১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে বৃষ্টি থেমেছিল -
ক) এক ঘণ্টার জন্য
খ) দুই ঘণ্টার জন্য
গ) তিন ঘণ্টার জন্য
ঘ) চার ঘণ্টার জন্য
উত্তর: (গ) তিন ঘণ্টার জন্য
১.২ 'অদল বদল' রচনায় যে কালের কথা রয়েছে
ক) শরৎ
খ) হেমন্ত
গ) শীত
ঘ) বসন্ত
উত্তর: (ঘ) বসন্ত (হোলির দিন)
১.৩ সব্যসাচী মল্লিক পেশায় ছিলেন-
ক) ডাক্তার
খ) পুলিশ
গ) ইঞ্জিনিয়ার
ঘ) কেরাণী
উত্তর: (ক) ডাক্তার
১.৪ বৃষ্টি ধুয়ে দিয়েছিল-
ক) রাস্তার ধুলো
খ) রক্তের দাগ
গ) বক্তার পদচিহ্ন
ঘ) কাঠ কয়লার দাগ
উত্তর: (গ) বক্তার পদচিহ্ন
১.৫ আদিম যুগে স্রষ্টা কার প্রতি অসন্তোষ ছিল?
ক) দয়াময় দেবতার প্রতি
খ) কবির সংগীতের প্রতি
গ) নিজের প্রতি
ঘ) ধরিত্রীর প্রতি
উত্তর: (গ) নিজের প্রতি
১.৬ "উত্তরিলা বীরদর্পে অসুরারি-রিপু" 'অসুরারি-রিপু' কাকে বলা হয়েছে?
ক) লক্ষ্মণকে
খ) বীরবাহুকে
গ) ইন্দ্রজিৎকে
ঘ) রাবণকে
উত্তর: (গ) ইন্দ্রজিৎকে
১.৭ নিজের হাতের কলমের আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল যে লেখকের, তাঁর নাম-
ক) বনফুল
খ) পরশুরাম
গ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
ঘ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
১.৮ "অনেক দিন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছিলাম”- কী বাঁচানোর কথা বলা হয়েছে?
ক) খাগের কলম
খ) জাপানি পাইলট
গ) ঝরনা কলম
ঘ) পার্কার পেন
উত্তর: (খ) জাপানি পাইলট
১.৯ আমাদের দেশে তখন বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা সুসাধ্য হবে, যখন এ দেশে-
ক) বাংলায় প্রচুর পারিভাষিক শব্দ তৈরি হবে।
খ) বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার ঘটবে।
গ) মাতৃভাষার প্রতি মানুষের প্রীতির মনোভাব গড়ে উঠবে।
ঘ) লেখকেরা অনুবাদের আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
উত্তর: (খ) বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার ঘটবে।
১.১০ বিভক্তি শব্দের আভিধানিক অর্থ -
ক) বিশেষ ভক্তি
খ) বিভাজন
গ) বিশেষ অর্থ
ঘ) বিশেষ শব্দ
উত্তর: (খ) বিভাজন
১.১১ "সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে।" -নিম্নরেখ পদটির কারক ও বিভক্তি-
ক) অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি
খ) করণ কারকে 'এ' বিভক্তি
গ) কর্তৃকারকে 'এ' বিভক্তি
ঘ) কর্ম কারকে 'এ' বিভক্তি
উত্তর: (খ) করণ কারকে 'এ' বিভক্তি
১.১২ উপমিত কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যে কী থাকে না?
ক) উপমেয়
খ) সাদৃশ্যবাচক শব্দ
গ) উপমান
ঘ) সাধারণ ধর্মবাচক পদ
উত্তর: (ঘ) সাধারণ ধর্মবাচক পদ
১.১৩ 'ঋষিবালক' পদটি কোন সমাসের উদাহরণ?
