মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
দ্বিতীয় অধ্যায়: সংস্কার ও পর্যালোচনা
মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য আজকের নিবেদন ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা’। এই পর্বে উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণ, ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন (কেশবচন্দ্র সেন, রাজা রামমোহন রায়), শিক্ষা সংস্কার (উইলস উড ডেসপ্যাচ, হান্টার কমিশন) এবং নীলদর্পণ বা হুতোম প্যাঁচার নকশার মতো সাহিত্যকর্মের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হয়েছে। এই সাজেশনটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Chapter 2: Reform Characteristics & Review
This post covers Chapter 2 of the Madhyamik History syllabus: "Reform: Characteristics and Observations". We have compiled essential questions regarding the 19th-century Bengal Renaissance, the Brahmo Samaj movement, and educational reforms like Wood's Despatch. Key topics also include the analysis of literary works like 'Neeldarpan' and 'Hutom Pyanchar Naksha' as historical documents. These study materials are designed to help you excel in the 2026 board exams.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
দ্বিতীয় অধ্যায়: সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর)
- 1. ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা- উত্তর: [B] কেশবচন্দ্র সেন
- 2. 'যত মত তত পথ' বলে গেছেন- উত্তর: [B] রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
- 3. 'বর্তমান ভারত'-এর রচয়িতা- উত্তর: [B] স্বামী বিবেকানন্দ
- 4. নব বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তক ছিলেন- উত্তর: [B] বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী
- 5. প্রথম বাংলা দৈনিক সংবাদপত্র হল- উত্তর: [D] সংবাদ প্রভাকর
- 6. বামাবোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়- উত্তর: [B] ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে
- 7. হিন্দু প্যাট্রিয়ট দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়- উত্তর: [D] ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে
- 8. হুতোম প্যাঁচার নকশা প্রকাশিত হয়- উত্তর: [B] ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে
- 9. যাঁর সহযোগিতায় নীলদর্পণ নাটকটি জেমস্ লঙ্ ইংরাজিতে অনুবাদ করেন- উত্তর: [A] মধুসূদন দত্ত
- 10. নব্যবঙ্গ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন? উত্তর: [D] ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- 11. শ্রীরামপুর মিশন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়- উত্তর: [A] ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে
- 12. জেনারেল এ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশনের বর্তমান নাম- উত্তর: [C] স্কটিশ চার্চ কলেজ
- 13. ১৮৪৯ খ্রি. 'হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠা করেন- উত্তর: [B] বেথুন
- 14. 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' পত্রিকা প্রকাশিত হয়- উত্তর: [A] ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে
- 15. 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থটি রচনা করেন- উত্তর: [B] কালীপ্রসন্ন সিংহ
- 16. 'নীলদর্পণ' নাটকটির রচয়িতা কে? উত্তর: [A] দীনবন্ধু মিত্র
- 17. 'উডের ডেসপ্যাচ' প্রকাশিত হয়- উত্তর: [B] ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে
- 18. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশ করেন- উত্তর: [A] অক্ষয় কুমার দত্ত
- 19. ভারতে ব্রিটিশ সরকার তিন আইন পাস করে- উত্তর: [A] ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে
- 20. 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' প্রকাশিত হতে শুরু করে- উত্তর: [C] ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে
- 21. বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়- উত্তর: [C] ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে
- 22. ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন- উত্তর: [D] কেশবচন্দ্র সেন
- 23. হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়- উত্তর: [A] ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
- 24. 'দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্র আইন' চালু করেন- উত্তর: [D] লর্ড লিটন
- 25. বারাণসী সংস্কৃত কলেজ (১৭৯২ খ্রি.) প্রতিষ্ঠা করেন- উত্তর: [A] জোনাথান ডানকান
- 26. শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠা করেন- উত্তর: [D] উইলিয়ম কেরি
