বিভাগ 'ক' : বিকল্পগুলির মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো (১ x ১৪ = ১৪)
১.১ হিমবাহ বাহিত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়-
(ক) রসে মতানে
(খ) পিরামিড চূড়া
(গ) হিমদ্রোণী
(ঘ) ড্রামলিন
উত্তর: (ঘ) ড্রামলিন
১.২ হুগলি নদীর মোহনায় যে দ্বীপটি ২০০৬ সালে অবলুপ্ত হয়-
(ক) লোহাচরা
(খ) নিউমূর
(গ) ঘোড়ামারা
(ঘ) লোথিয়ান
উত্তর: (ক) লোহাচরা
১.৩ প্রধান ওজোন ধ্বংসকারী গ্যাসটি হল-
(ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
(খ) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
(গ) মিথেন
(ঘ) নাইট্রাস অক্সাইড
উত্তর: (খ) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
১.৪ ডোলড্রামস লক্ষ করা যায়-
(ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
(খ) কর্কটীয় অঞ্চলে
(গ) মকরীয় অঞ্চলে
(ঘ) সুমেরু বৃত্তীয় অঞ্চলে
উত্তর: (ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
১.৫ উষ্ণ ও শীতল স্রোতের সীমারেখাকে বলে-
(ক) হিমরেখা
(খ) হিমশৈল
(গ) হিমপ্রাচীর
(ঘ) হিমবাহ
উত্তর: (গ) হিমপ্রাচীর
১.৬ মরা কোটাল লক্ষ করা যায়-
(ক) পূর্ণিমা তিথিতে
(খ) অমাবস্যা তিথিতে
(গ) চতুর্দশী তিথিতে
(ঘ) অষ্টমী তিথিতে
উত্তর: (ঘ) অষ্টমী তিথিতে
১.৭ ক্যাডমিয়ামের প্রভাবে যে রোগ হয়-
(ক) মিনামাটা
(খ) ইটাই-ইটাই
(গ) অ্যাসবেস্টোসিস
(ঘ) ব্ল্যাকফুট
উত্তর: (খ) ইটাই-ইটাই
১.৮ ভারতের নবীনতম অঙ্গরাজ্যটি হল-
(ক) লাদাখ
(খ) ছত্তিশগড়
(গ) ঝাড়খণ্ড
(ঘ) তেলেঙ্গানা
উত্তর: (ঘ) তেলেঙ্গানা
১.৯ উচ্চগঙ্গা সমভূমির প্রাচীন পলিগঠিত অঞ্চল হল-
(ক) ভাবর
(খ) তরাই
(গ) ভাঙ্গর
(ঘ) খাদার
উত্তর: (গ) ভাঙ্গর
১.১০ ভারতের বৃহত্তম মিষ্টিজলের হ্রদ-
(ক) কোলেরু
(খ) উলার
(গ) চিল্কা
(ঘ) লোকটাক
উত্তর: (খ) উলার
১.১১ ভারতে হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনে প্রথম-
(ক) পশ্চিমবঙ্গ
(খ) উত্তরপ্রদেশ
(গ) পাঞ্জাব
(ঘ) ছত্তিশগড়
উত্তর: (গ) পাঞ্জাব
১.১২ ভারতের রূঢ় বলা হয়-
(ক) দুর্গাপুরকে
(খ) চেন্নাইকে
(গ) আমেদাবাদকে
(ঘ) বেঙ্গালুরুকে
উত্তর: (ক) দুর্গাপুরকে
১.১৩ ভারতের জীবনরেখা বলা হয়-
(ক) ভারতীয় রেলকে
(খ) ভারতীয় ডাক বিভাগকে
(গ) কলকাতা মেট্রোকে
(ঘ) জলপথকে
উত্তর: (ক) ভারতীয় রেলকে
১.১৪ টোপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্র প্রস্তুত ও প্রকাশ করে-
(ক) সার্ভে অফ ইন্ডিয়া
(খ) জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া
(গ) বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া
(ঘ) জ্যুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া
উত্তর: (ক) সার্ভে অফ ইন্ডিয়া
বিভাগ - খ
২.১ নিম্নলিখিত বাক্যগুলি শুদ্ধ হলে পাশে 'শু' এবং 'অশুদ্ধ' হলে পাশে 'অ' লেখো (যেকোনো ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দাও): (১ x ৬ = ৬)
