১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী ছিলেন-
ক) পাঁচদিন
খ) তিনদিন
গ) সাতদিন
ঘ) একদিন
উত্তর: গ) সাতদিন
১.২ "এসো, আমরা কুস্তি লড়ি"- উক্তিটি করেছে
ক) অমৃত
খ) ইসাব
গ) কালিয়া
ঘ) ছেলে ছোকরার দল
উত্তর: গ) কালিয়া
১.৩ "ইচ্ছা করিলে আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি"- উক্তিটির বক্তা হলেন-
ক) নদেরচাঁদ
খ) অপূর্ব
গ) পুলিশ ইন্সপেক্টর
ঘ) হরিদা
উত্তর: গ) পুলিশ ইন্সপেক্টর (নিমাইবাবু)
১.৪ পশ্চিম দিগন্তপানে ঝড় এসেছিল
ক) প্রভাতকালে
খ) প্রদোষকালে
গ) দ্বিপ্রহরে
ঘ) গোধূলিবেলায়
উত্তর: খ) প্রদোষকালে
১.৫ মিষ্টিবাড়ির ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমিয়েছিল-
ক) কবি
খ) মেয়েটি
গ) দেবতারা
ঘ) বন্ধুটি
উত্তর: ক) কবি
১.৬ "চিত্রের পোতলি সমা নিপতিত মনোরমা"- 'চিত্রের পোতলি সমা' ছিলেন
ক) পদ্মাবতী
খ) সমুদ্রকন্যা
গ) নাগমতী
ঘ) বিজয়া
উত্তর: ক) পদ্মাবতী
১.৭ ওস্তাদ কলমবাজদের বলা হত-
ক) জার্নালিস্ট
খ) টাইপিস্ট
গ) স্টেনোগ্রাফার
ঘ) ক্যালিগ্রাফিস্ট
উত্তর: ঘ) ক্যালিগ্রাফিস্ট
১.৮ প্রীতির সঙ্গে আয়ত্ত করতে হয় যে ভাষা পদ্ধতি
ক) মাতৃভাষা
খ) বিদেশি ভাষা
গ) তৎসম ভাষা
ঘ) হিন্দি ভাষা
উত্তর: ক) মাতৃভাষা
১.৯ 'আমাদের ইতিহাস নেই'- নিম্নরেখ পদটি
ক) কর্তৃকারক
খ) কর্মকারক
গ) বিশেষণ
ঘ) অধিকরণ কারক
উত্তর: খ) কর্মকারক (কী নেই? - ইতিহাস)
১.১০ আলংকারিকগণ শব্দের যত প্রকার গুণের কথা বলেছেন-
ক) দু'রকম
খ) তিন রকম
গ) চার রকম
ঘ) বহুরকম
উত্তর: খ) তিন রকম (অভিধা, লক্ষণা, ব্যঞ্জনা)
১.১১ বাক্যের অর্থের পূর্ণতা প্রকাশ করে-
ক) নামপদ
খ) অব্যয়
গ) সম্বন্ধ পদ
ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর: ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
১.১২ দ্বন্দ্ব সমাসে অর্থ প্রাধান্য থাকে
ক) পূর্বপদের
খ) পরপদের
গ) উভয় পদের
ঘ) অন্য নতুন পদের
উত্তর: গ) উভয় পদের
১.১৩ সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে সাধারণত যে বিভক্তি থাকে-
ক) তে
খ) য়
গ) এ
ঘ) র/এর
উত্তর: ঘ) র/এর
১.১৪ "আবার তোরা মানুষ হ।" যে ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত-
ক) প্রার্থনাসূচক
খ) অনুজ্ঞাসূচক
গ) অস্ত্যর্থক
ঘ) আবেগসূচক
উত্তর: ক) প্রার্থনাসূচক (Note: প্রশ্নপত্রের উত্তরমালা অনুযায়ী 'ক', যদিও এটি অনুজ্ঞাসূচক বা উপদেশমূলকও হতে পারে।)
১.১৫ বাক্যে অন্বয় অনুযায়ী পদগুলির যথাস্থানে সংস্থাপনকে বলা হয়-
ক) আসত্তি
খ) আসক্তি
গ) আকাঙ্ক্ষা
ঘ) যোগ্যতা
উত্তর: ক) আসত্তি
১.১৬ "তোরা সব জয়ধ্বনি কর" যে বাচ্যের উদাহরণ-
ক) কর্তৃবাচ্য
খ) কর্মবাচ্য
গ) ভাববাচ্য
ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর: ক) কর্তৃবাচ্য
১.১৭ ক্রিয়ার অর্থ প্রাধান্য পায় যে বাচ্যে-
ক) কর্তৃবাচ্য
খ) কর্মবাচ্য
গ) ভাববাচ্য
ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর: গ) ভাববাচ্য
২। কম-বেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (১ x ১৯ = ১৯)
২.১. যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো তপনের"- তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠার কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর: নিজের লেখা গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে দেখে তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল।
২.১.২ "এবারের মতো মাপ করে দিন ওদের" কে, কাকে একথা বলেছিলেন?
