বিভাগ 'ক' : সঠিক উত্তরটি বেছে লেখো (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ কুস্তি লড়তে ইতস্তত করেছিল –
(ক) ইসাব
(খ) কালিয়া
(গ) অমৃত
(ঘ) সুবোধ
উত্তর: (গ) অমৃত
১.২ "নদীকে এভাবে ভালবাসার একটি- দিতে পারে নদেরচাঁদ।"
(ক) কারণ
(খ) যুক্তি
(গ) ব্যাখ্যা
(ঘ) কৈফিয়ৎ
উত্তর: (ঘ) কৈফিয়ৎ
১.৩ ছোটমাসি তপনের থেকে ক'বছরের বড় ছিলেন?
(ক) বছর আষ্টেকের
(খ) বছর দুয়েকের
(গ) বছর পাঁচেকের
(ঘ) বছর তিনেকের
উত্তর: (ক) বছর আষ্টেকের
১.৪ 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) পাগলী তোমার সঙ্গে
(খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
(গ) পাতার পোশাক
(ঘ) বিচিত্র টঙ্গিতে
উত্তর: (গ) পাতার পোশাক
১.৫ "তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ" কন্যা ছিলেন।
(ক) সিন্ধুতীরে
(খ) সমুদ্র মাঝারে
(গ) মাঞ্জুসে
(ঘ) ধ্বস
উত্তর: (ঘ) পদ্মা [Note: প্রশ্নপত্রে অপশনগুলি একটু বিভ্রান্তিকর, 'কন্যা' বলতে পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে।]
১.৬ আমাদের বাঁয়ে
(ক) হিমানী বাঁধ
(খ) গিরিখাদ
(গ) শিশুদের শব
(ঘ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) গিরিখাদ
১.৭ "এই নেশা পেয়েছি আমি শরৎদার কাছ থেকে।"-উক্তিটির বক্তা হলেন
(ক) সত্যজিৎ রায়
(খ) বজ্রবিদ্যুৎ ভর্তি খাতা
(গ) অন্নদাশংকর রায়
(ঘ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
উত্তর: (ঘ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
১.৮ রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম হল
(ক) পরশুরাম
(খ) শ্রীপান্থ
(গ) বনফুল
(ঘ) ভুতুম ভগবান
উত্তর: (ক) পরশুরাম
১.৯ অরণ্যে রোদন বললে ব্যঞ্জনার অর্থ হয়
(ক) জঙ্গলে কান্না
(খ) নিষ্ফল খেদ
(গ) অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী
(ঘ) কুস্তক
উত্তর: (খ) নিষ্ফল খেদ
১.১০ উৎসবের বাজনা বাজছে। চিহ্নিত পদটি
(ক) সহযোগী কর্তা
(খ) সমধাতুজ কর্ম
(গ) বাক্যাংশ কর্তা
(ঘ) সমধাতুজ কর্তা
উত্তর: (ঘ) সমধাতুজ কর্তা
১.১১ অনুসর্গ একপ্রকার
(ক) বিশেষ্য
(খ) বিশেষণ
(গ) অব্যয়
(ঘ) সর্বনাম
উত্তর: (গ) অব্যয়
১.১২ কর্মবাচ্যের কর্তাকে বলে -
(ক) অনুক্ত কর্তা
(খ) নিরপেক্ষ কর্তা
(গ) প্রযোজক কর্তা
(ঘ) প্রযোজ্য কর্তা
উত্তর: (ক) অনুক্ত কর্তা
১.১৩ 'রাম ও রহিম একই স্কুলে পড়ে।' এটি একটি
(ক) যৌগিক বাক্য
(খ) সরল বাক্য
(গ) উপবাক্য
(ঘ) জটিল বাক্য
উত্তর: (খ) সরল বাক্য
১.১৪ যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না
(ক) অলোপ সমাস
(খ) নিত্য সমাস
(গ) অব্যয়ীভাব সমাস
(ঘ) একশেষ দ্বন্দু সমাস
উত্তর: (ক) অলোপ সমাস
১.১৫ গঙ্গার জলে গঙ্গা পুজো- নিম্নরেখ চিহ্নিত অংশটি কী ধরনের সম্বন্ধের দৃষ্টান্ত?
(ক) হেতু সম্বন্ধ
(খ) ক্রম সম্বন্ধ
(গ) আধার-আধেয় সম্বন্ধ
(ঘ) আধেয়-আধার সম্বন্ধ
উত্তর: (গ) আধার-আধেয় সম্বন্ধ (অথবা স্থানাধিকরণ সম্বন্ধ)
১.১৬ 'আমি এখন তবে চললুম কাকাবাবু।' উদ্ধৃত বাক্যে যে সমাসের দৃষ্টান্ত আছে -
(ক) তৎপুরুষ
(খ) কর্মধারয়
(গ) দ্বন্দু
(ঘ) বহুব্রীহি
উত্তর: (খ) কর্মধারয় (কাকা যে বাবু = কাকাবাবু)
১.১৭ ছাত্রীরা রচনা লিখছে। কর্মবাচ্যে রূপান্তর করলে হয় -
(ক) ছাত্রীদের রচনা লেখা হোক
(খ) রচনা লিখছে ছাত্রীরা
(গ) যারা ছাত্রী তারা রচনা লিখছে
(ঘ) ছাত্রীদের দ্বারা রচনা লেখা হচ্ছে
উত্তর: (ঘ) ছাত্রীদের দ্বারা রচনা লেখা হচ্ছে
বিভাগ 'খ' : কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও (১৯ নম্বর)
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে।"- কথাটি কী?
