১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ ছোটমাসি তপনের থেকে বড় ছিলেন-
ক) বছর পাঁচেকের
খ) বছর সাতেকের
গ) বছর আটেকের
ঘ) বছর দশেকের
উত্তর: গ) বছর আটেকের
১.২ গিরীশ মহাপাত্রের বয়স-
ক) চল্লিশ-বিয়াল্লিশ
খ) পঞ্চাশ-বাহান্ন
গ) ষাটের কাছাকাছি
ঘ) ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়
উত্তর: ঘ) ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়
১.৩ চকের বাসস্ট্যান্ডে যে বাস-ড্রাইভার হরিদাকে ধমক দিয়েছিল তার নাম-
ক) দয়াল
খ) অনাদি
গ) কাশীনাথ
ঘ) কালীনাথ
উত্তর: গ) কাশীনাথ
১.৪ "আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।" যারা স্বপ্ন দেখতে পারল না-
ক) অপেক্ষারত মেয়েটি
খ) গির্জার নান
গ) শান্ত হলুদ দেবতারা
ঘ) কবিতার কথক
উত্তর: গ) শান্ত হলুদ দেবতারা
১.৫ শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ-
ক) বাবরের প্রার্থনা
খ) পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ
গ) মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে
উত্তর: ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে
১.৬ "...রক্ত তড়িৎ চাবুক হানে"-
ক) মহাকাল
খ) মহাকাল-সারথি
গ) শিশু-চাঁদ
ঘ) নবীন
উত্তর: খ) মহাকাল-সারথি
১.৭ আদিতে ফাউন্টেন পেনের নাম ছিল-
ক) পাইলট পেন
খ) রিজার্ভার পেন
গ) ঝর্ণা কলম
ঘ) পার্কার পেন
উত্তর: খ) রিজার্ভার পেন
১.৮ উনিশ শতকে বত্রিশ হাজার অক্ষর লেখানো হত-
ক) বারো আনায়
খ) পনেরো আনায়
গ) ষোলো আনায়
ঘ) আঠেরো আনায়
উত্তর: ক) বারো আনায়
১.৯ প্রথম শ্রেণির পাঠকরা যে কতিপয় ইংরাজি শব্দ জানে তার একটি হল-
ক) আয়োডিন
খ) নাইট্রোজেন
গ) এঞ্জিন
ঘ) অক্সিজেন
উত্তর: ক) আয়োডিন
১.১০ বিভক্তি শব্দের অর্থ-
ক) ভক্তিপূর্ণ
খ) জোড়া
গ) বিশ্লেষণ
ঘ) বিভাজন
উত্তর: ঘ) বিভাজন
১.১১ 'সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি হচ্ছে।'- এই বাক্যের কর্তা হলো-
ক) প্রযোজক
খ) অনুক্ত
গ) সহযোগী
ঘ) ব্যতিহার
উত্তর: ঘ) ব্যতিহার
১.১২ 'ভাষাহীন' শব্দটি যে সমাসের উদাহরণ -
ক) না বহুব্রীহি
খ) করণ তৎপুরুষ
গ) না তৎপুরুষ
ঘ) অপাদান তৎপুরুষ
উত্তর: খ) করণ তৎপুরুষ (ভাষার দ্বারা হীন)
১.১৩ "কিছু উপদেশ শুনিয়ে যান, বিরাগীজি।" - এই বাক্যটি যে ধরনের বাক্য-
ক) অনুজ্ঞাসূচক
খ) নির্দেশক
গ) বিস্ময়সূচক
ঘ) প্রার্থনাসূচক
উত্তর: ঘ) প্রার্থনাসূচক (উত্তরমালা অনুযায়ী)
১.১৪ 'শরানল' এই সমাসবদ্ধ পদটির ব্যাসবাক্য-
ক) শরের অনল
খ) শর নিঃসৃত অনল
গ) শর ও অনল
ঘ) শর থেকে অনল
উত্তর: খ) শর নিঃসৃত অনল
১.১৫ বিভক্তিপ্রধান সমাস-
ক) বহুব্রীহি সমাস
খ) তৎপুরুষ সমাস
গ) অব্যয়ীভাব সমাস
ঘ) নিত্য সমাস
উত্তর: খ) তৎপুরুষ সমাস
১.১৬ "...ব্যগ্রপদে সম্মুখের দিকে অগ্রসর হইয়া গেল।”- চিহ্নিত পদটি যে কারকের উদাহরণ
ক) অধিকরণ
খ) অপাদান
গ) নিমিত্ত
ঘ) করণ
উত্তর: ঘ) করণ (পদের দ্বারা)
১.১৭ ক্রিয়ার অর্থ প্রাধান্য পায়-
ক) কর্তৃবাচ্যে
খ) কর্মবাচ্যে
গ) ভাববাচ্যে
ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্যে
উত্তর: গ) ভাববাচ্যে
বিভাগ 'খ' : কম-বেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
উপবিভাগ ২.১: গল্প (১ x ৫ = ৫)
২.১.১ "গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের"- তপনের এই অবস্থার কারণ কী ছিল?