উত্তর: পুলিশ স্টেশনে জগদীশবাবু, বড়বাবু নিমাইবাবুকে উদ্দেশ্য করে গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে একথা বলেছিলেন।
২.১.৩ "কেবল এই জন্যই যেন সে আজও বাঁচিয়া আছে"- উক্তিটি কোন্ প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: 'পথের দাবী' উপন্যাসে অপূর্ব স্টেশনে ফিরঙ্গিদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার পরেও, যাকে সে আপনজন মনে করে, তারা তাকে লাথি মেরেছে—এই অপমানের জ্বালা এবং এর প্রতিশোধ স্পৃহা নিয়েই সে যেন বেঁচে আছে।
২.১.৪ অমৃতের কোন কথা হাসানকে বদলে দিয়েছিল?
উত্তর: ইসাবকে বাঁচানোর প্রসঙ্গে অমৃত বলেছিল, "কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।"—এই কথাটিই হাসানকে বদলে দিয়েছিল।
২.১.৫ "একটু মমতাবোধ করিল বটে" কোন্ বিষয়ে মমতাবোধ করার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: নদেরচাঁদ নদীর প্রতি এক গভীর মমতাবোধ অনুভব করেছিল।
২.২. যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "নেমে এল তার মাথার ওপর"- কার মাথার ওপর কী নেমে আসার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কথকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির মাথার ওপর পাথরের মতো একটার পর একটা বছর নেমে আসার কথা বলা হয়েছে।
২.২.২ আফ্রিকার উপেক্ষিত থাকার কারণ কী ছিল?
উত্তর: তথাকথিত সভ্য সমাজের চোখে আফ্রিকা ছিল সৃষ্টিছাড়া বা মানবেতর, তাই সভ্যতার আলো থেকে দূরে আফ্রিকা উপেক্ষিত ছিল।
২.২.৩ "হাসিবে মেঘবাহন" 'মেঘবাহন' কে ছিলেন?
উত্তর: 'মেঘবাহন' হলেন দেবরাজ ইন্দ্র।
২.২.৪ "পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন" পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছিল?
উত্তর: পদ্মা ও তার সখীদের দীর্ঘ চারদণ্ড ধরে শুশ্রূষা ও তন্ত্রমন্ত্র মহৌষধির প্রয়োগে পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেয়েছিল।
২.২.৫ কবি কেন কোকিলকে সহস্র উপায়ে গান বাঁধতে বলেছিলেন?
উত্তর: অস্ত্রের বিরুদ্ধে ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগরিত করার জন্য এবং হাত নাড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য কবি কোকিলকে সহস্র উপায়ে গান বাঁধতে বলেছিলেন।
২.৩. যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ বাংলাভাষায় বিজ্ঞান চর্চার একটি বাধার উল্লেখ করো।
উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার একটি প্রধান বাধা হলো উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব।
২.৩.২ "এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত"- 'কথাটি' কী?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বা প্রবন্ধ লেখার সময় ভাষা অত্যন্ত সরল, স্পষ্ট ও আড়ম্বরহীন হওয়া উচিত।
২.৩.৩ "সেগুলি বান্ডিল করে নিয়ে যেতাম স্কুলে" কারা কী নিয়ে যেতেন?
উত্তর: শৈশবে লেখক ও তাঁর সমবয়সীরা বাঁশের কঞ্চি বা কলম, মাটির দোয়াত এবং ঘরের তৈরি কালি—এসব বান্ডিল করে স্কুলে নিয়ে যেতেন।
২.৩.৪ শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় কার কাছ থেকে ফাউন্টেন পেনের নেশা পেয়েছিলেন?