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি যে তার নতুন মেসোমশাই কারেকশন বা সংশোধন করে দিয়েছেন—এই কথাটিই ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছিল।
২.১.২ "চমকে ওঠে ভবতোষ।"- চমকে ওঠার কারণ কী?
উত্তর: বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার মোটা প্রণামী অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করেছেন শুনে ভবতোষ চমকে উঠেছিল।
২.১.৩ "আমারও অনুমান কতটা তাই।” কোন বিষয়ে এই অনুমান?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র যে আসলে ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক, এই বিষয়ে অপূর্বরও অনুমান ছিল।
২.১.৪ "চিঠি পকেটেই ছিল।" কোন চিঠির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে যে পাঁচ পৃষ্ঠা ব্যাপী বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠি লিখেছিল, সেই চিঠির কথা বলা হয়েছে।
২.১.৫ "আবেগভরা গলায় হাসান" কী বলেছিলেন?
উত্তর: ইসাবের বাবা হাসান বলেছিলেন যে, তিনি অমৃতের মতো এমন খাঁটি ছেলে পেলে একুশ জনকেও পালন করতে রাজি আছেন।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ 'অদ্ভুত বারতা' টি কী?
উত্তর: রামচন্দ্র যুদ্ধে নিহত হয়েও পুনরায় জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং লঙ্কা আক্রমণ করেছেন—এই সংবাদটিকেই মেঘনাদ 'অদ্ভুত বারতা' বলেছেন।
২.২.২ "এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে"- কারা এসেছিল?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তি বা 'মানুষ ধরার দল' লোহার হাতকড়ি নিয়ে আফ্রিকায় এসেছিল।
২.২.৩ 'অসুখী একজন' কবিতাটির কবি এবং তরজমাকারের নাম লেখো।
উত্তর: কবি পাবলো নেরুদা এবং তরজমাকার (অনুবাদক) নবারুণ ভট্টাচার্য।
২.২.৪ "এবার মহানিশার শেষে" কী ঘটবে?
উত্তর: মহানিশার শেষে ঊষার অরুণ হেসে উঠবে, অর্থাৎ পরাধীনতার অন্ধকার ঘুচে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হবে।
২.২.৫ 'বেথানিত' এবং 'মাঞ্জস' শব্দদুটির অর্থ লেখো।
উত্তর: 'বেথানিত' শব্দের অর্থ হলো এলোমেলো বা বিপর্যস্ত এবং 'মাঞ্জস' শব্দের অর্থ হলো ভেলা বা নৌকা।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম'-এ বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির দাম কত?
উত্তর: আড়াই হাজার পাউন্ড।
২.৩.২ "দার্শনিক তাঁকেই বলি" কাকে?
উত্তর: যিনি কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন, লেখক তাঁকেই দার্শনিক বলেন।
২.৩.৩ "তাঁদের উদ্যোগের এই ত্রুটি ছিল।"- কোন ত্রুটির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে যে পরিভাষা সমিতি গঠিত হয়েছিল, তাতে লেখকদের একত্রিত হয়ে কাজ না করার ফলে বিভিন্ন সংকলনে একই ইংরেজি শব্দের বিভিন্ন বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহারের ত্রুটির কথা বলা হয়েছে।
২.৩.৪ আলংকারিকগণের মতানুযায়ী শব্দের ত্রিবিধ কথাগুলি কী কী?
উত্তর: শব্দের ত্রিবিধ কথাগুলি হলো—অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ উপসর্গের অপর নাম কী?
উত্তর: আদ্যপ্রত্যয় বা প্রাগ্প্রত্যয়।
২.৪.২ বিভক্তিপ্রধান অকারক কোনটি?
উত্তর: সম্বন্ধ পদ।
২.৪.৩ 'বহুরূপী' শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: বহু রূপ যার = বহুরূপী (বহুব্রীহি সমাস)।
২.৪.৪ (দৃষ্টান্ত সহ) একটি বর্ণনামূলক সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: বহুব্রীহি সমাস। যেমন: বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি।
২.৪.৫ সংখ্যাবাচক বহুব্রীহির সঙ্গে সমাহার দ্বিগুর একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: সমাহার দ্বিগুর সমস্তপদটি বিশেষ্য হয় এবং সমাহার বোঝায়, কিন্তু সংখ্যাবাচক বহুব্রীহির সমস্তপদটি বিশেষণ হয় এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে।
২.৪.৬ রক্ত গায়ে গানের শুধু মুছি। বাক্য নির্মাণের কোন শর্তটি লঙ্ঘিত হয়েছে?
উত্তর: আসত্তি (পদের ক্রমবিন্যাস)।
২.৪.৭ "এসো যুগান্তের কবি।” জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করো।
উত্তর: যিনি যুগান্তের কবি, তিনি এসো।
২.৪.৮ কর্মকর্তৃবাচ্য কী?
উত্তর: যে বাচ্যে কর্তা অনুপস্থিত থাকে এবং কর্মই কর্তার মতো আচরণ করে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। যেমন- শাঁখ বাজে।
২.৪.৯ 'তিনি নাকি বই লেখেন।' ভাববাচ্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: তাঁর দ্বারা নাকি বই লেখা হয়? বা, তাঁর নাকি বই লেখা হয়।
২.৪.১০ বাচ্যের মূলকথা কী?
