মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
বুক রিভিউ ও সাজেশন
'বহুরূপী' গল্পটি বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের লেখা। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা, যিনি পেশায় একজন বহুরূপী। শহরের এক সরু গলিতে তাঁর ছোট্ট ঘর। দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী হলেও হরিদা ধরাবাঁধা ছকের জীবনে বিশ্বাসী নন। তাই তিনি মাঝে মাঝে বিচিত্র ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষকে চমকে দেন—কখনও পাগল, কখনও বাইজি, আবার কখনও পুলিশ। গল্পের মূল ঘটনা আবর্তিত হয় জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদার বিরাগী সাজার নাটকীয় মুহূর্তকে ঘিরে। সেখানে তিনি জাগতিক লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে একজন প্রকৃত শিল্পীর মর্যাদা রক্ষা করেন। এই অধ্যায়ে গল্পের খুঁটিনাটি, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হয়েছে যা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
Overview & Study Guide
'Bahurupi' is a captivating short story by Subodh Ghosh. The protagonist, Hari da, is a man of humble means who lives a dramatic life as a 'Bahurupi' (a person who assumes various disguises). He rejects the monotony of a regular job and instead chooses to surprise people with his incredible impersonations—sometimes as a madman, sometimes as a police officer, or even a Baiji. The story reaches its climax when Hari da disguises himself as a detached ascetic (Biragi) to visit Jagadish Babu. In this guise, he upholds the dignity of his art by refusing a large sum of money, proving that true artistry transcends material greed. This study guide covers all essential aspects of the story for Madhyamik students.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
বহুরূপী - সুবোধ ঘোষ
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. "হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।" - কে ক্ষমা করবে না? উত্তর: [C] অদৃষ্ট
- ২. বিচিত্র সব ছদ্মবেশ ধারণ করে বহুরূপী সাজত- উত্তর: [D] হরিদা
- ৩. "কী করব বল? ইচ্ছেই হল না"।-কী ইচ্ছে হয়নি? উত্তর: [A] টাকা নিতে
- ৪. যখন হরিদা বহুরূপী সেজে জগদীশবাবুর বাড়ি গেল তখন তার গায়ে ছিল- উত্তর: [B] সাদা উত্তরীয়
- ৫. হরিদার জীবনে সত্যিই একটা ___ আছে। (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [C] নাটকীয় বৈচিত্র্য
- ৬. হরিদা পেশায় ছিলেন একজন- উত্তর: [B] বহুরূপী
- ৭. "সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস" -'ভয়ানক দুর্লভ' জিনিসটি হল- উত্তর: [D] সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়া
- ৮. 'বহুরূপী' গল্পের লেখক হলেন- উত্তর: [A] সুবোধ ঘোষ
- ৯. ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল- উত্তর: [A] চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে
- ১০. "বাসের যাত্রীরা কেউ হাসে, কেউ বা বেশ বিরক্ত হয় কেউ আবার বেশ বিস্মিত।”-বাসযাত্রীদের এমন প্রতিক্রিয়ার কারণ- উত্তর: [B] বহুরূপী হরিদার পাগলের সাজটা চমৎকার
- ১১. "...কিছুই শুনিনি"-কথাটা বলেছেন- উত্তর: [C] হরিদা
- ১২. জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী ছিলেন- উত্তর: [D] সাতদিন
- ১৩. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী সারা বছর যা খেতেন সেটা হল- উত্তর: [A] একটি হরিতকী
