১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ তপন মামার বাড়ি এসেছে-
(ক) গরমের ছুটি উপলক্ষে
(খ) বিয়েবাড়ি উপলক্ষে
(গ) পুজোর ছুটি উপলক্ষে
(ঘ) গল্প প্রকাশ উপলক্ষে
উত্তর: (খ) বিয়েবাড়ি উপলক্ষে
১.২ "খুব হয়েছে হরি, এইবার সরে পড়ো। অন্যদিকে যাও।"- বক্তা হলেন-
(ক) ভবতোষ
(খ) কাশীনাথ
(গ) অনাদি
(ঘ) গল্পকথক
উত্তর: (খ) কাশীনাথ
১.৩ পান্নালাল প্যাটেল কোন ভাষার লেখক ছিলেন?
(ক) পাঞ্জাবি
(খ) মারাঠি
(গ) গুজরাটি
(ঘ) হিন্দি
উত্তর: (গ) গুজরাটি
১.৪ কারা হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবেছিলেন?
(ক) যুদ্ধ কবলিত মানুষ
(খ) মন্দিরের পুরোহিত
(গ) শান্ত হলুদ দেবতারা
(ঘ) সৈনিকেরা
উত্তর: (গ) শান্ত হলুদ দেবতারা
১.৫ "ক্ষুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায়"-
(ক) পাষাণ স্তূপে
(খ) নীল খিলানে
(গ) যজ্ঞ স্তূপে
(ঘ) লাল খিলানে
উত্তর: (খ) নীল খিলানে
১.৬ "ইন্দ্রজিতে জিতি তুমি, সতি"- এখানে 'সতি' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) লক্ষ্মী
(খ) মন্দোদরী
(গ) প্রমীলা
(ঘ) চিত্রাঙ্গদা
উত্তর: (গ) প্রমীলা
১.৭ "সিজার যে কলমটি দিয়ে কাসকাকে আঘাত করেছিলেন" তার পোষাকি নাম-
(ক) স্টাইলাস
(খ) রিজার্ভার
(গ) পাইলট
(ঘ) ঝরনা কলম
উত্তর: (ক) স্টাইলাস
১.৮ চারখন্ড রামায়ণ কপি করে একজন লেখক অষ্টাদশ শতকে কত টাকা পেয়েছিলেন?
(ক) সাত টাকা
(খ) আট টাকা
(গ) নয় টাকা
(ঘ) দশ টাকা
উত্তর: (ক) সাত টাকা
১.৯ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার একটি প্রধান বাধা হল-
(ক) বাংলা ভাষার প্রতি অনীহা
(খ) ইংরেজি ভাষার আকর্ষণ
(গ) লেখকের অভাব
(ঘ) বাংলা ভাষায় পারিভাষিক শব্দের অভাব
উত্তর: (ঘ) বাংলা ভাষায় পারিভাষিক শব্দের অভাব
১.১০ 'কারক' শব্দটির ব্যুৎপত্তি হল-
(ক) কৃ+ণক্
(খ) কৃ+অ
(গ) কৃ+বচ্
(ঘ) কৃ+ত
উত্তর: (ক) কৃ+ণক্
১.১১ নির্দেশকের একটি উদাহরণ হল-
(ক) এ
(খ) কে
(গ) টি
(ঘ) তে
উত্তর: (গ) টি
১.১২ যে বাক্য বা বাক্যাংশের দ্বারা সমাসবদ্ধ পদটির অর্থ বিশ্লেষণ করা হয় তা হল-
(ক) সমস্তপদ
(খ) ব্যাসবাক্য
(গ) সমস্যমান পদ
(ঘ) পূর্বপদ
উত্তর: (খ) ব্যাসবাক্য
১.১৩ 'ডাকমাশুল' পদটি কোন সমাসের উদাহরণ?
(ক) কর্ম তৎপুরুষ
(খ) করণ তৎপুরুষ
(গ) অপাদান তৎপুরুষ
(ঘ) নিমিত্ত তৎপুরুষ
উত্তর: (ঘ) নিমিত্ত তৎপুরুষ
১.১৪ একাধিক স্বাধীন খণ্ডবাক্য সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে যে বাক্য গঠন করে, তা হল-
(ক) সরল বাক্য
(খ) জটিল বাক্য
(গ) মিশ্র বাক্য
(ঘ) যৌগিক বাক্য
উত্তর: (ঘ) যৌগিক বাক্য
১.১৫ "আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে!" - এটি একটি-
(ক) সন্দেহবাচক বাক্য
(খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
(গ) আবেগসূচক বাক্য
(ঘ) প্রার্থনাসূচক বাক্য
উত্তর: (গ) আবেগসূচক বাক্য
১.১৬ বাচ্য কয় প্রকার?
