মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
বুক রিভিউ ও সাজেশন
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসের নির্বাচিত অংশটি পরাধীন ভারতের মুক্তিসংগ্রামের পটভূমিতে রচিত। এখানে 'সব্যসাচী মল্লিক' ওরফে 'গিরীশ মহাপাত্র' এবং 'অপূর্ব'র চরিত্রকে কেন্দ্র করে বিপ্লবীদের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ও ইংরেজ পুলিশ প্রশাসনের অপদার্থতাকে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পে অপূর্ব একজন সাধারণ ভীরু স্বভাবের বাঙালি হলেও, দেশের প্রতি তার ভালোবাসা এবং বিপ্লবীদের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ স্পষ্ট। গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত বেশভূষা এবং নিমাইবাবুর সঙ্গে তার কথোপকথন গল্পের অন্যতম আকর্ষণ। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকে বিপ্লবীদের আদর্শ ও তৎকালীন সমাজের চিত্র পাওয়া যায়।
Overview & Study Guide
The selected excerpt from Sarat Chandra Chattopadhyay's novel 'Pather Dabi' is set against the backdrop of India's freedom struggle. It highlights the reverence of common people for revolutionaries through the characters of 'Sabyasachi Mallik' (disguised as 'Girish Mahapatra') and 'Apurba'. Although Apurba is portrayed as a timid Bengali, his love for the country and respect for the revolutionaries are evident. The eccentricity of Girish Mahapatra's attire and his interaction with Nimai Babu add a layer of intrigue and humor to the story. This chapter is vital for Madhyamik students as it reflects the ideals of revolutionaries and the social scenario of that era.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. "সে হাত বাড়াইয়া বন্ধুর করমর্দন করিল।”- বন্ধুটি হল- উত্তর: [C] নিমাইবাবু
- ২. "তার ___ এই কালো চামড়ার নীচে জ্বলে না, তলওয়ারকর।” [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [A] লাঞ্ছনা
- ৩. পলিটিক্যাল সাসপেক্টের নাম ছিল- উত্তর: [A] সব্যসাচী মল্লিক
- ৪. "বামুনের ছেলে, বাংলা লেখাপড়া, শাস্তর-টাস্তর সবই কিছু কিছু শিখেছিলাম” -একথা বলেছিলেন- উত্তর: [C] গিরিশ মহাপাত্র
- ৫. "তোমার চিন্তা নেই ঠাকুর।"-'ঠাকুর' বলতে যাকে বোঝানো হয়েছে, তার নাম হল- উত্তর: [B] তেওয়ারী
- ৬. "আমার মনে হয় এ শহরে আরও কিছুদিন নজর রাখা দরকার।”-শহরটির নাম- উত্তর: [C] রেঙ্গুন
- ৭. রাতেরবেলা ট্রেনের মধ্যে পুলিশের লোক অপূর্বর বার-তিনেক ঘুম ভাঙাবার কারণ- উত্তর: [D] নাম-ধাম-ঠিকানা লেখার জন্য
- ৮. "আশ্চয্যি নেহি হ্যায় বাবুসাহেব।"- 'বাবুসাহেবটি হলেন- উত্তর: [A] অপূর্ব
- ৯. "সুমুখের ঘড়িতে ___ বাজিতে সে উঠিয়া দাঁড়াইল।” [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [B] তিনটা
- ১০. "এতবড়ো ___ মেয়ে আর যে কেহ আছে মনে হয় না হে তলওয়ারকর।" [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [C] কার্যকুশলা
- ১১. "এই জানোয়ারটাকে ___ করার দরকার নেই, বড়োবাবু।” [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [A] ওয়াচ
- ১২. ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল- উত্তর: [B] অপূর্বকে