উত্তর: শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ফাউন্টেন পেনের নেশা পেয়েছিলেন।
২.৪. নীচের যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ বিভক্তি ক-প্রকার?
উত্তর: বিভক্তি প্রধানত দুই প্রকার—শব্দ বিভক্তি ও ধাতু বিভক্তি (ক্রিয়া বিভক্তি)।
২.৪.২ বাক্যে সম্বোধন পদের উদাহরণ দাও।
উত্তর: "ওগো, তুমি কোথায় যাচ্ছ?"—এখানে 'ওগো' হলো সম্বোধন পদ।
২.৪.৩ অনুসর্গ ও নির্দেশকের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: অনুসর্গগুলি অব্যয় পদ এবং শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে, কিন্তু নির্দেশকগুলি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে (পদাশ্রয়ী)।
২.৪.৪ বহুব্রীহি সমাসের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: দশানন = দশ আনন যার (রাবণ)।
২.৪.৫ বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলতে কী বোঝো?
উত্তর: যে সমাসে একটি সম্পূর্ণ বাক্য বা বাক্যাংশ সমাসবদ্ধ পদ রূপে ব্যবহৃত হয়, তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। যেমন: 'বসে আঁকো প্রতিযোগিতা'।
২.৪.৬ বাক্য নির্মাণের প্রধান শর্ত তিনটি কী কী?
উত্তর: যোগ্যতা, আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি।
২.৪.৭ সরলবাক্যের একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: সরলবাক্যে একটিমাত্র উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র বিধেয় (সমাপিকা ক্রিয়া) থাকে।
২.৪.৮ ক্রিয়ার কাল অনুযায়ী অনুজ্ঞাসূচক বাক্য ক'প্রকার ও কী কী?
উত্তর: দুই প্রকার—বর্তমান অনুজ্ঞা এবং ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা।
২.৪.৯ কোন্ বাচ্যের রূপান্তর সম্ভব নয়?
উত্তর: কর্মকর্তৃবাচ্যের।
২.৪.১০ কর্মবাচ্যের ক্রিয়াপদটি কী ধরনের হয়?
উত্তর: সকর্মক ক্রিয়া এবং তা কর্মের অনুসারী হয়।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও (৩ + ৩ = ৬)
৩.১. যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৩ x ১ = ৩)
৩.১.১ "সেও তো তাহাদেরই একজন" সে কে? তাকে কাদের একজন বলা হয়েছে?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে রামদাস তলোয়ারকরের স্ত্রীর কথা বলা হয়েছে।
তাকে অপূর্বর মতো বিপ্লবীদের প্রতি সহমর্মী বা সমব্যথী দলের একজন বলা হয়েছে, কারণ সেও মনে মনে দেশের স্বাধীনতার জন্য বিপ্লবীদের সমর্থন করে।
৩.১.২ "কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।" কার উক্তি? উক্তিটির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত বক্তার চরিত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরো।
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে অমৃতের উক্তি।
এই উক্তির মধ্য দিয়ে অমৃতের গভীর মাতৃভক্তি এবং বন্ধু ইসাবের প্রতি তার ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। সে জানে তার মা তাকে আগলে রাখবেন, এই বিশ্বাস থেকেই তার এই সরল স্বীকারোক্তি।
৩.২. যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৩ x ১ = ৩)
৩.২.১ "আগে পূজ ইষ্টদেবে" কার উদ্দেশ্যে কে এই উক্তি করেছিলেন? এমন উক্তির কারণ কী ছিল?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশে ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মী ইন্দ্রজিৎকে এই কথা বলেছিলেন।
রামচন্দ্রকে বধ করার জন্য যুদ্ধের যাত্রার পূর্বে ইষ্টদেবতা বা অগ্নিদেবের পূজা করে আশীর্বাদ লাভ করা প্রয়োজন, যাতে যুদ্ধে জয়লাভ নিশ্চিত হয়—এজন্যই তিনি এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন।
৩.২.২ "এসো যুগান্তের কবি"- যুগান্তের কবিকে আহ্বান করার কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় কবি যুগান্তের কবিকে আহ্বান করেছেন আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে অপমানিত আফ্রিকার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য। সভ্য সমাজের বর্বরতার কলঙ্ক মোচনের জন্য এই ক্ষমার বাণীই হবে একমাত্র সত্য বা পুণ্যবাণী।
