মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
বুক রিভিউ ও সাজেশন
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' কবিতাটি 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর প্রথম সর্গ থেকে সংগৃহীত। এই কাব্যাংশে রামায়ণের কাহিনিকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে রাক্ষসরাজ রাবণ এবং তাঁর পুত্র মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎকে বীরত্ব ও দেশপ্রেমের প্রতীকরূপে চিত্রিত করা হয়েছে। প্রমোদ উদ্যানে থাকাকালীন ইন্দ্রজিৎ যখন তাঁর ভাই বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ পান, তখন তিনি শোক ও ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন। তিনি পিতার কাছে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি প্রার্থনা করেন এবং সেনাপতি পদে অভিষিক্ত হন। এই কবিতায় ইন্দ্রজিতের দেশপ্রেম, বীরত্ব, এবং লঙ্কার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এখান থেকে নির্বাচিত প্রশ্নগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
Overview & Study Guide
Michael Madhusudan Dutt's poem 'Abhishek' is an excerpt from the first canto of his epic 'Meghnadbadh Kavya'. This poem reinterprets the Ramayana, portraying Ravana and his son Meghnad (Indrajit) as heroic figures driven by patriotism. Upon receiving the news of his brother Birbahu's death while in the pleasure garden, Indrajit is filled with grief and rage. He seeks his father's permission to go to war and is subsequently anointed as the commander-in-chief. The poem vividly depicts Indrajit's valour, love for his motherland Lanka, and his determination to defeat the enemy. This chapter is crucial for Madhyamik students, and the selected questions provided here will greatly aid in exam preparation.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অভিষেক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. মেঘনাদবধ কাব্য প্রথম প্রকাশিত হয়- উত্তর: [C] ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে
- ২. বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ-এর জনক হলেন- উত্তর: [D] মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- ৩. 'হৈমবতী সুত' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? উত্তর: [C] কার্তিককে
- ৪. "গিরিশৃঙ্গ কিংবা ___ যথা বজ্রাঘাতে।" [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [B] তরু
- ৫. "যাও তুমি ত্বরা করি;"- কোথায় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: [A] কালসমরে
- ৬. "___ সংহারিণু আমি রঘুররে।” [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [A] নিরাশ-রণে
- ৭. "তার শোকে মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি - রাক্ষসাধিপতি রাবণ যার শোকে মূহ্যমান, তিনি হলেন- উত্তর: [C] বীরবাহু
- ৮. 'রক্ষঃচূড়ামণি'-শব্দের অর্থ- উত্তর: [D] রাক্ষসকুলের শিরোমণি
- ৯. "এ বারতা, এ অদ্ভুত বারতা, জননী/কোথায় পাইলে তুমি, শীঘ্র কহ দাসে।”-এই বার্তাকে 'অদ্ভুত' বলার কারণ- উত্তর: [D] ইন্দ্রজিৎ বুঝতে পারছেন না, মৃতব্যক্তি কীভাবে পুনর্জীবিত হতে পারেন
- ১০. 'কৌশিক-ধ্বজ' শব্দের অর্থ- উত্তর: [D] রেশমি পতাকা
- ১১. "দেখ অস্তাচলগামী দিননাথ এবে"- 'দিননাথ' হলেন- উত্তর: [C] সূর্যদেব
- ১২. "যথাবিধ লয়ে গঙ্গোদক।” 'গঙ্গোদক' শব্দের অর্থ- উত্তর: [C] গঙ্গাজল
- ১৩. "রুষিবেন দেব অগ্নি।" অগ্নিদেব রুষ্ট হবেন। যদি- উত্তর: [C] রামচন্দ্রকে ভয় পেয়ে বারণ যুদ্ধে যান, আর মেঘনাদ নিশ্চেষ্ট থাকেন