- ১৩. "অথচ, গভর্নমেন্টের কত টাকাই না এরা বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি করে অপব্যয় করলে!”- 'বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি' বলতে বোঝানো হয়েছে- উত্তর: [D] অসম্ভব কল্পনা করে ছোটা
- ১৪. সুমুখের হলঘরের বাঙালিরা সকলেই- উত্তর: [C] উত্তরব্রহ্মে তেলের খনির কারখানায় মিস্ত্রির কাজ করছিল
- ১৫. "যাকে খুঁজছেন সে যে এ নয়, আমি তার জামিন হতে পারি।”- বক্তা হলেন- উত্তর: [B] অপূর্ব রায়
- ১৬. যার কৃপায় অপূর্বর টাকাকড়ি ছাড়া বাকি সবকিছু চুরি হওয়ার থেকে বেঁচে গিয়েছিল- উত্তর: [A] ক্রিশ্চান মেয়েটির কৃপায়
- ১৭. মহাপাত্রের ট্যাঁকে পাওয়া গিয়েছিল- উত্তর: [B] একটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা
- ১৮. মহাপাত্রের বক্তব্য ছিল, "পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে।"-জিনিসটি ছিল- উত্তর: [C] গাঁজা
- ১৯. পুলিশ স্টেশনে মোটঘাট নিয়ে বসে থাকা বাঙালির সংখ্যা ছিল- উত্তর: [C] ছয়জন
- ২০. তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রিরা চাকুরির উদ্দেশ্যে গিয়েছিল- উত্তর: [D] রেঙ্গুনে
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. পলিটিক্যাল সাসপেক্ট ব্যক্তিটি তার কী নাম বলেছিল? উত্তর: রেঙ্গুন পুলিশের বড়ো কর্তা নিমাইবাবু নাম জিজ্ঞাসা করায় পলিটিক্যাল সাসপেক্ট তার বলেছিল গিরীশ মহাপাত্র।
- ২. পলিটিক্যাল সাসপেক্ট বলতে কী বোঝায়? উত্তর: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট বলতে বোঝায় রাজনৈতিক সন্দেহভাজন। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকেই এখানে 'পলিটিক্যাল সাসপেক্ট' বলা হয়েছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' গল্পাংশে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে উক্ত অভিধা দেওয়া হয়েছে।
- ৩. কাকে, কী সন্দেহে আটকে রখা হয়েছিল? উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' গল্পাংশ সব্যসাচী মল্লিককে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সন্দেহবশত আটকে রাখা হয়েছিল।
- ৪. "কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।”- কোন্ প্রসঙ্গে কে এমন উক্তি করেছিলেন? উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক বা বেশভূষার বাহার প্রসঙ্গে রেঙ্গুন পুলিশের বড়োবাবু নিমাইবাবু প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি করেছিলেন।
- ৫. সব্যসাচীর চোখের দৃষ্টি দেখে কী মনে হয়েছিল? উত্তর: ছদ্মবেশী রাজদ্রোহী সব্যসাচী রং-বেরঙের পোশাক নিজের ব্যক্তিত্বকে ঢেকে রাখতে পারলেও, নিজের বুদ্ধিদীপ্ত চোখ দুটিকে লুকোতে পারেনি। তার জলাশয়ের মতো গভীর চোখ দুটি দেখে মনে হচ্ছিল যে, এর সঙ্গে খেলা অর্থাৎ কপটতা না করে, সসম্ভ্রমে সরে দাঁড়ানোই মঙ্গল। এই দৃষ্টির গভীরে যে ক্ষীণ প্রাণশক্তি লুকোনো আছে মৃত্যুও সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পায়।
- ৬. "সে যে বর্মায় এসেছে এখবর সত্য।"-'সে' বলতে এখানে কার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: 'সে' বলতে এখানে ভারতের রাজবিদ্রোহী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের কথা বলা হয়েছে।
- ৭. ভামো নগরের উদ্দেশ্যে কে কাদের সঙ্গে রওনা হল? উত্তর: অপূর্ব ভামো নগরের উদ্দেশ্যে বিকেলবেলার ট্রেনে আরদালি এবং অফিসের একজন হিন্দুস্থানী ব্রাহ্মণ পেয়াদার সঙ্গে রওনা হল।