- 27. 'ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি' প্রতিষ্ঠিত হয়- উত্তর: [C] ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
- 28. হেয়ার স্কুলের পূর্ব নাম ছিল- উত্তর: [D] পটলডাঙ্গা অ্যাকাডেমি
- 29. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়- উত্তর: [C] ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে
- 30. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা স্নাতক- উত্তর: [A] কাদম্বিনী গাঙ্গুলি
- 31. 'হান্টার কমিশন' গঠন করা হয়- উত্তর: [D] ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে
- 32. পূর্বে 'ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি'র নাম ছিল- উত্তর: [C] অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল
- 33. 'সতীদাহ প্রথা' নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন- উত্তর: [C] লর্ড বেন্টিঙ্ক
- 34. 'ব্রহ্মানন্দ' উপাধি দেওয়া হয়- উত্তর: [A] কেশবচন্দ্র সেনকে
- 35. সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাকাল- উত্তর: [B] ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে
- 1. 'ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ' নামে কে পরিচিত? উত্তর: রাজা রামমোহন রায়।
- 2. রাধাকান্ত দেব কে? উত্তর: উনিশ শতকের কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের নেতা।
- 3. 'ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল' কে প্রতিষ্ঠা করেন? উত্তর: জন এলিয়ট ডিঙ্কওয়াটার বেথুন।
- 4. মধুসূদন গুপ্ত বিখ্যাত কেন? উত্তর: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের একজন ভারতীয় শল্যবিদ্ ও চিকিৎসক।
- 5. সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন কে সাফল্য আনেন? উত্তর: রাজা রামমোহন রায়।
- 6. ইয়ং ক্যালকাটা নামে কারা পরিচিত? উত্তর: ইয়ংবেঙ্গল বা নব্যবঙ্গ সম্প্রদায়।
- 7. হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কে ছিলেন? উত্তর: হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম সম্পাদক।
- 8. 'গ্রামবার্তা-প্রকাশিকা'-র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে? উত্তর: কাঙাল হরিনাথ বা হরিনাথ মজুমদার।
- 9. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন? উত্তর: লর্ড ওয়েলেসলি।
- 10. বাংলার নবজাগরণকে 'অতিকথা' বলে কে অভিহিত করেছেন? উত্তর: গবেষক বিনয় ঘোষ।
- (ক) লর্ড ওয়েলেসলির উদ্যোগে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। - সত্য
- (খ) ১৭৮২ খ্রিঃ হেস্টিংস 'কলকাতা মাদ্রাসা' প্রতিষ্ঠা করেন। - মিথ্যা
- (গ) প্রাচ্য ইতিহাস ও সাহিত্যচর্চার জন্য ১৭৮৪ খ্রিঃ স্যার উইলিয়াম জোন্স 'এশিয়াটিক সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন। - সত্য
- (ঘ) হরিশ্চন্দ্রের মৃত্যুর পর কৃষ্ণদাস পাল 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' পত্রিকার সম্পাদক হন। - সত্য
- (ঙ) রিচার্ড টেম্পল ছিলেন বাংলার গভর্নর। - সত্য
| 'অ' স্তম্ভ | 'আ' স্তম্ভ |
|---|---|
| 1. সতীদাহ প্রথা | (a) লর্ড ক্যানিং |
| 2. বিধবাবিবাহ প্রবর্তন | (b) লর্ড বেন্টিঙ্ক |
| 3. ইয়ং বেঙ্গল | (c) স্বামী বিবেকানন্দ |
| 4. শিকাগো বিশ্ব সম্মেলন | (d) ডিরোজিও |
| 'অ' স্তম্ভ | 'আ' স্তম্ভ |
|---|---|
| 1. শ্রীরামপুর কলেজ | (a) রবার্ট মে |
| 2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ | (b) ডেভিড হেয়ার |
| 3. হেয়ার স্কুল | (c) ওয়েলসলি |
| 4. লন্ডন মিশনারি সোসাইটি | (d) উইলিয়াম কেরি |
- (ক) ১৮৮০ খ্রিঃ কেশবচন্দ্র সেন সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভিত্তিতে তাঁর 'ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ'-এর নাম রাখেন নববিধান।
- (খ) রানি রাসমনি প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণী মন্দিরে পুরোহিত ছিলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায় (রামকৃষ্ণ)।
- (গ) 'গোঁসাইজি' নামে পরিচিত ছিলেন বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী।
- (ঘ) ১৮৬১ খ্রিঃ কেশবচন্দ্র দেবেন্দ্রনাথের আর্থিক অনুকূল্যে 'ইন্ডিয়ান মিরর' নামে একটি ______ পত্রিকা প্রকাশ করেন। পাক্ষিক।
- (ঙ) 'ব্রাহ্মবন্ধু সভা' কেশবচন্দ্র সেন প্রতিষ্ঠা করেন ______। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে।
- (চ) 'মদ না গরল' নামে পত্রিকাটি প্রকাশ করেন ______। কেশবচন্দ্র সেন।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
দ্বিতীয় অধ্যায়: সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর)
- 1. 'নীলদর্পণ' নাটক কে রচনা করেন? এই নাটকের ইংরেজি অনুবাদ কে করেছিলেন? উত্তর: নীলদর্পণ নাটকটি রচনা করেন দীনবন্ধু মিত্র। নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- 2. এশিয়াটিক সোসাইটি কে, কবে প্রতিষ্ঠিত করেন? উত্তর: স্যার উইলিয়াম জোনস্ ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপন করেন। প্রাচ্য ইতিহাস, সাহিত্য, শিল্পকলা ও বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণার জন্য এটি স্থাপিত হয়েছিল।
