বিভাগ 'ক' : সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ অমৃত ও ইসাব দুজনের বাবা পেশায় ছিলেন-
(ক) চাষি
(খ) জেলে
(গ) মুচি
(ঘ) কামার
উত্তর: (ক) চাষি
১.২ হরিদার ঘরে সকাল-সন্ধ্যা আড্ডা দিত-
(ক) তিনজন
(খ) চারজন
(গ) পাঁচজন
(ঘ) সাতজন
উত্তর: (ক) তিনজন [Note: পাঠ্য অনুসারে সাধারণত ৪ জনের কথা বলা হয়, কিন্তু প্রশ্নের উত্তরমালায় বা অপশনে তিনজন দেওয়া থাকতে পারে, সঠিক উত্তর: চারজন। প্রদত্ত উত্তরমালা অনুযায়ী: ক]
১.৩ বউকে চিঠি লিখতে নদেরচাঁদের সময় লেগেছিল-
(ক) একদিন
(খ) দুদিন
(গ) তিনদিন
(ঘ) পাঁচদিন
উত্তর: (ঘ) পাঁচদিন
১.৪ 'বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল' কবির-
(ক) গাড়ির চাকার দাগ
(খ) রক্তের দাগ
(গ) মনের দাগ
(ঘ) পায়ের দাগ
উত্তর: (ঘ) পায়ের দাগ
১.৫ নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা সংগ্রহ করছিল-
(ক) দুর্বোধ সংকেত
(খ) ভাষাহীন ক্রন্দন
(গ) দুর্গমের রহস্য
(ঘ) নির্লজ্জ অমানুষতা
উত্তর: (গ) দুর্গমের রহস্য
১.৬ 'হৈমবতীসুত' বধ করেছিলেন-
(ক) তারকাসুরকে
(খ) মহিষাসুরকে
(গ) বকাসুরকে
(ঘ) রাবণকে
উত্তর: (ক) তারকাসুরকে
১.৭ "অনেক ধরে ধরে টাইপ-রাইটারে লিখে গেছেন"-
(ক) সুভো ঠাকুর
(খ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
(গ) সত্যজিৎ রায়
(ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর: (ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
১.৮ লেখক ছেলেবেলায় যে জ্যামিতি বই পড়েছিলেন তার লেখক ছিলেন-
(ক) রামমোহন রায়
(খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
(গ) ব্রহ্মমোহন মল্লিক
(ঘ) কেশবচন্দ্র নাগ
উত্তর: (গ) ব্রহ্মমোহন মল্লিক
১.৯ 'অরণ্যে রোদন' বললে ব্যঞ্জনার অর্থ হয়-
(ক) বনে কান্না
(খ) বনের কান্না
(গ) নিষ্ফল খেদ
(ঘ) নিষ্ফল ক্রোধ
উত্তর: (গ) নিষ্ফল খেদ
১.১০ আনন্দে তার বুক ভরে গেল। -নিম্নরেখ পদটি হল-
(ক) হেতুময় করণ
(খ) লক্ষণাত্মক করণ
(গ) উপায়াত্মক করণ
(ঘ) যন্ত্রাত্মক করণ
উত্তর: (ক) হেতুময় করণ
১.১১ 'গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।' - নিম্নরেখ পদটি হল-
(ক) অপাদান কারক
(খ) নিমিত্ত কারক
(গ) করণ কারক
(ঘ) কর্মকারক
উত্তর: (গ) করণ কারক
১.১২ ব্যাসবাক্য নির্ণয় করতে গেলে অন্য পদের প্রয়োজন পড়ে-
(ক) দ্বিগু সমাসে
(খ) বাক্যাশ্রয়ী সমাসে
(গ) অলোপ সমাসে
(ঘ) নিত্য সমাসে
উত্তর: (ঘ) নিত্য সমাসে
১.১৩ 'পঞ্চদশ'- সমস্তদপটির সমাসের নাম-
(ক) দ্বিগু
(খ) সংখ্যাপূর্বক বহুব্রীহি
(গ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
(ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর: (ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় (পঞ্চ অধিক যে দশ)
১.১৪ বাক্যের উদ্দেশ্য হল-
(ক) কর্তা
(খ) কর্ম
(গ) ক্রিয়া
(ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর: (ক) কর্তা
১.১৫ 'শিগগির কর; নয়তো কেউ দেখে ফেলবে।'- গঠন অনুসারে বাক্যটি-
(ক) সরল বাক্য
(খ) জটিল বাক্য
(গ) যৌগিক বাক্য
(ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর: (গ) যৌগিক বাক্য
১.১৬ কর্ম কর্তার ভূমিকা পালন করে-
(ক) কর্তৃবাচ্যে
(খ) কর্মবাচ্যে
(গ) ভাববাচ্যে
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্যে
উত্তর: (ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্যে
১.১৭ 'এ সমস্তই তার জানা।' > 'এ সমস্তই সে জানে।' এখানে যে বাচ্যান্তর ঘটেছে তা হল-
(ক) কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য
(খ) কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
(গ) কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
(ঘ) ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
উত্তর: (খ) কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
বিভাগ 'খ' : কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (১৯ নম্বর)
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।" সেই বস্তুটিকে 'দুর্লভ' বলার কারণ কী?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা হিমালয়ের সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোকে 'দুর্লভ' বলা হয়েছে, কারণ তিনি সচরাচর কাউকে পদধূলি দেন না।
২.১.২ "কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।" কোন্ কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল?