৪। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন"- কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কীভাবে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো ব্যবহার করেছিলেন, আলোচনা করো।
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে মূল চরিত্র হরিদার কথা বলা হয়েছে।
হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে গিয়েছিলেন। জগদীশবাবু তাঁকে প্রণামী হিসেবে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হরিদা তা স্পর্শ করেননি। তিনি বলেছিলেন, টাকা স্পর্শ করলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যাবে। একজন প্রকৃত সন্ন্যাসীর মতোই তিনি জাগতিক লোভ-লালসা ও অর্থের মায়া ত্যাগ করে সেই অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, সন্ন্যাসী সাজার মজাই হলো নির্লোভ থাকা। অভাবের সংসার হওয়া সত্ত্বেও তিনি সেই বিপুল অর্থ হেলায় তুচ্ছ করে চলে এসেছিলেন, যা তাঁর খাঁটি সন্ন্যাসীসুলভ মানসিকতার পরিচয় দেয়।
৪.২ "যাঁকে খুঁজছেন তার কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।" কাকে খোঁজার কথা বলা হয়েছে? যাকে থানায় আনা হয়েছিল, তার কালচারের পরিচয় দাও।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে রাজদ্রোহী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে খোঁজার কথা বলা হয়েছে।
থানায় যাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আনা হয়েছিল, তার নাম গিরীশ মহাপাত্র। তার বেশভূষা ও আচরণের মধ্যে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য ও রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। তার মাথার চুলে লেবুর তেল, গায়ে রামধনু রঙের পাঞ্জাবি, পায়ে সবুজ মোজা ও পাম্পশু—সব মিলিয়ে এক বিচিত্র সাজ। তার পকেট থেকে গাঁজার কলকে পাওয়া গেলেও সে দাবি করে সে গাঁজা খায় না। তার এই অদ্ভুত পোশাক-আশাক এবং কথাবার্তা তার তথাকথিত 'বাবু কালচার' বা শৌখিনতার পরিচয় দিলেও তা ছিল হাস্যকর ও অতিরঞ্জিত।
৫। কম-বেশি ১৫০ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৫.১ 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তার বর্ণনা দাও।
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' একটি যুদ্ধবিরোধী কবিতা। এখানে কবি অস্ত্রের আস্ফালনকে মানবতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কবি সকলকে অস্ত্র পায়ে নামিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, হিংসা দিয়ে হিংসাকে জয় করা যায় না, কেবল গান বা ভালোবাসাই পারে পৃথিবীকে রক্ষা করতে। কবি গানের বর্ম পরে ঋষি বালকের মতো শান্ত থাকার কথা বলেছেন। কোকিলের গানের মধ্য দিয়ে তিনি সহস্র উপায়ে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন। রক্তমুছি শুধু গানে—এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধ ও সংঘাতের রক্তপাত কেবল শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবতার সুর দিয়েই মোচন করা সম্ভব।
৫.২ "আসছে নবীন জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন।" প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উক্তিটির মর্মার্থ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি কালবৈশাখী ঝড়ের রূপক ব্যবহার করে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টির বার্তা দিয়েছেন।
এখানে 'নবীন' বলতে ভারতের উদীয়মান যুবশক্তি বা বিপ্লবীদের বোঝানো হয়েছে। 'জীবনহারা অ-সুন্দর' হলো পরাধীন ভারতবর্ষের জরাজীর্ণ সমাজ ব্যবস্থা, কুসংস্কার এবং ব্রিটিশ শাসনের শোষণ। কবি বলতে চেয়েছেন, এই প্রলয়রূপী নবীনরা এসে সমাজের সমস্ত আবর্জনা, পরাধীনতার গ্লানি এবং অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। ধ্বংসের পরেই যেমন নতুন সৃষ্টি হয়, তেমনই বিপ্লবের মাধ্যমেই পরাধীনতার অন্ধকার দূর হয়ে স্বাধীনতার নতুন সূর্য উঠবে।
৬। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।" কারা কালি তৈরি করতেন? তারা কীভাবে কালি তৈরি করতেন?
