মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
বুক রিভিউ ও সাজেশন
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আজকের এই বিশেষ নিবেদন। অষ্টম অধ্যায় ‘উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত (বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব: ১৯৪৭-১৯৬৪)’ থেকে আমরা বাছাই করা প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে এসেছি। এই পর্বে দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি (জুনাগড়, হায়দরাবাদ, কাশ্মীর), উদ্বাস্তু সমস্যা, এবং ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
Overview & Study Guide
This post provides a comprehensive study guide for the WBBSE Madhyamik 2026 History exam, focusing specifically on Chapter 8: 'Post-Colonial India (2nd Half of 20th Century: 1947-1964)'. We have curated essential questions covering the accession of princely states like Junagadh, Hyderabad, and Kashmir, the refugee crisis, and the State Reorganization Act of 1956 to help you secure top marks.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অষ্টম অধ্যায়: উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত (সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর)
- 1. হায়দরাবাদ ভারত ইউনিয়নে যোগ দেয়- উত্তর: [C] ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে
- 2. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতচুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন- উত্তর: [A] সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
- 3. রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাস হয়- উত্তর: [B] ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে
- 4. উদ্বাস্তুদের সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ হয়- উত্তর: [A] ১৯৪৮-এর পর থেকে
- 5. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন- উত্তর: [C] সৈয়দ ফজল আলি
- 6. সারা ভারত রাজ্য জনতা সভা প্রতিষ্ঠিত হয়- উত্তর: [D] ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে
- 7. দেশীয় রাজ্য রাজাদের সঙ্গে বড়োলাটের সভা হয়- উত্তর: [A] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুলাই
- 8. পাকিস্তান কাশ্মীর আক্রমণ করে- উত্তর: [D] ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর
- 9. A Train to Pakistan গ্রন্থটি কে লিখেছিলেন? উত্তর: [B] খুশবন্ত সিং
- 10. ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংবিধানে স্বীকৃত ভাষা ছিল- উত্তর: [A] ১৪টি
- 11. স্বাধীনতা সংগ্রামী পাত্তি শ্রীরামালু মারা যান- উত্তর: [B] ১৯৫২ খ্রি.
- 12. সরকারি ভাষা বিল উত্থাপন করা হয়- উত্তর: [C] ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
- 1. রাজ্য পুনর্গঠন আইন কবে পাশ হয়? উত্তর: রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাশ হয় ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
- 2. পুনর্গঠন আইন অনুসারে কয়টি রাজ্য গঠিত হয়? উত্তর: এই আইন অনুসারে ১৪টি রাজ্য গঠিত হয়।
- 3. কবে জে. ভি. পি কমিটি গঠিত হয়? উত্তর: ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জে. ভি. পি কমিটি গঠিত হয়।
- 4. কবে পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ গঠিত হয়? উত্তর: ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ গঠিত হয়।
- 5. কে পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠনের দাবিতে অনশন করেন? উত্তর: গান্ধিবাদী নেতা পট্টি শ্রীরামালু পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠনের দাবিতে অনশন করেন।
- 6. শাহানওয়াজ ভুট্টো কে ছিলেন? উত্তর: জুনাগড় রাজ্যের দেওয়ান ছিলেন।
- 7. অল জম্মুকাশ্মীর ন্যাশানাল কনফারেন্সের সভাপতি কে ছিলেন? উত্তর: সেখ আবদুল্লা।
- 8. হায়দরাবাদ কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে যোগদান করে? উত্তর: ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জানুয়ারি।
- 9. ভি. পি. মেনন কে ছিলেন? উত্তর: ভি. পি. মেনন ছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব।
- 10. কার নেতৃত্বে কবে গোয়া, দমন, দিউ দখল করা হয়? উত্তর: ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৮-১৯ ডিসেম্বর জেনারেল জয়ন্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে গোয়া, দমন, দিউ দখল করা হয়।
- 11. লৌহ মানব কাকে বলা হত? উত্তর: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে লৌহ মানব বলা হত।
