১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করোঃ (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ "ওই চোখ কি হরিদার চোখ হতে পারে"-বক্তা কে?
(ক) ভবতোষ
(খ) জগদীশবাবু
(গ) অনাদি
(ঘ) বিরাগী
উত্তর: (ক) ভবতোষ
১.২ "ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিলেন"- ক্ষণকাল মৌন ছিলেন-
(ক) গিরিশ মহাপাত্র
(খ) নিমাইবাবু
(গ) জগদীশবাবু
(ঘ) তলোয়ারকর
উত্তর: (খ) নিমাইবাবু
১.৩ পান্নালাল প্যাটেল 'জ্ঞানপীঠ' পুরস্কার লাভ করেন-
(ক) ১৯৭৫ সালে
(খ) ১৯৬৫ সালে
(গ) ১৯৭৭ সালে
(ঘ) ১৯৮৫ সালে
উত্তর: (ঘ) ১৯৮৫ সালে
১.৪ "আমাদের কথা কে-বা জানে / আমরা ফিরেছি..."
(ক) দোরে দোরে
(খ) কাছে দূরে
(গ) দূরে দূরে
(ঘ) অনেক দূরে
উত্তর: (ক) দোরে দোরে
১.৫ "জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন"-কে আসছে?
(ক) নবীন
(খ) চিরসুন্দর
(গ) মহাকাল সারথি
(ঘ) মুমূর্ষু
উত্তর: (ক) নবীন
১.৬ বৃহন্নলারূপী কিরীটির গোধন উদ্ধারের সঙ্গী ছিলেন-
(ক) বিরাটপুত্র
(খ) পবনপুত্র
(গ) রাবণপুত্র
(ঘ) চিত্রাঙ্গদাপুত্র
উত্তর: (ক) বিরাটপুত্র
১.৭ 'কায়স্থ' আর 'রাজপুত' চেনা যায় যথাক্রমে-
(ক) কলম ও গায়ের রঙে
(খ) কলম ও গোঁফে
(গ) আভিজাত্য ও গোঁফে
(ঘ) গোঁফে ও কলমে
উত্তর: (খ) কলম ও গোঁফে
১.৮ 'পাশ্চাত্য পাঠকের তুলনায় তার পক্ষে একটু বেশি চেষ্টা আবশ্যক'- এখানে 'তার' বলতে যার কথা বোঝানো হয়েছে।
(ক) ইংরেজি না-জানা পাঠক
(খ) বাংলা না-জানা পাঠক
(গ) ইংরেজি জানা পাঠক
(ঘ) বাংলা জানা পাঠক
উত্তর: (ক) ইংরেজি না-জানা পাঠক
১.৯ "অনেক ধরে ধরে টাইপরাইটারে লিখে গেছেন মাত্র একজন" - তিনি হলেন-
(ক) সত্যজিৎ রায়
(খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
(গ) রাজশেখর বসু
(ঘ) সুবোধ ঘোষ
উত্তর: (খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
১.১০ 'শুনি টঙ্কার তাহার পিনাকে'- নিম্নরেখ পদটি হল-
(ক) কর্তৃকারক
(খ) অপাদান কারক
(গ) করণ কারক
(ঘ) অধিকরণ কারক
উত্তর: (খ) অপাদান কারক
১.১১ 'আমার আজ আর আপিস যাওয়া হলই না।'-এখানে 'আমার' হল-
(ক) অনুক্ত কর্তা
(খ) নিরপেক্ষ কর্তা
(গ) কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা
(ঘ) উহ্য কর্তা
উত্তর: (ক) অনুক্ত কর্তা
১.১২ 'ছন্নমতি'-সমস্ত পদটির সমাসের নাম-
(ক) বহুব্রীহি সমাস
(খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) তৎপুরুষ সমাস
(ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর: (ক) বহুব্রীহি সমাস
১.১৩ 'অন্নসুধার মতো'- এখানে 'অন্ন' ও 'সুধা' হল যথাক্রমে-
(ক) উপমেয় ও উপমান
(খ) উপমান ও উপমেয়
(গ) উপমেয় ও সাধারণ ধর্ম
(ঘ) উপমান ও সাধারণ ধর্ম
উত্তর: (ক) উপমেয় ও উপমান
১.১৪ "এই অন্তরমহলে মানুষের যে মিলন, সেই মিলনই সত্য মিলন।" - গঠন অনুসারে বাক্যটি হল-
(ক) সরল বাক্য
(খ) জটিল বাক্য
(গ) যৌগিক বাক্য
(ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর: (খ) জটিল বাক্য
১.১৫ "এস আমার দৈন্যমাঝে রাজার সাজে।" অর্থগত দিক থেকে বাক্যটি হল-
(ক) প্রার্থনাসূচক
(খ) অনুজ্ঞাসূচক
(গ) নির্দেশক
(ঘ) শর্তসাপেক্ষ
উত্তর: (ক) প্রার্থনাসূচক
১.১৬ যে বাচ্যের ক্রিয়াটি সবসময় হ-ধাতুনিষ্পন্ন অকর্মিকা ক্রিয়া এবং মধ্যম ও প্রথম পুরুষে একই রূপে থাকে সেটি-
(ক) কর্তৃবাচ্য
(খ) কর্মবাচ্য
(গ) ভাববাচ্য
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর: (গ) ভাববাচ্য