- ১৪. সন্ন্যাসীকে খড়ম দিয়েছিলেন- উত্তর: [B] জগদীশবাবু
- ১৫. "ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি"।- কোন্ ছদ্মবেশের কথা বলা হয়েছে? উত্তর: [C] বাইজি
- ১৬. "তোমরা সেখানে থেকো"- 'সেখানে' বলতে বোঝানো হয়েছে- উত্তর: [A] জগদীশবাবুর বাড়িতে
- ১৭. হরি কী সেজে লিচু বাগানে স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরেছিল? উত্তর: [C] পুলিশ
- ১৮. কী উপলক্ষে বিরাগীকে জগদীশবাবু টাকা দিতে চেয়েছিলেন- উত্তর: [D] তীর্থ ভ্রমণের জন্য
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. "পরম সুখ কাকে বলে জনেন?”- 'পরম সুখ' বলতে বক্তা কী বোঝাতে চেয়েছেন? উত্তর: 'বহুরূপী' গল্পে বক্তা বিরাগী স্বয়ং সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াকেই 'পরম সুখ' বলতে চেয়েছেন।
- ২. হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যটি কী? উত্তর: হরিদা পেশায় ছিল বহুরূপী। সে কখনো পাগল সাজত, কখনো বাউল, কোনোদিন কাপালিক, কখনো পুলিশ আবার কখনো বা বোঁচকা কাঁধে বুড়ো কাবুলিওয়ালা। এটাই হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য।
- ৩. বিরাগীর কাছে জগদীশবাবুর প্রাণের অনুরোধটি কী ছিল এবং তা শুনে বিরাগী কী বলেছিলেন? উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগীকে তাঁর বাড়িতে কিছুদিন বসবাস করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এই কথা শুনে বিরাগী বলেছিলেন ধরিত্রী তার আসল আশ্রয়স্থল। দালানবাড়িতে তিনি থাকতে পারবেন না।
- ৪. হরিদার ঘরটি কীরকম ছিল এবং সেখানে কী হত? উত্তর: সরু এক গলির মধ্যে হরিদার একটি ছোটো ঘর ছিল। সেখানে সকাল-সন্ধ্যা লেখকদের আড্ডা বসত। চা, চিনি, দুধ তাঁরাই আনতেন। হরিদা শুধু আগুনের আঁচে জল ফুটিয়ে দিত।
- ৫. "সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস”।- 'দুর্লভ' জিনিসটি কী? উত্তর: সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগন্তুক সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়ার বিষয়কে দুর্লভ জিনিস বলা হয়েছে প্রশ্নোদ্ভূত অংশটিতে। কেন-না জগদীশবাবু ব্যতীত আগন্তুক সন্ন্যাসী আর কাউকে পায়ের ধুলো নিতে দেননি।
- ৬. লেখক ও তাঁর বন্ধুরা হরিদার কাছে কোন্ ঘটনা শোনাতে এসেছিলেন? উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে খুব উঁচুদরের এক সন্ন্যাসী এসেছিলেন এবং তিনি সেখানে সাতদিন ধরে অবস্থান করেছিলেন। এই খবরটাই লেখক ও তাঁর বন্ধুরা হরিদাকে শোনাতে এসেছিলেন।
- ৭. "মাঝে মাঝে সত্যিই উপোস করেন হরিদা।"-হরিদা মাঝে মাঝে উপোস করেন কেন? উত্তর: হরিদার জীবনের একমাত্র পেশা বহুরূপী সেজে রোজগার করা। যৎসামান্য রোজগারে এক সপ্তাহের ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণ করা সম্ভব হয় না। তাই হরিদাকে মাঝে মাঝেই সত্যিই উপোস করে দিন অতিবাহিত করতে হয়।
- ৮. "কী অদ্ভুত কথা বলেন হরিদা!"-হরিদার কোন্ কথাকে অদ্ভুত মনে হয়েছিল? উত্তর: হরিদা জানিয়েছিলেন যে, শত হোক একজন বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে টাকা-ফাকা স্পর্শ করলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যায়। তাঁর এই কথাকে গল্প লেখকের অদ্ভুত মনে হয়েছিল।
- ৯. "নইলে আমি শান্তি পাব না - কী পেলে বক্তা শান্তি পাবেন? উত্তর: বক্তা জগদীশবাবুর একান্ত ইচ্ছা যে বিরাগী তাঁকে কিছু উপদেশ দিয়ে প্রস্থান করলে তিনি শান্তি পাবেন।