(ক) দুই
(খ) তিন
(গ) চার
(ঘ) পাঁচ
উত্তর: (গ) চার
১.১৭ ভাববাচ্যে কর্তাটি হল-
(ক) অনুক্ত কর্তা
(খ) উক্ত কর্তা
(গ) নিরপেক্ষ কর্তা
(ঘ) সাধন কর্তা
উত্তর: (ক) অনুক্ত কর্তা
২। কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাওঃ
২.১। যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
২.১.১ "সূচিপত্রেও নাম রয়েছে" সূচিপত্রে কী লেখা ছিল?
উত্তর: সন্ধ্যাতারা পত্রিকার সূচিপত্রে লেখা ছিল- 'প্রথম দিন' (গল্প) - শ্রীতপন কুমার রায়।
২.১.২ "নদেরচাঁদের ভারি আমোদ হইতে লাগিল।"- নদেরচাঁদের আমোদের কারণ কী?
উত্তর: নদীর জলস্তর ফুলে-ফেঁপে উঠে ব্রিজের ধারক স্তম্ভগুলির গায়ে ফেনিল আবর্ত রচনা করে ছুটে চলেছে, নদীর এই উন্মত্ত রূপ দেখেই নদেরচাঁদের ভারি আমোদ হতে লাগল।
২.১.৩ "চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।" জগদীশবাবুর চমকে ওঠার কারণ কী?
উত্তর: বিরাগীর বেশধারী হরিদা যখন জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার প্রণামী স্পর্শ না করে চলে যেতে উদ্যত হলেন, তখন এই নির্লোভ মানসিকতা দেখে জগদীশবাবু চমকে উঠলেন।
২.১.৪ "কী খাঁটি কথা" 'খাঁটি কথা'টি কী?
উত্তর: ইসাবের বাবা যখন অমৃতকে মারতে যাবে তখন অমৃতকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছেন- অমৃতের এই কথাটিকেই ইসাব 'খাঁটি কথা' বলেছিল।
২.১.৫ "ইহা যে কত বড় ভ্রম, তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।"- 'ভ্রম'টি কী ছিল?
উত্তর: অপূর্ব ভেবেছিল ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামরায় সে রাত্রে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, কিন্তু পুলিশের ক্রমাগত বিরক্ত করায় তার সেই ভাবনা যে ভুল বা 'ভ্রম' ছিল তা সে বুঝতে পারল।
২.২। যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.২.১ 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'শিশু চাঁদ' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'শিশু চাঁদ' বলতে সদ্য উদিত বা নবীন চাঁদকে বোঝানো হয়েছে, যা মহাকালের জটার মাঝে স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে আছে।
২.২.২ "মধ্যেতে যে কন্যাখানি" মধ্যেখানের কন্যাটি কে?
উত্তর: 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'মধ্যেতে যে কন্যাখানি' বলতে সমুদ্রের কন্যা পদ্মার কথা বলা হয়েছে।
২.২.৩ "হায় ছায়াবৃতা”- আফ্রিকাকে 'ছায়াবৃতা' বলার কারণ কী?
উত্তর: আফ্রিকা মহাদেশ ঘন অরণ্যে আবৃত থাকায় সেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না, তাই কবি আফ্রিকাকে 'ছায়াবৃতা' বলেছেন।
২.২.৪ "তারপর যুদ্ধ এল" যুদ্ধ কীভাবে এসেছিল?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধ এসেছিল 'রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো'।
২.২.৫ "এ কলঙ্ক পিতঃ ঘুষিবে জগতে - এখানে কোন কলঙ্কের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শত্রু রামচন্দ্র লঙ্কাপুরী ঘিরে ফেলেছে, অথচ পুত্র মেঘনাদ প্রমোদকাননে নারীদের সঙ্গে বিলাসে মত্ত- এই ঘটনাকেই মেঘনাদ কলঙ্ক বলেছেন।
২.৩। যে-কোনো ৩টি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.৩.১ "অনেক ধরে ধরে টাইপ রাইটারে লিখে গেছেন, মাত্র একজন" - এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে প্রখ্যাত সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়ের কথা বলা হয়েছে।
২.৩.২ "তখন বৈজ্ঞানিক রচনা সুসাধ্য হবে।"- কখন বৈজ্ঞানিক রচনা সুসাধ্য হবে বলে লেখক মনে করেন?