১.১৭ 'কিছুই বলা যাচ্ছে না।' > 'কিছুই বলতে পারছি না।'-এখানে যে বাচ্যান্তর ঘটেছে তা হল-
(ক) ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
(খ) কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
(গ) কর্মবাচ্য থেকে ভাববাচ্য
(ঘ) কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
উত্তর: (ক) ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
২। কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ
২.১। যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "ইসাবের মনে পড়ল"-ইসাবের কী মনে পড়েছিল?
উত্তর: ইসাবের মনে পড়েছিল যে অমৃতের মতো তার মা নেই যে তাকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচাবে, আর জামা ছিঁড়লে তার বাবা তাকে খুব মারবে।
২.১.২ "সত্যিই যে বিশ্বাস করতে পারছি না"- বক্তা কী বিশ্বাস করতে পারছে না?
উত্তর: 'বহুরূপী' গল্পে অনাদি বিশ্বাস করতে পারছিল না যে হরিদার মতো একজন গরিব মানুষ জগদীশবাবুর দেওয়া অতগুলো টাকা (১০১ টাকা) হেলায় প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
২.১.৩ "আমার ইচ্ছা তুমি একবার সবগুলো দেখে আস।"-এখানে কী দেখে আসার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: 'পথের দাবী' উপন্যাসে জগদীশবাবু অপূর্বকে ভামো, মিকথিলা, শোয়েবো, মান্দালয় ও প্রোম-এর অফিসগুলো একবার দেখে আসার কথা বলেছিলেন।
২.১.৪ "তাহার উচিত হয় নাই।" কার কী করা উচিত হয়নি?
উত্তর: 'পথের দাবী' উপন্যাসে রামদাস তলোয়ারকর মনে করেছিলেন যে, নিমাইবাবু আপন হওয়া সত্ত্বেও তিনি অপূর্বকে যেভাবে পুলিশ স্টেশনে খানাতল্লাশি বা সন্দেহ করেছিলেন, সেটা তাঁর উচিত হয়নি।
২.১.৫ "উনি ঘোষণা করলেন"-কে কী ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: 'অদল বদল' গল্পে গ্রামের প্রধান বা সমাজপতি ঘোষণা করেছিলেন যে, আজ থেকে অমৃত ও ইসাবকে গ্রামের সবাই 'অদল বদল' বলে ডাকবে।
২.২। যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন"-পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেল?
উত্তর: পদ্মা ও তাঁর সখীদের দীর্ঘ চারদণ্ড ধরে সেবা-শুশ্রূষা ও চিকিৎসার ফলে পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেয়েছিল।
২.২.২ "সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে” কী কী চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে গিয়েছিল?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কবির মিষ্টি বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি এবং প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে গিয়েছিল।
২.২.৩ "স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে"- স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন কেন?
উত্তর: কারণ স্রষ্টা তাঁর নতুন সৃষ্টিকে (পৃথিবী/আফ্রিকা) বারবার ভাঙছিলেন আর গড়ছিলেন, যা তাঁর মনের মতো হচ্ছিল না।
২.২.৪ "হা ধিক্ মোরে!"-বক্তা কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন?
উত্তর: লঙ্কার এই ঘোর সংকটের সময়, যখন শত্রু রামচন্দ্র লঙ্কা ঘিরে ফেলেছে, তখন বীর ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ উদ্যানে নারীদের মাঝে সময় কাটাচ্ছেন- এই কথা ভেবে তিনি নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন।
২.২.৫ "তবু তো ক'জন আছি বাকি"- কবির একথা বলার কারণ কী?
