: ১) এটি দ্রুততম পরিবহন ব্যবস্থা, ফলে জরুরি প্রয়োজনে বা পচনশীল দ্রব্য পরিবহনে অত্যন্ত উপযোগী। ২) দুর্গম পার্বত্য বা অরণ্য অঞ্চল যেখানে সড়ক বা রেলপথ নির্মাণ অসম্ভব, সেখানে সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।
৩.৬ FCC কী? অথবা, ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের দুটি গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: FCC (False Color Composite): উপগ্রহ চিত্রে বিভিন্ন বস্তুকে তাদের প্রকৃত রঙের পরিবর্তে অন্য কাল্পনিক রঙের মাধ্যমে (যেমন—উদ্ভিদকে লাল রঙে) উপস্থাপন করা হয়, একেই ছদ্ম রঙ বা False Color Composite (FCC) বলে। এটি বিশ্লেষণের সুবিধার জন্য করা হয়।
অথবা, ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের গুরুত্ব: ১) কোনো অঞ্চলের সঠিক ভূপ্রকৃতি, নদনদী ও উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ২) সামরিক প্রয়োজনে এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই মানচিত্র অপরিহার্য।
বিভাগ - ঘ : সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (৩ x ৪ = ১২)
৪.১ ক্যাটাবেটিক ও অ্যানাবেটিক বায়ুর মধ্যে পার্থক্য লেখো। অথবা, গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ক্যাটাবেটিক ও অ্যানাবেটিক বায়ুর পার্থক্য:
১) প্রকৃতি: ক্যাটাবেটিক বায়ু হলো শীতল ও ভারী বায়ু যা পার্বত্য ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে, অ্যানাবেটিক বায়ু হলো উষ্ণ ও হালকা বায়ু যা দিনের বেলা পর্বত গাত্র বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
২) সময়: ক্যাটাবেটিক বায়ু সাধারণত রাতের বেলা প্রবাহিত হয়, বিশেষ করে মেঘমুক্ত রাতে। অ্যানাবেটিক বায়ু দিনের বেলা সূর্যরশ্মির প্রভাবে সৃষ্টি হয়।
৩) ফলাফল: ক্যাটাবেটিক বায়ুর ফলে উপত্যকার নিম্নাংশে তাপমাত্রা কমে এবং 'বৈপরীত্য উত্তাপ' সৃষ্টি হয়। অ্যানাবেটিক বায়ুর ফলে পর্বতের উপরের অংশে মেঘ সৃষ্টি ও বৃষ্টিপাত হতে পারে।
অথবা, গিরিখাত ও ক্যানিয়নের পার্থক্য:
১) গিরিখাত সাধারণত 'V' আকৃতির হয় এবং আর্দ্র বা বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে দেখা যায়। ক্যানিয়ন 'I' আকৃতির হয় এবং শুষ্ক মরুপ্রায় অঞ্চলে গঠিত হয়।
২) গিরিখাত মূলত নদীর নিম্নক্ষয়ের সাথে সাথে পার্শ্বক্ষয়ের ফলে সৃষ্টি হয়। ক্যানিয়ন শুধুমাত্র নদীর প্রবল নিম্নক্ষয়ের ফলে গঠিত হয়, পার্শ্বক্ষয় প্রায় থাকে না বললেই চলে।
৪.২ সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির ৩টি কারণ লেখো।
উত্তর: সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির তিনটি প্রধান কারণ হলো:
১) নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু প্রভৃতি নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের জলরাশিকে নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত করে সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি করে। এটিই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ।
২) পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
৩) সমুদ্রজলের উষ্ণতা ও লবণাক্ততার পার্থক্য: উষ্ণ জল হালকা হওয়ায় বহিঃস্রোত রূপে এবং শীতল জল ভারী হওয়ায় অন্তঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়। একইভাবে, লবণাক্ততা জলের ঘনত্ব বাড়ায়, ফলে কম লবণাক্ত জল থেকে বেশি লবণাক্ত জলের দিকে স্রোত প্রবাহিত হয়।
৪.৩ থর মরুভূমি সৃষ্টির কারণগুলি লেখো।
উত্তর: ভারতের রাজস্থানে থর মরুভূমি সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:
১) আরাবল্লী পর্বতের অবস্থান: আরাবল্লী পর্বত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর (আরবসাগরীয় শাখা) সমান্তরালে অবস্থিত হওয়ায় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা না পেয়ে সোজা বেরিয়ে যায়, ফলে বৃষ্টিপাত হয় না।
২) বঙ্গোপসাগরীয় শাখার দূরত্ব: মৌসুমী বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে যখন এই অঞ্চলে পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুব কমে যায়, ফলে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না।