উত্তর: যখন বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার ঘটবে এবং পারিভাষিক শব্দগুলি সকলের কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে, তখনই বৈজ্ঞানিক রচনা সুসাধ্য হবে।
২.৩.৩ "আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে”- এখানে কোন বিষয়ের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে দোয়াত, কলম, কালির মতো এককালের অপরিহার্য লেখার সরঞ্জামগুলির অবলুপ্তির কথা বলা হয়েছে।
২.৩.৪ ছেলেবেলায় রাজশেখর বসু কার লেখা জ্যামিতি বই পড়তেন?
উত্তর: ছেলেবেলায় রাজশেখর বসু ব্রহ্মমোহন মল্লিকের লেখা বাংলা জ্যামিতি বই পড়তেন।
২.৪। যে-কোনো ৮টি প্রশ্নের উত্তর দাও:
২.৪.১ উদ্দেশ্য কর্মের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: শিক্ষক ছাত্রটিকে (উদ্দেশ্য কর্ম) পড়া (বিধেয় কর্ম) জিজ্ঞাসা করলেন।
২.৪.২ "মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।" নিম্নরেখ পদটির কারক বিভক্তি নির্ণয় করো।
উত্তর: 'শিশুকে' - এটি প্রযোজ্য কর্তা (কর্মকারক নয়, কারণ মা শিশুকে দিয়ে দেখাচ্ছেন), 'কে' বিভক্তি।
২.৪.৩ 'ব্যতিহার বহুব্রীহি' সমাস কাকে বলে?
উত্তর: একই বিশেষ্য পদের দুইবার ব্যবহারের মাধ্যমে যখন পরস্পর একই জাতীয় ক্রিয়া করা বোঝায়, তখন তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই = লাঠালাঠি।
২.৪.৪ 'জলজ' পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: জলে জন্মে যা = জলজ (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
২.৪.৫ বাক্য গঠনের তিনটি শর্ত কী কী?
উত্তর: বাক্য গঠনের তিনটি শর্ত হলো- ১) আকাঙ্ক্ষা, ২) যোগ্যতা এবং ৩) আসত্তি।
২.৪.৬ 'দুষ্টুমি না থামালে খেলনা পাবে না।'- জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করো।
উত্তর: যদি দুষ্টুমি না থামাও, তবে খেলনা পাবে না।
২.৪.৭ কর্মকর্তৃবাচ্যের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: শাঁখ বাজে। (এখানে শাঁখ কর্ম হয়েও কর্তার মতো কাজ করছে)
২.৪.৮ 'আমার সঙ্গে এসো।' - ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করো।
উত্তর: আমার সঙ্গে আসা হোক।
২.৪.৯ কোন সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
উত্তর: অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
২.৪.১০ 'এখন গেলে কি আর তার দেখা পাবে?" - নির্দেশক বাক্যে রূপান্তরিত করো।
উত্তর: এখন গেলে আর তার দেখা পাবে না।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো: (৩ + ৩ = ৬)
৩.১। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৩.১.১ "নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”- কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কী বোঝাতে চেয়েছে?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদ নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পেরেছে।
মানুষ বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। বর্ষার পরিপূর্ণ জলরাশি সেই মানুষের গড়া বাঁধনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে নিজের মুক্তি খুঁজে নিতে চায়। নদীর এই ফুঁসে ওঠা বা ধ্বংসাত্মক আচরণকেই নদেরচাঁদ 'নদীর বিদ্রোহ' বলে অভিহিত করেছে।
৩.১.২ "পরকে সেজে দি নিজে খাইনে। মিথ্যেবাদী কোথাকার!" - বক্তা কে? বক্তা উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে মিথ্যেবাদী বলেছেন কেন?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন জগদীশবাবু।
বিরাগীর বেশধারী হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে এসে যখন নিজেকে সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী বলে পরিচয় দেন, তখন জগদীশবাবু তাঁকে বিশ্বাস করে প্রণাম করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে হরিদা যখন তাঁর আসল পরিচয় দেন, তখন জগদীশবাবু অবাক হয়ে যান। হরিদা বহুরূপী সেজে অন্যদের আনন্দ দেন কিন্তু নিজের অন্ন জোটে না- এই প্রসঙ্গেই জগদীশবাবু হরিদাকে স্নেহভরে 'মিথ্যেবাদী' বলেছেন কারণ তিনি সন্ন্যাসী সেজেছিলেন।
