বিভাগ 'ক' : সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ আদিম যুগে স্রষ্টার কার প্রতি অসন্তোষ ছিল?
(ক) দয়াময় দেবতার প্রতি
(খ) কবির সংগীতের প্রতি
(গ) নিজের প্রতি
(ঘ) ধরিত্রীর প্রতি
উত্তর: (গ) নিজের প্রতি
১.২ "আমরা ভিখারি.........."-
(ক) সারামাস
(খ) আটমাস
(গ) দশমাস
(ঘ) বারোমাস
উত্তর: (ঘ) বারোমাস
১.৩ "গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে" - কে গান বাঁধবে?
(ক) চিল
(খ) কোকিল
(গ) শকুন
(ঘ) ময়ূর
উত্তর: (খ) কোকিল
১.৪ "খুব হয়েছে হরি, এইবার সরে পড়ো। অন্যদিকে যাও।"- একথা বলেছে
(ক) ভবতোষ
(খ) অনাদি
(গ) কাশীনাথ
(ঘ) জনৈক যাত্রী
উত্তর: (গ) কাশীনাথ
১.৫ অমৃত এবং ইসাবের জামা বদলানোর বিষয়টি ঘটেছিল
(ক) মহরমের দিন
(খ) পুজোর দিন
(গ) ঈদের দিন
(ঘ) হোলির দিন
উত্তর: (ঘ) হোলির দিন
১.৬ অপূর্বর পিতার বন্ধু ছিলেন -
(ক) গিরীশ মহাপাত্র
(খ) নিমাইবাবু
(গ) রামদাস
(ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর: (খ) নিমাইবাবু
১.৭ উনিশ শতকে বত্রিশ হাজার অক্ষর লিখে পাওয়া যেত
(ক) বারো আনা
(খ) চোদ্দো আনা
(গ) দশ আনা
(ঘ) পনেরো আনা
উত্তর: (ক) বারো আনা
১.৮ "তা লেখককে নেশাগ্রস্ত করে" 'তা' বলতে বোঝানো হয়েছে
(ক) খাতা-পেন
(খ) বাঁশের পেন
(গ) পালকের পেন
(ঘ) ফাউন্টেন পেন
উত্তর: (ঘ) ফাউন্টেন পেন
১.৯. "হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড" কথাটি বলেছিলেন -
(ক) অশ্বঘোষ
(খ) কালিদাস
(গ) ভবভূতি
(ঘ) ধোয়ী
উত্তর: (খ) কালিদাস
১.১০ বিভক্তি শব্দের অর্থ কী? -
(ক) বিভাজন
(খ) সংকোচন
(গ) প্রসারণ
(ঘ) সংযোজন
উত্তর: (ক) বিভাজন
১.১১ "নমি পুত্র পিতার চরণে" নিম্নরেখ পদটি হল
(ক) কর্তৃকারক
(খ) সম্বন্ধ পদ
(গ) সম্বোধন পদ
(ঘ) কর্মকারক
উত্তর: (খ) সম্বন্ধ পদ
১.১২ 'গ্রামান্তর' পদটি কোন সমাসের উদাহরণ?
(ক) নিত্য সমাস
(খ) দ্বন্দু সমাস
(গ) বহুব্রীহি সমাস
(ঘ) কর্মধারয় সমাস
উত্তর: (ক) নিত্য সমাস
১.১৩ 'উপনগরী' সমাসটি গড়ে উঠেছে-
(ক) সাদৃশ্য অর্থে
(খ) সমীপ্য অর্থে
(গ) পশ্চাৎ অর্থে
(ঘ) বীপ্সা অর্থে
উত্তর: (ক) সাদৃশ্য অর্থে (প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরমালা অনুযায়ী)
১.১৪ "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু সখ ষোলো আনাই বজায় আছে।"-গঠনগতভাবে বাক্যটি
(ক) সরলবাক্য
(খ) মিশ্রবাক্য
(গ) জটিলবাক্য
(ঘ) যৌগিক বাক্য
উত্তর: (ঘ) যৌগিক বাক্য
১.১৫ সে সারাদিন খুব পরিশ্রম করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরিল। -এই বাক্যের নিম্নরেখ অংশটি হল
(ক) উদ্দেশ্য
(খ) বিধেয়
(গ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
(ঘ) বিধেয় সম্প্রসারক
উত্তর: (খ) বিধেয়
১.১৬ ছবিটি শ্যামের দ্বারা অঙ্কিত। > শ্যাম ছবিটি এঁকেছে। এই বাচ্য পরিবর্তনটি হল-
(ক) কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য
(খ) কর্মবাচ্য থেকে ভাববাচ্য
(গ) কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
(ঘ) ভাববাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
উত্তর: (গ) কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
১.১৭ শাঁখ বাজে। - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
(ক) কর্মবাচ্য
(খ) ভাববাচ্য
(গ) কর্তৃবাচ্য
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর: (ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
বিভাগ 'খ' : কম-বেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (১৯ নম্বর)
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে"- কোন কথা ছড়িয়ে পড়ে?