- ৮. "তুমি তো ইউরোপিয়ান নও।"-উক্তিটির বক্তা কে? উত্তর: প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটির বক্তা হলেন বর্মার একজন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মহাশয়ের।
- ৯. "এই সেই গিরীশ মহাপাত্র"- 'এই সেই' বলার অন্তর্নিহিত কারণ কী? উত্তর: 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে আমরা দেখি অপূর্বর সঙ্গে গিরীশ মহাপাত্রের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল পুলিশ স্টেশনে। দ্বিতীয়বার অপূর্ব তাকে দেখে রেলওয়ে স্টেশনে। গিরীশের বেশভূষা সম্পর্কে রামদাসকে যে বর্ণনা অপূর্ব দিয়েছিল। রামদাস তার ফলে এক নিমিশেই গিরীশকে চিনে ফেলে। সে কারণেই রামদাস প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্যটি করে।
- ১০. "তিনি ঢের বেশি আমার আপনার"- কোন্ প্রসঙ্গে এমন উক্তিটি করা হয়েছে? উত্তর: প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি যাঁর সম্বন্ধে করা হয়েছে তিনি হলেন ভারতীয় বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকা। ইংরেজের পুলিশ নিমাইবাবু অপূর্বর যত বড়ো আত্মীয়ই হোন না কেন, দেশের জন্য আত্মনিবেদনকারী সব্যসাচী মল্লিক, অপূর্বর কাছে বেশি আপনজন মনে হয়েছে।
- ১১. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছিল? উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে একটি লোহার কম্পাস, একটি কাঠের ফুটরুল, কয়েকটি বিড়ি, একটি দেশলাই ও একটি গাঁজা সেবনের কলকে।
- ১২. "তার লাঞ্ছনা এই কালো চমড়ার নীচে কম জ্বলে না।"- বক্তা কোন্ 'লাঞ্ছনা'র কথা বলেছিল? উত্তর: ফিরিঙ্গিদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ জানাতে গেলে স্টেশনমাস্টার দেশি লোক বলে অপূর্বকে স্টেশন থেকে কুকুরের মতো দূর করে দিয়েছিল-এই লাঞ্ছনার কথাই বক্তা অর্থাৎ অপূর্ব বলেছিল।
- ১৩. কোন ঘটনা পরাধীন ভারতবর্ষে প্রায় নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছিল? উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষে দেশের জনসাধারণকে বিদেশি সাহেবদের অপমান লাঞ্ছনা অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনা নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছিল।
- ১৪. "বড়োবাবু হাসিতে লাগিলেন। - বড়োবাবুর হাসির কারণ কী? উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক এবং আচরণ দেখে এবং মাথায় মাখা লেবুর তেলের গন্ধে থানার সকলের মাথা ধরে যায়, সে কারণে জগদীশবাবু তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে বড়োবাবু হাসতে লাগলেন।
- ১৫. তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রিরা কেন রেঙ্গুনে চলে এসেছিল? উত্তর: বর্মা অয়েল কোম্পানিতে তেলের খনির কারখানায় মিস্ত্রির কাজ করত। সেখানকার জলহাওয়া তাদের পক্ষে সহনশীল ছিল না। তাই তারা চাকুরির উদ্দেশ্যে রেঙ্গুনে চলে এসেছিল।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
- ১. "জগদীশবাবু ইতিমধ্যেই তাদের টিনের তোরঙ্গ, ছোটো বাক্স, পুঁটুলি তুলিয়া তদারক শুরু করে দিয়েছেন। - তাহাদের বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের জিনিসপত্র তদারকের কারণ কী? উত্তর: তেলের খনির মিস্ত্রি: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবি উপন্যাসের আলোচ্য অংশে তাদের বলতে জন ছয়েক বাঙালির কথা বলা হয়েছে। এরা সবাই উত্তর ব্রহ্মে বর্মা অয়েল কোম্পানির তেলের খনির কারখানায় মিস্ত্রির কাজ করছিল। কিন্তু সেখানকার জল হাওয়া সহ্য না হওয়ায় সেখানে না থেকে চাকরির উদ্দেশ্যে রেঙ্গুনে চলে এসেছিল। তদারকের কারণ: এই বাঙালি শ্রমিকদের জিনিসপত্র খানা তল্লাসি করার কারণ ছিল, পুলিশের কাছে খবর ছিল যে বাঙালি রাজ বিদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিক বর্মা এসেছেন। সেই সন্দেহ থেকে পুলিশের এই অভিমান।