২.১.১ সাহারার শিলাময় মরুভূমিকে আর্গ বলে।
উত্তর: অশুদ্ধ (অ) [সঠিক উত্তর: হামাদা]
২.১.২ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ অবস্থান করে।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৩ পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম তখন হয় পেরিজি জোয়ার।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৪ একটি e-বর্জ্যের উদাহরণ হল ব্যবহৃত ইঞ্জেকশন সিরিঞ্জ।
উত্তর: অশুদ্ধ (অ) [এটি চিকিৎসা বর্জ্য]
২.১.৫ করমন্ডল উপকূলে বছরে দু'বার বর্ষাকাল হয়।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৬ ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় জলপথ হলদিয়া থেকে প্রয়াগরাজ পর্যন্ত বিস্তৃত।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.১.৭ ভূমির উচ্চতা প্রদর্শন করা হয় সমোন্নতিরেখার সাহায্যে।
উত্তর: শুদ্ধ (শু)
২.২ উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো (যেকোনো ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দাও): (১ x ৬ = ৬)
২.২.১ মরু সম্প্রসারণের একটি কারণ হল ______।
উত্তর: অনাবৃষ্টি বা মানুষের কার্যকলাপ (যেমন: বৃক্ষচ্ছেদন)
২.২.২ ______ আর্দ্রতা প্রকাশ করা হয় শতকরা হিসেবে পূর্ণমানে।
উত্তর: আপেক্ষিক
২.২.৩ ______ অঞ্চলে ল্যাব্রাডর ও উপসাগরীয় স্রোতের মিলনে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়।
উত্তর: নিউফাউন্ডল্যান্ড
২.২.৪ কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতি হল ______।
উত্তর: ভরাটকরণ (Landfill) বা কম্পোস্টিং
২.২.৫ ______ একটি অস্থানু শিল্প।
উত্তর: কার্পাস বয়ন শিল্প বা তথ্য প্রযুক্তি শিল্প
২.২.৬ সর্বশেষ জনগণনা অনুসারে সর্বাধিক সাক্ষর রাজ্য ______।
উত্তর: কেরালা
২.২.৭ ইঞ্চি শিটের R.F. ______।
উত্তর: 1:50,000
২.৩ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও (যেকোনো ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দাও): (১ x ৬ = ৬)
২.৩.১ সুইজারল্যান্ডের ম্যাটার হর্ন কোন জাতীয় ভূমিরূপের উদাহরণ?
উত্তর: পিরামিড চূড়া
২.৩.২ সমবৃষ্টিপাতের স্থানগুলিকে মানচিত্রে যুক্তকারী রেখাকে কী বলে?
উত্তর: সমবর্ষণ রেখা (Isohyet)
২.৩.৩ ঋতুপরিবর্তনের সাথে বায়ুর দিকের ১৮০° পরিবর্তন কোন জলবায়ু অঞ্চলে লক্ষ করা যায়?
উত্তর: মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে
২.৩.৪ পৃথিবীর বৃহত্তম মগ্নচড়া কোনটি?
উত্তর: গ্র্যান্ড ব্যাংক
২.৩.৫ একটি জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: প্লাস্টিক বা কাচ
২.৩.৬ ঢালের আড়াআড়ি চওড়া ফিতের মতো জমি তৈরি করে ক্ষয়রোধকারী শস্য চাষ করাকে কী বলে?
উত্তর: ফালিচাষ (Strip Cropping)
২.৩.৭ ভারতের প্রবেশদ্বার বলা হয় কোন শহরকে?