উত্তর: তপনের গল্পের কারেকশন বা সংশোধনের কথাটি ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে।
২.১.২ "বলতে বলতে সিঁড়ি থেকে নেমে গেলেন বিরাগী।"- কী বলতে বলতে নেমেছিলেন?
উত্তর: বিরাগী বলেছিলেন যে, তিনি রূপের মধ্যে অরূপের সন্ধান এবং ভক্তির মধ্যে ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়লেন।
২.১.৩ গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁকে ও পকেটে কী কী ছিল?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁকে ছিল একটি টাকা ও গণ্ডা ছয়েক পয়সা এবং পকেটে ছিল একটা লোহার কম্পাস, কাঠের ফুটরুল, দেশলাই ও গাঁজার কলকে।
২.১.৪ অমৃতকে কে, কেন খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: কালিয়া অমৃতকে কুস্তি লড়ার জন্য খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল।
২.১.৫ স্টেশনমাস্টারি করতে এসে নদেরচাঁদের সাথে পরিচয় হওয়া নদী আর তার দেশের নদীর মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?
উত্তর: নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল ক্ষীণস্রোতা ও শীর্ণ, কিন্তু স্টেশনমাস্টারি করতে এসে তিনি যে নদীর সাথে পরিচিত হন সেটি ছিল বর্ষার জলে পূর্ণ ও উত্তাল।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর"- ধ্বংস দেখে কেন ভয় করা উচিত নয় বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: কবি মনে করেন ধ্বংসের মধ্যেই নতুনের সৃষ্টির বীজ নিহিত থাকে, তাই ধ্বংস দেখে ভয় পাওয়া উচিত নয়।
২.২.২ "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।" বেঁধে বেঁধে থাকার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার উদ্দেশ্যে কবি বেঁধে বেঁধে থাকার কথা বলেছেন।
২.২.৩ "এ অদ্ভুত বারতা"- কোন 'বারতা'-র কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ এবং রামচন্দ্র কর্তৃক পুনরুজ্জীবিত হয়ে লঙ্কায় আসার সংবাদকে 'অদ্ভুত বারতা' বলা হয়েছে।
২.২.৪ "কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল ." - কবির সংগীতে কী বেজে উঠেছিল?
উত্তর: কবির সংগীতে সুন্দরের আরাধনা বেজে উঠেছিল।
২.২.৫ "চিত্রের পোতলি সমা"- এমন বলার কারণ কী?
উত্তর: পদ্মাবতী ও তার সখীরা অচৈতন্য অবস্থায় এমনভাবে পড়েছিল যে তাদের দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন আঁকা ছবির মতো স্থির ও নিস্পন্দ।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ কলমকে কীসের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়?
উত্তর: কলমকে তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়।
২.৩.২ "বাংলায় একটা কথা চালু ছিল"- কোন কথা?
উত্তর: "কালি নেই কলম নেই, বলে আমি মুনশি"।
২.৩.৩ বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি নবাগত রাসানিক বস্তুর ইংরেজি নাম প্রসঙ্গে কী বিধান দিয়েছিলেন?
উত্তর: তাঁরা বিধান দিয়েছিলেন যে, নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নামই বাংলা বানানে চালানো যেতে পারে।
২.৩.৪ "এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।"- কোন কথা মনে রাখা উচিত?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা অত্যন্ত সরল ও স্পষ্ট হওয়া উচিত, এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ তির্যক বিভক্তি কাকে বলে?
উত্তর: যে বিভক্তি চিহ্ন একাধিক কারকে ব্যবহৃত হয়, তাকে তির্যক বিভক্তি বলে। যেমন- 'এ' বিভক্তি।
২.৪.২ ব্যতিহার কর্তার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়।
২.৪.৩ ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো- হস্তশিল্প।
উত্তর: হস্ত দ্বারা নির্মিত শিল্প = হস্তশিল্প (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
২.৪.৪ কোন সমাসে কারক-সম্পর্ক বিদ্যমান?
উত্তর: তৎপুরুষ সমাসে।
২.৪.৫ একটি আকাঙ্ক্ষাহীন বাক্যের উদাহরণ দাও।।
উত্তর: "আমি ভাত খেয়ে..." (বাক্যটি অসম্পূর্ণ, তাই আকাঙ্ক্ষা থেকে যাচ্ছে)।
২.৪.৬ সে তখন যেতে পারবে না। হ্যাঁ-বাচক বাক্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: সে তখন যেতে অক্ষম।
২.৪.৭ হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: হাত নাড়াই এবং বুলেট তাড়াই।
২.৪.৮ বধূরা প্রদীপ তুলে ধর। কর্মবাচ্যে পরিণত করো।
উত্তর: বধূদের দ্বারা প্রদীপ তুলে ধরা হোক।
২.৪.৯ কর্মকর্তৃবাচ্য-এর একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: শাঁখ বাজে।
২.৪.১০ একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যসহ একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: আমি, তুমি ও সে = আমরা।
বিভাগ 'গ' : প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও (৩+৩=৬)
৩.১.১ "আজ আর অন্য কথা নেই"- কোন দিনের কথা বলা হয়েছে? সেদিন অন্য কোনো কথা নেই কেন?