উত্তর: বাচ্যের মূলকথা হলো বাক্যের প্রকাশভঙ্গি বা কথনভঙ্গি, অর্থাৎ ক্রিয়াটি কার অনুগামী (কর্তা, কর্ম না ভাব) তা নির্দেশ করা।
বিভাগ 'গ' : প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো (৩ x ২ = ৬)
৩.১.১ "নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে" কে, কীভাবে তা বুঝেছিল?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদ নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পেরেছিলেন।
মানুষ বাঁধ ও ব্রিজ তৈরি করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বর্ষার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে নদী যেন সেই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। নদীর এই উন্মত্ত রূপ এবং ব্রিজের পিলারে সজোরে আঘাত করা দেখে নদেরচাঁদ বুঝেছিলেন যে, এটি মানুষের তৈরি শৃঙ্খল ভাঙার জন্য নদীর প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ।
৩.১.২ "এমন তো নিত্য নিয়তই ঘটছে"- কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে? এ প্রসঙ্গে বক্তার মনোভাব ব্যক্ত করো।
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে নতুন লেখকদের লেখা ছাপানোর ঘটনার কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে তপনের মতো হাজার হাজার ছেলের লেখা ছাপানোর বিষয়টি যে খুব সাধারণ, তা বোঝানো হয়েছে।
তপন যখন তার গল্প ছাপা হওয়ার কথা শুনে অবাক হয়েছিল এবং একে অলৌকিক ভেবেছিল, তখন তার ছোটমাসি বা অন্যরা মনে করেছিল এটা খুব সাধারণ ব্যাপার। অনেক ছেলেরাই লেখে এবং তা ছাপাও হয়—এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এই মন্তব্যের মাধ্যমে বক্তার অভিজ্ঞ ও কিছুটা উদাসীন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
৩.২.১ "উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে" আদিম যুগ 'উদ্ভ্রান্ত' কেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় আদিম যুগে পৃথিবীর স্থলভাগ যখন গঠন হচ্ছিল, তখন স্রষ্টা নিজের সৃষ্টির প্রতি অসন্তোষে বারবার তা ভাঙছিলেন আর গড়ছিলেন। প্রকৃতির এই অস্থিরতা, রদবদল এবং ভাঙাগড়ার খেলার জন্যই আদিম যুগকে 'উদ্ভ্রান্ত' বলা হয়েছে।
৩.২.২ "তারপর যুদ্ধ এল"- 'তারপর' কথাটি কোন কথার পর ব্যবহার করেছেন কবি? যুদ্ধটির প্রকৃতি কবিতানুসারে বিবৃত করো।
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে চলে যাওয়ার পর কেটে যাওয়া দীর্ঘ সময়ের বর্ণনার (বছরগুলো পাথরের মতো নেমে এল) পর 'তারপর' কথাটি ব্যবহার করেছেন।
যুদ্ধটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিধ্বংসী, যা "রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো" এসেছিল। এই যুদ্ধে শিশুরাও রেহাই পায়নি, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল এবং সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল। এটি ছিল সর্বগ্রাসী ধ্বংসের প্রতীক।
বিভাগ 'ঘ' : কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "তপনেরই বা লেখক হতে বাধা কী"- তপনের এমন ভাবনার কারণ কী? এরজন্য সে কী চেষ্টা করেছিল? তার স্বপ্নপূরণের পথে প্রতিবন্ধকতাটি কী ছিল?
উত্তর: তপনের নতুন মেসোমশাই একজন লেখক। তাঁকে দেখে তপন বুঝতে পারে যে লেখকরা আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব নয়, তারা সাধারণ মানুষের মতোই—বাবা, ছোটোমা বা মেজোকাকুর মতো। তারা খায়, ঘুমায়, স্নান করে। মেসোমশাইকে দেখে তপনের লেখক সম্পর্কে ভীতি ও রহস্য কেটে যায় এবং সে ভাবে, যদি মেসোমশাই লেখক হতে পারেন, তবে সেও পারবে।
এর জন্য সে দুপুরবেলা বাড়ির সবাই যখন ঘুমাচ্ছিল, তখন তিনতলার সিঁড়িতে বসে হোমটাস্কের খাতায় আস্ত একটা গল্প লিখে ফেলে। নাম দেয় 'প্রথম দিন'।
তার স্বপ্নপূরণের পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল তার বয়স ও অনভিজ্ঞতা। তার চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মেসোমশাইয়ের 'কারেকশন' বা সংশোধন। মেসোমশাই গল্পটি ছাপিয়ে দেওয়ার নাম করে আগাগোড়া নতুন করে লিখে দেন। ফলে ছাপার অক্ষরে গল্পটি প্রকাশিত হলেও তাতে তপনের মৌলিকতা হারিয়ে যায়, যা তার কাছে চরম অপমান ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৪.২ "জগদীশবাবুর দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল।" - জগদীশবাবুর এই অভিব্যক্তির কারণ কী? পাঠ্যাংশ অনুসারে এর পরবর্তী ঘটনাটি লেখো।
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে এক বিরাগী এসেছিলেন। বিরাগীর চেহারা, শান্ত সৌম্য ব্যক্তিত্ব এবং নির্লোভ আচরণ দেখে জগদীশবাবু মুগ্ধ হন। কিন্তু তিনি সবচেয়ে বেশি বিস্মিত হন যখন তিনি বিরাগীকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান এবং বিরাগী তা অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করেন। বিরাগী বলেন, "টাকা স্পর্শ করলে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে" এবং তিনি ধুলো মাড়িয়ে চলে যান। একজন দরিদ্র সন্ন্যাসীর এই অদ্ভুত নির্লোভ মানসিকতা দেখেই জগদীশবাবুর চোখ বিস্ময়ে অপলক হয়ে গিয়েছিল।
