বিভাগ 'ক' : সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ নদেরচাঁদ রওনা করিয়েছিল-
(ক) আড়াইটা
(খ) সাড়ে তিনটা
(গ) চারটে পঁয়তাল্লিশ
(ঘ) পৌনে ছয়টা-এর ট্রেন
উত্তর: (গ) চারটে পঁয়তাল্লিশ
১.২ হাসান বললেন, বাহালি বৌদি, অমৃতের মতো ছেলে পেলে আমি-
(ক) কুড়ি
(খ) একুশ
(গ) বাইশ
(ঘ) তেইশ জনকেও পালন করতে রাজি
উত্তর: (খ) একুশ
১.৩ কেবল আশ্চর্য সেই মুখের অদ্ভুত দুটি চোখের-
(ক) দৃষ্টি
(খ) চাহনি
(গ) ইশারা
(ঘ) ভাষা
উত্তর: (ক) দৃষ্টি
১.৪ 'দিগম্বরের জটায় হাসে' -
(ক) ক্ষীণ
(খ) বৃদ্ধ
(গ) শিশু-চাঁদের কর
(ঘ) সুন্দর-চাঁদের কর
উত্তর: (গ) শিশু-চাঁদের কর
১.৫ 'কন্যারে ফেলিল যথা'- এই কন্যা হলেন-
(ক) রতন সেনের কন্যা পদ্মাবতী
(খ) রত্নসেনের স্ত্রী পদ্মাবতী
(গ) পদ্মাবতীর পঞ্চম সখী
(ঘ) সমুদ্রকন্যা পদ্মা
উত্তর: (ঘ) সমুদ্রকন্যা পদ্মা [Note: প্রশ্নপত্রে প্রদত্ত উত্তরমালা অনুযায়ী]
১.৬ "যথা বৃহন্নলারূপী কিরীটি”, 'কিরীটি' হলেন-
(ক) ভীম
(খ) কার্তিক
(গ) ইন্দ্রজিৎ
(ঘ) অর্জুন
উত্তর: (ঘ) অর্জুন
১.৭ "লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে"- বলেছিলেন-
(ক) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
(খ) অন্নদাশংকর
(গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১.৮ "হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড”- বলেছিলেন-
(ক) রবীন্দ্রনাথ
(খ) বিদ্যাসাগর
(গ) কালিদাস
(ঘ) রাজশেখর বসু
উত্তর: (গ) কালিদাস
১.৯ 'স্টাইলাস' আসলে-
(ক) হাড়
(খ) প্লাটিনাম
(গ) ব্রোঞ্জ-এর শলাকা
(ঘ) তামা
উত্তর: (গ) ব্রোঞ্জ-এর শলাকা
১.১০ অনুসর্গ এক প্রকার-
(ক) বিশেষ্য
(খ) বিশেষণ
(গ) সর্বনাম
(ঘ) অব্যয়
উত্তর: (ঘ) অব্যয়
১.১১ বিভক্তি শব্দটির অর্থ-
(ক) বিশেষ
(খ) বিকার
(গ) বিভাজন
(ঘ) বিরাগ
উত্তর: (গ) বিভাজন
১.১২ 'পূজার ফুল' হল-
(ক) কর্ম
(খ) কর্তা
(গ) করণ
(ঘ) নিমিত্ত সম্বন্ধ
উত্তর: (ঘ) নিমিত্ত সম্বন্ধ (পূজার নিমিত্ত ফুল)
১.১৩ দ্বন্দু সমাসে অর্থ প্রাধান্য থাকে-
(ক) পূর্বপদের
(খ) উভয়পদের
(গ) পরপদের
(ঘ) অন্যপদের
উত্তর: (খ) উভয়পদের
১.১৪ মায়ে ঝিয়ে গল্প করে। রেখাঙ্কিত পদটি হলো-
(ক) সহযোগী
(খ) ব্যতিহার
(গ) অনুক্ত
(ঘ) প্রযোজ্য কর্তা
উত্তর: (ক) সহযোগী কর্তা
১.১৫ বাক্য নির্মাণের আবশ্যিক শর্ত-
(ক) যোগ্যতা ও আকাঙ্ক্ষা
(খ) যোগ্যতা আকাঙ্ক্ষা আসত্তি
(গ) আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি
(ঘ) যোগ্যতা ও আসত্তি
উত্তর: (খ) যোগ্যতা আকাঙ্ক্ষা আসত্তি
১.১৬ একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে
(ক) জটিল
(খ) মিশ্র
(গ) যৌগিক
(ঘ) সরল বাক্যে
উত্তর: (ঘ) সরল বাক্যে
১.১৭ পূর্বপদ উপমেয়, পরপদ উপমান, সাধারণ ধর্ম অনুপস্থিত।-এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়-
(ক) উপমান কর্মধারয়ে
(খ) উপমিত কর্মধারয়ে
(গ) রূপক কর্মধারয়ে
(ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ে
উত্তর: (খ) উপমিত কর্মধারয়ে
বিভাগ 'খ' : কম-বেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (১৯ নম্বর)
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "তিনি নাকি বই লেখেন"- কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের নতুন মেসোমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
২.১.২ "মাস্টারমশাই একটুও রাগ করেন নি। বরং একটু তারিফই করলেন”- মাস্টারমশাই কার তারিফ করলেন?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে মাস্টারমশাই অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের ও জামা অদলবদলের ঘটনার তারিফ বা প্রশংসা করেছিলেন।
২.১.৩ "তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?” বস্তুটি কী?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে পাওয়া গাঁজার কলকের কথা বলেছেন।
২.১.৪ "উনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরলেন।" এই জড়িয়ে ধরার কারণ কী?