উত্তর: এখানে তপনের লেখা গল্পটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার দিনের কথা বলা হয়েছে।
সেদিন তপনের বাড়িতে তার ছোটমাসি ও মেসোমশাই 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকা নিয়ে এসেছিলেন, যাতে তপনের গল্প ছাপা হয়েছে। বাড়ির সকলেই সেই গল্প নিয়ে, তপনের কৃতিত্ব নিয়ে আলোচনায় মগ্ন ছিল। তপনের কাছে এটি ছিল জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ও গর্বের দিন। তাই সেদিন বাড়িতে তপনের গল্প ছাপা হওয়া ছাড়া আর অন্য কোনো কথার স্থান ছিল না।
৩.১.২ "লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল।" লোকটি কে? তাকে দেখে অপূর্বর কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: লোকটি হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র এবং ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক, যিনি গিরীশ মহাপাত্র নামে পরিচিত ছিলেন।
গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক-পরিচ্ছদ, রুগ্ন চেহারা এবং কাশির বহর দেখে অপূর্বর মনে হয়েছিল যে, পুলিশের বড়বাবু নিমাইবাবু যাই বলুন না কেন, এই লোকটিকে তিনি ভুল সন্দেহ করছেন। অপূর্বর মতে, যাকে খুঁজছেন সেই বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক আর যেই হোক, এই লোকটা হতে পারে না।
৩.২.১ "যেখানে ছিল শহর" শহরের কী পরিণতি হয়েছিল এবং কেন?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় শহরের পরিণতি ছিল ভয়াবহ। যেখানে একসময় সুন্দর শহর ছিল, সেখানে যুদ্ধের পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা এবং মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা।
যুদ্ধের আগুনের গ্রাসে শহরের সমস্ত বাড়িঘর, মন্দির এবং দেবমূর্তি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। শহরের প্রাণবন্ত রূপটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল যুদ্ধের বিধ্বংসী প্রভাবে।
৩.২.২ "তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ" কন্যাটি কে? তিনি কোথায় সর্বক্ষণ থাকেন?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশে 'কন্যা' বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মার কথা বোঝানো হয়েছে।
সমুদ্রের মাঝখানে এক দিব্য স্থান বা উদ্যান ছিল, যা ছিল অত্যন্ত মনোরম। সেখানে ফল-ফুলে ভরা বৃক্ষরাজি ও সুগন্ধে পূর্ণ বাতাস বইত। সেই দিব্য স্থানেই সমুদ্রকন্যা পদ্মা সর্বক্ষণ বা সব সময় বাস করতেন।
বিভাগ 'ঘ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ নম্বর)
৪.১ "তার থেকে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের।"- কার এ কথা মনে হয়েছে? জীবনের কোন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের এই কথা মনে হয়েছে।
তপন তার নতুন মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গল্প লিখেছিল। মেসোমশাই সেই গল্পটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তপনের লেখা গল্পটি যখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, তখন বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু গল্পটি পড়তে গিয়ে তপন দেখে যে, তার লেখার প্রতিটি লাইন নতুন মেসোমশাই কারেকশন বা সংশোধন করে দিয়েছেন। গল্পের নাম ও তপনের নাম ঠিক থাকলেও, ভিতরের ভাষা ও বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ পালটে গেছে। তপন বুঝতে পারে, এটি আর তার নিজের লেখা গল্প নয়। নিজের সৃষ্টি অন্যের নামে বা অন্যের দয়ায় প্রকাশিত হওয়ার গ্লানি তপনকে গ্রাস করে। নিজের লেখা পড়তে গিয়ে অন্যের লেখা পড়ার যে লজ্জা ও অপমান, তা তপনের শিশুমনকে গভীরভাবে আহত করে। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তপন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, নিজের লেখা গল্প নিজে ছাপতে দেওয়াই শ্রেয়, তাতে যদি গল্প না ছাপা হয় তাও ভালো।
৪.২ "হরিদার জীবনে একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।"- হরিদা কে? তাঁর কর্মকান্ডের মধ্যে যে নাটকীয় বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে, তা গল্প অনুসারে লেখো।
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন হরিদা। তিনি পেশায় একজন বহুরূপী।
হরিদার জীবন ছিল অভাব-অনটনে পূর্ণ, কিন্তু তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা মানুষ। বাঁধাধরা কোনো কাজ বা চাকরি করা তাঁর পছন্দ ছিল না। তিনি তাঁর বহুরূপী পেশার মাধ্যমেই জীবনে বৈচিত্র্য খুঁজে পেতেন। কখনও তিনি পাগল সেজে বাসে উঠে যাত্রীদের ভয় দেখাতেন, কখনও রূপসী বাইজি সেজে ঘুঙুরের শব্দে দোকানদারদের মোহিত করে টাকা রোজগার করতেন। আবার কখনও পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে ছাত্রদের ধরে মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে ঘুস নিতেন। এমনকি জগদীশবাবুর বাড়িতে তিনি বিরাগী সেজে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি পার্থিব মোহমায়া ত্যাগ করে জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকাও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। হরিদার এই বিভিন্ন রূপ ধারণ এবং চরিত্রের সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়া তাঁর জীবনে এক নাটকীয় বৈচিত্র্য এনেছিল। তিনি অভাবী হলেও তাঁর শিল্পসত্তা ও নাটকীয়তা ছিল তাঁর জীবনের প্রধান চালিকাশক্তি।