- 12. ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে কটি ছোটো রাজ্য ছিল? উত্তর: ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারি অনুযায়ী ৫৬৫টি ছোটো রাজ্য ছিল।
- 13. সারাভারত রাজ্য জনসভা কবে গঠিত হয়? উত্তর: সারাভারত রাজ্য জনসভা ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়।
- 14. রাজ্য জনতাসভার প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করেন? উত্তর: রাজ্য জনসভার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দেওয়ান বাহাদুর এম চন্দ্র রাই।
- 15. কাশ্মীরের রাজা কে ছিলেন? উত্তর: কাশ্মীরের রাজা ছিলেন হরি সিং।
- 16. কবে জম্মু কাশ্মীরকে ভারতভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অক্টোবর জম্মুকাশ্মীরকে ভারতভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
- 17. কে কবে হায়দরাবাদ দখল করেন? উত্তর: জহরলাল নেহরু সেনাবাহিনীর সাহায্যে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে হায়দ্রাবাদ দখল করেন।
- 18. পেপসু কী? উত্তর: পাতিয়ালা ও পূর্বপাঞ্জাব নিয়ে গড়ে উঠেছিল পেপসু।
- 19. ভীষ্ম সাহানির লেখা গ্রন্থটির নাম কী? উত্তর: ভীষ্ম সাহানির লেখা গ্রন্থটির নাম 'তমস'।
- 20. A train to Pakistan গ্রন্থটি কার রচনা? উত্তর: A train to Pakistan গ্রন্থটি খুশবন্ত সিং-এর লেখা।
- (ক) রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাশ হয় ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
- (খ) নিজস্ব রাজাকার নামে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলো।
- (গ) ব্রিটিশ শাসনের প্রত্যক্ষ শাসনে ছিল ৩৯ কোটি মানুষ।
- (ঘ) জুনাগড় রাজ্যে মোট প্রজার ৮০% শতাংশ মানুষ ছিল হিন্দু।
- (ক) বিবৃতি: দেশ ভাগের পর দেশীয় রাজ্যগুলি স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয় নি। ব্যাখ্যা-১: দেশ ভাগ ছিল একান্ত জরুরি।
- (খ) বিবৃতি: ভারতের ইতিহাসে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরবর্তী পাঁচ বছর পুনর্বাসনের যুগ নামে পরিচিত। ব্যাখ্যা-২ : স্বাধীনতার পর প্রথম পাঁচ বছর উদ্বাস্তুদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
- 1. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কী? উত্তর: ভাষার ভিত্তিতে ভারতীয় রাজ্যগুলির সীমানা পুনর্গঠনের জন্য ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে জহরলাল নেহরু একটি কমিশন গঠন করেন। এই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন সৈয়দ ফজল আলি। এটি রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন নামে পরিচিত।
- 2. প্রথম ভাষা কমিশন কবে ও কী উদ্দেশ্যে গঠিত হয়? উত্তর: ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বি. জি. খেরের সভাপতিত্বে প্রথম ভাষা কমিশন গঠিত হয়েছিল। হিন্দিকে সরকারি ভাষা রূপে গ্রহণ করা হবে কিনা এই বিষয়ে আলোচনার জন্য এই কমিশন গঠিত হয়েছিল।
- 3. কবে কার নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী পোর্তুগিজ উপনিবেশগুলি দখল করে? উত্তর: ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ১৮-১৯ ডিসেম্বর জেনারেল জয়ন্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী গোয়া, দমন, দিউ অর্থাৎ সবকটি পোর্তুগিজ উপনিবেশ দখল করে নেয়।
- 4. দেশভাগ ও উদ্দ্বাস্তু সমস্যা সম্পর্কে জানা যায় এমন দুটি গ্রন্থের নাম লেখো? উত্তর: (i) খুশবন্ত সিং-এর 'A Train to Pakistan'. (ii) প্রফুল্ল চক্রবর্তীর 'প্রান্তিক মানব'।
- 5. রাজ্য পুনর্গঠন সম্পর্কিত কমিশনের সদস্যদের নাম উল্লেখ করো। উত্তর: রাজ্য পুনর্গঠন সম্পর্কিত কমিশনের দুই সদস্য ছিলেন কে. এম. পানিক্কর এবং হৃদয়নাথ কুঞ্জুরু।
- 6. ভারত শাসন আইন কাকে বলে? উত্তর: ভারতে সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে একটি কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে স্যার স্যামুয়েল হোর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ক বিল উপস্থাপন করেন এবং যা ২ আগস্ট রাজার সম্মতি লাভ করে, তাকে ভারত শাসন আইন বলে।
- 7. ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় কী কী সমস্যা ছিল? উত্তর: স্বাধীনতা লাভের সময় ভারত দেশীয় রাজ্যগুলির অন্তর্ভুক্তি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, এবং দেশভাগের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যায় জর্জরিত ছিল।
- 8. ঔপনিবেশিক ভারতে Princely State বলতে কী বোঝো? উত্তর: কোম্পানির শাসনের অবসানের পর ব্রিটিশ শাসনের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরের বেশ কয়েকটি আধা-স্বশাসিত দেশীয় রাজ্য গড়ে উঠেছিল। এইগুলিকে বলা হয় Princely State।
