বিভাগ 'ক' : সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (১ x ১৭ = ১৭)
১.১ নকল পুলিশ সেজে হরিদা মাস্টারমশায়ের কাছ থেকে কত ঘুষ নিয়েছিলেন?
ক) চার আনা
খ) আট আনা
গ) এক টাকা
ঘ) দু'টাকা
উত্তর: খ) আট আনা
১.২ "লল্লাটের লেখা তো খণ্ডাবে না।" বক্তা কে?
ক) জগদীশবাবু
খ) রামদাস
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) অপূর্ব
উত্তর: গ) গিরীশ মহাপাত্র
১.৩ পান্নালাল প্যাটেল কোন ভাষার লেখক ছিলেন?
ক) পাঞ্জাবি
খ) মারাঠি
গ) গুজরাতি
ঘ) হিন্দি
উত্তর: গ) গুজরাতি
১.৪ "আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে"-
ক) কাছে
খ) দূরে
গ) অনেক দূরে
ঘ) কাছে দূরে
উত্তর: ঘ) কাছে দূরে
১.৫ 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি 'অস্ত্র' রাখতে বলেছেন-
ক) ঋষি বালকের পায়ে
খ) নদীতে
গ) দেশগাঁয়ে
ঘ) গানের দুটি পায়ে
উত্তর: ঘ) গানের দুটি পায়ে
১.৬ "অভিষেক করিলা কুমারে।" কীভাবে রাজা কুমারকে অভিষেক করলেন?
ক) বিল্বপত্র দিয়ে
খ) দধিদুগ্ধ দিয়ে
গ) গঙ্গোদক দিয়ে
ঘ) পাদোদক দিয়ে
উত্তর: গ) গঙ্গোদক দিয়ে
১.৭ আদিতে ফাউন্টেন পেনের নাম ছিল-
ক) ফাউন্টেন পেন
খ) রিজার্ভার পেন
গ) ঝরনা কলম
ঘ) পার্কার পেন
উত্তর: খ) রিজার্ভার পেন
১.৮ 'Sensitized paper' এর বাংলা অনুবাদ কী লিখলে ঠিক বলে মনে করেন লেখক-
ক) স্পর্শকাতর কাগজ
খ) সুগ্রাহী কাগজ
গ) সুবেদী কাগজ
ঘ) ব্যথাপ্রবণ কাগজ
উত্তর: খ) সুগ্রাহী কাগজ
১.৯ শেষ পর্যন্ত নিবের কলমের মানমর্যাদা কে একমাত্র বাঁচিয়ে রেখেছিলেন?
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
গ) নিখিল সরকার
ঘ) সত্যজিৎ রায়
উত্তর: ঘ) সত্যজিৎ রায়
১.১০ "নমি পুত্র পিতার চরণে"- নিম্নরেখ পদটি
ক) কর্তৃকারক
খ) সম্বন্ধপদ
গ) সম্বোধন পদ
ঘ) কর্মকারক
উত্তর: খ) সম্বন্ধপদ
১.১১ "সূর্য উঠলে পদ্ম ফোটে" 'সূর্য' হল-
ক) অনুক্ত কর্তা
খ) উক্ত কর্তা
গ) নিরপেক্ষ কর্তা
ঘ) উপবাক্যীয় কর্তা
উত্তর: গ) নিরপেক্ষ কর্তা
১.১২ উপমান ও উপমেয় পদের অভেদ কল্পনা করা হয় যে সমাসে, তার নাম-
ক) উপমিত কর্মধারয়
খ) উপমান কর্মধারয়
গ) রূপক কর্মধারয়
ঘ) সাধারণ কর্মধারয়
উত্তর: গ) রূপক কর্মধারয়
১.১৩ 'চিরসুখী' পদটি হল-
ক) করণ তৎপুরুষ
খ) কর্ম তৎপুরুষ
গ) ব্যাপ্তি তৎপুরুষ
ঘ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ
উত্তর: গ) ব্যাপ্তি তৎপুরুষ (চিরকাল ব্যাপীয়া সুখী)
১.১৪ "তোরা সব জয়ধ্বনি কর।" এটা কী জাতীয় বাক্য?
ক) নির্দেশক বাক্য
খ) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
গ) আবেগসূচক বাক্য
ঘ) প্রার্থনা সূচক বাক্য
উত্তর: খ) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
১.১৫ আজকের সকালটা বেশ কাটল। গঠনগত দিক থেকে বাক্যটি হল-
ক) সরল বাক্য
খ) জটিল বাক্য
গ) মিশ্র বাক্য
ঘ) যৌগিক বাক্য
উত্তর: ক) সরল বাক্য
১.১৬ বৃষ্টি পড়ছে।- এটি কোন বাচ্যের দৃষ্টান্ত?