উত্তর: তপনের লেখা গল্প তার নতুন মেসোমশাই ছাপিয়ে দেওয়ার কথা বললে তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
২.১.২ "আমার অপরাধ হয়েছে।" বক্তা কখন একথা বলেছেন?
উত্তর: 'পথের দাবী' গদ্যাংশে অপূর্ব স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ফিরিঙ্গি ছোঁড়াদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে স্টেশন মাস্টারের কাছে নালিশ জানাতে গেলে, স্টেশন মাস্টার তাকে জানান যে পুলিশ হয়ে অন্য পুলিশের বিরুদ্ধে নালিশ জানানোই তার অপরাধ হয়েছে।
২.১.৩ "কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি" - 'সদাশয় ব্যক্তি' বলার কারণ কী?
উত্তর: 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে (ছদ্মবেশী হরিদাকে) ভক্তিভরে প্রণাম করতে চাইলে হরিদা সরে যান। জগদীশবাবুর এই ভক্তিভাব দেখেই তাঁকে সদাশয় ব্যক্তি বলা হয়েছে।
২.১.৪ নদীর প্রতি নিজের পাগলামিতে নদেরচাঁদের অনুভূতি কেমন ছিল?
উত্তর: নদীকে নদেরচাঁদ জীবন্ত সত্তা মনে করত, তাই নদীর উন্মত্ত রূপ দেখে তার মনে ভয় ও প্রীতি মিশ্রিত এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিল।
২.১.৫ 'এতে ওদের দুজনেরই ভয় কেটে গেল।'- ভয় কেটে যাওয়ার পরে অমৃত ও ইসাব কী করেছিল?
উত্তর: ভয় কেটে যাওয়ার পর অমৃত ও ইসাব একে অপরের হাত ধরে গ্রাম-প্রধানের বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
উপবিভাগ ২.২: কবিতা (১ x ৫ = ৫)
২.২.১ "ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে।"- কী ছড়িয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় শিশুদের মৃতদেহ কাছে দূরে ছড়ানো থাকার কথা বলা হয়েছে।
২.২.২ 'অশুভ ধ্বনি' তে কী হয়েছিল?
উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় রথঘর্ষণের অশুভ ধ্বনিতে সিন্ধুপারের সিংহদ্বার ধমক খেয়ে কেঁপে উঠেছিল।
২.২.৩ "যাও তুমি ত্বরা করি" কোন উদ্দেশ্যে এই যেতে বলা হয়েছিল?
উত্তর: 'অভিষেক' কাব্যাংশে ধাত্রী প্রভাষা (ছদ্মবেশী লক্ষ্মী) ইন্দ্রজিৎকে লঙ্কাপুরীতে ফিরে গিয়ে রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে লঙ্কা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে দ্রুত যেতে বলেছিলেন।
২.২.৪ "আসছে নবীন"- কেন নবীনের আগমন ঘটছে?
উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় জরাজীর্ণ, প্রাণহীন অসুন্দর সমাজকে ধ্বংস করে নতুনের কেতন ওড়াতে নবীন বা মহাকাল রূপী বিপ্লবীদের আগমন ঘটছে।
২.২.৫ "মধ্যেতে যে কন্যাখানি........" এই কন্যাকে দেখে পদ্মার কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে অচৈতন্য কন্যাকে (পদ্মাবতী) দেখে পদ্মার মনে হয়েছিল যেন স্বর্গের অপ্সরা রম্ভা বা ইন্দ্রের স্ত্রী শচী রূপ ধরে মাটিতে শুয়ে আছেন।
উপবিভাগ ২.৩: প্রবন্ধ (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ শৈলজানন্দ তাঁর ফাউন্টেন পেনের সংগ্রহ বিষয়ে প্রাবন্ধিককে কী বলেছিলেন?
উত্তর: শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন যে, তাঁর কাছে অনেক ভালো ভালো ফাউন্টেন পেন আছে, কিন্তু সেগুলি চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি ব্যবহার করেন না।
২.৩.২ কোন ছবিতে 'দোয়াতে গোঁজা পালকের কলম' দেখা যায়?
উত্তর: উইলিয়াম জোন্স কিংবা কেরি সাহেবের মুন্সি ছবিতে দোয়াতে গোঁজা পালকের কলম দেখা যায়।
২.৩.৩ "তাতে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন"- কীসে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন?
উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে সঠিক পারিভাষিক শব্দের অর্থ না বোঝার ফলে এবং ইংরেজি শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ না জানায় অনেকে মুশকিলে পড়েন।
২.৩.৪ "...বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে যত কম থাকে ততই ভালো"- কী কম থাকার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে অলংকারের (বিশেষত উপমা, রূপক) প্রয়োগ যত কম থাকে ততই ভালো বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
উপবিভাগ ২.৪: ব্যাকরণ (১ x ১০ = ১০)
২.৪.১ অক্ষুণ্ণ কর্ম বলতে কী বোঝ?
উত্তর: দ্বিকর্মক ক্রিয়াযুক্ত সকর্মক বাকেচ্যর বাচ্য পরিবর্তনের সময় যে কর্মটি অপরিবর্তিত থাকে (কর্তা হয় না), তাকে অক্ষুণ্ণ কর্ম বলে। যেমন- শিক্ষক ছাত্রকে (অক্ষুণ্ণ কর্ম) বই দিলেন।
২.৪.২ ব্যাসবাক্যের অন্য নাম লেখো।
উত্তর: বিগ্রহবাক্য বা সমাসবাক্য।
২.৪.৩ 'ভয়ংকর' শব্দের ব্যাসবাক্য লেখো।
উত্তর: ভয় করে যে = ভয়ংকর (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
২.৪.৪ "পত্রের বিষয় ত আমি অবগত নই জাঁহাপনা।" চিহ্নিত শব্দটির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো।
উত্তর: 'পত্রের' - সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি।
২.৪.৫ "কে কবে শুনেছে, পুত্র, ভাসে শিলা জলে?” (না-বাক্যে রূপান্তর করো)
উত্তর: পুত্র, শিলা জলে ভাসে এ কথা কেউ কখনও শোনেনি।
২.৪.৬ "রামদাস চুপ করিয়া রহিল, কিন্তু তাহার দুই চোখ ছলছল করিয়া আসিল। (সরল বাক্যে রূপান্তর করো)
উত্তর: রামদাস চুপ করিয়া থাকিলেও তাহার দুই চোখ ছলছল করিয়া আসিল।
২.৪.৭ কর্মকর্তৃবাচ্যের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: শাঁখ বাজে। (এখানে শাঁখ কর্ম হয়েও কর্তার মতো আচরণ করছে)।
২.৪.৮ "তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ।” (ভাববাচ্যে রূপান্তর করো)
উত্তর: তথায় কন্যার সর্বক্ষণ থাকা হয়।
২.৪.৯ 'চিরচিহ্ন' এই সমাসবদ্ধ পদটি কোন সমাসের উদাহরণ?