ক) দ্বন্দু
খ) তৎপুরুষ
গ) বহুব্রীহি
ঘ) কর্মধারয়
উত্তর: (ঘ) কর্মধারয়
১.১৪ বাক্যের মূল উপাদান-
ক) উদ্দেশ্য, বিধেয়, কর্তা
খ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
গ) কর্ম, কর্তা, ক্রিয়া
ঘ) উদ্দেশ্য ও কর্ম
উত্তর: (খ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
১.১৫ 'তোমার কথা শুনেই সে এ কাজ করেছে,' - বাক্যটি একটি
ক) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
খ) শর্তসাপেক্ষ বাক্য
গ) সন্দেহবাচক বাক্য
ঘ) আবেগসূচক বাক্য
উত্তর: (খ) শর্তসাপেক্ষ বাক্য
১.১৬ 'বাচ্য' প্রকৃতপক্ষে--
ক) ক্রিয়ার প্রকাশ ভঙ্গি
খ) কর্তার বৈচিত্র্য
গ) ক্রিয়ার গঠন
ঘ) ক্রিয়ার প্রণালী
উত্তর: (ক) ক্রিয়ার প্রকাশ ভঙ্গি
১.১৭ কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ
ক) ঢাকিরা ঢাক বাজায়
খ) ঢাক বাজে
গ) ঢাক বাজায়
ঘ) ঢাক বাজানো হল
উত্তর: (খ) ঢাক বাজে
২। কম-বেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
২.১। যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "এটা আমার প্রাণের অনুরোধ।” বক্তার প্রাণের অনুরোধটা কী?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে ইসাব অমৃতকে তার ছেঁড়া জামাটি বদলে নিতে বলেছিল, যাতে অমৃত বাবার মার থেকে বাঁচে। এটাই ছিল ইসাবের প্রাণের অনুরোধ।
২.১.২ "তপন সেই দিকে যায়নি," কোন বিষয়ে একথা বলা হয়েছে?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে দেখে বাড়িতে যে শোরগোল পড়েছিল বা সবাই যে প্রশংসা করছিল, তপন সেই আনন্দের ভিড়ে যোগ না দিয়ে বা নিজের লেখা পড়ার আগ্রহ না দেখিয়ে অন্যদিকে (ছাদে) চলে গিয়েছিল।
২.১.৩ "তার আমি জামিন হতে পারি" বক্তা কার জামিন হতে পারেন?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে রামদাস তলোয়ারকর তাঁর বন্ধু অপূর্ব-র জামিন হতে চেয়েছিলেন, যখন নিমাইবাবু অপূর্বকে সন্দেহভাজন হিসেবে জেরা করছিলেন।
২.১.৪ "ইসাবের মনে পড়ল," ইসাবের কী মনে পড়ল?
উত্তর: 'অদল বদল' গল্পে ইসাবের মনে পড়েছিল যে, অমৃতের মা থাকলেও তাকে বাঁচানোর জন্য তার (ইসাবের) মা নেই, আর ছেঁড়া জামা দেখলে তার বাবা তাকে খুব মারবেন।
২.১.৫ "মানুষ যেমন কাঁদে" কে, কেন কেঁদেছিল?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদ নদীর উন্মত্ত রূপ দেখে এবং নদীর প্রতি গভীর মমত্ববোধে মানুষের মতো কেঁদে ফেলেছিল।
২.২। যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।" একথা বলার কারণ কী?
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন। তাই কবি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এবং সংঘবদ্ধভাবে বাঁচার জন্য 'বেঁধে বেঁধে' থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
২.২.২ "ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর!"-চরাচর স্তব্ধ কেন?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় প্রলয়ংকর শিবের আগমনে বা কালবৈশাখীর ঝড়ের তাণ্ডবে সমগ্র বিশ্বচরাচর ভীত ও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।
২.২.৩ "শ্রীযুত মাগন গুণী”- মাগন গুণী কে?
উত্তর: আরাকান রাজসভার একজন বিশিষ্ট অমাত্য বা মন্ত্রী ছিলেন মাগন ঠাকুর। তিনি কবি সৈয়দ আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
২.২.৪ "তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান" কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় গান হলো সৃজনশীলতা ও শান্তির প্রতীক। যে মানুষ গানের বর্ম গায়ে জড়াবে, গান তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করে নদী বা দেশগাঁয়ে নিয়ে বেড়াবে।
২.২.৫ "এসো যুগান্তের কবি," কবির ভূমিকাটি কেমন হবে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় যুগান্তরের কবি মানহারা মানবীর (আফ্রিকার) দ্বারে দাঁড়িয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, যা হবে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।
২.৩। যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ "বাংলায় একটা কথা চালু ছিল," কথাটি কী?
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে উল্লিখিত কথাটি হলো- "কালি নেই কলম নেই, বলে আমি মুন্সি"।
২.৩.২ "এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।" কোন ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়?
উত্তর: রাজশেখর বসুর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে অনেক লেখকের ধারণা যে, পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে কেবল সহজ সরল বাংলা শব্দ ব্যবহার করলেই বৈজ্ঞানিক রচনা ভালো হয়- এই ধারণাটি পুরোপুরি ঠিক নয়।
২.৩.৩ "ফাউন্টেন পেনের এক বিপদ"- 'বিপদ'টি কী?
উত্তর: ফাউন্টেন পেনের বিপদ হলো, লেখক যদি অসাবধানবশত কলমটি খুলে রেখে দেন বা ঠিকমতো না ধরেন, তবে তা থেকে কালি গড়িয়ে পড়ে জামাকাপড় বা কাগজ নষ্ট হতে পারে, অথবা তা নেশার মতো আসক্তি তৈরি করতে পারে। (Note: Text says author Sarat Chandra was addicted to fountain pens).