উত্তর: মুম্বাই
২.৩.৮ চিত্র সংগ্রহের জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথের যে স্থানে রাখা হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: প্ল্যাটফর্ম বা সেন্সর
২.৪ বামদিকের সাথে ডানদিকের গুলি মিলিয়ে লেখো: (১ x ৪ = ৪)
বামদিক ও ডানদিকের সঠিক মিল:
- ২.৪.১ ম্যানগ্রোভ — ২. উপকূল অঞ্চল
- ২.৪.২ মরুভূমি গবেষণা কেন্দ্র — ৪. যোধপুর
- ২.৪.৩ বৃহত্তম নদী পরিকল্পনা — ১. ভাকরা-নাঙ্গাল
- ২.৪.৪ কয়াল — ৩. মালাবার উপকূল
বিভাগ - গ : নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) (২ x ৬ = ১২)
৩.১ পলল ব্যজনী কী? অথবা, লোয়েস কী?
উত্তর: পলল ব্যজনী (Alluvial Fan): নদীর উচ্চগতি ও মধ্যগতির সংযোগস্থলে বা পর্বতের পাদদেশে নদী উপত্যকায় ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে গেলে নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে হাতপাখা বা ব্যজনীর আকৃতির যে ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে পলল ব্যজনী বলে।
অথবা, লোয়েস (Loess): মরু অঞ্চল বা নদী উপকূল থেকে অতি সূক্ষ্ম বালি বা ধূলিকণা (০.০৫ মিমি-র কম ব্যাসযুক্ত) প্রবল বায়ুর দ্বারা পরিবাহিত হয়ে দূরে কোনো স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিভাগ গঠন করে, তাকে লোয়েস বলে। যেমন—গোবি মরুভূমি থেকে বালুকা রাশি উড়ে গিয়ে চিনের হোয়াংহো অববাহিকায় লোয়েস সমভূমি গঠন করেছে।
৩.২ ধোঁয়াশা কী? অথবা, মগ্নচড়া কী?
উত্তর: ধোঁয়াশা (Smog): শিল্পাঞ্চল ও শহরতলি অঞ্চলে কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া বাতাসের ধূলিকণার সঙ্গে মিশে বায়ুমণ্ডলের ভাসমান জলকণা বা কুয়াশার সঙ্গে মিলিত হয়ে যে ধোঁয়াযুক্ত কুয়াশার সৃষ্টি করে, তাকে ধোঁয়াশা বলে। এটি দৃশ্যমানতা কমায় এবং শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করে।
অথবা, মগ্নচড়া (Continental Shelf/Shoal): সমুদ্রের অগভীর মহীসোপান অঞ্চলে যেখানে শীতল ও উষ্ণ স্রোতের মিলন ঘটে, সেখানে হিমশৈল গলে গিয়ে তার মধ্যস্থ নুড়ি, বালি, পাথর ইত্যাদি সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত হয়ে যে উঁচু চড়ার সৃষ্টি করে, তাকে মগ্নচড়া বলে। এটি মৎস্য আহরণের জন্য উপযুক্ত। যেমন—গ্র্যান্ড ব্যাংক।
৩.৩ স্ক্রাবার বলতে কী বোঝো? অথবা, ইউট্রোফিকেশন কী?
উত্তর: স্ক্রাবার (Scrubber): শিল্পকারখানা থেকে নির্গত দূষিত বায়ুকে শোধন করার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাকে স্ক্রাবার বলে। এটি গ্যাসীয় দূষক এবং ভাসমান কণা (SPM) অপসারণ করতে সাহায্য করে। স্ক্রাবার দুই প্রকার—শুকনো ও আর্দ্র।
অথবা, ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication): জলাশয়ে ফসফেট ও নাইট্রেট জাতীয় সার বা ডিটারজেন্ট মেশার ফলে জলজ উদ্ভিদের (শ্যাওলা, কচুরিপানা) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, যা জলের অক্সিজেন কমিয়ে দেয় এবং জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটায়। জলাশয়ের এই পুষ্টিবৃদ্ধি ও দূষণ প্রক্রিয়াকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
৩.৪ তাল কী? অথবা, বরদৈছিলা কী?