উত্তর: ইসাবকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচাতে অমৃত যে নিজের নতুন জামা ইসাবকে দিয়ে দিয়েছিল, সেই আত্মত্যাগের কথা শুনে আবেগে ইসাবের বাবা অমৃতকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
২.১.৫ "বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের" এই ভয়ের কারণ কী?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে অন্ধকারে বর্ষার নদীর উন্মত্ত ও ভয়াল রূপ এবং ব্রিজের নিচে তার গর্জন শুনে নদেরচাঁদের মনে ভয় হয়েছিল যে নদী হয়তো ব্রিজ ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস"- 'মাঞ্জস' শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'মাঞ্জস' শব্দটির অর্থ হলো ভেলা বা নৌকা।
২.২.২ "সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।”- 'সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী' কী?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী হলো—"ক্ষমা করো"।
২.২.৩ "অস্ত্র ফেলো, অস্ত্র রাখো" কবি কোথায় অস্ত্র রাখতে বলেছেন?
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি গানের দুটি পায়ে অস্ত্র রাখতে বলেছেন।
২.২.৪ "হাসিবে মেঘবাহন"- 'মেঘবাহন' কে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কবিতায় 'মেঘবাহন' বলতে দেবরাজ ইন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে।
২.২.৫ "এই তো রে তার আসার সময়"- কার আসার সময় বলে মনে করা হচ্ছে?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় প্রলয়ঙ্কর শিব বা মহাকালের আসার সময়ের কথা বলা হয়েছে।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ "বাবু কুইল ড্রাইভারস" কাদের সম্পর্কে এমন কথা বলা হতো?
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে প্রাচীনকালে যারা পালকের কলম দিয়ে লিখতেন, তাদের সম্পর্কে লর্ড কার্জন বা ইংরেজরা বলতেন "বাবু কুইল ড্রাইভারস"।
২.৩.২ "তাঁরও ছিল ফাউন্টেন পেনের নেশা" কার সম্বন্ধে এই কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ফাউন্টেন পেনের নেশার কথা বলা হয়েছে।
২.৩.৩ "আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন”- শব্দের এই 'ত্রিবিধ কথা'গুলি কী কী?
উত্তর: রাজশেখর বসুর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধ অনুযায়ী শব্দের ত্রিবিধ কথা হলো—অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা।
২.৩.৪ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম বাধা কী?
উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান বাধা হলো উপযুক্ত পরিভাষার অভাব এবং ইংরেজি থেকে আক্ষরিক অনুবাদের প্রবণতা।
২.৪ নীচের যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ কারক-এ নির্দেশক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি পদের শেষে যুক্ত হয়ে পদের বচন বা সংখ্যা নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক বলে। যেমন—টা, টি, গুলো, গুলি।
২.৪.২ ট্রেন রোডষ্টেশন ছেড়ে গেছে।-রেখাঙ্কিত পদটির কারক বিভক্তি নির্ণয় করো।
উত্তর: রোডষ্টেশন—অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি (স্থান বা স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বোঝাচ্ছে)।
২.৪.৩ বিপরীতার্থক দ্বন্দুের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: জমা ও খরচ = জমাখরচ; আয় ও ব্যয় = আয়ব্যয়।
২.৪.৪ রথকে দেখা রথদেখা এখানে কী ধরনের সমাস হয়েছে?
