মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার সময়সীমা
বুক রিভিউ ও সাজেশন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পত্রপুট' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত 'আফ্রিকা' কবিতাটি বিশ্বসাহিত্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি। এই কবিতায় কবি আফ্রিকা মহাদেশের জন্ম, তার ওপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নির্মম অত্যাচার এবং মানবতার অপমানের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে শুরু করে সভ্য নামধারী বর্বরদের লুণ্ঠন—সবই এই কবিতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে। তবে কবিতার শেষে কবি যুগান্তের কবির কাছে মানবতার বাণী প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন। এই অধ্যায়ে মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য কবিতার প্রতিটি পর্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সংকলিত হয়েছে, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে সুদৃঢ় করবে।
Overview & Study Guide
Rabindranath Tagore's poem 'Africa', taken from his collection 'Patraput', is a profound commentary on the history of the African continent. The poem vividly describes Africa's geographical birth, its isolation, and the brutal exploitation it faced at the hands of imperialist powers. Tagore contrasts the 'civilized' barbarians with the innocent nature of Africa and ends with a powerful call for forgiveness and humanity. This study guide offers a comprehensive set of questions and answers from the chapter, specifically designed to help Madhyamik 2026 aspirants master the topic and excel in their exams.
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
আফ্রিকা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর [MCQ] : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. 'আফ্রিকা' কবিতায় 'আদিম যুগ' ছিল- উত্তর: [C] উদ্ভ্রান্ত
- ২. আফ্রিকাকে কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল? উত্তর: [A] প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে
- ৩. যে কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা' কবিতাটি নেওয়া হয়েছে সেটি হল- উত্তর: [C] পত্রপুট
- ৪. সমুদ্রকে কবি কোন্ বিশেষণে আখ্যায়িত করেছেন- উত্তর: [C] রুদ্র
- ৫. আফ্রিকার অন্তঃপুরে আলো ছিল- উত্তর: [B] কৃপণ
- ৬. কবি আদিম যুগের যে বিশেষণ ব্যবহার করেছেন তা হল- উত্তর: [D] উদ্ভ্রান্ত
- ৭. স্রষ্টার অসন্তোষ ছিল যার প্রতি- উত্তর: [A] নিজের প্রতি
- ৮. স্রষ্টা নিজের সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন, কারণ- উত্তর: [B] নিজের প্রতি অসন্তোষ
- ৯. "ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে"-কে ছিনিয়ে নিয়ে গেল? উত্তর: [D] রুদ্র সমুদ্রের বাহু
- ১০. আফ্রিকা বিদ্রুপ করছিল- উত্তর: [A] ভীষণকে
- ১১. "দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে", পঙ্ক্তিটিতে 'মানহারা মানবী' বলতে বোঝানো হয়েছে- উত্তর: [A] আফ্রিকা মহাদেশকে
- ১২. আফ্রিকাকে ধরিত্রীর বুকের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বাঁধা হয়েছিল- উত্তর: [C] বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
- ১৩. "তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে"- 'দুন্দুভি' কী? উত্তর: [C] দামামা জাতীয় প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র
- ১৪. 'পঙ্কিল' শব্দটির অর্থ- উত্তর: [A] কর্দমাক্ত
- ১৫. কবি আফ্রিকাকে কী বলে সম্বোধন করেছেন? উত্তর: [B] ছায়াবৃতা
- ১৬. 'রুদ্র সমুদ্রের বাহু' আফ্রিকাকে ছিনিয়ে গিয়েছিল যেখান থেকে- উত্তর: [C] প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে ]