৩) উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বাষ্পীভবন: গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলে অত্যধিক উষ্ণতার কারণে বাষ্পীভবনের হার বৃষ্টিপাতের চেয়ে অনেক বেশি হয়, যা শুষ্কতা সৃষ্টি করে মরুভূমি গঠনে সহায়তা করেছে।
৪.৪ ভারতের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ লেখো। অথবা, 4R বলতে কী বোঝায়? অথবা, খরিফ শস্য ও রবি শস্যের পার্থক্য লেখো। অথবা, নগরায়নের তিনটি সমস্যা লেখো।
উত্তর: ভারতের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ: ১) মৃত্যুহার হ্রাস ও জন্মহার অপরিবর্তিত থাকা চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে। ২) বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা এবং পুত্রসন্তান লাভের প্রবল আকাঙ্ক্ষা। ৩) দারিদ্র্য ও অশিক্ষার কারণে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব।
অথবা, 4R: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চারটি প্রধান কৌশলকে একত্রে 4R বলা হয়। এগুলি হলো— Reduce (বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস), Reuse (পুনর্ব্যবহার), Recycle (পুনর্নবীকরণ বা পুনরাবর্তন) এবং Refuse (বর্জ্য সৃষ্টি করে এমন দ্রব্য প্রত্যাখ্যান করা)।
অথবা, খরিফ ও রবি শস্যের পার্থক্য: ১) খরিফ শস্য বর্ষাকালে (মৌসুমী বায়ুর আগমনে) চাষ করা হয়, রবি শস্য শীতকালে চাষ করা হয়। ২) খরিফ শস্যের জন্য বেশি উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত প্রয়োজন, রবি শস্যের জন্য কম উষ্ণতা ও কম বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
অথবা, নগরায়নের সমস্যা: ১) অপরিকল্পিতভাবে শহর গড়ে ওঠায় বসতি ও বাসস্থানের চরম অভাব এবং বস্তি সৃষ্টি। ২) নিকাশি ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও জলমগ্নতা। ৩) যানজট বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ (বায়ু, জল ও শব্দ দূষণ)।
বিভাগ - ঙ : নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির থেকে যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ৪ = ২০)
৫.১ প্রাকৃতিক ভূগোল
৫.১.১ বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট যে কোনো তিনটি ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো।
উত্তর: বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ নিচে আলোচনা করা হলো:
১) গৌর বা মাশরুম রক (Gour or Mushroom Rock): মরু অঞ্চলে বায়ুর অবঘর্ষ প্রক্রিয়ার ফলে শিলাখণ্ডের নিচের অংশ উপরের অংশের তুলনায় বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কারণ, বায়ুবাহিত বালুকণা ভূপৃষ্ঠ থেকে সামান্য উচ্চতায় (সাধারণত ১-২ মিটার) বেশি সক্রিয় থাকে। এর ফলে শিলাস্তূপটির উপরের অংশ প্রশস্ত ও নিচের অংশ সরু হয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো আকৃতি ধারণ করে। একে গৌর বলে। সাহারা মরুভূমিতে অনেক গৌর দেখা যায়।
২) জিউগেন (Zeugen): মরুভূমিতে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পরস্পরের সমান্তরালে অনুভূমিকভাবে অবস্থান করলে, বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে কোমল শিলাস্তর দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গহ্বরের সৃষ্টি করে এবং কঠিন শিলাস্তরগুলি চ্যাপ্টা বা সমতল মাথা বিশিষ্ট টিলার আকারে দাঁড়িয়ে থাকে। একে জিউগেন বলে। এর উপরের অংশ টেবিলের মতো সমতল হয়।
৩) ইয়ারদাং (Yardang): মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর উল্লম্বভাবে পাশাপাশি অবস্থান করলে, বায়ুর ঘর্ষণ ও অপসারণ কার্যের ফলে কোমল শিলাস্তরটি দ্রুত ক্ষয়ে গিয়ে গর্ত বা নিচু অংশের সৃষ্টি করে এবং কঠিন শিলাস্তরটি কম ক্ষয়ে গিয়ে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এদের ইয়ারদাং বলে। এগুলির মাথা সাধারণত তীক্ষ্ণ বা ভোঁতা হয় এবং দেখতে অনেকটা উল্টানো নৌকার মতো হতে পারে। চিলির আটাকামা মরুভূমিতে ইয়ারদাং দেখা যায়।
৫.১.২ বায়ুর উষ্ণতার তারতম্যের ৩টি কারণ বর্ণনা করো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা সর্বত্র সমান হয় না। এই তারতম্যের তিনটি প্রধান কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১) অক্ষাংশ (Latitude): সূর্যরশ্মির পতনকোণের ওপর উষ্ণতার তারতম্য নির্ভর করে। নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়, তাই এখানে উষ্ণতা সবচেয়ে বেশি হয়। নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে গেলে সূর্যরশ্মি ক্রমশ তির্যকভাবে পড়ে। তির্যক রশ্মি বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ পথ ভেদ করে আসে এবং বড় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তাই তাপীয় ফল কম হয়। ফলে অক্ষাংশ বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা কমতে থাকে।