উত্তর: কর্ম তৎপুরুষ সমাস ('কে' বিভক্তি লোপ পেয়েছে)।
২.৪.৫ যোগ্যতাহীন বাক্যের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: গরু আকাশে ওড়ে (বাস্তবতার সাথে সংগতি নেই, তাই যোগ্যতা নেই)।
২.৪.৬ একটি মিশ্র বাক্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: সে বাড়ি ফিরল এবং ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল, কিন্তু তার মন ভালো ছিল না।
২.৪.৭ "গান তো জানি একটা দুটো।" ভাববাচ্যে পরিণত করো।
উত্তর: গান তো একটা দুটো জানা আছে।
২.৪.৮ একটি কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: শাঁখ বাজে।
২.৪.৯ একটি শর্তসাপেক্ষ বাক্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: যদি বৃষ্টি হয়, তবে আমি যাব না।
২.৪.১০ 'অন্ধকার' শব্দটির ব্যাসবাক্য ও সমাস নির্ণয় করো।
উত্তর: অন্ধ করে যে = অন্ধকার (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
বিভাগ 'গ' : প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও (৩ x ২ = ৬)
৩.১.১ "পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে।”- অলৌকিক ঘটনাটি কী? এটাকে অলৌকিক বলার কারণ কী?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের লেখা গল্পটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার ঘটনাটিকে অলৌকিক বলা হয়েছে।
তপনের মতো একজন সাধারণ ছেলের লেখা যে সত্যিই ছাপার অক্ষরে হাজার হাজার কপি হয়ে প্রকাশিত হতে পারে, এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য ও কল্পনাতীত ছিল। তাই সে ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে মনে করেছিল।
৩.১.২ "সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।”- কী দুর্লভ জিনিস? তাকে দুর্লভ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত হিমালয়ের সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোকে 'দুর্লভ' বলা হয়েছে।
কারণ সেই সন্ন্যাসী কাউকে সচরাচর পদধূলি দিতেন না। জগদীশবাবু এক জোড়া সোনার খড়মে একশো টাকার নোট গুঁজে তাঁর পায়ের কাছে ধরলে তিনি সেই খড়ম পরেন এবং সেই সুযোগে জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো নিতে সক্ষম হন।
৩.২.১ "চিত্রের পোতলি সমা"- কাকে 'চিত্রের পোতলি' বলা হয়েছে? কেন?
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে সমুদ্রতীরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীকে 'চিত্রের পোতলি' বলা হয়েছে।
কারণ তাদের দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন আঁকা ছবির মতো স্থির ও স্পন্দনহীন, যেন নিস্পন্দ পুতুলের মতো পড়ে আছে।
৩.২.২ "আমার শুধু একটা কোকিল" উদ্ধৃত অংশটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কোকিল বসন্তের দূত ও গানের প্রতীক। কবি বুঝিয়েছেন যে, যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে তাঁর একমাত্র হাতিয়ার হলো গান বা সংগীত। কোকিল যেমন তার গান দিয়ে প্রকৃতিকে মুখরিত করে, কবিও তেমনি তাঁর সৃষ্টি দিয়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান।
বিভাগ 'ঘ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে"- বাবুটি কে? তাঁর স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় দাও
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে 'বাবুটি' হলেন পুলিশের সন্দেভাজন রাজাবাবু বা ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক, যিনি এখানে গিরীশ মহাপাত্র নামে পরিচিত।
