১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ অনুসর্গ হল একপ্রকার
ক) বিশেষ্য পদ
খ) বিশেষণপদ
গ) সর্বনাম পদ
ঘ) অব্যয় পদ
উত্তর: (ঘ) অব্যয় পদ
১.২ "এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা।"- ঘটনাটি হল
ক) ছোটোমাসির বিয়ে
খ) তপনের গল্প লেখা
গ) তপনের গল্প ছাপানো হওয়া
ঘ) তপনের গল্প বাতিল হওয়া
উত্তর: (গ) তপনের গল্প ছাপানো হওয়া
১.৩ স্টেশনের কাছে নদীকে নদেরচাঁদ চেনে-
ক) পাঁচ বছর
খ) চার বছর
গ) তিন বছর
ঘ) দুই বছর
উত্তর: (খ) চার বছর
১.৪ "কিন্তু বুনোহাঁস ধরাই যে এদের কাজ"। - বক্তা হলেন-
ক) অপূর্ব
খ) রামদাস
গ) জগদীশবাবু
ঘ) নিমাইবাবু
উত্তর: (খ) রামদাস
১.৫ কৃদন্ত পদের পূর্বস্থিত পদকে বলা হয়-
ক) উত্তর পদ
খ) নামপদ
গ) উপপদ
ঘ) সমস্ত পদ
উত্তর: (গ) উপপদ
১.৬ "হাসিবে মেঘবাহন, রুষিবেন দেব/ অগ্নি”।- 'মেঘবাহন' কে?
ক) ব্রহ্মা
খ) বিষ্ণু
গ) মহেশ্বর
ঘ) ইন্দ্র
উত্তর: (ঘ) ইন্দ্র
১.৭ 'বৃষ্টি পড়ছে।'- এটি কোন ধরনের বাচ্য?
ক) কর্তৃবাচ্য
খ) কর্মবাচ্য
গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
ঘ) ভাববাচ্য
উত্তর: (ক) কর্তৃবাচ্য
১.৮ "সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।" - 'সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী' হল
ক) ক্ষমা করো
খ) ভালোবাসো
গ) ঘৃণা করো
ঘ) মঙ্গল করো
উত্তর: (ক) ক্ষমা করো
১.৯ চিনারা চিরকাল লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে আসছে-
ক) ব্রোঞ্জের শলাকা
খ) তুলি
গ) সোনার কলম
ঘ) কুইল
উত্তর: (খ) তুলি
১.১০ 'আমরা' - এই সমাসবদ্ধ পদটি যে সমাসের দৃষ্টান্ত
ক) নিত্য সমাস
খ) কর্মধারয় সমাস
গ) অব্যয়ীভাব সমাস
ঘ) একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর: (ঘ) একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস
১.১১ "হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড”- উক্তিটি-
ক) রবীন্দ্রনাথের
খ) বঙ্কিমচন্দ্রের
গ) কালিদাসের
ঘ) বিদ্যাসাগরের
উত্তর: (গ) কালিদাসের
১.১২ "আজ কী গরম!" বাক্যটি অর্থগত দিক দিয়ে-
ক) নির্দেশক
খ) বিবৃতিমূলক
গ) শর্তসাপেক্ষ
ঘ) আবেগসূচক
উত্তর: (ঘ) আবেগসূচক
১.১৩ রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম
ক) বনফুল
খ) শ্রীপান্থ
গ) পরশুরাম
ঘ) রূপদর্শী
উত্তর: (গ) পরশুরাম
১.১৪ 'বহুব্রীহি' সমাসে প্রাধান্য থাকে
ক) পূর্বপদের অর্থ
খ) পরপদের অর্থ
গ) উভয় পদের অর্থ
ঘ) ভিন্ন পদের অর্থ
উত্তর: (ঘ) ভিন্ন পদের অর্থ
১.১৫ কলমে কায়স্থ চিনি- নিম্নরেখ পদটি-
ক) করণ কারক
খ) অপাদান কারক
গ) কর্তৃকারক
ঘ) কর্মকারক
উত্তর: (ক) করণ কারক
১.১৬ যে বাক্যে সাধারণ কোনো কিছুর বর্ণনা বা বিবৃতি থাকে, তাকে বলা হয়
ক) আবেগসূচক বাক্য
খ) নিদের্শক বাক্য
গ) প্রশ্নবোধক বাক্য
ঘ) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
উত্তর: (খ) নিদের্শক বাক্য
১.১৭ "ধরে গেল আগুন" - কোথায়?-
ক) ঘন অরণ্যে
খ) জনবসতিতে
গ) ফসলের ক্ষেতে
ঘ) সমস্ত সমতলে
উত্তর: (ঘ) সমস্ত সমতলে
২। কম-বেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :-
২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "ইহা যে কতবড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।" -'ভ্রম'টি কী?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে অপূর্ব ভেবেছিল যে প্রথম শ্রেণীর যাত্রীর ওপর কেউ অত্যাচার করতে সাহস পাবে না। কিন্তু পুলিশের লোক তাকে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে তিনবার নামিয়েছিল, এটাই ছিল তার ভ্রম।
২.১.২ "তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়"। তার 'ঢং' বজায় থাকল কীভাবে?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে হরিদা বিরাগীর বেশে জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা প্রণামী স্পর্শ না করে হেলায় প্রত্যাখ্যান করে চলে আসেন। এভাবেই তাঁর সন্ন্যাসী সাজের 'ঢং' বা পবিত্রতা বজায় ছিল।