- ১৭. 'নিনাদ' শব্দটির অর্থ কী? উত্তর: [D] শব্দ
- ১৮. "তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে/পঙ্কিল হল ধূলি তোমার ___ মিশে।" (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [B] রক্তে অশ্রুতে
- ১৯. "শিশুরা খেলছিল ___ "। (শূন্যস্থান পূরণ করো) উত্তর: [D] মায়ের কোলে
- ২০. মানুষ ধরার দলের নখ ছিল- উত্তর: [B] নেকড়ের চেয়ে তীক্ষ্ণ
- ২১. 'সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি/সংগ্রহ করেছিলে...' কী সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: [D] দুর্গমের রহস্য
- ২২. হিংস্র প্রলাপের মধ্যে যুগান্তের কবির কথা কী হয়ে থাকবে? উত্তর: [A] সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী
- ২৩. 'দস্যু-পায়ের কাঁটা-সারা জুতোর তলায়'-কী ছিল? উত্তর: [C] বীভৎস কাদার পিন্ড
- ২৪. 'কাদার পিণ্ড' কোথায় চিরচিহ্ন দিয়ে গেল? উত্তর: [C] অপমানিত ইতিহাসে
- ২৫. 'আফ্রিকা' কবিতাটির রচয়িতা হলেন- উত্তর: [A] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-1]
- ১. 'আফ্রিকা' কবিতায় কাদের 'দস্যু' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে? উত্তর: 'আফ্রিকা' কবিতায় নিষ্ঠুর ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের 'দস্যু' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ২. "চিরচিহ্ন দিয়ে গেল"- 'চিরচিহ্ন' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: আফ্রিকার ওপর নখ-দাঁত সম্পন্ন ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের অত্যচারের বর্বরোচিত দাগকেই কবি 'চিরচিহ্ন' বলে বোঝাতে চেয়েছেন।
- ৩. "চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে"- 'ইতিহাস' কীভাবে অপমানিত হল? উত্তর: পরাধীনতার গ্লানিতে, মানুষের সম্মানহীনতায় আফ্রিকার ইতিহাস হল অপমানিত। সেই অপমানের চিহ্ন চিরস্থায়ী করে দিয়ে গেছে বর্বর, লোলুপ, হিংস্র ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি।
- ৪. "নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত"-কে, কেন বিধ্বস্ত করছিলেন? উত্তর: নতুন সৃষ্টি তথা পৃথিবীর প্রতি প্রবল অসন্তোষে স্বয়ং স্রষ্টা বিধাতা তাঁকে বারবার বিধ্বস্ত, অর্থাৎ ভেঙে-গড়ে দেখছিলেন।
- ৫. "ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা"-আফ্রিকাকে কে কোথায় ছিনিয়ে নিয়ে গেল? উত্তর: 'আফ্রিকা' কবিতায় কবি কল্পনা করেছেন, সৃষ্টির যুগে স্রষ্টা যখন বারবার নিজের সৃষ্টি ভেঙে-চুরে নিখুঁত করে গড়ার চেষ্টায় রত, তখন উত্তাল সমুদ্র প্রাচ্যদেশ থেকে আফ্রিকা মহাদেশের ভূখণ্ডকে আলাদা করে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
- ৬. "কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে"-আলোকে কৃপণ বলা হয়েছে কেন? উত্তর: সৌর সংসারে সূর্যের আলো অপরিমেয় হয়ে পৃথিবীর ওপর পতিত হলেও, অরণ্যসংকুল আফ্রিকায় তার প্রবেশ কম বলেই কবি, 'কৃপণ' আলো বলেছেন।
- ৭. "নগ্ন করলে আপন নির্লজ্জ অমানুষতা”- কীভাবে নির্লজ্জ অমানুষতা প্রকাশ পেল? উত্তর: সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষে মানুষ মানুষকে শৃঙ্খলিত করেছে সভ্যতার বিকাশের অজুহাতে। তথাকথিত সভ্য মানুষের বর্বর লোভের মধ্যে দিয়েই তাদের নির্লজ্জ অমানুষত্ব প্রকাশ পেল।
- ৮. "বিদ্রুপ করেছিলে ভীষণকে"-কে, কাকে বিদ্রুপ করেছিল? উত্তর: কবি স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আফ্রিকা' কবিতায় স্বয়ং আফ্রিকা প্রকৃতির বুকে জেগে থাকা 'ভীষণ'কে বিদ্রুপ করেছিল।
- ৯. "গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে..." তারা কী করল? উত্তর: বিপুল বিশ্বের গর্বান্ধ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি লোহার হাতকড়ি দিয়ে আফ্রিকার মানুষদের সুকৌশলে শৃঙ্খলিত করল।