২.৩.৪ "আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন" শব্দের 'ত্রিবিধ কথা' কী?
উত্তর: শব্দের তিনটি শক্তি বা বৃত্তি হলো- ১) অভিধা, ২) লক্ষণা এবং ৩) ব্যঞ্জনা।
২.৪। নীচের যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ অনুসর্গের দুটি প্রতিশব্দ লেখো।
উত্তর: পরসর্গ ও কর্মপ্রবচনীয়।
২.৪.২ অপাদান কারকে 'তে' বিভক্তিযুক্ত একটি বাক্য লেখো।
উত্তর: "তিল হতে তেল হয়" বা "বিপদ হতে বাঁচাও" -> "বিপদে মোরে রক্ষা করো" (এখানে 'এ'/'তে' বিভক্তি)। বা, "ছাদ হতে জল পড়ে" -> "ছাদতে" (যদিও 'তে' বিভক্তি অপাদানে বিরল, তবে 'থেকে' অনুসর্গ ব্যবহার হয়। বিভক্তি চাইলে: "টাকায় টাকা হয়" - এখানে টাকা থেকে টাকা হয়)। সঠিক উদাহরণ: "বাবা আজ বাড়িতে নেই" (অধিকরণ)। অপাদানে 'তে': "পাপে বিরত হও"।
২.৪.৩ 'রত্নাকর' শব্দটির ব্যাসবাক্য সহ সমাসের নাম লেখ।
উত্তর: রত্নের আকর = রত্নাকর (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)।
২.৪.৪ উপমিত কর্মধারয় ও রূপক কর্মধারয় সমাসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: উপমিত কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে তুলনা করা হয় এবং সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না (যেমন: চরণকমল)। অন্যদিকে, রূপক কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয় (যেমন: মনমাঝি)।
২.৪.৫ "এর মধ্যে তপন কোথা?" - নঞর্থক বাক্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: এর মধ্যে তপন কোথাও নেই।
২.৪.৬ "বিদ্যাসাগর মহাশয় বালিকা বিদ্যালয় নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন।" বাক্যটির উদ্দেশ্য পদটিকে সম্প্রসারিত করে লেখো।
উত্তর: দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর মহাশয় বালিকা বিদ্যালয় নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন।
২.৪.৭ "বধূরা প্রদীপ তুলে ধর।" কর্মবাচ্যে পরিণত করো।
উত্তর: বধূদের দ্বারা প্রদীপ তুলে ধরা হোক।
২.৪.৮ ভাববাচ্যে কর্তা লুপ্ত অবস্থায় আছে (লুপ্ত কর্তা ভাববাচ্য) এরকম একটি বাক্য লেখো।
উত্তর: "কী করা হচ্ছে?" বা "কোথায় যাওয়া হচ্ছে?"
২.৪.৯ ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো প্রলয়োল্লাস।
উত্তর: প্রলয় জনিত উল্লাস = প্রলয়োল্লাস (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)। অথবা, প্রলয়ের উল্লাস (সম্বন্ধ তৎপুরুষ)।
২.৪.১০ উহ্য কর্তা ও অনুক্ত কর্তার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: উহ্য কর্তা কর্তৃবাচ্যে থাকে কিন্তু বাক্যে সরাসরি উল্লেখ থাকে না (যেমন: "বাড়ি যাও" - এখানে 'তুমি' উহ্য)। আর অনুক্ত কর্তা কর্মবাচ্যে বা ভাববাচ্যে থাকে, যেখানে কর্তা প্রধান নয় বা 'দ্বারা/দিয়ে' অনুসর্গ যুক্ত থাকে (যেমন: "আমার খাওয়া হয়েছে" - এখানে 'আমার' অনুক্ত কর্তা)।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও: (৩ x ১ = ৩)
৩.১. যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৩ x ১ = ৩)
৩.১.১ "হরির কান্ড।"-এখানে হরির কোন কান্ডের কথা বলা হয়েছে? ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে যে চমকপ্রদ অভিনয় করেছিলেন, তাকেই 'হরির কান্ড' বলা হয়েছে।
জগদীশবাবু একজন ধনী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। হরিদা এক পূর্ণিমার সন্ধ্যায় গায়ে নামাবলি, ধবধবে সাদা উত্তরীয় ও ঝুলি নিয়ে আদুড় গায়ে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন। তাঁর সৌম্য-শান্ত চেহারা ও দার্শনিক কথাবার্তায় জগদীশবাবু মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ১০১ টাকা প্রণামী দিতে চান। কিন্তু হরিদা সেই টাকা স্পর্শ না করে হেলায় প্রত্যাখ্যান করে চলে আসেন। তাঁর এই নির্লোভ ও নিখুঁত অভিনয় সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল।
