১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ "রত্নের মূল্য জহুরির কাছে।"-এখানে জহুরির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে-
(ক) 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকার সম্পাদককে
(খ) মাসিকে
(গ) তপনের মাকে
(ঘ) নতুন মেসোমশাইকে
উত্তর: (ঘ) নতুন মেসোমশাইকে
১.২ "সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস”- 'দুর্লভ জিনিস'টি হল-
(ক) একশো টাকার একটা নোট
(খ) সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো
(গ) হরিতকি
(ঘ) সোনার বোল লাগানো কাঠের খরম
উত্তর: (খ) সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো
১.৩ 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি যে সময়ের-
(ক) তিনটে পঁয়তাল্লিশের
(খ) চারটে পঁয়তাল্লিশের
(গ) পাঁচটা পঁয়তাল্লিশের
(ঘ) ছ-টা পঁয়তাল্লিশের
উত্তর: (খ) চারটে পঁয়তাল্লিশের
১.৪ "সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী" - 'পুণ্যবাণী'টি হল-
(ক) হিংস্র প্রলাপ
(খ) পূজার ঘণ্টা
(গ) সুন্দরের আরাধনা
(ঘ) ক্ষমা করো
উত্তর: (ঘ) ক্ষমা করো
১.৫ "জিজ্ঞাসিলে মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া" - 'মহাবাহু' জিজ্ঞেস করেছিলেন-
(ক) দেবী লক্ষ্মীকে
(খ) প্রমীলাকে
(গ) সৈন্যদলকে
(ঘ) কুম্ভকর্ণকে
উত্তর: (ক) দেবী লক্ষ্মীকে
১.৬ "মাভৈঃ মাভৈঃ।" 'মাভৈঃ' শব্দটির অর্থ-
(ক) এগিয়ে চলো
(খ) সামনে চলো
(গ) ভয় করো না
(ঘ) থেমে থাকো
উত্তর: (গ) ভয় করো না
১.৭ আদিতে ফাউন্টেন পেনের নাম ছিল-
(ক) রিজার্ভার পেন
(খ) বল পেন
(গ) ঝরনা কলম
(ঘ) ব্যারেল পেন
উত্তর: (ক) রিজার্ভার পেন
১.৮ চার খন্ড রামায়ণ কপি করে একজন লেখক অষ্টাদশ শতকে কত টাকা পেতেন?
(ক) সাত টাকা
(খ) বারো টাকা
(গ) আট টাকা
(ঘ) সাত আনা
উত্তর: (ক) সাত টাকা
১.৯ কত খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিল?
(ক) ১৯৩৬
(খ) ১৯৪০
(গ) ১৯৪৭
(ঘ) ১৯৪৫
উত্তর: (ক) ১৯৩৬
১.১০ "ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল" নিম্নরেখ পদটি কোন কারকের উদাহরণ?
(ক) কর্মকারক
(খ) করণ কারক
(গ) কর্তৃকারক
(ঘ) অপাদান কারক
উত্তর: (গ) কর্তৃকারক
১.১১ দ্বন্দ্ব সমাসের 'দ্বন্দ্ব' শব্দটির অর্থ-
(ক) বিরোধ
(খ) ঝগড়া
(গ) মিলন
(ঘ) আলাদা
উত্তর: (গ) মিলন
১.১২ যে সমাসে উপমান, সাধারণ ধর্ম এবং সাদৃশ্য বাচক পদের উল্লেখ থাকে কিন্তু উপমেয় থাকে না তাকে বলে-
(ক) সাধারণ কর্মধারয়
(খ) উপমান কর্মধারয়
(গ) উপমিত কর্মধারয়
(ঘ) রূপক কর্মধারয়
উত্তর: (খ) উপমান কর্মধারয়
১.১৩ "দার্শনিক তাকেই বলি যিনি কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন।" - বাক্যটি হল-
(ক) সরল বাক্য
(খ) জটিল বাক্য
(গ) যৌগিক বাক্য
(ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর: (খ) জটিল বাক্য
১.১৪ কর্মবাচ্যের কর্তাকে বলে-
(ক) উক্ত কর্তা
(খ) অনুক্ত কর্তা
(গ) সহযোগী কর্তা
(ঘ) ব্যতিহার কর্তা
উত্তর: (খ) অনুক্ত কর্তা
১.১৫ বাক্যের যোগ্যতা বলতে বোঝায়-
(ক) বাস্তবতা
(খ) কৌতূহল
(গ) আকর্ষণ
(ঘ) মনোভাব
উত্তর: (ক) বাস্তবতা
১.১৬ 'উপপদ' শব্দের অর্থ হল-
(ক) সম্পদ
(খ) সংখ্যাবাচক শব্দ
(গ) সমার্থক পদ
(ঘ) সমীপবর্তী পদ
উত্তর: (ঘ) সমীপবর্তী পদ
১.১৭ প্রদত্ত শব্দগুলির কোন দুটি বিদেশি অনুসর্গের উদাহরণ-
(ক) দরুন, বনাম
(খ) সহিত, দ্বারা
(গ) জন্য, বিনা
(ঘ) চেয়ে, করে
উত্তর: (ক) দরুন, বনাম
২। কম-বেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা।" কোন কাজটি মেসোর উপযুক্ত হবে?