পরবর্তী ঘটনা: বিরাগী চলে যাওয়ার পর হরিদা তাঁর আসল রূপে বন্ধুদের আড্ডায় ফিরে আসেন। বন্ধুরা জানতে পারেন যে ওই বিরাগী আসলে হরিদা নিজেই ছিলেন। হরিদা জানান, তিনি টাকাটা নিতে পারতেন না কারণ তিনি তখন বিরাগীর 'পার্ট' করছিলেন। চরিত্রের প্রতি এই সততা ও অর্থের প্রতি নির্লোভ মনোভাব হরিদাকে একজন প্রকৃত শিল্পীর মর্যাদায় উন্নীত করে।
বিভাগ 'ঙ' : কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ১ = ৫)
৫.১ 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় প্রলয় কীভাবে উল্লাসের কারণ হয়ে উঠেছে কবিতা অবলম্বনে নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'প্রলয়' বা ধ্বংস কেবল নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। এখানে প্রলয় হলো নতুনের আবাহন। পরাধীন ভারতের জরাজীর্ণতা, কুসংস্কার এবং ব্রিটিশ শাসনের অন্যায়-অবিচারকে ধ্বংস করার জন্যই এই প্রলয়ের আগমন। কবি দেখেছেন, মহাকাল বা শিবের রুদ্রমূর্তিতে যে ঝড় আসছে, তা পুরোনোকে ভেঙে চুরমার করে দেবে। কিন্তু এই ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সৃষ্টির বীজ। যেমন কালবৈশাখী ঝড় পুরোনো জঞ্জাল উড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতিকে সতেজ করে, তেমনি এই বিপ্লব পরাধীনতার গ্লানি মুছে স্বাধীনতার নতুন সূর্য আনবে। প্রলয় নতুনের কেতন ওড়ায়, তাই কবি ধ্বংস দেখে ভয় পেতে বারণ করেছেন এবং একে স্বাগত জানিয়ে উল্লাস বা জয়ধ্বনি করতে বলেছেন। এই প্রলয় আসলে মুক্তির বার্তা বহনকারী, তাই তা উল্লাসের কারণ।
৫.২ "অস্ত্র রাখো, অস্ত্র ফ্যালো পায়ে" - এমন আবেদনের কারণ কী? কবিতা অনুসারে কবির মনোভাব ব্যক্ত করো।
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। বর্তমান বিশ্বে হিংসা, যুদ্ধ ও অস্ত্রের ঝনঝনানি মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কবি দেখেছেন, অস্ত্র দিয়ে কেবল রক্তপাত ও মৃত্যুই ডেকে আনা যায়, শান্তি নয়। তাই তিনি মানবজাতিকে অস্ত্রের পথ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কবির মনোভাব: কবি বিশ্বাস করেন, অস্ত্রের পাশবিক শক্তির চেয়ে গান বা সৃজনশীলতার শক্তি অনেক বেশি। গান হলো মানবতা ও ভালোবাসার প্রতীক। তিনি চান মানুষ অস্ত্রের আস্ফালন ভুলে গানের ভুবনে আশ্রয় নিক। গানের বর্ম গায়ে দিয়ে তিনি ঋষি বালকের মতো শান্ত ও নিরপরাধ হয়ে অস্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান। কবি স্বপ্ন দেখেন এক যুদ্ধহীন পৃথিবীর, যেখানে কোকিলের গানের মতো সহজ ও সুন্দর জীবন বিরাজ করবে। তাই তিনি গানের পায়ে অস্ত্র সমর্পণ করার আবেদন জানিয়েছেন।
বিভাগ 'চ' : কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "তাঁরা হয়তো বুঝবেন কলমের সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক?” কারা বুঝবেন? বক্তার সঙ্গে কলমের প্রাথমিক পরিচিতি পর্বটি লেখো।
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে 'তাঁরা' বলতে আগামী দিনের সেইসব মানুষদের বোঝানো হয়েছে যারা হয়তো জাদুঘরে বা ইতিহাসে কলম দেখবে কিন্তু বাস্তবে তার ব্যবহার জানবে না। অর্থাৎ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, যারা কম্পিউটার বা ডিজিটাল যুগে বাস করবে।
পরিচিতি পর্ব: লেখক শ্রীপান্থের জন্ম এক দরিদ্র পরিবারে। ছোটবেলায় আধুনিক ফাউন্টেন পেন বা বলপেন কেনার সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। তাঁদের লেখার একমাত্র সম্বল ছিল বাঁশের কঞ্চি কেটে তৈরি করা কলম এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি কালি। তাঁরা রান্নার কড়াইয়ের তলা থেকে ভুষো বা ঝুল সংগ্রহ করে তা জলে গুলে কালি বানাতেন। কখনো কখনো হরিতকী বা আতপ চাল ভাজা মিশিয়ে কালি পাকা করা হতো। লেখার জন্য ব্যবহার করতেন কলাপাতা। বড়রা কঞ্চি কেটে কলম বানিয়ে দিতেন, আর ছোটরা তা দিয়ে লিখত। লেখা শেষে কলাপাতা পুকুরে ফেলে দেওয়া হতো। এই সহজলভ্য ও ঘরোয়া উপকরণের মাধ্যমেই কলমের সাথে লেখকের প্রথম আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
৬.২ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান আলোচনার রচনাপদ্ধতির ত্রুটিগুলি প্রাবন্ধিকের অনুসরণে আলোচনা করো।
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার বেশ কিছু ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন।
