মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
বুক রিভিউ ও সাজেশন
'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধটি প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের (নিখিল সরকার) লেখা। এই প্রবন্ধে লেখক কালির বিবর্তন এবং আধুনিক যুগে কলমের হারিয়ে যাওয়ার ইতিহাস অত্যন্ত সরসভাবে উপস্থাপন করেছেন। একসময় বাঁশের কঞ্চি বা পাখির পালক দিয়ে তৈরি কলম এবং ঘরে তৈরি কালি দিয়ে লেখালেখি হতো। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে ফাউন্টেন পেন, বলপেন এবং শেষমেশ কম্পিউটার এসে সেই ঐতিহ্যকে গ্রাস করেছে। লেখক তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতি এক গভীর নস্টালজিয়া প্রকাশ করেছেন। এই অধ্যায়টি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রবন্ধের খুঁটিনাটি তথ্য, বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
Overview & Study Guide
The essay 'Hariye Jawa Kali Kolom' (Lost Ink and Pen) is a nostalgic journey by Nikhil Sarkar, writing under the pseudonym Sripanto. It traces the evolution of writing instruments, from traditional bamboo reeds and quills with homemade ink to the modern era of ballpoint pens and computers. The author vividly recalls his childhood memories associated with ink and pen making, contrasting them with the current technological advancements that have rendered these traditional tools obsolete. This chapter is vital for Madhyamik students as it explores themes of cultural heritage and modernization. We have compiled a comprehensive set of MCQs, short answer, and long answer type questions to aid your preparation.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
হারিয়ে যাওয়া কালি, কলম - শ্রীপান্থ
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. রোম সাম্রাজ্যে ব্রোঞ্জের শলাকার পোশাকি নাম ছিল- উত্তর: [A] স্টাইলাস
- ২. "ঝরনা কলম”- নামটা কার দেওয়া হতে পারে বলে প্রাবন্ধিকের মনে হয়েছে? উত্তর: [C] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
- ৩. যিনি কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন, তাকে বলি- উত্তর: [C] দার্শনিক
- ৪. 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম'- প্রবন্ধটি শ্রীপান্থের যে গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে- উত্তর: [C] কালি কলম মন
- ৫. 'কালি, কলম, মন লেখে ___ জন। (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [B] তিন
- ৬. "কথায় বলে ___ ।" (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [A] কালি, কলম, মন লেখে তিনজন
- ৭. "কালির অক্ষর নাইকো পেটে, চণ্ডী পড়েন ___ ।" (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [C] কালিঘাটে
- ৮. "প্রতিটি বোতামে ছাপা রয়েছে ___ ।" (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [D] একটি করে হরফ
- ৯. "ছিঁড়ে না পত্র না ছাড়ে মসি"- 'মসি' শব্দের অর্থ- উত্তর: [A] কালি
- ১০. "এক সময়ে বলা হত কলমে কায়স্থ চিনি, গোঁফেতে ___ ।" (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [B] রাজপুত
- ১১. "যা ইতিমধ্যে লেখা হয়েছে তাই-ই ফুটে উঠেছে ___ ।" (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [C] পরদায়