- ১০. "অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ”-কার মানবরূপ অপরিচিত ছিল? উত্তর: সভ্যতার উগ্রতা আফ্রিকাকে তেমনভাবে স্পর্শ করেনি বলে তার মানবিকতা বোধের চিরস্নিগ্ধ রূপটি অবশিষ্ট পৃথিবীর কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল।
- ১১. "প্রকৃতির দুটি-অতীত জাদু/মন্ত্র জাগাচ্ছিল..." 'প্রকৃতির দৃষ্টি অতীত জাদু' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: 'প্রকৃতির দৃষ্টি অতীত জাদু' বলতে মানুষের কাছে অচেনা প্রকৃতির বৈচিত্র্যপূর্ণ নানা দিগগুলির কথা বলা হয়েছে যার রহস্য আদিম মানুষ তার বুদ্ধি ও জ্ঞান দিয়ে ভেদ করতে পারেনি।
- ১২. "গর্বে যারা অন্ধ”-গর্বে যারা অন্ধ তাদের প্রকৃতি কেমন ছিল? উত্তর: পৃথিবীর অন্যান্য ভূখণ্ডের থেকে ইউরোপের সভ্যতার আলো পড়েছিল আগে, এতেই তারা গর্বান্ধ হয়ে উঠেছিল আফ্রিকার সূর্যহারা অরণ্যের অন্ধকারের চেয়েও।
- ১৩. "হায় ছায়াবৃতা"... আফ্রিকাকে ছায়াবৃতা বলার কারণ কী? উত্তর: 'আফ্রিকার রহস্যময় অন্তঃপুর, দুর্গমতা, জঙ্গলাকীর্ণ ভূখণ্ড, বিভীষিকাময় প্রকৃতি ও সংস্কৃতির আদিম নিজস্বতা তাকে 'ছায়াবৃতা' করে তুলেছে। কোনো এক অজানা রহস্যময় জগতের অচেনা সৌন্দর্যের ছায়া যেন সর্বদা ঘিরে থাকে আফ্রিকাকে।
- ১৪. "তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে...." ভাষাহীন ক্রন্দন কার ছিল? উত্তর: নিজস্ব সত্তার রহস্য উন্মোচনে মগ্ন 'আফ্রিকা' অকস্মাৎ সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হলে, সে উদ্গত 'ভাষাহীন ক্রন্দনে' ভেসে গিয়েছিল।
- ১৫. "...অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ/উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।"-কার মানবরূপ, কাদের কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে উপেক্ষিত ছিল? উত্তর: প্রশ্নোদ্ভূত পঙ্ক্তিটিতে আফ্রিকা মহাদেশের মানবরূপ যেন তার অরণ্য- আচ্ছাদিত 'কালো ঘোমটার নীচে' সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির কাছে 'উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে' অপরিচিত ছিল।
- ১৬. "পঙ্কিল হল ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে..."- কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল? উত্তর: পৃথিবীর বহু সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নিজেদের শক্তি ও উপনিবেশ গড়ার লক্ষে স্বাধীন আফ্রিকা মহাদেশের মানুষকে শৃঙ্খলিত করল। বর্বর, অমানুষিক অত্যাচার চালালো। এভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হল।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
- ১. 'ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে আফ্রিকা।'- আফ্রিকাকে কীভাবে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হল তা লেখ। উত্তর: আফ্রিকার জন্ম ইতিহাস: আফ্রিকা নামাঙ্কিত কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছেন স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তোষে নতুন সৃষ্টিকে বিধ্বস্ত করেছিল। তার সেই অধৈর্যের দিনে রুদ্র সমুদ্রের বাহু আদিম ধরিত্রী মাতার বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। বিশ্ব মানচিত্র আফ্রিকা হল এক স্বতন্ত্র ভূখণ্ড।
- ২. 'কৃপন আলোর অন্তঃপুরে'- কবিতা অনুসারে বক্তব্যটি লেখ। উত্তর: বক্তব্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় আফ্রিকার ভৌগোলিক, রাজনৈতিক সম্পর্কে মরমি বিশ্লেষণ রয়েছে। বনস্পতির নিবিড় আলিঙ্গনে, অরণ্যের দুর্ভেদ্য আলো ছায়ায় আবৃত থাকে আফ্রিকা। নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত হওয়ার জন্য বৃহৎ পাতা বিশিষ্ট গাছের সৃষ্টি হয় এখানে। অসংখ্য বৃক্ষ ঘন সন্নিবিষ্ট হওয়ায় অতি সামান্য আলোটুকু প্রবেশের অধিকার পায় না। অন্ধকারে আবৃত থাকে আফ্রিকার অধিকাংশ প্রান্তর।