১) আক্ষরিক অনুবাদ: অনেক লেখক ইংরেজি বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা থেকে হুবহু বা আক্ষরিক অনুবাদ করেন। এর ফলে ভাষা কৃত্রিম ও দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে এবং বাংলা ভাষার নিজস্ব ভাব বা 'ইডিয়ম' ক্ষুণ্ণ হয়। যেমন—'sensitized paper'-এর অনুবাদ 'স্পর্শকাতর কাগজ' না লিখে 'সুগ্রাহী কাগজ' লেখা উচিত।
২) পারিভাষিক শব্দের অভাব: বাংলায় অনেক বৈজ্ঞানিক শব্দের সঠিক পরিভাষা নেই। অনেক সময় লেখকরা নিজের মতো করে অদ্ভুত শব্দ তৈরি করেন, যা সাধারণ পাঠকের বোধগম্য হয় না।
৩) অলংকারের আধিক্য: বিজ্ঞান রচনায় তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা প্রধান। কিন্তু অনেক লেখক ভাষাকে সুন্দর করতে গিয়ে উপমা, রূপক বা অলংকার বেশি ব্যবহার করেন, যা বৈজ্ঞানিক সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
৪) পাঠকের কথা না ভাবা: লেখকের বিজ্ঞান জ্ঞান থাকলেও সাধারণ পাঠকের সেই জ্ঞান থাকে না। তাই খুব কঠিন বা টেকনিক্যাল ভাষায় লিখলে পাঠক তা বুঝতে পারে না। লেখককে পাঠকের গ্রহণক্ষমতা অনুযায়ী ভাষা নির্বাচন করতে হয়।
বিভাগ 'ছ' : কম-বেশি ১২৫টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "I Know we shall never meet!" কে, কাকে বলেছেন? তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ না হওয়ার কারণ কী? এই উক্তির মধ্য দিয়ে বক্তার কোন মনোভাব প্রকাশিত?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এই উক্তিটি করেছেন ফরাসি সেনাপতি মঁসিয়ে লা। তিনি নবাব সিরাজদ্দৌলাকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছেন।
সাক্ষাৎ না হওয়ার কারণ: মঁসিয়ে লা জানতেন যে ইংরেজদের সাথে সিরাজের যুদ্ধে সিরাজের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত, কারণ সিরাজের সেনাপতিরা বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তিনি ফরাসি বাহিনী নিয়ে সিরাজকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে সিরাজের পতন আসন্ন এবং হয়তো সিরাজের মৃত্যুও হতে পারে। তিনি নিজেও বাংলা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাই তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, তাঁদের আর দেখা হবে না।
মনোভাব: এই উক্তির মধ্য দিয়ে মঁসিয়ে লা-এর গভীর হতাশা, সিরাজের প্রতি সহানুভূতি এবং বন্ধুত্বের মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একজন বিদেশি হয়েও সিরাজের বিপদে পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন এবং সিরাজের করুণ পরিণতি আঁচ করে তিনি ব্যথিত হয়েছিলেন।
৭.২ "তোমাদের আমি ক্ষমা করব!” বক্তা কে? তিনি কাদের উদ্দেশ্যে একথা বলেছেন? উক্তিটির প্রসঙ্গ বিবৃত করো।
উত্তর: 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে বক্তা হলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা।
তিনি তাঁর দরবারের বিদ্রোহী ও ষড়যন্ত্রকারী সভাসদদের, বিশেষ করে মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভদের উদ্দেশ্যে একথা বলেছেন।
প্রসঙ্গ: ইংরেজরা যখন বাংলা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দেশের স্বাধীনতা চরম সংকটের মুখে, তখন সিরাজ জানতে পারেন যে তাঁর নিজের সভাসদরাই ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। কিন্তু এই দুর্দিনে তিনি গৃহবিবাদ চাননি। তিনি চেয়েছিলেন সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে। তাই তিনি সভাসদদের অতীতের সমস্ত অপরাধ ও বিশ্বাসঘাতকতা ক্ষমা করে দিয়ে তাদের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন।"
বিভাগ 'জ' : কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ২ = ১০)
৮.১ “এই দ্বিতীয়বার সে ওকে দেখল" কে, কাকে দ্বিতীয়বার দেখল? দ্বিতীয়বারের দেখার অভিজ্ঞতাটি পাঠ্য উপন্যাস অনুসারে বিবৃত করো।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ (খিদ্দা) কোনিকে দ্বিতীয়বার দেখেছিলেন।
দ্বিতীয়বার দেখার অভিজ্ঞতা: ক্ষিতীশ প্রথমবার কোনিকে গঙ্গার ঘাটে আম কুড়োতে দেখেছিলেন। দ্বিতীয়বার তিনি কোনিকে দেখেন জুপিটার সুইমিং ক্লাবের বার্ষিক সাঁতার প্রতিযোগিতার দিন। কোনি ক্লাবের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। তার পরনে ছিল মলিন ফ্রক, পায়ে চটি নেই। সে লুব্ধ দৃষ্টিতে ভেতরে প্রতিযোগিতার দিকে তাকিয়ে ছিল। ক্ষিতীশ লক্ষ্য করেন, মেয়েটির চোখে এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও জেদ রয়েছে। সে যেন সাঁতারের ওই জল ও প্রতিযোগিতার অংশ হতে চায়। ক্ষিতীশ তার মধ্যে এক সুপ্ত প্রতিভার স্ফুলিঙ্গ দেখতে পান। এই দেখার পরেই ক্ষিতীশ সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি এই মেয়েটিকে সাঁতার শেখাবেন। এই সাক্ষাৎই ছিল কোনি ও ক্ষিতীশের গুরু-শিষ্যা সম্পর্কের সূচনালগ্ন।