৩.২। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৩.২.১ "আসছে নবীন"- 'নবীন'-এর পরিচয় দাও। তার আগমনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'নবীন' বলতে দেশের তরুণ বিপ্লবী শক্তি বা মহাকালের ধ্বংসাত্মক রূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সৃষ্টিশীল সত্তাকে বোঝানো হয়েছে।
পুরাতন জরাজীর্ণ সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন করে গড়ার জন্যই নবীনের আগমন। তারা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টির বার্তা নিয়ে আসে। তাই তাদের আগমন ভীতিপ্রদ হলেও তা মঙ্গলের জন্য, স্বাধীনতার নতুন সূর্যোদয়ের জন্য অপরিহার্য।
৩.২.২ "অতি মনোহর দেশ" 'মনোহর দেশ'টির পরিচয় দাও।
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'মনোহর দেশ' বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মার উদ্যান বা বাসস্থানকে বোঝানো হয়েছে।
সেই দেশটি ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। সেখানে সর্বদা ফল ও ফুলে গাছেরা সুশোভিত থাকত। সেখানে কোনো দুঃখ, কষ্ট বা অভাব ছিল না। সত্যধর্ম ও সদাচারই ছিল সেখানকার মানুষদের জীবনরীতি। এককথায় তা ছিল স্বর্গের মতো সুন্দর ও শান্তিময়।
৪। কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের”- কোন ঘটনায় কীভাবে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপন তার লেখক মেসোমশাইকে দেখে প্রথমে ভেবেছিল লেখকরা হয়তো অন্য গ্রহের জীব। কিন্তু মেসোকে কাছে থেকে দেখে সে বুঝল লেখকরাও সাধারণ মানুষ। এরপর তপনের লেখা গল্প মেসোমশাই 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং সামান্য 'কারেকশন' করে ছাপিয়েও দেন।
কিন্তু পত্রিকাটি হাতে পাওয়ার পর তপন দেখে, গল্পের নাম ও লেখকের নাম ঠিক থাকলেও, গল্পের বিষয়বস্তু আগাগোড়া বদলে গেছে। মেসোমশাই কারেকশনের নামে পুরো গল্পটাই নতুন করে লিখেছেন। তপনের নিজস্বতা বা সৃজনশীলতার কোনো অস্তিত্বই সেখানে নেই। নিজের লেখা পড়তে গিয়ে সে অন্যের লেখা লাইন পড়ে। এই অপমান ও লজ্জায় তপনের প্রকৃত 'জ্ঞানচক্ষু' খুলে যায়। সে বুঝতে পারে, নিজের কাঁচা হাতের লেখা হলেও তা নিজেরই সৃষ্টি, আর অন্যের দয়ায় পাওয়া প্রতিষ্ঠায় কোনো গৌরব নেই। সে প্রতিজ্ঞা করে, ভবিষ্যতে লেখা ছাপাতে দিলে সে নিজে গিয়ে দেবে, তাতে ছাপা হোক বা না হোক।
৪.২ "অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।" হরিদা কী ভুল করেছিলেন? তিনি কেন এই ভুল করেছিলেন বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবু যখন বিরাগী বেশধারী হরিদাকে প্রণামী হিসেবে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন, তখন হরিদা সেই টাকা স্পর্শ না করে প্রত্যাখ্যান করে চলে আসেন। বক্তার মতে, এই অভাবের সংসারে এতগুলো টাকা হেলায় ফিরিয়ে দেওয়াটাই ছিল হরিদার 'ভুল', যা অদৃষ্ট ক্ষমা করবে না অর্থাৎ তাঁকে আজীবন দারিদ্র্যের মধ্যেই কাটাতে হবে।
হরিদা পেশাগতভাবে বহুরূপী হলেও, তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত শিল্পী। বিরাগীর সাজে তিনি যখন মোহমুক্ত সন্ন্যাসীর অভিনয় করছিলেন, তখন টাকার প্রতি লোভ দেখালে তাঁর সেই অভিনয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতো। তিনি অনুভব করেছিলেন, অর্থের স্পর্শে তাঁর 'ঢং' বা শিল্প নষ্ট হয়ে যাবে। একজন শিল্পীর কাছে অর্থের চেয়ে শিল্পের সততা অনেক বড়। তাই চরম অভাব থাকা সত্ত্বেও, নিজের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই হরিদা এই তথাকথিত 'ভুল'টি করেছিলেন।