- ৩. বিদ্রুপ করেছিল ভীষণকে অথবা, বিরূপের ছদ্মবেশে কে কিভাবে ভীষণকে বিদ্রুপ করেছিল? উত্তর: ভীষণকে ব্যঙ্গ: আফ্রিকা নামাঙ্কিত কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৃথিবীর অন্য মহাদেশ থেকে বিছিন্ন আফ্রিকাকে ধীরে ধীরে সাবলম্বী হতে দেখেছিলেন। নিভূত অবকাশে দুর্গমের রহস্য সংগ্রহ করেছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ ভূখণ্ড। চিনেছিল জল, স্থল। আকাশের দুর্বোধ সংকেত। প্রকৃতি তাকে দিয়েছিল অপার রহস্যময়তা। অতীত জাদু মন্ত্র জাগাচ্ছিল আফ্রিকার চেতনাতীত মনে। আফ্রিকার ওপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আস্ফালনকে আফ্রিকা নিজেই চিনে নিতে চাইছিল। সেই ভীষণ শক্তিশালী শক্তিকে ব্যঙ্গ করার স্পর্ধা অর্জন করেছিল।
- ৪. অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ-কার মানবরূপ কেন অপরিচিত ছিল? উত্তর: অপরিচিত মানবরূপ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায়-পৃথিবীর মতো অন্য মহাদেশে থেকে বিচ্ছিন্ন আফ্রিকা যেন এক রহস্যময় ভূখণ্ড। সভ্য জগতের মানুষজন অন্ধ উল্লাসে ও বর্বর লোভ আফ্রিকাকে লুঠেরার মতো লুঠ করতে থাকে। কালো ঘোমটার নীচে অপরিচিত ছিল যে আফ্রিকার মানবরূপ তাকে সভ্যতার উল্লাসে মানুষজন উপেক্ষা করেছিল। ফলে স্বাধীন আফ্রিকা শৃঙ্খলিত হয়েছিল। তার হাতে পরানো হয়েছিল লোহার হাতকড়ি।
- ৫. যখন গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল-কখন পশুরা বের হয়ে এসেছিল? গুপ্ত গহ্বর থেকে কোন পশুরা কীভাবে বেরিয়ে এসেছিল? উত্তর: নিলজ্জ শাসক: আফ্রিকা মহাদেশকে শোষণের ক্ষেত্রভূমি করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দল অর্থাৎ পশুশক্তি আফ্রিকা মহাদেশকে কলুষিত করতে তারা বের হয়ে এসেছিল। শাসকদের চোখ রাঙানি গুপ্ত গহ্বর কথার আপাত অর্থ হল গোপন গুহাদার। কিন্তু কবি গোপন আস্তানা অর্থে গুপ্ত গহ্বরকে ব্যবহার করেছেন। সাম্রাজ্যবাদী বর্বর শক্তিকে কবি পশুরা শব্দে চিহ্নিত করেছেন। এরাই অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করেছিল দিনের অন্তিমকাল। এই বর্বর রাজশক্তির হিংস্র নখ দন্ত প্রসারকে কবি রবীন্দ্রনাথ এই কবিতায় তুলে ধরেছেন।
- ৬. এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে, ওরা বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে। লোহার হাতকড়ি নিয়ে আসার কারণ কী? উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মানুষ তথাকথিত সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মানুষদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আফ্রিকা কবিতায় ওরা বলে চিহ্নিত করেছেন। লোহার হাতকড়ি: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মানুষরা বারবার আফ্রিকার ওপর অত্যাচার করে। কালো রঙের এই মানুষদের তারা উপেক্ষার দৃষ্টিতে দেখে। এই সহজ সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষদের নিজের ভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়। তাদের হাতে পরিয়ে দেওয়া হয় দাসত্বের শৃঙ্খল। বিপন্ন হয় আফ্রিকার স্বাধীনতা।
- ৭. নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে-তোমার বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে, কাদের নখ কেন নেকড়ের থেকে তীক্ষ্ণ? উত্তর: আফ্রিকা মহাদেশ তোমার বলতে আফ্রিকা মহাদেশের কথা বলা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হিংস্রতা: দুর্ভেদ্য জঙ্গলে পরিবৃত আফ্রিকার হিংস্র আরণ্যক প্রাণীদের অন্যতম হল নেকড়ে। নেকড়ের তীক্ষ্ণ নখের থেকেও সূচালো ও ধারালো হল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন। পশ্চিমী দুনিয়া আফ্রিকার ওপর বর্বর উল্লাসে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদের আগ্রাসনের কথা বলতে গিয়ে কবি 'নখ যাদের তীক্ষ্ণ' এই বাক্য বন্ধটি প্রয়োগ করে দুনিয়ার লোলুপ হিংস্রতাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছেন। কবি এখানে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে আলোচ্য উক্তিটি প্রকাশ করেছেন।