উত্তর: তপনের নতুন মেসোমশাই যেহেতু একজন লেখক এবং পত্রিকার সম্পাদককে চেনেন, তাই তিনি যদি তপনের লেখা গল্পটা একটু কারেকশন করে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন, তবে সেটা মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে।
২.১.২ "বাইজির ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি।”- সেদিন হরিদার কত টাকা রোজগার হয়েছিল?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল আট টাকা দশ আনা।
২.১.৩ "ইত্যবসরে এই ব্যাপার।"- ইত্যবসরে কী ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: 'পথের দাবী' উপন্যাসে অপূর্ব যখন অফিসে কাজে ব্যস্ত ছিল, সেই অবসরে তার বাসায় চুরি হয়ে যায়। চোরেরা তার ঘরের তালা ভেঙে টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।
২.১.৪ "অমৃত কী জবাব দিয়েছিল জানেন?”- অমৃতের জবাব কী ছিল?
উত্তর: 'অদল বদল' গল্পে ইসাব যখন বলেছিল যে জামা ছিঁড়লে তার বাবা তাকে মারবে, তখন অমৃত জবাব দিয়েছিল যে তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে।
২.১.৫ "সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল" তার কেঁদে ফেলার কারণ কী?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদ নদীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কারণে, নদীর উন্মত্ত রূপ দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "হৈমবতীসুত যথা"- 'হৈমবতীসুত'-এর পরিচয় দাও।
উত্তর: 'অভিষেক' কাব্যাংশে 'হৈমবতীসুত' বলতে দেবী দুর্গা বা হিমালয় কন্যা হৈমবতীর পুত্র কার্তিকের কথা বলা হয়েছে। তিনি দেবতাদের সেনাপতি।
২.২.২ "ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর” 'চিরসুন্দর' কে?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'চিরসুন্দর' বলতে মহাকাল রূপী শিব বা নবীন বিপ্লবীদের কথা বলা হয়েছে, যারা ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টির সূচনা করে।
২.২.৩ "আমার শুধু একটা কোকিল"- এখানে কী অর্থে 'কোকিল' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় 'কোকিল' শব্দটি বসন্তের দূত বা গানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি কবির স্বাধীন সত্তা বা সৃজনশীলতার প্রতীক, যা শত বাধার মধ্যেও গান গেয়ে যায়।
২.২.৪ "এসো যুগান্তরের কবি"- যুগান্তরের কবির ভূমিকাটি কী হবে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় যুগান্তরের কবিকে আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে অপমানিত আফ্রিকার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বাণী শোনাতে বলা হয়েছে।
২.২.৫ "আমাদের পথ নেই কোনো" আমাদের কোনো পথ নেই কেন?
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার সব পথ বা আশ্রয় বন্ধ হয়ে গেছে, তাই তাদের 'পথ নেই'।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ "তা জেনেছিলাম সুভো ঠাকুরের বিখ্যাত দোয়াত সংগ্রহ দেখতে গিয়ে - সুভো ঠাকুরের পরিচয় দাও।
উত্তর: সুভো ঠাকুর ছিলেন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির একজন বিশিষ্ট সদস্য, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং শিল্প সংগ্রাহক। তিনি নানা ধরণের দোয়াত সংগ্রহ করার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
২.৩.২ "যন্ত্রটা এক ধরনের পেনসিল সার্পনারের মতো।" যন্ত্রটির বিবরণ দাও।
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে উল্লিখিত যন্ত্রটি ছিল পালকের কলম তৈরির যন্ত্র। এতে পালক ঢোকানোর ব্যবস্থা ছিল এবং চাপ দিলেই তা কলমের মতো সরু ও সুন্দরভাবে কেটে বেরিয়ে আসত।
২.৩.৩ "তাতে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন"- অনেকে মুশকিলে পড়েছেন কেন?