৮.২ "জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছ আমার কাছে”- বক্তার এই অভিমানের কারণ কী? এর পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: এই উক্তিটির বক্তা হলো কোনি। সে ক্ষিতীশ সিংহকে (খিদ্দা) উদ্দেশ্য করে এই অভিমান প্রকাশ করেছে।
অভিমানের কারণ: জুপিটার ক্লাবের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় কোনিকে সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়নি, বরং তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল বা অযোগ্য বলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষিতীশ তখন জুপিটারের ট্রেনার ছিলেন কিন্তু তিনি কোনিকে সাহায্য করতে পারেননি বা করেননি বলে কোনি মনে করেছিল। পরে যখন ক্ষিতীশ জুপিটার থেকে বিতাড়িত হয়ে অ্যাপোলো ক্লাবে যান এবং কোনিকে সেখানে ভর্তি করার প্রস্তাব দেন, তখন কোনি ভেবেছিল ক্ষিতীশ নিজের স্বার্থে বা 'ঠেকায় পড়ে' এখন তাকে ডাকছেন।
পরবর্তী ঘটনা: ক্ষিতীশ তখন কোনিকে বোঝান যে তিনি জুপিটার ছেড়ে এসেছেন এবং তিনি কোনিকে একজন চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু বানাতে চান। তিনি কোনির প্রতিভার কদর করেন। তিনি কোনির খাওয়ার দায়িত্ব ও পরিবারের দেখাশোনার প্রতিশ্রুতি দেন। ক্ষিতীশের আন্তরিকতা ও জেদ দেখে কোনি শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রস্তাবে রাজি হয় এবং অ্যাপোলো ক্লাবে যোগ দিয়ে কঠোর অনুশীলন শুরু করে।
৮.৩ 'কোনি' উপন্যাসে বর্ণিত ক্লাবদুটির নাম কী? এই ক্লাবদুটির পারস্পরিক প্রতিযোগিতাই 'কোনি' উপন্যাসের ভরকেন্দ্র - আলোচনা করো।
উত্তর: 'কোনি' উপন্যাসে বর্ণিত ক্লাব দুটির নাম হলো 'জুপিটার সুইমিং ক্লাব' এবং 'অ্যাপোলো সুইমিং ক্লাব'।
উপন্যাসের কাহিনী এই দুই ক্লাবের দলাদলি ও রেষারেষিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন জুপিটারের প্রাণপুরুষ, কিন্তু ক্লাবের নোংরা রাজনীতি ও বিনোদ ভড়ের চক্রান্তে তাঁকে অপমানিত হয়ে ক্লাব ছাড়তে হয়। ক্ষিতীশ তখন অ্যাপোলো ক্লাবে যোগ দেন এবং শপথ নেন যে তিনি জুপিটারকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেবেন। তাঁর এই প্রতিশোধের হাতিয়ার হয়ে ওঠে বস্তির মেয়ে কোনি। জুপিটারের তারকা সাঁতারু হিয়া মিত্রের বিরুদ্ধে অ্যাপোলোর কোনিকে দাঁড় করানোই ছিল ক্ষিতীশের লক্ষ্য। জুপিটার ক্লাব কোনিকে নানাভাবে বাধা দেয়, তাকে দলে নিতে চায় না, তার অনুশীলনে ব্যাঘাত ঘটায়। কিন্তু ক্ষিতীশের জেদ ও অ্যাপোলোর সমর্থনে কোনি শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা জয় করে। মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় কোনির জয় আসলে জুপিটারের অহংকারের বিরুদ্ধে অ্যাপোলো তথা ক্ষিতীশের জয়। এই দুই ক্লাবের দ্বন্দ্বই উপন্যাসের গতি ও উত্তেজনা বজায় রেখেছে।
বিভাগ 'ঞ' : কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ১ = ৫)
১০.১ 'পথ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের দায়িত্ব'- এই বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
অমিত: কিরে সুজয়, আজ খবরের কাগজ পড়েছিস? আবার একটা বাস এক্সিডেন্ট! কত লোক মারা গেল।
সুজয়: হ্যাঁ রে, দেখলাম। সত্যি, আজকাল পথ দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। রাস্তায় বেরোলেই ভয় লাগে।
অমিত: এর জন্য কিন্তু আমরাও কম দায়ী নই। দেখবি, অনেকে ট্রাফিক সিগন্যাল মানে না, হেলমেট না পরেই বাইক চালায়।
সুজয়: ঠিক বলেছিস। আর রাস্তা পার হওয়ার সময়ও লোকে এদিক-ওদিক না দেখে ফোনে কথা বলতে বলতে পার হয়। জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে না।
অমিত: ড্রাইভারদের বেপরোয়া গতি তো আছেই, কিন্তু আমাদেরও সচেতন হওয়া দরকার। 'সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ' স্লোগানটা শুধু মুখে বললে হবে না, মানতে হবে।
সুজয়: আমাদের উচিত স্কুলে বা পাড়ায় সবাইকে ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা। ছোটরা যদি নিয়ম শেখে, তবে বড় হয়ে তারা ভুল করবে না।
অমিত: একদম। একটা ছোট ভুল বা তাড়াহুড়ো সারা জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সুজয়: চল, আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে আমরা নিজেরা নিয়ম মানব এবং অন্যদেরও মানতে বলব। জীবনটা তো অমূল্য।
অমিত: ঠিক তাই। সাবধানে চলো, জীবন গড়ো।
১০.২ 'পলিথিনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে দূষণ'- এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
পলিথিন: পরিবেশের নীরব ঘাতক
