মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
বুক রিভিউ ও সাজেশন
কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি তাঁর 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের এক অনন্য সৃষ্টি। পরাধীন ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে লেখা এই কবিতায় কবি ধ্বংসের মধ্যে নতুনের আবাহন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, পুরনোর বিনাশের মাধ্যমেই নতুন সভ্যতা ও মুক্তির আলো দেখা দেবে। মহাকালের রুদ্রমূর্তির আড়ালে তিনি দেখেছেন সৃষ্টির আনন্দ। কালবৈশাখীর ঝড়ের মতোই প্রলয়ংকর শক্তি এসে সমস্ত জরাজীর্ণতাকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে, আর তার পরেই আসবে নতুন ভোরের সোনালী আলো। বিপ্লব ও জাগরণের এই কবিতায় কবি দেশবাসীকে ভয় না পেয়ে প্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই অধ্যায়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য কবিতার প্রতিটি পর্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সংকলিত হয়েছে।
Overview & Study Guide
Kazi Nazrul Islam's poem 'Pralayollas', from his collection 'Agnibina', is a powerful call for revolution and renewal. Set against the backdrop of colonial India, the poem celebrates destruction not as an end, but as a necessary precursor to creation. Nazrul envisions a cataclysmic force, akin to a violent storm, that will wipe away the decay of the old order and pave the way for a fresh, liberated dawn. He urges the youth to welcome this destruction with joy, for within it lies the seed of a new beginning. This study guide provides a comprehensive set of questions and answers to help Madhyamik 2026 students master this inspiring poem.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
প্রলয়োল্লাস - কাজী নজরুল ইসলাম
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. 'কেতন' শব্দের আভিধানিক অর্থ হল- উত্তর: [B] ধ্বজা বা পতাকা
- ২. 'প্রলয়োল্লাস' শব্দের আভিধানিক অর্থ হল- উত্তর: [A] ধ্বংসের আনন্দ
- ৩. "রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে"- 'কৃপাণ' শব্দের অর্থ- উত্তর: [C] খড়া
- ৪. "আসছে এবার...."- কে আসছে? উত্তর: [C] প্রলয়ঙ্কর শিব
- ৫. "আসছে এবার অনাগত" 'অনাগত' বলতে বোঝানো হয়েছে- উত্তর: [D] ভয়ংকরকে
- ৬. "___ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায়।" [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [A] দ্বাদশ
- ৭. "সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল”- কে আগল ভাঙে? উত্তর: [D] প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল শিব
- ৮. "দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু চাঁদের কর...' 'চাঁদের হাসির' অর্থ- উত্তর: [B] নতুন সৃষ্টির সুখ
- ৯. 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটির কবি হলেন- উত্তর: [A] কাজী নজরুল ইসলাম
- ১০. "সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে/কপোলতলে!"-'কপোল' শব্দের অর্থ- উত্তর: [A] গণ্ডদেশ বা গাল
- ১১. কবি কাজি নজরুল ইসলাম যে দেশের জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃত- উত্তর: [B] বাংলাদেশ
- ১২. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর!"- 'তোরা' বলতে বোঝানো হয়েছে- উত্তর: [C] কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ভারতীয়দের
- ১৩. 'হ্রেসা' শব্দের আভিধানিক অর্থ হল- উত্তর: [D] ঘোড়ার ডাক
- ১৪. "সর্বনাশী জ্বালামুখী ___ তার চামর দুলায়।" [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [B] ধূমকেতু
- ১৫. 'তোরা সব জয়ধ্বনি কর!"- কবি জয়ধ্বনি দিতে বলেছেন যার উদ্দেশ্যে- উত্তর: [D] ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিবের
- ১৬. 'মাভৈঃ' শব্দটির আভিধানিক অর্থ হল- উত্তর: [A] ভয় না পাওয়া
- ১৭. "বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর।" "ভয়ঙ্কর' রূপটি হল- উত্তর: [B] মহাকালের চণ্ডরূপ