৫। কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৫.১ "সেই মেয়েটির মৃত্যু হল না।"- কোন মেয়েটির কথা বলা হয়েছে? তার মৃত্যু না হওয়ার মধ্য দিয়ে বক্তা কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কথক যখন যুদ্ধের ডাকে প্রিয়তমাকে দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখে চলে যান, সেই অপেক্ষারত মেয়েটির কথাই এখানে বলা হয়েছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতায় শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো, শিশুদের মৃত্যু হলো, ঘরবাড়ি চূর্ণ হলো, দেবতাদের মূর্তিও উল্টে পড়ল। কিন্তু সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না। এখানে মেয়েটি হলো শাশ্বত প্রেম, আশা ও মানবতার প্রতীক। যুদ্ধ সবকিছু ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসার অপেক্ষা বা আশাকে নিঃশেষ করতে পারে না। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও প্রাণের স্পন্দন বা ভালোবাসার মৃত্যু হয় না- এই চিরন্তন সত্যটিই বোঝাতে চেয়েছেন কবি। মেয়েটির বেঁচে থাকা আসলে ধ্বংসের বিপরীতে জীবনের জয়গান।
৫.২ "অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দু'টি পায়ে।" কার উদ্দেশ্যে কবির এই আবেদন? এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে কবি কীভাবে অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানকে প্রতিষ্ঠা করেছেন আলোচনা করো।
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি যুদ্ধবাজ সমাজ বা যারা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে এই আবেদন জানিয়েছেন।
কবি বিশ্বাস করেন, অস্ত্রের ঝনঝনানি বা হিংসা দিয়ে পৃথিবীকে শান্ত করা যায় না। গান হলো সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও প্রেমের প্রতীক। কবি দেখিয়েছেন, গান বা সঙ্গীত মানুষের মনকে পরিবর্তন করতে পারে। ঋষি বালকের মতো সহজ-সরল গানের মন্ত্রে অস্ত্র বা হিংসা পরাভূত হতে বাধ্য। কোকিলের গানের মতো সুর যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন অস্ত্রের দম্ভ ম্লান হয়ে যায়। কবি অস্ত্রকে গানের পায়ে সমর্পণ করতে বলেছেন, কারণ একমাত্র গান বা সংস্কৃতিই পারে হিংসামুক্ত পৃথিবী গড়তে। তাই তিনি যুদ্ধের বিপরীতে গানকে, মৃত্যুর বিপরীতে জীবনকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
৬। কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "কালগুণে বুঝিবা আজ আমরাও তাই।"- 'কালগুণে' কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও। বক্তব্যটির সাহায্যে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: 'কালগুণে' কথাটির অর্থ হলো সময়ের প্রভাবে বা সময়ের পরিবর্তনের ফলে।
শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন যে, একসময় মুঘল দরবারে ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপি কুশলীদের যথেষ্ট সম্মান ও কদর ছিল। কিন্তু কালক্রমে মুদ্রণ যন্ত্রের আবিষ্কার এবং টাইপরাইটার বা কম্পিউটারের আগমনে সেই লিপি কুশলীরা কাজ হারিয়েছেন, তাদের কদর কমে গেছে। লেখক নিজেকেও সেই লিপি কুশলীদের মতো মনে করেন, কারণ তিনিও এখন কলম দিয়ে লেখেন, যা আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। হাতে লেখার শিল্প বা গুরুত্ব আজ অবলুপ্তির পথে। প্রযুক্তির দাপটে পুরনো ঐতিহ্য বা শিল্পের যে করুণ দশা হয়, সেটাই লেখক এখানে বোঝাতে চেয়েছেন।
৬.২ "আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন।”- এগুলি কী কী? উদাহরণ সহযোগে 'ত্রিবিধ কথা'-গুলি আলোচনা করো।
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে আলংকারিকদের মতে শব্দের ত্রিবিধ শক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলি হলো- ১) অভিধা, ২) লক্ষণা এবং ৩) ব্যঞ্জনা।
১) অভিধা: শব্দের আভিধানিক বা সোজা অর্থ। যেমন- 'দেশ' বলতে ভূখণ্ড বোঝায়।
২) লক্ষণা: শব্দের আভিধানিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো অর্থ বোঝালে। যেমন- 'দেশের লজ্জা' বলতে দেশের মানুষের লজ্জা বোঝায়।
৩) ব্যঞ্জনা: যখন শব্দ গভীর বা গূঢ় অর্থ প্রকাশ করে। যেমন- 'অরণ্যে রোদন' বলতে আক্ষরিক অর্থে বনে কান্না নয়, বরং 'নিষ্ফল আবেদন' বোঝায়।