বিভাগ 'ঙ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ নম্বর)
৫.১ "তারপর যুদ্ধ এল" - 'তারপর' কথাটির দ্বারা কবি কোন সময়ের কথা বলেছেন? কবিতায় যুদ্ধের যে বীভৎস রূপের প্রকাশ ঘটেছে, তা আলোচনা করো।
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কথক তাঁর প্রিয়তমাকে দরজায় অপেক্ষায় রেখে চলে যাওয়ার পর কেটে যাওয়া দীর্ঘ সময়ের কথা বোঝাতে 'তারপর' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বছরগুলো পাথরের মতো ভারী হয়ে নেমে আসার পর যুদ্ধের আগমন ঘটে।
কবিতায় যুদ্ধের এক ভয়াবহ ও বীভৎস রূপ ফুটে উঠেছে। যুদ্ধ আসে "রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো"। এই যুদ্ধে শিশুরাও রেহাই পায় না, "শিশুরা আর বাড়িরা খুন হলো"। যুদ্ধের বিধ্বংসী আগুনে সমতলের সমস্ত কিছু জ্বলে যায়। যেখানে দেবতারা ধ্যানে মগ্ন ছিলেন, তাঁরাও রক্ষা পান না। হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা শান্ত হলুদ দেবতারা মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে যান। যুদ্ধের আগুনে জ্বলে যায় কবির স্বপ্নের ঘর, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ এবং চিমনি। শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকে ধ্বংসের চিহ্ন—কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা। রক্তের কালো দাগ যুদ্ধের নৃশংসতার সাক্ষ্য বহন করে। এই বর্ণনার মাধ্যমে কবি যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও মানবিক বিপর্যয়ের এক করুণ ছবি তুলে ধরেছেন।
৫.২ 'পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন"- 'পঞ্চকন্যা' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেলো, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'পঞ্চকন্যা' বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখীকে বোঝানো হয়েছে।
সমুদ্রের তিরে মান্জসে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীকে দেখে পদ্মা বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি বুঝতে পারেন যে, সমুদ্রের ঝড়ে এই সুন্দরীদের এই দশা হয়েছে। পদ্মা তখন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তিনি তাঁর সখীদের আদেশ দেন পঞ্চকন্যাকে উদ্যানের মাঝখানে নিয়ে যেতে। সেখানে অগ্নি জ্বেলে তাদের শরীর সেঁক দেওয়া হয়। পদ্মা নিজে হাতে তাদের শুশ্রূষা করেন। তাদের মাথায় মহৌষধি প্রয়োগ করা হয় এবং তন্ত্রমন্ত্র জপ করা হয়। চারদণ্ড বা প্রায় দেড়-দু ঘণ্টা ধরে নিরলস সেবা-শুশ্রূষা ও চিকিৎসার ফলে পঞ্চকন্যা ধীরে ধীরে চেতনা ফিরে পায়। পদ্মার মমতা, সেবা ও সঠিক চিকিৎসার ফলেই পঞ্চকন্যা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে জ্ঞান লাভ করে।
বিভাগ 'চ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ নম্বর)
৬.১ "আমরা এত কিছু আয়োজন কোথায় পাব।"- কোন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে? তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন?
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে প্রাচীন পদ্ধতিতে কালি তৈরির জন্য যে সমস্ত উপাদানের (যেমন- তিল, ত্রিফলা, সিমুল ছাল, ছাগদুগ্ধ, লোহা ইত্যাদি) প্রয়োজন হতো, সেই আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
লেখক ও তাঁর বন্ধুরা ছোটবেলায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে সহজভাবে কালি তৈরি করতেন। তাঁরা কাঠের উনুনে রান্না করা কড়াইয়ের তলা থেকে ভালো করে ভুষো বা কালি চেঁচে নিতেন। তারপর সেই ভুষো লাউপাতায় ঘষে একটি পাথরের বাটিতে রাখা জলে গুলে নিতেন। কালির স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য তাঁরা খুন্তি বা লোহার কোনো দণ্ড লাল করে পুড়িয়ে সেই জলে ছ্যঁকা দিতেন। এরপর সেই জল ন্যাকড়ায় ছেঁকে দোয়াতে ভরতেন। এভাবেই তাঁরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য কালি তৈরি করতেন। যদিও প্রাচীন ছড়ায় কালি তৈরির অনেক জটিল পদ্ধতির উল্লেখ ছিল, কিন্তু লেখকের মতো সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে অত আয়োজন করা সম্ভব ছিল না, তাই তাঁরা এই সহজ পদ্ধতিই অবলম্বন করতেন।
৬.২ "বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনও নানারকম বাধা আছে।" বাধাগুলি কী কী ছিল?