- ১২. 'ফাউন্টেন পেনের এক বিপদ'। 'বিপদটি' কী? উত্তর: [B] লেখককে নেশাগ্রস্ত করে তোলে
- ১৩. যারা ওস্তাদ কলমবাজ, তাদের বলা হয়- উত্তর: [C] লিপিকুশলী
- ১৪. "সেই আঘাতেই পরিণতি নাকি তাঁর মৃত্যু ।- 'তাঁর' বলতে বোঝানো হয়েছে যাঁকে- উত্তর: [D] ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়কে
- ১৫. প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ-এর আসল নাম- উত্তর: [D] নিখিল সরকার
- ১৬. লেখক তাঁর অফিসে কোন্ জিনিসের কথা বলেছেন যা শুধু তাঁরই আছে? উত্তর: [D] একটা কলম
- ১৭. লেখক যেখানে কাজ করতেন সেটা ___ অফিস। (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [C] সংবাদপত্রের
- ১৮. "এই নেশা পেয়েছি আমি শরৎদার কাছ থেকে"- বক্তা কে? উত্তর: [B] শ্রীপান্থ
- ১৯. 'কালি, কলম, মন লেখে তিনজন'-এটি হল- উত্তর: [A] প্রবাদ
- ২০. "আমাদের মধ্যে যারা ওস্তাদ তারা ওই কালো জলে ___ ঘষত । (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [B] হরিতকী
- ২১. পালকের কলমের ইংরেজি নাম- উত্তর: [B] কুইল
- ২২. "ক' অক্ষর গোমাংস"- বলতে লোকে যাদের বোঝায়- উত্তর: [D] অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তিদের
- ২৩. সকলের দাবি মেটাতেই তৈরি ___ । (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [D] যন্ত্র যুগ
- ২৪. কোন্ কলম একমাত্র সরস্বতী পুজোর সময় দেখা যায়? উত্তর: [B] খাগের কলম
- ২৫. "কলমকে বলা হয় ___ এর চেয়েও শক্তিধর।" (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [A] তলোয়ার
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিতে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে সম্মানিত হয়েছেন? উত্তর: হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির পাতায় অক্ষর কাটাকুটি করতে গিয়েই রবীন্দ্রনাথের চিত্রচর্চা শুরু, যা পরবর্তীকালে তাঁকে বিশ্বময় সম্মানিত করেছে।
- ২. "লেখে তিনজন।"-এই 'তিনজন' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? উত্তর: 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' রচনাংশে ব্যবহৃত প্রশ্নোদ্ভূত অংশে 'তিনজন' বলতে বোঝানো হয়েছে কালি, কলম ও মনকে।
- ৩. "না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত।”- কোন্ প্রসঙ্গে লেখক এরূপ মন্তব্য করেছেন? উত্তর: সুভো ঠাকুরের বিখ্যাত দোয়াত সংগ্রহ দেখে বিস্মিত লেখক এমন মন্তব্য করেছেন।
- ৪. "একবার অন্তত নিবের কলমকে দেখা গেছে খুনির ভূমিকায়।”- কোন্ ঘটনার কথা এখানে বলা হয়েছে? উত্তর: সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় অসাবধনতাবশত বুকে কলম ফুটে মারা যান-এই ঘটনা প্রসঙ্গেই প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্য করেছেন লেখক।
- ৫. সত্যজিৎ রায়ের "অনেক সুস্থ সুন্দর নেশার"-কী ছিল? উত্তর: সত্যজিৎ রায়ের অনেক সুস্থ সুন্দর নেশার মধ্যে একটি ছিল তাঁর লিপিশিল্প।
- ৬. "কালি, কলম, মন লেখে তিনজন।"-এ কথা বলার অন্তর্নিহিত কারণ কী? উত্তর: লেখকের মনের ভাবনা কলমের কালি বেয়ে নেমে এসে কাগজের পৃষ্ঠায় ভাষারূপ পায়, তাই এ ধরনের কথা বলা হয়েছে।
- ৭. "সবাই এখানে লেখক।"- 'সবাই এখানে লেখক' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: সংবাদপত্র বা পত্র-পত্রিকার অফিসে সকলকেই কোনো না কোনো ধরনের লেখার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। তাই লেখকের অফিসে সবাই লেখক-একথাই বোঝানো হয়েছে উক্ত উদ্ধৃতাংশে।