২) উচ্চতা (Altitude): সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার বা ১ কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৬.৪° সেলসিয়াস হারে উষ্ণতা হ্রাস পায়। একে 'স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের হার' (Normal Lapse Rate) বলে। বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় এবং ভূপৃষ্ঠের বিকিরণজনিত তাপে নিচের স্তর বেশি উষ্ণ হয়। উপরের স্তরে ঘনত্ব কম হওয়ায় তাপ শোষণ কম হয়। তাই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও উচ্চতার কারণে সমভূমির তুলনায় পার্বত্য অঞ্চল শীতল হয় (যেমন—দিল্লি ও শিমলা)।
৩) সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from Sea): জলভাগ স্থলভাগের তুলনায় দেরিতে গরম ও দেরিতে ঠান্ডা হয়। সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে এই প্রভাবের কারণে জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয় (নাতিশীতোষ্ণ)। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত মহাদেশের অভ্যন্তরে স্থলভাগ দ্রুত তাপ গ্রহণ ও বর্জন করে, ফলে সেখানে গ্রীষ্মকাল খুব উষ্ণ এবং শীতকাল খুব শীতল হয়। একে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে। যেমন—মুম্বাইয়ের জলবায়ু সমভাবাপন্ন, কিন্তু দিল্লির জলবায়ু চরমভাবাপন্ন।
৫.১.৩ দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিটের সময়ের পার্থক্য হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করছে এবং চাঁদ পৃথিবীকে পশ্চিম থেকে পূর্বে পরিক্রমণ করছে। পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থান যখন চাঁদের ঠিক সামনে আসে, তখন সেখানে মুখ্য জোয়ার হয়। পৃথিবী তার অক্ষের ওপর একবার পূর্ণ আবর্তন করতে সময় নেয় প্রায় ২৪ ঘণ্টা (সঠিকভাবে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড)।
কিন্তু এই সময়ের মধ্যে চাঁদও তার কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। চাঁদ পৃথিবীকে একবার সম্পূর্ণ পরিক্রমণ করতে সময় নেয় প্রায় ২৭ ১/৩ দিন বা ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা। অর্থাৎ, চাঁদ প্রতিদিন প্রায় ১৩° (৩৬০° ÷ ২৭.৩) পথ অতিক্রম করে। তাই পৃথিবীর কোনো স্থান যখন একবার আবর্তন করে ২৪ ঘণ্টা পর আগের জায়গায় ফিরে আসে, তখন চাঁদ আর সেই স্থানের ঠিক সামনে থাকে না, কক্ষপথে প্রায় ১৩° এগিয়ে যায়।
পৃথিবীকে এই অতিরিক্ত ১৩° পথ ঘুরে আবার চাঁদের সামনে আসতে আরও কিছু সময় লাগে। হিসেব অনুযায়ী, পৃথিবী ১° ঘোরে ৪ মিনিটে। সুতরাং, ১৩° ঘুরতে সময় লাগে (১৩ × ৪) = ৫২ মিনিট। তাই কোনো স্থানে মুখ্য জোয়ার হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর আবার সেখানে মুখ্য জোয়ার হয় না, বরং ২৪ ঘণ্টা + ৫২ মিনিট = ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট পর পরবর্তী মুখ্য জোয়ার সংঘটিত হয়। এই কারণেই দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হয় ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট।
৫.১.৪ ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের (যেমন—ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১) ঋতু পরিবর্তন: এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঋতু বৈচিত্র্য। এখানে প্রধানত চারটি ঋতু দেখা যায়—গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত। তবে গ্রীষ্মকাল ও শীতকালই প্রধান।
২) বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ: এখানে ঋতুভেদে বায়ুর দিক সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আর্দ্র মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয় এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শুষ্ক মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়।