উত্তর: যুদ্ধের ভয়াবহতা, মহামারী ও অবক্ষয়ের পরেও যে কয়েকজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বা সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ বেঁচে আছেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে কবি একথা বলেছেন।
২.৩। যে-কোনো ৩টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ "বড়োরা শিখিয়ে দিয়েছিলেন - বড়োরা কী শিখিয়ে দিয়েছিলেন?
উত্তর: বাঁশের কঞ্চিকে কলম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সেটিকে আড়াআড়িভাবে কাটার পর, কালির সুবিধা হওয়ার জন্য মাঝখানে একটি চেরা (slit) রাখার কায়দাটি বড়োরা শিখিয়ে দিয়েছিলেন।
২.৩.২ "কিন্তু তাও কেউ কেউ লিখে থাকেন"- কী লেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বর্তমানে অনেকে কম্পিউটার বা টাইপরাইটারে লিখলেও, কেউ কেউ এখনও কলমে সাহিত্য রচনা করে থাকেন (যেমন সত্যজিৎ রায়, সুবোধ ঘোষ)- তাঁদের কথাই বলা হয়েছে।
২.৩.৩ "কলম সেদিন খুনিও হতে পারে বইকি”- কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে লেখো
উত্তর: রোম সাম্রাজ্যের অধিপতি জুলিয়াস সিজার যখন কাসকাকে তাঁর হাতের স্টাইলাস বা ব্রোঞ্জের শলাকা (কলম) দিয়ে আঘাত করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গে লেখক শ্রীপান্থ একথা বলেছেন।
২.৩.৪ "তাদের নতুন করে শিখতে হচ্ছে"-কী শেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যারা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করতে বা লিখতে আসছেন, তাদের নতুন করে বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ও রচনার পদ্ধতি শিখতে হচ্ছে।
২.৪। যে-কোনো ৮টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ ব্যতিহার কর্তা কাকে বলে?
উত্তর: বাক্যের মধ্যে দুটি কর্তা যখন পরস্পর একই জাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তখন তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে। (যেমন- রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়)।
২.৪.২ সমধাতুজ করণের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: 'কী বাঁধনে বাঁধলে আমায়।' (এখানে 'বাঁধন' করণ কারকটি 'বাঁধলে' ক্রিয়ার ধাতু থেকে উৎপন্ন)।
২.৪.৩ কপোতাক্ষ-পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: কপোতের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যার = কপোতাক্ষ (মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস)।
২.৪.৪ নীচের ব্যাসবাক্যটি সমাসবদ্ধ করে তার শ্রেণি নির্ণয় করো- বর দান করেন যিনি।
উত্তর: বরদ (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
২.৪.৫ 'ইন্দ্র আশ্বাস দিলেও আমি রাজি হইলাম না।"-যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: ইন্দ্র আশ্বাস দিলেন কিন্তু আমি রাজি হইলাম না।
২.৪.৬ 'তখন ধীরে ধীরে সমস্ত বিষয়টাই পরিস্ফুট হইয়া উঠিল।'- নঞর্থকবাক্যে রূপান্তর করো
উত্তর: তখন ধীরে ধীরে সমস্ত বিষয়টাই অপরিষ্কার বা অস্পষ্ট রইল না।
২.৪.৭ 'আপনারা এখন কি ভবানীপুরেই থাকেন'?- ভাববাচ্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: আপনাদের এখন কি ভবানীপুরেই থাকা হয়?
২.৪.৮ কর্মকর্তৃবাচ্যের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: শাঁখ বাজে।
২.৪.৯ আসত্তিহীন একটি বাক্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর: মাঠে ঘাস গোরু খাচ্ছে। (সঠিক: গোরু মাঠে ঘাস খাচ্ছে)।
২.৪.১০ কোন বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও উত্তরপদ পৃথক বিভক্তিযুক্ত হয়?