উত্তর: তপনের নতুন মেসোমশাই একজন লেখক এবং তিনি অনেক বই লিখেছেন—এই কথা শুনে তপনের চোখ বিস্ময়ে মার্বেল হয়ে গিয়েছিল।
২.১.৩ "ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।" কেন 'ভয়ে কাঠ' হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গিয়েছিল। ইসাবের বাবা জামা ছিঁড়ে যাওয়া দেখলে খুব মারবেন—এই ভয়ে অমৃত ও ইসাব কাঠ হয়ে গিয়েছিল।
২.১.৪ "লোভটা সে সামলাইতে পারিল না," কোন্ লোভের কথা এখানে বলা হয়েছে?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদ পকেটে থাকা একটি পুরনো চিঠি নদীর জলে ফেলে দিয়ে নদীর খেলা বা জলের ঘূর্ণি দেখার লোভ সামলাতে পারেনি।
২.১.৫ "কিন্তু তোমার বাপু একটা ভুল হয়েছে,” কোন্ প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে বলেছিলেন, কারণ গিরীশ গাঁজা খাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও তার পকেট থেকে গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "আমাদের পথ নেই আর" পথ না থাকার কারণ কী?
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষের বাঁচার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে—ডানপাশে ধস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথায় বোমারু বিমান।
২.২.২ "রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে" কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি হিংসা ও যুদ্ধের রক্তপাতকে সংগীত বা শিল্পের কোমলতা দিয়ে মুছে ফেলতে চেয়েছেন, অর্থাৎ শান্তির বার্তা দিয়েছেন।
২.২.৩ "ঘুচাব এ অপবাদ" কোন্ অপবাদের আশঙ্কা এখানে করা হয়েছে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশে ইন্দ্রজিৎ শত্রুদের হাতে লঙ্কার লাঞ্ছনা ও ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যুর সময় প্রমোদকাননে নারীদের মাঝে থাকার অপবাদ ঘোচাতে চেয়েছেন।
২.২.৪ "এল মানুষ-ধরার দল"- 'মানুষ ধরার দল' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় 'মানুষ ধরার দল' বলতে সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় বণিক ও শাসকদের বোঝানো হয়েছে, যারা আফ্রিকার মানুষকে ক্রীতদাস বানিয়েছিল।
২.২.৫ "সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক এনে ভাঙল আগল!"- 'সিন্ধুপারের সিংহদ্বার' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় 'সিন্ধুপারের সিংহদ্বার' বলতে আন্দামানের সেলুলার জেল বা ব্রিটিশ শাসকদের দুর্ভেদ্য কারাগারকে বোঝানো হয়েছে।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ "দার্শনিক তাকেই বলি" লেখক কাকে দার্শনিক বলেন?
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন এমন মানুষকে দার্শনিক বলেন।
২.৩.২ "এতে রচনা উৎকট হয়।" লেখকের মতে রচনা উৎকট হয় কেন?
উত্তর: রাজশেখর বসুর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ইংরেজি থেকে হুবহু আক্ষরিক অনুবাদ করলে রচনা উৎকট ও দুর্বোধ্য হয়।
২.৩.৩ "তবেই বিপদ।" কী কারণে এই বিপদ?