- ১০. "এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন বহুরূপী হরিদা।”-'বহুরূপী' গল্পে হরিদার বহুরূপী সাজার কয়েকটি উল্লেখ করো। উত্তর: কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পে হরিদার বহুরূপী সাজার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলি হল-উন্মাদ পাগল, রূপসি বাইজি, বাউল, কাপালিক, পুলিশ, বুড়ো কাবুলিওয়ালা, ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব, সন্ন্যাসী বিরাগী প্রভৃতি।
- ১১. "জটাজুটধারী কোনো সন্ন্যাসী নয়"।-উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে সন্ন্যাসী না বলার কারণ কী? উত্তর: আগন্তুককে সন্ন্যাসী না বলার কারণ হল, তাঁর হাতে সন্ন্যাসীদের ব্যবহৃত কমন্ডুলু ও চিমটে ছিল না। তাঁর সঙ্গে বসার জন্যে মৃগচর্মের আসনও ছিল না। তিনি গৈরিক সাজেও সজ্জিত ছিলেন না, তাছাড়া জটাজুটের পরিবর্তে তাঁর মাথায় ছিল স্বাভাবিক শুভ্র চুল।
- ১২. "জগদীশবাবুর দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল”-কী দেখে জগদীশবাবুর এমন অবস্থা হয়েছিল? উত্তর: জগদীশবাবু সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে যখন দেখেছিলেন আদুড় গায়ে সাদা উত্তরীয় পরে এক বিরাগী সামনে দাঁড়িয়ে তখন তিনি অপলক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে চেয়ে রইলেন।
- ১৩. "অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।"-হরিদার কোন্ ভুল অদৃষ্ট কখনো ক্ষমা করবে না? উত্তর: শিল্প মর্যাদার স্বার্থে বহুরূপী হরিদা জগদীশবাবুর দিতে চাওয়া অর্থ প্রত্যাখান করে ভুল করেছিলেন বলে লেখক মনে করেছেন। সেই ভুলই অদৃষ্ট কখনো ক্ষমা করবে না বলে লেখকের মনে হয়েছিল।
- ১৪. "পরম সুখ কাকে বলে জানেন? - বক্তা স্বয়ং 'পরম সুখ' বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন? উত্তর: কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পে বক্তা বিরাগী স্বয়ং সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াকেই 'পরম সুখ' বলে বোঝাতে চেয়েছেন।
- ১৫. "বাঃ এ তো বেশ মজার ব্যাপার!"- কোন্ ঘটনাকে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে? উত্তর: একদিকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণকারী আগন্তুক সন্ন্যাসী হিমালয়বাসী সর্বত্যাগী। অন্যদিকে কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগানো দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি পা বাড়িয়ে দিলেন জগদীশবাবুর দিকে-এমন পরস্পর বিরোধী ঘটনাকে উদ্ধৃতাংশের বক্তা হরিদা একে মজার ব্যাপার বলে উল্লেখ করেছেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
- ১. গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা-কোন্ গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গেছিলেন? উত্তর: গম্ভীর হওয়ার কারণ: সুবোধ ঘোষের বহুরূপী গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। গল্পের লেখক ও অন্যরা হরিদাকে জানিয়েছিলেন যে, জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ন্যাসী সাত দিন ধরে ছিলেন। সেই সন্ন্যাসী সারাবছরে একটি হরিতকি খান। বয়স হাজার বছরের বেশি। সন্ন্যাসী কাউকে তার পায়ের ধুলো দেয়না। শুধুমাত্র জগদীশবাবুকে দিয়েছিলেন কারণ জগদীশবাবু তার কাঠের খরমে সোনার বোল লাগিয়ে তার পায়ের কাছে ধরেছিলেন। সন্ন্যাসী যখন সেই খরম পরতে গেলেন তখন জগদীশবাবু তার পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন। সন্ন্যাসীর এই গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন।