উত্তর: ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসে (যেমন- বীণাপাণি)।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাওঃ (৩ + ৩ = ৬)
৩.১। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৩ x ১ = ৩)
৩.১.১ "কৈ এ ঘটনা তো আগে বলেননি - কে কাকে একথা বলেছে? এখানে কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: 'পথের দাবী' উপন্যাসে নিমাইবাবু অপূর্বকে একথা বলেছেন।
অপূর্বর বাসায় চুরির ঘটনার কথা এখানে বলা হয়েছে। অপূর্বর অনুপস্থিতিতে তার বাসার তালা ভেঙে চোরেরা টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। এই চুরির বিষয়েই নিমাইবাবু আগে জানতেন না বলে জানিয়েছেন।
৩.১.২ 'হঠাৎ ভয়ানক একটা উত্তেজনা অনুভব করে'- বক্তার উত্তেজনার কারণ কী? উত্তেজিত হয়ে বক্তা কী করেছিল?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদ নদীর জলস্তর বেড়ে ব্রিজের ইট-সিমেন্টের গাঁথনিকে স্পর্শ করতে দেখে উত্তেজিত হয়েছিল।
উত্তেজিত হয়ে নদেরচাঁদ পকেট থেকে নিজের স্ত্রীর লেখা বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠিটি বের করে নদীর ক্ষ্যাপা স্রোতের মধ্যে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। সে মনে করেছিল নদীটি যেন জীবন্ত সত্তা, তাই চিঠিটি সে নদীকেই অর্পণ করল।
৩.২। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৩ x ১ = ৩)
৩.২.১ 'তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারলো না'-'তারা' বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তারা স্বপ্ন দেখতে পারলো না কেন?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় 'তারা' বলতে শান্ত হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে, যারা হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে ছিলেন।
যুদ্ধের ভয়াবহতায় মন্দির ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দেবতাদের মূর্তিগুলো টুকরো টুকরো হয়ে উল্টে পড়েছিল। তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার ফলে এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার কারণে তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।
৩.২.২ ধ্বংস 'দেখে ভয় কেন তোর'-, ধ্বংসকে ভয় না পাওয়ার কারণটি বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি ধ্বংসকে ভয় পেতে বারণ করেছেন। কারণ ধ্বংসের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির বীজ নিহিত থাকে। কালবৈশাখীর ঝড়ের পরেই যেমন প্রকৃতির প্রশান্তি আসে, তেমনি বিপ্লবের ধ্বংসলীলার পরেই জরাজীর্ণ সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও সুন্দর সমাজ গঠিত হবে। তাই ধ্বংস আসলে মঙ্গলের বা নবজন্মের বার্তা নিয়ে আসে।
৪। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৫ x ১ = ৫)
৪.১ 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে'- বক্তা কার সম্পর্কে এ কথা বলেছেন? তার স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় দাও।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে পুলিশ স্টেশনের বড়বাবু নিমাই রায় গিরিশ মহাপাত্র সম্পর্কে এ কথা বলেছেন।
গিরিশ মহাপাত্রের স্বাস্থ্য ছিল অত্যন্ত ভগ্ন। তার শরীর দেখে মনে হতো আয়ু আর বেশিদিন নেই। কাশির সঙ্গে তার হাঁপানির টান ছিল। কিন্তু এই ভগ্ন স্বাস্থ্যের মধ্যেও তার শৌখিনতা বা শখ ছিল দেখার মতো। তার মাথায় ছিল চেরা সিঁথি, চুলে লেবুর তেলের গন্ধ। গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, তার বুকপকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল। পায়ে ছিল সবুজ রঙের মোজা ও বার্নিশ করা পাম্প-শু। হাতে ছিল হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেত। এছাড়া তার কাছে গাঁজার কলকে পাওয়া গেলেও সে দাবি করেছিল যে সে গাঁজা খায় না, কিন্তু অন্যের উপকারের জন্য রাখে। তার এই অদ্ভুত পোশাক-পরিচ্ছদ ও শৌখিনতা তার অসুস্থ শরীরের সঙ্গে ছিল সম্পূর্ণ বেমানান।
৪.২ 'তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যাবে।'- বক্তা কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন? এই উক্তির আলোকে বক্তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে হরিদা জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা প্রণামী প্রত্যাখ্যান করার প্রসঙ্গে এ কথা বলেছিলেন। বিরাগীর বেশে তিনি টাকা স্পর্শ করতে চাননি।