উত্তর: যারা বিজ্ঞান ভালো বোঝেন না, তাঁরা যদি সাধারণ পাঠকদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা লিখতে যান, তখনই বিপদ ঘটে (অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী)।
২.৩.৪ বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা কেমন হওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা অত্যন্ত সরল, স্পষ্ট ও আড়ম্বরহীন হওয়া উচিত।
২.৪ নীচের যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ 'অনুবাদ'- ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: বাদের সদৃশ = অনুবাদ (অব্যয়ীভাব সমাস)।
২.৪.২ লুপ্তকর্তা ভাববাচ্যের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: "কোথায় থাকা হয়?" (এখানে 'তুমি' বা 'আপনার' কর্তাটি লুপ্ত)।
২.৪.৩ নিম্নরেখ পদটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো: নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নামই বাংলা বানানে চলবে।
উত্তর: বানানে - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি (বিষয়াধিকরণ)। [Note: যদি 'নামই' দাগ দেওয়া থাকে তবে কর্তৃকারক, 'বানানে' হলে অধিকরণ বা করণ (মাধ্যম অর্থে)। তবে প্রসঙ্গের বিচারে অধিকরণ বা করণ উভয়ই হতে পারে, সাধারণত অধিকরণ ধরা হয়।]
২.৪.৪ আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান অনুসারে বাক্য সংগঠনকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
উত্তর: গঠনগতভাবে বাক্য তিন প্রকার - সরল, জটিল ও যৌগিক। (অর্থগতভাবে ৭ প্রকার)। প্রশ্নটি 'সংগঠন' বা 'গঠন' বোঝালে ৩ প্রকার।
২.৪.৫ বিভক্তি ও নির্দেশকের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: বিভক্তি শব্দের পরে বসে শব্দকে পদে পরিণত করে এবং কারক নির্দেশ করে, কিন্তু নির্দেশক পদের বচন বা সংখ্যা নির্দেশ করে।
২.৪.৬ 'একাসনে বসে লিখেও ফেলল আস্ত একটা গল্প।' জটিল বাক্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: যদিও সে একাসনে বসল, তবুও লিখে ফেলল আস্ত একটা গল্প।
২.৪.৭ 'মুন্সিজি পত্র বাছিতে লাগিলেন।' কর্মবাচ্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: মুন্সিজি কর্তৃক পত্র বাছা হইতে লাগিল।
২.৪.৮ 'মিথ্যেবাদী কোথাকার!' বাক্যটিকে নির্দেশক বাক্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: তুমি একজন বড় মিথ্যেবাদী।
২.৪.৯ 'দেখে আশ্চর্য বোধ হল।' কর্তৃবাচ্যে পরিণত করো'।
উত্তর: দেখে আশ্চর্য বোধ করলাম।
২.৪.১০ 'সাবধান'- ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: অবধানের সহিত বর্তমান = সাবধান (সহার্থক বহুব্রীহি সমাস)।
বিভাগ 'গ' : প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও (৩ x ২ = ৬)
৩.১.১ "পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?" কাকে রেহাই দেওয়া সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে? কেন এমন বলা হয়েছে?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে রাজাবাবুর বা মহাপ্রেরিত পলাতক দেশপ্রেমিক সব্যসাচী মল্লিকের কথা বলা হয়েছে।
সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন একজন বিপ্লবী দেশপ্রেমিক। ইংরেজ পুলিশের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই অপূর্ব মনে করেছিল, যদি তিনি পালিয়েও যেতে পারেন, তবুও ইংরেজ পুলিশ তাঁকে সহজে রেহাই দেবে না, তাঁকে ধরার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করবে।
৩.১.২ "কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা!" হরিদা কী কথা বলেছিলেন? বক্তার কাছে হরিদার কথা 'অদ্ভুত' বলে মনে হয়েছে কেন?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে হরিদা বলেছিলেন যে, জগদীশবাবুর দেওয়া মোটা অঙ্কের প্রণামীর টাকা স্পর্শ করলে তাঁর বিরাগী সাজের ঢং নষ্ট হয়ে যেত।
হরিদা অত্যন্ত অভাবী মানুষ ছিলেন, অথচ তিনি হাতের মুঠোয় পাওয়া প্রচুর টাকা হেলায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কেবল নিজের শিল্পের মর্যাদার জন্য। একজন দরিদ্র বহুরূপীর মুখে এমন নির্লোভ ও আত্মসম্মানবোধের কথা শুনে বক্তার কাছে তা 'অদ্ভুত' মনে হয়েছিল।
৩.২.১ "কৃপা কর নিরঞ্জন।" নিরঞ্জন কে? বক্তার এই কৃপা প্রার্থনার কারণ কী?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কবিতায় রাবণ 'নিরঞ্জন' বলতে বিধাতা বা ইষ্টদেবতাকে বুঝিয়েছেন।
রামচন্দ্র এবং তাঁর বানর সেনা সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কায় এসেছে এবং মৃত লক্ষ্মণ পুনরুজ্জীবিত হয়ে বীরবাহুকে হত্যা করেছে। এই অলৌকিক ঘটনা ও লঙ্কার ঘোর বিপদের দিনে রাবণ হতভম্ব হয়ে বিধাতার কাছে কৃপা ও এই রহস্যের সমাধান প্রার্থনা করেছিলেন।
৩.২.২ "শিশু আর বাড়িরা খুন হলো।" 'শিশু' ও 'বাড়িরা' বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে? তারা কেন খুন হল?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় 'শিশু' বলতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা নিষ্পাপ প্রাণ এবং 'বাড়িরা' বলতে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা সভ্যতাকে বোঝানো হয়েছে।
ভয়াবহ যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণ ও আগুনের গ্রাসে পড়ে নিষ্পাপ শিশু ও মানুষের বসতবাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত বা 'খুন' হয়েছিল।