- ২. হরিদা কোনোদিন চাকরি করেননি কেন? উত্তর: চাকরি না করার কারণ: এক ঘেয়ে সময় বেঁধে কাজ হরিদার কোনোদিন ভালো লাগত না। ইচ্ছে করলেই হরিদা যে কোনো আপিসের কাজ বা কোনো দোকানের কাজ পেয়ে যেত। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা বেঁধে নিয়ম করে রোজ এক চাকরি করতে যাওয়া হরিদার পক্ষে সম্ভব ছিল না। হরিদার অভাব ছিল না। এই অভাবটা সহ্য করতে হরিদার আপত্তি না থাকলে এক ঘেয়ে কাজ করতে ভীষণ আপত্তি ছিল। তাই হরিদা কোনোদিন চাকরি করেননি।
- ৩. ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠল আতঙ্কের হল্লাটির পরিচয় দাও? উত্তর: আতঙ্কের হল্লা: সুবোধ ঘোষের বহুরূপী গল্পে হরিদা মাঝে মাঝে বহুরূপী সাজতেন। এক দুপুরবেলা বাসস্ট্যান্ডের কাছের এক পাগলকে দেখা গিয়েছিল কটকটে লাল চোখে সেই পাগলের মুখ থেকে লালা ঝরছিল। তার কোমরে ছেঁড়া কম্বল। আর গলায় টিনের কৌটোর মালা জরানো। পাগলটি থান ইট নিয়ে বাসে বসা যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল। তাকে দেখে যাত্রীরা চেঁচিয়ে উঠেছিল। কেউ কেউ দু-একটা পয়সা তার সামনে ফেলে দিচ্ছিল। কেউ চিনতে না পারলেও কাশীনাথ চিনতে পেরেছিল। পাগলটি আসলে হরিদা। হরিদা পাগল সেজে সবাইকে ভয় দেখাচ্ছিল। আসলে বহুরূপী ছদ্মবেশ সেজে।
- ৪. জগদীশবাবুর যে সন্ন্যাসী এসেছিলেন-তার বর্ণনা দাও। উত্তর: সন্ন্যাসীর বর্ণনা: জগদীশবাবুর বাড়িতে সাতদিন ধরে এক সন্ন্যাসী ছিলেন। খুব উঁচু দলের এই সন্ন্যাসী থাকতেন হিমালয়ের গুহাতে। তিনি সারা বছরে শুধুমাত্র একটি হরিতকি খান। এছাড়া তিনি আর কিছু খেতেন না। অনেকে মনে করত সন্ন্যাসীর বয়স ছিল হাজার বছরের বেশি তার পায়ের ধুলো ছিল অত্যন্ত দুর্লভ জিনিস। একমাত্র জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পেয়েছিলেন।
- ৫. হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে-নাটকীয় বৈচিত্র্য কী? উত্তর: নাটকীয় বৈচিত্র্য: গরীব হরিদা নিজের ছোটো করে দিন কাটাত। কোনোদিন খাবার জুটত। কোনোদিন জুটত না। প্রতিদিনের এই একঘেয়ে জীবনে হরিদার একট নাটকীয় বৈচিত্র্য ছিল। হরিদা মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে রোজগার করত। সকাল অথবা সন্ধ্যায় বিচিত্র ছদ্মবেশে রাস্তায় বেরিয়ে পরত। যারা চিনতে পারত তাদের মধ্যে কেউ দুই-একটা পয়সা দিত-কেউ বা বিরক্ত হত। বহুরূপী সেজে রাস্তায় বের হওয়া ছিল হরিদার জীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য।
- ৬. আপনি কী ভগবানের চেয়েও বড়ো-কে কেন কাকে এ উক্তি করেছিলেন? উত্তর: বক্তা/শ্রোতা: সুবোধ ঘোষের বহুরূপী গল্পের ছদ্মবেশে হরিদা জগদীশবাবুকে এ উক্তি করেন। উক্তির কারণ: হঠাৎ আগন্তুককে দেখে জগদীশবাবু খুব অবাক হন। আর চোখে ধরা পরে অদ্ভুত এক শান্তি মৌমো দীপ্তিময় চেহারা। তিনি সন্ন্যাসীর কাছে এগিয়ে আসেনি। তখন তার বিস্ময় কাটেনি। তখন বিরক্ত সন্ন্যাসী জগদীশবাবুকে একথা বলেছিলেন।
- ৭. কিন্তু মাস্টারমশাই একটুকুও রাগ করেননি-কোন ঘটনার জন্য মাস্টারমশাই রাগ করেননি? উত্তর: মাস্টারমশাই-এর রাগ না করার কারণ: সুবোধ ঘোষের রচিত বহুরূপী গল্প থেকে আলোচ্য অংশ নেওয়া হয়েছে। একবার তিনি পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতরে দাঁড়িয়েছিল। ইস্কুলের চারটি ছেলেকে তিনি ধরে ছিলেন। স্কুলের মাস্টারমশাই এসে সেই নকল পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। তখন ছদ্মবেশি পুলিশ হরিদা আটআনা ঘুষ নিয়ে ছেলেগুলিকে ছেড়েছিলেন। তারপরে জানতে পারলেও রাগ করেননি।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
১. বহুরূপী গল্প অবলম্বনে হরিদার চরিত্রের বর্ণনা দাও?