তাঁর স্বাস্থ্য ছিল অত্যন্ত ভগ্ন। বয়স ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়, কিন্তু রোগা চেহারা দেখে মনে হতো তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং তাঁর আয়ু আর বেশিদিন নেই। কাশির সঙ্গে হাঁপানির টান ছিল।
কিন্তু তাঁর শখ ছিল ষোলো আনা। তাঁর মাথায় ছিল লেবুর তেলের গন্ধে ভরপুর চেরা সিঁথি করা চুল, গায়ে রামধনু রঙের পাঞ্জাবি, পায়ে সবুজ মোজা ও বার্নিশ করা পাম্পশু। পকেটে ছিল রুমালে আঁকা বাঘের ছবি, গাঁজার কলকে ইত্যাদি। তাঁর এই অদ্ভুত শৌখিনতা পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার এক কৌশল মাত্র।
৪.২ "নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।"- 'সে' কে? নদীর বিদ্রোহের কারণ কী বলে তাঁর মনে হয়েছে?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে 'সে' হলো গল্পের নায়ক নদেরচাঁদ।
নদেরচাঁদ নদীর প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও আত্মীয়তা অনুভব করতেন। তাঁর মনে হয়েছিল যে মানুষ ব্রিজ তৈরি করে নদীকে বন্দি করার চেষ্টা করেছে, তার স্বাভাবিক গতিপথে বাধা সৃষ্টি করেছে। বর্ষার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে নদী যেন সেই বন্ধন ছিন্ন করে মুক্তি পেতে চাইছে। নদীর এই ক্ষ্যাপাটে রূপ এবং ব্রিজের পিলারে সজোরে আঘাত করাকে নদেরচাঁদ নদীর 'বিদ্রোহ' বা প্রতিবাদ বলে মনে করেছেন। মানুষের তৈরি কৃত্রিম শৃঙ্খল ভাঙার জন্যই নদীর এই রুদ্ররোষ।
বিভাগ 'ঙ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৫.১ "পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন" পঞ্চকন্যা কারা? তারা কীভাবে চেতনা পেল?
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'পঞ্চকন্যা' বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখীকে (চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী ও বিধুন্নলা) বোঝানো হয়েছে।
সমুদ্রের তিরে অচৈতন্য অবস্থায় পঞ্চকন্যাকে দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মা দয়ার্দ্র হন। তিনি এবং তাঁর সখীরা মিলে পঞ্চকন্যাকে ধরাধরি করে এক মনোরম উদ্যানে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ভিজে বস্ত্র পরিবর্তন করিয়ে অগ্নি জ্বেলে শরীর সেঁক দেওয়া হয়। পদ্মা তাদের মাথায় মহৌষধি প্রয়োগ করেন এবং নিরলসভাবে সেবা-শুশ্রূষা করেন। দীর্ঘ চারদণ্ড ধরে চিকিৎসার পর পদ্মার মমতা ও শুশ্রূষায় পঞ্চকন্যা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং চেতনা ফিরে পায়।
৫.২ "তোরা সব জয়ধ্বনি কর!"- এখানে 'তোরা' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তারা জয়ধ্বনি করবে কেন?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'তোরা' বলতে পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী তরুণ সমাজ বা সাধারণ দেশবাসীকে বোঝানো হয়েছে।
কবি তাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন কারণ প্রলয়ঙ্কর শিব বা মহাকাল আসছেন। এই প্রলয় ধ্বংসের বার্তা নিয়ে এলেও তা আসলে নতুনের সৃষ্টির সূচনা। এই ঝড়ের দাপট পরাধীনতার গ্লানি, জরাজীর্ণতা ও অন্যায়কে ধ্বংস করে সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করবে। স্বাধীনতার সূর্য উদিত হবে। তাই কবি দেশবাসীকে ভয় না পেয়ে এই বিপ্লব বা প্রলয়কে স্বাগত জানিয়ে জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
বিভাগ 'চ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।"- কালি তৈরি করার এই অভিজ্ঞতাটি কার? তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন?