২.১.৩ "অমৃত ফতোয়া জারি করে দিল" অমৃত কী 'ফতোয়া' জারি করেছিল?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে অমৃত তাঁর মাকে বলেছিল যে, ইসাবের মতো ঠিক একই রকম জামা তাকেও তৈরি করে দিতে হবে, নইলে সে আর স্কুলে যাবে না। এটাই ছিল তার 'ফতোয়া'।
২.১.৪ "এতকাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।” কীসের জন্য এই গর্ব?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদ তার দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীটির প্রতি ভালোবাসার কারণে গর্ব অনুভব করত।
২.১.৫ "নতুন মেসোই বুঝবে।"- নতুন মেসো কী বুঝবে?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের নতুন মেসোমশাই একজন লেখক ছিলেন। তাই তপন মনে করেছিল যে, একমাত্র মেসোই গল্পের কদর বা মর্ম বুঝতে পারবেন।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "নেমে এলো তার মাথার ওপর" - তার মাথার উপর কী নেমে এসেছিল?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কথকের অপেক্ষায় থাকা মেয়েটির মাথার ওপর বছরগুলো পাথরের মতো নেমে এসেছিল।
২.২.২ "হেন কালে প্রমীলা সুন্দরী ."-'প্রমীলা' কে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশে প্রমীলা হলেন রাক্ষসরাজ রাবণের পুত্র ইন্দ্রজিতের স্ত্রী এবং দানবরাজ জরাসন্ধের কন্যা।
২.২.৩ "কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে”।- 'কৃপণ আলো' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশ ঘন অরণ্যে আবৃত থাকায় সেখানে সূর্যের আলো খুব কম প্রবেশ করতে পারত, তাই কবি তাকে 'কৃপণ আলো' বলেছেন।
২.২.৪ "আমাদের চোখ মুখ ঢাকা”-এ কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শাসনে সাধারণ মানুষের প্রকৃত অবস্থা বা সত্য সর্বদা আড়াল করা থাকে এবং প্রতিবাদ করার পথও রুদ্ধ, তাই একথা বলা হয়েছে।
২.২.৫ "কে বধিল কবে প্রিয়ানুজে" 'প্রিয়ানুজ' কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: 'অভিষেক' কাব্যাংশে 'প্রিয়ানুজ' বলতে ইন্দ্রজিতের প্রিয় অনুজ বা ছোট ভাই বীরবাহুকে বোঝানো হয়েছে।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ "তুমি সবল, আমি দুর্বল, তুমি সাহসী, আমি ভীরু"-কার এই উক্তি?
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক এই উক্তিটি করেছেন। তিনি দোয়াত-কলমের যুগের প্রতিনিধি হয়ে বলপেনের যুগের বা যান্ত্রিক যুগের সামনে নিজের দুর্বলতার কথা প্রকাশ করেছেন।
২.৩.২ "এই কথাটি সকল লেখকের মনে রাখা উচিত"- কোন কথা মনে রাখা উচিত?
উত্তর: রাজশেখর বসুর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বা প্রবন্ধ রচনার সময় ভাষা অত্যন্ত সরল ও স্পষ্ট হওয়া উচিত এবং অলংকারের প্রয়োগ বা অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য বর্জন করা উচিত।
২.৩.৩ 'কুইল' কাকে বলে?
উত্তর: প্রাচীনকালে পাখির পালক দিয়ে তৈরি যে কলম ব্যবহার করা হতো, তাকে 'কুইল' (Quill) বলা হয়।
২.৩.৪ "আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন"- 'ত্রিবিধ কথা'টি কী?
উত্তর: আলংকারিকদের মতে শব্দের তিনটি শক্তি বা বৃত্তি হলো- ১) অভিধা, ২) লক্ষণা এবং ৩) ব্যঞ্জনা।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ 'জয়ধ্বনি' পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম করো।
উত্তর: জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
২.৪.২ "স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?” বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: স্বাধীনতা হীনতায় কেউ বাঁচিতে চায় না।
২.৪.৩ "সুমিত কি গান জানে?” বাক্যটিকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: সুমিতের দ্বারা কি গান জানা হয়?