উত্তর: ভূমিকা: সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের নামাঙ্কিত ছোটো গল্পের প্রধান তথা কেন্দ্রিয় চরিত্র বহুরূপী হরি তাকে ও তার শিল্পী সত্তার সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যগুলিকে অবলম্বন করে সমগ্র কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। চরিত্রটি একটি একমুখী কাহিনি। বিশ্বের উত্থানপতন যা ঘটলেও চরিত্রটির মধ্যে বৈচিত্র্য অবশ্যই আছে।
সাধারণ পরিচয়: খুবই দরিদ্র ছিলেন হরিদা। শহরের সবথেকে সরু একটা ছোটো ঘরে তিনি থাকতেন। দারিদ্র দূর করার জন্য মাঝে মাঝে তাকে বহুরূপী সাজাতে হত।
স্বাধীনতা বোধ: হরিদা অন্যের অধীনে কাজ করতে চান না। কারণ তার মধ্যে অদ্ভুত এক স্বাতন্ত্র্যবোধ ছিল। আর এই স্বাধীনচেতা স্বভাবের জন্য ঘড়ি মিলিয়ে কাজ তিনি করেননি।
মিসুকে স্বভাবের মানুষ: তিনি লোকজনের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করতেন। তাই তার ঘরে পাড়ার ছেলেরা আড্ডায় বসত।
আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ: হরিদার মনের মধ্যে এক আধ্যাত্মিক জগৎ ছিল। তাই সন্ন্যাসীর বার্তা জানতে পেরে তিনি বলেন- "থাকলে একবার গিয়ে পায়ের ধুলো নিতে পারতাম”।
কৌতুক প্রিয়তা: হরিদার মধ্যে এক সাধারণ কৌতুকময়তা ছিল। তাই বহুরূপীর ছদ্মবেশে তিনি মানুষকে এমনভাবে তৃপ্তি দিতেন যা সাধারণভাবে স্বাধিকার পরিচয় বহন করত।
নিপুণ শিল্পী: নিজের বহুরূপী পেশায় তিনি নিপুণ শিল্পী। তাই অনেকে চিনতে পারত না। তার বহুরূপী পেশাকে অনেকে আসল ভেবেছে।
মূল্যায়ন: বহুরূপীর জীবনের মূল চাহিদা হল মনরঞ্জনের চাহিদা। প্রতারণার দ্বারা অর্থ উপার্জন নয়। মানুষকে আনন্দ দান করা আর একমাত্র প্রাসঙ্গিক বিষয়। তাই যে হাসি মূলত বলতে পারে- মানুষ তো নয় এই বহুরূপী জীবন এর বেশি কী কী আশা করতে পারে।
২. 'আজ তোমাদের একটা জবর খেলা দেখাব'- অথবা, 'এবার মারিত হাতি লুঠিত ভাণ্ডার'-জগদীশবাবুর বাড়িতে কী ঘটনা ঘটেছিল তা লেখো।
উত্তর: বহুরূপী খেলা: হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে বহুরূপী ছদ্মবেশে অভিনব খেলা দেখিয়েছিলেন। হরিদা ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র। মাঝে মাঝে বহুরূপীর বেশ ধারণ করে সামান্য কিছু অর্থ উপার্জন করতেন। হিমালয়বাসী এক সন্ন্যাসী কীভাবে পাড়ার ধর্মবিশ্বাসী জগদীশবাবুকে ঠকিয়ে নিজের প্রাপ্তির ভাণ্ডার পূর্ণ করেছিলেন তা পাড়ার ছেলেদের কাছ থেকে শুনে হরিদার মাথাতেও জগদীশবাবুকে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জনের দুষ্টু বুদ্ধি খেলে যায়। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলে ওঠেন-'এবার মারিত হাতি লুঠিত ভাণ্ডার'। একবারেই যা আদায় করে নেবে ভেবেছিল তাতে তার সারা বছর চলে যাবে। পাড়ার ছেলেদের তিনি বলেন তারা যদি এই ঘটনার সাক্ষী থাকতে চায় তবে তারা যেন সকলে জগদীশবাবুর বাড়িতে চলে আসে। ছেলেরা চাঁদা নেওয়ার জন্য জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির হয়। জগদীশবাবুর বাড়িতে যে বিচিত্র বিন্যাসে হরিদা হাজির হন তাতে চিনতে খুব অসুবিধা হয় ছেলেদের। তার খোলা গা, তার ওপর একটি ধবধবে সাদা উত্তরীও, পরনে সাদা থান। জগদীশবাবুর ভক্তি উজার হয়ে ওঠেন। তিনি বিরাগীটিকে তার ওখানে থাকতে বলেন। তিনি তীর্থ ভ্রমণের জন্য একশো টাকা দিতে চান, সবকিছু ফিরিয়ে দেন হরিদা। জগদীশবাবুর কথাতে তিনি উপদেশ শোনান- 'পরমসুখ কাকে বলে জানেন?' সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া। এরপর হরিদা সেই জায়গা পরিত্যাগ করেন। তিনি জগদীশবাবুর কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি। গল্পকার এই ঘটনার মাধ্যমে হরিদা নির্লভ স্বভাবকে তুলে ধরেছেন।