৩.১.২ "আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?" নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ছিল? সে কীভাবে তা বুঝতে পেরেছিল?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে মানুষ নদীকে বাঁধ দিয়ে বন্দি করার চেষ্টা করেছিল, তাই নদী বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল।
টানা বৃষ্টির পর নদীর জলস্তর ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। নদেরচাঁদ নদীর সেই উন্মত্ত রূপ এবং ব্রিজের গায়ে জলের আছড়ে পড়া দেখে বুঝতে পেরেছিল যে, নদী তার বন্ধন দশা থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। নদীর এই ফুঁসে ওঠা আচরণ দেখেই সে নদীর বিদ্রোহের কারণ অনুভব করতে পেরেছিল।
৩.২. যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৩ x ১ = ৩)
৩.২.১ "বিন্দু, তাহার নয়নজলে / সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে" কার কথা বলা হয়েছে? উপমাটির অর্থ পরিস্ফুট করো।
উত্তর: 'অভিষেক' কাব্যাংশে এখানে প্রমীলার কথা বলা হয়েছে।
স্বামী ইন্দ্রজিৎ যখন যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে বিদায় নিতে উদ্যত, তখন প্রমীলার চোখে জল আসে। কবি বলেছেন, সেই চোখের এক ফোঁটা জল বা বিন্দু যেন সপ্ত মহাসমুদ্রের বিশালতা ও গভীরতাকে ধারণ করে আছে। অর্থাৎ, প্রমীলার বিরহ-বেদনা বা দুঃখ এতটাই গভীর যে তার চোখের এক ফোঁটা জলেই যেন সাত সমুদ্রের উথাল-পাথাল আবেগ লুকিয়ে আছে।
৩.২.২ "পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।" 'পঞ্চকন্যা' কারা? তারা কীভাবে চেতনা ফিরে পেল?
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'পঞ্চকন্যা' বলতে পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখীকে বোঝানো হয়েছে।
সমুদ্রের ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে তারা অচৈতন্য অবস্থায় তীরে পড়েছিল। সমুদ্রকন্যা পদ্মা এবং তাঁর সখীরা মিলে তাদের গরম কাপড়ে ঢেকে, আগুনের সেঁক দিয়ে এবং নানাভাবে সেবা-শুশ্রূষা করে দীর্ঘ চার দণ্ড চিকিৎসার পর তাদের চেতনা ফিরিয়ে আনেন।
৪। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫ x ১ = ৫)
৪.১ 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণটি ব্যঞ্জনাধর্মী। গল্পের শুরুতে তপনের ধারণা ছিল লেখকরা বুঝি অন্য জগতের মানুষ। কিন্তু নতুন মেসোমশাইকে দেখে তার সেই ধারণা ভাঙে এবং তার একদফা 'জ্ঞানচক্ষু' খোলে যে লেখকরাও সাধারণ মানুষ।
গল্পের শেষে নামকরণের গভীর তাৎপর্য ফুটে ওঠে। তপনের লেখা গল্প মেসোমশাই 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন। কিন্তু পত্রিকা হাতে পেয়ে তপন দেখে, মেসোমশাই কারেকশনের নামে পুরো গল্পটাই বদলে দিয়েছেন। গল্পের মৌলিকত্ব হারিয়ে গেছে। তপন নিজের লেখা পড়তে গিয়ে অন্যের লেখা পড়ে অপমানে ও লজ্জায় কুঁকড়ে যায়। সে বুঝতে পারে, অন্যের দয়ায় পাওয়া প্রতিষ্ঠায় কোনো গৌরব নেই। নিজের কাঁচা হাতের লেখা হলেও তা নিজস্ব সৃষ্টি। এই সত্য উপলব্ধির মধ্য দিয়ে তপনের প্রকৃত 'জ্ঞানচক্ষু' উন্মীলিত হয়। তাই গল্পের নামকরণ সার্থক ও সুন্দর হয়েছে।