লেখক বলেছেন, সাধারণ সাহিত্যে এই তিনটির ব্যবহার চললেও, বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে কেবল 'অভিধা'র ব্যবহারই বাঞ্ছনীয়, কারণ সেখানে অর্থের স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
৭। কম-বেশি ১২৫টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই- আছে শুধু প্রতিহিংসা।”- কে, কাকে একথা বলেছে? বক্তার প্রতিহিংসার কারণ কী?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে উল্লিখিত কথাটি সিরাজদ্দৌলা ঘসেটি বেগমকে বলেছেন।
ঘসেটি বেগম ছিলেন সিরাজের মাসি। তিনি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ইংরেজদের সাহায্য করেছিলেন। সিরাজ যখন সিংহাসনচ্যুত এবং বিপন্ন, তখন ঘসেটি বেগম তাঁকে অভিশাপ দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে সিরাজ বলেন, তাঁর রাজ্যও নেই, রাজনীতি করার সুযোগও নেই। কিন্তু ঘসেটি বেগমের প্রতিহিংসা প্রবল, কারণ তিনি মনে করেন সিরাজ তাঁর স্বামী ও পুত্রের মৃত্যুর কারণ এবং তাঁর ধনসম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ক্ষমতা হারানোর যন্ত্রণা থেকেই এই প্রতিহিংসা জন্ম নিয়েছে।
৭.২ "এইবার হয়তো শেষ যুদ্ধ।”- কোন যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে? বক্তা একে 'শেষ যুদ্ধ' বলেছেন কেন?
উত্তর: এখানে পলাশির যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা বুঝতে পেরেছিলেন যে ইংরেজদের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ আসন্ন। লর্ড ক্লাইভ সসৈন্যে এগিয়ে আসছে। সিরাজ জানেন, তাঁর সেনাবাহিনীর একাংশ (মীরজাফর প্রমুখ) বিশ্বাসঘাতক। তবুও তিনি দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য শেষ চেষ্টা করতে চান। তিনি জানেন এই যুদ্ধে জিতলে বাংলা স্বাধীন থাকবে, আর হারলে পরাধীনতার অন্ধকার নেমে আসবে। বাংলার ভাগ্য নির্ধারণকারী এই চূড়ান্ত লড়াইকেই তিনি 'শেষ যুদ্ধ' বলে অভিহিত করেছেন।
৮। কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ২ = ১০)
৮.১ ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য যে কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন, তার পরিচয় দাও।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে এক বিশ্বমানের সাঁতারু হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। ভোর চারটায় ঘুম থেকে তুলে দৌড় করানো, তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলে সাঁতার কাটানো ছিল নিত্যদিনের রুটিন। তিনি কোনিকে খাদ্যাভ্যাসেও কড়াকড়ি করতেন, লোভনীয় খাবার নিষিদ্ধ ছিল। অনুশীলনে ভুল করলে তিনি কটু কথা বলতেন, এমনকি মারধরও করতেন, আবার ভালো করলে উৎসাহ দিতেন। ক্ষিতীশ নিজের পকেটের টাকা খরচ করে কোনির জন্য ডিম-কলা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতেন। তিনি কেবল শারীরিক কসরত নয়, কোনির মনের জোর বাড়াতেও সাহায্য করতেন। "ফাইট কোনি ফাইট"- এই মন্ত্রে তিনি কোনিকে দীক্ষিত করেছিলেন, যাতে সে দারিদ্র্য ও অপমানের বিরুদ্ধে লড়াই করে জলে জয়ী হতে পারে।
৮.২ "কম্পিটিশনে পড়লে মেয়েটা তো আমার পা ধোয়া জল খাবে।”- কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছে? এই উক্তিতে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন অ্যাপোলো ক্লাবের প্রশিক্ষক ও সাঁতারু হিদা। কোনি যখন জুপিটার ক্লাবে সাঁতার শিখতে আসে, তখন তার সাঁতারের ভঙ্গি ও গতি নিয়ে বিদ্রূপ করতে গিয়ে হিদা এই মন্তব্য করেন।
এই উক্তিতে বক্তার অহংকার, ঈর্ষাপরায়ণতা এবং অন্যের প্রতিচ্ছিল্য ভাব ফুটে উঠেছে। তিনি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন এবং কোনিকে, যে বস্তি থেকে উঠে আসা একটি সাধারণ মেয়ে, তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখেন। এটি উচ্চবিত্ত ও সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণীর মানুষের সেই মানসিকতার পরিচয় দেয়, যারা প্রতিভাকে নয়, আভিজাত্য বা অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়। বক্তা এখানে নিজের দক্ষতা সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং অন্যের ক্ষমতাকে ছোট করে দেখার মানসিকতা পোষণ করেন।