উত্তর: রাজশেখর বসুর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, যারা ইংরেজি জানেন না বা কম জানেন, তারা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করতে গিয়ে পরিভাষার অভাবে বা সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ না জানায় মুশকিলে পড়েন।
২.৩.৪ "এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।"- কোন ধারণার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: অনেক লেখকের ধারণা যে বিজ্ঞান বিষয়ক রচনায় পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে কেবল সহজ সরল বাংলা শব্দ ব্যবহার করলেই রচনা ভালো হয়, বা সংস্কৃতঘেঁষা গম্ভীর ভাষা ব্যবহার করা উচিত- এই ধারণাগুলি পুরোপুরি ঠিক নয়।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ সন্ধি ও সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: সন্ধিতে ধ্বনির মিলন ঘটে (যেমন- বিদ্যা+আলয়=বিদ্যালয়), কিন্তু সমাসে পদের মিলন ঘটে (যেমন- রাজার পুত্র = রাজপুত্র)।
২.৪.২ শূন্য বিভক্তিকে শূন্য বলা হয় কেন?
উত্তর: যে বিভক্তি পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে কিন্তু নিজে অপ্রকাশিত থাকে বা নিজের কোনো চিহ্ন থাকে না, তাকে শূন্য বিভক্তি বলে।
২.৪.৩ প্রশ্নসূচক বাক্যে 'কি' এবং 'কী'-এর পার্থক্য লেখো।
উত্তর: যে প্রশ্নের উত্তর 'হ্যাঁ' বা 'না' দিয়ে দেওয়া যায়, সেখানে 'কি' ব্যবহৃত হয় (তুমি কি যাবে?)। আর যে প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত দিতে হয়, সেখানে 'কী' ব্যবহৃত হয় (তোমার নাম কী?)।
২.৪.৪ নির্দেশক বলতে কী বোঝ?
উত্তর: যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি পদের শেষে যুক্ত হয়ে পদের বচন বা সংখ্যা নির্দেশ করে এবং পদকে নির্দিষ্ট করে বোঝায়, তাকে নির্দেশক বলে (যেমন- টি, টা, খানা, খানি)।
২.৪.৫ 'চতুরঙ্গ' শব্দটির ব্যাসবাক্য-সহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: চারটি অঙ্গ যার = চতুরঙ্গ (বহুব্রীহি সমাস) অথবা চারি অঙ্গের সমাহার (দ্বিগু সমাস)।
২.৪.৬ বাক্যের আকাঙ্ক্ষা বলতে কী বোঝ?
উত্তর: বাক্যের কিছু অংশ শোনার পর শ্রোতার মনে বাকি অংশ শোনার যে ইচ্ছা বা আগ্রহ জাগে, তাকেই বাক্যের আকাঙ্ক্ষা বলে।
২.৪.৭ বাচ্য বলতে কী বোঝ?
উত্তর: বাক্যের মধ্যে কর্তার, কর্মের বা ভাবের প্রাধান্য অনুযায়ী ক্রিয়াপদের যে রূপভেদ বা প্রকাশভঙ্গি দেখা যায়, তাকে বাচ্য বলে।
২.৪.৮ 'এ কার লেখা'? কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: এ কে লিখেছে?
২.৪.৯ অকারক পদ কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: অকারক পদ দুই প্রকার- ১) সম্বন্ধ পদ এবং ২) সম্বোধন পদ।
২.৪.১০ "বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে না।” (যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করো).