- ৮. "দায়সারা ভাবে কোনও মতে সেদিনকার মতো কাজ সারতে হয়।” 'সেদিনকার' বলতে বক্তা কোন্ দিনের কথা বলেছেন? উত্তর: 'সেদিনকার' বলতে বক্তা বুঝিয়েছেন অফিসে বক্তাই একমাত্র কলম ব্যবহার করতেন। তাই কোনোদিন কলম নিয়ে যেতে ভুলে গেলে কারও ভোঁতা মুখের কলমে অগত্যা কাজ চালাতে হত।
- ৯. "আশ্চর্য সবই আজ অবলুপ্তির পথে।"- কোন্ বিষয়ে লেখক শ্রীপান্থ এমন মন্তব্য করেছেন? উত্তর: ফাউন্টেন পেন, ডট্ পেনসহ নানা রকমের পেন অবলুপ্ত হতে চলেছে। কম্পিউটার যুগে কলমের ব্যবহার কমে আসছে বলে লেখক শ্রীপান্থ এরকম মন্তব্য করেছেন।
- ১০. “তবু যদি আমাকে হত্যা করতে চাও, আচ্ছা, তবে তা-ই হোক।”-কোন্ প্রসঙ্গে লেখক এরূপ মন্তব্য করেছেন? উত্তর: বাঁশের কলম, নিব পেন ছেড়ে লেখক বল পেনের কাছে আত্মসমর্পণ করে আধুনিক অগ্রগতির কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গেই প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি করেছেন।
- ১১. "নিবের কলমের মান মর্যাদা"- শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কোন্ বিখ্যাত ব্যক্তি? উত্তর: লেখক শ্রীপান্থের মতে, সম্ভবত একমাত্র সত্যজিৎ রায়ই শেষপর্যন্ত নিবের কলমে লেখালেখি করে সেই কলমের মান মর্যাদা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
- ১২. ".......বলে আমি মুনশি।"- 'মুনশি' কাদের বলা হয়েছে? উত্তর: আরবি 'মুনশি' শব্দের আভিধানিক অর্থ বিদ্বান, পণ্ডিত, উর্দু শিক্ষক বা কেরানি। লেখালেখি যাদের পেশা তাদের মুনশি বলা হয়েছে।
- ১৩. "কালযুগ বুঝিবা আজ আমরাও তা-ই"- 'আমরাও তা-ই' বলতে লেখক কী বলতে চেয়েছেন? উত্তর: বাংলার এক প্রচলিত প্রবাদ অনুযায়ী লেখক বলতে চেয়েছেন, কালি ও কলম ছাড়াই এখন সবাই মুনশি।
- ১৪. "গোরুকে অক্ষর খাওয়ানো নাকি পাপ"।-সে কারণে লেখকরা শৈশবে কী করতেন? উত্তর: শৈশবে লেখকরা মাস্টারমশাইয়ের ফেরত দেওয়া কলাপাতার অংশটি পুকুরে ফেলে দিতেন। কারণ গোরু সেটা খেলে অমঙ্গল হবে বলে মনে করা হত।
- ১৫. "আমাদের ছিল সহজ কালি তৈরি পদ্ধতি।"-সহজ পদ্ধতিটি কী ছিল? উত্তর: কাঠের উনুনে ব্যবহার করা লোহার কড়াই-এর নীচে জমে থাকা কালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে একটা পাথরের পাত্রে তুলে জলে গুলে নেওয়া হত। এটাই ছিল কালি তৈরির সহজ পদ্ধতি।
- ১৬. লেখক ফিনিসীয় হলে কী করতেন? উত্তর: লেখক ফিনিসীয় হলে তিনি বনপ্রান্ত থেকে হাড় কুড়িয়ে এনে কলম হিসেবে ব্যবহার করতেন।
- ১৭. স্টাইলাস কী? উত্তর: ব্রোঞ্জের সরু শলাকার পোশাকি নাম স্টাইলাস। প্রাচীনকালে কলম হিসেবে ব্যবহৃত হত ব্রোঞ্জের এই সরু শলাকা।
- ১৮. এমন দুটি চিত্রের নাম করো যাতে পালকের কলম দেখা যায়? উত্তর: যে দুটি চিত্রে পালকের কলম দেখা যায় সেই চিত্র দুটি হল-উইলিয়াম জোন্স ও 'সু-মুনশি' কেরিসাহেব।
- ১৯. প্রথমে ফাউন্টেন পেনের নাম কী ছিল? উত্তর: প্রথমে ফাউন্টেন পেনের নাম ছিল রিজার্ভার পেন।
- ২০. "এমন কী আমি যদি রোম সাম্রাজ্যের অধীশ্বর হতাম।”- কোন্ অধীশ্বরের নাম তুমি পেয়েছ? উত্তর: পাঠ্যে যে রোমান অধীশ্বরের নাম আমি পেয়েছি, তাঁর নাম হল জুলিয়াস সিজার।
- ২১. 'কেরি সাহেবের মুনশি' কাকে বলে? উত্তর: উইলিয়াম কেরির বাংলা বিষয়ের শিক্ষক রামরাম বসুকে 'কেরি সাহেবের মুনশি' বলা হয়।