- ১৮. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর!"-পঙ্ক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায়- উত্তর: [C] ১৯ বার
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর।"-পঙ্ক্তিটিতে কাদের জয়ধ্বনি করার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অগ্নিবীণা 'কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস'-এর প্রশ্নোদ্ভূত পঙ্ক্তিটিতে পরাধীন দেশের নাগরিকদের জয়ধ্বনি করার কথা বলা হয়েছে।
- ২. "ওই নূতনের কেতন ওড়ে..." নূতনের কেতন ওড়ার সংবাদটি কে বহন করে আনে? উত্তর: 'নূতনের কেতন ওড়ার' সংবাদটি কালবৈশাখীর ঝড় বহন করে আনে।
- ৩. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর।"-পঙ্ক্তিটিতে কার জয়ধ্বনির কথা বলা হয়েছে? উত্তর: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস'-এ ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতার জয়ধ্বনি করার কথা বলা হয়েছে।
- ৪. "...ধূমকেতু তার চামর দুলায়।"-'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধূমকেতুকে কী কী বিশ্লেষণে ভূষিত করা হয়েছে? উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'ধূমকেতু'-কে 'সর্বনাশী' ও 'জ্বালামুখী' বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে।
- ৫. "আসছে নবীন!"-নবীনের আসার উদ্দেশ্যটি লেখো। উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষের জীবনহারা, প্রাণহীন, জড়, অসুন্দরকে বিনাশ করতেই নবীনের সুভাগমন, এ কথাটিই ফুটে উঠেছে কাজী নজুরল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায়।
- ৬. "সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে/কপোলতলে।"-কার কপোলতলে সপ্ত মহাসিন্ধু দুলে ওঠে? উত্তর: পঙ্ক্তিটিতে ভাঙনের দেবতা দেবাদিদেব মহাদেবের একফোঁটা চোখের জলে তাঁরই গালে সাতসমুদ্র দুলে ওঠার কথা বলা হয়েছে।
- ৭. "ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর।" ভয়ংকরের হাসির তাৎপর্য লেখো। উত্তর: 'ভয়ংকর' এসে পরাধীন ভারতবর্ষের সমস্ত রকম অরাজকতার অবসান ঘটাবে, তারপরেই নতুন সাজে হবে নবসৃষ্টি। তাই তার ভয়ংকরতা প্রদর্শনের জন্য অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে 'ভয়ংকর'।
- ৮. 'মহাকালের চণ্ড-রূপে' -মহাকাল কে? উত্তর: 'মহাকাল' হলেন দেবাদিদেব মহাদেব, যিনি শিব ও রুদ্র, রক্ষক ও সংহারক।
- ৯. 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে পাঠ্যাংশে সংকলিত হয়েছে? উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ থেকে পাঠ্যাংশে সংকলিত হয়েছে। কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ।
- ১০. "ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর।”- কী ভেঙে আবার নতুন করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় জীর্ণ, পুরাতন, গতানুগতিকতাকে ভেঙে যাবতীয় প্রাণহীনতা, নিশ্চলতার অবসান ঘটিয়ে আবার নতুন সম্ভাবনাময় জীবন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে প্রশ্নোদ্ভূত পঙ্ক্তিটিতে।
- ১১. "ওই আসে সুন্দরী! - সুন্দর কীভাবে আসে? উত্তর: কুসংস্কারাচ্ছন্ন, সাম্প্রদায়িকতার গোঁড়ামিতে পরিপূর্ণ এই সমাজকে ধ্বংস করে নবসৃষ্টি ঘটাতে সুন্দর আসে কাল-ভয়ংকরের রূপে।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
- ১. 'ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর'-কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছেন? কেন তিনি ভয় করতে নিষেধ করেছেন? উত্তর: প্রসঙ্গ: কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রলয়োল্লাস কবিতায় আলোচ্য উক্তিটি করেছেন। কল্পনেত্রে অনুভব করেছেন ভাঙ্গনের দেবতা সবকিছু ভেঙে আবার নতুন করে সৃষ্টি করবেন সেই প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তি। ভয় না করার কারণ: কবি মনে করেন, মহাকালকে দেখে ভয় পাবার দরকার নেই। ইংরেজ শাসিত ভারতে অনাচার অবিচার নৃশংস অত্যাচার দেখে ব্যথিত কবি নজরুল ভাঙ্গনের দেবতা মহাকাল বা ইন্দ্রদেবকে আহ্বান করেছেন। তিনি ধ্বংসের দেবতা। রুদ্রমূর্তিতে তার আবির্ভাব। একদিকে তিনি ভাঙেন অন্যদিকে নতুন করে সৃষ্টি করেন। তাই তাকে ভয় না করে তার জয়ধ্বনি করার কথা বলেছেন।