- 9. জুনাগড়ের নবাব পাকিস্তানে চলে যায় কেন? উত্তর: জুনাগড়ের নবাব মুসলিম হলেও এখানকার বেশিরভাগ মানুষই ছিল হিন্দু। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জুনাগড়ের মানুষ গণভোটের মাধ্যমে ভারত ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে নবাব ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যান।
- 10. রাজপ্রমুখ কী? উত্তর: হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির পর সেখানকার নিজামকে 'রাজপ্রমুখ' অর্থাৎ রাজ্যের আনুষ্ঠানিক শাসক হিসাবে রাখা হয় এবং তাকে ভাতা দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়।
- 11. উদ্বাস্তু সমস্যা কী? উত্তর: দেশভাগের ফলে পাঞ্জাব ও বাংলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিজেদের দেশে অর্থাৎ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই ছিন্নমূল মানুষদের সমস্যাই উদ্বাস্তু সমস্যা নামে পরিচিত।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
1. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির সংক্রান্ত সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর: স্বাধীনতা লাভের পর ভারত যেসব জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম হল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তিজনিত সমস্যা।
(i) বিক্ষিপ্ত অবস্থা: স্বাধীনতার প্রাক্কালে দেশীয় রাজ্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬৫-৬০০টি। এই রাজ্যগুলি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিল। যেমন- ভূপাল, হায়দরাবাদ, জুনাগড়, কাশ্মীর ইত্যাদি।
(ii) স্বাধীন থাকার প্রবণতা: অধিকাংশ দেশীয় রাজ্যের শাসকরা ভারত বা পাকিস্তান কোনো ডো মিনিয়নেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন।
(iii) প্রজাবিদ্রোহের আশঙ্কা: দেশীয় রাজ্যগুলি ছিল স্বৈরতান্ত্রিক। সেখানকার প্রজারা গণতান্ত্রিক ভারতের সঙ্গে যোগ দিতে ইচ্ছুক ছিল, ফলে বিদ্রোহের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
(iv) বিশেষ সমস্যা: ১৯৪৮-এর জানুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ রাজ্য ভারতে যোগ দিলেও হায়দরাবাদ, জুনাগড় ও কাশ্মীর নিয়ে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়।
2. টীকা লেখো: কাশ্মীর সমস্যা।
উত্তর: স্বাধীনতা লাভের পর কাশ্মীর সমস্যা ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
সমস্যার সূচনা: কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং হিন্দু হলেও প্রজারা ছিল মুসলিম। হরি সিং স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান কাশ্মীর দখলের চেষ্টা করে।
পাক আক্রমণ: ১৯৪৭-এর ২২ অক্টোবর পাকিস্তানের মদতপুষ্ট হানাদার বাহিনী কাশ্মীর আক্রমণ করে। হরি সিং ভারতের সাহায্য চান।
ভারতভুক্তি: ভারত জানায়, ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করলেই সাহায্য সম্ভব। ২৬ অক্টোবর হরি সিং দলিলে সই করলে ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে অভিযান চালায় এবং শ্রীনগর রক্ষা করে।
উপসংহার: ১৯৪৮-এর ৩১ ডিসেম্বর যুদ্ধবিরতি হয়, কিন্তু কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি।
3. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ব্যাপারে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তিতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন।
(i) কঠোর মনোভাব: ভারতের অখণ্ডতা রক্ষায় তিনি কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেন।
(ii) প্রলোভন ও চাপ: তিনি দেশীয় রাজাদের ভাতা ও খেতাবের প্রলোভন দেখান, আবার প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের হুমকিও দেন।
(iii) ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন: তাঁর প্রচেষ্টায় অধিকাংশ রাজ্য 'Instrument of Accession' দলিলে সই করে ভারতে যোগ দেয়।
(iv) সামরিক অভিযান: হায়দরাবাদ ও জুনাগড়ের মতো অবাধ্য রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে তিনি পুলিশি ও সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করেননি।
4. টীকা লেখো: রাজ্য পুনর্গঠন আইন (১৯৫৬)।
উত্তর: স্বাধীনতার পর ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের দাবি ওঠে।
রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন: ১৯৫৩ সালে ফজল আলির নেতৃত্বে এই কমিশন গঠিত হয়। ১৯৫৫ সালে কমিশন তার রিপোর্ট পেশ করে।
আইন পাশ: কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাশ হয়।
ফলাফল: এই আইন অনুযায়ী ভারতকে ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এর ফলে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রের পরিবর্তন ঘটে এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় হয়।
1. কাশ্মীর সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
