৪.১ ড্রামলিন ও এস্কার-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো। অথবা, ওজোন স্তরের ক্ষয় বা বিনাশ কী?
ড্রামলিন ও এস্কার-এর পার্থক্য: ১) আকৃতি: ড্রামলিন উল্টানো নৌকো বা চামচের মতো দেখতে হয়, কিন্তু এস্কার দীর্ঘ, আঁকাবাঁকা ও সংকীর্ণ শৈলশিরার মতো হয়। ২) গঠন: ড্রামলিন হিমবাহের অবক্ষেপণের ফলে গঠিত হয়, আর এস্কার হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে গঠিত হয়। ৩) উপাদান: ড্রামলিনে কাদা ও পাথরের ভাগ বেশি থাকে, এস্কারে নুড়ি, বালির ভাগ বেশি থাকে।
অথবা, ওজোন স্তরের ক্ষয়: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন স্তরটি ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), হ্যালন প্রভৃতি গ্যাসের প্রভাবে পাতলা হয়ে যাচ্ছে বা ছিদ্র সৃষ্টি হচ্ছে। ওজোন গ্যাসের এই ঘনত্ব হ্রাস পাওয়াকেই ওজোন স্তরের ক্ষয় বা ওজোন গহ্বর বলে। এর ফলে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।
৪.২ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তিনটি প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করো। অথবা, অম্ল বৃষ্টি বা অ্যাসিড রেইন বলতে কী বোঝ?
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা: ১) দূষণ নিয়ন্ত্রণ: সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটি, জল ও বায়ু দূষণ রোধ করা যায়। ২) রোগ বিস্তার রোধ: বর্জ্য থেকে ছড়ানো সংক্রামক রোগ ও মশা-মাছির উপদ্রব কমানো সম্ভব হয়। ৩) সম্পদ পুনরুদ্ধার: বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে নতুন সম্পদ সৃষ্টি ও শক্তির সাশ্রয় করা যায়।
অথবা, অম্ল বৃষ্টি: কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) বৃষ্টির জলের সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড মিশ্রিত বৃষ্টি যখন ঝরে পড়ে, তাকে অম্ল বৃষ্টি বা অ্যাসিড রেইন বলে।
৪.৩ পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণীর তিনটি পার্থক্য লেখো। অথবা, সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি প্রভাব সংক্ষেপে লেখো।
পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পার্থক্য: ১) অবিচ্ছিন্নতা: পশ্চিমঘাট পর্বত একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণি (কেবল পালঘাট ছাড়া), কিন্তু পূর্বঘাট পর্বত বিভিন্ন নদীর দ্বারা বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত। ২) উচ্চতা: পশ্চিমঘাট পর্বতের উচ্চতা বেশি (গড় ১০০০-১২০০ মি), পূর্বঘাটের উচ্চতা কম (গড় ৬০০ মি)। ৩) বৃষ্টিপাত: পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু পূর্বঘাটে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম।
অথবা, সুন্দরবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: ১) জলস্তর বৃদ্ধি: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে, যার ফলে লোহাচড়া, নিউমুর, ঘোড়ামারা প্রভৃতি দ্বীপ ডুবে যাচ্ছে। ২) লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের জল নদীতে প্রবেশ করায় মাটির লবণাক্ততা বাড়ছে, যা কৃষিকাজ ও ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ক্ষতি করছে। ৩) ঘূর্ণিঝড়: ঘনঘন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের (যেমন- আইলা, আমফান) প্রকোপ বাড়ছে, যা জনজীবন ও বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্ন করছে।
৪.৪ দূর সংবেদন (Remote Sensing)-এর গুরুত্ব বর্ণনা করো। অথবা, স্থলাকৃতিক মানচিত্র (Topographical map) ও উপগ্রহ চিত্রের (Satellite Imagery) মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
দূর সংবেদনের গুরুত্ব: ১) সম্পদ অনুসন্ধান: বনভূমি, খনিজ সম্পদ, জলসম্পদ ও মাটির প্রকৃতি নির্ণয়ে এটি সাহায্য করে। ২) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা দাবানলের পূর্বাভাস ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে এটি অপরিহার্য। ৩) মানচিত্র তৈরি: দুর্গম অঞ্চলের সঠিক মানচিত্র তৈরি ও নগর পরিকল্পনায় এটি ব্যবহৃত হয়।