উত্তর: বৃথা আশা মরে, কিন্তু তাও মরে না।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও: (৩ + ৩ = ৬)
৩.১ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৩ x ১ = ৩)
৩.১.১ "তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়"- 'ঢং' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কীসে ঢং নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে 'ঢং' বলতে হরিদার বহুরূপী সাজ বা অভিনয়ের নিষ্ঠাকে বোঝানো হয়েছে।
বিরাগী সেজে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে জগদীশবাবু তাকে প্রণামী হিসেবে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হরিদা তা প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ বিরাগী বা সন্ন্যাসী সেজে টাকার প্রতি লোভ দেখালে তার অভিনয়ের পবিত্রতা বা 'ঢং' নষ্ট হয়ে যাবে। একজন প্রকৃত শিল্পীর কাছে অর্থের চেয়ে তার শিল্পের মর্যাদা অনেক বড়।
৩.১.২ গ্রাম প্রধান সব শুনে অমৃত ও ইসাব সম্বন্ধে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে গ্রাম প্রধান অমৃত ও ইসাবের গভীর বন্ধুত্বের কথা শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
অমৃত ইসাবকে বাঁচানোর জন্য নিজের নতুন জামা ইসাবকে দিয়েছিল এবং ইসাবের ছেঁড়া জামা নিজে পরেছিল। তাদের এই আত্মত্যাগের কথা শুনে গ্রাম প্রধান ঘোষণা করেছিলেন যে, আজ থেকে গ্রামের সবাই অমৃতকে 'অদল' এবং ইসাবকে 'বদল' বলে ডাকবে। তাদের বন্ধুত্বের এই অনন্য দৃষ্টান্তকে তিনি এভাবেই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
৩.২. যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৩ x ১ = ৩)
৩.২.১ "বিধি মোরে না কর নৈরাশ"- কার প্রার্থনা? এমন প্রার্থনার কারণ কী?
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মার এই প্রার্থনা।
পদ্মা সমুদ্রতীরে এক মান্জস বা ভেলায় পাঁচজন অচৈতন্য কন্যাকে দেখতে পান, যার মধ্যে একজন ছিলেন অপরূপ সুন্দরী পদ্মাবতী। তাদের দেখে পদ্মার মনে হয় তারা হয়তো মৃত। তাই তিনি বিধাতার কাছে প্রার্থনা করেন যেন তাদের প্রাণ ফিরে আসে। তিনি ও তার সখীরা সেবা-শুশ্রূষা করে তাদের বাঁচাতে চেয়েছিলেন। তার এই প্রচেষ্টায় যেন তিনি সফল হন, সেই আশাতেই তিনি বিধাতার কাছে নিরাশ না করার প্রার্থনা জানিয়েছিলেন।
৩.২.২ "শান্ত হলুদ দেবতারা”- দেবতাদের 'শান্ত হলুদ' বলা হয়েছে কেন? তাদের কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় দেবতাদের 'শান্ত হলুদ' বলা হয়েছে কারণ তারা প্রাচীনত্বের প্রতীক এবং হাজার বছর ধরে ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। 'হলুদ' রঙ এখানে জীর্ণতা বা প্রাচীনত্বের ইঙ্গিত দেয়।
যুদ্ধের ভয়াবহতায় মন্দির ধ্বংস হয়ে যায় এবং দেবতাদের পাথরের মূর্তিগুলো টুকরো টুকরো হয়ে উল্টে পড়ে। তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারে না। অর্থাৎ যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে দেবতারাও রেহাই পাননি, তাদের অস্তিত্বও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
৪। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়বাবু।"- জানোয়ারটা বলতে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? তাকে 'ওয়াচ' করার দরকার নেই কেন?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে পুলিশ স্টেশনের বড়বাবু নিমাই রায়ের উদ্দেশ্যে জগদীশবাবু এই কথাটি বলেছিলেন। এখানে 'জানোয়ার' বলতে গিরিশ মহাপাত্রকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