উত্তর: তাল (Tal): কুমায়ুন হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট বা অন্য কারণে গঠিত হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় 'তাল' বলা হয়। যেমন—নৈনিতাল, ভীমতাল।
অথবা, বরদৈছিলা (Bardoisila): গ্রীষ্মকালে অসমে যে কালবৈশাখী বা বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় 'বরদৈছিলা' বলে। এটি চা চাষের জন্য উপকারী।
৩.৫ বাগিচা ফসল কী? অথবা, জনঘনত্ব কাকে বলে?
উত্তর: বাগিচা ফসল (Plantation Crop): ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিশাল আয়তনের জমিতে বা বাগানে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে যে ফসল চাষ করা হয়, তাকে বাগিচা ফসল বলে। যেমন—চা, কফি, রবার।
অথবা, জনঘনত্ব (Population Density): কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা এবং সেই অঞ্চলের মোট জমির আয়তনের অনুপাতকে জনঘনত্ব বলে। অর্থাৎ, প্রতি বর্গকিলোমিটার বা বর্গএকক জায়গায় গড়ে যতজন মানুষ বাস করে, তাই হলো জনঘনত্ব।
৩.৬ ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (GIS) কী? অথবা, RCC বলতে কী বোঝো?
উত্তর: GIS (Geographical Information System): কম্পিউটার প্রযুক্তির সাহায্যে ভৌগোলিক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের আধুনিক ব্যবস্থাকে ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা বা GIS বলে।
অথবা, RCC (সম্ভবত FCC বা False Color Composite): উপগ্রহ চিত্রে বিভিন্ন বস্তুকে তাদের প্রকৃত রঙের পরিবর্তে অন্য কৃত্রিম বা ছদ্ম রঙের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, একেই ছদ্ম রঙ বা False Color Composite (FCC) বলে। (প্রশ্নে RCC উল্লেখ আছে, যা সাধারণত ভৌগোলিক পরিভাষায় প্রচলিত নয়, সম্ভবত এটি FCC-র মুদ্রণপ্রমাদ)।
বিভাগ 'ঘ' : সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) (৩ x ৪ = ১২)
৪.১ সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো। অথবা, মৌসুমি বায়ুকে সমুদ্র ও স্থলবায়ুর বৃহৎ সংস্করণ বলা হয় কেন?
উত্তর: সুন্দরবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: ১) বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাওয়ায় লোহাচরা, নিউমূর বা ঘোড়ামারার মতো দ্বীপগুলি ডুবে যাচ্ছে। ২) লবণাক্ত জলের প্রবেশ ঘটায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস হচ্ছে এবং কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। ৩) ঘূর্ণিঝড়ের (যেমন—আইলা, আম্ফান) প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।
অথবা, মৌসুমি বায়ু ও সমুদ্র-স্থলবায়ু: সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু হলো দৈনিক বায়ুপ্রবাহ, যা দিন ও রাতের উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে ঘটে। একইভাবে মৌসুমি বায়ু হলো ঋতুভিত্তিক বা সাময়িক বায়ুপ্রবাহ, যা ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের উষ্ণতা ও চাপের পার্থক্যের কারণে বিশাল এলাকা জুড়ে প্রবাহিত হয়। তাই মৌসুমি বায়ুকে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর বৃহৎ সংস্করণ বলা হয়।
৪.২ বৈপরীত্য উষ্ণতা সৃষ্টির কারণগুলি লেখো। অথবা, বিষহীন ও বিষাক্ত বর্জ্যের পার্থক্য লেখো।
উত্তর: বৈপরীত্য উষ্ণতার কারণ: সাধারণত উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে, কিন্তু বিপরীত হলে তাকে বৈপরীত্য উষ্ণতা বলে। এর কারণগুলি হলো— ১) দীর্ঘ শীতকালীন রাত ও মেঘমুক্ত আকাশ, যা দ্রুত তাপ বিকিরণ করতে সাহায্য করে। ২) শান্ত আবহাওয়া, যা বায়ুর মিশ্রণ রোধ করে। ৩) শুষ্ক বায়ু এবং বরফাবৃত ভূমিভাগ। ৪) পার্বত্য উপত্যকা, যেখানে ভারী শীতল বায়ু নিচে নেমে আসে।