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১০ই জুন: আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে ওঠা পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যাগ আজ পরিবেশের এক বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নর্দমা, নদী, এমনকি সমুদ্র—সর্বত্রই প্লাস্টিকের অবাধ বিচরণ। পরিবেশবিদরা একে 'দূষণের বোমা' বলে অভিহিত করছেন।
সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে মানুষ দেদারসে পলিথিন ব্যবহার করছে। কিন্তু এই পলিথিন মাটিতে মেশে না। এটি মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, ভূগর্ভস্থ জল চলাচলে বাধা দেয় এবং নর্দমা জ্যাম করে শহরে জল জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় যা বায়ুদূষণ ঘটায়। গবাদি পশুরা খাবারের সাথে প্লাস্টিক খেয়ে মারা যাচ্ছে।
সরকার ৭৫ মাইক্রনের কম প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু নজরদারির অভাবে তার ব্যবহার কমছে না। পরিবেশ বাঁচাতে হলে আমাদের এখনই প্লাস্টিক বর্জন করতে হবে। পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারই হতে পারে এর একমাত্র বিকল্প। সচেতনতাই পারে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে।
বিভাগ 'ট' : কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে একটি প্রবন্ধ রচনা করো (১০ x ১ = ১০)
১১.১ কুসংস্কার প্রতিরোধে বিজ্ঞান
ভূমিকা: বিংশ শতাব্দীর এই চরম উন্নতির যুগেও আমাদের সমাজ কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে যুক্তি, বুদ্ধি এবং অজানাকে জানার আলো। কিন্তু মানুষের মনের গভীরে আজও বাসা বেঁধে আছে অন্ধবিশ্বাস। বিজ্ঞান ও কুসংস্কার—এই দুইয়ের দ্বন্দ্ব চিরকালীন।
কুসংস্কারের স্বরূপ: কুসংস্কার হলো যুক্তিহীন বিশ্বাস। বিড়াল রাস্তা কাটলে থমকে যাওয়া, হাঁচি দিলে অশুভ মনে করা, তুকতাক, ঝাড়ফুঁক, ডাইনি সন্দেহ—এসবই কুসংস্কারের উদাহরণ। গ্রাম থেকে শহর, অশিক্ষিত থেকে শিক্ষিত—সর্বত্রই এর প্রভাব দেখা যায়। মানুষ বিপদে পড়লে বা লোভে পড়ে যুক্তির আশ্রয় না নিয়ে অলৌকিক শক্তির ওপর ভরসা করে।
বিজ্ঞানের ভূমিকা: বিজ্ঞান আমাদের শেখায় 'কেন' এবং 'কীভাবে'। বিজ্ঞান কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়া কিছু বিশ্বাস করে না। রোগ হলে ওঝার কাছে না গিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দেবতার রোষ না ভেবে তার ভৌগোলিক কারণ খোঁজা—এসবই বিজ্ঞানের দান। বিজ্ঞানমনস্কতা মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, অন্ধভাবে মেনে নিতে নয়।
প্রতিরোধের উপায়: কুসংস্কার দূর করতে হলে কেবল পুঁথিগত বিজ্ঞান শিক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বিজ্ঞানচেতনা বা সায়েন্টিফিক টেম্পার। ছাত্রছাত্রী ও বিজ্ঞান সংগঠনগুলিকে এগিয়ে আসতে হবে। ম্যাজিক বা অলৌকিক ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়াকে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচারে কাজে লাগাতে হবে।
উপসংহার: কুসংস্কার একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি জাতির প্রগতিকে পিছিয়ে দেয়। বিজ্ঞানই পারে এই অন্ধকার দূর করতে। আসুন আমরা সবাই যুক্তিবাদী হই, কুসংস্কার মুক্ত সমাজ গড়ে তুলি। "বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ"—এই কথা ভুল প্রমাণ করে বিজ্ঞান হোক আমাদের শুভবুদ্ধির চাবিকাঠি।
১১.২ বন্যেরা বনে সুন্দর
ভূমিকা: "বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"—সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই উক্তিটি এক চিরন্তন সত্য। প্রতিটি প্রাণীরই নিজস্ব একটি বাসযোগ্য পরিবেশ আছে, যেখানে সে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। বন্য প্রাণীদের জন্য অরণ্যই হলো সেই আদর্শ স্থান। তাদের লোকালয়ে বা খাঁচায় বন্দি করা প্রকৃতির নিয়মের বিরোধী।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য: বন্য প্রাণীরা অরণ্যের বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঘ, সিংহ, হাতি, হরিণ—সবাই খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত। তারা বনে থাকলে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকে। তাদের জোর করে লোকালয়ে আনলে বা চিড়িয়াখানায় বন্দি করলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং প্রকৃতির ছন্দ পতন ঘটে।
বন্দিদশার যন্ত্রণা: মানুষ যেমন স্বাধীনতা ভালোবাসে, পশুপাখিরাও তাই। সার্কাসে বা চিড়িয়াখানায় তাদের খাঁচায় বন্দি করে রাখা, তাদের দিয়ে খেলা দেখানো—এসবই এক ধরণের নিষ্ঠুরতা। বনের রাজা সিংহ যখন খাঁচায় ধুঁকতে থাকে, তখন তা তার রাজকীয় সত্তার অপমান। তাদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ও তেজ হারিয়ে যায়।