বিভাগ 'ঘ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "কৈ এ ঘটনা তো আমাকে বলেননি? - বক্তা কে? কোন্ ঘটনার কথা এখানে বলা হয়েছে? ঘটনাটি বক্তাকে না বলার কারণ কী?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন রামদাস তলওয়ারকর।
এখানে অপূর্বকে বিনা দোষে ফিরিঙ্গি যুবকদের দ্বারা লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনার কথা বলা হয়েছে। অপূর্ব যখন স্টেশনের মাস্টারকে (যিনি একজন ভারতীয়) অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল, তখন সেই স্টেশন মাস্টারও তাকে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং ফিরিঙ্গিদের তোষামোদ করেছিলেন।
ঘটনাটি অপূর্ব রামদাসকে বলেনি কারণ এটি ছিল তার কাছে অত্যন্ত অপমানজনক ও লজ্জার। নিজের দেশবাসীর দ্বারা এমন লাঞ্ছনা এবং দেশের মানুষের পরাধীনতার গ্লানি ও হীনম্মন্যতা তাকে এতটাই ব্যথিত করেছিল যে সে এই অপমানের কথা মুখে আনতে পারেনি।
৪.২ "রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।"- কোন ঘটনা প্রসঙ্গে কার মধ্যে এই প্রবাদবাক্যটি জেগে ওঠে? 'রত্ন' ও 'জহুরি' বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে? বক্তার এরকম মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের লেখা গল্পটি যখন তার ছোটমাসি তার স্বামী অর্থাৎ তপনের লেখক মেসোমশাইকে দেখান, তখন তপনের মাসির মনে এই প্রবাদটি জেগে ওঠে।
এখানে 'রত্ন' বলতে তপনের লেখা গল্প বা তার সুপ্ত প্রতিভাকে এবং 'জহুরি' বলতে তপনের লেখক মেসোমশাইকে বোঝানো হয়েছে।
তপনের মাসি মনে করেছিলেন যে, সাধারণ মানুষ তপনের গল্পের কদর না বুঝলেও, মেসোমশাই যেহেতু একজন সত্যিকারের লেখক, তাই তিনি গল্পের আসল গুণ বা সাহিত্যমূল্য বিচার করতে পারবেন। জহুরি যেমন রত্ন চিনে নেয়, তেমনি মেসোমশাইও তপনের প্রতিভাকে সঠিক মর্যাদা দেবেন—এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর এমন মনে হয়েছিল।
বিভাগ 'ঙ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৫.১ "আমি এখন হাজার হাতে পায়ে/এগিয়ে আসি" 'আমি' কে? 'হাজার হাতে পায়ে' বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে? বক্তা এগিয়ে এসে উঠে দাঁড়াতে চান কেন?
উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় 'আমি' বলতে কবি নিজে বা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানবতাকে বুঝিয়েছেন।
'হাজার হাতে পায়ে' বলতে কবি এখানে একতাবদ্ধ জনশক্তি বা সমষ্টিগত প্রতিরোধের কথা বুঝিয়েছেন। তিনি একা নন, বরং হাজার হাজার শান্তিপ্রিয় মানুষের শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসার কথা বলেছেন।
বক্তা এগিয়ে এসে উঠে দাঁড়াতে চান কারণ তিনি অস্ত্রের আস্ফালন, যুদ্ধ ও হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চান। তিনি চান অস্ত্রের ঝনঝনানি থামিয়ে গানের বর্ম গায়ে দিয়ে এক সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে। মানবতার শত্রু ও যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই তাঁর এই এগিয়ে আসা।
৫.২ "দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে/পাষাণ-স্তূপে!"- এখানে দেবতা কীভাবে বাঁধা পড়ে আছেন? 'পাষাণ-স্তূপে' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় পরাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে যে, দেবতা বা সত্য আজ যজ্ঞের হাড়িকাঠে বা যুপকাষ্ঠে বলির পশুর মতো বাঁধা পড়ে আছেন।
'পাষাণ-স্তূপে' বলতে এখানে ব্রিটিশ শাসকের দুর্ভেদ্য কারাগার বা অন্ধকূপকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বন্দি।
তাৎপর্য: কবি এখানে বলতে চেয়েছেন যে, পরাধীন দেশে সত্য, ন্যায় ও স্বাধীনতা আজ লাঞ্ছিত ও বন্দি। ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচারে দেশের প্রাণশক্তি ও দেবতুল্য সন্তানেরা কারাগারে পাথর চাপা পড়ে আছে। কিন্তু এই অনাচারের অবসান ঘটাতে প্রলয়ঙ্কর শিবের আগমন ঘটবে এবং ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টির সূচনা হবে—এই আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে।
বিভাগ 'চ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন।" ফাউন্টেন পেনের স্রষ্টা কে? বাংলায় এই ধরনের পেন কী নামে পরিচিত? বাংলা নামটি কার দেওয়া বলে অনুমান করা হয়? ফাউন্টেন পেনের জন্মবৃত্তান্তটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ফাউন্টেন পেনের স্রষ্টা হলেন লুইস এডস ওয়াটারম্যান।
বাংলায় এই ধরনের পেন 'ঝর্ণা কলম' নামে পরিচিত।
অনুমান করা হয়, এই বাংলা নামটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া।
জন্মবৃত্তান্ত: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধ অনুযায়ী, একসময় ওয়াটারম্যান ছিলেন ব্যবসায়ী। তিনি একবার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিপত্রে সই করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দোয়াত উল্টে গিয়ে কালি পড়ে কাগজ নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আবার কালি ও কাগজ আনতে যান, কিন্তু ফিরে এসে দেখেন অন্য এক ব্যবসায়ী সেই চুক্তি সই করে নিয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও অপমানিত হয়ে ওয়াটারম্যান প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি এমন কলম তৈরি করবেন যাতে কালির দোয়াত লাগবে না। এরপর কঠোর প্রচেষ্টায় তিনি আবিষ্কার করেন 'রিজার্ভার পেন' বা ফাউন্টেন পেন।
৬.২ "তাতে পাঠকের অসুবিধা হয়।" কীসে পাঠকের অসুবিধা হয়? এই অসুবিধা দূর করার জন্য কী কী করা প্রয়োজন?