অথবা, বিষহীন ও বিষাক্ত বর্জ্যের পার্থক্য: ১) বিষহীন বর্জ্য পরিবেশ ও জীবের সরাসরি ক্ষতি করে না (যেমন—সবজির খোসা), কিন্তু বিষাক্ত বর্জ্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক ও প্রাণঘাতী হতে পারে (যেমন—সীসা, পারদ)। ২) বিষহীন বর্জ্য সহজে বিয়োজিত হয় বা রিসাইকেল করা যায়, কিন্তু বিষাক্ত বর্জ্য সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘস্থায়ী দূষণ ঘটায়।
৪.৩ দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনার সুবিধাগুলি লেখো। অথবা, রেলপথ ও সড়ক পথের গুরুত্বের তুলনা করো।
উত্তর: দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনার (DVC) সুবিধা: ১) বন্যা নিয়ন্ত্রণ: বাঁধ নির্মাণের ফলে দামোদরের বিধ্বংসী বন্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। ২) জলসেচ: খালের মাধ্যমে কৃষি জমিতে জলসেচের সুবিধা পাওয়া গেছে। ৩) বিদ্যুৎ উৎপাদন: জলবিদ্যুৎ ও তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শিল্প ও গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। ৪) মৎস্য চাষ ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটেছে।
অথবা, রেলপথ ও সড়ক পথের তুলনা: ১) দূরপাল্লার যাত্রা ও ভারী পণ্য পরিবহনে রেলপথ শ্রেষ্ঠ ও সস্তা, কিন্তু স্বল্প দূরত্বে ও 'Door-to-Door' পরিষেবায় সড়কপথ বেশি সুবিধাজনক। ২) পাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণ কঠিন, কিন্তু সড়কপথ সহজেই তৈরি করা যায়। ৩) সড়কপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, কিন্তু রেলপথে তা কম।
৪.৪ জিওস্টেশনারি ও সানসিনক্রোনাস স্যাটেলাইটের পার্থক্য লেখো। অথবা, উপগ্রহচিত্রের বিভিন্ন পর্যায়গুলি আলোচনা করো।
উত্তর: জিওস্টেশনারি ও সানসিনক্রোনাস স্যাটেলাইটের পার্থক্য: ১) জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট পৃথিবীর আবর্তনের গতির সাথে সমান গতিতে ঘোরে (পশ্চিম থেকে পূর্বে), তাই একে স্থির মনে হয়। সানসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট উত্তর-দক্ষিণে মেরু বরাবর ঘোরে। ২) জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতায় থাকে, সানসিনক্রোনাস ৭০০-৯০০ কিমি উচ্চতায় থাকে। ৩) জিওস্টেশনারি আবহাওয়া ও যোগাযোগের কাজে এবং সানসিনক্রোনাস সম্পদ সমীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়।
অথবা, উপগ্রহচিত্রের পর্যায়: ১) তথ্য সংগ্রহ: সেন্সরের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রেকর্ড করা। ২) তথ্য প্রেরণ: সংগৃহীত তথ্য ডিজিটাল সংকেত হিসেবে ভূ-কেন্দ্রে পাঠানো। ৩) তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণ: কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে চিত্র তৈরি করা। ৪) ব্যবহার: মানচিত্র তৈরি বা গবেষণার কাজে ব্যবহার।
বিভাগ - ঙ : নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির থেকে যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ৪ = ২০)
৫.১ প্রাকৃতিক ভূগোল
৫.১.১ মধ্যগতিতে নদীর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপ সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: নদীর মধ্যগতিতে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদীর স্রোতবেগ ও বহন ক্ষমতা কমে যায় এবং সঞ্চয়কার্য শুরু হয়। এই সময় সৃষ্ট প্রধান তিনটি ভূমিরূপ হলো:
১) পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু (Alluvial Fan): নদী যখন উচ্চগতি থেকে মধ্যগতিতে বা সমভূমিতে প্রবেশ করে, তখন ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর ইত্যাদি পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে হাতপাখা বা শঙ্কুর আকৃতির ভূমিরূপ গঠন করে। একে পলল ব্যজনী বলে।