গিরিশ মহাপাত্রকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে আসা হয়েছিল সন্দেহভাজন রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিক ভেবে। কিন্তু তার চেহারা, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং আচরণ দেখে জগদীশবাবুর মনে হয়েছিল সে অত্যন্ত নিরীহ এবং অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ। তার গায়ের গহনা, পকেটের বাঘ-আঁকা রুমাল, গাঁজার কলকে এবং ভগ্ন স্বাস্থ্য দেখে জগদীশবাবু তাকে উপহাস করেছিলেন। তার মনে হয়েছিল, এই রুগ্ন ও শৌখিন মানুষটি কখনোই দুর্ধর্ষ বিপ্লবী সব্যসাচী হতে পারে না। বিপ্লব করার মতো মানসিক বা শারীরিক ক্ষমতা তার নেই। তাই তাকে নজরে রাখা বা 'ওয়াচ' করা পুলিশের সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
৪.২ "শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন।” তপন কী সংকল্প করে? তপনের এরূপ উপলব্ধির কারণ কী?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপন সংকল্প করে যে, যদি কখনো সে লেখা ছাপতে দেয়, তবে সে নিজে গিয়ে দেবে। নিজের কাঁচা হাতের লেখা সে নিজে গিয়ে জমা দেবে, তাতে তা ছাপা হোক বা না হোক।
তপনের এই উপলব্ধির কারণ হলো তার গল্পের মর্মান্তিক পরিণতি। তপন তার প্রথম গল্পটি লেখক মেসোমশাইয়ের হাতে দিয়েছিল। মেসোমশাই বলেছিলেন তিনি একটু 'কারেকশন' করে দেবেন। কিন্তু 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় গল্পটি ছাপা হওয়ার পর তপন দেখে যে গল্পের নাম ও লেখকের নাম ঠিক থাকলেও, গল্পের বিষয়বস্তু আগাগোড়া বদলে গেছে। মেসোমশাই কারেকশনের নামে পুরো গল্পটাই নতুন করে লিখেছেন। তপন নিজের লেখা পড়তে গিয়ে অন্যের লেখা পড়ে অপমানে ও লজ্জায় কুঁকড়ে যায়। তার মনে হয়, অন্যের দয়ায় পাওয়া খ্যাতির চেয়ে নিজের কাঁচা হাতের লেখার মর্যাদা অনেক বেশি। এই অপমান থেকেই তার মনে এই দৃঢ় সংকল্পের জন্ম হয়।
৫। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৫.১ 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটিতে কবি প্রলয় ও সৃষ্টি দুয়েরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন, তা আলোচনা করো।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি ধ্বংস ও সৃষ্টির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। কবি এখানে কালবৈশাখী ঝড়ের রূপক ব্যবহার করে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দেখেছেন যে, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে হলে এবং জরাজীর্ণ সমাজ ব্যবস্থাকে সরাতে হলে প্রলয় বা ধ্বংসের প্রয়োজন। তাই তিনি তরুণ বিপ্লবীদের আহ্বান জানিয়েছেন সব কিছু ভেঙে ফেলার জন্য।
কিন্তু এই ধ্বংস কেবল বিনাশের জন্য নয়, এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে নতুন সৃষ্টির বীজ। কবি বলেছেন, "ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? / প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন"। অর্থাৎ প্রলয়ের পরেই আসবে নতুন ভোরের আলো, নতুন প্রাণের স্পন্দন। শিব যেমন প্রলয় নটরাজ রূপে ধ্বংস করেন, আবার তিনিই শিব রূপে কল্যাণ করেন। কবি বিশ্বাস করেন, বিপ্লবের আগুন পুরোনোকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে এবং সেই ছাই থেকেই জন্ম নেবে এক স্বাধীন ও সুন্দর ভারত। তাই কবিতায় প্রলয় ও সৃষ্টি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে এসেছে।
৫.২ কবি জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের যে প্রকাশ ঘটেছে তা নিজের ভাষায় বিবৃত করো।
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিরোধী কবিতা। এখানে কবি অস্ত্রের আস্ফালন ও হিংসার বিরুদ্ধে গান বা সৃজনশীলতাকে হাতিয়ার করেছেন। কবি দেখেছেন যে অস্ত্র কেবল মৃত্যু ও ধ্বংস ডেকে আনে, কিন্তু গান মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, জীবনমুখী করে তোলে।