মানুষের কর্তব্য: সভ্যতার অগ্রগতির নামে মানুষ আজ অরণ্য ধ্বংস করছে। ফলে বন্য প্রাণীরা বাসস্থান ও খাদ্য হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে, সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ-পশু সংঘাত। আমাদের উচিত অরণ্য সংরক্ষণ করা এবং বন্য প্রাণীদের তাদের নিজস্ব পরিবেশে শান্তিতে থাকতে দেওয়া। অভয়ারণ্য বা জাতীয় উদ্যান তৈরি করে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
উপসংহার: বন্য প্রাণীরা আমাদের শত্রু নয়, তারা প্রকৃতির অলংকার। তাদের সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য বনেই মানায়। তাদের স্বাধীনতা হরণ করার অধিকার মানুষের নেই। আসুন, আমরা জীববৈচিত্র্য রক্ষা করি এবং বন্য প্রাণীদের বনের কোলেই নিরাপদে থাকতে দিই। তবেই পৃথিবী সুন্দর ও বাসযোগ্য থাকবে।
১১.৩ বাঙালির উৎসব
ভূমিকা: "বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ"—এই প্রবাদটি বাঙালির উৎসবপ্রিয়তার পরিচায়ক। উৎসব বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এবং মিলনের আনন্দে মেতে উঠতে উৎসবের জুড়ি মেলা ভার। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে উৎসবের আঙিনায় বাঙালি এক হয়ে যায়।
উৎসবের বৈচিত্র্য: বাঙালির উৎসবগুলিকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়—ধর্মীয়, ঋতুভিত্তিক, সামাজিক এবং জাতীয়।
১) ধর্মীয় উৎসব: হিন্দুদের দুর্গাপূজা, কালীপূজা, সরস্বতী পূজা; মুসলমানদের ঈদ; খ্রিস্টানদের বড়দিন—সবই বাংলায় ধুমধাম করে পালিত হয়। বিশেষ করে দুর্গাপূজা বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব, যা আজ এক বিশ্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
২) ঋতু উৎসব: প্রকৃতির সাথে বাঙালির নিবিড় যোগ। বসন্তে দোলযাত্রা বা হোলি, শীতে পৌষমেলা ও নবান্ন, বর্ষায় রথযাত্রা—এসবই ঋতুচক্রের আনন্দ।
৩) সামাজিক উৎসব: পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ, জামাইষষ্ঠী, ভাইফোঁটা, অন্নপ্রাশন, বিয়ে—এগুলি বাঙালির সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।
৪) জাতীয় উৎসব: স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, রবীন্দ্রজয়ন্তী—এগুলি আমাদের দেশপ্রেম ও সংস্কৃতির উৎসব।
উৎসবের গুরুত্ব: উৎসব মানুষকে সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দেয়। ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও উৎসবের ভূমিকা আছে—মৃৎশিল্পী, ঢাকি, ছোট ব্যবসায়ী সবাই এই সময় লাভের মুখ দেখে।
উপসংহার: উৎসব মানেই আনন্দ, উৎসব মানেই মিলন। যদিও বর্তমানে উৎসবে কিছুটা কৃত্রিমতা ও আড়ম্বর এসেছে, তবুও এর মূল সুর—'সবার সুখে হাসব আমি, কাঁদব সবার দুখে'—আজও অমলিন। বাঙালির উৎসব বাঙালিকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তাকে দিয়েছে প্রাণশক্তি।
১১.৪ স্কুলের টিফিনবেলা
ভূমিকা: ছাত্রজীবনের একঘেয়ে ক্লাস আর পড়াশোনার মাঝে এক টুকরো মুক্তির আনন্দ হলো স্কুলের টিফিনবেলা। সকাল থেকে ক্লাসের পর ক্লাস, স্যারেদের কড়া শাসন—এসবের পর যখন টিফিনের ঘণ্টা বাজে, তখন মনে হয় যেন খাঁচার পাখি মুক্তি পেল। সেই ৩০-৪০ মিনিটের সময়টুকু আমাদের কাছে স্বর্গের মতো।
টিফিনের আনন্দ: ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজার সাথে সাথে ক্লাসরুমে যেন ভূমিকম্প শুরু হয়। বইখাতা গুটিয়ে সবাই দৌড় দেয় মাঠের দিকে বা ক্যান্টিনে। কেউ বাড়ি থেকে আনা টিফিন বাক্স খোলে, কেউবা ক্যান্টিন থেকে ঘুগনি, আলুর দম বা সিঙ্গারা কিনে খায়। খাবার ভাগ করে খাওয়ার মজাই আলাদা। "তোরটা দে, আমারটা নে"—এই শেয়ারিংয়ের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বন্ধুত্বের আসল স্বাদ।
খেলা ও আড্ডা: খাওয়া শেষ হতে না হতেই শুরু হয় খেলা। কেউ ফুটবল নিয়ে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করে, কেউবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করে। ক্রিকেটের ব্যাট-বল না থাকলে বই বা বোতল দিয়েই খেলা চলে। স্কুলের মাঠে তখন প্রাণোচ্ছল কোলাহল। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে চলে নানা বিষয়ে আলোচনা—সিনেমা, ক্রিকেট, বা ক্লাসের কোনো হাসির ঘটনা।
শেষের ঘণ্টা: আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। হঠাৎ বেজে ওঠে টিফিন শেষের ঘণ্টা। আবার সেই ক্লাসরুম, আবার সেই পড়া। ঘর্মাক্ত শরীর আর মন খারাপ নিয়ে আমরা ক্লাসে ফিরি। কিন্তু ওইটুকু সময়ের সতেজতা আমাদের বাকি ক্লাসগুলো করার শক্তি জোগায়।
উপসংহার: স্কুলের টিফিনবেলা কেবল খাওয়া বা খেলার সময় নয়, এটি সামাজিক হওয়ার, বন্ধুত্ব গাঢ় করার এক সুযোগ। বড় হয়ে যখন স্কুলজীবনের কথা মনে পড়বে, তখন এই টিফিনের স্মৃতিই সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। সেই হাসি, সেই আড্ডা, সেই ভাগ করে খাওয়া—এসবই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।