২) নদীবাঁক (River Meander): মধ্যগতিতে নদীর গতিবেগ কমে যাওয়ায় এবং বোঝার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় নদী কোনো বাধার সম্মুখীন হলে তা এড়িয়ে এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়। নদীর এই সর্পিল গতিপথকে নদীবাঁক বা মিয়েন্ডার বলে। নদীবাঁকের একদিকের পাড়ে ক্ষয় এবং বিপরীত দিকে পলি সঞ্চয় হয়।
৩) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake): নদীবাঁক খুব বেশি হলে এবং বাঁকের দুই প্রান্ত কাছাকাছি চলে আসলে, বর্ষাকালে নদী সোজা পথে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ফলে বাঁকানো অংশটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশ্বক্ষুরের মতো আকৃতি নিয়ে হ্রদ হিসেবে অবস্থান করে। একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর গতিপথে এরকম অনেক হ্রদ দেখা যায়।
৫.১.২ ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অবস্থান ও বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: অবস্থান: এশিয়া মহাদেশের ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ চিন প্রভৃতি দেশে এই জলবায়ু দেখা যায়।
বৈশিষ্ট্য:
১) ঋতু পরিবর্তন: এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঋতু বৈচিত্র্য। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত—এই চারটি ঋতু পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
২) মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: এই জলবায়ু সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বায়ুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক থাকে।
৩) বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ: গ্রীষ্মকাল ও শীতকালে বায়ুর দিক সম্পূর্ণ বিপরীত হয় (১৮০° পরিবর্তন)।
৪) বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন: বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশই বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) হয়। বাকি সময়টা শুষ্ক থাকে।
৫) উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল: গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ৩০°C-৩৫°C এবং আবহাওয়া আর্দ্র থাকে। শীতকালে উষ্ণতা কমে ১০°C-২৫°C হয় এবং আবহাওয়া শুষ্ক ও মনোরম থাকে।
৫.১.৩ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি কোনো উঁচু পর্বত বা মালভূমিতে আড়াআড়িভাবে বাধা পায়, তবে সেই বায়ু পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। উপরে উঠলে বায়ুর চাপ কমে এবং তা প্রসারিত ও শীতল হয়। ফলে বায়ুর মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে এবং পর্বতের যে ঢালে বায়ু বাধা পায়, সেই প্রতিবাদ ঢালে (Windward Slope) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) বলে।
বৃষ্টিপাত ঘটার পর বায়ু যখন পর্বত অতিক্রম করে বিপরীত দিকের অনুবাদ ঢালে (Leeward Slope) পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প খুব কম থাকে এবং বায়ু নিচের দিকে নামার ফলে উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই অনুবাদ ঢালে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। যেমন—দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, কিন্তু পূর্ব ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের সৃষ্টি করে।
৫.১.৪ সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১) নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো নিয়ত বায়ুপ্রবাহ। আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু প্রবাহের দিক অনুসারেই সমুদ্রের জলরাশি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়। যেমন—আয়ন বায়ুর প্রভাবে নিরক্ষীয় স্রোত পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়।
২) পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সোজাপথে না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
৩) সমুদ্রজলের উষ্ণতার পার্থক্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলের জল উষ্ণ ও হালকা হওয়ায় তা পৃষ্ঠপ্রবাহ বা বহিঃস্রোত রূপে মেরুর দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জল অন্তঃস্রোত রূপে নিরক্ষরেখার দিকে প্রবাহিত হয়।
৪) লবণাক্ততা ও ঘনত্বের পার্থক্য: সমুদ্রের জলের লবণাক্ততা বাড়লে ঘনত্ব বাড়ে এবং জল ভারী হয়ে নিচে নেমে যায়। কম লবণাক্ত জল হালকা হওয়ায় উপরের দিকে থাকে। ঘনত্বের সমতা বজায় রাখতে কম ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে স্রোত প্রবাহিত হয়।
৫) উপকূলের আকৃতি: মহাদেশের উপকূলভাগের আকৃতি সমুদ্রস্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করে এবং স্রোতকে একাধিক শাখায় বিভক্ত করে।
৫.২ আঞ্চলিক ভূগোল
৫.২.১ ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের বৈচিত্র্যময় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের প্রধান কারণগুলি হলো:
১) অক্ষাংশগত অবস্থান: কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের মাঝখান দিয়ে গেছে। তাই ভারতের উত্তরাংশ উপক্রান্তীয় এবং দক্ষিণাংশ ক্রান্তীয় জলবায়ুর অন্তর্গত। দক্ষিণে উষ্ণতা বেশি এবং উত্তরে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়।
২) হিমালয় পর্বতের অবস্থান: ভারতের উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বত প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকায় শীতকালে মধ্য এশিয়ার কনকনে ঠান্ডা বাতাস ভারতে প্রবেশ করতে পারে না। আবার বর্ষাকালে জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু হিমালয়ে বাধা পেয়ে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৩) সমুদ্র থেকে দূরত্ব: ভারতের দক্ষিণাংশ তিনদিকে সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু সমভাবাপন্ন। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত উত্তর ও মধ্য ভারতের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় (গ্রীষ্মে খুব গরম ও শীতে খুব ঠান্ডা)।
৪) মৌসুমি বায়ু: ভারতের জলবায়ুর ওপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সর্বাধিক। এই বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর ভিত্তি করেই ঋতুচক্র আবর্তিত হয় এবং বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রিত হয়।
৫) উচ্চতা: উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে। তাই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও উচ্চতার কারণে সমভূমির তুলনায় পার্বত্য অঞ্চল (যেমন—শিমলা, দার্জিলিং) শীতল হয়।
৫.২.২ ভারতের কফি চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর: কফি একটি বাগিচা ফসল এবং পানীয়। ভারতে কফি চাষের জন্য নিম্নলিখিত প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রয়োজন:
১) জলবায়ু:
ক) উষ্ণতা: কফি চাষের জন্য ২০°C থেকে ৩০°C উষ্ণতা আদর্শ। অত্যধিক শৈত্য বা তুষারপাত এবং প্রখর রৌদ্র কফি গাছের ক্ষতি করে।
খ) বৃষ্টিপাত: ১৫০-২৫০ সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। কফি পাকার সময় শুষ্ক আবহাওয়া দরকার।
গ) আর্দ্রতা ও ছায়া: আর্দ্র আবহাওয়া কফি চাষের পক্ষে ভালো। প্রখর রোদ থেকে বাঁচাতে বাগানে ছায়াপ্রদানকারী গাছ (যেমন—কলা, সিলভার ওক) লাগানো হয়।
২) মৃত্তিকা: লৌহ, পটাশ ও নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ উর্বর লাল দোআঁশ মাটি বা লাভা সৃষ্ট মাটি কফি চাষের জন্য শ্রেষ্ঠ।