- ২২. "আমি সেদিন সেই জাদু-পাইলট নিয়েই ঘরে ফিরে ছিলাম”।-লেখক তাঁর কলমটিকে 'জাদু পাইলট' বলেছেন কেন? উত্তর: প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ প্রথম যে পাইলট পেন কিনেছিলেন, বিক্রেতা সেটি একটা কাঠের বোর্ডে নিরীক্ষণ করে দেখিয়েছিলেন তার নিব কত মজবুত। সার্কাসে যেভাবে ছুরি ছুঁড়ে খেলা দেখানো হয়, সেইভাবে ছোঁড়া সত্ত্বেও ওই পাইলট কলমের নিব অক্ষত ছিল, সে কারণে কলমটিকে 'জাদু পাইলট' বলেছেন।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
১. "কালি, কলম, মন লেখে তিনজন' কিন্তু কলম কোথায়"- লেখকের এ ধরনের মন্তব্যের কারণ কী? অংশটির তাৎপর্য লেখ।
উত্তর: মন্তব্যের কারণ: 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' শীর্ষক প্রবন্ধে শ্রীপান্থ ছদ্মনামে লেখক নিখিল সরকার কালি কলমের অতীতের ছবি এবং বিবর্তনের পথ ধরে বর্তমানে তার অবস্থানের চমৎকার একটি দলিল পেশ করেছেন। আলোচ্য অংশে প্রচলিত বাংলা প্রবাদ বাক্যকে প্রারম্ভিক ব্যবহার করেছেন প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। লেখক একজন চাকুরিজীবী। তিনি যেখানে কাজ করেন সেটা একটা লেখালেখির অফিস। প্রাবন্ধিকের ভাষায় সবাই এখানে লেখক কিন্তু লেখকের চোখে ধরা পড়েছে অন্য ছবি। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি অফিসে কলম ব্যবহার করেন। বাকিরা সবাই কাজ করেন কম্পিউটারে। ফলে তাদের কলমের প্রয়োজন নেই। এই বৈপরিত্যের কারণে লেখক আলোচ্য মন্তব্যটি করেন।
তাৎপর্য: সাহিত্য হল সৃষ্টি ও নির্মাণ। সাহিত্যিকের মনের কথা যখন শব্দ বন্ধে প্রকাশ পায় তখন তা সাহিত্য হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন নীরব কবি বলে কিছু হয় না। অর্থাৎ ভাব ও কল্পনাকে রূপ দিতে হয়। এর আবশ্যিক উপাদান হল-কালি, কলম ও মন যা একটি লেখার নির্মাণকে শিল্পে পরিণত করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন-কালি, কলম মন লেখে তিনজন।
২. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে লেখক ছেলেবেলার হোমটাস্ক দেখানোর জন্য কোন ব্যবস্থার কথা বলেছেন?
উত্তর: হোমটাস্ক: শ্রীপান্থ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে ৫০-৬০ বছর আগে তার বাল্যকালে গ্রাম বাংলার মানুষ লেখার জন্য যে উপায় বেছে নিয়েছিলেন তা উল্লেখ করেছেন। এই আলোচনার প্রসঙ্গক্রমে লেখক তার ছেলেবেলার স্কুলের হোমটাস্কের প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। লেখকের মতো যারা অজপাড়াগাঁয়ে শৈশব কাটিয়েছেন তারা এখনকার মতো ব্যবহার করতেন না। সরু বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি হত। তারপর সে কঞ্চির সুঁচালো মুখটা চিরে দেওয়া হত যাতে একসঙ্গে অনেকটা কালি গড়িয়ে না পড়ে। সে সময় লেখার জন্য কাগজের পরিবর্তে ব্যবহার করা হত কলাপাতা। সেগুলি কাগজের মতো মাপ করে কেটে নিয়ে তার ওপর কঞ্চির কলমে ঘরের তৈরি কালি দিয়ে লিখে হোমটাস্ক করতে হত তখনকার ছাত্রদের। ওই কলাপাতাগুলি বান্ডিল করে স্কুলে নিয়ে যেতে হত। শিক্ষক মহাশয় হোমটাস্ক দেখে বুঝে আড়াআড়িভাবে ছিঁড়ে পড়ুয়াদের ফেরৎ দিতেন। স্কুল থেকে ফেরার পথে ছাত্রছাত্রীরা ওই হোমটাস্কের কলাপাতাগুলি কোনো পুকুরে ফেলে দিত। কারণ তখন তারা বিশ্বাস করত এই পাতা যদি কোনোভাবে গোরুতে খায় তবে তা ভয়ানক অমঙ্গল।
৩. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে লেখক কালি প্রস্তুতের কোন চিত্র অঙ্কন করেছেন। অথবা, কালি কীভাবে তৈরি হত?
