মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
বুক রিভিউ ও সাজেশন
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পটি মানুষ ও প্রকৃতির এক নিবিড় সম্পর্কের আলেখ্য। গল্পের নায়ক নদের চাঁদ, পেশায় স্টেশন মাস্টার হয়েও, নদীর প্রতি এক গভীর মমত্ববোধ অনুভব করেন। যান্ত্রিক সভ্যতা কীভাবে প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করে এবং প্রকৃতি কীভাবে তার প্রতিশোধ নেয়, এই গল্পে তা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নদীর 'বিদ্রোহ' এখানে এক রূপক, যা বন্দিদশা থেকে মুক্তির আকুতি প্রকাশ করে। মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য এই গল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অধ্যায়ে গল্পের মূল ভাব, চরিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলি সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তোমাদের প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে।
Overview & Study Guide
Manik Bandyopadhyay's short story 'Nadir Bidroho' (The River's Rebellion) explores the profound bond between a human and nature. The protagonist, Nader Chand, a station master, views the river not as a water body but as a living entity. The story vividly portrays the conflict between industrialization (represented by the bridge) and the untamed force of nature. This chapter is vital for Madhyamik students to understand the themes of ecological balance and human emotion.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
নদীর বিদ্রোহ - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল- উত্তর: [D] চিঠিখানা
- ২. নদীর চাঞ্চল্য ছিল ___ (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [B] বর্ষণ-পুষ্ট মূর্তির পরিপূর্ণতার আনন্দ
- ৩. "জলপ্রবাহকে আজ তাহার জীবন্ত মনে হইতেছিল"- কারণ- উত্তর: [B] উন্মত্ততার জন্য
- ৪. নদের চাঁদ এতকাল যার জন্য গর্ব অনুভব করেছে সেটি হল- উত্তর: [A] নতুন রং করা ব্রিজটি
- ৫. নদীর স্রোত ব্রিজের এই দিকে ___ (শূন্যস্থান পূরণ করো)। উত্তর: [B] ধারকস্তম্ভগুলিতে বাধা পাইয়া ফেনিল আবর্ত রচনা করিতেছে
- ৬. স্ত্রীকে লেখা নদের চাঁদের চিঠির পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল- উত্তর: [D] পাঁচ পৃষ্ঠা
- ৭. নদের চাঁদ প্রতিদিন কোথায় বসে নদীকে দেখে? উত্তর: [C] ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে
- ৮. নদের চাঁদের মৃত্যু হয়েছিল- উত্তর: [D] ট্রেনের ধাক্কায়
- ৯. নদের চাঁদ স্টেশন মাস্টারি করেছিল- উত্তর: [A] চার বছর
- ১০. কোন্ আকস্মিক আঘাত নদের চাঁদের চেতনাকে দিশাহারা করে দিয়েছিল? উত্তর: [C] ট্রেন চলে যাওয়ার শব্দ
- ১১. "কিন্তু শৈশবে, কৈশোরে আর প্রথম যৌবনে বড়ো ছোটোর হিসেব আর কে করে?"-উক্তিটি যার সম্বন্ধে করা হয়েছে- উত্তর: [A] নদের চাঁদের দেশের নদীটির সম্বন্ধে
- ১২. নদের চাঁদের বয়স- উত্তর: [A] ত্রিশ বছর
- ১৩. "...এতকাল নদের চাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে”- কীসের জন্য এই গর্ব অনুভব? উত্তর: [A] নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য