আমাদের প্রকাশিত বইসমূহ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
১. 'ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে আফ্রিকা'- কোন প্রসঙ্গে এ মন্তব্য? কবি তার ভাববস্তু বিশ্লেষণ করে এই মন্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা কর।
উত্তর: প্রসঙ্গ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশে সভ্যতা সৃষ্টির প্রথম পর্বকে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্রষ্টা তার নিজের প্রতি অসন্তোষে নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করেছিল। সেই নব নির্মাণের প্রেক্ষাপটে আফ্রিকা কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল সেই প্রসঙ্গে এই উক্তি।
ভাববস্তুর প্রাসঙ্গিকতা: প্রাগৈতিহাসিক কালে ভূ-তত্ত্বকে নানা বিপর্যয়ে কালক্রমে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় আফ্রিকা। পূর্ব গোলার্ধের এই মহাদেশ একসময় এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে আফ্রিকা পূর্বে সাইনাই উপদ্বীপ দিয়ে এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সুয়েজ খাল কাটার পর এশিয়ার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়। এই বিচ্ছিন্ন অংশ বর্তমানে মিশরের অন্তর্গত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভূগোলের পাঠকে কাব্যপাঠে রূপ দিয়েছেন। সমুদ্র দ্বারা বিচ্ছিন্ন আফ্রিকার ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে বোঝাতে গিয়ে কবি রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রসঙ্গের কথা বলেছেন। সমুদ্র কীভাবে আফ্রিকার বিচ্ছেদের কারণ হয়েছিল সেই আলোচনায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- "রুদ্র সমুদ্রের বাহু/প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে/ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা"। বিচ্ছিন্ন এই আফ্রিকা একটি গভীর অরণ্য সংকুল মহাদেশ সংখ্যাতীত জাতি-উপজাতিতে বিভক্ত এই আফ্রিকা একটি গভীর অরণ্য সংকুল মহাদেশ। তখনও আধুনিক সভ্যতার আলো প্রবেশ করেনি। উপজাতি গোষ্ঠী শাসিত কৃষ্ণাঙ্গের বাসভূমি আফ্রিকা যেন পশ্চিমি সভ্যতার অবাধ লুণ্ঠনের অধিকার ভূমিতে পরিণত হয়।
২. আফ্রিকা কবিতা অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথের কবি মানসিকতার পরিচয় দাও।
উত্তর: ভূমিকা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আফ্রিকা কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতি এক কঠিন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এক উদার মানবতাবাদকে জীবনের মূলমন্ত্র করে দেখে কবি তাই সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনকে মানবতার অভিশাপ বলে মনে করেছেন। আফ্রিকার মানবতাবাদকে আক্রান্ত হতে দেখে তার কলম সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে।
কবি মানসিকতার পরিচয়: রবীন্দ্রনাথ কবিতার প্রথম পর্বে আফ্রিকার জন্ম ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। সম্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষ থেকে সবকিছু আবার নতুন করে সৃষ্টি করেছিলেন ঠিক সেই সময় আফ্রিকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সবার থেকে। সেই আফ্রিকার ওপর স্বৈরাচারী শক্তি নানা অত্যাচার শুরু করে। সেই সময়টা হল ইউরোপের সব থেকে বড়ো কলঙ্কের যুগ। কারণ ইউরোপের মানুষ প্রমাণ করতে ব্যস্ত ছিলেন যে আফ্রিকাবাসী কেবলমাত্র জন্তু শ্রেণির জীব। আফ্রিকার মানুষের ওপর নির্মমভাবে অত্যাচার শুরু হয়েছিল। উপজাতির মানুষদের ওপর দিনের পর দিন অমানসিক অবিচার করা হয়েছিল। এই বিষয়কে মাথায় রেখে রবীন্দ্রনাথ লেখেন আফ্রিকা কবিতাটি। রবীন্দ্রনাথ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অনেক কবিতা লেখেন। আফ্রিকাবাসীর ওপর নির্লজ্জ অত্যাচার দেখে কবি শঙ্কিত হয়েছেন। এই কৃষ্ণাঙ্গের ওপর যে নারকীয় অত্যাচার করা হয়েছিল তা নিঃসন্দেহে অমানবিক। কিন্তু কবি বিশ্বাস করেন এই নির্যাতিত মানুষ একদিন উঠে দাঁড়াবে। সমস্ত পরাধীনতার নাগপাশ থেকে তারা মুক্ত হবে।