এই উক্তির মাধ্যমে হরিদার চরিত্রের দুটি দিক ফুটে ওঠে- ১) নির্লোভ মানসিকতা ও ২) শিল্পীসত্তা। হরিদা অত্যন্ত গরিব মানুষ, অভাব তাঁর নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তিনি যখন কোনো চরিত্রে অভিনয় করেন, তখন তিনি সেই চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান। বিরাগী বা সন্ন্যাসী সেজে টাকার প্রতি লোভ দেখালে তাঁর অভিনয়ের বিশুদ্ধতা বা 'ঢং' নষ্ট হয়ে যেত। তিনি বিশ্বাস করতেন, অর্থের চেয়ে শিল্পের মর্যাদা অনেক বেশি। তাই চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি তাঁর শিল্পীসত্তাকে বিসর্জন দেননি। এই সততা ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠাই হরিদাকে একজন প্রকৃত শিল্পীর মর্যাদায় আসীন করেছে।
৫। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৫ x ১ = ৫)
৫.১ "তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান / নদীতে, দেশগাঁয়ে" কার কোন রচনার অংশ? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তব্যটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটি জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার অংশ।
কবি এখানে অস্ত্র বা হিংসার বিরুদ্ধে গানের বা সৃজনশীলতার শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। গান হলো মানুষের মনের কোমল অনুভূতি ও ভালোবাসার প্রকাশ। কবি বলেছেন, যে মানুষ গানের বর্ম গায়ে চাপাবে, গান তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করবে। গান কেবল শহুরে বা শিক্ষিত মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে পড়বে নদীতে, গ্রামে-গঞ্জে, সাধারণ মানুষের মাঝে। ঋষি বালকের মতো সহজ-সরল গানের সুরে অস্ত্রধারী বা যুদ্ধবাজ মানুষও হার মানতে বাধ্য হবে। রক্তমাখা অস্ত্রের বিপরীতে গানই পারে পৃথিবীকে শান্ত ও সুন্দর করে তুলতে। গানের এই সর্বব্যাপী ও সর্বজয়ী ক্ষমতাকেই কবি এখানে তুলে ধরেছেন।
৫.২ "দেখিয়া রূপের কলা বিস্মিত হইল বালা”- উদ্ধৃত অংশের 'বালা' কে? পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে বালার সৌন্দর্যপ্রীতির পরিচয় দাও।
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'বালা' বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মার কথা বলা হয়েছে।
সমুদ্রের তীরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা পদ্মাবতীকে দেখে পদ্মা বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়েছিলেন। পদ্মাবতীর রূপ ছিল অতুলনীয়। তাঁর কেশরাশি দেখে মনে হচ্ছিল যেন কালো মেঘে বিদ্যুৎ খেলছে। তাঁর মুখের সৌন্দর্যকে পদ্মা স্বর্গের অপ্সরা রম্ভার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পদ্মাবতীর এই অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পদ্মা ভেবেছিলেন, হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে কোনো স্বর্গভ্রষ্টা বিদ্যাধরী মর্ত্যে পতিত হয়েছেন। পদ্মার এই মুগ্ধ দৃষ্টি ও বর্ণনা থেকে তাঁর গভীর সৌন্দর্যবোধ ও নান্দনিক মনের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি কেবল রূপ দেখেই ক্ষান্ত হননি, সেই রূপবতী কন্যাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন।
৬। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন।" ফাউন্টেন পেনের স্রষ্টা কে? বাংলায় কে এই পেনের নামকরণ করেছিলেন? ফাউন্টেন পেনের জন্মবৃত্তান্তটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ফাউন্টেন পেনের স্রষ্টা হলেন লুইস এডস ওয়াটারম্যান। বাংলায় এই পেনের নাম 'ঝরনা কলম' দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে ফাউন্টেন পেনের জন্মবৃত্তান্তটি বেশ মজাদার। ওয়াটারম্যান ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। একদিন তিনি একটি চুক্তিপত্রে সই করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দোয়াত থেকে কালি নিতে গিয়ে কালি উল্টে পড়ে দলিলটি নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আবার নতুন কালি ও কাগজ আনতে গেলেন, কিন্তু ফিরে এসে দেখলেন অন্য একজন ব্যবসায়ী সেই চুক্তি সই করে ফেলেছেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও অপমানিত হয়ে ওয়াটারম্যান প্রতিজ্ঞা করলেন যে তিনি এমন এক কলম তৈরি করবেন যাতে বারবার দোরাতে ডুবোতে হবে না। এই জেদ থেকেই তিনি আবিষ্কার করলেন রিজার্ভার পেন বা ফাউন্টেন পেন, যার পেটের ভেতর কালি জমানো থাকে।