উত্তর: এই অভিজ্ঞতাটি 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধের লেখক শ্রীপান্থের (নিখিল সরকার)।
লেখক ও তাঁর বন্ধুরা ছোটবেলায় খুব সহজ পদ্ধতিতে কালি তৈরি করতেন। বাড়িতে কাঠের উনুনে রান্না হতো, তাই রান্নার কড়াইয়ের তলায় প্রচুর ভুষো বা ঝুল জমত। লাউপাতার সাহায্যে সেই ভুষো ঘষে তুলে নেওয়া হতো। তারপর তা একটি পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নেওয়া হতো। যাঁরা কালিতে ওস্তাদ ছিলেন, তাঁরা হরিতকী বা বয়রা ঘষে সেই জলে মেশাতেন। কখনো কখনো আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে এবং বেটে তাতে মেশানো হতো। সবশেষে, কালির স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য একটি লোহার খুন্তি বা দণ্ড লাল করে পুড়িয়ে সেই কালির পাত্রে ছ্যঁকা দেওয়া হতো। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে দোয়াতে ভরলেই কালি তৈরি।
৬.২ "বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার এখনও নানা রকমের বাধা আছে।"- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার যে যে বাধাগুলি প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বেশ কয়েকটি বাধার কথা উল্লেখ করেছেন:
১) পারিভাষিক শব্দের অভাব: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের অনেক শব্দের সঠিক পরিভাষা নেই। ফলে লেখকদের নতুন শব্দ তৈরি করতে হয় বা ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতে হয়, যা সাধারণ পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হয়।
২) পাঠকের বিজ্ঞান শিক্ষার অভাব: সাধারণ মানুষের বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা কম। তাই তাদের জন্য লেখার সময় খুব সহজ ও সরল ভাষা ব্যবহার করতে হয়, যা অনেক সময় কঠিন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
৩) ইংরেজি জানা পাঠকের সমস্যা: অনেকে ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান পড়ে অভ্যস্ত, তাই বাংলায় বিজ্ঞান পড়লে তাদের কাছে তা খটমট লাগে। তারা বাংলা পরিভাষার চেয়ে ইংরেজি শব্দই সহজে বোঝে।
৪) ভাষা ব্যবহারের ত্রুটি: অনেক লেখক ইংরেজি থেকে আক্ষরিক অনুবাদ করে ফেলেন, ফলে ভাষা কৃত্রিম ও দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। সঠিক বাংলা শৈলী না জানায় রচনা সাবলীল হয় না।
বিভাগ 'ছ' : কম-বেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "দরবার ত্যাগ করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি জাঁহাপনা" বক্তা কে? কেন তাঁরা দরবার ত্যাগ করতে চান?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এই উক্তিটির বক্তা হলেন নবাবের দরবারের অন্যতম সভাসদ রাজা রাজবল্লভ (মতান্তরে জগৎশেঠ, তবে নাটকের সংলাপে এটি রাজবল্লভ বা সম্মিলিত কণ্ঠে বলা হতে পারে, সাধারণত রাজবল্লভ)।
নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর দরবারের সভাসদদের, বিশেষ করে রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফরদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। তিনি প্রমাণসহ দেখান যে তাঁরা ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে নবাবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন। নবাব তাঁদের সরাসরি অভিযুক্ত করলে এবং ওয়াটসের চিঠি প্রকাশ করলে তাঁরা অপমানিত বোধ করেন। নবাবের এই ভর্ৎসনা ও অভিযোগের প্রতিবাদে এবং নিজেদের সম্মান রক্ষার অজুহাতে তাঁরা দরবার ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁদের এক ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশল।
৭.২ "আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন।" কে কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছে? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কথাটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও
উত্তর: 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ও অন্যান্য সভাসদদের (রাজবল্লভ, জগৎশেঠ) উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছেন।
বাংলার আকাশে তখন ঘোর দুর্যোগ। ইংরেজরা কলকাতা অধিকার করে চন্দননগর দখল করেছে এবং নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে, নিজেদের মধ্যে বিবাদ বা দোষারোপ করার সময় এটা নয়। সভাসদদের অতীত অপরাধ বা ষড়যন্ত্রের বিচার করার চেয়ে এখন ঐকবদ্ধ হয়ে বিদেশি শত্রুর মোকাবিলা করা অনেক বেশি জরুরি। তাই তিনি সকলের কাছে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এই কথা বলেছিলেন। এটি নবাবের দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দেয়।
বিভাগ 'জ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ২ = ১০)
৮.১ "এত কেচ্ছাসাধন করেন! বাঁচবেন কী করে?" কে কোন প্রসঙ্গে কাকে এই কথাগুলি বলেছিলেন? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির 'কেচ্ছাসাধন'- এর পরিচয় দাও।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে বিলাস বহুল ও ভোজনরসিক ব্যবসায়ী বিষ্ণুচরণ ধর ক্ষিতীশ সিংহকে (খিদ্দা) উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছিলেন। ক্ষিতীশের সংযমী জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কথা শুনে তিনি অবাক হয়ে এই মন্তব্য করেন।