- ২. 'এবার মহানিশার শেষে আসবে উষা অরুণ হেসে'-এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কবি কোন ইঙ্গিত দিয়েছেন? উত্তর: কবির মন্তব্য: নজরুল লক্ষ্য করেছেন সারা পৃথিবী জুড়ে ভাঙন ধরেছে। পরাধীনতা এবং সামাজিক শোষণ বঞ্চনার মধ্য দিয়ে যে অন্ধকার নেমে এসেছে তার অবসান ঘটবে। সভ্যতার নতুন সূর্যোদয় ঘটবে। মহাদেব ধ্বংসের দেবতা হলেও তার কপালে থাকে চাঁদ। একইভাবে ধ্বংসের মধ্যে সুন্দরকে বারবার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে কবি প্রত্যাশা করেছেন যে সেই চাঁদের আলোয় ঘর পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।
- ৩. 'দিগম্বরের জটায় হাসি শিশু চাঁদের কর'- প্রসঙ্গটি উল্লেখের কারণ লেখ। উত্তর: প্রসঙ্গ: দিগম্বর অর্থাৎ মহাদেব নটরাজ মূর্তিতে ধ্বংসের তাণ্ডব সৃষ্টি করেন। কিন্তু তা আসলে সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য। দিগম্বরের দ্বিতীয় নেত্রের ওপরে থাকে চাঁদ যা সব হারানোরূপে সুন্দরের প্রতিষ্ঠা করে। স্বাধীনতা ও সমাজ রূপান্তরের স্বপ্ন দেখা কবি এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছেন কারণ বিপ্লবের পথে ধ্বংস অনিবার্য হলেও তা আসলে সুন্দরের অভিষেককে নিশ্চিত করে।
- ৪. 'সর্বনাশী জ্বালাময়ী ধূমকেতু তার চামর দুলায়'-কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে লেখ। উত্তর: প্রসঙ্গ: সংগ্রামের পথ কখনো ফুলে ঢাকা নয়। স্বাধীনতার জন্য মানুষের যে সংগ্রাম তার পথ তৈরি হয় মৃত্যু আর রক্তপাতের মধ্য দিয়ে। যে কারণে কবি তার কল্পনার রূদ্ররূপী কালীর কথা স্মরণ করেছেন। মহাদেবী কালী যেমন সব কিছুকে ধ্বংস করে নতুন করে সৃষ্টি করেন। সে রকমই নতুন প্রলয়ের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের পৃথিবী সৃষ্টি হবে। এখানে কবি সে কথায় বলেছেন।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
১. প্রয়োল্লাস কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখ।
উত্তর: মূল বক্তব্য: বাংলা সাহিত্যের কবি নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ধূমকেতুর মতো অপ্রত্যাশিত আকস্মিক। তিনি ঝড়ের বেগে রীতিমতো প্রলয় সৃষ্টি করে পরাধীন জাতির মুক্তির স্বপ্নকে আলোকিত করে। কবি নজরুল প্রলয়োল্লাস নামাঙ্কিত কবিতার সূচনাতে কালবৈশাখী ঝড়কে আহ্বান করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন প্রচণ্ড গতিতে যেমন করে কালবৈশাখী সবকিছু ভেঙ্গে চুরে দেয় তেমন করে নটরাজ শিব সবকিছু ভেঙে আবার নতুন জগৎ তৈরি করবেন। পুরাণের নটরাজ শিবের রুদ্র মূর্তিকে কবি প্রলয়োল্লাস কবিতায় বিশেষ তাৎপর্যে ব্যবহার করেছেন। কবি হিসাবে নজরুল বিদ্রোহী। তার দুর্দান্ত বিদ্রোহে সমাজের সমস্ত অবিচার অত্যাচার অনাচার দূরিভূত হয়েছিল। তিনি সেকেলে সংস্কার, প্রাচীন চিন্তাধারা যেমন বদলাতে চেয়েছিলেন, তেমন ব্রিটিশ শাসনের নাগপাশে বদ্ধ মানুষের দুর্দশা থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি বলেছেন-অনাগত মহাকাল এমনভাবে এগিয়ে আসবে যার ফলে সিন্ধু পারে সিংহদ্বারের আগল যাবে ভেঙে। মৃত্যু গহন অন্ধকারে এক সময় জ্বলে উঠবে বজ্রশিখার মশাল। আর তেখন সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয়ে যাবে। নজরুল মনে করেন সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতুর মতো সহসা আবির্ভূত হয়ে রক্ত কৃপাণ হাতে অট্টহাসিতে মুখর করে শত্রুর রুক্ষ বিদীর্ণ করবেন। তার অট্টহাসিতে কম্পিত হবে আসুরিক শক্তি তিনি এই পুরাণ কল্পনার পাশাপাশি শিল্পের রুদ্রমূর্তিকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন। অর্থাৎ একইসঙ্গে শিবকালী এই শক্তিকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে কবি এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে-অন্ধকারার বন্ধ কূপে এবার আশার আলো পৌঁছে যাবে আর তখন অসুন্দর, অত্যাচারী রাজশক্তি ধীরে ধীরে লুপ্ত হবে। জেগে উঠবে চিরসুন্দর। সেই সুন্দরকে কবি বরণ করে নিতে বলেছেন। প্রলয়োল্লাস কবিতায় প্রলয়ের মধ্যে সৃষ্টি উল্লাস দেখেছেন কবি। তাই এই কবিতা হয়ে উঠেছে ধ্বংসের শেষে সৃষ্টির উদ্ভুত এক আনন্দের প্রতিচ্ছবি।
২. 'দ্বাদশ রবির বহ্নি জ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকোটায়'- মন্তব্যটির ব্যাখ্যা করো?