৩) ভূপ্রকৃতি: গাছের গোড়ায় জল জমলে কফি গাছের ক্ষতি হয়, তাই পাহাড়ের ঢালু জমি (বিশেষত দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি, কর্ণাটকের পাহাড়ি অঞ্চল) কফি চাষের জন্য উপযুক্ত।
ভারতে কর্ণাটক কফি উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে। এছাড়া কেরালা ও তামিলনাড়ুতেও প্রচুর কফি চাষ হয়।
৫.২.৩ পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র গড়ে ওঠার কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: পূর্ব ও মধ্য ভারতে (ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়) ভারতের প্রধান লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্রগুলি (জামশেদপুর, দুর্গাপুর, বার্নপুর, রাউড়কেলা, ভিলাই, বোকারো) গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি হলো:
১) কাঁচামালের সহজলভ্যতা:
ক) আকরিক লোহা: সিংভূম, বোনাই, ময়ূরভঞ্জ, কেওনঝড়, দাল্লি-রাজহারা ও বাইলাডিলা খনি থেকে উন্নত মানের আকরিক লোহা পাওয়া যায়।
খ) কয়লা: ঝরিয়া, রানিগঞ্জ, বোকারো, তালচের ও কোরবা খনি থেকে কোক কয়লা পাওয়া যায়।
গ) চুনাপাথর ও ডলোমাইট: বীরমিত্রপুর, গাংপুর ও সুন্দরগড় থেকে পাওয়া যায়।
ঘ) ম্যাঙ্গানিজ: কালাহান্ডি ও কেওনঝড় থেকে পাওয়া যায়।
২) পরিবহন ব্যবস্থা: দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব রেলপথের মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত দ্রব্য রপ্তানির সুবিধা রয়েছে। এছাড়া কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের নৈকট্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সাহায্য করে।
৩) জলসম্পদ: দামোদর, সুবর্ণরেখা, ব্রাহ্মণী, মহানদী ও খরকাই নদী থেকে শিল্পের প্রয়োজনীয় প্রচুর জল পাওয়া যায়।
৪) বিদ্যুৎ শক্তি: ডিভিসি (DVC), এনটিপিসি (NTPC) এবং হিরাকুঁদ প্রকল্প থেকে সুলভে তাপ ও জলবিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
৫) শ্রমিক ও বাজার: বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে সস্তা শ্রমিক পাওয়া যায় এবং কলকাতা, হাওড়া, হুগলি শিল্পাঞ্চলে ইস্পাতের বিশাল চাহিদা রয়েছে।
৫.২.৪ জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের সর্বত্র জনসংখ্যার ঘনত্ব সমান নয়। কোথাও অত্যন্ত ঘনবসতি আবার কোথাও বিরল জনবসতি দেখা যায়। এই অসম বণ্টনের প্রধান কারণগুলি হলো:
১) ভূপ্রকৃতি: সমভূমি অঞ্চলে কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও বসতি নির্মাণের সুবিধা থাকায় জনঘনত্ব সর্বাধিক (যেমন—গাঙ্গেয় সমভূমি, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা)। কিন্তু বন্ধুর পার্বত্য অঞ্চল (হিমালয়, উত্তর-পূর্ব ভারত) ও মালভূমি অঞ্চলে জীবনযাত্রা কঠিন হওয়ায় জনবসতি কম।
২) নদনদী ও জলসম্পদ: নদী তীরবর্তী উর্বর পলিমাটি এবং জলের সহজলভ্যতা কৃষি, পানীয় ও শিল্পের সুবিধা দেয়, তাই সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় জনবসতি নিবিড়। জলের অভাবে মরু অঞ্চলে (রাজস্থান) জনবসতি বিরল।
৩) জলবায়ু: নাতিশীতোষ্ণ ও মনোরম জলবায়ু এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে মানুষ বেশি বাস করে। চরমভাবাপন্ন উষ্ণ (মরুভূমি) বা শীতল (হিমালয়) জলবায়ু এবং অনাবৃষ্টি অঞ্চল জনবসতির পক্ষে প্রতিকূল।
৪) মৃত্তিকা ও কৃষি: উর্বর দোআঁশ ও পলিমাটি কৃষি কাজের জন্য আদর্শ হওয়ায় সেখানে জনঘনত্ব বেশি। ল্যাটেরাইট বা মরু মাটিতে ফসল ভালো হয় না বলে জনবসতি কম।
৫) শিল্প ও নগরায়ন: খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চল (ছোটনাগপুর) এবং শিল্পোন্নত ও বাণিজ্যিক শহরগুলিতে (মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই) কাজের সুযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নত জীবনযাত্রার টানে বিপুল সংখ্যক মানুষ বসবাস করে।