কবি অস্ত্রধারীদের আহ্বান জানিয়েছেন অস্ত্র ফেলে দিতে এবং গানের পায়ে সমর্পণ করতে। তিনি বিশ্বাস করেন, গান কোনো সাধারণ বিনোদন নয়, এটি একটি শক্তি যা মানুষের মন পরিবর্তন করতে পারে। ঋষি বালকের মতো সহজ সরল গানের সুর, কোকিলের গান—এসবই প্রকৃতির ও প্রাণের প্রতীক। গানের বর্ম গায়ে থাকলে কোনো অস্ত্রই মানুষকে আঘাত করতে পারে না। রক্তমাখা হাত বা হিংসার পথ ছেড়ে মানুষ যদি গানের হাত ধরে, তবেই পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। কবি তাই যুদ্ধের ভয়াবহতার বিপরীতে গান, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার জয়গান গেয়েছেন।
৭। কম-বেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "বাংলায় আমি এমন আগুন জ্বালাইবো, যাহা গঙ্গার সমস্ত জল দিয়াও নেভানো যাইবে না।” -এখানে বক্তা কে? বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এই উক্তিটির বক্তা হলেন মীরজাফর।
ঘসেটি বেগম, রাজবল্লভ প্রমুখের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে মীরজাফর নবাব সিরাজদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি জানতেন যে, নবাবের পতন হলে বাংলায় এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি যে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, তার ফলে বাংলায় যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অশান্তির আগুন জ্বলবে, তা সহজে নিভবে না। তিনি ক্ষমতা লোভে এতটাই অন্ধ ছিলেন যে, নিজের দেশের সর্বনাশ জেনেও তিনি এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং গর্বভরে এই উক্তি করেছিলেন। এটি তাঁর দেশদ্রোহিতা ও নিষ্ঠুর মানসিকতার পরিচয় দেয়।
৭.২ "এইবার হয় ত শেষ যুদ্ধ!" কোন যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে? বক্তা এই যুদ্ধকে 'শেষ যুদ্ধ' বলেছেন কেন?
উত্তর: এখানে পলাশির যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।
বক্তা সিরাজদ্দৌলা বুঝতে পেরেছিলেন যে, ইংরেজদের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ অনিবার্য। লর্ড ক্লাইভ সসৈন্যে পলাশির আমবাগানে উপস্থিত। অন্যদিকে, তাঁর নিজের সেনাপতি মীরজাফর ও রায়দুর্লভ ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই পরিস্থিতিতে সিরাজ জানেন যে, এই যুদ্ধই হবে বাংলার স্বাধীনতার ভাগ্য নির্ধারণকারী যুদ্ধ। যদি তিনি জেতেন, তবে বাংলা স্বাধীন থাকবে। আর যদি তিনি হেরে যান, তবে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য চিরতরে অস্তমিত হবে। এই যুদ্ধের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে বাংলার ভবিষ্যৎ। তাই তিনি এই যুদ্ধকে 'শেষ যুদ্ধ' বলে অভিহিত করেছেন।
৮। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ২ = ১০)
৮.১ "ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।"- বক্তা কে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে এই উক্তিটির বক্তা হলেন ক্ষিতীশ সিংহ।
কোনি যখন কঠোর অনুশীলনে ক্লান্ত হয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, তখন ক্ষিতীশ তাকে উৎসাহিত করার জন্য এই কথাটি বলেছিলেন। ক্ষিতীশ বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, সাফল্য পেতে হলে যন্ত্রণাকে সহ্য করতেই হবে। তিনি নিজেই সেই যন্ত্রণার প্রতীক, কারণ তিনি কোনিকে কষ্ট দিচ্ছেন তাকে বড় সাঁতারু তৈরির জন্য। যন্ত্রণা ছাড়া কোনো মহৎ সৃষ্টি সম্ভব নয়। ক্ষিতীশ নিজেকে যন্ত্রণার সঙ্গে এক করে কোনিকে শেখাতে চেয়েছিলেন যে, যন্ত্রণাকে ভয় না পেয়ে তাকে জয় করতে হবে। যন্ত্রণাই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি। এই উক্তির মধ্য দিয়ে ক্ষিতীশের কঠোর অথচ স্নেহশীল প্রশিক্ষক সত্তা ফুটে উঠেছে।
৮.২ "চার বছরের মধ্যেই 'প্রজাপতি' ডানা মেলে দিয়েছে।"- 'প্রজাপতি' কী? কার তত্ত্বাবধানে, কীভাবে 'প্রজাপতি' ডানা মেলে দিয়েছে?