- ১৪. "হায় দেহ তার, দেখ, সিন্ধু-তীরে ভূপতিত, - এখানে কার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: [A] বীরবাহু
- ১৫. "ছিঁড়িলা কুসুমদাম রোষে মহাবলী..."-কাকে 'মহাবলী' বলে সম্বোধন করা হয়েছে? উত্তর: [A] মেঘনাদকে
- ১৬. "শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে"- এখানে 'শিঞ্জিনী' শব্দের অর্থ কী? উত্তর: [B] ধনুনের ছিলা
- ১৭. 'অম্বুরাশিসুতা' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ- উত্তর: [B] সমুদ্রকন্যা
- ১৮. 'কনক-আসন ত্যজি, বীরেন্দ্রকেশরী....' 'বীরেন্দ্রকেশরী' বলা হয়েছে- উত্তর: [C] ইন্দ্রজিৎকে
- ১৯. "হায়! পুত্র.../সীতাপতি, তব শরে মরিয়া বাঁচিল।"- 'সীতাপতি' সম্পর্কে যে বিশেষণটি প্রয়োগ করা হয়েছে সেটি হল- উত্তর: [D] মায়াবী মানব
- ২০. "এ বারতা, এ অদ্ভুত বারতা, ___ জননী ___.।" [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [A] জননী
- ২১. "ঘুচাব এ অপবাদ, বধি ___ -।" [শূন্যস্থান পূরণ করো] উত্তর: [A] রিপুকুলে
- ২২. 'অভিষেক' কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য-র কোন্ সর্গ থেকে পাঠ্যাংশে সংযোজিত হয়েছে? উত্তর: [A] প্রথম সর্গ
- ২৩. মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গের নাম- উত্তর: [B] অভিষেক
- ২৪. 'কিরীটী' যাঁর নাম তিনি হলেন- উত্তর: [C] অর্জুন
- ২৫. 'মাতঙ্গ' কথার অর্থ- উত্তর: [D] হাতি
- ২৬. মেঘবাহন কে? উত্তর: [A] ইন্দ্র
- ২৭. 'অভিষেক করিলা কুমারে।"-কার অভিষেকের কথা বলা হয়েছে? উত্তর: [B] ইন্দ্রজিতের
- ২৮. "আগে পূজ ইষ্টদেবে”- কোথায় ইষ্টদেবের পুজোর কথা বলা হয়েছে? উত্তর: [B] নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. 'অম্বুরাশি সুতা' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? উত্তর: 'অম্বরাশি-সুতা' বলতে লক্ষ্মীদেবীকে বোঝানো হয়েছে। সমুদ্রমন্থনজাত বলে লক্ষ্মীর অপর নাম 'অম্বুরাশি-সুতা'।
- ২. "কে কবে শুনেছে পুত্র, ভাসে শিলা জলে"- কোন্ প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে? উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে রামচন্দ্রের মৃত্যুর পরে পুনর্জীবন লাভ প্রসঙ্গে প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি করা হয়েছে।
- ৩. "শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে"- রোষে এই শব্দে কী করার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে 'শিঞ্জিনী' অর্থাৎ ধনুকের ছিলা আকর্ষণ করে জোরে ধনুতে টংকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- ৪. "তারে ডরাও আপনি,/রাজেন্দ্র? পনি,/রাজেন্দ্র?"-এই পঙ্ক্তিটিতে কাকে ভয় পাওয়ার কথা বক্তা বলেছেন? উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশ রাঘব শ্রীরামচন্দ্রকে ভয় পাওয়ার কথা বক্তা বলতে চেয়েছেন।
- ৫. 'রথীন্দ্রর্যভ'-কথাটির অর্থ কী? উত্তর: 'রথীন্দ্রর্ষভ' কথাটির অর্থ শ্রেষ্ঠ রথী। যিনি ঋষভ বা বৃষ সদৃশ শক্তি বা বলের অধিকারী। মহাপরাক্রমশালী ইন্দ্রজিৎকে রবীন্দ্রর্ষভ বলা হয়েছে।
- ৬. "হাসিবে মেঘবাহন"- 'মেঘবাহন' কে? উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশে 'মেঘবাহন' হলেন যিনি মেঘকে বাহন করে ঘুরে বেড়ান অর্থাৎ 'মেঘবাহন' হলেন দেবরাজ ইন্দ্র।
- ৭. 'অভিষেক' কী? উত্তর: মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশে 'অভিষেক' কথাটির অর্থ হল রাজসিংহাসনে আরোহণকালীন স্নানাদি অনুষ্ঠান। পাঠ্য পদ্যাংশে রাবণরাজ পুত্র মেঘনাদকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করবার উদ্যোগের প্রসঙ্গে 'অভিষেক' শব্দটি প্রযুক্ত হয়েছে।