৩) বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন: এই জলবায়ু অঞ্চলে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশই বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) সংঘটিত হয়। বাকি সময়টা প্রায় শুষ্ক থাকে। বৃষ্টিপাত প্রধানত শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণবাত জনিত কারণে হয়।
৪) উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল: গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ৩০°C-৩৫°C এবং প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকায় আবহাওয়া আর্দ্র ও ভ্যাপসা হয়। অন্যদিকে শীতকালে গড় উষ্ণতা ১৫°C-২৫°C এ নেমে আসে এবং বায়ু শুষ্ক ও মনোরম থাকে।
৫) ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ: শরৎ ও বসন্তকালে এবং বর্ষার প্রাক্কালে সমুদ্র বক্ষে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, যার ফলে এই অঞ্চলে প্রায়ই বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় (যেমন—আইলা, আম্ফান) ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
৫.২ আঞ্চলিক ভূগোল
৫.২.১ ভারতের পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম উপকূলের ভূপ্রকৃতির পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ভারতের পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম উপকূলের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি নিচে দেওয়া হলো:
১) প্রস্থ ও বিস্তার: পূর্ব উপকূল সমভূমি বেশ চওড়া বা প্রশস্ত (গড় প্রস্থ ৮০-১০০ কিমি), কিন্তু পশ্চিম উপকূল সমভূমি সংকীর্ণ (গড় প্রস্থ ১০-৮০ কিমি)।
২) ব-দ্বীপ সৃষ্টি: পূর্ব বাহিনী নদীগুলি (মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী) মোহনায় বিশাল ব-দ্বীপ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পশ্চিম বাহিনী নদীগুলির (নর্মদা, তাপ্তী) মোহনায় কোনো ব-দ্বীপ নেই, কারণ এগুলি গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এবং খুব খরস্রোতা।
৩) বালিয়াড়ি: পূর্ব উপকূলের অনেক স্থানে, বিশেষ করে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে প্রচুর বালিয়াড়ি দেখা যায়। পশ্চিম উপকূলে কেরালার মালাবার উপকূল ছাড়া বিশেষ বালিয়াড়ি দেখা যায় না।
৪) হ্রদ ও লেগুন: পূর্ব উপকূলে চিল্কা, পুলিকট, কোলেরু প্রভৃতি বড় বড় হ্রদ বা লেগুন রয়েছে। পশ্চিম উপকূলে কেরালায় প্রচুর কয়াল বা লেগুন (যেমন- ভেম্বানাদ) দেখা যায়, যেগুলি স্থানীয় ভাষায় 'কয়াল' নামে পরিচিত।
৫) বন্দর: পূর্ব উপকূলের সমুদ্র অগভীর এবং উপকূল রেখা অভগ্ন হওয়ায় এখানে স্বাভাবিক পোতাশ্রয় কম (বিশাখাপত্তনম ছাড়া)। কিন্তু পশ্চিম উপকূলের সমুদ্র গভীর এবং উপকূল ভগ্ন হওয়ায় এখানে মুম্বাই, মারগাঁও, কোচিন-এর মতো অনেক উৎকৃষ্ট স্বাভাবিক পোতাশ্রয়যুক্ত বন্দর গড়ে উঠেছে।
৫.২.২ ভারতের দুই প্রকার স্বাভাবিক উদ্ভিদের অঞ্চলের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ভারতের দুটি প্রধান স্বাভাবিক উদ্ভিদ অঞ্চল হলো— ১) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য এবং ২) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য।
১) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বা চিরসবুজ অরণ্য:
অবস্থান: যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি এবং গড় উষ্ণতা ২৫°C-২৭°C, সেখানে এই বনভূমি দেখা যায়। ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যসমূহ (অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা), আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং হিমালয়ের পাদদেশে তরাই অঞ্চলে এই অরণ্য দেখা যায়।
বৈশিষ্ট্য: ক) সারা বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে গাছগুলি সবসময় সবুজ থাকে। খ) গাছগুলি খুব লম্বা (৪০-৬০ মিটার) এবং ডালপালা যুক্ত হয়ে চাঁদোয়া সৃষ্টি করে, ফলে সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারে না। গ) এখানে মেহগনি, রোজউড, এবনি, রবার, সিঙ্কোনা প্রভৃতি শক্ত কাঠের গাছ জন্মায়।
২) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী বা পাতাঝরা অরণ্য:
অবস্থান: ভারতে এই ধরনের বনভূমি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০০-২০০ সেমি, সেখানে এই অরণ্য গড়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড এবং দক্ষিণ ভারতের মালভূমি অঞ্চলে এই বনভূমি দেখা যায়।