উত্তর: চিরকাল ব্যাপিয়া চিহ্ন = চিরচিহ্ন (ব্যাপ্তি তৎপুরুষ সমাস)।
২.৪.১০ আসত্তির একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: আসত্তিযুক্ত বাক্য: "আমি কাল সকালে স্কুলে যাব।" (পদের সুশৃঙ্খল বিন্যাস)।
আসত্তিহীন বাক্য: "স্কুলে যাব সকালে আমি কাল।"
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও: (৩ + ৩ = ৬)
উপবিভাগ ৩.১: গল্প
৩.১.১ "আজকের মত নির্বোধ আহম্মক হতে বোধ করি কেউ কখনো দেখেনি।" কার সম্পর্কে কেন একথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কথাটি 'পথের দাবী' উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র অপূর্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
পুলিশের খাস কামরায় নিমাইবাবু যখন গিরিশ মহাপাত্রের ট্রাঙ্ক ও পকেটের তল্লাশি নিচ্ছিলেন, তখন অপূর্ব সেখানে উপস্থিত থেকে গিরিশের অদ্ভুত পোশাক ও সামগ্রী দেখে অত্যন্ত কৌতুক অনুভব করছিল। কিন্তু সে বুঝতে পারেনি যে ওই গিরিশ মহাপাত্রই আসলে ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক। পুলিশকে বোকা বানিয়ে চোখের সামনে দিয়ে একজন বিপ্লবী চলে যাচ্ছে, আর অপূর্ব তাকে নিছক গাঁজাখোর মনে করে হাসাহাসি করছে—এই বোকামির জন্যই তাকে 'নির্বোধ আহম্মক' বলা হয়েছে।
৩.১.২ "...নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গেল।" কখন এবং কেন নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গেল?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদ যখন ব্রিজের উপর দিয়ে হাঁটছিল, তখন সে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।
টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টির পর নদীর জল ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। নদীর সেই উন্মত্ত, রুদ্রমূর্তি দেখে এবং ব্রিজের নিচে জলের ভয়ংকর আবর্ত ও গর্জন শুনে নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। নদীর এই রূপ তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ও ভীতিপ্রদ মনে হয়েছিল।
উপবিভাগ ৩.২: কবিতা
৩.২.১ "অথবা এমনই ইতিহাস" কাদের কোন ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় সাধারণ খেটে খাওয়া বিপন্ন মানুষদের ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে।
কবি বলেছেন, সাধারণ মানুষের প্রকৃত ইতিহাস কোথাও লেখা থাকে না। ক্ষমতাবানরা নিজেদের স্বার্থে ইতিহাসকে বিকৃত করে। সাধারণ মানুষের ত্যাগ, কষ্ট বা অবদানের কথা ইতিহাসে স্থান পায় না, অথবা যদিও বা পায়, তা সত্যের অপলাপ মাত্র। তাদের চোখ-মুখ ঢাকা, অর্থাৎ তারা প্রকৃত সত্য জানা থেকে বঞ্চিত। এই বঞ্চনা ও বিস্মৃতির ইতিহাসের কথাই এখানে বলা হয়েছে।
৩.২.২ "এল মানুষ ধরার দল" কাদের কেন 'মানুষধরার দল' বলা হয়েছে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় ঔপনিবেশিক ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের 'মানুষ ধরার দল' বলা হয়েছে।
এরা আফ্রিকার সরল আদিবাসী মানুষদের ক্রীতদাস হিসেবে ধরে নিয়ে যেত এবং অমানুষিক অত্যাচার করত। এদের নখ ছিল নেকড়ের চেয়েও তীক্ষ্ণ, অর্থাৎ তাদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা ছিল চরম। এরা মানবতার অপমান করে আফ্রিকার বুকে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিল বলেই কবি তাদের 'মানুষ ধরার দল' বলেছেন।