ক্ষিতীশ সিংহের জীবন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও কঠোর। তিনি বিশ্বাস করতেন শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে সংযম প্রয়োজন। তাঁর 'কেচ্ছাসাধন' বা কঠোর তপস্যার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর খাদ্যাভ্যাসে। তিনি তেল-মশলা যুক্ত খাবার, ঘি, মিষ্টি বা চর্বি জাতীয় খাবার একদম খেতেন না। তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকত মূলত সিদ্ধ ভাত, ডাল, সামান্য সবজি বা টক। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন এবং মাইলের পর মাইল হাঁটতেন। এই বয়সেও তাঁর শরীর ছিল মেদহীন ও কর্মক্ষম। তাঁর এই ত্যাগ ও নিষ্ঠাই তাঁকে একজন আদর্শ প্রশিক্ষক করে তুলেছিল।
৮.২ "যন্ত্রণাকে বোঝ, ওটাকে কাজে লাগাতে শেখ, ওটাকে হারিয়ে দে।” বক্তা কে? কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন? বক্তব্যটির তাৎপর্য উল্লেখ করো।
উত্তর: এই উক্তিটির বক্তা হলেন ক্ষিতীশ সিংহ (খিদ্দা)। তিনি তাঁর ছাত্রী কোনিকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছিলেন।
সাঁতারের কঠোর অনুশীলনের সময় কোনি যখন ক্লান্ত ও যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়ত, তখন ক্ষিতীশ তাকে উৎসাহিত করতে এই কথা বলতেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, বড় কিছু অর্জন করতে হলে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে সহ্য করতে হয়। যন্ত্রণা থেকে পালানো নয়, বরং তাকে অনুভব করে, তাকে জেদে পরিণত করে জয়ের শক্তিতে রূপান্তর করতে হয়। যন্ত্রণাকে জয় করতে পারলেই সাফল্য আসে। এই মন্ত্রই কোনিকে জীবনের সব লড়াইয়ে জিততে সাহায্য করেছিল।
৮.৩ "ফাইট কোনি, ফাইট" দারিদ্র্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই করে জয়ী হয়ে ওঠা তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: কোনি ছিল শ্যামপুকুর বস্তির এক অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাবা ও দাদার মৃত্যুতে তার পরিবারে চরম অভাব নেমে আসে। দুবেলা খাবার জুটত না। কিন্তু এই দারিদ্র্য তার সাঁতারের স্বপ্নকে দমাতে পারেনি। ক্ষিতীশ সিংহের প্রশিক্ষণে সে কঠোর পরিশ্রম শুরু করে। কিন্তু তার লড়াই শুধু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল সামাজিক বঞ্চনা ও জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। হিয়া মিত্রের মতো ধনী পরিবারের মেয়েরা যখন সব সুযোগ-সুবিধা পেত, কোনি তখন অবহেলা ও অপমানের শিকার হতো। তাকে দলে নেওয়ার সময়ও বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষিতীশের মন্ত্র "ফাইট কোনি, ফাইট" তাকে মনের জোর জুগিয়েছিল। মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত জলে নেমে সে তার সমস্ত ক্ষোভ, অপমান ও যন্ত্রণাকে শক্তিতে পরিণত করে হিয়া মিত্রকে হারিয়ে জয়ী হয়। তার এই জয় ছিল সমস্ত বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিভার জয়।
বিভাগ 'ঞ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
১০.১ নিজস্বী (সেলফি) তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা। - এই বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
সেলফির নেশায় মর্মান্তিক মৃত্যু: ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসাত, ১০ই জানুয়ারি: সেলফি তোলার মরণ নেশা ফের কেড়ে নিল এক তাজা প্রাণ। গতকাল বিকেলে বারাসাত স্টেশনের কাছে রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হলো এক ১৭ বছরের কিশোরের। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত কিশোরের নাম সুমন দাস, সে স্থানীয় একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুমন ও তার দুই বন্ধু রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে মোবাইলে নানা কায়দায় ছবি তুলছিল। সেই সময় শিয়ালদহগামী একটি ট্রেন দ্রুতগতিতে আসছিল। ট্রেনের হর্ন বা চালকের সংকেত তারা শুনতে পায়নি বা গ্রাহ্য করেনি। ট্রেনটি খুব কাছে চলে আসায় বাকি দুজন সরে যেতে পারলেও সুমন পালাতে পারেনি। ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জিআরপি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। রেল পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সেলফি তোলার এই বিপজ্জনক প্রবণতা কমছে না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক পাওয়ার নেশাই তরুণ প্রজন্মকে এমন ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
১০.২ পথ নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা নিয়ে দুই বন্ধুর কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
অমিত: কিরে সুজয়, কাল খবরের কাগজটা দেখেছিলি? বাইক দুর্ঘটনায় দুজন মারা গেছে।
সুজয়: হ্যাঁ রে, দেখলাম। খুব মর্মান্তিক। আজকাল তো পথ দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অমিত: ঠিক বলেছিস। আসলে মানুষ মোটেও ট্রাফিক নিয়ম মানে না। হেলমেট না পরা, সিগন্যাল অমান্য করা—এসব তো লেগেই আছে।
সুজয়: আর বেপরোয়া গতি! বাইক বা গাড়ি চালানোর সময় অনেকের হুঁশ থাকে না। তাছাড়া কানে ফোন নিয়ে রাস্তা পার হওয়াও খুব বিপজ্জনক।
অমিত: প্রশাসন তো 'সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ' ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে, কিন্তু আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে কী লাভ?