অথবা, পার্থক্য: ১) তৈরির পদ্ধতি: টোপো ম্যাপ জরিপ কার্যের মাধ্যমে হাতে আঁকা হয়, উপগ্রহ চিত্র সেন্সরের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তোলা হয়। ২) সময়: টোপো ম্যাপ তৈরিতে অনেক সময় লাগে এবং তা পুরনো তথ্য দেয়, উপগ্রহ চিত্র রিয়েল টাইম বা সাম্প্রতিক তথ্য দেয়। ৩) স্কেল: টোপো ম্যাপের স্কেল নির্দিষ্ট, উপগ্রহ চিত্রের স্কেল পরিবর্তনযোগ্য বা জুম করা যায়।
বিভাগ 'ঙ' : ৫.১ যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ২ = ১০)
৫.১.১ নদীর ক্ষয়কার্যের দ্বারা গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ বর্ণনা করো।
উত্তর: নদীর উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষয়কার্য প্রাধান্য পায়। এর ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হলো:
১) 'I' ও 'V' আকৃতির উপত্যকা বা গিরিখাত ও ক্যানিয়ন: পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয় প্রবল হলে নদীখাত খুব গভীর ও সংকীর্ণ হয়, যা দেখতে ইংরেজি 'I' অক্ষরের মতো হয়। একে ক্যানিয়ন বলে (যেমন- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)। আর যদি নিম্নক্ষয়ের সাথে সাথে পার্শ্বক্ষয়ও হয়, তবে উপত্যকাটি দেখতে 'V' অক্ষরের মতো হয়, একে গিরিখাত বলে।
২) জলপ্রপাত (Waterfall): নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা পাশাপাশি বা আড়াআড়িভাবে অবস্থান করলে, কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং কঠিন শিলা উঁচু হয়ে থাকে। তখন নদীর জল ওপর থেকে খাড়াভাবে নিচে পড়লে তাকে জলপ্রপাত বলে। যেমন- যোগ জলপ্রপাত, ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। জলপ্রপাতের নিচে সৃষ্ট গর্তকে প্রপাতকূপ বলে।
৩) মন্থকূপ (Potholes): নদীর প্রবল স্রোতের সাথে বাহিত নুড়ি-পাথরের আঘাতে নদীগর্ভে বা তলদেশে ছোট ছোট গোলাকার গর্তের সৃষ্টি হয়। এদের মন্থকূপ বলে। অসংখ্য মন্থকূপ একসাথে থাকলে তাকে কলোনি বলে।
৫.১.২ বৃষ্টিপাত কয় প্রকার? যেকোনো দুই প্রকার বৃষ্টিপাতের নাম লিখে চিত্রসহ বর্ণনা করো।
উত্তর: বৃষ্টিপাত প্রধানত তিন প্রকার— ১) পরিচলন বৃষ্টিপাত, ২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত এবং ৩) ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত।
১) পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall): নিরক্ষীয় অঞ্চল বা তীব্র উষ্ণ অঞ্চলে দিনের বেলা সূর্যরশ্মিতে ভূপৃষ্ঠ ও জলভাগ উত্তপ্ত হয়। ফলে বাতাস উষ্ণ ও হালকা হয়ে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। ওপরে উঠে প্রসারিত ও শীতল হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে এবং বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে পরিচলন বৃষ্টি বলে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে একে 'ফোর ও ক্লক রেইন' বলা হয়।
২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall): জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহপথে কোনো উঁচু পর্বত বা মালভূমিতে বাধা পেলে, তা পর্বতের গা বেয়ে ওপরে উঠে যায়। ওপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয় এবং পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে। পর্বত অতিক্রম করে বায়ু যখন অনুবাত ঢালে পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প কম থাকে বলে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, এই অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। যেমন- পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু পূর্ব ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল অবস্থিত।
৫.১.৩ বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতার তারতম্যের তিনটি প্রধান কারণ বর্ণনা করো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা সর্বত্র সমান নয়। এর তারতম্যের প্রধান তিনটি কারণ হলো:
১) অক্ষাংশ (Latitude): সূর্যরশ্মির পতন কোণ অক্ষাংশ ভেদে ভিন্ন হয়। নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে, তাই উষ্ণতা বেশি হয়। মেরুর দিকে রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং বায়ুমণ্ডলের বেশি স্তর ভেদ করে আসে, তাই তাপীয় ফল কম হয় এবং উষ্ণতা কম থাকে।