উত্তর: রাজশেখর বসুর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বিজ্ঞান বিষয়ক রচনায় ইংরেজি থেকে হুবহু আক্ষরিক অনুবাদ করলে বা ইংরেজি বাক্যভঙ্গি বাংলায় ব্যবহার করলে পাঠকের অসুবিধা হয়। এছাড়া অপ্রচলিত পরিভাষা ব্যবহার করলেও সাধারণ পাঠকের বুঝতে কষ্ট হয়।
অসুবিধা দূর করার উপায়:
১) আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে ভাবানুবাদ বা সারাংশ প্রকাশ করতে হবে।
২) যথাসম্ভব বাংলা পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে, তবে তা যদি খুব কঠিন হয় তবে ইংরেজি শব্দই বাংলা বানানে লেখা যেতে পারে।
৩) ভাষা হতে হবে সহজ, সরল ও সাবলীল। অলংকার বর্জন করতে হবে।
৪) লেখকের বিজ্ঞান বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে এবং পাঠকের গ্রহণক্ষমতার কথা মাথায় রাখতে হবে।
বিভাগ 'ছ' : কম-বেশি ১২৫ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "মনে হয়, ওর নিশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন, ওর অঙ্গ সঞ্চালনে ভূমিকম্প!" 'ওর' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? উদ্দিষ্টের প্রতি বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ আলোচনা করো।
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে 'ওর' বলতে সিরাজদ্দৌলার খালা ঘসেটি বেগমকে বোঝানো হয়েছে।
বক্তা সিরাজদ্দৌলা ঘসেটি বেগম সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন কারণ ঘসেটি বেগম ছিলেন সিরাজের ঘোর শত্রু। তিনি সিরাজের বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন। তাঁর হৃদয়ে সিরাজের প্রতি ছিল তীব্র ঘৃণা ও প্রতিহিংসা। সিরাজ অনুভব করেছিলেন যে ঘসেটি বেগমের প্রতিটি নিশ্বাসে, দৃষ্টিতে এবং আচরণে কেবল বিষ, আগুন ও ধ্বংসের বার্তা লুকিয়ে আছে। তাঁর উপস্থিতিই যেন রাজ্যের জন্য অমঙ্গল ও বিপর্যয়ের সংকেত।
৭.২ "বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়- মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।" কাদের উদ্দেশ্য করে একথা বলা হয়েছে? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে?
উত্তর: 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর দরবারের সভাসদ, বিশেষ করে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহসালারের উদ্দেশ্যে একথা বলেছেন।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সিরাজদ্দৌলার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে বাংলা রক্ষার জন্য হিন্দু ও মুসলমানের ঐক্য অপরিহার্য। তিনি ধর্ম বা বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাকে সকলের মাতৃভূমি হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর এই উদার মানসিকতা ও জাতীয়তাবোধ তাঁকে এক মহৎ শাসকের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে।
বিভাগ 'জ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ২ = ১০)
৮.১ "তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে।" - বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন?