২.৪.৪ "বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ”- রেখাঙ্কিত পদটিতে কোন কারক ও কোন বিভক্তি যুক্ত রয়েছে?
উত্তর: 'বৃষ্টিতে' - কর্তৃকারকে 'তে' বিভক্তি (এখানে বৃষ্টি কর্তা হিসেবে কাজ করছে)।
২.৪.৫ অনুসর্গকে 'পরসর্গ' বলে কেন?
উত্তর: কারণ অনুসর্গগুলি বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বা 'পর'-এ বসে তাদের কারক সম্পর্ক নির্ণয় করে।
২.৪.৬ উপমান কর্মধারয় সমাস বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সাধারণ ধর্মবাচক পদের সঙ্গে উপমান বাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে (যেমন: তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র)।
২.৪.৭ "মরা লোক তো আর কথা কয় না।" জটিল বাক্যে পরিবর্তন করো।
উত্তর: যে লোক মরে গেছে, সে আর কথা কয় না।
২.৪.৮ "লোকটি কী ঘুমই না ঘুমাল।"- রেখাঙ্কিত পদটি কী ধরনের কর্ম?
উত্তর: 'ঘুম' - এটি সমধাতুজ কর্ম (Cognate Object), কারণ 'ঘুমাল' ক্রিয়া ও 'ঘুম' কর্ম একই ধাতু থেকে উৎপন্ন।
২.৪.৯ সম্বন্ধ পদ কাকে বলে?
উত্তর: বাক্যের মধ্যে যে নামপদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের কোনো সরাসরি সম্পর্ক থাকে না কিন্তু অন্য কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সম্পর্ক থাকে, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে (যেমন: রামের বই)।
২.৪.১০ 'চরণ কমলের ন্যায়' ব্যাসবাক্যটি সমাসবদ্ধ করে সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: চরণকমল (উপমিত কর্মধারয় সমাস)।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও: (৩ x ২ = ৬)
৩.১ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৩ x ১ = ৩)
৩.১.১ "চিঠি পকেটেই ছিল"। কোন চিঠির কথা বলা হয়েছে? সে চিঠির পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদের স্ত্রী তাকে যে বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠিটি লিখেছিল, এখানে সেই চিঠির কথাই বলা হয়েছে।
নদীর প্রতি নদেরচাঁদের এক অদ্ভুত ভালোবাসা ও উন্মাদনা ছিল। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ব্রিজের গায়ে আছড়ে পড়ার দৃশ্য দেখে সে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। সেই উত্তেজনার বশে সে পকেট থেকে স্ত্রীর চিঠিটি বের করে নদীর ক্ষ্যাপা স্রোতের মধ্যে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। সে মনে করেছিল নদীটি যেন জীবন্ত সত্তা, তাই সে তার ভালোবাসার চিঠি নদীকেই উৎসর্গ করল।
৩.১.২ "বাঃ এ তো বেশ মজার ব্যাপার!" কোন ঘটনাকে বক্তা মজার ব্যাপার বলেছেন? ঘটনাটিকে তাঁর মজার মনে হয়েছেন কেন?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে গল্পকথক বা হরিদার বন্ধুরা হরিদার বহুরূপী জীবনের বৈচিত্র্যময় ঘটনা শুনে এ কথা বলেছিলেন।
হরিদা বহুরূপী সেজে মানুষকে বোকা বানিয়ে যে আনন্দ পেতেন এবং সামান্য রোজগার করতেন, সেই জীবনযাত্রাকেই বক্তা 'মজার ব্যাপার' বলেছেন। বিশেষ করে জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর অভিনয় করে হরিদা যেভাবে সকলকে মুগ্ধ করেছিলেন এবং মোটা টাকার প্রণামী হেলায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সেই ঘটনা শুনে কথকের মনে হয়েছিল হরিদার জীবন সত্যিই বৈচিত্র্যময় ও নাটকীয়তায় ভরা।
৩.২ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৩ x ১ = ৩)
৩.২.১ "অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে...।"- এটি কোন কবিতার চরণ? এ কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: এটি জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার চরণ।
কবি যুদ্ধের ভয়াবহতা ও হিংসার বিরুদ্ধে গান বা সৃজনশীলতাকে হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, অস্ত্রের ঝনঝনানি বা রক্তপাত দিয়ে শান্তি আনা সম্ভব নয়। একমাত্র গান, ভালোবাসা ও মানবিকতাই পারে পৃথিবীকে শান্ত করতে। তাই তিনি যুদ্ধবাজদের অস্ত্র ত্যাগ করে গানের পায়ে সমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গান হলো জীবনের প্রতীক, যা মৃত্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে।
৩.২.২ "কে কবে শুনেছে পুত্র, ভাসে শিলা জলে,/ কে কবে শুনেছ লোক মরি পুনঃ বাঁচে?"-এমন উপমা প্রয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশে রাক্ষসরাজ রাবণ তাঁর পুত্র ইন্দ্রজিতকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছিলেন।