উত্তর: 'প্রজাপতি' হলো ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতীর তৈরি একটি দর্জির দোকান বা টেইলারিং শপ, যা পরে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।
লীলাবতীর দক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং কঠোর পরিশ্রমে 'প্রজাপতি' উন্নতি করেছিল। ক্ষিতীশ সাঁতার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দোকানের দিকে নজর দিতে পারত না, ফলে ব্যবসা ডুবতে বসেছিল। লীলাবতী তখন নিজে হাল ধরে। সে নতুন নতুন ডিজাইনের ব্লাউজ, সায়া ও জামাকাপড় তৈরি শুরু করে। তার ব্যবহারে গ্রাহকরা সন্তুষ্ট হতো। সে কর্মচারীদের ঠিকমতো কাজ করাত এবং হিসেব-নিকেশ রাখত। তার ব্যবসায়িক বুদ্ধি ও নিষ্ঠার ফলে মাত্র চার বছরের মধ্যে ছোট দোকানটি বড় আকার ধারণ করে এবং বাজারে সুনাম অর্জন করে, অর্থাৎ 'ডানা মেলে' দেয়।
৮.৩ জুপিটার ক্লাবে ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি লেখো- উত্তরে ক্ষিতীশ সিংহ কী জানান?
উত্তর: জুপিটার ক্লাবের বার্ষিক সভায় ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলি ছিল—ক্ষিতীশ ক্লাবের নিয়ম মানে না, সে মেয়ে সাঁতারুদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে, সে ক্লাবের স্বার্থ বিরোধী কাজ করে এবং সে নাকি 'চোর' অপবাদও পেয়েছিল।
উত্তরে ক্ষিতীশ সিংহ অত্যন্ত শান্ত ও দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিলেন যে, তিনি দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত এবং বহু সাঁতারু তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি চ্যালেঞ্জ জানান যে, কেউ প্রমাণ করতে পারবে না তিনি কোনো অনৈতিক কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, তিনি সাঁতারকে ভালোবাসেন এবং সাঁতারুদের ভালোর জন্যই তিনি কঠোর হন। তার একমাত্র লক্ষ্য বাংলা তথা ভারত সেরা সাঁতারু তৈরি করা। এই মিথ্যা অপবাদে তিনি অপমানিত বোধ করেন এবং শেষপর্যন্ত ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
১০। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
১০.১ অনলাইন ক্লাসের সুবিধা-অসুবিধা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
উত্তর:
সুমন: কিরে রাজু, কেমন চলছে তোর অনলাইন ক্লাস?
রাজু: চলছে মোটামুটি। তবে স্কুলের মতো মজা নেই। বাড়িতে বসে একনাগাড়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ব্যথা করে।
সুমন: ঠিক বলেছিস। তবে এর সুবিধাও তো আছে। স্কুলে যাওয়ার সময় বাঁচে, আর ঘরে বসেই ক্লাস করা যায়। করোনার সময় তো এটাই একমাত্র ভরসা ছিল।
রাজু: হ্যাঁ, কিন্তু নেটের সমস্যা হলে খুব অসুবিধা হয়। স্যারের কথা মাঝে মাঝে কেটে যায়। আর বন্ধুদের সঙ্গে সেই আড্ডাটাও মিস করি।
সুমন: তাছাড়া প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো তো ঠিকমতো হয় না। সামনাসামনি বোঝার যে সুবিধা, সেটা অনলাইনে পাওয়া যায় না।
রাজু: একদম। আমার মনে হয় অফলাইন ক্লাসই সেরা। তবে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস ভালো বিকল্প।
সুমন: হুম, প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে। আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।
১০.২ তোমাদের অঞ্চলে অনুষ্ঠিত একটি রক্তদান শিবিরের বিবরণ দিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর:
উদ্যোগে রক্তদান শিবির: প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এল যুবসমাজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসাত, ২০ জানুয়ারি: গতকাল বারাসাত নবপল্লি ক্লাবের উদ্যোগে এক মহতী রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হলো। সকাল ১০টায় স্থানীয় বিধায়ক প্রদীপ জ্বালিয়ে এই শিবিরের উদ্বোধন করেন। বর্তমান সময়ে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের চরম সংকট দেখা দিয়েছে, সেই ঘাটতি মেটাতেই এই উদ্যোগ।