- ৮. 'অভিষেক' কাব্যাংশটি কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত? উত্তর: 'অভিষেক' কাব্যাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাধবধ কাব্য' কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত।
- ৯. "মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি"-রাক্ষসাধিপতি কে? উত্তর: রাক্ষসাধিপতি হলেন লঙ্কার রাজা রাবণ।
- ১০. "সিন্ধু-তীরে/ভূপতিত -এখানে কীসের কথা বলা হয়েছে? উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত প্রশ্নোদ্ভূত উদ্ধৃতাংশে সিন্ধুতীরে কুম্ভকর্ণের দেহ ভূপতিত থাকার কথা বলা হয়েছে।
- ১১. কাকে বীরেন্দ্রকেশরী বলা হয়েছে? উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশে বীরেন্দ্রকেশরী বলা হয়েছে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎকে। বীরেন্দ্রকেশরীরর অর্থ বীরসিংহ।
- ১২. "প্রণমিয়া ধাত্রীর চরণে/কহিল"-ইন্দ্রজিৎ কী বলেছিল? উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেছিল এবং সেখানে ধাত্রীর আসার কারণ জিজ্ঞাসা করেছিল।
- ১৩. "...হেরি বীরবরে/মহাগর্বে"- 'বীরবর'-এর ইন্দ্রজিৎকে দেখে কোন্ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল? উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে বীরবর ইন্দ্রজিৎকে দেখে সৈন্যদল রাজপতাকা উড়িয়েছিল।
- ১৪. "জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া;"-এই বিস্ময়ের কারণ কী ছিল? উত্তর: রামচন্দ্রকে খণ্ড খন্ড করে কেটে ফেলার পরে কে বীরবাহুকে হত্যা করল সেটা ভেবেই ইন্দ্রজিৎ বিস্মিত হয়েছিলেন।
- ১৫. বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদে মেঘনাদ প্রথমে কীভাবে তাঁর রোষ প্রকাশ করেছিলেন? উত্তর: বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ যখন ইন্দ্রজিৎ পান, তখন তিনি ফুলের মালা ছিঁড়ে হাতের কনক বালা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এবং পায়ের কাছে কুণ্ডল নিক্ষেপ করে তিনি রোষ প্রকাশ করেছিলেন।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
- ১. "জিজ্ঞাসিল মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া"-মহাবাহু কে, কার কাছে তিনি কী জিজ্ঞাসা করেছিলেন? উত্তর: মহাবাহু : মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম স্বর্গ অভিষেক নামাঙ্কিত কাব্যাংশে মহাবাহু হলেন মেঘনাদ অর্থাৎ ইন্দ্রজিৎ মহাবাহুর জিজ্ঞাসা ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর কাছে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কার কুশল সংবাদ জিজ্ঞাসা করেছিলেন। প্রমোদ উদ্যানে হঠাৎ জননী স্থানীয়া ধাত্রীর আগমন অপ্রত্যাশিত। তাই ইন্দ্রজিৎ তার কাছে লঙ্কার সংবাদ জানতে চান। ইন্দ্রজিৎকে ছদ্মবেশধারী দেবী জানান বীরবাহু নিহত হয়েছেন ও রাবণ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই দুটি সংবাদ শুনে মহাবিস্ময়ে ইন্দ্রজিৎ প্রশ্ন করেন-কে হত্যা করল বীরবাহুকে? কারণ তিনি নিজেই রামচন্দ্রসহ শত্রুদলকে সংহার করেছেন।
- ২. "ত্যজ কিঙ্করির আজি"-বক্তা কে? তার মনে এমন প্রশ্ন জেগে ওঠার কারণ কী? উত্তর: বক্তা: মাইকেল মধুসূদন দত্তের অভিষেক কবিতায় ইন্দ্রজিতের পত্নী প্রমিলার মনে এই প্রশ্ন জেগেছে। প্রশ্ন জাগার কারণ: ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীর ছদ্মবেশধারী দেবীর কাছে স্বর্ণলঙ্কার দুর্দিনের খবর পান। এই সংবাদ শুনে তিনি স্বর্ণলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। এমন সময় পত্নী প্রমিলা তার রাস্তা রোধ করে দাঁড়াল। প্রমিলা নিজের স্বামীর কাছে জানতে চান, তাকে কী কারণে ত্যাগ করা হচ্ছে। আসলে স্বামী বিরহে বিরহ কাতর পত্নীর অন্তরের রূপটি এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