- ১৪. "নদের চাঁদ ___ ডাকিয়া বলিল।” (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [A] নতুন সহকারীকে
- ১৫. দেশের সেই ক্ষীণ স্রোতা নির্জীব নদীটি- উত্তর: [A] আত্মীয়ার মতোই তার মমতা পেয়েছিল
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. পাঁচদিন পর নদীকে দেখে নদের চাঁদ কেন স্তম্ভিত হয়েছিল? উত্তর: পাঁচদিন ধরে অবিরাম ধারায় বৃষ্টির জল পেয়ে নদী যেন ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল, বাঁধ ভেঙে যেন বেরিয়ে আসতে চাইছিল নদীর জলধারা। নদীর এরকম দৃশ্য দেখেই নদের চাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।
- ২. 'যেন আনন্দই উপভোগ করে।'-কে কীসে আনন্দ উপভোগ করে? উত্তর: তিরিশ বছর বয়সে একটি স্টেশনে স্টেশন মাস্টাররের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নদের চাঁদের নদীর জন্য যে পাগলামি তাকে মানায় না তা জেনেও নিজের এই পাগলামিতে সে আনন্দই উপভোগ করে।
- ৩. পাঁচদিন পর নদীকে দেখে নদেরচাঁদ কেন স্তম্ভিত হয়েছিল? উত্তর: টানা পাঁচদিন ধরে প্রবল বৃষ্টির জল পেয়ে নদী যেন ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল। বাঁধ ভেঙে যেন বেরিয়ে আসতে চাইছিল। নদীর এই ভয়ংকর রূপ দেখেই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।
- ৪. নদেরচাঁদের দেশের নদীটি কীরকম ছিল? উত্তর: নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।
- ৫. জলপ্রবাহকে দেখে সেদিন নদেরচাঁদের জীবন্ত মনে হয়েছিল কেন? উত্তর: নদীর উন্মত্ততার জন্যই নদীর জলপ্রবাহকে দেখে নদেরচাঁদের জীবন্ত মনে হয়েছিল।
- ৬. কীভাবে নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল? উত্তর: অন্ধকারে অন্যমনস্কভাবে রেললাইন ধরে স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল।
- ৭. নদেরচাঁদ কেন ভয় পেয়েছিল? উত্তর: প্রবল বর্ষায় নদীর অবস্থা ভয়ংকর ছিল, নদী যেন রোষে, ক্ষোভে, উন্মত্ত ছিল। নদেরচাঁদ নদী থেকে এক হাত উঁচুতেই বসেছিল। তাই বর্ষার জলে ফুলেফেঁপে ওঠা নদী যে কোনো মুহূর্তে বিপদ ঘটাতে পারে বলেই নদেরচাঁদ ভয় পেয়েছিল।
- ৮. কোথায় বসে নদের চাঁদ প্রতিদিন নদীকে দেখে? উত্তর: নদের চাঁদ ব্রিজের মাঝামাঝি ইট, সুরকি আর সিমেন্ট দিয়ে গাঁথা ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে বসে প্রতিদিন নদীকে দেখত।
- ৯. স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচিত হওয়া নদী আর নদের চাঁদের দেশের নদীর মধ্যে তফাৎ কী ছিল? উত্তর: স্টেশন মাস্টারি করতে এসে পরিচিত হওয়া নদীটি ছিল প্রশস্ত, গভীর ও জলে পরিপূর্ণ আর নদের চাঁদের দেশের নদীটি ছিল ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
- ১. "চার বছরের চেনা এই নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল"- কেন নদের চাঁদের কাছে নদীর মূর্তি অপরিচিত হল? উত্তর: নদীর অপরিচিত মূর্তি: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে বাঁধে বন্দি হওয়া নদীটির কথা বলা হয়েছে। নদের চাঁদ স্টেশনমাস্টারি করতে এসে এই নদীকে দেখেছিল। এই নদী গভীর প্রশস্ত জলপূর্ণ প্রথম বর্ষার কারণে পাঁচদিন সে নদীকে দেখতে পায়নি। পাঁচদিন পরে গিয়ে নদের চাঁদ দেখল নদী যেন তার বন্দি দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিদ্রোহ করছে। নদীর গাঢ় পঙ্কিল জল ফুলে ফেঁপে ছুটে চলেছে। নদীর এই ভয়ঙ্কর রূপ নদের চাঁদ আগে কখনো দেখেনি। তাই তাকে অপরিচিত মনে হয়েছে।