উত্তর: রাজশেখর বসুর মতে, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় প্রধান বাধাগুলি হলো:
১) পারিভাষিক শব্দের অভাব: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের অনেক শব্দের সঠিক পরিভাষা নেই। ফলে লেখকদের নতুন শব্দ তৈরি করতে হয় বা ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতে হয়, যা সাধারণ পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হয়।
২) ইংরেজি জানা পাঠকের সমস্যা: অনেকে ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান পড়ে অভ্যস্ত, তাই বাংলায় বিজ্ঞান পড়লে তাদের কাছে তা খটমট লাগে। তারা বাংলা পরিভাষার চেয়ে ইংরেজি শব্দই সহজে বোঝে।
৩) সাধারণ পাঠকের অজ্ঞতা: সাধারণ মানুষের বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা কম। তাই তাদের জন্য লেখার সময় খুব সহজ ও সরল ভাষা ব্যবহার করতে হয়, যা অনেক সময় কঠিন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
৪) ভাষা ব্যবহারের ত্রুটি: অনেক লেখক ইংরেজ্ থেকে আক্ষরিক অনুবাদ করে ফেলেন, ফলে ভাষা কৃত্রিম ও দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। সঠিক বাংলা শৈলী না জানায় রচনা সাবলীল হয় না।
৫) অলংকারের আধিক্য: অনেকে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে রূপক বা অলংকার বেশি ব্যবহার করেন, যা তথ্যের স্বচ্ছতাকে নষ্ট করে।
বিভাগ 'ছ' : কম-বেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ নম্বর)
৭.১ "এই মুহূর্তে দরবার ত্যাগ করো।"-বক্তা কাকে দরবার ত্যাগ করতে বলেছেন? তাঁকে দরবার ত্যাগ করতে বলার কারণ কী?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে দরবার ত্যাগ করতে বলেছিলেন।
ওয়াটস ছিলেন কোম্পানির প্রতিনিধি, কিন্তু তিনি গোপনে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলেন। তিনি নবাবের সভাসদ ও সেনাপতিদের সাথে হাত মিলিয়ে সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন। নবাব সিরাজদ্দৌলা ওয়াটসের এই বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে অ্যাডমিরাল ওয়াটসনকে লেখা ওয়াটসের একটি চিঠি দরবারে সবার সামনে তুলে ধরেন। সেই চিঠিতে নবাবের উৎখাতের চক্রান্ত স্পষ্ট ছিল। তাই বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধে এবং নবাবের সার্বভৌমত্বকে অপমান করার জন্য সিরাজ ক্রুদ্ধ হয়ে ওয়াটসকে দরবার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন।
৭.২ 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ অবলম্বনে ঘসেটি বেগমের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম এক প্রতিহিংসাপরায়ণ, ষড়যন্ত্রকারী এবং হৃদয়হীন নারী চরিত্র হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। তিনি নবাব আলিবর্দী খাঁ-র জ্যেষ্ঠা কন্যা এবং সিরাজের খালা। সিরাজ সিংহাসনে বসায় তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং সিরাজকে ধ্বংস করাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১) প্রতিহিংসাপরায়ণতা: তিনি সিরাজের বিরুদ্ধে সবসময় বিষোদ্গার করেছেন এবং সিরাজের পতন দেখার জন্য ব্যাকুল ছিলেন।
২) ষড়যন্ত্রকারী: তিনি ইংরেজ ও সিরাজ-বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
৩) ক্ষমতালোভী: তিনি চেয়েছিলেন তাঁর পালিত পুত্র শওকত জং নবাব হোক, যাতে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকতে পারেন।
৪) হৃদয়হীনতা: লুৎফা যখন তাঁর কাছে সিরাজের জন্য দোয়া ভিক্ষা করেন, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সিরাজের মৃত্যু কামনা করেন। তাঁর চরিত্রে মাতৃস্নেহের বদলে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও জিঘাংসাই প্রবল হয়ে উঠেছে।
বিভাগ 'জ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ২ = ১০)
৮.১ "একটা মেয়ে পেয়েছি, তাকে শেখাবার সুযোগটুকু দিও তাহলেই হবে"-বক্তার এমন কথা বলার কারণ কী? একথায় বক্তার কোন মানসিকতার পরিচয় পাও?