৪। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "পরম সুখ কাকে বলে জানেন?”- বক্তার মতে 'পরম সুখ' কী? তিনি নিজের জীবনে কীভাবে এর প্রকাশ ঘটিয়েছেন?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুকে এই উক্তিটি করেছিলেন। বক্তার মতে, 'পরম সুখ' হলো জাগতিক সব আসক্তি ত্যাগ করা। ধন-সম্পদ, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য—সবকিছুই তুচ্ছ। ঈশ্বরকে লাভ করাই হলো পরম সুখ, আর সেই সুখের সন্ধানেই বিরাগী সর্বস্ব ত্যাগ করে পথে নেমেছেন।
হরিদা নিজের জীবনেও এই আদর্শের অদ্ভুত প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি পেশায় একজন বহুরূপী ছিলেন এবং অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে তিনি এমন অভিনয় করেছিলেন যে জগদীশবাবু মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ১০১ টাকা প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন। হরিদার মতো অভাবী মানুষের কাছে এই টাকা অনেক। কিন্তু বিরাগী চরিত্রের মর্যাদা রক্ষার্থে তিনি সেই টাকা স্পর্শ করেননি। তিনি বলেছিলেন, "টাকা স্পর্শ করলে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে।" অর্থের লোভ সংবরণ করে তিনি যে নির্লোভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তাতেই তাঁর জীবনের প্রকৃত দর্শন প্রকাশিত হয়েছে।
৪.২ "আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।" কার কথা বলা হয়েছে? কেন তার একথা মনে হয়েছে?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের কথা বলা হয়েছে।
তপনের লেখা প্রথম গল্প 'প্রথম দিন' সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। এই ঘটনা তপনের কাছে চরম আনন্দের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পত্রিকাটি হাতে পাওয়ার পর সে দেখে, তার লেখা গল্পের নাম ও নিজের নাম ঠিক থাকলেও, ভিতরের লেখাটি আগাগোড়া বদলে দিয়েছেন তার নতুন মেসোমশাই। কারেকশনের নামে তিনি পুরো গল্পটাই নতুন করে লিখে দিয়েছেন। বাড়িতে সবাই তপনের প্রশংসা করতে গিয়ে আসলে মেসোর মহত্ত্বেরই গুণগান করতে থাকে। তপন বুঝতে পারে, ছাপানো গল্পে তার নিজস্বতা কিছুই নেই, এটি অন্যের লেখা। নিজের সৃষ্টির এই অপমৃত্যু দেখে এবং অন্যের লেখা নিজের নামে পড়ার গ্লানি অনুভব করে তপনের মনে হয়েছিল, আজ তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।
৫। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৫.১ "তারপর যুদ্ধ এল"- কখন যুদ্ধ এল? এই যুদ্ধের যে বর্ণনা কবি দিয়েছেন তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কথক তাঁর প্রিয়তমাকে দরজায় অপেক্ষায় রেখে চলে যাওয়ার অনেক পরে যুদ্ধ এসেছিল।
কবি যুদ্ধের এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক ছবি তুলে ধরেছেন। এই যুদ্ধ এসেছিল "রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো"। যুদ্ধের লেলিহান শিখায় সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল। শিশুরাও এই ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পায়নি, তাদের হত্যা করা হয়েছিল। যুদ্ধের তাণ্ডবে মানুষের ঘরবাড়ি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। যেখানে একসময় সুন্দর শহর ছিল, সেখানে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা আর মরা পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রইল। হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা শান্ত হলুদ দেবতারাও টুকরো টুকরো হয়ে মন্দির থেকে উল্টে পড়ল। যুদ্ধের আগুনের সর্বগ্রাসী রূপ সব স্মৃতি, সব সৌন্দর্য মুছে দিয়ে কেবল ধ্বংসস্তূপ অবশিষ্ট রেখেছিল।
৫.২ "পঞ্চকন্যা পাইল চেতন।" 'পঞ্চকন্যা' বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তারা কীভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছিল?