- ২. গিরীশ মহাপাত্রের চেহারার বর্ণনা দাও। উত্তর: চেহারার বর্ণনা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সব্যসাচী মল্লিক ছদ্মবেশে বর্মায় আসেন। সেখানে পুলিশ তাকে সন্দেহজনক হিসাবে আটক করলেও তার পোশাক ও চেহারা দেখে চিনতে না পেরে ছেড়ে দেয়। গায়ের রং ফর্সা রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে। বয়স ৩০-৩২, কিন্তু অত্যন্ত রোগা চেহারা। সর্বক্ষণ কাশতে থাকে, কাশির পরিশ্রমে হাঁপাতে থাকে। দেহের মধ্যে কেবল চোখে পড়ে উজ্জ্বল ও গভীর দুটি চোখ।
- ৩. "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।”-বাবুটির শখ কেমন? উত্তর: বাবুটির শখ: এখানে শখ বলতে গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত ও বাহারি পোশাক পরিচ্ছদের কথা বলা হয়েছে। তার স্বাস্থ্য রুগ্ন ও ভগ্ন হলেও পোশাকে তার কোনো ছাপ ছিল না। জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের পাঞ্জাবি। বুক পকেটে বাঘ আঁকা রুমাল। পরনে বিলাতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি। পায়ে সবুজ রঙের ফুল মোজা-হাঁটুর ওপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা আর সেই সাথে বার্নিশ করা পাম্প-শু ও হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি। জাহাজের ধকলে সমস্ত পোশাক নোঙরা হয়ে গেছে। তার অদ্ভুত পোশাক বৈচিত্র্য থানার সবাইকে অবাক করেছিল।
- ৪. "কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি -সদাশয় ব্যক্তি কাকে কেন বলা হয়েছে? উত্তর: সদাশয় ব্যক্তি বলার কারণ: গিরিশ মহাপাত্রের জিনিসপত্র যখন তদারকি হচ্ছিল তখন তার পকেট থেকে একটি গাঁজার কলিকা বের হয়। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন সে জানায় সে নিজে গাঁজা খায় না। গাঁজার কলিকাটি রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছে এবং তারপর সেটিকে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে যদি কখনো কারও কাজে লাগে তখন সে তাকে সেটি দিয়ে দেবে। তার এই অদ্ভুত পরোপকারী ইচ্ছার জন্য নিমাইবাবু তাঁকে সদাশয় ব্যক্তি বলেন।
- ৫. অপূর্বর ঘরে চুরি হওয়ার ঘটনাটি বর্ণনা কর। উত্তর: চুরি হওয়ার ঘটনা: অপূর্ব সে সময়ে ঘরে ছিল না। সেই সময়ে তার ঘরে চুরি হয়েছিল। টাকাকড়ি কিছুই বাঁচানো যায়নি। কিন্তু এক খ্রিস্টান মেয়ের জন্য টাকাকড়ি ছাড়া যে সমস্ত জিনিস ছিল সেইসব বাঁচানো গিয়েছিল। মেয়েটি না থাকলে সমস্ত কিছু চুরি হয়ে যেত। সেই মেয়েটি নিজে চোর তাড়িয়ে নিজের হাতে ছড়ানো জিনিস গুছিয়ে দেয়। এবং কী কী জিনিস চুরি হয়েছে। আর কী কী আছে তার একটা ফর্দ তৈরি করে দেয়।
- ৬. 'বুনো হাঁস ধরা এদের কাজ'-এ কথা কে বলেছিলেন? এ কথা বলার কারণ কী? উত্তর: বক্তা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবি নামাঙ্কিত রচনায় বুনো হাঁসের কথা বলেছিল রামদাস। উক্তির কারণ: কথা প্রসঙ্গে অপূর্ব জানিয়েছিল গিরীশ মহাপাত্রকে হাতে পেয়েও সামান্যতম বুদ্ধিমত্তার পরিচয় না থাকায়, তাকে ছেড়ে দেয়। এই পুলিশ কাজকর্ম সম্পর্কে এতটাই অমনোযোগী যে অপূর্বর চুরি হওয়া কোনো জিনিসের কূল কিনারা করতে পারেনি। সেই কথা পুলিশ শুনে রামদাস রীতিমতো কৌতুকের সাথে আলোচ্য এই উক্তি করেছিল।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