৪.২ "পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।" - 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে সন্দেহভাজন সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায়? তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী পরিস্থিতি তৈরী হয়?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিক ভেবে পুলিশ গিরিশ মহাপাত্রকে আটক করে। গিরিশ মহাপাত্রের চেহারা ও বেশভূষা ছিল অদ্ভুত। তার গায়ের রং তপ্ত সোনার মতো, কিন্তু স্বাস্থ্যের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তার মাথায় চেরা সিঁথি, গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের পাঞ্জাবি, পায়ে সবুজ মোজা ও বার্নিশ করা পাম্পশু। তার পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল, গাঁজার কলকে, আর হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেত ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় গিরিশ মহাপাত্রের অদ্ভুত কথাবার্তা ও আচরণে হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে জানায় গাঁজা সে খায় না, কিন্তু অন্যের উপকারের জন্য রাখে। তার পোশাক ও আসবাবের বহর দেখে নিমাইবাবু ও জগদীশবাবু অবাক হন। জগদীশবাবু তাকে উপহাস করেন। শেষপর্যন্ত তার রুগ্ন স্বাস্থ্য এবং নিরীহ ভাবভঙ্গি দেখে নিমাইবাবু তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি যে এই ব্যক্তিটিই দুর্ধর্ষ বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক হতে পারে।
৫। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫ x ১ = ৫)
৫.১ "তারপর যুদ্ধ এল"- যুদ্ধ আসার আগের প্রেক্ষাপট কেমন? যুদ্ধ আসার ফলে কী ঘটেছিল?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধ আসার আগের প্রেক্ষাপট ছিল শান্ত ও প্রেমময়। কথক তার প্রিয়তমাকে দরজায় অপেক্ষায় রেখে চলে গিয়েছিলেন। মেয়েটি জানত না যে তার প্রেমিক আর ফিরবে না। দিন, সপ্তাহ, বছর কেটে যায়। বৃষ্টিতে কথকের পায়ের দাগ মুছে যায়। প্রকৃতি তার নিয়মেই চলতে থাকে।
তারপর আচমকা যুদ্ধের ভয়াবহতা নেমে আসে। এই যুদ্ধ ছিল রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো। সমতলে আগুন ধরে যায়। শিশু ও নিরীহ মানুষেরা মারা যায়। দেবতাদের মন্দির ধ্বংস হয় এবং হাজার বছর ধরে ধ্যানে মগ্ন দেবতাদের মূর্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে উল্টে পড়ে। কথকের সুন্দর বাড়ি, বারান্দা, গোলাপি গাছ, চিমনি, জলতরঙ্গ—সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধের এই ধ্বংসলীলায় সবকিছু শেষ হয়ে গেলেও কেবল সেই মেয়েটির মৃত্যু হয়নি। সে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও ভালোবাসার প্রতীক্ষা নিয়ে বেঁচে রইল।
৫.২ "অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে"- কার উদ্দেশ্যে এই আবেদন? আবেদনটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি যুদ্ধবাজ বা অস্ত্রধারী মানুষদের উদ্দেশ্যে এই আবেদন জানিয়েছেন।
কবি বিশ্বাস করেন যে, অস্ত্রের আস্ফালন বা হিংসা দিয়ে পৃথিবীকে শান্ত ও সুন্দর করা যায় না। অস্ত্র কেবল মৃত্যু, ধ্বংস ও রক্তপাত ডেকে আনে। তাই তিনি অস্ত্র ত্যাগ করে গানের পায়ে সমর্পণ করার কথা বলেছেন। গান হলো সৃষ্টি, প্রেম ও মানবতার প্রতীক। কবি দেখিয়েছেন, ঋষি বালকের মতো সহজ-সরল গানের সুর বা কোকিলের গান হাজারো অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী। গানের বর্ম গায়ে থাকলে কোনো অস্ত্রই মানুষকে আঘাত করতে পারে না। রক্তমাখা হাত বা হিংসার পথ ছেড়ে মানুষ যদি গান ও ভালোবাসার পথ বেছে নেয়, তবেই পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। এই আবেদনে কবির যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ও মানবতার জয়গান ধ্বনিত হয়েছে।
৬। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।" কথাটি কী? লেখকদের কোন কোন ত্রুটির কথা প্রাবন্ধিক তুলে ধরেছেন?