ক) কর্মবাচ্য
খ) কর্তৃবাচ্য
গ) ভাববাচ্য
ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর: খ) কর্তৃবাচ্য
১.১৭ তাঁকে টিকিট কিনতে হয়নি।- বাক্যটির কর্তৃবাচ্যের রূপ হবে-
ক) তাঁর টিকিট কেনা হয়নি
খ) তিনি টিকিট কেনেননি
গ) তাঁর দ্বারা টিকিট ক্রীত হয়নি
ঘ) তিনি বিনা টিকিটে চলেছেন
উত্তর: খ) তিনি টিকিট কেনেননি
বিভাগ 'খ' : কম-বেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (১৯ নম্বর)
২.১ যে কোন চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.১.১ "হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।" বুদ্ধিটা কী ছিল?
উত্তর: ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচাতে অমৃত তার নিজের জামা ইসাবের ছেঁড়া জামার সাথে বদলে ফেলার বুদ্ধি করেছিল।
২.১.২ "বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।"- নদেরচাঁদের ভয়ের কারণ কী?
উত্তর: অন্ধকারে বর্ষার নদীর উন্মত্ত ও পঙ্কিল জলরাশির ক্ষ্যাপাটে রূপ এবং ব্রিজের নিচে তার ভয়ঙ্কর শব্দ শুনে নদেরচাঁদের মনে ভয় হয়েছিল যে নদী হয়তো ব্রিজ ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
২.১.৩ "আর যাই হোক, যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।"- কার খোঁজ করা হচ্ছিল?
উত্তর: পুলিশ রাজাবাবু বা বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের খোঁজ করছিল।
২.১.৪ "আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো" বক্তা একথা কাকে বলেছেন?
উত্তর: বক্তা অপূর্ব এই কথাটি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবুকে বলেছিল।
২.১.৫ "আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।" বক্তার কোন দিনটি সবচেয়ে দুঃখের?
উত্তর: তপনের লেখা গল্পটি যেদিন 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু গল্পটি আগাগোড়া তার নতুন মেসোমশাইয়ের দ্বারা সংশোধিত হয়ে ছাপা হয়েছিল, সেই দিনটিই ছিল তপনের কাছে সবচেয়ে দুঃখের।
২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৪ = ৪)
২.২.১ "যেখানে ছিল শহর" সেখানকার কী অবস্থা হল?
উত্তর: যুদ্ধের বিধ্বংসী আগুনে শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা এবং মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা।
২.২.২ "বলো ক্ষমা করো" কীসের জন্য এই ক্ষমা প্রার্থনা?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আফ্রিকার মানুষের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার ও লুণ্ঠন চালিয়েছিল, তার জন্য তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে।
২.২.৩ "হা ধিক্ মোরে" বক্তা নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছেন কেন?
উত্তর: শত্রুসৈন্য লঙ্কা ঘিরে ফেলেছে এবং তাঁর ভাই বীরবাহু যুদ্ধে নিহত হয়েছে, অথচ ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকাননে নারীদের সঙ্গে বিলাসে মগ্ন—এই কথা ভেবে তিনি নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন।
২.২.৪ "তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ" কন্যা কোথায় থাকে?
উত্তর: সমুদ্রকন্যা পদ্মা সমুদ্রের মাঝখানে এক দিব্য উদ্যানে বা মণিময় প্রাসাদে সর্বক্ষণ বাস করেন।
২.২.৫ "ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর" কবি ধ্বংসকে ভয় পেতে নিষেধ করেছেন কেন?
উত্তর: কারণ ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুনের সৃষ্টির বীজ; প্রলয় নতুনের কেতন ওড়ায়, তাই ধ্বংস দেখে ভয় পাওয়া উচিত নয়।
২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৩ = ৩)
২.৩.১ "ইতিহাসে ঠাঁই কিন্তু তার পাকা"- ইতিহাসে কার ঠাঁই পাকা?
উত্তর: দোয়াত-কলম বা কালির কলমের (pen) ঠাঁই ইতিহাসে পাকা।
২.৩.২ "কলম তাদের কাছে আজ অস্পৃশ্য।"- কাদের কাছে অস্পৃশ্য?
উত্তর: পকেটমারদের কাছে কলম আজ অস্পৃশ্য, কারণ সস্তা বলপেন চুরি করে লাভ নেই।
২.৩.৩ "অনেক ধরে ধরে টাইপ-রাইটারে লিখে গেছেন মাত্র একজন।" কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: অন্নদাশঙ্কর রায়।
২.৩.৪ "সোনার দোয়াত কলম যে সত্যই হতো" বক্তা সোনার দোয়াত কলমের কথা কীভাবে জেনেছিলেন?
উত্তর: বক্তা শ্রীপান্থ সুভো ঠাকুরের বিখ্যাত দোয়াত সংগ্রহ দেখতে গিয়ে সোনার দোয়াত কলমের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছিলেন।
২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও (১ x ৮ = ৮)
২.৪.১ সমাস বলতে কী বোঝো?
উত্তর: অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের একপদীকরণকে সমাস বলে।
২.৪.২ 'রত্নাকর' শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
উত্তর: রত্নের আকর = রত্নাকর (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)।
২.৪.৩ বাংলায় কী দেখে কারক নির্ণয় করা হয়?
উত্তর: ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক দেখে কারক নির্ণয় করা হয়।
২.৪.৪ মুখ্যকর্মের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: বাবা আমাকে একটি কলম দিলেন। (এখানে 'কলম' মুখ্যকর্ম)।
২.৪.৫ কোন সমাসে দুটি বিজাতীয় সমস্যমান পদের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়?
উত্তর: রূপক কর্মধারয় সমাসে।
২.৪.৬ "সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য।" জটিল বাক্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: যা তুমি সংগ্রহ করছিলে তা হলো দুর্গমের রহস্য।
২.৪.৭ "আমি ছিলাম কালি কলমের ভক্ত।"- প্রশ্নসূচক বাক্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: আমি কি কালি কলমের ভক্ত ছিলাম না?
২.৪.৮ "এসো যুগান্তের কবি।”- ভাববাচ্যে পরিণত করো
উত্তর: যুগান্তের কবির আসা হোক।
২.৪.৯ কর্মবাচ্যের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক গীতাঞ্জলি রচিত হয়েছে।
২.৪.১০ যোগ্যতাহীন বাক্যের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: গরু আকাশে ওড়ে। (এখানে বাক্যের অর্থগত যোগ্যতা নেই)।
বিভাগ 'গ' : প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও (৩ x ২ = ৬)
৩.১.১ "তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়" 'ঢং' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কীসে ঢং নষ্ট হয়ে যায়?
উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে 'ঢং' বলতে হরিদার বহুরূপী সাজ বা শিল্পসত্তার কথা বলা হয়েছে।
জগদীশবাবু যখন বিরাগীবেশী হরিদাকে প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন, তখন হরিদা তা প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ, একজন বিরাগীর চরিত্রে অভিনয় করার সময় জাগতিক অর্থের প্রতি লোভ দেখালে সেই চরিত্রের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যেত, অর্থাৎ তাঁর অভিনয়ের 'ঢং' নষ্ট হতো।
৩.১.২ "ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল” - 'ওরা' কারা? তারা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল কেন?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে 'ওরা' বলতে অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামাটি ছিঁড়ে গিয়েছিল। ইসাবের বাবা জামা ছেঁড়া দেখলে তাকে খুব মারধর করবেন—এই ভয়ে তারা কাঠ হয়ে গিয়েছিল।
৩.২.১ "এল মানুষ ধরার দল"- 'মানুষ ধরার দল' কোথায় এল? তাদের 'মানুষ ধরার দল' বলার কারণ কী?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় 'মানুষ ধরার দল' বা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীরা আফ্রিকায় এসেছিল।
তারা আফ্রিকার সহজ-সরল আদিবাসীদের লোহার হাতকড়া পরিয়ে ক্রীতদাস হিসেবে বন্দি করে নিয়ে যেত বলে তাদের 'মানুষ ধরার দল' বলা হয়েছে।
৩.২.২ "আমরা ভিখারি বারোমাস" 'আমরা' কারা? 'ভিখারি' শব্দ বলে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় 'আমরা' বলতে সাম্রাজ্যবাদের শিকার সাধারণ, অসহায় ও সর্বহারা মানুষদের বোঝানো হয়েছে।
'ভিখারি' শব্দ দিয়ে কবি তাদের ঘরদোরহীন, ইতিহাসহীন ও পরনির্ভরশীল অবস্থার কথা বোঝাতে চেয়েছেন। তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় অক্ষম এবং অন্যের দয়ার ওপর নির্ভরশীল।
বিভাগ 'ঘ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ১ = ৫)
৪.১ "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে"- 'বাবুটি' কে? তাঁর স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় দাও।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসে 'বাবুটি' হলেন পলিটিক্যাল সাসপেক্ট বা রাজাবাবু, যিনি আসলে ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক, তবে এখানে তিনি নিজেকে গিরীশ মহাপাত্র বলে পরিচয় দিয়েছেন।
তাঁর স্বাস্থ্য ছিল অত্যন্ত ভগ্ন। বয়স ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়, কিন্তু রোগা চেহারা দেখে মনে হতো তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং তাঁর আয়ু আর বেশিদিন নেই। কাশির সঙ্গে হাঁপানির টান ছিল।
কিন্তু তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ ও শখের বহর ছিল অদ্ভুত। তাঁর মাথায় ছিল লেবুর তেলের গন্ধে ভরপুর চেরা সিঁথি করা চুল, গায়ে রামধনু রঙের পাঞ্জাবি, পায়ে সবুজ মোজা ও বার্নিশ করা পাম্পশু। পকেটে ছিল রুমালে আঁকা বাঘের ছবি, গাঁজার কলকে ইত্যাদি। তাঁর এই অদ্ভুত শৌখিনতা পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার এক কৌশল মাত্র।
৪.২ "ও আমাকে শিখিয়েছে খাঁটি জিনিস কাকে বলে"-কে, কাকে শিখিয়েছে? 'খাঁটি জিনিস' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে এই উক্তিটি করেছেন ইসাবের বাবা হাসান। তিনি গ্রামের মানুষদের সামনে অমৃত সম্পর্কে একথা বলেছিলেন।
এখানে 'খাঁটি জিনিস' বলতে অমৃত ও ইসাবের নিঃস্বার্থ ও অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কথা বোঝানো হয়েছে। অমৃত নিজের নতুন জামা ইসাবকে দিয়ে ইসাবকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। সে জানত যে জামা না থাকার কারণে সে নিজেও বাড়িতে মার খেতে পারে, তবুও সে বন্ধুর জন্য সেই ত্যাগ স্বীকার করেছিল। এই স্বার্থহীন ভালোবাসা ও ত্যাগের মনোভাবকেই ইসাবের বাবা 'খাঁটি জিনিস' বা প্রকৃত মানবিক মূল্যবোধ বলে অভিহিত করেছেন।
বিভাগ 'ঙ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ১ = ৫)
৫.১ "হায়, বিধি বাম মম প্রতি"- বক্তা কে? তার এরূপ বক্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কাব্যাংশে এই উক্তিটির বক্তা হলেন লঙ্কেশ্বর রাবণ।
রাবণ এই কথা বলেছিলেন কারণ তিনি অনুভব করেছিলেন যে ভাগ্য তাঁর প্রতি বিরূপ। তাঁর বীর পুত্র বীরবাহু যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এর আগে তিনি রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণকে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত বলে জানতেন, কিন্তু অলৌকিকভাবে তারা পুনরায় জীবিত হয়ে উঠেছে এবং লঙ্কার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। মৃত শত্রু পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠায় এবং একের পর এক বীর যোদ্ধার মৃত্যুতে রাবণ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন যে বিধাতা বা ভাগ্য তাঁর বিপক্ষে না থাকলে এমন অসম্ভব ঘটনা ঘটতে পারত না। তাই তিনি আক্ষেপ করে একথা বলেছেন।
৫.২ "পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।"- 'পঞ্চকন্যা' কারা? কার চেষ্টায় কীভাবে পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেল?
উত্তর: সৈয়দ আলাওলের 'সিন্ধুতীরে' কাব্যাংশে 'পঞ্চকন্যা' বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখীকে (চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী ও বিধুন্নলা) বোঝানো হয়েছে।
সমুদ্রকন্যা পদ্মার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও সেবায় পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেয়েছিল। সমুদ্রের তীরে অচৈতন্য অবস্থায় পঞ্চকন্যাকে দেখে পদ্মা তাদের উদ্ধার করেন। তিনি তাঁর সখীদের সাহায্যে তাদের এক মনোরম উদ্যানে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ভিজে বস্ত্র পরিবর্তন করিয়ে অগ্নি জ্বেলে শরীর সেঁক দেওয়া হয়। পদ্মা তাদের মাথায় মহৌষধি প্রয়োগ করেন এবং নিরলসভাবে সেবা-শুশ্রূষা করেন। দীর্ঘ চারদণ্ড ধরে চিকিৎসার পর পঞ্চকন্যা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং জ্ঞান ফিরে পায়।
বিভাগ 'চ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ১ = ৫)
৬.১ "বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় এখনও নানা রকম বাধা আছে।"- লেখক কোন ধরনের বাধার কথা বলেছেন?
উত্তর: রাজশেখর বসু তাঁর 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার বেশ কিছু বাধার কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব রয়েছে। অনেক ইংরেজি বৈজ্ঞানিক শব্দের সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ না থাকায় লেখকদের সমস্যায় পড়তে হয়।
দ্বিতীয়ত, পাঠকদের বিজ্ঞান শিক্ষার সীমাবদ্ধতা। সাধারণ মানুষ বিজ্ঞান সম্পর্কে খুব একটা ওয়াকিবহাল নয়, তাই তাদের জন্য সহজ ভাষায় বিজ্ঞান লেখা কঠিন হয়ে পড়ে।
তৃতীয়ত, লেখকদের ভাষা ব্যবহারের ত্রুটি। অনেকে ইংরেজি থেকে আক্ষরিক অনুবাদ করতে গিয়ে ভাষাকে দুর্বোধ্য ও কৃত্রিম করে ফেলেন। বাংলা ভাষার নিজস্ব প্রকাশভঙ্গি ও রীতির প্রতি তারা নজর দেন না।
চতুর্থত, অনেকে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে রূপক বা অলংকার বেশি ব্যবহার করেন, যা তথ্যের স্বচ্ছতা নষ্ট করে। এই সমস্ত কারণে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা এখনও পুরোপুরি সফল হয়ে ওঠেনি।
৬.২ "তাই দিয়ে আমাদের প্রথম লেখালেখি।" লেখকের প্রথম লেখালেখির আয়োজনের পরিচয় দাও।
উত্তর: শ্রীপান্থের 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক তাঁর ছোটবেলার লেখালেখির সরঞ্জাম বা আয়োজনের এক সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন।
গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া লেখকের কাছে আধুনিক ফাউন্টেন পেন বা বলপেন ছিল স্বপ্নের মতো। তাঁদের লেখালেখির প্রধান উপকরণ ছিল বাঁশের কঞ্চি কেটে তৈরি করা কলম। কালি তৈরি করা হতো ঘরোয়া পদ্ধতিতে—কাঠের উনুনে রান্নার কড়াইয়ের তলা থেকে ভুষো বা ঝুল সংগ্রহ করে তা জলে গুলে। লেখার কাগজ হিসেবে ব্যবহার করা হতো কলাপাতা। আর কালির দোয়াত ছিল মাটির। বড়রা কঞ্চি কেটে কলম বানিয়ে দিতেন, আর ছোটরা তা দিয়ে কলাপাতায় লিখত। লেখা শেষে সেই কলাপাতা পুকুরে ফেলে দেওয়া হতো। এই সামান্য ও সহজলভ্য উপকরণ দিয়েই লেখকের প্রথম লেখালেখির জীবন শুরু হয়েছিল।
বিভাগ 'ছ' : কম-বেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৪ x ১ = ৪)
৭.১ "বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।"- কাদের উদ্দেশে একথা বলা হয়েছে? কোন দুর্দিনের জন্য তাঁর এই আবেদন?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর দরবারের সভাসদ এবং সেনাপতিদের, বিশেষ করে মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও জগৎশেঠদের উদ্দেশে এই কথা বলেছেন।
বাংলার আকাশ তখন ষড়যন্ত্রের কালো মেঘে ঢাকা। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ অধিকার করে নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ঘরের শত্রু বিভীষণ—ঘসেটি বেগম ও মীরজাফররা ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করার চক্রান্তে লিপ্ত। বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ চরম সংকটের মুখে। এই আসন্ন বিপদ ও বিদেশি শক্তির আগ্রাসনের 'দুর্দিনে' নবাব সকলকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ভেদাভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং তাঁর পাশে থাকার করুণ আবেদন জানিয়েছেন।
৭.২ "ওকে ওর প্রাসাদে পাঠিয়ে দিন জাঁহাপনা। ওর সঙ্গে থাকতে আমার ভয় হয়।" বক্তা কে? তার এরকম ভয় হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এই উক্তিটির বক্তা হলেন সিরাজের পত্নী লুৎফা উন্নিসা বা লুৎফা। তিনি ঘসেটি বেগম সম্পর্কে একথা বলেছেন।
লুৎফার ভয়ের কারণ হলো ঘসেটি বেগমের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও ষড়যন্ত্রকারী স্বভাব। ঘসেটি বেগম সিরাজের খালা হলেও তিনি সিরাজের ঘোর শত্রু। তিনি মতিঝিল প্রাসাদে থেকে ইংরেজদের সঙ্গে চক্রান্ত করছিলেন। সিরাজ তাঁকে নিজের প্রাসাদে নিয়ে এলেও ঘসেটির আক্রোশ কমেনি। লুৎফা অনুভব করেছিলেন যে ঘসেটি বেগমের সান্নিধ্যে থাকলে যেকোনো সময় সিরাজ বা তাঁর পরিবারের ক্ষতি হতে পারে। ঘসেটি বেগমের প্রতিটি কথা ও কাজে বিষ ও বিদ্বেষ মেশানো ছিল, যা লুৎফার মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল।
বিভাগ 'জ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ২ = ১০)
৮.১ দারিদ্র্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই, তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনি ছিল এক অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। শ্যামপুকুর বস্তির এক স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে মা ও ভাইদের সাথে সে থাকত। তার বাবা যক্ষ্মায় মারা গিয়েছিলেন এবং বড় ভাই কমলও একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। দুবেলা দুমুঠো খাবারের সংস্থান করাও তাদের পক্ষে কঠিন ছিল। কিন্তু এই চরম দারিদ্র্য তার সাঁতারের প্রতি ভালোবাসাকে দমাতে পারেনি। প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের তত্ত্বাবধানে সে কঠোর অনুশীলন শুরু করে। ক্ষিদের জ্বালা, ক্লাবের কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্র, এবং সমাজের অবজ্ঞা—সব কিছুর বিরুদ্ধেই তাকে লড়তে হয়েছে। নিজের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তাকে কাজও করতে হয়েছে। তবু সে হার মানেনি। তার লড়াই ছিল কেবল দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে নয়, বঞ্চনা ও অবহেলার বিরুদ্ধেও। অবশেষে নিজের মেধা ও জেদ দিয়ে সে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে প্রমাণ করে যে, দারিদ্র্য প্রতিভার পথে বাধা হতে পারে না।
৮.২ 'কোনি' উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে স্বামীর যোগ্য সহধর্মিনী রূপে লীলাবতীর পরিচয় দাও।
উত্তর: 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতী এক অনন্য সাধারণ নারী চরিত্র। তিনি কেবল একজন গৃহবধূ নন, স্বামীর আদর্শ ও স্বপ্নের যোগ্য শরিক। ক্ষিতীশ যখন জুপিটার ক্লাব থেকে অপমানিত হয়ে বেরিয়ে আসেন এবং কোনির মতো এক দরিদ্র মেয়েকে সাঁতারু হিসেবে গড়ে তোলার ব্রত নেন, তখন লীলাবতী তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দেন। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি ক্ষিতীশকে উৎসাহিত করেছেন। লীলাবতী নিজের গয়না বিক্রি করে বা সেলাইয়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন, যাতে ক্ষিতীশ নিশ্চিন্তে কোনির প্রশিক্ষণে মন দিতে পারেন। কোনির খাওয়ার খরচ জোগাতেও তিনি সাহায্য করেছেন। স্বামীর খামখেয়ালি স্বভাব ও জেদকে তিনি প্রশ্রয় দিয়েছেন, কারণ তিনি জানতেন ক্ষিতীশের লক্ষ্য মহৎ। স্বামীর সাফল্যে তিনি যেমন গর্বিত হয়েছেন, তেমনি ব্যর্থতায় সাহস জুগিয়েছেন। লীলাবতীর ত্যাগ ও সহমর্মিতা ছাড়া ক্ষিতীশের পক্ষে কোনিকে তৈরি করা সম্ভব হতো না।
৮.৩ “এত কেচ্ছাসাধন করে, বাঁচবেন কী করে?" কে, কোন প্রসঙ্গে কাকে কথাগুলি বলেছেন? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কেচ্ছাসাধনের বর্ণনা দাও।
উত্তর: এই কথাটি বলেছেন বিলাস বহুল ও ভোজনরসিক ব্যবসায়ী বিষ্ণুচরণ ধর। তিনি ক্ষিতীশ সিংহকে (খিদ্দা) উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছিলেন।
ক্ষিতীশ সিংহের শরীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাস ছিল অত্যন্ত কঠোর ও সংযত। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে হলে সংযম প্রয়োজন। তিনি খুব সাধারণ খাবার খেতেন, যেমন—সিদ্ধ ভাত, ডাল, সামান্য সবজি। তিনি তেল-মশলা যুক্ত খাবার, মিষ্টি বা চর্বি জাতীয় খাবার একদম বর্জন করতেন। নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করতেন। তাঁর এই কঠোর জীবনযাপন বা 'কেচ্ছাসাধন' দেখে বিষ্ণুচরণ অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি নিজে প্রচুর খেতে ভালোবাসতেন এবং তাঁর শরীর ছিল মেদবহুল। ক্ষিতীশের এই সংযমী জীবনযাপনই তাঁকে কোনির মতো কঠিন পরিশ্রমী ছাত্রী তৈরি করার মানসিক ও শারীরিক শক্তি জুগিয়েছিল।
বিভাগ 'ঞ' : কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (৫ x ১ = ৫)
১০.১ অনলাইন পঠন-পাঠনের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা কর।
অর্ণব: কিরে সুজয়, অনেকদিন পর দেখা। স্কুল তো বন্ধ, তোর পড়াশোনা কেমন চলছে?
সুজয়: চলছে মোটামুটি। সব তো এখন অনলাইনে। তোর খবর কী?
অর্ণব: আমারও তাই। তবে এই অনলাইন ক্লাস আমার খুব একটা ভালো লাগছে না। চোখের সমস্যা হচ্ছে, আর নেটের যা অবস্থা!
সুজয়: ঠিক বলেছিস। নেটওয়ার্কের সমস্যা তো আছেই। কিন্তু ভেবে দেখ, এই করোনার সময় যদি অনলাইন ক্লাস না থাকত, তবে তো পড়াশোনা লাটে উঠত। অন্তত সিলেবাসটা তো এগোচ্ছে।
অর্ণব: তা ঠিক। ঘরে বসে ক্লাস করা যাচ্ছে, এটা একটা বড় সুবিধা। যাতায়াতের সময় বাঁচছে।
সুজয়: হ্যাঁ, আর টিচারদের পাঠানো নোটস বা রেকর্ডিং পরে দেখে নেওয়া যায়।
অর্ণব: কিন্তু ক্লাসরুমের সেই পরিবেশটা মিস করছি। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, স্যারেদের সামনাসামনি প্রশ্ন করা—এসবের মজাই আলাদা। তাছাড়া অনেকে তো স্মার্টফোন বা ডেটা প্যাক কেনার সামর্থ্য রাখে না।
সুজয়: একদমই তাই। এটা একটা বড় বৈষম্য তৈরি করছে। তবুও, পরিস্থিতির চাপে আমাদের এটা মেনে নিতেই হচ্ছে। আশা করি শীঘ্রই স্কুল খুলবে।
অর্ণব: আমিও সেই আশাই করছি। ভালো থাকিস।
১০.২ 'বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে মানুষ' - এই বিষয় অবলম্বনে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে বিভ্রান্ত সাধারণ মানুষ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১৫ই জুলাই: আধুনিক যুগে প্রচারই প্রসার—এই মন্ত্রকে হাতিয়ার করে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। টিভি, খবরের কাগজ, সোশ্যাল মিডিয়া—সর্বত্রই বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। কিন্তু এই বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যে সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফর্সা হওয়ার ক্রিম, লটারি জেতার প্রতিশ্রুতি, বা ম্যাজিক ওষুধে রোগ সারানোর মতো বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে মানুষ শুধু অর্থই হারাচ্ছেন না, স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করছেন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোররা জাঙ্ক ফুড বা অনলাইন গেমের বিজ্ঞাপনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক সময় পণ্যের গুণমান সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়, যা ক্রেতাদের ঠকানোর শামিল।
ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তরের মতে, ক্রেতাদের সচেতনতাই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। বিজ্ঞাপন দেখে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে পণ্যের গুণমান যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো দরকার। চটকদার মোড়ক নয়, সঠিক তথ্যই হোক পণ্য কেনার মাপকাঠি।
বিভাগ 'ট' : কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর (১০ x ১ = ১০)
১১.১ দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান
ভূমিকা: সকালে ঘুম ভাঙা থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত—আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত বিজ্ঞানের দানে সমৃদ্ধ। বিজ্ঞান আজ আর গবেষণাগারের চার দেওয়ালে বন্দি নয়, তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, বিনোদন—সবকিছুতেই বিজ্ঞানের ছোঁয়া।
গৃহকর্মে বিজ্ঞান: আধুনিক গৃহস্থালিতে বিজ্ঞান এক জাদুকরের ভূমিকা পালন করছে। গ্যাস ওভেনে রান্না, ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ, ওয়াশিং মেশিনে কাপড় কাচা, মিক্সার গ্রাইন্ডারে মশলা পেষা—সবই বিজ্ঞানের অবদান। বিদ্যুৎ বাতি আমাদের রাতকে করেছে দিন। ফ্যান, এসি আমাদের আরাম দিয়েছে।
যোগাযোগ ও যাতায়াত: বিজ্ঞান আমাদের গতি দিয়েছে। বাস, ট্রাম, ট্রেন, মেট্রো, এরোপ্লেন আমাদের যাতায়াতকে দ্রুত ও সহজ করেছে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইল মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের এক প্রান্তের খবর অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে আমরা দূরে থেকেও কাছের মানুষের মুখ দেখতে পাচ্ছি।
চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য: চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি আমাদের আয়ু বাড়িয়েছে। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই-এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সহজ হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের আবিষ্কার মহামারী থেকে আমাদের রক্ষা করেছে।
বিনোদন ও শিক্ষা: টেলিভিশন, কম্পিউটার, স্মার্টফোন আমাদের বিনোদনের মাধ্যম। অনলাইনে পড়াশোনা, ই-বুক, গুগল সার্চ—শিক্ষাক্ষেত্রেও বিজ্ঞান এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
উপসংহার: দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অতি-ব্যবহার আমাদের যান্ত্রিক ও অলস করে তুলছে। বিজ্ঞানের অপব্যবহার পরিবেশ দূষণ ও মারণাস্ত্র তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিজ্ঞানকে কেবল সুখের চাবিকাঠি হিসেবে না দেখে, একে মানবকল্যাণে ও পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় ব্যবহার করাই হোক আমাদের লক্ষ্য। বিজ্ঞান হোক আশীর্বাদ, অভিশাপ নয়।
১১.২ একটি গাছ একটি প্রাণ
ভূমিকা: "দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর"—কবির এই আকুতি আজ এক জ্বলন্ত বাস্তব। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে গাছ মানুষকে আশ্রয়, খাদ্য ও অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। জগদীশচন্দ্র বসু প্রমাণ করেছিলেন গাছেরও প্রাণ আছে। তাই একটি গাছ কেবল কাঠ নয়, একটি জীবন্ত সত্তা, একটি প্রাণ।
গাছের উপকারিতা: গাছের দান অপরিসীম। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং আমাদের বাঁচার জন্য অক্সিজেন ফিরিয়ে দেয়। গাছ বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া ফুল, ফল, কাঠ, ঔষধ, ছায়া—সবই আমরা গাছ থেকে পাই। বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থল হলো অরণ্য।
অরণ্য নিধন ও তার ফল: কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির নামে মানুষ নির্বিচারে গাছ কেটে চলেছে। নগরায়ন, শিল্পায়ন ও আসবাবপত্রের লোভে সবুজ পৃথিবী আজ ধূসর হতে চলেছে। এর ফলে দেখা দিচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং। মেরুর বরফ গলছে, সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। খরা, বন্যা, ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বাড়ছে। জীববৈচিত্র্য আজ বিপন্ন।
আমাদের করণীয়: এই আসন্ন ধ্বংসের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে আমাদের সচেতন হতে হবে। 'একটি গাছ, একটি প্রাণ'—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আমাদের বৃক্ষরোপণ করতে হবে। কেবল গাছ লাগালেই হবে না, তার রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। বনসৃজন ও সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে সবুজায়ন ঘটাতে হবে। অবৈধ গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