রামচন্দ্র যুদ্ধে নিহত হয়েও পুনরায় বেঁচে উঠেছেন এবং বীরবাহুকে হত্যা করেছেন- এই সংবাদ শুনে রাবণ বিস্মিত হয়েছিলেন। পাথরের জলে ভাষা যেমন অসম্ভব, তেমনি মৃত মানুষের বেঁচে ওঠাও অসম্ভব। কিন্তু রামচন্দ্রের ক্ষেত্রে সেই অসম্ভবই সম্ভব হয়েছে। এই অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক ঘটনাকে বোঝাতেই রাবণ শিলা জলে ভাসার উপমাটি প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, লঙ্কার শত্রুপক্ষ সাধারণ মানুষ নয়, তারা মায়াবী শক্তির অধিকারী।
৪। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।”- কোন দিন তপনের এমন মনে হয়েছিল? তার এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে যেদিন 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় তপনের লেখা গল্পটি ছাপা হয়ে বের হয় এবং সে বইটি হাতে পায়, সেই দিনটিই তপনের কাছে জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন মনে হয়েছিল।
তপন তার লেখক মেসোমশাইয়ের উৎসাহে একটি গল্প লিখেছিল। মেসোমশাই কথা দিয়েছিলেন তিনি গল্পটি একটু 'কারেকশন' করে ছাপিয়ে দেবেন। পত্রিকাটি বাড়িতে আসার পর তপন আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। কিন্তু যখন সে মায়ের অনুরোধে গল্পটি পড়তে শুরু করে, তখন সে অবাক হয়ে যায়। সে দেখে, গল্পের নাম ও লেখকের নাম ঠিক থাকলেও, গল্পের বিষয়বস্তু এবং ভাষা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মেসোমশাই কারেকশনের নামে পুরো গল্পটাই নতুন করে লিখেছেন। নিজের নামে ছাপা গল্প পড়তে গিয়ে তপন অন্যের লেখা লাইন পড়তে থাকে। এই ঘটনায় তপন অপমানিত ও লজ্জিত বোধ করে। তার নিজস্বতা বা সৃজনশীলতার কোনো মূল্যই সেখানে ছিল না। নিজের সৃষ্টির এই অমর্যাদা এবং অন্যের দয়ায় পাওয়া মেকি প্রশংসার গ্লানি তাকে এতটাই গ্রাস করেছিল যে, সেই আনন্দের দিনটিই তার কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিন হয়ে উঠেছিল।
৪.২ 'পথের দাবী' উপন্যাসের যে অংশ তোমাদের পাঠ্য, তা অনুসরণে অপূর্ব চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসের পাঠ্যাংশে অপূর্ব চরিত্রটি বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
১) **দেশপ্রেম ও আত্মসম্মানবোধ:** অপূর্ব একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি হলেও তার মধ্যে গভীর দেশপ্রেম ছিল। ফিরিঙ্গি যুবকদের হাতে অপমানিত হয়েও সে প্রতিবাদ করতে পারেনি, কিন্তু সেই অপমানের জ্বালা তাকে দগ্ধ করেছে। সে বলেছিল, "আমি ভীরু, কিন্তু তাই বলে অবিচারে দণ্ডভোগ করার অপমান আমাকে কম বাজে না।"
২) **বিশ্বাস ও ভক্তি:** অপূর্ব অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও ধর্মপরায়ণ ছিল। সে নিয়মিত আহ্নিক করত এবং স্পর্শদোষ বিচার করত।
৩) **সহমর্মিতা:** রামদাসের প্রতি তার বন্ধুত্ব এবং রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিকের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ তার চরিত্রের অন্যতম দিক। সে সব্যসাচীকে নিজের আত্মীয়ের চেয়েও আপন মনে করত।
৪) **ভীরুতা ও সাহসিকতার দ্বন্দ্ব:** অপূর্ব স্বভাবত ভীরু হলেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সুপ্ত বাসনা তার মধ্যে ছিল। সে পুলিশের হয়রানি এবং বিদেশিদের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করলেও মনে মনে ক্ষুব্ধ ছিল। সামগ্রিকভাবে, অপূর্ব পরাধীন ভারতের এক সংবেদনশীল ও বিবেকবান যুবকের প্রতিনিধি।
৫। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৫.১ 'প্রলয়োল্লাস' কবিতার সমকালীন ভারতবর্ষের পটভূমিকায় কবি নজরুল ইসলাসের যে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে তা বর্ণনা করো।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি যখন রচিত হয়, তখন ভারত ছিল ব্রিটিশ শাসনাধীন। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ভারতবাসী তখন স্বাধীনতার জন্য ছটফট করছে। কবি এই কবিতায় সেই পরাধীন ভারতবর্ষের জ্বালা এবং ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কবি ধ্বংসের দেবতা নটরাজ শিব বা কালবৈশাখী ঝড়ের রূপক ব্যবহার করে ভারতীয় তরুণ বিপ্লবীদের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেখেছেন যে, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, তাই তাকে ভেঙে ফেলা দরকার। তিনি বলেছেন, "তোরা সব জয়ধ্বনি কর", কারণ তিনি আসন্ন বিপ্লবের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। এই বিপ্লব বা 'প্রলয়' পুরনো ও অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে নতুন ও স্বাধীন ভারতের সূচনা করবে। কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে, "ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? / প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন"। অর্থাৎ, ধ্বংসের মধ্যেই নিহিত আছে নতুন সৃষ্টির বীজ। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক মুক্ত ও সুন্দর ভারত গড়ার স্বপ্ন এবং বিপ্লবীদের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনই এই কবিতার মূল উপজীব্য।
৫.২ সমুদ্রকন্যা পদ্মার চরিত্রবৈশিষ্ট্য 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশ অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মা এক অনন্য নারী চরিত্র। তাঁর চরিত্রের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:
১) **দয়া ও সেবাপরায়ণতা:** সমুদ্রতীরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা পঞ্চকন্যাকে দেখে পদ্মার হৃদয়ে দয়ার উদ্রেক হয়। তিনি তাদের মৃত মনে না করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তিনি ও তাঁর সখীরা মিলে দীর্ঘ সময় ধরে সেবা-শুশ্রূষা করে তাদের প্রাণ ফিরিয়ে আনেন।
২) **সৌন্দর্যবোধ:** পদ্মাবতীর রূপ দেখে পদ্মা মুগ্ধ হন। তিনি পদ্মাবতীকে স্বর্গের অপ্সরা বা বিদ্যাধরীর সঙ্গে তুলনা করেন। এই মুগ্ধতা থেকে তাঁর গভীর সৌন্দর্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
৩) **ধর্মভীরুতা:** পদ্মা বিধাতার প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি পঞ্চকন্যার জীবন রক্ষার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, "বিধি মোরে না কর নৈরাশ"।
৪) **কর্তব্যপরায়ণতা:** তিনি রাজকন্যা হয়েও নিজের হাতে অতিথি সেবার দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন। তাঁর এই বিনয়ী ও মানবিক রূপ তাঁকে এক মহীয়সী নারী চরিত্রে উন্নীত করেছে।
৬। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই"। তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন প্রবন্ধ অনুসরণে লেখো।
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক তাঁর ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে কালি তৈরির এক সহজ ও ঘরোয়া পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন।
কালি তৈরির প্রধান উপকরণ ছিল ভুসকালি। রান্নার সময় কড়াইয়ের নিচে যে ভুস বা ঝুল জমত, তা লাউপাতার উল্টো পিঠে ঘষে ঘষে সংগ্রহ করা হতো। এরপর একটি বাটিতে বা পাত্রে জল নিয়ে তাতে সেই ভুসকালি গুলে নেওয়া হতো। কালি যাতে সহজে উঠে না যায় বা টেকসই হয়, তার জন্য প্রাচীনরা বলতেন, "তিল ত্রিফলা শিমুল ছাল / ছাগ দুগ্ধে করি মেলা / লৌহ পাত্রে লোহায় ঘষি / ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি"। যদিও লেখকের অত আয়োজন ছিল না। তারা হরিতকী ও বহেড়া ঘষে সেই জলে মেশাতেন। কখনো কখনো আতপ চাল ভাজা করে পুড়িয়ে ও বেটে তাতে মেশানো হতো। সবশেষে একটি খুন্তি বা লোহার দণ্ড লাল করে পুড়িয়ে সেই কালির জলে 'ছ্যাঁকা' দেওয়া হতো। তারপর সেই মিশ্রণটি ন্যাকড়ায় ছেঁকে দোয়াতে ভরলেই তৈরি হতো ব্যবহারের উপযোগী কালি।
৬.২ 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধ অবলম্বনে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সমস্যাগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
১) **পরিভাষার অভাব:** বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের অনেক শব্দের সঠিক ও সর্বজনগ্রাহ্য পরিভাষা নেই। ফলে লেখকদের নতুন শব্দ তৈরি করতে হয় বা ইংরেজি শব্দই ব্যবহার করতে হয়, যা সাধারণ পাঠকের কাছে দুর্বোধ্য হতে পারে।
২) **পাঠকের শ্রেণিভেদ:** পাঠকদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—যারা ইংরেজি জানে এবং যারা জানে না। যারা ইংরেজি জানে, তারা ইংরেজি পরিভাষার সঙ্গে পরিচিত, কিন্তু বাংলা পরিভাষা তাদের কাছে খটমট লাগে। অন্যদিকে, যারা ইংরেজি জানে না, তাদের জন্য সহজ বাংলায় বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে।
৩) **রচনার শৈলী:** বিজ্ঞান রচনার ভাষা কেমন হবে, তা নিয়ে লেখকদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ কেউ সংস্কৃতঘেঁষা গুরুগম্ভীর ভাষা ব্যবহার করেন, আবার কেউ কেউ আক্ষরিক অনুবাদ করে ভাষাকে অস্পষ্ট করে তোলেন।
৪) **অলংকারের ব্যবহার:** বিজ্ঞান রচনায় অতিরিক্ত অলংকার বা উপমার ব্যবহার তথ্যের স্বচ্ছতা নষ্ট করে, যা অনেক লেখক বুঝতে পারেন না।
৭। কম-বেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "ওখানে কী দেখচ মূর্খ, বিবেকের দিকে চেয়ে দ্যাখো! বক্তা কে? 'মূর্খ' কাকে বলা হয়েছে? বক্তার কী ধরনের মনোভাব লক্ষ করা যায়?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এই উক্তিটির বক্তা হলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা। তিনি মীরজাফর ও অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে যারা দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে ছিল, তাদের 'মূর্খ' বলে সম্বোধন করেছেন।
এই উক্তির মাধ্যমে সিরাজের দেশপ্রেম এবং ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি ধিক্কার ফুটে উঠেছে। তিনি চেয়েছিলেন বিশ্বাসঘাতকরা নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুক। ক্ষমতার লোভ তাদের অন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতা হারালে যে সর্বনাশ হবে, তা তারা বুঝতে পারছে না। সিরাজ তাদের বিবেকের দংশন জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন এবং বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে অনেক বড়। তাঁর এই হতাশাপূর্ণ অথচ দৃঢ় উক্তিতে একজন দেশপ্রেমিক শাসকের অন্তর্বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
৭.২ "জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়। পলাশি, রাক্ষসী পলাশি!" কে বলেছেন? উক্তিটির মধ্য দিয়ে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: এই উক্তিটি করেছেন নবাব সিরাজদ্দৌলা।
সিরাজ বুঝতে পেরেছিলেন যে পলাশির প্রান্তরে আসন্ন যুদ্ধ কেবল একটি সাধারণ যুদ্ধ নয়, এটি বাংলার স্বাধীনতার ভাগ্য নির্ধারণকারী লড়াই। তিনি পলাশিকে 'রাক্ষসী' বলেছেন কারণ এই যুদ্ধক্ষেত্র বহু মানুষের রক্ত পান করবে। তিনি জানতেন, তাঁর নিজের সেনাপতিরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং ইংরেজরা শক্তিশালী। এই যুদ্ধে পরাজয় মানেই বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়া। আসন্ন ধ্বংসলীলা এবং রক্তপাতের আশঙ্কায় তিনি পলাশিকে এক ভয়ংকর রাক্ষসীর রূপে কল্পনা করেছেন, যে ক্ষুধার্ত হয়ে রক্তের জন্য অপেক্ষা করছে। এই উক্তির মধ্য দিয়ে সিরাজের গভীর উদ্বেগ, হতাশা এবং আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস ফুটে উঠেছে।
৮। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ২ = ১০)
৮.১ 'কোনি' উপন্যাস অবলম্বনে কোনি চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কনকচাঁপা পাল বা কোনি। সে এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, কিন্তু তার মধ্যে রয়েছে অদম্য জেদ ও লড়াই করার মানসিকতা।
১) **সংগ্রামী মানসিকতা:** দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনি আজীবন লড়াই করেছে। অভাবের সংসারে থেকেও সে স্বপ্ন দেখতে ভোলেনি।
২) **জেদি ও একগুঁয়ে:** কোনির চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার জেদ। ক্ষিতীশ সিংহের কঠোর প্রশিক্ষণ সে মুখ বুজে সহ্য করেছে, কারণ সে জানত তাকে সফল হতেই হবে।
৩) **অপমানের জবাব:** হিয়া মিত্র বা অমিয়ার মতো সাঁতারুদের কাছে অপমানিত হয়েও সে ভেঙে পড়েনি। বরং সেই অপমানকে সে নিজের শক্তিতে পরিণত করেছে এবং জলে তার জবাব দিয়েছে।
৪) **গুরুভক্তি:** প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের প্রতি তার অগাধ ভক্তি ও বিশ্বাস ছিল। ক্ষিতীশের 'ফাইট কোনি ফাইট' মন্ত্র তাকে জাতীয় স্তরের সাঁতারু হতে সাহায্য করেছিল। কোনি চরিত্রটি আসলে জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক লড়াকু সত্তার প্রতীক।
৮.২ "এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।" কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে? কী কারণে এই পুষে রাখা?
উত্তর: এখানে কোনির মনে জমে থাকা অপমান ও যন্ত্রণাকে পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে।
ক্ষিতীশ সিংহ চেয়েছিলেন কোনি তার দারিদ্র্য, বঞ্চনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেওয়া অপমানের জ্বালা ভুলে না গিয়ে বুকের মধ্যে জিইয়ে রাখুক। কারণ এই যন্ত্রণাই তাকে লড়াই করার শক্তি দেবে। যখনই সে ক্লান্ত হবে বা পিছিয়ে পড়তে চাইবে, তখন এই অপমানের স্মৃতি তাকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। ক্ষিতীশ জানতেন, সুখ বা আরাম মানুষকে অলস করে দেয়, কিন্তু যন্ত্রণা বা জেদ মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। তাই তিনি চেয়েছিলেন কোনি যেন সেই 'আগুন' নিভতে না দেয়। এই 'পুষে রাখা' যন্ত্রণা বা জেদই শেষ পর্যন্ত কোনিকে চ্যাম্পিয়ন করেছিল।
৮.৩ "চার বছরের মধ্যেই প্রজাপতি ডানা মেলে দিয়েছে।"-'প্রজাপতি' কী? কার তত্ত্বাবধানে কীভাবে প্রজাপতি ডানা মেলে দিয়েছে?
উত্তর: 'প্রজাপতি' হলো ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতীর তৈরি একটি দর্জির দোকান বা টেইলারিং শপ।
লীলাবতীর দক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং কঠোর পরিশ্রমে 'প্রজাপতি' উন্নতি করেছিল। ক্ষিতীশ সাঁতার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দোকানের দিকে নজর দিতে পারত না, ফলে ব্যবসা ডুবতে বসেছিল। লীলাবতী তখন নিজে হাল ধরে। সে নতুন নতুন ডিজাইনের ব্লাউজ, সায়া ও জামাকাপড় তৈরি শুরু করে। তার ব্যবহারে গ্রাহকরা সন্তুষ্ট হতো। সে কর্মচারীদের ঠিকমতো কাজ করাত এবং হিসেব-নিকেশ রাখত। তার ব্যবসায়িক বুদ্ধি ও নিষ্ঠার ফলে মাত্র চার বছরের মধ্যে ছোট দোকানটি বড় আকার ধারণ করে এবং বাজারে সুনাম অর্জন করে, অর্থাৎ 'ডানা মেলে' দেয়। এটি লীলাবতীর স্বাবলম্বী হওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
১০। কম-বেশি ১৫০ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ x ১ = ৫)
১০.১ অনলাইন গেমিং-এর শিকার হল কিশোর এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর:
অনলাইন গেমের নেশায় মর্মান্তিক পরিণতি: আত্মঘাতী কিশোর
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া, ২৫ জানুয়ারি: অনলাইন গেমের মারণ নেশা কেড়ে নিল আরও এক তরতাজা প্রাণ। গতকাল হাওড়ার এক আবাসন থেকে উদ্ধার হলো বছর পনেরোর এক কিশোরের ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন গেমে আসক্ত ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছিল সে। দিনরাত মোবাইলে মুখ গুঁজে গেম খেলত। সম্প্রতি গেমের জন্য বাবার ক্রেডিট কার্ড থেকে লুকিয়ে টাকা খরচ করে ফেলে। বিষয়টি জানাজানি হলে বাবা-মায়ের বকুনি খায়। অভিমানে সে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে দেখা যায় সে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে পড়েছে।
মনোবিদদের মতে, অনলাইন গেম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করছে। তারা বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং হতাশা বা ক্রোধের শিকার হচ্ছে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজর রাখা এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানো। এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল প্রযুক্তির অপব্যবহারের ভয়াবহ দিকটি।
১০.২ মাধ্যমিকের পর কী বিষয় নিয়ে পড়বে তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
উত্তর:
অয়ন: কিরে সৃজন, পরীক্ষা তো শেষ হলো। এবার কী নিয়ে পড়ার প্ল্যান করছিস?
সৃজন: ভাবছি সায়েন্স নেব। অঙ্ক আর ভৌতবিজ্ঞানটা আমার বেশ ভালো লাগে। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছে আছে। তুই কী ভাবছিস?