উত্তর: শ্রীপান্থ রচিত 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক এবং তাঁর ছোটবেলার বন্ধুরা নিজেরাই কালি তৈরি করতেন।
কালি তৈরির পদ্ধতি ছিল বেশ ঘরোয়া। তাঁরা কাঠের উনুনে রান্না করা কড়াইয়ের তলায় জমে থাকা ভুষো বা কালির গুঁড়ো সংগ্রহ করতেন। সেই ভুষো লাউ বা কুমড়ো পাতা দিয়ে ঘষে জলে গুলে নেওয়া হতো। এরপর তাতে হরিতকী বা বহেড়া ঘষে মেশানো হতো। কখনো কখনো আতপ চাল ভাজা পুড়িয়ে এবং বেটে তাতে মেশানো হতো। সবশেষে ওই মিশ্রণে খুন্তি লাল করে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। এভাবেই তৈরি হতো টেকসই এবং গাঢ় কালো কালি।
৬.২ "অনেকে মনে করেন পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়।" আলোচ্য প্রবন্ধে পরিভাষা রচনা প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক যে মত প্রকাশ করেছেন, তা আলোচনা করো।
উত্তর: 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে রাজশেখর বসু বলেছেন যে, পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে কেবল বিবরণ দিয়ে বিজ্ঞান আলোচনা করলে রচনা সহজ হওয়ার বদলে আরও জটিল হয়ে পড়ে। যেমন, 'স্তন্যপায়ী'র বদলে যদি বলা হয় 'যে সব জীব বাচ্চাকে স্তন্যপান করায়', তবে তা শুনতে খারাপ লাগে এবং লিখনভঙ্গিও দুর্বল হয়ে যায়। প্রাবন্ধিকের মতে, আন্তর্জাতিক ভাব বজায় রাখার জন্য ইংরেজি পরিভাষাই গ্রহণ করা উচিত, তবে বাংলা ভাষায় যেখানে উপযুক্ত শব্দ নেই, সেখানে নতুন শব্দ তৈরি না করে ইংরেজি শব্দটিই বাংলা বানানে ব্যবহার করা শ্রেয়। অর্থাৎ, বৈজ্ঞানিক বিষয়কে সহজ ও প্রাঞ্জল করার জন্য উপযুক্ত পরিভাষার ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন।
৭। কম-বেশি ১২৫ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন।" কার উক্তি? প্রসঙ্গ নির্দেশ করে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার উক্তি।
ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আসন্ন বিপদের মুহূর্তে সিরাজদ্দৌলা তাঁর সভাসদদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য এই কথা বলেছিলেন। তিনি জানতেন মিরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু বিদেশি শত্রুর হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে হলে এখন পারস্পরিক দোষারোপ বা বিচারের সময় নয়। এখন প্রয়োজন সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের হাত ধরা এবং সৌহার্দ্য স্থাপন করা। এই উক্তির মাধ্যমে সিরাজের দেশপ্রেম এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়।
৭.২ "মনে হয় ওর নিঃশ্বাসে বিষ; ওর দৃষ্টিতে আগুন" বক্তা কে? যার সম্পর্কে একথা বলা হয়েছে, নাট্যাংশ অবলম্বনে তার চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: বক্তা হলেন নবাব সিরাজদ্দৌলা। কথাটি ঘষেটি বেগম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
ঘষেটি বেগম ছিলেন সিরাজের খালা বা মাসি এবং আলিবর্দি খাঁ-র জ্যেষ্ঠা কন্যা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী, কুটিল এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ। তিনি সিরাজের নবাব হওয়া মেনে নিতে পারেননি, তাই তিনি ইংরেজের সাথে হাত মিলিয়ে সিরাজের পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তাঁর হৃদয়ে মায়া-মমতার কোনো স্থান ছিল না, ছিল কেবল ক্ষমতার লোভ এবং সিরাজের প্রতি তীব্র ঘৃণা। তাঁর এই বিষাক্ত মানসিকতার জন্যই সিরাজ তাঁর সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন।
৮। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ২ = ১০)
৮.১ "ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি" বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন?