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষীতিশ সিংহ জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তাদের কাছে এই কথা বলেছিলেন। তিনি কোনির মধ্যে এক অদম্য জেদ ও সুপ্ত প্রতিভা দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে কোনি একজন বিশ্বমানের সাঁতারু হতে পারবে। কিন্তু ক্লাবের দলাদলি ও রাজনীতির কারণে তাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল না। তাই ক্ষীতিশ কোনির জন্য কেবল শেখার সুযোগটুকু চেয়েছিলেন।
এই কথায় ক্ষীতিশের জহুরি চোখ ও নিঃস্বার্থ ক্রীড়াপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি একজন সত্যিকারের কোচ, যিনি প্রতিভাকে চিনতে ভুল করেন না। অপমান ও বাধা সত্ত্বেও তিনি কেবল একজন প্রতিভাবান সাঁতারুকে তৈরি করার জন্য নিজের সম্মান বা জেদ বিসর্জন দিয়ে অনুরোধ করতেও দ্বিধা করেননি। তাঁর কাছে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সাঁতারের উন্নতি ও প্রতিভার বিকাশ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৮.২ "অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।"-কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল, তা লেখো।
উত্তর: কোনিকে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেতে অনেক ষড়যন্ত্র ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় কোনি তার যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তারা তাকে দলে নিতে চাননি। হিয়া মিত্রের মতো নামী সাঁতারুদের ভিড়ে বস্তির মেয়ে কোনি ছিল উপেক্ষিত। কিন্তু ক্ষীতিশ সিংহের অদম্য জেদ ও বালিগঞ্জ ক্লাবের প্রণবিন্দুর সহযোগিতায় পরিস্থিতি বদলায়। জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য বাংলা দল গঠনের সময় নির্বাচকরা কোনিকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষীতিশ এবং জনমতের চাপে তারা শেষ পর্যন্ত কোনিকে একটি ট্রায়াল দেওয়ার সুযোগ দিতে বাধ্য হন। সেই ট্রায়ালে কোনি তার সেরাটা দিয়ে প্রমাণ করে যে সে যোগ্য। তার সময়ের রেকর্ড দেখে এবং পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারা তাকে বাংলা দলে নিতে বাধ্য হন। এটি ছিল প্রতিভার কাছে ষড়যন্ত্রের পরাজয়।
৮.৩ "সাঁতারু অনেক বড়ো, সেনাপতির থেকে।" বক্তা কে? বক্তাকে অনুসরণ করে উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন ধীরেন ঘোষ, যিনি জুপিটার ক্লাবের একজন কর্মকর্তা।
বক্তব্যটির তাৎপর্য গভীর। ক্ষীতিশ সিংহকে যখন জুপিটার ক্লাব থেকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয় এবং তাকে 'সেনাপতি' বা চক্রান্তকারী বলে অভিযুক্ত করা হয়, তখন তিনি কেবল কোনির কথা ভেবে সেই অপমান সহ্য করেছিলেন। পরবর্তীতে কোনি যখন জাতীয় স্তরে সাফল্য পায় এবং ক্ষীতিশ সিংহের নাম উজ্জ্বল করে, তখন ধীরেন ঘোষ উপলব্ধি করেন যে ক্ষীতিশ কেবল একজন চক্রান্তকারী বা 'সেনাপতি' নন, তিনি একজন সত্যিকারের সাঁতারু গড়ার কারিগর। 'সেনাপতি' যুদ্ধ পরিচালনা করেন, কিন্তু 'সাঁতারু' বা খেলোয়াড় তৈরির কারিগর (কোচ) মানুষের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলেন। ক্ষীতিশের এই সাধনা ও সাফল্য তাঁকে ক্লাবের ক্ষুদ্র রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক মহৎ স্থানে পৌঁছে দিয়েছিল। তাই বক্তা স্বীকার করেছেন যে, কোচ বা স্রষ্টা হিসেবে ক্ষীতিশ অনেক বড় মাপের মানুষ।
বিভাগ 'ঞ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ নম্বর)
১০.১ 'রক্তদানই জীবনদান'- এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
রক্তদান শিবির: মানবতার সেবায় এক অনন্য উদ্যোগ
ফালাকাটা, ১৫ই আগস্ট: গতকাল ফালাকাটা হাই স্কুলের প্রাঙ্গণে 'রক্তদানই জীবনদান' শীর্ষক এক বিশাল রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই মহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় বিডিও সাহেব।
শিবিরে প্রায় ২০০ জন রক্তদাতা, যার মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র এবং স্থানীয় মানুষ ছিলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান করেন। রক্তদাতাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল রক্তদাতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং রক্ত সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করেন। সংগৃহীত রক্ত জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে পাঠানো হয়।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রীষ্মকালে রক্তের সংকট মেটাতেই এই উদ্যোগ। রক্তদাতাদের হাতে শংসাপত্র ও ফলের চারা তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা রক্তদানের গুরুত্ব ও উপকারিতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, এক ব্যাগ রক্ত মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারে। সারাদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানটি এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
১০.২ প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
সুমন: কিরে রাজু, বাজার থেকে ফিরছিস মনে হচ্ছে? কিন্তু হাতে ওটা কী? পলিথিনের ব্যাগ?