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে যে কথাটি লেখকদের মনে রাখতে বলেছেন তা হলো—"যাঁরা ইংরেজি জানেন এবং যাঁরা জানেন না, এই উভয় শ্রেণীর পাঠকের জন্যই বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা সহজ ও সাবলীল হওয়া উচিত।"
প্রাবন্ধিক লেখকদের বেশ কিছু ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন: ১) অনেক লেখক ইংরেজিতে চিন্তা করেন এবং তার আক্ষরিক অনুবাদ বাংলায় লেখেন, ফলে ভাষা অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য হয়। ২) অনেকে মনে করেন পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে কেবল সহজ বাংলা শব্দ ব্যবহার করলেই রচনা ভালো হয়, যা ঠিক নয়। ৩) কেউ কেউ সংস্কৃতঘেঁষা গুরুগম্ভীর ভাষা ব্যবহার করেন, যা সাধারণ পাঠকের বোধগম্য হয় না। ৪) বিজ্ঞান রচনায় অতিরিক্ত অলংকার বা উপমার ব্যবহার তথ্যের স্বচ্ছতা নষ্ট করে। লেখক পরামর্শ দিয়েছেন যে, ভাষা হবে সরল, স্পষ্ট এবং আড়ম্বরহীন, যাতে সব ধরণের পাঠক তা বুঝতে পারে।
৬.২ "সব মিলিয়ে লেখালেখি রীতিমতো ছোটোখাটো একটা অনুষ্ঠান।"- লেখালেখি ব্যাপারটিকে একটি ছোটোখাটো অনুষ্ঠান বলা হয়েছে কেন বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে আগেকার দিনে লেখালেখির আয়োজনকে একটি 'অনুষ্ঠান' বলা হয়েছে। কারণ তখন কালি, কলম ও কাগজ তৈরি এবং সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ ও যত্নসাধ্য।
তখনকার দিনে এখনকার মতো রেডিমেড দোয়াত বা কলম পাওয়া যেত না। কালি তৈরি করতে হতো বাড়িতেই ভুসকালি, হরিতকী, বহেড়া, লোহার ঘষানি ইত্যাদি দিয়ে। কলম তৈরি করা হতো বাঁশের কঞ্চি বা পাখির পালক কেটে। কাগজও মাপে মাপে কাটতে হতো। লেখালেখির এই পুরো আয়োজনটি পরিবারের সবাই মিলে করত এবং এতে এক ধরণের উৎসবের আমেজ থাকত। কালি তৈরির সময় ছড়া কাটা হতো, কলম কাটার কারিগরি দেখানো হতো। সব মিলিয়ে, লেখালেখি কেবল অক্ষর বসানো ছিল না, এটি ছিল একটি শিল্প এবং পারিবারিক ঐতিহ্য, যা একটি অনুষ্ঠানের মতোই গুরুত্ব পেত।
৭। কম-বেশি ১২৫ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে আপনারা আপনাদের শক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, সর্বরকমে আমাকে সাহায্য করুন।” সিরাজ কাদের কাছে এই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন? কেন তিনি এই সাহায্যের প্রত্যাশী হয়েছেন?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর সভাসদদের কাছে, বিশেষ করে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সেনাপতি ও অমাত্যদের কাছে এই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
সিরাজদ্দৌলা বুঝেছিলেন যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং ঘরশত্রু বিভীষণরা (মীরজাফর, ঘসেটি বেগম) বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। পলাশির যুদ্ধ আসন্ন এবং বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা। এই পরিস্থিতিতে তিনি একা বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবেন না। তিনি জানতেন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা কেবল শাসকের দায়িত্ব নয়, প্রজা ও সভাসদদেরও দায়িত্ব। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া বিদেশি শত্রুর মোকাবিলা করা অসম্ভব। তাই তিনি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ভুলে সকলকে দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
৭.২ "জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়।" বক্তা কে? বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা। তিনি পলাশিকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন।
আসন্ন পলাশির যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে সিরাজ বিচলিত ছিলেন। তিনি জানতেন, এই যুদ্ধক্ষেত্র বহু মানুষের রক্তে রঞ্জিত হবে। তাঁর নিজের সেনাপতিরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এবং ইংরেজরা শক্তিশালী। এই যুদ্ধে জয়-পরাজয়ের ওপর বাংলার স্বাধীনতা নির্ভর করছে। পলাশিকে তিনি এক তৃষ্ণার্ত রাক্ষসীর রূপে কল্পনা করেছেন, যে রক্তের জন্য অপেক্ষা করছে। সেই রক্ত তাঁর নিজের হতে পারে, বা অন্য কোনো বীরের। এই অনিশ্চয়তা এবং আসন্ন মৃত্যুর ছায়া দেখেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
৮। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫ x ২ = ১০)
৮.১ "চার বছরের মধ্যেই প্রজাপতি ডানা মেলে দিয়েছে।" 'প্রজাপতি' কী? তার ডানা মেলে দেওয়ার আগের ও পরের অবস্থার পরিচয় দাও।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে 'প্রজাপতি' হলো ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতীর তৈরি একটি দর্জির দোকান বা টেইলারিং শপ।