সুজয়: একদম ঠিক। আমাদের উচিত জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়া এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলা।
অমিত: স্কুলে বা পাড়ায় আমাদেরও সবাইকে সচেতন করা দরকার। একটা ছোট ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সুজয়: হ্যাঁ, জীবনটা তো অমূল্য। তাড়াহুড়ো করে কয়েক মিনিট বাঁচানোর চেয়ে সাবধানে বাড়ি ফেরাটা অনেক বেশি জরুরি।
অমিত: ঠিক তাই। সাবধানে চলো, জীবন গড়ো।
বিভাগ 'ট' : কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো (১০ x ১ = ১০)
১১.১ বিশ্ব উষ্ণায়ন
ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং। এটি কেবল কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়, সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বের সংকট। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার এই ঘটনা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কারণ: বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি। কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস বাতাসের তাপ ধরে রাখে। কলকারখানা, যানবাহন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং নির্বিচারে অরণ্য নিধন এই গ্যাসগুলির পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসি, রেফ্রিজারেটর ব্যবহারের ফলেও ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হচ্ছে।
প্রভাব: এর ফলাফল ভয়াবহ। ১) মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে উপকূলবর্তী এলাকা ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২) জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে—কোথাও খরা, কোথাও বা অতিবৃষ্টি ও বন্যা। ৩) ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বাড়ছে। ৪) জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ৫) নতুন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে।
প্রতিকার: এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। ১) জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, পেট্রোল) ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ২) বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজন করতে হবে, কারণ গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। ৩) প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জন করতে হবে। ৪) আন্তর্জাতিক স্তরে কার্বন নিঃসরণ কমানোর চুক্তি মেনে চলতে হবে।
উপসংহার: পৃথিবী আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। একে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী রেখে যেতে হলে বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে।
১১.২ মানব কল্যাণে বিজ্ঞান
ভূমিকা: "বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ"—একথা আংশিক সত্য হলেও, মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। গুহাবাসী মানুষ আজ বিজ্ঞানের হাত ধরেই মহাকাশ পাড়ি দিয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে বিজ্ঞান এক আশীর্বাদ।
দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান: সকালে ঘুম ভাঙা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত—আমাদের প্রতিটি কাজে বিজ্ঞান জড়িয়ে আছে। বিদ্যুৎ, ফ্যান, লাইট, গ্যাস ওভেন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন—এসব আমাদের জীবনকে আরামদায়ক ও সহজ করেছে।
চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য: চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি মানুষকে মারণ রোগের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই রোগ নির্ণয় সহজ করেছে। পেনিসিলিন, ভ্যাকসিন ও আধুনিক শল্যচিকিৎসা মানুষের গড় আয়ু বাড়িয়েছে এবং মহামারী দূর করেছে।
কৃষি ও শিল্প: কৃষিক্ষেত্রে উন্নত বীজ, সার ও ট্রাক্টরের ব্যবহার খাদ্য সংকট দূর করেছে (সবুজ বিপ্লব)। শিল্পক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের দানে উৎপাদন বেড়েছে, যা অর্থনীতির বুনিয়াদ শক্ত করেছে।