রাজু: হ্যাঁ রে, বাজার করলাম। কিন্তু ব্যাগ আনতে ভুলে গিয়েছিলাম, তাই দোকানদার পলিথিনেই দিল।
সুমন: এটা কিন্তু ঠিক হলো না রাজু। তুই তো জানিস প্লাস্টিক বা পলিথিন পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর।
রাজু: জানি রে, কিন্তু কী করব বল? হঠাৎ দরকার পড়ল।
সুমন: দেখ, এই প্লাস্টিক মাটিতে মেশে না, মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। নর্দমায় জমে জল জমার কারণ হয়। এমনকি পশুরা খেয়ে ফেললে মারাও যেতে পারে।
রাজু: তুই ঠিকই বলেছিস। আসলে আমাদের সবারই সচেতন হওয়া উচিত।
সুমন: একদম। আমাদের উচিত সবসময় পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা। সরকার নিষিদ্ধ করেছে ঠিকই, কিন্তু আমরা সচেতন না হলে প্লাস্টিক মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়।
রাজু: আমি কথা দিচ্ছি, আজ থেকে আর প্লাস্টিক ব্যবহার করব না। সবসময় কাপড়ের ব্যাগ সাথে রাখব। ধন্যবাদ ভাই, মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।
সুমন: খুব ভালো। চল, আমরা অন্যদেরও সচেতন করি। প্লাস্টিক বর্জন করলেই পরিবেশ বাঁচবে।
বিভাগ 'ট' : কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো (১০ নম্বর)
১১.১ আধুনিক জীবনে বিজ্ঞান বনাম কুসংস্কার
ভূমিকা: মানব সভ্যতার ইতিহাসে বিজ্ঞান এক আশীর্বাদ। বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে যুক্তি, বুদ্ধি এবং অজানাকে জানার ক্ষমতা। কিন্তু বিজ্ঞানের এই চরম উন্নতির যুগেও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধে আছে কুসংস্কার। আধুনিক জীবনে বিজ্ঞান ও কুসংস্কার যেন দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে, তবুও তারা সহাবস্থান করছে।
বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞানের অবদান রয়েছে। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিকিৎসা, মহাকাশ গবেষণা—সব ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে সহজ ও উন্নত করেছে। বিজ্ঞান আমাদের শিখিয়েছে কার্যকারণ সম্পর্ক খুঁজতে, অন্ধবিশ্বাসকে দূরে ঠেলে যুক্তির আলোয় সব কিছু বিচার করতে।
কুসংস্কারের অন্ধকার: কিন্তু এত অগ্রগতির পরেও মানুষ কুসংস্কার মুক্ত হতে পারেনি। ডাইনি সন্দেহ, ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবচ, গ্রহরত্ন ধারণ, শুভ-অশুভ বিচার—এসব আজও সমাজে প্রচলিত। শিক্ষিত মানুষও অনেক সময় বিপদে পড়লে বা লোভে পড়ে কুসংস্কারের আশ্রয় নেয়। কম্পিউটার বা রকেটের যুগেও বিড়াল রাস্তা কাটলে মানুষ থমকে দাঁড়ায়, যা অত্যন্ত হাস্যকর ও বেদনাদায়ক।
বিজ্ঞান বনাম কুসংস্কার: বিজ্ঞান বলে যুক্তির কথা, প্রমাণের কথা। আর কুসংস্কার দাঁড়িয়ে আছে অন্ধভয় ও অশিক্ষার ওপর। বিজ্ঞান মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়, কুসংস্কার মানুষকে পিছিয়ে দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে যে রোগ সহজে সারে, কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে মানুষ তার জন্য ওঝার কাছে গিয়ে প্রাণ হারায়। এটি আধুনিক সমাজের এক বড় অভিশাপ।
প্রতিকার ও উপসংহার: এই অন্ধকার দূর করতে প্রয়োজন প্রকৃত বিজ্ঞানমনস্কতা। কেবল বিজ্ঞানের ছাত্র হলেই হবে না, বিজ্ঞানকে জীবনে ধারণ করতে হবে। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও বিজ্ঞান মঞ্চগুলিকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার প্রসারই পারে কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করতে। আসুন আমরা সবাই যুক্তিবাদী হই এবং কুসংস্কারমুক্ত এক সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।
১১.২ পরিবেশ সচেতনতা ও ছাত্রসমাজ
ভূমিকা: পরিবেশ ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ পরিবেশের ওপর যে অবিচার করছে, তার ফলস্বরূপ আজ বিশ্বজুড়ে পরিবেশ দূষণ এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই সংকট থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশ দূষণের কারণ: নির্বিচারে গাছ কাটা, প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার, কলকারখানার ধোঁয়া, গাড়ির হর্ন—এসবই পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। এর ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নানা মারণ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে।
ছাত্রসমাজের ভূমিকা: ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং শক্তির উৎস। পরিবেশ রক্ষায় তারা নিম্নলিখিত ভূমিকা পালন করতে পারে:
১) বৃক্ষরোপণ: 'একটি গাছ, একটি প্রাণ'—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ছাত্ররা বিদ্যালয় ও বাড়ির আশেপাশে গাছ লাগাতে পারে এবং তার যত্ন নিতে পারে।
২) সচেতনতা বৃদ্ধি: মিছিল, পথনাটিকা বা পোস্টারের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক বর্জন, জল অপচয় রোধ এবং দূষণ সম্পর্কে সচেতন করতে পারে।
৩) দূষণ রোধ: নিজেরা প্লাস্টিক ব্যবহার না করে এবং অন্যদের বারণ করে, যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলে তারা দূষণ রোধে সচেষ্ট হতে পারে।