উত্তর: স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন এক কঠিন সংগ্রাম এ যেন এক ভয়ঙ্কর আহ্বান। সূর্যের আগুন যেন বিকল্পের বার্তা বাহকের চোখে আবার কখনো তা মেঘের থেকে নেমে আসা বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে মহাসিন্ধু চেহারা নেয়। দুর্যোগের ঘনঘটায় ভয়াবহতার উচ্ছ্বাসে প্রকৃতি রুদ্ররূপ যেন নতুনের জয়ধ্বনি ঘোষিত হয়।
৩. 'বজ্র শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর'- ভয়ংকর বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তার সম্পর্কে আর কোন বিশেষণ ব্যবহার হয়েছে? তার এমন রূপে আগমণের কারণ কবিতা অবলম্বনে লেখ।
উত্তর: ভয়ংকর: কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রলয়োল্লাস কবিতা সংগৃহিত আলোচ্য অংশে ভয়ংকর বলতে বোঝানো হয়েছে ভয় সৃষ্টিকারী প্রলয়ংকর শক্তিতে। প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় তথা অচল আয়তনে বিভীষিকাময়রূপ নিয়ে যার আগমন যার দর্শনে ভাসমান মানব হৃদয় বেদনায় মুহ্যমান হয়ে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে অনাগত বিপদের সম্ভাবনা এখানে সেই রূপ সত্তাকে ভয়ংকর বলে অভিহিত করা হয়েছে।
ভয়ংকরের বিশেষণ: ভয়ংকরকে কবি অন্য যে বিশেষণে অভিহিত করেছেন তা হল প্রলয় নেশার নৃত্যপাগল অর্থাৎ এখানে ভয়ংকর রূপে বিদ্রোহী কবি মহাদেবের চণ্ডরূপকে চিহ্নিত করেছেন।
আগমনের কারণ: প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় আমরা অভ্যস্থ হয়ে পড়ি। একী প্রবাহমান ধারায় আমরা প্রবাহিত হতে থাকি। নতুনকে আমরা তখন সহজে বহন করতে চায় না। ইংরেজ শাসনে বন্দি আমাদের ভারতমাতা। শৃঙ্খলাবদ্ধ একশো কোটি সন্তান তারা পরাধীনতার অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। অজ্ঞানতার অন্ধকারে তারা নিমজ্জিত। এই অন্ধকারকে ছিন্ন করে স্বাধীনতার রূপ আলোকে উদ্ভাসিত করতে আসছে ভয়ংকর যাকে কবি মহাদেব বলে অভিহিত করেছেন। মহাকালের রূপ নিয়ে তার আগমন কাল প্রবাহে পুরাতনকে ধ্বংস করে বজ্রের শিখার মতো আলোক বর্তিকা নিয়ে তার আগমন। তিনি আমাদের হৃদয়ের অন্ধকার রূপ অজ্ঞানতা দূর করে জ্ঞান রূপ আলোক ধারায় প্রবাহিত করে দেবে। তাই যিনি আমাদের পরাধীনতার প্রসার অন্ধকার দূর করতে স্বাধীনতার আলোকে দীপ্ত পথে নিয়ে যাবে তাকে ভয়ংকর রূপে কবি মনে করেছেন।
উপসংহার
'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় নজরুল ইসলাম আমাদের শিখিয়েছেন যে ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন সৃষ্টির বীজ। কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো মহাকাল এসে সমস্ত জরাজীর্ণতা, পরাধীনতা ও অন্যায়কে ধ্বংস করে দেয়, যাতে এক নতুন, সুন্দর ভবিষৎ গড়ে উঠতে পারে। এই কবিতাটি পরাধীন ভারতবর্ষের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল এবং আজও তা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে। আশা করি, এই অধ্যায় থেকে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়তা করবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর মনোযোগ সহকারে পড়বে এবং লিখবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
'Pralayollas' by Kazi Nazrul Islam teaches us that destruction is often the harbinger of a new creation. Just as a storm clears the old to make way for the new, the revolutionary spirit destroys oppression and injustice to build a beautiful future. This poem inspired the people of colonial India to dream of freedom and continues to inspire us to stand against injustice today. We hope that these questions and answers will be extremely helpful for your Madhyamik exam preparation. Read each answer carefully and practice writing them. We wish you all a very bright and successful future.