অয়ন: আমার তো সাহিত্যে বেশি ঝোঁক। তাই আমি আর্টস স্ট্রিমটাই বেছে নেব। বাংলা আর ইতিহাস নিয়ে উচ্চশিক্ষা করার ইচ্ছে।
সৃজন: ভালোই তো। আসলে যে বিষয়ে ইন্টারেস্ট আছে, সেটা নিয়েই পড়া উচিত। জোর করে সায়েন্স নিলে পরে মুশকিলে পড়তে হয়।
অয়ন: একদম ঠিক। তবে এখন থেকেই আমাদের একটু একটু করে প্রস্তুতি শুরু করা দরকার। আমি কিছু ভালো বইয়ের খোঁজ করছি।
সৃজন: হ্যাঁ, আমিও জয়েন্ট এন্ট্রান্সের জন্য কোচিংয়ের খোঁজ করছি। তবে রেজাল্ট বেরোনোর অপেক্ষাও করতে হবে।
অয়ন: ঠিক আছে, আপাতত কটা দিন একটু বিশ্রাম নেওয়া যাক।
সৃজন: হ্যাঁ, চল। পরে কথা হবে।
১১। কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করো। (১০)
১১.১ বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: বিজ্ঞান ও কুসংস্কার পরস্পরের বিরোধী। বিজ্ঞান যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাসের ওপর।
কুসংস্কারের স্বরূপ: তুকতাক, ঝাড়ফুঁক, বিড়ালের রাস্তা কাটা, শনিদশা ইত্যাদি নানা কুসংস্কারে মানুষ আচ্ছন্ন।
বিজ্ঞানের ভূমিকা: বিজ্ঞান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়। কার্যকারণ সম্পর্ক খুঁজতে সাহায্য করে। বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, মহাকাশ গবেষণা আজ কুসংস্কারের অন্ধকার দূর করছে।
বাস্তব চিত্র: তবুও সমাজে কুসংস্কার পুরোপুরি দূর হয়নি। শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও তাবিজ-কবচের ব্যবহার দেখা যায়।
প্রতিকার: কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে হবে। যুক্তিবাদী আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
উপসংহার: কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়তে বিজ্ঞানের আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। "যুক্তিই মুক্তি"- এই মন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে।
১১.২ বিশ্ব উষ্ণায়ন
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বের এক জ্বলন্ত সমস্যা হলো বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কারণ: ১) গ্রিনহাউস গ্যাসের (CO2, মিথেন) বৃদ্ধি। ২) জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক ব্যবহার। ৩) নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস। ৪) কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া।
ফলাফল: ১) মেরুপ্রদেশের বরফ গলে যাচ্ছে। ২) সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৩) জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি। ৪) জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
প্রতিকার: ১) প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ। ২) পরিবেশবান্ধব শক্তির (সৌরশক্তি) ব্যবহার। ৩) প্লাস্টিক ও কার্বন নিঃসরণ কমানো।
উপসংহার: পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে এখনই সচেতন হতে হবে। "গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও" হোক আমাদের স্লোগান।
১১.৩ বাংলার ঋতু বৈচিত্র্য
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: "বারো মাসে ছয় ঋতু"। বাংলার প্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঋতুবৈচিত্র্য।
ঋতুচক্র: ১) গ্রীষ্ম: রুদ্র রূপ, আম-কাঁঠালের সমারোহ। ২) বর্ষা: সজল মেঘ, কদম ফুল, কৃষিকাজ। ৩) শরৎ: নীল আকাশ, কাশফুল, দুর্গাপূজা। ৪) হেমন্ত: সোনালি ধান, নবান্ন উৎসব। ৫) শীত: কুয়াশা, পিঠে-পুলি, খেজুর রস। ৬) বসন্ত: ঋতুরাজ, পলাশ-শিমুল, কোকিলের গান।
প্রভাব: ঋতু বদলের সাথে সাথে বাঙালির জীবনযাত্রা, উৎসব ও সংস্কৃতি বদলে যায়।
উপসংহার: এমন বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তাই কবি বলেছেন, "বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।"
১১.৪ ছাত্র জীবনের সৌজন্য ও শিষ্টাচার
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতির সময়। কেবল বিদ্যা অর্জন নয়, চরিত্র গঠনও ছাত্রজীবনের লক্ষ্য। আর চরিত্রের ভূষণ হলো সৌজন্য ও শিষ্টাচার।
প্রয়োজনীয়তা: ১) ব্যক্তিত্বের বিকাশ: নম্র ও ভদ্র আচরণ মানুষকে শ্রদ্ধেয় করে তোলে। ২) সামাজিক সম্পর্ক: গুরুজনদের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করলে সমাজ সুন্দর হয়। ৩) শৃঙ্খলাবোধ: শিষ্টাচার মানুষকে সংযমী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ করে।
বর্তমান অবক্ষয়: বর্তমানে ছাত্রদের মধ্যে ঔদ্ধত্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা কাম্য নয়।
উপসংহার: "বিনীতস্য বিদ্যা"। বিনয় ছাড়া বিদ্যা শোভা পায় না। একটি সুস্থ সমাজ ও উন্নত জাতি গড়তে ছাত্রদের সৌজন্য ও শিষ্টাচার মেনে চলা একান্ত কর্তব্য।