২) উচ্চতা (Altitude): ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৬.৪° সে. হারে উষ্ণতা হ্রাস পায়। একে 'উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক হার' বলে। এই কারণেই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও সমভূমির তুলনায় পার্বত্য অঞ্চল (যেমন- দার্জিলিং) বেশি শীতল হয়।
৩) সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from Sea): জলভাগ স্থলভাগের চেয়ে দেরিতে গরম ও ঠান্ডা হয়। সমুদ্রের নিকটবর্তী স্থানে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর প্রভাবে জলবায়ু সমভাবাপন্ন থাকে। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত স্থানগুলিতে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু (গ্রীষ্মে খুব গরম, শীতে খুব ঠান্ডা) দেখা যায়। যেমন- মুম্বাইয়ের জলবায়ু সমভাবাপন্ন, কিন্তু দিল্লির জলবায়ু চরমভাবাপন্ন।
৫.১.৪ সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক বা কারণগুলি বর্ণনা করো।
উত্তর: সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলি হলো:
১) নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: এটি সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু প্রবাহের ফলে সমুদ্রের জলরাশি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়। যেমন- আয়ন বায়ুর প্রভাবে নিরক্ষীয় স্রোত পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়।
২) পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সোজাপথে না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায় (ফেরেলের সূত্র)।
৩) সমুদ্রজলের উষ্ণতা: নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ জল হালকা ও প্রসারিত হয়ে বহিঃস্রোত রূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। আবার মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জল অন্তঃস্রোত রূপে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে আসে।
৪) লবণাক্ততা ও ঘনত্ব: অধিক লবণাক্ত জল ভারী হওয়ায় নিচে নেমে যায় এবং কম লবণাক্ত জল হালকা হওয়ায় ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ঘনত্বের এই পার্থক্যের কারণে স্রোতের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মহাদেশের আকৃতিও স্রোতের দিক পরিবর্তন করে।
৫.২ যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ২ = ১০)
৫.২.১ ভারতের পশ্চিম হিমালয়ের ভূ-প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: পশ্চিম হিমালয় জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড রাজ্যে বিস্তৃত। একে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১) কাশ্মীর হিমালয়: এখানে পীরপঞ্জাল, জাস্কার, কারাকোরাম ও লাদাখ পর্বতশ্রেণি অবস্থিত। কারাকোরামের গডউইন অস্টিন (K2) ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এখানে ডাল, উলার প্রভৃতি হ্রদ এবং বানিহাল ও জজিলা গিরিপথ দেখা যায়। এই অঞ্চলের কারেওয়া সমভূমি জাফরান চাষের জন্য বিখ্যাত।
২) হিমাচল হিমালয়: হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত এই অংশে ধৌলাধর, পীরপঞ্জাল, নাগটিব্বা প্রভৃতি পর্বতশ্রেণি দেখা যায়। কুলু, কাংড়া, লাহুল-স্পিতি উপত্যকা এবং সিমলা, মানালি, ডালহৌসি প্রভৃতি শৈলশহর এখানে অবস্থিত। রোটাং ও শিপকিলা এখানকার প্রধান গিরিপথ।
৩) কুমায়ুন হিমালয়: উত্তরাখণ্ডে অবস্থিত এই অংশের প্রধান শৃঙ্গগুলি হলো নন্দাদেবী, কামেট, ত্রিশূল, বদ্রীনাথ ইত্যাদি। নৈনিতাল, ভীমতাল প্রভৃতি তাল বা হ্রদ এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীর উৎস (গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী হিমবাহ) এখানে অবস্থিত। দুন উপত্যকা (দেরাদুন) এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৫.২.২ ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশগুলি বর্ণনা করো।