মূল্যায়ন: কবিতার শেষ অংশে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন- “ক্ষমা করা।” হিংসার যাবতীয় উল্লাসকে চাপা দিয়ে সততার শেষ পুণ্যবাণী উচ্চারিত হবে। এটা কবির বিশ্বাস।
৩. "এসো যুগান্তের কবি"-কে, কাকে যুগান্তের কবি বলেছেন, এই আহ্বান ধ্বনির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? অথবা, "দাঁড়াও এই মানহারা মানবীর দ্বারে"-মানহারা মানবী কে? কবির এই আহ্বানের কারণ কী? অথবা, "বল ক্ষমা কর”-কাকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে? এই ক্ষমা করা কীভাবে কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: যুগান্তের কবি: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আগামী দিনের ক্রান্তীকারী সেই কবিকে যুগান্তের কবি বলেছেন-যিনি বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
মানহারা মানবী: মানহারা মানবী হল আফ্রিকা, যে পশ্চিমি সভ্যতার লোভ লালসার শিকার হয়েছে।
কবিতার ভাববস্তু: ছায়াবৃতা আফ্রিকা উপেক্ষিত হয়েছিল ইউরোপীয় সভ্য জাতির দ্বারা। তারা কৃষ্ণকায় আফ্রিকাকে দেখেছিল উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে। তীক্ষ্ণ নখ যাদের নেকড়ের চেয়ে তারা আফ্রিকাকে দেখল খাদকের চোখে। সভ্যের বর্বর লোভ থেকে বাঁচল না সে। সভ্যের নির্লজ্জ অমানসিকতা দেখে হতাশ হল এই মহাদেশের অন্তরআত্মা। এদের ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকূল হল অরণ্যপথ। রক্ত ঝরল কৃষ্ণ পৃথিবীর সরল নিষ্পাপ বুক থেকে। অশ্রুতে ভিজল পথ। লেখা হল অপমানিত নতুন ইতিহাস। সভ্যতার বিবর্তন ঘটে সময়ের পট পরিবর্তিত হয়। পশ্চিম দিগন্তে দেখা যায় ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ মেঘ। পশ্চিমের গুপ্ত গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসে পশুরা। অশুভ ধ্বনিতে তারা ঘোষণা করে দিনের অন্তিম কাল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ মনে করেন অশুভ শক্তির পতন অনিবার্য। কালের রথের চাকার যেমন গমন আছে তেমন প্রত্যাগমনও আছে। তাই যুগান্তের কবির কাছে প্রার্থনা- "দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে/বলো ক্ষমা করো।" হিংস্র প্রলাপের মধ্যে ক্ষমা হয়ে উঠুক বিচারের মানদণ্ড। তাই কবি রবীন্দ্রনাথ যুগান্তের কবির কাছে আহ্বান করেছেন মানহারা মানবীর পাশে দাঁড়াতে। আর অনুরোধ করেছেন হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাকে দাঁড় না করিয়ে ক্ষমার আদর্শকে তুলে ধরতে।
উপসংহার
আশা করি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সাজেশনটি তোমাদের মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ সহায়ক হবে। কবিতার প্রতিটি স্তবক থেকে বাছাই করা এই প্রশ্নগুলো অনুশীলন করলে তোমরা পরীক্ষার খাতায় আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর লিখতে পারবে। মনে রাখবে, কেবল মুখস্থ নয়, কবিতার মূলভাব অনুধাবন করা জরুরি। তোমাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
Conclusion
We hope this suggestion guide on Rabindranath Tagore's poem 'Africa' proves to be an invaluable resource for your Madhyamik 2026 preparation. Practicing these carefully selected questions will boost your confidence and help you write precise answers in the exam. Remember, understanding the core theme of the poem is as important as memorizing the answers. We wish you all the very best for a bright future and outstanding results in your upcoming examinations.