১. 'পথের দাবি' রচনায় অপূর্ব চরিত্রটি সংক্ষেপে আলোচনা কর।
উত্তর: ভূমিকা: কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কালজয়ী উপন্যাস পথের দাবি। সেই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র অপূর্ব। তৎকালীন ভারতবর্ষের আর পাঁচজন যুবকের মতো স্পষ্টভাষী ও দেশপ্রেমিক তরুণ। তার চরিত্রের কতগুলি বৈশিষ্ট্য সহজেই চোখে পড়ে।
বিপ্লবী সম্বন্ধে শ্রদ্ধাশীল: অপূর্ব জানত গিরীশ মহাপাত্র আসলে ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক। তিনি সত্যিকারের সাহসী, বিপ্লবী মানুষ, দেশের প্রতি, জন্মভূমির প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাই তার প্রতি অপূর্বর হৃদয়ের ভালোবাসা ছিল।
আবেগ প্রবণ: অপূর্ব একজন ব্রাহ্মণ মানুষ, সে রেঙ্গুনে চাকরি করত। সে মনে মনে চেয়েছিল সব্যসাচী যেন নির্বিঘ্নে পুলিশ স্টেশন থেকে ফিরে যেতে পারে। পরবর্তীকালে তার সম্পর্কে অপূর্বের বিপুল শ্রদ্ধা ও আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।
দেশপ্রেমিক: অপূর্ব দেশপ্রেমিক ছিলেন তাই গিরীশ মহাপাত্র রূপী সব্যসাচীকে মনে প্রাণে শ্রদ্ধা করেছিল। অপূর্ব অবাক হয়েছিল। এই কারণে যে তিনি দেশের মঙ্গলের জন্য নিজের শখ, আহ্লাদ ত্যাগ করেছেন।
লাঞ্ছনার স্বীকার: অপূর্বকে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছিল। ইংরেজ যুবকরা তাকে স্টেশন থেকে লাথি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সে অপমান অপূর্ব কোনওদিন ভুলতে পারেনি।
অমায়িক ব্যবহার: অপূর্বর ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করে। রামদাসের বাড়িতে সে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং তার পত্নীর অনুরোধে খাবার গ্রহণ করে। অপূর্বর ব্যবহারের মধ্যে একনিষ্ট ভাব দেখতে পাওয়া যায়।
মূল্যায়ন: সবদিক দিয়ে বিচার করে বলা যায় অপূর্ব আলোচ্য কাহিনি অংশে মুখ্য চরিত্র। তার doing and suffering উপন্যাসের স্বার্থকতাকে ইঙ্গিতবাহী করে তুলেছে।
২. পথের দাবী রচনায় নিমাইবাবুর চরিত্রটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ভূমিকা: পথের দাবি রচনায় নিমাইবাবু চরিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সাধারণ পরিচয় হল, তিনি পুলিশবাহিনীতে বড়োবাবু। এই গল্পের অন্যতম চরিত্র অপূর্ব নিমাইবাবুকে আগে থেকে জানত।
যোগ্য নেতৃত্বপ্রধান: নিমাইবাবু পুলিশ কর্মচারীদের মধ্যে বড়োবাবু। তাই তার কথাই শেষ কথা হিসাবে প্রতিপন্ন হয়েছে। অর্থাৎ সমস্ত বিষয়কেই তিনি চালনা করেছেন।
রসিকতাবোধ: নিমাইবাবুর বিচক্ষণতা চোখে পড়ার মতো। তিনি সব্যসাচী রূপী, গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষার বাহার ও অপূর্ব রূপসজ্জার প্রতি অপূর্বর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
কর্তব্যবোধ: নিমাইবাবু কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন ছিলেন তিনি উপলব্ধি করেছিলেন সব্যসাচীর মতো রাজবিদ্রোহীকে গ্রেপ্তার করা আবশ্যক। তাই কোথাও তার কাজের ফাঁকি রাখতে রাজি ছিল না।
উদার ও আন্তরিক: নিমাইবাবু ছিলেন উদার ও আন্তরিক মানুষ। তিনি অনুভব করেছিলেন, গিরীশ মহাপাত্রের ভগ্ন স্বাস্থ্যের অন্যতম কারণ তার এই গঞ্জিকা সেবন। তাই তিনি অনুরোধ করেছিলেন যেন গঞ্জিকা না খায়।
মানবিক চরিত্র: নিমাইবাবু ছিলেন সুবিবেচক। তাই তিনি গিরীশ মহাপাত্রকে আন্তরিক উপদেশ দিয়েছিলেন এবং থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মূল্যায়ন: স্বল্প আয়তনে নিমাইবাবুর চরিত্রটি আমাদের মুগ্ধ করে। এই চরিত্রের মানবিক দিকটিও আমরা প্রত্যক্ষ করতে পারি।
৩. পথের দাবি রচনায় গিরীশ মহাপাত্রের চরিত্রটি সংক্ষেপে লেখ।
উত্তর: ভূমিকা: পথের দাবি মূলত রাজনৈতিক উপন্যাস। এই উপন্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন চরিত্র। পথের দাবির মূল চরিত্র সব্যসাচী মল্লিক। আমাদের পাঠ্য বইতে তিনি হলেন ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্র।
সর্বত্যাগী বিপ্লবী: গিরীশ মহাপাত্র ছদ্মবেশে সব্যসাচী মল্লিক। পুলিশ স্টেশন থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দেশের মানুষের মঙ্গল চেয়েছিলেন তাই বৃহৎ কর্তব্যের অঙ্গীকারে তাকে ছদ্মবেশ ধারণ করতে হয়েছিল। পলিটিক্যাল আসামি সব্যসাচী যথার্থই ছিলেন দেশপ্রেমিক। তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট রূপে। নিমাইবাবুর চোখে তিনি রাজ বিদ্রোহী। সব্যসাচীর চোখে অবশ্য তিনি মুক্তিপথের অগ্রদূত। আমাদের চোখে তিনি দেশের কান্ডারি।
বহু গুণান্বিত চরিত্র: সব্যসাচীর গুণের অন্ত ছিল না। তিনি একজন ব্রাহ্মণ ঘরের সন্তান। লেখাপড়া জানেন। একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারেন। স্বাস্থ্য সম্পর্কে তার জ্ঞান আছে।
ধর্মভীরু মানুষ: অপূর্বকে কথা প্রসঙ্গে সব্যসাচী জানিয়েছিলেন সে ধর্মভীরু মানুষ। সে কানো নেশা করে না আসলে ছদ্মবেশ ধারণের জন্য তাকে এমন আচরণ করতে হয়েছিল।
বুদ্ধিদীপ্ত চরিত্র: গিরীশ মহাপাত্র অর্থাৎ সব্যসাচী মল্লিক নিঃসন্দেহেই বুদ্ধিদীপ্ত চরিত্র। তিনি এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন যাতে তার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ না থাকে।
মূল্যায়ন: এভাবে গিরীশ মহাপাত্রের অন্তরালে থাকা সব্যসাচী মল্লিক চরিত্রটি হয়ে উঠেছে জীবন্ত চরিত্র।
উপসংহার
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' রচনার এই নির্বাচিত অংশটি আমাদের পরাধীন ভারতের এক অগ্নিগর্ভ সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই অধ্যায়ে গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশে সব্যসাচী মল্লিকের বুদ্ধিমত্তা এবং অপূর্বর দেশপ্রেম ও আত্মসম্মানবোধের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা অতুলনীয়। আশা করি, এখানে প্রদত্ত প্রশ্ন ও উত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে। চরিত্র বিশ্লেষণ এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তোমাদের পরীক্ষার খাতায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
The selected excerpt from Sarat Chandra Chattopadhyay's 'Pather Dabi' serves as a poignant reminder of India's turbulent struggle for freedom. The intelligence of Sabyasachi Mallik disguised as Girish Mahapatra and Apurba's patriotism and sense of self-respect are portrayed with great depth. We hope that the questions and answers provided here will be instrumental in your Madhyamik exam preparation. Understanding the character sketches and detailed events will help you present your answers effectively. We wish you a bright and successful future.