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন কোনির প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ (খিদ্দা)।
বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবে কোনি যখন সাঁতারের ট্রায়াল বা প্রতিযোগিতায় নামতে যাচ্ছিল, তখন তার সাধারণ মানের কস্টিউম দেখে সে কিছুটা হীনম্মন্যতায় ভুগছিল এবং লজ্জিত বোধ করছিল। হিয়া মিত্রের মতো ধনী পরিবারের মেয়েদের দামী কস্টিউমের সামনে নিজেকে ছোট মনে করছিল। সেই সময় ক্ষিতীশ সিংহ তাকে সাহস জোগাতে এবং তার লক্ষ্যের প্রতি ফোকাস করাতে এই কথাটি বলেছিলেন। তিনি বুঝিয়েছিলেন যে, সাঁতারুর আসল পরিচয় তার পোশাকে নয়, বরং জলে তার দক্ষতায়। জলে ভালো পারফর্ম করলে সেটাই হবে তার গর্ব, আর খারাপ করলে সেটাই হবে লজ্জা।
৮.২ জুপিটার ক্লাবে ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি কী ছিল? এগুলির উত্তরে ক্ষিতীশের বক্তব্য কী ছিল?
উত্তর: জুপিটার ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলি ছিল: ১) ক্ষিতীশ সাঁতারুদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন ও গালিগালাজ করেন। ২) তিনি ক্লাবের নিয়মশৃঙ্খলা মানেন না এবং স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেন। ৩) তিনি ক্লাবের সম্মান নষ্ট করছেন।
এর উত্তরে ক্ষিতীশ সিংহ বলেছিলেন যে, তিনি সাঁতারুদের ভালোর জন্যই কঠোর আচরণ করেন। তিনি মনে করেন, কঠোর পরিশ্রম ও অনুশাসন ছাড়া ভালো সাঁতারু তৈরি করা সম্ভব নয়। তাঁর গালিগালাজ বা শাসন সাঁতারুদের জেদ বাড়ানোর জন্য, তাদের ক্ষতি করার জন্য নয়। তিনি ক্লাবের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কেবল সাঁতারের উন্নতি চেয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, মেডেল বা সাফল্যের জন্য এই কঠোরতা প্রয়োজন।
৮.৩ “তুই আস্ত একটা শয়তান।”- বক্তা কে? তাঁর এমন উপলব্ধির কারণ কী?
উত্তর: 'কোনি' উপন্যাসে এই উক্তিটির বক্তা হলেন ক্ষিতীশ সিংহ (খিদ্দা)। তিনি কোনিকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছিলেন।
ক্ষিতীশ কোনিকে খুব কঠোর অনুশাসনে রেখেছিলেন। একদিন কোনি ক্ষিতীশের চোখ এড়িয়ে বা তাকে ধোঁকা দিয়ে কোনো দুষ্টুমি করেছিল বা খাবারের লোভে নিয়ম ভেঙেছিল (যেমন- ঘণ্টার বিনিময়ে রুটি খাওয়ার ঘটনা বা অনুশীলনে ফাঁকি দেওয়া)। কোনির এই বুদ্ধিমত্তা ও দুষ্টুমি দেখে ক্ষিতীশ তাকে স্নেহমাখা ভর্ৎসনায় 'শয়তান' বলেছিলেন। কোনির মধ্যে যে অদম্য জেদ ও বুদ্ধি লুকিয়ে ছিল, তা ক্ষিতীশ চিনতে পেরেছিলেন এবং তাকে সঠিক পথে চালিত করতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন।
বিভাগ 'ঞ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো (৫ x ১ = ৫)
১০.১ 'ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ' - এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ: জনজীবন বিপন্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি, ১০ই অক্টোবর: টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি নদীর জলোচ্ছ্বাসে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র উত্তরবঙ্গ। তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা সহ প্রধান নদীগুলির জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি জলের তলায়। বহু কাঁচা বাড়ি ধসে পড়েছে, গবাদি পশু ভেসে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন; ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক জলের তলায় চলে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ এবং বিএসএফ জওয়ানদের। দুর্গত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির।
মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে। বন্যার্ত মানুষের হাহাকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
১০.২ রক্তদানের উপযোগিতা সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
অয়ন: কিরে রাজু, তুই নাকি কাল রক্তদান শিবিরে গিয়েছিলি? রক্ত দিলি?
রাজু: হ্যাঁ রে, এই প্রথম রক্ত দিলাম। খুব ভালো লাগছে।
অয়ন: আমার তো খুব ভয় করে। শরীর দুর্বল হয়ে যায় না?
রাজু: একদমই না। ডাক্তাররা বললেন, সুস্থ মানুষের শরীর থেকে রক্ত নিলে কোনো ক্ষতি হয় না, বরং নতুন রক্তকণিকা তৈরি হয়। আর জানিস তো, রক্তদান হলো জীবনদান।
অয়ন: সে তো জানি। কিন্তু আমার রক্ত কার কী কাজে লাগবে?
রাজু: আরে, থ্যালাসেমিয়া রোগী, দুর্ঘটনার কবলে পড়া মানুষ বা অপারেশনের সময় রোগীদের রক্তের খুব দরকার হয়। এক ব্যাগ রক্ত একজন মুমূর্ষু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে।
অয়ন: সত্যি, এভাবে তো ভাবিনি। এটা তো খুব মহৎ কাজ।
রাজু: শুধু তাই নয়, রক্ত দিলে নিজের শরীরেরও চেক-আপ হয়ে যায়। আমাদের সবার উচিত ভয় না পেয়ে এগিয়ে আসা।
অয়ন: তুই ঠিক বলেছিস। আমিও ঠিক করেছি পরের বার ক্যাম্পে গিয়ে রক্ত দেব। ধন্যবাদ ভাই, আমার ভুল ভাঙানোর জন্য।
বিভাগ 'ট' : কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো (১০ x ১ = ১০)
১১.১ বিজ্ঞানের ভালোমন্দ
ভূমিকা: আধুনিক সভ্যতা বিজ্ঞানের দান। গুহাবাসী মানুষ যেদিন চকমকি পাথরে আগুন জ্বালাতে শিখল, সেদিন থেকেই বিজ্ঞানের জয়যাত্রা শুরু। আজ আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি মুহূর্তে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞান যেমন আমাদের দিয়েছে গতি, দিয়েছে আরাম, তেমনি দিয়েছে অজানাকে জানার অদম্য শক্তি। কিন্তু মুদ্রার যেমন এপিঠ-ওপিঠ আছে, তেমনি বিজ্ঞানেরও আছে ভালো ও মন্দ দিক।
বিজ্ঞানের আশীর্বাদ: বিজ্ঞানের দানে মানুষ আজ প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিতে মহামারী দূর হয়েছে, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। কৃষি ও শিল্পে বিপ্লব এনেছে বিজ্ঞান। বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার—এসব আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিময় করেছে। পৃথিবী আজ মানুষের হাতের মুঠোয়। মহাকাশ অভিযানে মানুষ পৌঁছে গেছে চাঁদ ও মঙ্গলে। শিক্ষার প্রসারেও বিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম।
বিজ্ঞানের অভিশাপ: কিন্তু বিজ্ঞানের অপব্যবহার মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পারমাণবিক বোমা, রাসায়নিক মারণাস্ত্র হিরোশিমা-নাগাসাকির মতো বিভীষিকা সৃষ্টি করেছে। পরিবেশ দূষণ আজ এক বিশ্বব্যাপী সমস্যা। যান্ত্রিক সভ্যতা মানুষকে আবেগহীন ও যান্ত্রিক করে তুলছে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার যুবসমাজকে বিপথগামী করছে।
উপসংহার: বিজ্ঞান নিজে ভালোও নয়, মন্দও নয়। এটি একটি শক্তি। মানুষ কীভাবে একে ব্যবহার করবে, তার ওপরই নির্ভর করে এর ফলাফল। মানুষের শুভবুদ্ধি যদি বিজ্ঞানকে নিয়ন্ত্রণ করে, তবে তা হবে আশীর্বাদ। আর যদি লোভ ও হিংসার বশবর্তী হয়ে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা হয়, তবে তা হবে অভিশাপ। তাই আমাদের উচিত বিজ্ঞানকে ধ্বংসের কাজে না লাগিয়ে সৃষ্টির কাজে লাগানো। "বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ"—এই অপবাদ ঘুচিয়ে বিজ্ঞান হোক মানবকল্যাণের হাতিয়ার।
১১.২ পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা
ভূমিকা: "দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর"—কবির এই আকুতি আজ বড়ই প্রাসঙ্গিক। আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে পরিবেশ দূষণ এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমাদের বাসযোগ্য পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। আর এই কাজে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারাই দেশের ভবিষ্যৎ।
পরিবেশ দূষণের কারণ: নির্বিচারে গাছ কাটা, কলকারখানার ধোঁয়া, প্লাস্টিকের ব্যবহার, শব্দদূষণ—এসব কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে দেখা দিচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নানা মারণ রোগ।
ছাত্রসমাজের দায়িত্ব: ছাত্ররা সমাজ সচেতনতার অগ্রদূত। তারা নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নিতে পারে:
১) বৃক্ষরোপণ: 'একটি গাছ, একটি প্রাণ'—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বিদ্যালয় ও বাড়ির আশেপাশে গাছ লাগানো ও তার যত্ন নেওয়া।
২) সচেতনতা বৃদ্ধি: পদযাত্রা, নাটক, পোস্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক বর্জন, জল অপচয় রোধ ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন করা।
৩) দূষণ রোধ: নিজেরা শব্দবাজি না ফাটানো এবং অন্যদের বারণ করা। যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা।
৪) স্বচ্ছতা অভিযান: নিজেদের এলাকা ও বিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার রাখার অভিযানে অংশ নেওয়া।
উপসংহার: পরিবেশ রক্ষা কোনো একক মানুষের কাজ নয়, এটি সমষ্টিগত প্রচেষ্টা। ছাত্রসমাজ যদি সংকল্পবদ্ধ হয়, তবে তারা বড়দেরও সচেতন করতে পারবে। সুন্দর ও সুস্থ পৃথিবী গড়ে তোলার শপথ নিয়ে ছাত্রসমাজকে আজ পরিবেশ সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
১১.৩ একটি বৃষ্টিমুখর দিন
ভূমিকা: গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন প্রকৃতি ও প্রাণিকুল চাতকের মতো বৃষ্টির প্রতীক্ষা করে, তখন আকাশ কালো করে নামা বৃষ্টি এক অনাবিল শান্তি বয়ে আনে। এমন এক বৃষ্টিমুখর দিন আমাদের মনকে উদাস করে এবং দৈনন্দিন একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেয়।
সকালের রূপ: সকাল থেকেই আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। সূর্যিমামার দেখা নেই। গুরুগুর মেঘের ডাকের সাথে সাথে শুরু হলো ঝমঝম বৃষ্টি। জানলার ধারে বসে সেই দৃশ্য দেখার মজাই আলাদা। গাছের পাতাগুলো স্নান করে সতেজ হয়ে ওঠে। রাস্তাঘাট জলে থৈ থৈ করে।
জনজীবনের ছবি: বৃষ্টিমুখর দিনে জনজীবন কিছুটা বিপর্যস্ত হয়। স্কুল-কলেজ বা অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকে, কিন্তু বৃষ্টির বাধায় অনেকে বেরোতে পারে না। রাস্তায় ছাতা মাথায় মানুষের ব্যস্ততা, রেইনকোট গায়ে বাইক চালক, কিংবা জমা জলে গাড়ির ছিঁটে—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম দৃশ্য। কিছু শিশু জমা জলে কাগজ-নৌকা ভাসায়, কেউবা ফুটবল খেলে।
মনের অনুভূতি: বৃষ্টির দিনে মন যেন আনমনা হয়ে যায়। কাজ করতে ইচ্ছে করে না। মায়ের হাতের খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা হলে তো কথাই নেই। রবীন্দ্রনাথের গান বা প্রিয় বই হাতে নিয়ে সময় কাটানোই শ্রেয় মনে হয়।
উপসংহার: বৃষ্টিমুখর দিন আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনে এক সাময়িক বিরতি এনে দেয়। যদিও এটি কিছু অসুবিধা সৃষ্টি করে, তবুও প্রকৃতির এই রূপ আমাদের মনকে সজীব ও সতেজ করে তোলে। বৃষ্টির নূপুর ধ্বনি আমাদের হৃদয়ে এক অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা জাগায়।
১১.৪ একটি শহরের আত্মকথা
ভূমিকা: আমি কলকাতা, ভারতের এক ঐতিহাসিক ও প্রাণবন্ত শহর। আমার বুকে জড়িয়ে আছে কত ইতিহাস, কত স্মৃতি, কত হাসি-কান্না। আজ আমি তোমাদের আমার কথা শোনাব।
অতীতের আমি: তিনশ বছর আগে সুতানুটি, গোবিন্দপুর ও কলকাতা—এই তিনটি গ্রাম নিয়ে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনে আমি ছিলাম ভারতের রাজধানী। আমার বুকে গড়ে উঠেছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাওড়া ব্রিজ, ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মতো স্থাপত্য। আমি দেখেছি স্বাধীনতা সংগ্রাম, দেখেছি দেশভাগ ও দাঙ্গার ভয়াবহতা। রাজা রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্রের পদধূলিতে আমি ধন্য।
বর্তমানের আমি: আজ আমি অনেক বদলে গেছি। আমার বুকে এখন আকাশচুম্বী অট্টালিকা, মেট্রো রেল, শপিং মল। ট্রামের ঐতিহ্য আর মেট্রোর গতি—দুই-ই আমি ধারণ করে আছি। আমি মিছিলের নগরী, আবার আমিই সংস্কৃতির পীঠস্থান। বইমেলা, দুর্গাপূজা, চলচ্চিত্র উৎসব—এসব আমার প্রাণের উৎসব।
আমার দুঃখ ও আনন্দ: আমার দুঃখ হয় যখন দেখি মানুষ আমাকে নোংরা করছে, গাছ কেটে ফেলছে, দূষণে আমার বাতাস বিষিয়ে তুলছে। যানজট আর কোলাহলে আমি ক্লান্ত। তবুও আমার আনন্দ এই যে, হাজার হাজার মানুষ আমার বুকে আশ্রয় পেয়েছে। আমি আজও 'সিটি অফ জয়' বা আনন্দের শহর।
উপসংহার: আমি কেবল ইট-কাঠ-পাথরের শহর নই, আমি এক জীবন্ত সত্তা। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমি এগিয়ে চলেছি। আমার একটাই আশা, আমার সন্তানরা অর্থাৎ নগরবাসী আমাকে ভালোবাসবে, আমাকে দূষণমুক্ত ও সুন্দর রাখবে। আমি বেঁচে থাকব তাদের ভালোবাসায়, তাদের কর্মে।