**আগের অবস্থা:** শুরুতে এটি ছিল একটি ছোট দোকান। ক্ষিতীশ সাঁতার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দোকানে সময় দিতে পারত না। ফলে দোকানের অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল, কর্মচারী ঠিকমতো কাজ করত না, এবং ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছিল।
**পরের অবস্থা:** লীলাবতী দোকানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়। তার কঠোর পরিশ্রম, ব্যবসায়িক বুদ্ধি এবং নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরির ফলে দোকানের চেহারা পাল্টে যায়। সে গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত এবং কাজের গুণমান বজায় রাখত। মাত্র চার বছরের মধ্যে দোকানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং আকারে বড় হয়। অর্থাৎ, ছোট একটি দোকান এক সফল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যাকে 'ডানা মেলে দেওয়া' বলা হয়েছে।
৮.২ "অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।" কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলের জায়গা পেল, তা লেখো।
উত্তর: কোনিকে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেতে অনেক ষড়যন্ত্র ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তারা এবং বাংলার সাঁতার সংস্থার কিছু কর্তা কোনিকে বাদ দেওয়ার জন্য নানা ফন্দি এঁটেছিল। তারা কোনিকে অযোগ্য প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু ক্ষিতীশ সিংহের অদম্য জেদ এবং কোনির প্রতিভার জোরে শেষপর্যন্ত সে সুযোগ পায়। বালিগঞ্জ ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিলেকশন ট্রায়ালে কোনি তার যোগ্যতা প্রমাণ করে। হিয়া মিত্রের মতো নামী সাঁতারুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সে নিজের ক্ষমতা দেখায়। এছাড়া, জনসাধারণের চাপ এবং কিছু নিরপেক্ষ বিচারকের হস্তক্ষেপে ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কোনির এই জায়গা পাওয়া ছিল প্রতিভা ও পরিশ্রমের জয় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বড় প্রতিবাদ।
৮.৩ দারিদ্র্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই, তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: কোনি ছিল এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরার জন্য তাকে এবং তার দাদাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। দুবেলা ঠিকমতো খাবার জুটত না। অভাব ছিল তার নিত্যসঙ্গী।
কিন্তু এই দারিদ্র্য তাকে দমাতে পারেনি। গঙ্গার ঘাটে আম কুড়িয়ে বা চানাচুর খেয়ে সে তার ক্ষুধা মেটাত। সাঁতারের পোশকের অভাবেও সে প্র্যাকটিস চালিয়ে গেছে। সমাজের উঁচুতলার মানুষ এবং ক্লাবের কর্মকর্তাদের বঞ্চনা ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে তাকে বারবার। কিন্তু ক্ষিতীশের 'ফাইট কোনি ফাইট' মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সে সমস্ত অপমানকে জেদে পরিণত করেছে। দারিদ্র্যকে সে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। জলে নেমে সে তার সমস্ত বঞ্চনার জবাব দিয়েছে এবং শেষপর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করেছে যে, প্রতিভা থাকলে দারিদ্র্য কোনো বাধা হতে পারে না।
১০। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো: (৫ x ১ = ৫)
১০.১ প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
উত্তর:
রোহিত: কিরে আকাশ, বাজার থেকে ফিরছিস? হাতে ওটা কী? প্লাস্টিকের প্যাকেট?
আকাশ: হ্যাঁ রে, মাছ কিনলাম। মাছওয়ালা দিল।
রোহিত: তুই জানিস না প্লাস্টিক পরিবেশের কতটা ক্ষতি করে? সরকার তো প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করেছে।
আকাশ: জানি রে। কিন্তু কী করব বল? পাটের ব্যাগ বা কাপড়ের ব্যাগ সবসময় সঙ্গে থাকে না। আর দোকানদাররাও তো দিচ্ছে।
রোহিত: আমাদেরই সচেতন হতে হবে। প্লাস্টিক পচে না, মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নর্দমা জাম করে দেয়। গরু-ছাগল খেয়ে ফেললে মারা যায়।
আকাশ: ঠিক বলেছিস। আসলে আমাদের অভ্যেসটা খারাপ হয়ে গেছে।
রোহিত: আজ থেকে প্রতিজ্ঞা কর, বাজারে গেলে নিজের ব্যাগ নিয়ে যাবি। আমরা সচেতন না হলে পৃথিবীটা বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।
আকাশ: একদম ঠিক। কাল থেকেই আমি কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করব। ধন্যবাদ মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।
১০.২ "তোমাদের এলাকায় জমা জলের কারণে মশাবাহিত নানা রোগের সমস্যায় জর্জরিত এলাকাবাসী" এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর:
জমা জলে বাড়ছে মশা, ডেঙ্গির আতঙ্কে কাঁটা এলাকাবাসী