উত্তর: মতিনন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ (ক্ষিদ্দা) এই কথাটি বলেছিলেন।
কোনিকে কঠোর প্রশিক্ষণের সময় যখন সে যন্ত্রণায় ছটফট করত, তখন ক্ষিতীশ তাকে থামতে দিতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে হলে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে জয় করতে হয়। যন্ত্রণাকে সহ্য করার ক্ষমতা থেকেই জেদ বা তেজ জন্মায়। কোনি যখন যন্ত্রণার অভিযোগ করত, তখন ক্ষিতীশ নিজেকেই সেই যন্ত্রণার মূর্ত প্রতীক হিসেবে দাবি করে তাকে উদ্বুদ্ধ করতেন, যাতে কোনি সেই যন্ত্রণাকে অতিক্রম করে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে।
৮.২ "অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।"- কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেয়েছিল তা আলোচনা করো।
উত্তর: কোনির বাংলা দলে জায়গা পাওয়ার পথ মোটেও সুগম ছিল না। জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কোনিকে অনেক লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়। তবে ক্ষিতীশের কঠোর প্রশিক্ষণ এবং কোনির অদম্য জেদ তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। অ্যাপোলো ক্লাবের হয়ে এবং পরে বালিগঞ্জ ক্লাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় সে তার প্রতিভা প্রমাণ করে। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্র ও রাজনীতির বেড়াজাল ছিন্ন করে নিজের যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের জোরেই কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা করে নেয় এবং জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়।
৮.৩ 'কোনি' উপন্যাস অবলম্বনে স্বামীর যোগ্য সহধর্মিনী হিসেবে লীলাবতীর পরিচয় দাও।
উত্তর: ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতী 'কোনি' উপন্যাসের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তিনি একজন ব্যবসায়িক বুদ্ধিসম্পন্ন ও পরিশ্রমী নারী। ক্ষিতীশ যখন সাঁতার নিয়ে মেতে থাকতেন এবং সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন, তখন লীলাবতীই 'প্রজাপতি' দোকান চালিয়ে সংসার সামলেছেন। তিনি ক্ষিতীশের পাগলামিকে মেনে নিয়েও তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন। কোনির খাওয়ার খরচ জোগাতেও তিনি পিছপা হননি। তিনি মুখে কটু কথা বললেও অন্তরে স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং ক্ষিতীশের স্বপ্নের শরিক হয়ে উঠেছিলেন। স্বামীর পাশে থেকে সংসারের হাল ধরা এবং পরোক্ষভাবে তাঁর সাধনায় সাহায্য করার মধ্য দিয়ে তিনি একজন যোগ্য সহধর্মিনীর পরিচয় দিয়েছেন।
১০। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
১০.১ গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
(সংকেত: দুই বন্ধু—রাজু ও সুমন। তারা আলোচনা করবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং এর প্রতিকারে গাছ লাগানোর গুরুত্ব নিয়ে।)
১০.২ বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী উৎসব বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
(সংকেত: শিরোনাম—বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী উৎসব। স্থান ও তারিখ উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন, প্রধান অতিথির ভাষণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার প্রদান এবং সমাপ্তি ঘোষণা নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে হবে।)
১১। কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো (১০ x ১ = ১০)
১১.১ বাংলার উৎসব
(বিষয়বস্তু: উৎসবের প্রয়োজনীয়তা, বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বণ, ধর্মীয় উৎসব, ঋতু উৎসব, সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব, উৎসবের মিলন মেলা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট।)
১১.২ পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
(বিষয়বস্তু: পরিবেশের সংজ্ঞা, দূষণের প্রকারভেদ—বায়ু, জল, শব্দ ও মৃত্তিকা দূষণ, দূষণের কারণ ও জনজীবনের উপর প্রভাব, এবং প্রতিকারের উপায় হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি।)
১১.৩ বিজ্ঞানমনস্কতা ও কুসংস্কার
(বিষয়বস্তু: বিজ্ঞানের জয়যাত্রা সত্ত্বেও সমাজে কুসংস্কারের অস্তিত্ব, বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব, কুসংস্কার দূরীকরণে ছাত্র সমাজের ভূমিকা ও যুক্তিবাদী মানসিকতার প্রসার।)
১১.৪ একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
(বিষয়বস্তু: ভ্রমণের স্থান নির্বাচন, যাত্রাপথ, প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, এবং ভ্রমণ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও আনন্দ।)