শিবিরে মোট ১০০ জন দাতা রক্তদান করেন, যার মধ্যে ২০ জন মহিলা ছিলেন। রক্তদাতাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রত্যেক দাতাকে একটি করে চারাগাছ ও শংসাপত্র দেওয়া হয়। ক্লাবের সম্পাদক জানান, "মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। একটি রক্তদান তিনটি প্রাণ বাঁচাতে পারে।" স্থানীয় হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা রক্ত সংগ্রহের কাজে সহযোগিতা করেন।
দুপুর ২টো নাগাদ শিবির শেষ হয়। এলাকার মানুষ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আগামী দিনেও এমন সমাজসেবামূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
১১। কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (১০)
১১.১ তোমার প্রিয় কবি
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: বাংলা সাহিত্যে বহু কবি এলেও আমার প্রিয় কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কেবল কবি নন, এক মহান দার্শনিক ও ঋষি।
জীবনকথা: ১৮৬১ সালে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম। অল্প বয়স থেকেই কবিতা লেখা শুরু।
সাহিত্যকীর্তি: গীতাঞ্জলি, বলাকা, সোনার তরী, মানসী ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ। ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ।
কেন প্রিয়: ১) প্রকৃতির রূপ বর্ণনা। ২) মানবপ্রেম ও আধ্যাত্মিকতা। ৩) গানের জাদুকরী ভাষা। ৪) দেশপ্রেমমূলক রচনা।
উপসংহার: রবীন্দ্রনাথ আমার কাছে এক ধ্রুবতারা। তাঁর কবিতা আমাকে জীবনের সব পরিস্থিতিতে প্রেরণা যোগায়। তিনি বাঙালির গর্ব, বিশ্বমানবের পথপ্রদর্শক।
১১.২ ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্ব
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: ছাত্ররা দেশের ভবিষ্যৎ। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনই তাদের কাজ নয়, সমাজের প্রতিও তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
দায়িত্বসমূহ: ১) নিরক্ষরতা দূরীকরণ: বয়স্কদের সাক্ষর করা। ২) সমাজসেবা: বন্যা বা খরায় ত্রাণ বিতরণ। ৩) পরিবেশ রক্ষা: গাছ লাগানো ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ৪) সচেতনতা বৃদ্ধি: ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচার।
চরিত্র গঠন: সেবার মাধ্যমে ছাত্রদের মন উদার হয়, সহমর্মিতা বাড়ে।
উপসংহার: স্বামীজি বলেছিলেন, "জীব সেবাই শিব সেবা"। ছাত্রজীবনই হলো সমাজসেবার সেরা সময়। একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়তে ছাত্রদের এগিয়ে আসতে হবে।
১১.৩ বিজ্ঞানশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞানের আলো ছাড়া আধুনিক জীবন অচল।
প্রয়োজনীয়তা: ১) কুসংস্কার দূরীকরণ: বিজ্ঞানমনস্কতা মানুষকে অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্তি দেয়। ২) কৃষ ও শিল্পে উন্নতি: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধি। ৩) স্বাস্থ্যরক্ষা: রোগ নিরাময় ও স্বাস্থ্য সচেতনতা। ৪) দৈনন্দিন জীবন: যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় সুবিধা।
শিক্ষার মাধ্যম: মাতৃভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা দিলে তা সহজে বোঝা যায়।
উপসংহার: দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য বিজ্ঞান শিক্ষা অপরিহার্য। তবে বিজ্ঞানের অপব্যবহার রোধ করতেও শিক্ষার প্রয়োজন।
১১.৪ বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: অরণ্য ও বন্যপ্রাণী প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অপরিসীম।
সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: ১) জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: গাছ বৃষ্টিপাত ঘটায় ও উষ্ণতা কমায়। ২) জীববৈচিত্র্য রক্ষা: বাঘ, হাতি ইত্যাদি লুপ্তপ্রায় প্রাণী রক্ষা করা। ৩) অর্থনৈতিক গুরুত্ব: কাঠ, মধু, ঔষধ ইত্যাদি।
বর্তমান সংকট: নির্বিচারে গাছ কাটা ও চোরাশিকারের ফলে বন ও বন্যপ্রাণী ধ্বংস হচ্ছে।
প্রতিকার: ১) কঠোর আইন প্রণয়ন। ২) অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান স্থাপন। ৩) জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
উপসংহার: "একটি গাছ, একটি প্রাণ"। আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করতে হবে।