৪) স্বচ্ছ ভারত অভিযান: নিজেদের এলাকা পরিষ্কার রাখার অভিযানে তারা সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে।
উপসংহার: পরিবেশ রক্ষা কোনো একক মানুষের কাজ নয়, এটি সমষ্টিগত দায়িত্ব। কিন্তু ছাত্রসমাজ যদি এগিয়ে আসে, তবে তারা বড়দেরও সচেতন করতে পারবে। "দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর"—কবির এই আকুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে ছাত্রসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলাই হোক তাদের অঙ্গীকার।
১১.৩ বাংলার উৎসব
ভূমিকা: "বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ।" উৎসবপ্রিয় বাঙালি উৎসব ছাড়া বাঁচতে পারে না। বাংলার উৎসব মানেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক মহামিলনের সুর। এই উৎসবগুলি বাঙালির জীবনে আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে এবং দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি দূর করে।
উৎসবের বৈচিত্র্য: বাংলার উৎসবগুলিকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়—ধর্মীয়, ঋতুভিত্তিক, সামাজিক এবং জাতীয় উৎসব।
১) ধর্মীয় উৎসব: হিন্দুদের দুর্গাপূজা, কালীপূজা, সরস্বতী পূজা; মুসলমানদের ঈদ, মহরম; খ্রিস্টানদের বড়দিন—এসবই বাংলায় ধুমধাম করে পালিত হয়। বিশেষ করে দুর্গাপূজা বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব, যেখানে সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে।
২) ঋতু উৎসব: ঋতুচক্রের সাথে বাঙালির উৎসবের নিবিড় যোগ। বসন্তে দোলযাত্রা, শীতে পৌষমেলা বা নবান্ন, বর্ষায় রথযাত্রা বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের মনকে রাঙিয়ে দেয়।
৩) সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব: অন্নপ্রাশন, বিবাহ, উপনয়ন, ভাইফোঁটা, জামাইষষ্ঠী—এগুলি বাঙালির পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।
৪) জাতীয় উৎসব: স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, রবীন্দ্রজয়ন্তী—এগুলি দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক চেতনার উৎসব।
উৎসবের গুরুত্ব: উৎসব মানুষকে এক করে। কর্মব্যস্ত জীবনে উৎসবই আনে মুক্তির স্বাদ। এটি সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা দেয়। বাংলার উৎসবে অর্থনীতিরও একটি বড় ভূমিকা আছে; মৃৎশিল্পী, ঢাকি, ফুলবিক্রেতা থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ীরা এই সময় উপার্জনের মুখ দেখেন।
উপসংহার: বাংলার উৎসব কেবল আনন্দ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ। যদিও বর্তমানে উৎসবে কিছুটা কৃত্রিমতা ও আড়ম্বর বেড়েছে, তবুও উৎসবের মূল সুর—আনন্দ ও মিলন—আজও অমলিন। "সবার সুখে হাসব আমি, কাঁদব সবার দুখে"—এই মন্ত্রেই বাংলার উৎসব সার্থক হয়ে ওঠে।
১১.৪ তোমার জীবনের লক্ষ্য
ভূমিকা: লক্ষ্যহীন জীবন মাঝবিহীন নৌকোর মতো। জীবনে সফল হতে গেলে এবং সমাজের জন্য কিছু করতে গেলে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। ছাত্রাবস্থাতেই এই লক্ষ্য স্থির করে নেওয়া উচিত। আমার জীবনের লক্ষ্য হলো একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া।
লক্ষ্য নির্বাচনের কারণ: শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি ব্রত। ছোটবেলা থেকেই আমি আমার শিক্ষকদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাঁরা যেভাবে জ্ঞান বিতরণ করেন এবং ছাত্রদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করেন, তা আমাকে মুগ্ধ করে। সমাজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা অফিসার—সবারই প্রয়োজন আছে, কিন্তু তাঁদের গড়ে তোলার কারিগর হলেন শিক্ষক। আমি মনে করি, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে চালিত করার জন্য শিক্ষকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া, আমাদের দেশে এখনো নিরক্ষরতার হার অনেক। আমি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে সেই অন্ধকার দূর করতে চাই।
প্রস্তুতি: আমার লক্ষ্য পূরণের জন্য আমি এখন থেকেই মন দিয়ে পড়াশোনা করছি। আমি জানি, ভালো শিক্ষক হতে গেলে আগে ভালো ছাত্র হতে হয় এবং গভীর জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়। আমি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে চাই এবং শিক্ষকতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে চাই।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: শিক্ষক হয়ে আমি কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেব না, ছাত্রদের নীতিবোধ, দেশপ্রেম এবং মূল্যবোধের শিক্ষা দেব। আমি গ্রামের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য বিনা বেতনে পড়ানোর ব্যবস্থাও করতে চাই। আমার ক্লাসে ছাত্ররা যাতে আনন্দ পায় এবং শিখতে আগ্রহী হয়, সেই চেষ্টা আমি করব।
উপসংহার: স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, "মানুষ তৈরি করাই শিক্ষার উদ্দেশ্য।" আমি সেই মানুষ গড়ার কারিগর হতে চাই। অর্থ বা যশের লোভে নয়, আত্মতৃপ্তি এবং সমাজসেবার উদ্দেশ্যেই আমি শিক্ষকতাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আমার এই স্বপ্ন একদিন নিশ্চয়ই সফল হবে।