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসাত, ২৫ জুলাই: সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বারাসাতের বিস্তীর্ণ এলাকা। আর এই জমা জলই এখন এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হওয়ার কারণে জল সরছে না। এর ফলে ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ১০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুরসভার পক্ষ থেকে ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো বা মশা মারার তেল স্প্রে করার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীদের দাবি, অবিলম্বে জমা জল সরানোর ব্যবস্থা করা হোক এবং নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার করা হোক। প্রশাসনের উদাসীনতা চলতে থাকলে বড় কোনো মহামারীর আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। স্থানীয় কাউন্সিলর জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই পাম্প বসিয়ে জল বের করার ব্যবস্থা করা হবে।
১১। কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো: (১০)
১১.১ বিজ্ঞাপনের অপপ্রয়োগ ও মানবজাতির সংকট
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: বর্তমান যুগ বিজ্ঞাপনের যুগ। টিভি, খবরের কাগজ, রাস্তাঘাট—সবর্ত্রই বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। পণ্য বিক্রির কৌশল হিসেবে এর জন্ম হলেও এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই অপপ্রয়োগে পরিণত হয়েছে।
অপপ্রয়োগের দিক: ১) মিথ্যা প্রতিশ্রুতি: ফর্সা হওয়ার ক্রিম বা লম্বা হওয়ার ওষুধের মতো অবৈজ্ঞানিক দাবি। ২) অপসংস্কৃতি: অশ্লীল ও কুরুচিকর দৃশ্য দেখিয়ে যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করা। ৩) শিশুদের ওপর প্রভাব: জাঙ্ক ফুড বা চকোলেটের লোভনীয় বিজ্ঞাপন শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
মানবজাতির সংকট: মানুষ ভোগবাদী হয়ে পড়ছে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার নেশায় ঋণের জালে জড়াচ্ছে। মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিকার: কড়া আইন প্রণয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
উপসংহার: বিজ্ঞাপন দরকার, কিন্তু তা যেন সত্য ও সুন্দর হয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করা নয়, সঠিক তথ্য দেওয়াই হোক বিজ্ঞাপনের লক্ষ্য।
১১.২ পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: পরিবেশ আজ বিপন্ন। দূষণের কালো ছায়ায় পৃথিবী ঢাকা পড়ছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
ভূমিকা: ১) সচেতনতা বৃদ্ধি: পদযাত্রা, নাটক বা পোস্টারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা। ২) বৃক্ষরোপণ: স্কুল ও এলাকায় গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যা করা। ৩) প্লাস্টিক বর্জন: 'নো প্লাস্টিক জোন' তৈরি করা। ৪) অপচয় রোধ: জল ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করা।
বাস্তব পদক্ষেপ: 'নির্মল বিদ্যালয়' অভিযান বা সাফাই অভিযানে অংশ নেওয়া।
উপসংহার: ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ। তারা যদি পরিবেশ রক্ষায় ব্রতী হয়, তবেই আমরা একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে পারব।
১১.৩ একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: "পর্যটন যে কেবল আনন্দ দেয় তা নয়, শিক্ষাও দেয়।" গত ছুটিতে আমি ও আমার পরিবার পুরী ভ্রমণে গিয়েছিলাম।
যাত্রাপথ: হাওড়া থেকে ধৌলি এক্সপ্রেসে যাত্রা। জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখা।
পুরী দর্শন: ১) জগন্নাথ মন্দির: মন্দিরের স্থাপত্য ও ভক্তিভাব। ২) সমুদ্র সৈকত: উত্তাল ঢেউ, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা। ৩) কোনার্ক ও চিল্কা হ্রদ: সূর্য মন্দির ও ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতা।
উপলব্ধি: প্রকৃতির বিশালতার সামনে নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হওয়া।
উপসংহার: এই ভ্রমণ আমার মনের ক্লান্তি দূর করে নতুন শক্তি জুগিয়েছে। স্মৃতিতে আজও তা উজ্জ্বল হয়ে আছে।
১১.৪ তোমায় প্রিয় লেখক
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: বাংলা সাহিত্যে অনেক নক্ষত্র থাকলেও আমার প্রিয় লেখক কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি 'দরদী লেখক' নামে পরিচিত।
জীবনকথা: ১৮৭৬ সালে হুগলির দেমানন্দপুর গ্রামে জন্ম। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন।
সাহিত্যকীর্তি: শ্রীকান্ত, দেবদাস, পথের দাবী, মহেশ, রামের সুমতি ইত্যাদি কালজয়ী উপন্যাস ও গল্প।
কেন প্রিয়: ১) সাধারণ মানুষের কথা: তিনি অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছেন। ২) নারী চরিত্র: তাঁর সৃষ্ট নারী চরিত্রগুলি মমতাময়ী ও প্রতিবাদী। ৩) সহজ ভাষা: তাঁর ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও হৃদয়স্পর্শী।
উপসংহার: শরৎচন্দ্র আজও বাঙালির ঘরে ঘরে পঠিত হন। তাঁর সাহিত্য আমাকে মানুষের প্রতি সংবেদনশীল হতে শিখিয়েছে।