- 3. উইলিয়াম কেরি কে ছিলেন? উত্তর: শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশনের পাদরি ছিলেন উইলিয়াম কেরি। তিনি শ্রীরামপুরে একটি ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
- 4. 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী' কী? অথবা, 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী' নামে কারা পরিচিত? উত্তর: উইলিয়াম কেরি, জন মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড - এই তিন খ্রিস্টান মিশনারি 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী' নামে পরিচিত।
- 5. চার্লস উডের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছিল? উত্তর: (i) জনশিক্ষা অধিকর্তা দপ্তর গঠন করা, (ii) প্রেসিডেন্সি শহরগুলিতে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাঁচে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, (iii) সরকারি মডেল স্কুলগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
- 6. রেনেসাঁস বা নবজাগরণ বলতে কী বোঝো? উত্তর: নবজাগরণ বা রেনেসাঁস হল নবজন্ম। মধ্যযুগের শেষের দিকে মানুষ অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করে সব কিছুকে যুক্তিতর্কের কষ্টিপাথরে বিচার করতে শেখে।
- 7. 'অমৃতবাজার' পত্রিকা কে কবে প্রকাশ করেন? এই পত্রিকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিরূপণ করো। উত্তর: ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে শিশির কুমার ঘোষ এই পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকায় নির্ভীকভাবে ইংরেজদের সমালোচনা ও সমকালীন রাজনৈতিক সমস্যাবলি তুলে ধরা হয়েছে।
- 8. 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' কে কবে প্রকাশ করেন? এই পত্রিকার নাম কেন 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' রাখা হয়? উত্তর: হরিনাথ মজুমদার ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে এই মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। গ্রাম ও গ্রামের প্রজাদের অবস্থা এই পত্রিকার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বলে এই নাম।
- 9. 'স্বদেশ' কবিতাটি কার লেখা? ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী বিকাশের ক্ষেত্রে এই কবিতার গুরুত্ব আলোচনা করো। উত্তর: কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এই কবিতার মাধ্যমে কবি দেশবাসীকে দেশীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইংরেজদের স্বৈরাচারী শাসন সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন।
- 10. লালন ফকির কেন স্মরণীয়? উত্তর: লালন ফকির ছিলেন বাউল সাধনার একজন গুরু ও শ্রেষ্ঠ বাউল গায়ক। তাঁর মর্মস্পর্শী গানগুলি মানবজীবনের রহস্য, আদর্শ ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করে।
- 11. ডেভিড হেয়ার কী জন্য বিখ্যাত? উত্তর: ডেভিড হেয়ার ছিলেন ভারতে ইংরেজি শিক্ষার উৎসাহী প্রবর্তক। তিনি ১৮১৭ খ্রি. হিন্দু কলেজ এবং ১৮১৮ খ্রি. 'ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি' স্থাপনের অন্যতম কর্ণধার ছিলেন।
- 12. 'প্রাচ্যবাদী (Orientalist) ও পাশ্চাত্যবাদী (Anglicist) কাদের বলা হয়? উত্তর: প্রাচ্যবাদী: যাঁরা প্রাচ্য বা প্রচলিত ভারতীয় শিক্ষা খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় করার পক্ষপাতী (যেমন- প্রিন্সেপ, কোলব্রুক)। পাশ্চাত্যবাদী: যারা পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষাখাতে সরকারি অর্থ ব্যয় করার পক্ষপাতী (যেমন- আলেকজান্ডার ডাফ)।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
দ্বিতীয় অধ্যায়: সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর)
1. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের প্রভাব কী ছিল?
ভূমিকা: উনিশ শতকে ভারতে মিশনারি ও সরকারি উদ্যোগে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে। এর সুপ্রভাব ও কুপ্রভাব দুই-ই ছিল।
সুপ্রভাব: (i) বিজ্ঞানচর্চার উদ্ভব: আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ফলে অন্ধবিশ্বাস দূর হতে থাকে। (ii) জাতীয়তাবাদী চেতনা: ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষিত সমাজ ইউরোপীয় দর্শন ও রাজনীতির সংস্পর্শে এসে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। (iii) ধর্মসংস্কার: পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে ব্রহ্মসমাজ ও আর্যসমাজের মতো সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠে।
কুপ্রভাব: এর ফলে ভারতীয় দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত হয় এবং কারিগরি শিক্ষার অভাব দেখা দেয়।
2. জাতীয় জাগরণে ও সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান কী ছিল?
ভূমিকা: আধুনিক ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ হলেন রাজা রামমোহন রায়। তাকে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
সমাজ সংস্কার: তিনি সতীদাহ প্রথা রদ (১৮২৯), নারীমুক্তি আন্দোলন এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে তীব্র সংগ্রাম করেন।
ধর্ম সংস্কার: ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি 'ব্রাহ্মসভা' স্থাপন করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল একেশ্বরবাদী মতাদর্শ প্রচার করা এবং মূর্তিপূজার বিরোধিতা করা।
শিক্ষা সংস্কার: তিনি হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে (যেমন 'সম্বাদ কৌমুদী') জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।
3. নারীশিক্ষা প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ভূমিকা: উনিশ শতকে সমাজ সংস্কারক হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন অন্যতম। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন নারীজাতির উন্নতি ছাড়া সমাজের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়।
বাল্যবিবাহ ও বিধবাবিবাহ: বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহ রোধ এবং বিধবাবিবাহ প্রবর্তনের জন্য প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বিধবাবিবাহ আইন পাস হয়।
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: তিনি ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন এবং বাংলার বিভিন্ন জেলায় নিজ ব্যয়ে ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
4. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষাবিষয়ক দ্বন্দু বলতে কী বোঝো?
ভূমিকা: ভারতে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে প্রথম পর্বে প্রাচ্য শিক্ষার প্রসারের ওপরই জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে ভারতে প্রাচ্যশিক্ষা না পাশ্চাত্যশিক্ষা কোল্টিন্ট তা নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়।
মিশনারি ও ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের দাবি: মিশনারিরা ইংরেজি শিক্ষার দাবি জানায় কারণ তারা মনে করতেন এতে হিন্দুরা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হবে। ভারতীয়রা মনে করত পাশ্চাত্য শিক্ষা হলে কুসংস্কার মুক্ত হবে।
১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ ও রামমোহনের অভিমত: ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদে শিক্ষাখাতে এক লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়। রামমোহন চেয়েছিলেন এই টাকা পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ব্যয় হোক। অবশেষে মেকলে মিনিট-এর দ্বারা এই দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি ঘটে এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে।
5. 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' পত্রিকা ও 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' সম্বন্ধে আলোচনা করো।
হিন্দু প্যাট্রিয়ট: ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ৬ জানুয়ারি এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (যদিও প্রথমে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রাজা রাধাকান্ত দেব ছিলেন)। এই পত্রিকায় নীল বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, চিরস্থায়ী ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার কুফল এবং জমিদারি শোষণের কথা তুলে ধরা হত।
হুতোম প্যাঁচার নকশা: কালীপ্রসন্ন সিংহ 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে ১৮৬২ সালে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। এতে কলকাতার বাবু কালচার, বিভিন্ন উৎসব, এবং নাগরিক জীবনের উচ্ছৃঙ্খলতার ব্যঙ্গাত্মক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ চলিত ভাষায় লেখা।
6. ডিরোজিও ও নব্যবঙ্গ আন্দোলনের অবদান আলোচনা করো।
ভূমিকা: উনিশ শতকে বঙ্গদেশে একদল জ্ঞানী মানুষের আবির্ভাব হয়েছিল, যাদের মধ্যে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ও তার ছাত্র গোষ্ঠী অন্যতম।
নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল: ডিরোজিও হিন্দু কলেজের শিক্ষক থাকাকালীন ছাত্রদের নিয়ে 'নব্যবঙ্গ' বা 'ইয়ংবেঙ্গল' গোষ্ঠী গঠন করেন। তিনি ১৮২৮ সালে 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন' গঠন করেন।
অবদান: ডিরোজিও ও তার অনুগামীরা 'পার্থেনন', 'হসপেরাস' প্রভৃতি পত্রিকার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার, মূর্তিপূজা ও জাতিভেদ প্রথার তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা যুক্তিবাদ ও সত্যের অন্বেষণে বিশ্বাসী ছিলেন।
উপসংহার
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আশা করি আমাদের এই ‘সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা’ অধ্যায়ের সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর তোমাদের প্রস্তুতির জন্য বিশেষ সহায়ক হবে। মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নবজাগরণ, ব্রাহ্ম আন্দোলন এবং শিক্ষা সংস্কার সম্পর্কিত প্রশ্নগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ো। শুধু মুখস্থ না করে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করো। আমাদের প্রকাশিত বইগুলো সংগ্রহ করলে তোমরা আরও বিস্তারিত জানতে পারবে। নিয়মিত পড়াশোনা এবং সঠিক গাইডেন্সই সাফল্যের চাবিকাঠি।
Conclusion
In conclusion, mastering Chapter 2 is crucial for understanding the roots of modern Indian history. We hope these questions regarding reforms, the Renaissance, and educational changes help you prepare effectively for Madhyamik 2026. Focus on understanding the cause and effect of these movements rather than just rote learning. Utilize our suggested books for a deeper dive into these topics. We wish you all the best for your upcoming exams!