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'পঞ্চকন্যা' বলতে সমুদ্রের ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীকে (চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী, বিধুন্নলা) বোঝানো হয়েছে।
সমুদ্রতীরে এই পাঁচ কন্যাকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখে পদ্মা অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং তাদের শুশ্রুষার ব্যবস্থা করেন। তিনি তাঁর সখীদের সহায়তায় অচৈতন্য কন্যাদের উদ্যানে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ভিজে বস্ত্র পরিবর্তন করে শুকনো বস্ত্র পরানো হয়। এরপর আগুনের উত্তাপ দিয়ে (অগ্নি জালি) তাদের শরীর গরম করা হয়। পদ্মা তন্ত্রমন্ত্র ও মহৌষধির প্রয়োগ করেন তাদের সুস্থ করার জন্য। নিরলস সেবা ও শুশ্রুষার ফলে চার দণ্ড অর্থাৎ বেশ কিছুক্ষণ পর পঞ্চকন্যা তাদের চেতনা ফিরে পায়। পদ্মার মমতা ও সেবাযত্নই তাদের নতুন জীবন দান করেছিল।
৬। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।" - প্রাবন্ধিককে অনুসরণ করে তাদের কালি তৈরির পদ্ধতি নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: শ্রীপান্থ তাঁর 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে ছোটবেলায় কালি তৈরির এক ঘরোয়া পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন।
কালি তৈরির জন্য প্রয়োজন ছিল কাঠের উনুনে রান্না করা কড়াইয়ের তলায় জমা কালি বা ভুষো। লাউ বা কুমড়ো পাতা দিয়ে সেই ভুষো ঘষে তুলে একটি পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নেওয়া হতো। যারা কালিতে ওস্তাদ, তারা সেই কালো জলে হরিতকী ঘষত। কখনও কখনও আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে এবং বেটে সেই জলে মেশানো হতো। এরপর সেই জলকে একটি খুন্তির গোড়া লাল টকটকে গরম করে ছ্যঁকা দেওয়া হতো (যাকে 'তপ্ত লোহা' বলা হতো)। এরপর জলটি ন্যাকড়ায় ছেঁকে নিলেই তৈরি হতো উন্নতমানের কালি। এই কালি দোয়াতে ভরে রাখা হতো লেখার জন্য। এটি ছিল গ্রামের সহজলভ্য ও টেকসই কালি তৈরির পদ্ধতি।
৬.২ 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে পরিভাষা বিষয়ে লেখকের যে ভাবনা ও মতামত প্রকাশিত হয়েছে তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে পরিভাষা ব্যবহারের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
লেখকের মতে, বিজ্ঞান চর্চার জন্য উপযুক্ত পরিভাষা একান্ত প্রয়োজন। ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যে পরিভাষা সমিতি গঠন করেছিল, তাতে বিভিন্ন বিজ্ঞানের অধ্যাপকরা সদস্য ছিলেন এবং তাঁরা বেশ কিছু পরিভাষা সংকলন করেছিলেন। লেখক মনে করেন, যে সমস্ত ইংরেজি বৈজ্ঞানিক শব্দের উপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ রয়েছে, সেগুলিই ব্যবহার করা উচিত। তবে যে শব্দগুলির বাংলা নেই বা থাকলেও তা জটিল, সেগুলির ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দটিই বাংলা বানানে ব্যবহার করা যেতে পারে (যেমন- অক্সিজেন, ইনকিউবেটর)। তিনি প্রাচীন সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে, লেখার ভাষা হতে হবে সহজ ও সরল, যাতে সাধারণ পাঠক সহজেই তা বুঝতে পারে। পরিভাষা তৈরির উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞানকে সহজবোধ্য করা, জটিল করা নয়।