যোগাযোগ ও শিক্ষা: টেলিফোন, ইন্টারনেট, মোবাইল, কম্পিউটার পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনেছে। ঘরে বসেই আমরা বিশ্বের খবর পাচ্ছি। শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিজিটাল মাধ্যম ও ই-বুক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
উপসংহার: বিজ্ঞান মানবকল্যাণেই সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু মানুষ যদি তার অপব্যবহার করে মারণাস্ত্র তৈরি করে বা পরিবেশ ধ্বংস করে, তবে তা বিজ্ঞানের দোষ নয়, মানুষের শুভবুদ্ধির অভাব। বিজ্ঞানকে ধ্বংসের কাজে না লাগিয়ে সৃষ্টির কাজে এবং আর্তের সেবায় লাগাতে হবে। তবেই বিজ্ঞান হবে মানুষের পরম বন্ধু।
১১.৩ ছাত্রজীবনে শিষ্টাচারের গুরুত্ব
ভূমিকা: "বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্"—বিদ্যা বিনয় দান করে। ছাত্রজীবন হলো ভবিষৎ জীবন গঠনের প্রস্তুতির সময়। আর এই সময় শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ অর্জন করা পুঁথিগত শিক্ষার চেয়েও বেশি জরুরি। শিষ্টাচারই মানুষকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করে।
শিষ্টাচার কী: শিষ্টাচার হলো মার্জিত আচরণ, নম্রতা, ভদ্রতা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা। সত্য কথা বলা, সময়ের মূল্য দেওয়া, এবং অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া শিষ্টাচারের অঙ্গ।
ছাত্রজীবনে গুরুত্ব: ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ। ১) চরিত্র গঠন: শিষ্টাচার ছাত্রের চরিত্রকে বলিষ্ঠ ও সুন্দর করে তোলে। উদ্ধত ছাত্র কখনো জীবনে উন্নতি করতে পারে না। ২) সুসম্পর্ক: নম্র ও ভদ্র ছাত্রকে সবাই ভালোবাসে। শিক্ষক, সহপাঠী ও সমাজের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৩) শৃঙ্খলাবোধ: শিষ্টাচার ছাত্রকে নিয়মানুবর্তী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে শেখায়, যা শিক্ষার মূল ভিত্তি।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে অনেক ছাত্রের মধ্যে শিষ্টাচারের অভাব দেখা দিচ্ছে। গুরুজনদের অশ্রদ্ধা করা বা উশৃঙ্খল আচরণ করা যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
উপসংহার: কেবল ভালো রেজাল্ট করলেই হয় না, ভালো মানুষ হতে হয়। আর ভালো মানুষ হওয়ার প্রথম শর্ত হলো শিষ্টাচার। শিষ্টাচারহীন বিদ্যা বিষহীন সাপের মতো, যা কারো শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারে না। তাই প্রতিটি ছাত্রের উচিত শিষ্টাচারকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা।
১১.৪ একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
ভূমিকা: "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া..."। ভ্রমণের নেশা মানুষের চিরকালীন। একঘেয়ে দৈনন্দিন জীবন থেকে মুক্তি পেতে ভ্রমণ এক পরম ঔষধ। গত পুজোয় দার্জিলিং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়।
যাত্রার শুরু: শিয়ালদহ থেকে দার্জিলিং মেল-এ চেপে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছালাম। সেখান থেকে জিপে করে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে দার্জিলিং যাত্রা। দুপাশে চা বাগান, পাইন বন আর দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি—মন ভরে গেল।
দার্জিলিং-এর রূপ: দার্জিলিং যেন মেঘের দেশ। ম্যাল রোডে হাঁটা, ঘোড়ায় চড়া আর গরম মোমো খাওয়ার মজাই আলাদা। আমরা ঘুম স্টেশন, বাতাসিয়া লুপ, পিস প্যাগোডা এবং চিড়িয়াখানা দেখলাম। হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট দেখে রোমাঞ্চিত হলাম।
টাইগার হিল: সবচেয়ে সেরা অভিজ্ঞতা ছিল টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখা। ভোররাতে উঠে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যখন সূর্যিমামা উঁকি দিলেন এবং তাঁর সোনালি আলো কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফশৃঙ্গে পড়ল, মনে হলো যেন সোনা গলে পড়ছে। সেই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
উপসংহার: চারদিনের এই সফর শেষে যখন ফিরছিলাম, মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাথে নিয়ে এলাম একরাশ স্মৃতি। দার্জিলিং-এর পাহাড়, মেঘ আর মানুষের সরলতা আমার মনে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। ভ্রমণ আমাদের মনকে উদার করে এবং নতুন করে বাঁচার রসদ জোগায়।