৮.৩ "তখনই লীলাবতী হস্তক্ষেপ করে।"- লীলাবতী কোথায় কেন হস্তক্ষেপ করেছিল? তার হস্তক্ষেপের পর কী পরিবর্তন হয়েছিল সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী 'সিনহা টেলারিং'-এর মালিক। দোকানের কাজে ক্ষিতীশের উদাসীনতা এবং হিসেব-নিকেশে গোলমাল দেখা দিলে লীলাবতী ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করে। ক্ষিতীশ সাঁতার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দোকানের দিকে নজর দিতে পারত না, ফলে ব্যবসা ডুবতে বসেছিল।
লীলাবতীর হস্তক্ষেপের পর দোকানের ভোল পাল্টে যায়। সে নিজের হাতে দোকানের দায়িত্ব নেয়। নতুন নতুন ডিজাইনের জামাকাপড় তৈরি করায়, কর্মচারীদের ঠিকমতো কাজ করায় এবং গ্রাহকদের সাথে ভালো ব্যবহার করে। ফলে দোকানের আয় বাড়ে এবং ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। লীলাবতী প্রমাণ করে যে সে কেবল একজন গৃহবধূ নয়, একজন দক্ষ ব্যবসায়ীও বটে। তার এই সাফল্য ক্ষিতীশকে কোনির প্রশিক্ষণে মনোযোগ দেওয়ার আর্থিক স্বাধীনতাও এনে দেয়।
১০। কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
১০.১ পথ নিরাপত্তা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
উত্তর:
সুমন: কিরে রাজু, আজ স্কুলে আসতে দেরি হল যে?
রাজু: আর বলিস না! মোড়ের মাথায় একটা সাংঘাতিক বাইক অ্যাক্সিডেন্ট দেখলাম। ভিড় সামলে আসতে দেরি হয়ে গেল।
সুমন: ইশ! খুব লেগেছে?
রাজু: হ্যাঁ, চালকের মাথায় হেলমেট ছিল না। খুব রক্ত পড়ছিল।
সুমন: মানুষ যে কবে সচেতন হবে! 'সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ' নিয়ে এত প্রচার, তাও হেলমেট পরবে না, সিটবেল্ট বাঁধবে না।
রাজু: ঠিক বলেছিস। আর বেপরোয়া গতি তো আছেই। ট্রাফিক আইন না মানলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
সুমন: আমাদেরও সাবধানে রাস্তা পার হওয়া উচিত। জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা আর সিগন্যাল দেখে চলা খুব জরুরি।
রাজু: একদম। জানিস তো, 'সময়ের চেয়ে জীবন অনেক বেশি মূল্যবান'।
সুমন: চল, ক্লাসের সময় হয়ে গেল।
১০.২ "শব্দদূষণে জেরবার মানুষ" এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর:
শব্দদূষণে জেরবার জনজীবন: প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১২ জানুয়ারি: শহরের বুকে শব্দদূষণের মাত্রা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ির হর্ন, মাইকের আওয়াজ, আর পটকার শব্দে জেরবার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলিতে এবং পরীক্ষার মরশুমে এই অত্যাচার চরমে ওঠে।
গতকাল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল, 'সাইলেন্স জোন' বা হাসপাতাল ও স্কুল চত্বরেও বিধি মানা হচ্ছে না। তীব্র শব্দে হৃদ্রোগী ও বয়স্কদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ৬৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ শুনলে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে, রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং স্নায়ুবিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, কেবল আইন করে হবে না, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। প্রশাসনকে আরও কড়া হতে হবে। ডিজে বা সাউন্ড বক্সের উপর নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন। সুস্থ সমাজ গড়তে শব্দদূষণ রোধ এখন সময়ের দাবি।
১১। কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো: (১০)
১১.১ বিশ্ব উষ্ণায়ন