৬.২ বাংলা 'ভাষায় বিজ্ঞান' রচনায় প্রাবন্ধিক বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে যেসব অসুবিধার কথা বলেছেন তা আলোচনা করো।
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার বেশ কিছু অসুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন।
১) পরিভাষার অভাব: বাংলায় বিজ্ঞানের সব শব্দের সঠিক পরিভাষা নেই।
২) ইংরেজি জানা পাঠক: অনেক পাঠক ইংরেজি জানে, তাই বাংলা পরিভাষা তাদের কাছে খটমট লাগে। আবার যারা ইংরেজি জানে না, তাদের জন্য সহজ করে বোঝানো কঠিন।
৩) আক্ষরিক অনুবাদ: অনেক লেখক ইংরেজি থেকে সরাসরি আক্ষরিক অনুবাদ করেন, ফলে ভাষা অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য হয়ে যায়।
৪) বৈজ্ঞানিক শৈলী: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার কোনো নির্দিষ্ট ও সহজ শৈলী বা পদ্ধতি এখনও গড়ে ওঠেনি।
৫) অলংকারের ব্যবহার: বিজ্ঞান রচনায় অতিরিক্ত উপমা বা অলংকার ব্যবহার করলে তথ্যের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়, যা অনেক লেখক বুঝতে পারেন না।
৭। কম-বেশি ১২৫টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয় - মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।'- উদ্ধৃতাংশটির আলোকে বক্তার দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিবোধের পরিচয় দাও।
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা এই উক্তিটি করেছিলেন।
সিরাজদ্দৌলা বুঝেছিলেন যে বিদেশি শত্রু ইংরেজদের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে হলে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি ধর্ম বা জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাকে ভালোবেসেছিলেন। তিনি মনে করতেন, বাংলা হলো হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাধনার ফল। তাঁর কাছে দেশপ্রেম মানে ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। তিনি তাঁর সেনাপতি ও সভাসদদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, ধর্ম আলাদা হলেও জন্মভূমি এক। তাই বিপদের দিনে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই উক্তির মধ্যে তাঁর উদার অসাম্প্রদায়িক মন ও গভীর দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে।
৭.২ "বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা”- বক্তা কে? বক্তার এমন উক্তির কারণ কী?
উত্তর: বক্তা হলেন নবাব সিরাজদ্দৌলা।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের ষড়যন্ত্রে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অন্যদিকে, সিরাজের নিজের আত্মীয় ঘসেটি বেগম এবং প্রধান সেনাপতি মীরজাফর বিশ্বাসঘতকতা করে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। সিরাজ বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি চারদিক থেকে শত্রুর দ্বারা পরিবেষ্টিত। বাংলার স্বাধীনতার শেষ প্রদীপটি নিভে যাওয়ার আশঙ্কা এবং আসন্ন যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবেই তিনি এই উক্তি করেছিলেন। তিনি জানতেন, এই 'দুর্যোগ' বা বিপদ কেবল তাঁর সিংহাসনের নয়, সমগ্র বাংলার স্বাধীনতার।
৮। কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দু'টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৫ x ২ = ১০)
৮.১ 'সাঁতারু অনেক বড়ো সেনাপতির থেকে'- উক্তিটি কার? উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে উক্তিটি করেছেন সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ।
ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে অনুপ্রাণিত করার জন্য এই কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, একজন সেনাপতি হাজার হাজার সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ করেন, কিন্তু একজন সাঁতারু জলের মধ্যে একা লড়াই করে। সেনাপতির সাহায্যকারী থাকে, কিন্তু সাঁতারুকে নিজের বাহুবল ও মনের জোরের ওপর নির্ভর করে প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে একাই লড়তে হয়। জলের মধ্যে যখন দম ফুরিয়ে আসে, শরীর অবশ হয়ে আসে, তখন তাকে একাই সেই কষ্ট সহ্য করে এগিয়ে যেতে হয়। এই লড়াই কেবল শারীরিক নয়, মানসিকও বটে। ক্ষিতীশ কোনিকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, জীবন যুদ্ধে বা সাঁতারে জয়ী হতে হলে তাকে একাই লড়তে হবে এবং সেই লড়াই একজন সেনাপতির চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ও সম্মানের।
৮.২ 'কোনি' উপন্যাসে বিষ্টু ধরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর: 'কোনি' উপন্যাসে বিষ্টু ধর একজন উল্লেখযোগ্য পার্শ্বচরিত্র।
১) ভোজনরসিক: বিষ্টু ধর অত্যন্ত ভোজনরসিক। তিনি খেতে খুব ভালোবাসেন এবং তাঁর শরীরও বেশ স্থূল।
২) ধনী ব্যবসায়ী: তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী এবং বেশ বিত্তশালী।
৩) ক্রীড়ামোদী: শরীর ভারী হলেও তিনি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী। তিনি জুপিটার ক্লাবের সদস্য এবং সাঁতারের খবর রাখেন।
৪) ক্ষিতীশের হিতাকাঙ্ক্ষী: বিষ্টু ধর ক্ষিতীশ সিংহের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জুপিটার ক্লাবের রাজনীতির শিকার হয়ে ক্ষিতীশ যখন অপমানিত হন, তখন বিষ্টু ধর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ক্ষিতীশের স্পিচ বা বক্তৃতার প্রশংসা করতেন এবং তাঁকে নানাভাবে সাহায্য করতেন।
৫) সহজ-সরল: ধনী হলেও তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। তিনি বেশ আমুদে ও সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।
৮.৩ "এই মুহূর্তে সে বুঝল তার মাথা থেকে মুকুট তুলে নিয়েছে হিয়া"- কার কথা বলা হয়েছে? সে কীভাবে এই উপলব্ধিতে উপনীত হল তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: এখানে তৎকালীন বাংলার এক নম্বর সাঁতারু অমিয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় হিয়া মিত্র যখন অমিয়াকে হারিয়ে দেয়, তখন অমিয়া এই সত্যটি উপলব্ধি করে। অমিয়া ছিল অহংকারী এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গর্বিত। সে কোনি বা হিয়া কাউকেই পাত্তা দিত না। কিন্তু যখন হিয়া তাকে সাঁতারে পরাজিত করল, তখন অমিয়া বুঝতে পারল যে তার দিন শেষ হয়েছে। চ্যাম্পিয়নের 'মুকুট' বা খেতাব এখন হিয়ার দখলে। নিজের পরাজয় মেনে নেওয়া তার পক্ষে কঠিন ছিল, কিন্তু খেলার ফলাফলে তা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা অমিয়ার দম্ভ চূর্ণ করে দিয়েছিল।
১০। কম-বেশি ১৫০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (৫ x ১ = ৫)
১০.১ 'যত্রতত্র নোংরা আবর্জনা ফেলা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ'- এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর:
যত্রতত্র আবর্জনা: দূষণের বিষবাষ্পে শ্বাসকষ্টে শহর
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১৫ জানুয়ারি: শহরের যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার অভ্যাস পরিবেশ দূষণের এক অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাট, নর্দমা, এমনকি পার্কের কোণাতেও প্লাস্টিক, থার্মোকল ও পচা খাবারের স্তূপ। এর ফলে শুধু যে দৃশ্যদূষণ হচ্ছে তা নয়, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে এবং নর্দমা বুজিয়ে জল জমার সমস্যা তৈরি করছে। পুরসভার পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে। খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলার ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে, যা ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়াচ্ছে।
প্রশাসনের উচিত আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া। 'স্বচ্ছ ভারত' অভিযানের সফল রূপায়ণের জন্য আমাদের সকলকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা এবং পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা এখন সময়ের দাবি।
১০.২ কম্পিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
উত্তর:
অয়ন: কিরে রাজীব, শুনলাম তুই নাকি কম্পিউটার ক্লাসে ভর্তি হয়েছিস?