বৈশিষ্ট্য: ক) শুষ্ক শীতকালে বা গ্রীষ্মের শুরুতে বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য গাছগুলি তাদের পাতা ঝরিয়ে ফেলে। খ) বর্ষাকালে আবার নতুন পাতা গজায়। গ) এই বনভূমি অর্থনৈতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘ) প্রধান বৃক্ষগুলি হলো—শাল, সেগুন, শিমূল, পলাশ, মহুয়া, চন্দন ইত্যাদি।
৫.২.৩ পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়নশিল্পের একদেশীভবনের কারণগুলি লেখো।
উত্তর: মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য নিয়ে গঠিত পশ্চিম ভারতে ভারতের কার্পাস বয়নশিল্পের এক বিশাল সমাবেশ ঘটেছে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১) কাঁচামালের সহজলভ্যতা: এই অঞ্চলের দাক্ষিণাত্য মালভূমির কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা 'রেগুর' মাটি তুলা চাষের জন্য আদর্শ। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের দীর্ঘ আঁশযুক্ত কার্পাস উৎপন্ন হয়, যা শিল্পের কাঁচামালের অভাব মেটায়।
২) আর্দ্র জলবায়ু: আরব সাগারের নিকটবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলের আবহাওয়া আর্দ্র, যা সুতো কাটার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আর্দ্র আবহাওয়ায় সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না, ফলে উন্নত মানের বস্ত্র উৎপাদন সম্ভব হয়।
৩) বিদ্যুৎ শক্তি: পশ্চিমঘাট পর্বতের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি (যেমন—টাটা হাইড্রোইলেকট্রিক প্রজেক্ট) এবং তারাপুর, কাকরাপাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে সুলভে প্রচুর বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
৪) বন্দর ও পরিবহন সুবিধা: মুম্বাই, কান্ডালা, মারগাঁও প্রভৃতি উন্নত বন্দরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি ও দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলা আমদানি এবং বিদেশে বস্ত্র রপ্তানি করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া রেলপথ ও সড়কপথের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগের সুব্যবস্থা আছে।
৫) মূলধন ও বাজার: মুম্বাই ও আমেদাবাদের ধনী পার্সি, ভাটিয়া ও গুজরাটি ব্যবসায়ীরা এই শিল্পে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া সমগ্র ভারত এবং বিদেশে এখানকার সুতিবস্ত্রের বিশাল চাহিদা বা বাজার রয়েছে।
৫.২.৪ ভারতে অসম জনবণ্টনের কারণগুলি উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের সর্বত্র জনসংখ্যার ঘনত্ব সমান নয়। কোথাও অত্যন্ত ঘনবসতি আবার কোথাও বিরল জনবসতি দেখা যায়। এই অসম বণ্টনের প্রধান কারণগুলি হলো:
১) ভূপ্রকৃতি: সমভূমি অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার জন্য জনঘনত্ব খুব বেশি (যেমন—গাঙ্গেয় সমভূমি, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ)। অন্যদিকে, পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলের বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে জনবসতি বিরল (যেমন—হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম)।
২) নদনদী ও জলবায়ু: নিত্যবহ নদী বিধৌত অঞ্চলে জলের প্রাচুর্য এবং মনোরম জলবায়ু জনবসতি গড়ে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু রাজস্থানের মরু অঞ্চলের চরমভাবাপন্ন জলবায়ু ও জলের অভাবে জনবসতি খুবই কম।
৩) মৃত্তিকা ও কৃষি: উর্বর পলিমাটি কৃষি কাজের জন্য আদর্শ, তাই সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি ও ব-দ্বীপ অঞ্চলে জনঘনত্ব সর্বাধিক। পক্ষান্তরে, অনুর্বর ল্যাটেরাইট বা মরু মাটিতে কৃষি ভালো হয় না বলে জনবসতি কম।
৪) শিল্প ও নগরায়ন: খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চল এবং শিল্পোন্নত শহরগুলিতে কাজের সুযোগ বেশি থাকায় ঘন জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন—দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু প্রভৃতি মেট্রোপলিটন শহর এবং ছোটনাগপুর মালভূমির শিল্পাঞ্চল।
৫) রাজনৈতিক কারণ: রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সন্ত্রাসবাদ কবলিত অঞ্চলে (যেমন—জম্মু ও কাশ্মীর বা উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ) জনবসতি তুলনামূলকভাবে কম হয়।