উপসংহার: গাছ না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই নিজের স্বার্থেই মানুষকে গাছ বাঁচাতে হবে। আসুন, আমরা শপথ নিই—আর গাছ কাটব না, বরং প্রতিটি জন্মদিনে বা শুভ অনুষ্ঠানে একটি করে গাছ লাগাব। সবুজ পৃথিবীই আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার।
১১.৩ তোমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন
ভূমিকা: স্মৃতি মানুষের জীবনের এক অমূল্য সম্পদ। কিছু স্মৃতি আছে যা মনের মণিকোঠায় চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকে। আমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি তেমনই এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। সেই দিনের ভয়, উত্তেজনা আর আনন্দের মিশ্র অনুভূতি আজও আমাকে নাড়া দেয়।
যাত্রার শুরু: তখন আমার বয়স পাঁচ বা ছয়। একদিন সকালে মা আমাকে নতুন জামা-জুতো পরিয়ে, টিফিন বক্স হাতে দিয়ে বললেন, আজ থেকে তুই স্কুলে যাবি। বাবার হাত ধরে যখন স্কুলের গেটে পৌঁছালাম, তখন বুকটা দুরুদুরু করছিল। অচেনা পরিবেশ, অচেনা সব মুখ দেখে আমি বাবার হাতটা শক্ত করে ধরেছিলাম।
স্কুলের পরিবেশ: গেট দিয়ে ঢুকে দেখলাম একটা বিশাল মাঠ, তার ওপাশে লাল ইটের স্কুলবাড়ি। অনেক ছেলেমেয়ে ছুটোছুটি করছে। বাবা আমাকে হেডস্যারের ঘরে নিয়ে গেলেন। তিনি খুব স্নেহভরে আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন এবং একটা লজেন্স দিলেন। আমার ভয়টা একটু কমল।
শ্রেণিকক্ষে অভিজ্ঞতা: এরপর একজন দিদিমণি আমাকে ক্লাসে নিয়ে গেলেন। ক্লাসে ঢুকে দেখি অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়ে বেঞ্চে বসে আছে। কেউ কাঁদছে, কেউ হাসছে। দিদিমণি আমাকে প্রথম বেঞ্চে বসিয়ে দিলেন। তিনি আমাদের ছড়া শেখালেন, গল্প বললেন। কিছুক্ষণ পর আমার পাশের ছেলেটির সাথে ভাব হয়ে গেল। আমরা টিফিনে খাবার ভাগ করে খেলাম।
ছুটির ঘণ্টা: দেখতে দেখতে ছুটির ঘণ্টা বেজে গেল। বাবা গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম। বাড়ি ফেরার পথে বাবাকে স্কুলের সব গল্প বললাম।
উপসংহার: আজ আমি অনেক বড় হয়েছি, অনেক উঁচুক্লাসে পড়ি। কিন্তু সেই প্রথম দিনের স্মৃতি আজও অমলিন। সেই দিনটিই ছিল আমার জ্ঞানরাজ্যে প্রবেশের প্রথম পদক্ষেপ। সেই ছোট্ট স্কুল, সেই দিদিমণি আর সেই প্রথম বন্ধু—সবাই আমার হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে।
১১.৪ বইপড়া
ভূমিকা: "বইয়ের পাতায় প্রদীপ জ্বলে, বইয়ের পাতায় দিক জ্বলে।" বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বইপড়া কেবল শখ নয়, এটি জ্ঞান অর্জনের ও মনের বিকাশের এক অন্যতম মাধ্যম। বই আমাদের এক নতুন জগতে নিয়ে যায়, যেখানে আমরা দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে বিচরণ করতে পারি।
জ্ঞানের ভাণ্ডার: বই হলো জ্ঞানের আধার। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন—সব কিছুর সন্ধান মেলে বইয়ে। পাঠ্যবই আমাদের পরীক্ষায় পাস করতে সাহায্য করে, কিন্তু বাইরের বই বা গল্পের বই আমাদের জীবনকে বুঝতে শেখায়। মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী পড়ে আমরা অনুপ্রাণিত হই। ভ্রমণকাহিনী পড়ে আমরা ঘরে বসেই বিশ্বভ্রমণের স্বাদ পাই।
মনের আনন্দ: বইপড়া এক নির্মল আনন্দের উৎস। কর্মব্যস্ত বা বিষণ্ণ জীবনে একটি ভালো বই আমাদের মন ভালো করে দিতে পারে। উপন্যাসের চরিত্রদের সাথে আমরা হাসি, কাঁদি। কবিতার ছন্দে আমরা আবেগে ভেসে যাই। বই আমাদের একাকিত্ব দূর করে এবং কল্পনাশক্তি বাড়ায়।
চরিত্র গঠন: ভালো বই মানুষের চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। সততা, দেশপ্রেম, দয়া, সাহসিকতা—এই গুণগুলি আমরা বই পড়ে শিখতে পারি। বই আমাদের কুসংস্কার ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে উদার মানুষ হতে শেখায়।
বর্তমান পরিস্থিতি: দুঃখের বিষয়, বর্তমানে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের যুগে বইপড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। যুবসমাজ আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় মগ্ন। কিন্তু ইন্টারনেটের তথ্য অনেক সময় ভাসা ভাসা হয়, বইয়ের মতো গভীরতা সেখানে পাওয়া যায় না।
উপসংহার: প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, "সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।" আর স্বশিক্ষিত হওয়ার প্রধান উপায় হলো বইপড়া। আমাদের উচিত নিয়মিত বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করা। বইমেলায় যাওয়া, উপহার হিসেবে বই দেওয়া—এসবের মাধ্যমে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে হবে। কারণ, একটি ভালো বই শত বন্ধুর সমান।