- ৩. "হৈমবতী সুত যথা নাশিতে তারকে মহাসুর"- কোন প্রযত্নে এই উক্তি, এই উক্তির কারণ কী? উত্তর: প্রসঙ্গ : মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অভিষেক কবিতায় ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যুদ্ধ যাত্রার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তিটি কবি করেছেন। উক্তির কারণ: কার্তিক কর্তৃক তারকাসুর নিধনের পৌরাণিক কাহিনিকে কবি স্মরণ করেছেন। হৈমবতী সূত বলতে দেব সেনাপতি কার্তিকের কথা বলা হয়েছে। দেবতাদের বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য কার্তিক যেমন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং তারকাসুরকে নিধন করেছিলেন, ঠিক সেইভাবেই যুদ্ধ যাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ।
- ৪. "কে কবে শুনেছে পুত্র ভাসে শিলা জলে"।-এমন উপমা দেওয়ার কারণ লেখো। উত্তর: উপমার কারণ: অভিষেক কবিতার রাক্ষসরাজ রাবণ এমন উপমা প্রয়োগ করেছেন। রামচন্দ্রের পুনরায় বেঁচে ওঠা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে এমন প্রশ্ন করেছেন। রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে দুবার যুদ্ধে পরাজিত করেছেন। দুটি ক্ষেত্রেই রামচন্দ্রের মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে বিপরীত ঘটনা ঘটে। রামচন্দ্র দুবারই পুনঃজীবন লাভ করে। রাবণ নিজের জীবন অভিজ্ঞতা থেকে জানাচ্ছেন। শিলা বা পাথরের যেমন জলে ভাসা কঠিন, তেমনই কোনো মানুষ মরে গিয়ে তার বাঁচা কঠিন। আসলে রাম মায়াবী মানব। তাই এটা সম্ভবপর হয়েছে। এমনটাই মনে করে ইন্দ্রজিৎ।
- ৫. "নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ কর -নিকুম্ভিলা যজ্ঞ কেন করা হত? উত্তর: নিকুম্ভিলা যজ্ঞ করার কারণ: নিকুন্তিলা লঙ্কার কুলদেবী। রাবণের বিশ্বাস ইন্দ্রজিৎ আরাধ্য অগ্নিদেবতার পূজা সঠিকভাবে সুসম্পন্ন করলে তার সিদ্ধিলাভ নিশ্চিত। রামচন্দ্রকে পরাজিত করবার ক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন। স্বর্ণলঙ্কার দেবী নিকুম্ভিলা অতিশয় গুপ্ত জায়গায় থাকেন। এখানে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধ যাত্রার পূর্বে পূজা অর্চনার মাধ্যমে কুলদেবীকে তুষ্ট করতে আসেন।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
১. অভিষেক কবিতা অবলম্বনে ইন্দ্রজিৎ চরিত্রের পরিচয় দাও।
উত্তর: ভূমিকা: বাল্মীকি বা কৃত্তিবাসের মতো ইন্দ্রজিৎকে দেখেননি মধুসূদন। ইন্দ্রজিৎ কবির মানসপুত্র। কবি এই চরিত্র সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন তার মধ্যে দুটি বক্তব্য এই চরিত্রের গুরুত্বকে চিনিয়ে দেয়। (ক) ইন্দ্রজিৎ হলেন Glorious son of Ravana (খ) He was a noble fellow.
দুর্জন সাহস: প্রমোদ উদ্যানে ধাত্রী প্রভাসার ছদ্মবেশে রাজলক্ষ্মীর মুখে মহাবলী বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনি অবাক হন। তৎক্ষণাৎ যুদ্ধে যাওয়ার সংকল্প গ্রহণ করেন। গভীর সাহসের সঙ্গে রামচন্দ্রকে হত্যা করার কথা ভাবেন।
অগাধ পত্নী প্রেম: প্রমীলার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের দাম্পত্য সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। প্রমীলা ইন্দ্রজিতকে ছাড়তে না চাইলে ইন্দ্রজিৎ প্রমীলাকে বলেছে তার দৃঢ় বন্ধন থেকে ছিন্ন করার ক্ষমতা কারোর নেই।
সরল পিতৃভক্তি ও কর্তব্য বোধ: ইন্দ্রজিৎ শুধুমাত্র পিতার প্রতি ভালোবাসা দেখাননি, তার কর্তব্য সম্পর্কে সে সজাগ তাই পিতাকে বলেছে পুত্র বেঁচে থাকতে পিতার যুদ্ধ করতে যাওয়া কলঙ্কের কথা।
দেশের প্রতি ভালোবাসা: মধুসূদন দত্তের ইন্দ্রজিৎ লঙ্কাকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। তাই লঙ্কার দুর্দিনে লঙ্কাকে মুক্ত করার সংকল্প সে গ্রহণ করেছে।