- ২. "নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে - কে কীভাবে নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পারল? উত্তর: নদের চাঁদে অনুভব: পাঁচদিন টানা বৃষ্টির পর নদীর কাছে গিয়ে নদের চাঁদ দেখল নদীর পঙ্কিল জলস্রোত ফুলে ফেঁপে উদ্যম গতিতে ছুটে চলেছে। নদী যেন উন্মত্ত। নদীর জলস্রোত ব্রিজ ও বাঁধের কাছাকাছি এসেছে যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে দিতে চায় সব বাধাকে। নদের চাঁদের মনে হল নদী যেন মুক্তি পেতে চাইছে, ফিরে পেতে চাইছে তার স্বাভাবিক গতি। তাই তার এই ভয়াল বিদ্রোহ।
- ৩. "নদীর ধারে তার জন্ম হইয়াছে"-কার কথা বলা হয়েছে? একথা বলার কারণ কী? উত্তর: নদের চাঁদ: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদের চাঁদের কথা বলা হয়েছে। একথা বলা কারণ নদী কেন্দ্রিক জীবনে যারা অভ্যস্ত তাদের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক বারোমাস। নদের চাঁদ নদীকে না দেখে থাকতে পারে না। সে নিজেও তা বোঝে, তবু নিজেকে সংযত করতে পারে না। নদীর প্রতি তার ভালোবাসার কারণ আছে। নদীর ধারে তার জন্ম হয়েছে। নদীর ধারেই সে শৈশব, বাল্য, কৈশোর কাটিয়েছে। তাই নদীর প্রতি ভালোবাসা তার অদম্য।
- ৪. "আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের"-বক্তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী? উত্তর: মনে হওয়ার কারণ: প্রকৃতির স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ হলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেয়। মানুষে নিজের স্বার্থের কথা ভেবে প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করে। 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদীর স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়ে যায় একের পর এক সেতু প্রতিষ্ঠার কারণে। মনে হয় হয়ত একদিন গভীর এই জলপূর্ণ নদী ক্ষীণ নদীতে রূপান্তরিত হবে। সেই প্রসঙ্গে যে সেতুর জন্য এতকাল নদের চাঁদের গর্ব হত, সেই সেতু যে নদীর ক্ষতি করেছে এ বিষেয়ে সন্দেহ নেই।
- ৫. নদেরচাঁদ নদীর সঙ্গে যে খেলায় মেতে উঠেছিল সেই খেলাটি কেমন ছিল? উত্তর: নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের খেলা: এক বর্ষার দিনে নদীর কাছে গিয়ে নদেরচাঁদ দেখল নদীর জল সেতুর ধারে স্তম্ভে বাধা পেয়ে এক ফেনিল আবর্ত রচনা করেছে। সে পকেট থেকে অনেকদিন আগের পত্নীকে লেখা একটা চিঠি বার করে নদীর স্রোতে ছুঁড়ে ফেলল। চোখের পলকে সেই চিঠি অদৃশ্য হয়ে গেল। চিঠির এক একটি পাতা ছিঁড়ে দুমড়ে মুচড়ে সে নদীর মধ্যে ফেলতে লাগল। এইভাবে নদের চাঁদ এক অদ্ভুত খেলায় মেতে উঠেছিল।
- ৬. "জলপ্রবাহকে আজ তার জীবন্ত মনে হইতেছিল"-অংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। উত্তর: তাৎপর্য: 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে আমরা দেখি পাঁচদিনের বৃষ্টির পর নদেরচাঁদ তার চিরচেনা নদীটিকে চিনতে পারেনি। শীর্ণকায়া জলস্রোতের পরিবর্তে তরঙ্গায়িত জলপ্রবাহ যেন দিগন্তের দিকে ছুটে চলেছিল। নদীবক্ষের ওপর বসে থাকা নদেরচাঁদকে স্পর্শ করার জন্য নদীর জল যেন পাল্লা দিয়ে ফুলে ফেঁপে উঁচু হয়ে উঠেছিল। আনন্দিত নদেরচাঁদ চিঠির পাতা ফেলে নদীর সঙ্গে খেলা শুরু করলেও নদীও যেন তার বিস্তারের মধ্যে সেই চিঠি লুকিয়ে ফেলে তার খেলার সঙ্গ দিচ্ছিল তাই নদীর জলপ্রবাহকে নদের চাঁদের জীবন্ত মনে হচ্ছিল।
- ৭. "চিঠি পকেটেই ছিল"-কোন চিঠির কথা বলা হয়েছে? সেই চিঠির কী পরিণতি হয়েছিল? উত্তর: নদেরচাঁদের বিরহপূর্ণ চিঠি: নদের চাঁদ গ্রাম থেকে বহু দূরে কর্মক্ষেত্রে বাস করত গৃহে বসবাসরত পত্নীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ সবসময় হত না। তাই চিঠিই ছিল একমাত্র ভরসা। বিশেষত বর্ষা ঋতুর আবেগপূর্ণ আবহাওয়া নদেরচাঁদকে বিরহে উতলা করে তুলেছিল। তাই পাঁচদিনের বর্ষণের সুরে সুর মিলিয়ে সে একটি বিরহপূর্ণ চিঠি লিখেছিল। এখানে সেই চিঠির কথা বলা হয়েছে। নদের চাঁদ আবেগপ্রবণ চিঠিতে লিখেছিল, ভয়ংকরী নদীর সঙ্গে খেলা করার তাগিদে সেই চিঠি ছিঁড়ে ছিঁড়ে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছিল।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
১. নদীর বিদ্রোহ গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নদীর যে রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন তা বর্ণনা করো।
উত্তর: ভূমিকা: 'নদীর বিদ্রোহ' নামাঙ্কিত গল্পে নদের চাঁদের সঙ্গে নদীর সুগভীর সম্পর্ক রচিত হয়েছে। আলোচ্য গল্পে দুটি নদীর কথা আছে। একটি হল নদেরচাঁদের গ্রামের নদী, আর একটি হল তার কর্মস্থানে নদীটি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন ৩০ বছর বয়সেও নদেরচাঁদের নদীর প্রতি গভীর হৃদয়ের সমাজ তার কোথাও ঘাটতি পড়েনি। সে নিজেও জানে নদীর জন্য অদ্ভুত এক পাগলামো রয়েছে তার।
নদীর রূপ: নদেরচাঁদ রেল লাইন ধরে এক মাইল দূরে নদীর ওপরকার সেতুর ওপর দিয়ে হাঁটতে থাকে। টানা পাঁচদিন বৃষ্টির পর আজ নদীকে দেখার সুযোগ হয়েছে। আর সেই জন্য নদের চাঁদের আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। পাঁচদিনের আকাশভাটা বৃষ্টির পর নদী যেন এক অপরূপ রূপ ধারণ করেছে। দু'দিকে মাঠঘাট জলে ডুবে গিয়েছে। আর নদেরচাঁদ নদীর বর্ষণপুঞ্জ মূর্তি কল্পনা করে আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছে। পাঁচদিন আগেও বর্ষার জলে পরিপুষ্ট নদীর সেই নদী ক্ষেপে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পর মুষলধারায় আরম্ভ হলে নদেরচাঁদ বসে বসে ভিজতে থাকে। নদী থেকে একটা ভীষণ মধুর ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়। নদীর রূপ দেখে নদের চাঁদ ভয় পেয়ে যায়। তার মনে হয় রাগে ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে এই নদী। তার রাগের কারণ হল তার গতিপথে অসংখ্য বাঁধ ও সেতু বসিয়ে চলার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। ফলে নদীর ভবিষ্যত দেখতে পায় নদেরচাঁদ। তার মনে হয় এই নদী একদিন ক্ষীণস্রোতা নদীতে পরিণত হবে। এভাবে নদী হারিয়ে যাবে।
২. নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে-নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ছিল? সে কীভাবে তা বুঝিতে পারিয়াছে?