উত্তর: ধান ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য এবং এটি ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর ফসল। এর চাষের অনুকূল পরিবেশ নিম্নরূপ:
ক) প্রাকৃতিক পরিবেশ:
১) উষ্ণতা: ধান চাষের জন্য ২০°-৩০° সে. উষ্ণতা প্রয়োজন। পাকার সময় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া দরকার।
২) বৃষ্টিপাত: প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়, তাই ১০০-২০০ সেমি বৃষ্টিপাত আদর্শ। গাছের গোড়ায় জল জমে থাকা প্রয়োজন।
৩) আর্দ্রতা: চারাগাছ বৃদ্ধির সময় বাতাসে আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন।
৪) মৃত্তিকা: পলিমাটি বা এঁটেল মাটি ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এই মাটি জল ধরে রাখতে পারে।
৫) ভূমি: সমতল জমি ধান চাষের পক্ষে শ্রেষ্ঠ, যাতে জল ধরে রাখা যায়।
খ) অর্থনৈতিক পরিবেশ:
১) শ্রমিক: বীজতলা তৈরি, রোয়া, কাটা ও ঝাড়াইয়ের জন্য প্রচুর সুলভ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
২) সার ও প্রযুক্তি: উচ্চফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ফলন বাড়ায়। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও অন্ধ্রপ্রদেশ ধান উৎপাদনে অগ্রগণ্য।
৫.২.৩ পূর্ব ভারতে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের অধিক উন্নতির বা কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি বর্ণনা করো।
উত্তর: পূর্ব ভারতে (ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়) দুর্গাপুর, জামশেদপুর, রৌরকেল্লা, বোকারো প্রভৃতি স্থানে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি হলো:
১) আকরিক লোহা: ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ, কেওনঝড় এবং ঝাড়খণ্ডের সিংভূম, নোয়ামুণ্ডি থেকে প্রচুর উৎকৃষ্ট মানের আকরিক লোহা পাওয়া যায়।
২) কয়লা: রানিগঞ্জ, ঝরিয়া, বোকারো, তালচের কয়লাখনি থেকে কোক কয়লা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়লা সহজে ও সস্তায় পাওয়া যায়।
৩) অন্যান্য খনিজ: চুনাপাথর, ডলোমাইট ও ম্যাঙ্গানিজ ওড়িশার বীরমিত্রপুর ও গাংপুর থেকে পাওয়া যায়।
৪) জলসম্পদ: দামোদর, সুবর্ণরেখা, মহানদী, ব্রাহ্মণী নদী এবং ডিভিসি (DVC) থেকে পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়।
৫) বিদ্যুৎ: ডিভিসি ও এনটিপিসি থেকে সুলভ জলবিদ্যুৎ ও তাপবিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
৬) পরিবহন ও বন্দর: পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথ এবং কলকাতা, হলদিয়া ও পারাদ্বীপ বন্দরের মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানি সহজ হয়। এছাড়া কলকাতা মহানগরীর বিশাল বাজার ও সুলভ শ্রমিক এই শিল্পের বিকাশে সাহায্য করেছে।
৫.২.৪ ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান গুরুত্বগুলি বিবরণ দাও।
উত্তর: ভারতের মতো বিশাল দেশে পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। একে 'দেশের জীবনরেখা' বলা হয়। এর গুরুত্বগুলি হলো:
১) শিল্পোন্নয়ন: কাঁচামাল শিল্পকেন্দ্রে আনা এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারে পাঠানোর জন্য উন্নত পরিবহন (রেল ও সড়ক) অপরিহার্য।
২) কৃষি উন্নতি: সার, বীজ, কীটনাশক গ্রামে পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষিজ ফসল শহরে বা বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা দরকার।
৩) সুষম বণ্টন: দেশের এক প্রান্তের উদ্বৃত্ত সম্পদ বা খাদ্যশস্য ঘাটতি অঞ্চলে পৌঁছে দিয়ে সুষম বণ্টন ও দুর্ভিক্ষ রোধে সাহায্য করে।
৪) জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরক্ষা: দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, সংস্কৃতি বিনিময় এবং সীমান্তে সৈন্য ও রসদ পাঠানোর জন্য পরিবহন ব্যবস্থা জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫) কর্মসংস্থান: পরিবহন ব্যবস্থার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিযুক্ত থাকে।
৬) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: বন্দর ও বিমানপথের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটে।