২। কম-বেশি ২০ টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (১ x ১৯ = ১৯)
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে।"- উদ্ধৃতাংশে কোন্ অলৌকিক ঘটনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের লেখা গল্প 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়াকেই তপনের কাছে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হয়েছে।
২.১.২ "অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।"- হরিদার কোন্ ভুল অদৃষ্ট কখনও ক্ষমা করবে না?
উত্তর: বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকার প্রণামী হরিদা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই টাকা না নেওয়াটাকেই 'ভুল' বলা হয়েছে যা অদৃষ্ট ক্ষমা করবে না অর্থাৎ তাঁকে অভাবের মধ্যেই থাকতে হবে।
২.১.৩ "কিন্তু বাপু তোমার একটা ভুল হয়েছে।"- কোন ভুল হয়েছিল?
উত্তর: 'পথের দাবী' রচনাংশে গিরীশ মহাপাত্রের পকেটে গাঁজার কলকে পাওয়া গেলেও সে দাবি করেছিল সে গাঁজা খায় না, পথে কুড়িয়ে পেয়েছে। জগদীশবাবু বা নিমাইবাবু তাকে বলেছিলেন যে সে মিথ্যে বলছে বা তার ভুল হচ্ছে।
২.১.৪ "উনি ঘোষণা করলেন।"- কী ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: গ্রামপ্রধান ঘোষণা করেছিলেন যে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আজ থেকে অমৃতের নাম 'অদল' এবং ইসাবের নাম 'বদল'।
২.১.৫ "নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।"- 'নদীর বিদ্রোহের কারণ' কী ছিল?
উত্তর: নদীর ওপর ব্রিজ তৈরি করে এবং বাঁধ দিয়ে তার স্বাভাবিক প্রবাহে মানুষ যে বাধা সৃষ্টি করেছিল, সেই আক্রোশেই নদী বিদ্রোহ করেছিল বলে নদেরচাঁদ মনে করে।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "আমাদের পথ নেই আর।"- এরকম বলার কারণ কী?
উত্তর: যুদ্ধবিধ্বস্ত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন, ডানে ধস, বাঁয়ে গিরিখাদ—সবদিক থেকেই মৃত্যুর হাতছানি। তাই কবি বলেছেন, "আমাদের পথ নেই আর"।
২.২.২ 'আফ্রিকা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের কত সংখ্যক কবিতা?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পত্রপুট' কাব্যগ্রন্থের ১৬ সংখ্যক কবিতা (২য় সংস্করণে সংযোজিত)।
২.২.৩ কালবৈশাখির ঝড়কে 'নূতনের কেতন' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: কালবৈশাখি ঝড় যেমন জরাজীর্ণতাকে ধ্বংস করে, তেমনি নতুনের আগমন বার্তা ঘোষণা করে। তাই প্রলয়ঙ্কর ঝড়কে 'নূতনের কেতন' বা পতাকা বলা হয়েছে।
২.২.৪ "পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।"- 'পঞ্চকন্যা' কীভাবে চেতনা ফিরে পেল?
উত্তর: সমুদ্রকন্যা পদ্মা ও তাঁর সখীদের স্নেহপূর্ণ সেবা-যত্ন ও তন্ত্রমন্ত্র চিকিৎসার ফলে দীর্ঘ চার দণ্ড পর পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পায়।
২.২.৫ "হা ধিক্ মোরে!"- বক্তা কী বলে আত্মধিক্কার দিয়েছেন?
উত্তর: শত্রুদল স্বর্ণলঙ্কা ঘিরে ফেলেছে, অথচ ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ কাননে নারীদের মাঝে সময় কাটাচ্ছেন—এই কথা ভেবে তিনি নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ 'ত্রিফলা' কী কী ফল?
উত্তর: ত্রিফলা হলো— আমলকী, হরিতকী ও বহেড়া।
২.৩.২ "অবাক হয়ে সেদিন মনে মনে ভাবছিলাম।"- প্রাবন্ধিক অবাক হয়ে সেদিন মনে মনে কী ভাবছিলেন?
উত্তর: অফিসে বসে প্রাবন্ধিক ভাবছিলেন যে, তিনি ছাড়া আর সবাই হয়তো কম্পিউটারে বা টাইপরাইটারে লিখছেন, একমাত্র তিনিই কলম দিয়ে লিখছেন।
২.৩.৩ "এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।"- কোন্ কথাটি?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের ভাষা হবে সরল ও স্পষ্ট। সেখানে অলঙ্কার বর্জন করাই শ্রেয়—এই কথাটি সকল লেখকের মনে রাখা উচিত।
২.৩.৪ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতিতে কারা যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতত্ত্ববিদ, সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত এবং কয়েকজন লেখক পরিভাষা সমিতিতে যুক্ত ছিলেন।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ বিভক্তি ও অনুসর্গের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: বিভক্তির নিজস্ব কোনো অর্থ নেই এবং এটি শব্দের সঙ্গে মিশে থাকে। কিন্তু অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে এবং এটি শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে।
২.৪.২ প্রযোজক কর্তা কাকে বলে উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: যে কর্তা নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করায়, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। যেমন— 'মা' শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। এখানে 'মা' প্রযোজক কর্তা।
২.৪.৩ "পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।" -নিম্নরেখ পদটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো।
উত্তর: 'পঞ্চকন্যা'— কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
২.৪.৪ দ্বিগু সমাস এবং সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান হয় এবং সমাহার বোঝায়। কিন্তু সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসে তৃতীয় পদের অর্থ প্রধান হয়।
২.৪.৫ ব্যাসবাক্য-সহ সমাস নির্ণয় করো - 'মন্বন্তর'।
উত্তর: মন্বন্তর = অন্য মনু (নিত্য সমাস)।
২.৪.৬ "বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে না।"- বাক্যটিকে যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: আশা বৃথা কিন্তু তা মরে না।
২.৪.৭ "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পান।" বাক্যটির বিধেয় অংশ সম্প্রসারিত করো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
২.৪.৮ অনুজ্ঞাসূচক বাক্য কাকে বলে?
উত্তর: যে বাক্যের দ্বারা আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, আশীর্বাদ ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে।
২.৪.৯ কোন বাচ্যের রূপান্তর সম্ভব নয়?
উত্তর: সাধারণত অকর্মক ক্রিয়ার কর্মবাচ্য হয় না।
২.৪.১০ "নিমাইবাবু চুপ করিয়া রহিলেন।" বাক্যটিকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: নিমাইবাবুর দ্বারা চুপ করিয়া থাকা হইল। (বা ভাববাচ্যে: নিমাইবাবুর চুপ করিয়া থাকা হইল।)