আত্মবিশ্বাস: ইন্দ্রজিৎ চরিত্রের সব থেকে বড়ো বৈশিষ্ট্য তার আত্মবিশ্বাস। তাই ছদ্মবেশী লক্ষ্মীর কাছে লঙ্কার সর্বনাশ শুনে সে বলেছে সমূলে শত্রুকে বিনাশ করবে।
মূল্যায়ন: মধুসূদনের কাছে ইন্দ্রজিৎ ছিলেন favourite। তাই তার বীরত্ব ও বংশ মর্যাদাকে কৃতিত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। ইন্দ্রজিৎকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চরিত্র হিসাবে গড়ে তুলেছেন তিনি।
২. অভিষেক কবিতায় প্রমীলার চরিত্রটি উল্লেখ করো।
উত্তর: ভূমিকা: সীতা চরিত্র পরিকল্পনায় মধুসূদন দত্ত আদি কবি বাল্মীকিকে অনুসরণ করেছে কিন্তু প্রমীলা চরিত্র নির্মাণে কবি পাশ্চাত্য নারীকে তুলে ধরেছেন। সীতা যেমন বাল্মীকির মানস দুহিতা। প্রমীলা তেমন মধু কবির মানস প্রতিমা।
অসামান্য চরিত্র: নারী সম্পর্কিত চরিত্রগুলিকে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে নির্মাণ করেছেন। প্রমীলার মতো বীরাঙ্গনা চরিত্র শক্তি ও সুন্দরতার সমন্বয়। তাই এই চরিত্রটি অসামান্য।
সুযোগ্য পত্নী: প্রমীলা ইন্দ্রজিতের সুযোগ্য পত্নী। ইন্দ্রজয়ী ইন্দ্রজিৎকে তিনি জয় করেছেন প্রেমের পবিত্র পরশে। ইন্দ্রজিৎ তাই বলেছেন, প্রমীলা তাকে শক্ত ভাবে ধরে রেখেছেন।
বিরহীনি নায়িকা: সাময়িক পতি বিরোহ প্রমীলার পক্ষে অসহনীয় অভিষেক নামাঙ্কিত এই কবিতায় দেখা যায়। প্রমীলার বিপুল শূন্যতা বোধ। স্বামী যুদ্ধে যেতে চাইলে প্রমীলা অস্থির হয়ে ওঠে।
পতি প্রেমে মুগ্ধা: নারী যে স্বামীকে গভীরভাবে ভালোবাসে তার প্রমাণ হল প্রমীলা। তাই ইন্দ্রজিতের মতো শক্তিশালী বীরকে তিনি প্রেমের আবেশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
দাম্পত্য প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রমোদ কাননে ইন্দ্রজিৎ প্রমীলার হাস্য উজ্জ্বলময় দাম্পত্য প্রেমের যে ছবি আমাদের মধ্যে ভেসে ওঠে তাতে প্রমাণিত হয় তারা দাম্পত্য প্রেমের এক সুখী দম্পতি।
মূল্যায়ন: অভিষেক কবিতার সামান্য পরিসরে প্রমীলা চরিত্রটি অসামান্য। স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও চিরন্তনতায় প্রমীলা অসাধারণ।
উপসংহার
আশা করি, মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'অভিষেক' কবিতা থেকে দেওয়া এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়তা করবে। কবিতায় মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিতের বীরত্ব, দেশপ্রেম এবং পিতৃভক্তির যে অনন্য নিদর্শন কবি তুলে ধরেছেন, তা অনুধাবন করা জরুরি। এখানে দেওয়া প্রতিটি প্রশ্ন, বিশেষ করে রচনাধর্মী প্রশ্নগুলি, পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা প্রতিটি উত্তর মনোযোগ সহকারে পড়বে এবং প্রয়োজনে লিখে অনুশীলন করবে। যদি কোনো অংশ বুঝতে অসুবিধা হয়, তবে অবশ্যই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাহায্য নেবে। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We hope that these questions and answers from Michael Madhusudan Dutt's poem 'Abhishek' will be extremely helpful for your Madhyamik exam preparation. It is essential to understand the unique portrayal of Meghnad or Indrajit's heroism, patriotism, and devotion to his father as depicted by the poet. Every question provided here, especially the essay-type questions, is very important for the exam. Read each answer carefully and practice writing them if necessary. If you face any difficulty in understanding any part, do not hesitate to seek help from your teachers. We wish you all a bright future and excellent results in your exams.