উত্তর: কালি প্রস্তুতি: বিখ্যাত লেখক শ্রীপান্থ রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে লেখক জানিয়েছিলেন কীভাবে কালি ও কলম জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বর্তমানে কম্পিউটার আমাদের লেখালেখির মূল মাধ্যম হলেও একসময় কালি ও দোয়াত ছিল লেখার একমাত্র উপাদান। সেই দিনগুলির কথা লেখক স্মরণ করেছেন। লেখক বলেছেন-'আমি গ্রামের ছেলে' একথা বলার কারণ কলমের সঙ্গে তার জীবনের সম্পর্ক। এরপর তিনি জানিয়েছেন তাকে কালি তৈরি করতে মা পিসি, দিদিরা সাহায্য করতেন। তাদের কালি তৈরির পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সহজ। বাড়ির রান্না হত কাঠের উনুনে। তাতে কড়াইয়ের তলায় বেশ কালি জমত। লাউপাতা দিয়ে তা ঘষে তুলে একটা পাথরের বাটিতে রেখে জলে গুলে নেওয়া হত। লেখক জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে যারা ওস্তাদ তারা সেই কালো জলে হরিতকী ঘষতেন। কখনও কখনও মাকে দিয়ে আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে তা বেটে সেই তরলে মেশাতেন। সব ভালো করে মেশাবার পর একটা খুন্তির গোড়ার দিকটা পুড়িয়ে লাল টকটকে করে সেই জলে ডুবিয়ে দিতেন। অল্প জল হওয়ায় তা টগবগ করে ফুটত। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে দোয়াতে ঢেলে রাখা হত। দোয়াত মানে তখন ছিল মাটির দোয়াত। বাঁশের কলম, মাটির দোয়াত ঘরে তৈরি কালি আর কলাপাতা এইসব নিয়ে লেখকদের প্রথম লেখালেখি শুরু। এভাবে কালি তৈরির প্রসঙ্গ এনেছেন।
৪. 'আমার মনে পড়ে প্রথম ফউন্টেন পেন কেনার কথা'- লেখকের প্রথম ফাউন্টেন পেন কেনার অভিজ্ঞতা লেখ।
উত্তর: ফাউন্টেন পেন কেনার অভিজ্ঞতা: বিখ্যাত লেখক শ্রীপান্থ রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর পর লেখক কলেজ স্ট্রিটের এক দোকানে গিয়েছিলেন পেন কিনতে। দোকানি পেনের নাম জানতে চাইলে লেখক কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেন। দোকানদার লেখককে একে-একে পেনের দাম ও নাম বলতে থাকলেন। শেষে লেখকের পকেটের অবস্থা বুঝে নিয়ে সস্তার একটি জাপানি পাইলট পেন লেখকের সামনে ধরলেন। শুধু তাই নয় পেনটি কতটা শক্তপোক্ত, টেকশয় সেটা বোঝানোর জন্য লেখকের সামনে ছোটোখাটো একটা ডেমো দিলেন। পেনের মুখ থেকে খাপটা সরিয়ে কলমটা ছুঁড়ে দিলেন টেবিলের পাশে রাখা কাঠের বোর্ডের উপর। সার্কাসে যেমন ছুরির খেলা দেখায় ঠিক সেই রকম। বোর্ড থেকে পেনটা খুলে এনে দু-এক লাইন লিখে লেখককে দেখিয়ে দিলেন নিব ঠিক আছে। লেখক সেদিন জাপানি পাইলট নিয়ে ঘরে ফিরেছিলেন। যা তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী হিসেবে ছিল।
উপসংহার
আশা করি, শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধ থেকে দেওয়া এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়তা করবে। প্রবন্ধটিতে প্রযুক্তির আগ্রাসনে হারিয়ে যাওয়া এক সোনালি অতীতের কথা বলা হয়েছে, যা আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে দেওয়া প্রতিটি প্রশ্ন, বিশেষ করে রচনাধর্মী প্রশ্নগুলি, পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা প্রতিটি উত্তর মনোযোগ সহকারে পড়বে এবং প্রয়োজনে লিখে অনুশীলন করবে। যদি কোনো অংশ বুঝতে অসুবিধা হয়, তবে অবশ্যই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাহায্য নেবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We hope that these questions and answers from Sripanto's essay 'Hariye Jawa Kali Kolom' will be extremely helpful for your Madhyamik exam preparation. The essay discusses a golden past lost to the aggression of technology, reminding us of our roots. Every question provided here, especially the essay-type questions, is very important for the exam. Read each answer carefully and practice writing them if necessary. If you face any difficulty in understanding any part, do not hesitate to seek help from your teachers. We wish you all a bright future and excellent results in your exams.