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবেশগত সংকট হলো বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কারণ: ১) গ্রিনহাউস গ্যাসের (CO2, মিথেন, CFC) বৃদ্ধি। ২) নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস। ৩) কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া। ৪) জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক ব্যবহার।
ফলাফল: ১) মেরুপ্রদেশের বরফ গলে যাচ্ছে। ২) সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে উপকূলীয় অঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা। ৩) জলবায়ুর পরিবর্তন- খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি। ৪) জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
প্রতিকার: ১) প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। ২) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ৩) প্লাস্টিক বর্জন ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি।
উপসংহার: পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে এখনই বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
১১.২ সাহিত্য পাঠের উপযোগিতা
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: সাহিত্য হলো সমাজের দর্পণ। মানুষের জীবনের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা সাহিত্যের পাতায় ধরা পড়ে।
উপযোগিতা: ১) জ্ঞানার্জন: দেশ-বিদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানা যায়। ২) মনের প্রসারতা: সাহিত্য পড়লে মন উদার হয়, সহনশীলতা বাড়ে। ৩) আনন্দদান: নিছক বিনোদনের জন্যও সাহিত্য পাঠ জরুরি। ৪) মূল্যবোধ গঠন: ভালো-মন্দের বিচারবোধ জাগ্রত করে।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে যান্ত্রিক যুগে মানুষের পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। মোবাইল ও ইন্টারনেটের প্রভাবে বই পড়ার আগ্রহ কমছে।
উপসংহার: মানুষ হিসেবে নিজেকে সম্পূর্ণ করতে হলে সাহিত্য পাঠের কোনো বিকল্প নেই। এটি আমাদের সংবেদনশীল ও মানবিক করে তোলে।
১১.৩ বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: আধুনিক সভ্যতা বিজ্ঞানের দান। সকালে ঘুম ভাঙা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত আমরা বিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল।
আশীর্বাদ: ১) চিকিৎসা: দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়, গড় আয়ু বৃদ্ধি। ২) যোগাযোগ: টেলিফোন, ইন্টারনেট, দ্রুতগামী যান। ৩) কৃষি ও শিল্পে বিপ্লব। ৪) দৈনন্দিন জীবনে আরাম-আয়েশ (বিদ্যুৎ, ফ্যান, এসি)।
অভিশাপ: ১) মারণাস্ত্র তৈরি (পরমাণু বোমা)। ২) পরিবেশ দূষণ। ৩) যান্ত্রিকতা ও বেকারত্ব। ৪) মোবাইল ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার।
উপসংহার: বিজ্ঞান নিজে ভালো বা মন্দ নয়। মানুষ কীভাবে তা ব্যবহার করছে তার ওপরই নির্ভর করে এটি আশীর্বাদ না অভিশাপ। শুভ বুদ্ধির উদয় হলে বিজ্ঞান আশীর্বাদই হবে।
১১.৪ বাংলার উৎসব
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: "বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ"। উৎসবপ্রিয় বাঙালি উৎসবের মধ্য দিয়েই প্রাণের আরাম খোঁজে।
শ্রেণিবিভাগ: ১) ধর্মীয় উৎসব: দুর্গাপূজা, ঈদ, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমা। ২) ঋতু উৎসব: নবান্ন, পহেলা বৈশাখ, বসন্ত উৎসব। ৩) সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব: বিয়ে, অন্নপ্রাশন, জামাইষষ্ঠী। ৪) জাতীয় উৎসব: স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস।
মিলনক্ষেত্র: উৎসবের দিনে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে যায়। ধনী-দরিদ্র, হিন্দু-মুসলিম সবাই এক হয়ে আনন্দে মেতে ওঠে।
উপসংহার: বাংলার উৎসব মানেই সম্প্রীতি ও মেলবন্ধন। একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তি পেতে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে এই উৎসবগুলির গুরুত্ব অপরিসীম।