উত্তর: বিদ্রোহের কারণ: 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প অনুসারে আজন্ম নদীর ধারে বেড়ে ওঠা নদেরচাঁদ নদীর প্রতিটি আচরণের তাৎপর্য জানত। বর্ষার জলে উপচে পড়া নদীকে সে ক্ষিপ্ত, বিক্ষুব্ধ বলে জানত। মানুষের তৈরি বাঁধ ও সেতু নদীকে বন্দি করে ফেলেছিল। বর্ষার আগমনে সেই নদী নিজের রূপ পাল্টে ফেলে। নদেরচাঁদ তার সংবেদনশীল অন্তজগৎকে উপলব্ধি করেছিল নদীর বিক্ষোভের ভাষায়। যুগ যুগ ধরে মানুষের প্রযুক্তির কাজে অবদমিত প্রকৃতি নদীর মাধ্যমে প্রতিশোধ নিতে চাইছে। তাই শীর্ণকায়া নদী পরিণত হয়েছে। প্রকৃতির প্রতি মানুষের অবিচার একদিন মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। এই সমস্ত উপলব্ধি করে নদেরচাঁদ বুঝেছিল নদীর বিদ্রোহের কারণ।
নদেরচাঁদের উপলব্ধি: নদেরচাঁদ একজন সংবেদনশীল, শিল্পী মনের মানুষ। নদী সম্পর্কে তার কৌতূহল আকর্ষণ পাগলামির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন নদীর সান্নিধ্য কাটানোর কারণে নদীর প্রতিটি পরিবর্তনের তাৎপর্য তার জানা ছিল। নদী বর্ষার জলে তার রূপ পরিবর্তন করলে সে প্রথম অবাক হলেও পরবর্তীকালে এক সিদ্ধান্তে উপনীত হন। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে উন্নত মানুষ নিজের শক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে প্রকৃতির বুকে সৃষ্টি করেছে তার নিজের কৃতিত্ব। নদীকে বাগে আনতে তার বুকে বাঁধ দিয়েছে, সেতু তৈরি করেছে। এ অন্যায়ের প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে নদীর গর্জনে। কারণ সে সেতু ও বাঁধ ভেঙে ফেলতে চায়। প্রকৃতির এ আচরণ নদের চাঁদ উপলব্ধি করেছে।
৩. নদীর বিদ্রোহ গল্পে নদেরচাঁদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে লেখক কোন ছবি অঙ্কন করেছেন?
উত্তর: ভূমিকা: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পটি লেখকের জীবন দর্শনের ফসল। এখানে জড় পদার্থের ওপর জীবনসত্ত্বা আরোপ করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য এক বার্তা দিতে চেয়েছেন। তবে নদীর ভালোলাগা যেন নদেরচাঁদের মধ্য দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে। Doing and suffering হল গল্পটির কেন্দ্রীয় বিষয়।
লেখকের মনোভাব: আলোচ্য গল্পে দুটি প্রতিপক্ষ রয়েছে একদিকে নদেরচাঁদ অন্যদিকে সই। একদিকে যন্ত্রনির্ভর মানবসভ্যতা অন্যদিকে আকৃতি। নদেরচাঁদ নদীকে ভালোবাসতো, নদীর প্রতি তার সহানুভূতি আছে। বর্ষার জলে নদীকে দেখে তার মনে হয়েছিল নদী যেন ক্ষেপে উঠেছে। বন্দিনী নদীর মুক্তি আকাঙ্খা নদেরচাঁদকে আতঙ্কিত করেছে। মানুষের প্রতিনিধি, নদেরচাঁদ নদীর প্রতিহিংসা থেকে বেঁচে পালাতে চেয়েছে। কিন্তু মানুষের তৈরি প্রযুক্তির ফসল ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে নদেরচাঁদ মারা গেছে। এ যেন মানবসভ্যতার প্রতি এক শতর্কীকরণ। অর্থাৎ প্রকৃতি একদিন সমস্ত কিছুকে ধ্বংস করে ছাড়বে।
মূল্যায়ন: একটু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায় নদেরচাঁদ নদীর সন্তান। মায়ের ছেলে মায়ের কোলেই মিশে গেল। অসহায় নদেরচাঁদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সভ্যতার এক সর্বনাশা পরিণামকে অঙ্কিত করা হয়েছে।
উপসংহার
'নদীর বিদ্রোহ' গল্পটি কেবল একটি নদীর কাহিনী নয়, বরং এটি যান্ত্রিকতা বনাম প্রকৃতির এক চিরন্তন সংঘাতের দলিল। নদের চাঁদের করুণ পরিণতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা সবসময় সুখকর হয় না। আশা করি, এই অধ্যায় থেকে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়তা করবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর মনোযোগ সহকারে পড়বে এবং লিখবে। গল্পের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করলে তোমরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
'Nadir Bidroho' leaves a lasting impression about the consequences of obstructing nature's path. Nader Chand's tragic death serves as a grim reminder of this conflict. We hope these selected questions and answers will help you prepare effectively for your upcoming exams. Study the character sketches and thematic analysis carefully to score well. Best wishes for your success.