রাজীব: হ্যাঁ রে, এখন তো কম্পিউটার ছাড়া কিছুই চলে না। তাই ভাবলাম বেসিকটা শিখে রাখি।
অয়ন: ঠিকই বলেছিস। এখন তো স্কুল-কলেজের প্রজেক্ট থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের কাজ, সব কিছুই অনলাইনে হচ্ছে।
রাজীব: শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রেও কম্পিউটার জানাটা মাস্ট। কোডিং বা প্রোগ্রামিং জানলে তো কথাই নেই।
অয়ন: আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তো পৃথিবীর যেকোনো তথ্য নিমেষে পাওয়া যায়। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও খুব সুবিধা হয়।
রাজীব: একদম। তবে এর অপব্যবহার থেকেও সাবধান থাকতে হবে। গেম খেলে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট না করে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত।
অয়ন: তুই ঠিক বলেছিস। আমিও ভাবছি আগামী মাস থেকে ভর্তি হব।
রাজীব: খুব ভালো হবে। চল একসঙ্গে ক্লাস করব।
১১। কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা করোঃ (১০)
১১.১ পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: মানুষের অবৈজ্ঞানিক ক্রিয়াকলাপের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়াই হলো পরিবেশ দূষণ।
প্রকারভেদ: বায়ুদূষণ, জলদূষণ, শব্দদূষণ, মৃত্তিকাদূষণ।
কারণ: ১) নির্বিচারে গাছ কাটা। ২) শিল্পায়ন ও নগরায়ন। ৩) যানবাহনের ধোঁয়া। ৪) প্লাস্টিকের ব্যবহার। ৫) রাসায়নিক সারের প্রয়োগ।
প্রভাব: ১) বিশ্ব উষ্ণায়ন। ২) ওজোন স্তরে ছিদ্র। ৩) মেরুপ্রদেশের বরফ গলা। ৪) নানারকম মারণ রোগ।
প্রতিকার: ১) প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ। ২) প্লাস্টিক বর্জন। ৩) বিকল্প শক্তির (সৌরশক্তি) ব্যবহার। ৪) পরিবেশ আইন কঠোরভাবে মেনে চলা।
উপসংহার: পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে আমাদের পরিবেশ সচেতন হতে হবে। "গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও"- এই মন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে।
১১.২ শিক্ষা বিস্তারে গণমাধ্যমের ভূমিকা
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: গণমাধ্যম বা মাস মিডিয়া (সংবাদপত্র, রেডিও, টিভি, ইন্টারনেট) বর্তমান যুগে শিক্ষার অন্যতম হাতিয়ার।
ভূমিকা: ১) তথ্য সরবরাহ: দেশ-বিদেশের খবর ও জ্ঞান নিমেষে পৌঁছে দেয়। ২) দূরশিক্ষা: টিভিতে বা ইন্টারনেটে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরে বসে শিক্ষালাভ সম্ভব। ৩) সচেতনতা বৃদ্ধি: স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক বিষয়ে সচেতন করে। ৪) বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা: ডকুমেন্টারি বা শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র।
নেতিবাচক দিক: অপসংস্কৃতি বা ভুল তথ্য প্রচারের ভয় থাকে।
উপসংহার: প্রথাগত শিক্ষার বাইরে গণমাধ্যম এক বিশাল শিক্ষাঙ্গন। এর সঠিক ব্যবহার সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
১১.৩ একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: "পর্যটন যে কেবল আনন্দ দেয় তা নয়, শিক্ষাও দেয়।" ভ্রমণের নেশা মানুষকে ঘরছাড়া করে।
যাত্রার বিবরণ: গত শীতের ছুটিতে দার্জিলিং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। শিয়ালদহ থেকে ট্রেন যাত্রা, নিউ জলপাইগুড়ি হয়ে পাহাড়ি রাস্তায় জিপে চড়া।
দর্শনীয় স্থান: ১) টাইগার হিলে সূর্যোদয়। ২) বাতাসিয়া লুপ। ৩) ঘুম স্টেশন। ৪) চা বাগান ও ম্যাল।
অভিজ্ঞতা: কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখে মুগ্ধ হওয়া। পাহাড়ি মানুষদের সরল জীবনযাত্রা দেখা।
উপসংহার: এই ভ্রমণ আমার মনের ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি জুগিয়েছে। স্মৃতিতে আজও তা অমলিন।
১১.৪ বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য
(সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো)
ভূমিকা: রূপসী বাংলার প্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঋতুবৈচিত্র্য। বারো মাসে ছয় ঋতুর খেলা চলে এখানে।
ছয় ঋতু: ১) গ্রীষ্ম: রুদ্র রূপ, কালবৈশাখী, আম-জাম। ২) বর্ষা: সজল মেঘ, কদম ফুল, কৃষিকাজ। ৩) শরৎ: নীল আকাশ, কাশফুল, দুর্গাপূজা। ৪) হেমন্ত: নবান্ন উৎসব, সোনালি ধান। ৫) শীত: কুয়াশা, পিঠে-পুলি, খেজুর রস। ৬) বসন্ত: ঋতুরাজ, কোকিলের গান, পলাশ ফুল।
প্রভাব: বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জনজীবনে ঋতুবৈচিত্র্যের গভীর প্রভাব রয়েছে।
উপসংহার: এমন বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তাই কবি বলেছেন, "বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।"