ভূমিকা: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর কাশ্মীর ভারতভুক্তি নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতির মূল কারণ।
স্বাধীন থাকার ইচ্ছা: কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারত বা পাকিস্তান কোনো রাষ্ট্রেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন।
পাক আগ্রাসন: ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তান-সমর্থিত উপজাতীয় হানাদার বাহিনী কাশ্মীর আক্রমণ করে ব্যাপক লুটতরাজ ও হত্যাকাণ্ড চালায়।
ভারতভুক্তি: উপায়ান্তর না দেখে হরি সিং ভারতের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ভারত সরকার জানায়, ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর না করলে তারা সেনা পাঠাতে পারবে না। ২৬ অক্টোবর হরি সিং দলিলে সই করেন।
যুদ্ধ ও ফলাফল: ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে হানাদারদের পিছু হঠতে বাধ্য করে। কিন্তু ততক্ষণে কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ পাকিস্তানের দখলে চলে যায়, যা আজও 'পাক-অধিকৃত কাশ্মীর' নামে পরিচিত। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি হয়।
2. ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর নবগঠিত ভারতের প্রধান সমস্যাগুলি কী ছিল তা আলোচনা করো।
ভূমিকা: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হলেও নবগঠিত রাষ্ট্রকে একাধিক গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
(i) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা: স্বাধীনতার প্রাক্কালে ও পরে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, লুণ্ঠন ও হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা দেশের শান্তি বিঘ্নিত করে।
(ii) দেশীয় রাজ্য সমস্যা: ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ৬০০টি দেশীয় রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল। জুনাগড়, হায়দরাবাদ ও কাশ্মীরের মতো রাজ্যগুলি ভারতে যোগ দিতে অস্বীকার করলে জাতীয় সংহতি বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
(iii) উদ্বাস্তু সমস্যা: দেশভাগের ফলে পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ শরণার্থী ভারতে চলে আসে। তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল।
(iv) অর্থনৈতিক সংকট: দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শোষণ ও দেশভাগের ফলে ভারতের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছিল। খাদ্য সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব চরমে পৌঁছায়।
উপসংহার: এই সমস্যাগুলি সত্ত্বেও জহরলাল নেহরু ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে ভারত সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যায়।
উপসংহার
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আশা করি আমাদের এই ‘উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত’ অধ্যায়ের সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর তোমাদের প্রস্তুতির জন্য বিশেষ সহায়ক হবে। মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দেওয়া প্রতিটি প্রশ্ন, বিশেষ করে দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি, কাশ্মীর সমস্যা এবং রাজ্য পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ো। শুধু মুখস্থ না করে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করো, যা তোমাদের ভিডিও ক্লাসটিতেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রকাশিত বইগুলো সংগ্রহ করলে তোমরা আরও বিস্তারিত জানতে পারবে। মনে রাখবে, নিয়মিত পড়াশোনা এবং সঠিক গাইডেন্সই সাফল্যের চাবিকাঠি। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। কোনো প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই জানিও। ধন্যবাদ।
Conclusion
To wrap up, mastering Chapter 8 is crucial for scoring well in your History exam. We have curated these suggestions, study materials, and the video tutorial to provide you with a 360-degree learning experience for Madhyamik 2026. While these notes cover the most probable questions regarding Post-Colonial India, Accession of Princely States, and Reorganization, we encourage you to use our specialized books for comprehensive practice. Success is not just about hard work but also about smart preparation. Utilize these resources effectively, manage your time well, and approach the exam with confidence. We wish you the very best in your academic journey. Keep learning!