৩. "পরম সুখ কাকে বলে জানেন সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া"।- এ বক্তব্য হরিদার জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে বলো।
উত্তর: হরিদার জীবনের প্রভাব: গল্পকার সুবোধ ঘোষের বহুরূপী গল্পটি এক অদ্ভুত মানুষের জীবনকে কেন্দ্রকরে রচিত। তার বহিঃজীবন ছিল দরিদ্র অভাবে বিষাদে দগ্ধ। কিন্তু অন্তঃজীবন ছিল মহা ঐশ্বর্য। এই ঐশ্বর্য আসলে সম্পদ নয়। এই ঐশ্বর্য ছিল তার চিন্তাশীলতা এবং বিবেগবোধ। যে পেশায় বহুরূপী তাই মানুষের মুখাপেক্ষী তাকে থাকতে হয় কিন্তু তাই বলে যে নিজের পেশার ওপর কোনো অন্যায় করে না। দশটা পাঁচটা সাধারণ কাজে যে আনন্দ খুঁজে পায় না। বহুরূপীর মধ্যে যে একজন দার্শনিক কম করে তা যেন হরিদা নতুনভাবে আবিষ্কার করে। বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর প্রণামীর টাকা নিতে সে অস্বীকার করে। জগদীশবাবুকে সে শেখায় পরমসুখ মানে সর্বসুখ নয় সুখ দুঃখের সহ বন্ধন থেকে মুক্তি হল পরমসুখ। আসলে ব্যক্তিগত জীবনে হরিদা এই পরমসুখ অর্জন করেছিল। তা না হলে সামান্য রোজগারে অর্ধেক দিন উপোশ থাকা হরিদা কীভাবে একশো টাকার থলি পায়ে ঢেলে দেয়। প্রকৃত সত্যিটি হল সুখের সন্ধান বড়ো বড়ো সন্ন্যাসী, মধ্যবৃত্তরা, শহরের ক্ষুদ্র গলির মধ্যেও বাস করলেও বহুরূপীর জীবনে সার্থক মানুষের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।
উপসংহার
'বহুরূপী' গল্পে লেখক সুবোধ ঘোষ দেখিয়েছেন যে একজন শিল্পী যতই দরিদ্র হোন না কেন, তাঁর কাছে শিল্পের মর্যাদা সবার আগে। হরিদা অভাবী মানুষ, কিন্তু জগদীশবাবুর দেওয়া বিপুল অর্থের প্রলোভন তিনি হেলায় প্রত্যাখ্যান করেছেন শুধুমাত্র তাঁর 'বিরাগী' চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষার জন্য। এই গল্প আমাদের শেখায় যে, মানুষের আসল পরিচয় তার বিত্তে নয়, বরং তার চিত্তের ঐশ্বর্যে। আশা করি, এই অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর মনোযোগ দিয়ে পড়বে এবং লিখবে। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য রইল অনেক শুভকামনা।
Conclusion
In 'Bahurupi', Subodh Ghosh masterfully portrays that for a true artist, the dignity of their art supersedes material wealth. Despite his poverty, Hari da rejects Jagadish Babu's generous offer to maintain the integrity of his 'Biragi' disguise. This story teaches us that a person's true worth lies not in their wealth, but in the richness of their soul. We hope these questions and answers will be instrumental in your Madhyamik exam preparation. Read and practice each answer carefully. We wish you a bright and successful future.